Friday, March 17, 2017

মোবাইল থেকে ডিলিট হওয়া ছবি ফেরত পাওয়ার উপায়

এখন ব্যক্তি জীবনের অংশ স্মার্টফোন। আর স্মার্টফোনের ক্যামেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হয়ে উঠেছে। কারণ যেকোনো জায়গায়, যেকোনো মুহুর্তগুলো এখন স্মৃতি হয়ে থাকছে স্মার্টফোনের ক্যামেরায়। কিন্তু মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যায়। অনিচ্ছাকৃতভাবে মুছে যায় প্রিয় কোনো ছবি।
তাই জানা দরকার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ডিলিট হয়ে যাওয়া ছবি বা ভিডিও উদ্ধারের কৌশলটা।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ছবি এবং ভিডিওগুলো কোথায় স্টোর করছেন তা আগে জেনে নিতে হবে। যদি, ছবি বা ভিডিওগুলি মেমরিকার্ডে স্টোর থাকে, তা হলে অসুবিধা নেই। এখান থেকে ছবি ডিলিট হয়ে গেলে অনলাইন থেকে একাধিক ‘রিকভার সফটওয়্যার’-এর সাহায্য নেয়া যেতে পারে। ‘রেকুভা’ নামে একটি রিকভারিং সফটওয়্যার এজন্য বেশ সহায়ক।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারন্যাল মেমরি বা ফোন মেমরি থেকে ছবি অথবা ভিডিও ডিলিট হলে চিন্তার বিষয়। এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও আশা জোগাতে পারে ‘ডিস্ক ডিগার অ্যাপ’।

তবে এই অ্যাপ ব্যবহার করার আগে সতর্কীকরণটা মনে রাখতে হবে। কারণ, ‘ডিস্ক ডিগার অ্যাপ’ রুটেড অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ক্ষেত্রেই কাজ করবে। কী করে অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে রুট করতে হবে, তার জন্য অনলাইনে বিশেষ করে ইউটিউবে একাধিক টিউটোরিয়াল রয়েছে।

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে যখন কোনও ফাইল ডিলিট হয়, তখন সিস্টেমে শুধু তথ্যগুলো মুছে যায়। যতক্ষণ না পর্যন্ত ওই ফাইল স্পেসে অন্যকিছু ওভাররাইট হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা পুনরুদ্ধার করার সম্ভাবনা থাকে।
তাই, ডিলিট হওয়া ফাইল উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কোনও ধরনের সিস্টেম আপডেশন বা ফোন মেমরিতে ছবি সেভ, ডকুমেন্ট ফাইল সেভ করা যাবে না।

এজন্য যা করতে হবে:
গুগল প্লে-স্টোর গেলে পাওয়া যাবে ‘ডিস্ক ডিগার’ অ্যাপ।
ডাউনলোড সম্পূর্ণ হলে ‘ডিস্ক ডিগার’ অ্যাপটি ওপেন করতে হবে এবং যে স্থান থেকে ফাইল ডিলিট হয়েছে সেটাকে চিহ্নিত করতে হবে।
এরপর ফাইল টাইপ সিলেক্ট করতে হবে, যেমন— জেপিজি, না পিএনজি না এমপি ফোর।


‘ওকে’ বাটনে ক্লিক করলে অ্যাপটি ডিলিট ফোটোর সন্ধানে স্ক্যান শুরু করবে।
স্ক্যান শেষ হলে, ‘ডিস্ক ডিগার’ ডিলিট ফাইলের তালিকা দেখাবে। এরপর সেভ বাটনে ক্লিক করতে হবে। কোথায় ফাইলগুলি সেভ করবেন, সেই জায়গাটা দেখিয়ে দিতে হবে।

Tuesday, March 14, 2017

মাথা ব্যথা কমাবে লবঙ্গের ঝাঁঝ

লবঙ্গ খুবই ঝাঁঝালো, ঘ্রাণময় ও উপাদেয় একটি মসলা। লবঙ্গ গাছের ফুলের কুড়িকে শুকিয়ে লবঙ্গ মসলাটি করা হয়। লবঙ্গ মূলত ইন্দোনেশিয়ার গাছ। ইন্দোনেশিয়ায় এ মসলাটি বেশি ব্যবহার করা হয়। তবে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এ ঝাঁঝালো মসলাটির বেশ প্রচলন রয়েছে। কারণ এর রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ। তাহলে জেনে নিন এর উপকারিতা।

  • ডায়াবেটিসে রোগীদের শরীরে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি হয় না। গবেষণায় পাওয়া যায় যে লং এর রস শরীরের ভেতরে ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে।
     
  • রুচির পরিবর্তন ও ক্ষুধা বাড়াতে লবঙ্গ বেশ উপকারী। এটি ভেঁজে বা গুঁড়া করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।
     
  • গর্ভবতী মায়েরা সকালের বমি বমি ভাব দূর করতে একটি লবঙ্গ খেয়ে নিতে পারেন। শুধু লবঙ্গ খেতে ভালো না লাগলে অল্প পরিমাণ গুড় মিশিয়ে নিতে পারেন। সকাল বেলাটায় অনেক আরাম বোধ করবেন। এছাড়া বমি বমি ভাব দূর করতেও গুঁড়ো লবঙ্গের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।
     
  • প্রচণ্ড মাথা ব্যথা কমাতে কয়েক ফোঁটা লবঙ্গ তেল একটি পরিষ্কার কাপড়ে নিয়ে কপালেরে উপরে রাখুন।দেখবেন ১৫ মিনিটেই সেরে যাবে মাথা ব্যথা।
     
  • দাঁত ব্যথা কমাতে লবঙ্গ বেশ কার্যকরী। লবঙ্গ মুখের ভেতরের সকল রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। তাই টুথপেস্টেও ব্যবহার করা হয় লবঙ্গ।
     
  • ব্রণের সমস্যা দূর করতে লবঙ্গের গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে ব্রণের ওপরে দিয়ে রাখুন। এর ফলে ব্রণের দাগও দূর হয়ে যাবে।
     
  • লবঙ্গের তেল নিয়মিত ব্যবহারের ফলে চুল পড়া রোধ করা সম্ভব। এছাড়া চুলের ঘনত্ব বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করবে।লবঙ্গ তেলে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া নামক জীবাণু ধ্বংসের ক্ষমতা।
     
  • লবঙ্গ চা সর্দি-কাশি ও গলার খুশ খুশে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। তাই সর্দি-কাশি কমাতে চায়ের সঙ্গে দু’টি লবঙ্গ খেয়ে নিতে পারেন।
     
  • পেট ব্যথা ও কৃমি জাতীয় রোগ প্রতিরোধে লবঙ্গ বেশ কার্যকরী।

জিরা পানি তৈরি ও বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা

জিরার পানি শুধু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারীই নয়, ত্বকের জন্যও ভাল। এটি ডায়াবেটিস, টিউমার এবং মাইক্রোবিয়াল ইনফেকশন দূর করতে সহায়তা করে। প্রাচীনকালে অনেক রোগের চিকিৎসা হিসেবে এই পানি ব্যাবহার হয়ে আসছে।
 

কিভাবে তৈরি করবেন এ পানি? পানি ১০ মিনিট ফুটতে দিন, তারপর এতে জিরা দিয়ে দিন। জিরা দিয়ে আবার ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। ঠান্ডা করে এটি পান করুন।

আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক এই জিরা পানির বিভিন্ন স্বাস্থ্যগুণ—
  • ঋতুস্রাবের সময় তলপেটের ব্যথা দূর: ঋতুশ্রাবের সময় তলপেটে ব্যাথা অনুভব করেন অনেক নারীই, তাদের এই ব্যথা কমাতে অল্প অল্প করে সারাদিন জিরাপানি খেলে উপকার পাওয়া যায়।
  • রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ: জিরাতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে যা রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। শরীরের জন্য জরুরী অন্যতম মিনারেল আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে যা অক্সিজেন পরিবহন করতে সাহায্য করে। নিয়মিত জিরা পানি পান রক্তস্বল্পতা দূর করতেও সাহায্য করে।
  • ক্যান্সার প্রতিরোধে: ব্রেস্ট ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার, পাকস্থলি ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে জিরা পানি। Cancer Research Laboratory of Hilton Head Island, South Carolina, USA এর মতে জিরার উপাদানসমূহ ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে।
  • অনিদ্রা দূর করতে: আপনি কি অনিদ্রা সমস্যায় ভুগছেন? তবে জিরা Cumin হতে পারে এর সমাধান। জিরা গুঁড়ো এবং একটি কলা মিশিয়ে নিন। এটি নিয়মিত রাতে খান। এটি আপনাকে ভাল ঘুমাতে সাহায্য করবে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে: জিরা ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এবার এটি পানি অথবা মধুর সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন। এছাড়া জিরার চা পান করতে পারেন। এমনকি জিরা পানিও আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করে দিবে।
  • গলা ব্যথা দূর করতে: গলা ব্যথা কমাতে জিরা পানি সাহায্য করে থাকে। কিছু পরিমাণে জিরা পানিতে ফুটিয়ে নিন। এবার এটি দিয়ে কিছুক্ষণ কুলিকুচি করুন। এটি আপনার গলা ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।
  • ওজন হ্রাস করতে: জিরা মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে খাবারের রুচি হ্রাস করে থাকে। শুধু তাই নয় এটি রক্তে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে থাকে। নিয়মিত জিরা পানি পানে ওজন কমাতে সাহায্য করে থাকে।
  • বমিভাব দূর: জিরাপানি Cumin water বমি ভাব দূর করতে সাহায্য করে। গর্ভবতী যেসব মা বমির সমস্যায় ভোগেন তারা এটি পান করতে পারেন। ‘মর্নিং সিকনেস’ থেকেও মুক্তি পেতে জিরা পানি খাওয়া যেতে পারে।