Wednesday, March 21, 2018

স্মার্টফোন চুরি হলেও নিরাপত্তা দেবে ‘থামাও’


বাংলাদেশ ডিজিটাল হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে স্মার্টফোনের ব্যবহার। স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে আধুনকি জীবন এখন এই স্মার্টফোন ছাড়া চিন্তাই করা যায় না।
স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে স্মার্টফোনের চুরি। একটি স্মার্টফোন চুরি হলে ব্যবহারকারীর সব ডাটা, ফেইসবুক/গুগল/ ই-মেইল সবকিছুর Access চলে যায় চোরের হাতে এবং সাধারণ মানুষজন চরম বিড়ম্বনায় পড়ে ।
নারীরা আরো বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়। নারীদের স্মার্টফোন চুরি হওয়ার পর তারা প্রায়ই ব্লেকমেইলের শিকার হন। এসব বন্ধ করতে সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘থামাও’। আর অ্যাপটি তৈরি করেছেন কয়েকজন তরুণ। তারা হলেন : নাসিফ সিদ্দিকী (একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), আহসান আসিম (কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এআইইউবি), রাতুল রহমান (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ও ফায়াজ বিন সালাম (কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এআইইউবি)

অ্যাপ তৈরির মূল উদ্যোক্তা নাসিফ সিদ্দিকী অ্যাপটি সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা চাচ্ছিলাম এমন কিছু একটা করতে যাতে ব্লেকমেইল থামানো যায়। এখান থেকেই ‘থামাও’ এর শুরু । আন্তর্জাতিকভাবে অনেক অ্যাপ আছে যেগুলো ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের ব্যবহারকারীদের কথা চিন্তা করে বানানো । থামাও একমাত্র অ্যাপ যেটি শুধু বাংলাদেশের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখেই ডেভেলপ করা হয়েছে। আমরা শতাধিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সাথে কথা বলে থামাও-এর ফিচারের কাজ করেছি যাদের স্মার্টফোনটি বাংলাদেশে ২০১৭-১৮ সালে চুরি হয়েছে।’

নাসিফ আরো বলেন, ‘আমরা নিজেদের উদ্যোগেই একটি টিম বিল্ট করে থামাও-এর কাজ শুরু করে দেই। কোনো প্রোফিট মোটিভ থেকে না, শুধু- এভাবে এগুলো চলতে দেওয়া যায় না- এই চিন্তা থেকেই এর কাজ করেছি।’
Google Play Store এ অ্যাপটি দেওয়ার পর থেকেই প্রতিদিন শত শত মানুষের থেকে ই-মেইল- মেসেজ আসতে থাকে বলে জানান নাসিম। অ্যাপটি ব্যবহার করে নিরাপদ বোধ করার কথাই জানিয়েছেন স্মার্টফোন ইউজাররা।

অ্যাপটি যা করবে
ফোন চুরি করে চোর আর ফোনটি বন্ধ করতে পারবে না। এর কারণ মাত্র একটি ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমেই কোন ইন্টারনেট ছাড়া হারিয়ে যাওয়া ফোন রিসেট দিয়ে ফোন মেমোরি মুছে দেয়া যাবে। এতে চোর মোবাইল ফোনের কোন ডাটা, ফেইসবুক/গুগল/ ই-মেইল ইত্যাদির কোনো এক্সেস পাবে না। একটি খুদে বার্তার দিয়েই ইন্টারনেট ছাড়া হারিয়ে যাওয়া ফোনে উচ্চস্বরের সাইরেন বাজানো যা মিউট মোডেও কাজ করবে। এই অ্যাপ মোবাইল চার্য দেওয়া অবস্থায়/ হেডফোন লাগানো অবস্থায় চুরি থামাতে সক্ষম।
অ্যাপটি মোবাইল ফোনে ইন্সটল করতে হলে যেতে হবে গুগলের প্লে স্টোরে। সেখানে গিয়ে Thamao লিখে সার্চ দিয়ে অ্যাপটি বের করে ইন্সটল করতে হবে।

অ্যাপটির ফিচার নিচে দেওয়া হলো
Sms security
ইন্টারনেট ছাড়াই অন্য যেকোনো ফোন থেকে চুরি হয়ে যাওয়া ফোনে পুর্ব-নির্ধারিত sms দিয়ে ফোনকে control করা যাবে। এখানে রয়েছে -
1) "Thamao Reset" এর মাধ্যমে মেসেজ দিয়ে phone কে Reset factory করা যাবে, এর ফলে চোর ফোন নিয়ে গেলেও ইউজার তার নিরাপদ তথ্য মাত্র একটি Sms দিয়েই মুছে ফেলতে পারবে যাতে চোরের হাতে ব্যক্তিগত তথ্য যেন না যায়। মেয়েদেরকে এই ফিচারটি চোরদের দ্বারা ব্লেকমেইল হওয়া থেকে রক্ষা করবে।
3) "Thamao Siren" এর মাধ্যমে মেসেজের মাধ্যমে হারানো ফোনে siren বাজবে, এই siren উচ্চ শব্দ সাইলেন্ট মোডেও বাজবে। এমন কি কোনো ভাবে আনলক না করে সাউন্ড কমানো যাবে না, Volume down buttonও কাজ করবে না।
3)" Thamao Lock" এর মাধ্যমে মেসেজ দিয়েই ফোনটিকে লক করে দেয়া যাবে, তখন Power Button Disabled হয়ে যাবে. যার ফলে কোনোভাবেই আনলক না করে ফোনটি সাধারণভাবে বন্ধ করা যাবে না।
Smart Security
স্মার্ট সিকিউরিটিতে রয়েছে বেশ কিহু আধুনিক ফিচার। এই ফিচারগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে চোরকে হাতেনাতে ধরা। Headphone, Charger এর সুবিধা নিয়েই এখানে চুরি হতে গেলে নির্দিষ্ট সময় ফোনে উচ্চ শব্দের সাইরেন বাজবে। এখানে রয়েছে -

1) Headphone Security
সার্ভেতে দেখা গিয়েছে হেডফোন লাগানো অবস্থায় চোর সেটা খুলে অগোচরে ফোনটি নিয়ে যায়। এই ফিচারটি চালু থাকলে ফোন লক অবস্থায় হেডফোন খুলে ফেললে বেজে উঠবে উচ্চস্বরের সাইরেন। বাস থেকে চুরি রক্ষায় এটি অত্যন্ত কার্যকরী।

2) Charging Security
একইভাবে সার্ভেতে দেখা গিয়েছে চার্যার  লাগানো অবস্থায় চোর সেটা খুলে অগোচরে ফোনটি নিয়ে যায়। এই ফিচারটি চালু থাকলে ফোন লক অবস্থায় চার্যার খুলে ফেললে বেজে উঠবে উচ্চস্বরের সাইরেন। বাসা বা মেস থেকে ফোন চুরি রক্ষায় এটি অত্যন্ত কার্যকরী।

3) Power button disable
ফোন চুরি হবার পর চোর প্রথম সুযোগেই ফোনটির পাওয়ার অফ করে দেয়। এই ফিচারটি চালু থাকলে ফোন লকড থাকা অবস্থায় পাওয়ার বাটন চেপে ফোন বন্ধ করা যাবে না।

IMEI Security
আপনার ফোনটির মালিক যে আপনিই তার রেকর্ড রাখা যাবে থামাও-এ সয়ংক্রিয়ভাবে। এমনকি ব্যবহৃত ফোন কেনার আগে সার্চ করে দেখেও নিতে পারবেন ফোনটির মালিক আসল কি না।

Sunday, March 18, 2018

শাকিব-অপু : যেভাবে সম্পর্ক প্রেম থেকে বিয়েতে গড়ায়

২০০৬ সাল। শাকিব খান তখন ঢালিউডের একজন অতিসাধারণ হিরো। আজকের মতো তারকাখ্যাতি ছিল না তার। অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল বড় বাজেটের একটি সিনেমা নির্মাণ করবেন। 

সিনেমার নাম ‘কোটি টাকার কাবিন’। যেখানে সিনেমার নায়ক হিসেবে তিনি পছন্দ করলেন শাকিব খানকে।
শাকিবের বিপরীতে ডিপজল চাইলেন নতুন কোনো নায়িকা। যেমন চাওয়া, তেমন পাওয়া। ডাক পড়ল অপু বিশ্বাসের। 

যতটুকু মনে পড়ে আমজাদ হোসেনের ‘কাল সকালে’ ও সুভাষ দত্তের ‘ও আমার ছেলে’তে অভিনয় করেছিলেন অপু। তবে সেটা বড় কোনো চরিত্র নয়। বগুড়াতেই থাকতেন তিনি। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার ইচ্ছে তখনও জাগেনি অপুর।

এরইমধ্যে মাধ্যমিকে পরীক্ষা দিলেন অপু। পরীক্ষা শেষে কিছুটা বিরতি। ঠিক সেই সময় সুযোগ আসে ‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমার। কোনো চিন্তা না করেই অপু রাজি হয়ে যান। শাকিব খানকে পাচ্ছেন নিজের নায়ক হিসেবে। শাকিব তখন ঢালিউডের পরিচিত মুখ।
তার বেশ কিছু সিনেমা দেখেছেন অপু। এবার সামনা সামনি দেখার সুযোগ মিলে গেলো। 

এই সিনেমার সূত্র ধরেই শুটিং সেটে প্রথম দৃষ্টি বিনিময়। শাকিবকে ‘ভাইয়া’ বলে ডাকতেন অপু। ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করতেন তখন।

‘কোটি টাকার কাবিন’ সিনেমার শুটিং শুরু করলেও খুব একটা জানাশোনা হয়নি দুজনার। তাই সেটে বসে একে অপরকে লুকিয়ে দেখেন দুজন। কিন্তু ওইভাবে কোনো কথা হয় না। এভাবেই অল্প অল্প পরিচয়ে কিছুটা কাছে আসা। শাকিব অপুর কাছ থেকে ফোন নম্বর নেন।


যদিও তখন শাকিব অনেকটা নার্ভাস ছিলন। এরপর অপুকেই প্রথম ফোন করেন শাকিব। তবে তার আগে এসএমএস দিয়ে জানান, আমি রানা (শাকিবের ডাক নাম), ফোন রিসিভ করো। অপু লজ্জা পেলেন। সবার সামনে ফোন রিসিভ না করে ওয়াশরুমে ঢুকে পানির কল ছেড়ে দিয়ে শাকিবের সঙ্গে প্রথম কথা বললেন অপু।

এভাবে দেড় মাস ফোনে প্রেম চলে। কোনো কোনো দিন ফোনে শাকিবের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মায়ের কাছে ধরাও পড়েছেন অপু। শাস্তিস্বরূপ অপুকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ভারতে, বোনের বাসায়। সেখানেই থাকতে হবে, সিনেমায় আর অভিনয় করা যাবে না। কিন্তু প্রেম যে মানে না কোনো বাধা।

ভারতে যাওয়ার পর অপুর প্রেম আরও গভীর হয়। রাস্তার পাশের ফোন বুথ থেকে দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে শাকিবকে ফোন করতেন অপু। প্রেমিকার ফোন পেয়ে সিনেমার শিডিউল ফাঁসিয়ে শাকিব চলে যান ভারত। তাও বিমানে নয়, বাসে চড়ে। 

ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন শাকিব। দেখা করলেন প্রেমিকার সঙ্গে। ঘুরতে গেলেন দার্জিলিং।

যদিও দেশে ফিরে শিডিউল ফাঁসানোর দায়ে বিপদে পড়তে হয়েছিল শাকিবকে। এদিকে ‘কোটি টাকার কাবিন’ মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির পরেই সুপারহিট। 

নতুন এ জুটির সাফল্য দেখে ডিপজল আরও চারটি সিনেমার ঘোষণা দেন। সিনেমা করলেই শাকিবের কাছাকাছি থাকতে পারবেন অপু। তাই রাজি হয়ে গেলেন।
কিন্তু বাধা শুধু পরিবার। কে শোনে কার কথা! বিদ্রোহ করলেন অপু। 

দেশে ফিরে এসে বগুড়ার এক কলেজে ভর্তি হলেন তিনি। শাকিব তখন শুটিং ফেলে কলেজের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। অপুর মা শাকিবের সঙ্গে মেলামেশা পছন্দ করতেন না। একদিন শাকিবের মুখোমুখি হলেন তিনি।

শাকিব বললেন, ‘আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করব। অপুর মা বললেন, আর সেদিনই আমি তোমাকে ত্যাজ্য করব। ভালোবাসার বন্ধন আরও মজবুত করতে শাকিব বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। সেদিন ছিলো ১৮ এপ্রিল ২০০৮। এ দিনে বিয়ে করার কারণ হচ্ছে সেদিন শাকিবের বাবা-মা বাসায় ছিলেন না।

শাকিবের ফুপাতো ভাই তানভীরের মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাবেন। নির্ধারিত সময়ে কাজী ডেকে আনা হলো। ভালোবাসার টানে ধর্ম ত্যাগ করে অপু বিশ্বাস হয়ে গেলেন অপু ইসলাম খান।

বিয়েতে ছিলেন অপুর মেজ বোন, শাকিবের কাজিন মুনির ও প্রযোজক মামুনুজ্জামান মামুন। বিয়ের পর অপু চলে গেলেন নিজের বাসায়। বিয়ের বিষয়টা শাকিবের বাবা-মা, অপুর মা জানতেন না। ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব ছাড়া চলচ্চিত্রেরও তেমন কেউ জানতেন না। বছরখানেক পর দুজন একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন।

অপুর ভাষ্য, যেন কেউ সন্দেহ করতে না পারে, সেজন্য শুটিংয়ের সময় শাকিবের ধারেকাছেও থাকতাম না। শটের সময় চলে যেতাম ক্যামেরার সামনে। অনেকের সন্দেহ হয়েছে; কিন্তু কেউ নিশ্চিত হতে পারেনি।

Thursday, March 15, 2018

যেসব খাবারে দৈহিক শক্তি বাড়ে!

বিশ্বসেরা ১০ স্পেশাল ফোর্স

হলিউডের কল্যাণে স্পেশাল ফোর্স এখন বেশ জনপ্রিয় শব্দ। স্পেশাল ফোর্স শুনতেই বেশ রোমাঞ্চ অনুভব হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এখন স্পেশাল ফোর্স আছে। গোয়েন্দাগিরি এবং গোপন অভিযানের উদ্দেশ্যেই এই ফোর্স তৈরি করা হয়। জার্মানদের হাত ধরেই এই স্পেশাল ফোর্সের উৎপত্তি । 
বিংশ শতাব্দীতে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয়েছিল, সেই সময়কার কথা। জার্মানি গোপনে লড়াই চালানো এবং অন্যান্য দেশের সামরিক খবর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে ব্র্যান্ডেরবুর্গ নামে একটি ফোর্স গঠন করে। ওখান থেকেই স্পেশাল ফোর্সের উৎপত্তি। আর এখানকার কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় মূলত সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী থেকে। স্পেশাল ফোর্সে প্রবেশের আগেই অনেক কঠিন প্রশিক্ষণের কাঠ খর পোরাতে হয়। পরিশ্রম ওখানেই শেষ নয়। ফোর্স জয়েন করার পরই শুরু হয় আসল খেল। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্ব সেরা ১০ স্পেশাল ফোর্স সম্পর্কে।

১। ইউনাইটেড স্টেটস নেভি সিলস (United States Navy Seals)

ইউনাইটেড স্টেটস নেভি সিলস বিশ্বের সেরা স্পেশাল ফোর্সগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি পরিচিত। নেভি সিলস ১৯৬২ সালে গঠিত হয়। এই স্পেশাল ফোর্স মার্কিন নৌবাহিনীর অন্তর্গত। তবে তাদের সেনাদের স্থল, জল ও আকাশে যুদ্ধের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। টুইন টাওয়ারে হামলার পর থেকে সিলস যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস দমনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ও পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে লাদেনকে হত্যার অভিযানে সিলস এবং সিআইএ একসঙ্গে কাজ করছে।

২। স্পেশাল বোট সার্ভিসেস (Special Boat Services)

যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি দুর্ধর্ষ বাহিনী স্পেশাল বোট সার্ভিসেস । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই এই স্পেশাল ফোর্স কাজ করছে। নৌযুদ্ধেই এই বিশেষ ফোর্সকে কাজে লাগানো হয়। তবে, সামুদ্রিক পথে গিয়ে স্থলে নেমেও যুদ্ধ করতে সিদ্ধহস্ত এই বাহিনীর সেনারা। এসবিএস যোগ দেওয়ার আগে অত্যন্ত কঠোর প্রশিক্ষণ পাশ করতে হয়। পাহাড়ি এলাকা এবং জঙ্গলের মধ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, কিভাবে বেঁচে থেকে লড়াই করতে হয়।

৩। ব্রিটিশ স্পেশাল এয়ার সার্ভিসেস (Special Air Services)

ব্রিটিশ স্পেশাল এয়ার সার্ভিসেসকে সংক্ষেপে বলা হয় এসএএস। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে এই শাখা গঠন করেছিল। ১৯৪৭ সালে এসএএসকে স্থল সেনাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পুনর্গঠিত করা হয়েছিল। ১৯৮০ সালে লন্ডনে ইরানের দূতাবাস সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য এসএএস অভিযান চালিয়েছিল।

৪। সায়েরেত মতকল (Sayeret Matkal)

সায়েরেত মতকল ইসরাইলের স্পেশাল ফোর্স। এই স্পেশাল ফোর্সের অন্যতম কাজ গোয়েন্দাগিরি এবং গোপন খবর সংগ্রহ করা। শত্রু দেশের সীমা পার করে খবর আনতেও তারা বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদলেই এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করা হয়েছে।

৫। জিআইজিএন (GIGN)

ফ্রান্সের ন্যাশনাল গেন্ডারমেরি ইন্টারভেনশন গ্রুপের সঙ্গে পেরে উঠতে পারে এমন এলিট ফোর্স খুব কমই রয়েছে। জিআইজিএন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কাজকর্ম চালায় । ২০০জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অফিসারের এই ফোর্স যে কোনও পরিস্থিতিতে বন্দি উদ্ধারে সিদ্ধহস্ত। ১৯৭৩ সাল থেকে জিআইজিএন কাজ করে আসছে। মিউনিখ অলিম্পিক গেমসের সময় ইসরায়েলি অ্যাথলেটদের অপহরণের ঘটনার পরই এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করে ফ্রান্সের সেনাবাহিনী।

৬। আলফা গ্রুপ (Alpha Group)

গোপন সামরিক অভিযানের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পেশাল ফোর্স হিসেবে স্বীকৃত রাশিয়ার আলফা গ্রুপ। ১৯৭৪ সালে রাশিয়েতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় কেজিবি এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করেছিল। বর্তমানে তাদের সঙ্গে এফএসবি নামে আরও একটি শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে কেজিবি।

৭। ইউনিদাদ দে অপারেসিওনেস এসস্পেশিয়ানেস (Unidad de Operaciones Especiales)

‘ইউনিদাদ দে অপারেসিওনেস এসস্পেশিয়ানেস’ স্পেনের স্পেশাল ফোর্স। ২০০৯ সাল থেকেই মূলত তারা গোটা বিশ্বের সঙ্গে পরিচিত হয় । তার আগে এরা গোপনই কাজ পরিচালনা করতো। স্পেনীয় নৌসেনার বিশেষ এই শাখা ইউরোপে অন্যতম

৮। মার্কোস (MARCOS)

মেরিন কমান্ডো ফোর্স (মার্কোস) ভারতীয় নৌসেনার একটি বিশেষ শাখা। জল ও স্থলে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সম্মুখসমর, বিশেষ ধরনের হামলা চালানো, যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা, বন্দি উদ্ধার, এবং যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আটকানোর মতো বিভিন্ন কাজে দক্ষ ভারতীয় নৌসেনার এই স্পেশাল ফোর্স। মার্কোসের প্রতিটি সদস্য যুদ্ধের সময় যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় সক্ষম।

৯। ডেল্টা ফোর্স (Delta Force)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স ফাস্ট স্পেশাল ফোর্সেস অপারেশনাল ডিটাচমেন্ট-ডেল্টা (ফাস্ট এসএফওডিডি)। ডেল্টা ফোর্স নামেই এই বাহিনী বহুল পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদের মুখে বারবার পড়ায়, ১৯৯৭ সালে ডেল্টা ফোর্স গঠন করে। সন্ত্রাস দমন, গোপনে আক্রমণ চালানো, বন্দি উদ্ধারের মতো নানান গোপন মিশনে ডেল্টা ফোর্সকে ব্যবহার করা হয়।

১০। জিএসজি ৯ (GSG 9)

জার্মান ফেডারেল পুলিশের সন্ত্রাস দমন এবং বিশেষ কার্যসম্পাদন শাখা জিএসজি ৯ । ১৯৭৩ সালে এই স্পেশাল ফোর্স গঠন করা হয়। বন্দি উদ্ধার, অপহরণের ঘটনা, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার মতো পরিস্থিতিতে জিএসজি ৯কে ব্যবহার করে জার্মান পুলিশ। তাদের সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত, দেড় হাজারেরও বেশি স্পেশাল অপারেশন সামলেছে এই স্পেশাল ফোর্স।

Wednesday, March 7, 2018

কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসায় শিয়ালকাঁটা

আমাদের প্রকৃতিতে এমন কিছু উপাদান আছে যেগুলো গ্রহণ করলে বহু জটিল রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এমন একটি উপাদান হচ্ছে শিয়ালকাঁটা। এই গাছ কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। ড. তপন কুমারের ‘ বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় গাছ-গাছড়া’র বইয়ে এর আরও কিছু গুণাবলি তুলে ধরা হয়েছে। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো

১) ইহার রস ক্ষতরোগে উপকারী।

২) শিয়ালকাঁটা গাছের রস, চন্দন গাছের রসের সঙ্গে মিশ্রিত করে কুষ্ঠ রোগে প্রয়োগ করে।

৩) তৈল ৩০-৬০ ফোঁটা পরিমান রক্ত আমাশয়ে ব্যবহৃত হয়।

৪) আঠার ক্ষত নিবারণ করিবার শক্তি আছে।

৫) বোলতা ও ভীমরুল কামড়ালে মূল প্রলেপ স্বরূপ ব্যবহৃত হয়।

৬) বীজের তেল সরিষার তেলে পাক করে পাঁচড়া ও চুলকণায় ব্যবহৃত হয়।

৭) আঠা গণোরিয়া ও কুষ্ঠরোগে ব্যবহৃত হয়।
পরিচিতি

শিয়ালকাঁটা সাধারণত- শুকনা জায়গাতেই জন্মে, সরস জায়াগা পছন্দ করে না। শিয়ালকাঁটা বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ, এক মিটার আন্দাজ উঁচু এবং খাড়া কাণ্ড বিশিষ্ট উদ্ভিদ। এর পাতাগুলি ঢেউ খেলানো। পাতাগুলির কিনারা অল্পখণ্ডিত ও ধারালো কাঁটাযুক্ত। এ গাছের রস (তরুক্ষীর) গাঢ় এবং উজ্জল হলুদ রঙের। ফল পীতবর্ণ, ফল দেখতে কালো সরিষার ন্যয়। একটি ফলে বহু বীজ থাকে।

ভিটামিন ডি’র অভাবে যেসব রোগ হয়

ভিটামনিটিকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয় কেন। নিয়মিত রোদ পোয়ালে দেহের ভেতরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দূর হতে শুরু করে। ফলে হাড় এত শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে যে চোট-আঘাত লাগার আশঙ্কা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে জয়েন্ট, ঘার এবং গোড়ালির কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

 
শুধু তাই নয়, মেলে আরও অনেক উপকার। যেমন- ফাঙ্গাল ইনফেকশন দূরে থাকে, হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে, ঘুম ভাল হয়, ত্বকের রোগ সারাতে সাহায্য করে, ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করে, মাল্টিপল স্কলোরোসিস মতো রোগের প্রকোপ কমে এবং শরীরে বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস পায়।
এখন প্রশ্ন হল যাদের নিয়মিত রোদ পোহানোর সময় নেই, তাদের শরীরে তো ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দেবে। সেক্ষেত্রে তাদের কী করণীয়? এক্ষেত্রে কতগুলি সহজ পদ্ধিতির সাহায্য নিলেই কেল্লাফতে! যেমন-

কর্ডলিভার অয়েল: কর্ড মাছের লিভার থেকে সংগ্রহ করা এই তেল সারা গায়ে লাগিয়ে যদি মাসাজ করতে পারেন। তাহলে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই থাকে না। কারণ এই তেলটির অন্দরে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ডি মজুত থাকে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে এবং জযেন্ট পেন কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

মাশরুম: ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটাতে এই প্রকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় নেই। তাই হাড়ের পাশপাশি হার্ট এবং ব্রেনকে যদি চাঙ্গা রাখতে চান, তাহলে সপ্তাহে ২-৩ দিন মাশরুম খেতেই হবে। প্রসঙ্গত, ভিটামিন বি-এর চাহিদা পূরণেও মাশরুমের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

সামদ্রিক মাছ: মাছের শরীরে, বিশেষত সামদ্রিক মাছে যে পরিমাণে ওমেগা ত্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, সেই পরিমাণে থাকে ভিটামিন ডি-ও। তাই তো প্রতিদিন মাছ খেলে শরীরে এই বিশেষ ধরনের ভিটামনিটির ঘাটতি হওয়ার কোনও আশঙ্কাই থাকে না।

সূর্যমুখী ফুলের বীজ: এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতি প্রচুর মাত্রায় মজুত রয়েছে ভিটামিন ডি এবং উপকারি প্রোটিন। তাই তো নিয়মিত যদি সূর্যমুখী ফুলের বীজ একটু ভেজে নিয়ে খেতে পারেন, তাহলে ভিটামিন ডি-এর যোগান নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না।

দুধ খাওয়া জরুরি: মাশরুমে যে মাত্রায় ভিটামিন ডি রেয়েছে, তার থেকে কিছু কম নেই দুধে। তাই তো শরীরে এই উপকারি ভিটামিনটির যোগান ঠিক রাখতে প্রতিদিন দুধ নয়তো কোনও না কোনও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া জরুরি।

ডিমের সঙ্গ ছাড়া চলবে না: শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটাতে যদি চান, তাহলে প্রতিদিনের ডায়েটে একটা করে ডিম থাকা মাস্ট। নিউট্রিশনিস্টদের মতে ডিমের ভেতরে যেমন প্রচুর মাত্রায় প্রোটিন এবং উপকারি কোলেস্টেরল রয়েছে, তেমনি রয়েছে ভিটামিন ডি-ও। তাই তো শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে এবং নানাবিধ হাড়ের রোগকে দূরে রাখতে নিয়মিত একটা বা দুটো করে ডিন খাওয়া উচিত।
সূত্র: বোল্ডস্কাই

পকেটে মোবাইল পুরুষের জন্য ডেকে আনে বিপদ: গবেষণা

পুরুষরা যখন বের হয় তখন নিজের ফোনটা তার প্যান্টের পকেটে রেখে বের হয়।

কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ফোন পকেটে ব্যবহার করে পুরুষরা তাদের জীবনে ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে। কেননা মোবাইল ফোন থেকে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নামে এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ নির্গত হয় তা শরীরে মারাত্মক ক্ষতি করে। এছাড়া ক্যান্সারের জন্য অন্যতম দায়ী।

ক্যালিফোর্নিয়ার ব্রেস্টলিঙ্ক নামক একটি সংস্থায় গবেষণা করে দেখা গেছে যে, পুরুষদের প্যান্টের পকেটে মোবাইল ফোন রাখাটা মোটেও ভাল নয়। এর কারণ, মোবাইল ফোন পুরুষদের ক্ষেত্রে বীর্যের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, কথা বলার সময় ফোন যদি পুরুষাঙ্গের কাছাকাছি থাকে, তবে তা বীর্য উৎপাদনকারী কোষের মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে। এতে পরিমাণ মতো বীর্য তৈরি হতে পারে না।

ফলে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত বীর্যের কারণে সন্তান দুর্বল এবং শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মাতে পারে। অনেক পুরুষ কানে হেডফোন ব্যবহার করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোন পকেটে রাখে, তাদের ক্ষেত্রে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা সব থেকে বেশি।

ক্লেভল্যান্ড-এ অবস্থিত সেন্টার ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিন-এ মোবাইল ফোনের ওপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়। তাতে ৩২ জন পুরুষের ওপর এই সমীক্ষা হয়। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে বীর্যের নমুনা নিয়ে, তা দিয়ে নানা ধরণের পরীক্ষা-নিরিক্ষা চালানো হয়। এক সময় নমুনাগুলির কাছাকাছি ফোন রেখে দিয়ে তার প্রভাব পরীক্ষা করা হয় এবং দেখা যায় যে, বীর্যগুলি যথারীতি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
তথ্যসূত্র : ডেইলি সান শাইন।

Monday, March 5, 2018

অর্শ বা পাইলস রোগের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

তীব্র বেদনা দায়ক এবং জটিল রোগগুলোর মধ্যে  অর্শ বা পাইলস হলো একটি। এটি মানুষের মলদ্বারের রোগ। এ রোগে মলদ্বারের ভেতরে বা বাইরে, চারপাশে বা একপাশে, একটি বা একাধিক, গোলাকৃতি বা সুচাল গুটিকা দেখা দেয়। এ গুটিকাগুলোকে ‘বলি’বা ‘গেজ’ বলা হয়। পায়খানা করার সময় এ বলিগুলো থেকে অভ্যন্তরীণ সমস্যার অনুপাতে কারো অধিক পরিমাণে, কারো স্বল্প পরিমাণে রক্ত যায়। আবার অনেকের রক্ত যায়ই না।
 
সৃষ্টির ইতিবৃত্ত :-
প্রতিনিয়ত আবহাওয়া ও খাদ্যাদি থেকে নানা রকম বিষ ও রোগ জীবাণু আমাদের দেহের ভেতরে প্রবেশ করে। শক্তিশালী জীবনীশক্তি এ বিষসমূহের কিছু দেহাভ্যন্তরে ধ্বংস করে ও কিছু পায়খানা প্রস্রাব ও ঘর্ম ইত্যাদি স্বাভাবিক স্রাবের মাধ্যমে বাইরে বের করে দিয়ে দেহকে সুস্থ রাখে। এমন কিছু জীবাণু আছে যেগুলোকে জীবনীশক্তি ধ্বংস করতে পারে না এবং নিষ্কাশিত করাও জীবনীশক্তির সামর্থ্য হয় না। সে জীবাণুগুলো দেহের মধ্যকার ত্রিদোষ (সোরা, সিফিলিস, সাইকোসিস)-এর যে কোনো দোষ বা দোষসমূহের দ্বারা প্রবল শক্তি অর্জন করে এবং মারাত্মক ব্যধির সৃষ্টি করে জীবনীশক্তির পতন ঘটানোর চেষ্টা করে। এ অবস্থায় জীবনীশক্তি যে কোনো স্রাবকারী নতুন পথের সৃষ্টি করে ওই প্রবল বিষ বা বিষবাষ্প বের করে যন্ত্রটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করে।
 
অর্শের কারণ :-
  • পুরনো কোষ্ঠকাঠিন্য।
  • লিভার সিরোসিস, যকৃতে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চয় ও অত্যধিক মস্তিষ্কের কাজ।
  • মূত্রাশয়ের গোলযোগ, প্রোস্টেট ক্যান্সার, গর্ভাবস্থায় মহিলাদের জরায়ুতে চাপ পড়লে।
আকৃতি অনুযায়ী প্রকারভেদ :-
  • ছোলার মতো,
  • আঙুরের মতো,
  • খেজুর গাছের শিকড়ের মতো,
  • রেশন গাছের গোটার মতো,
  • খেজুরের মতো,
  • ডুমুরের মতো।
শিরা স্ফীতির ওপর প্রকারভেদ যথা :-
১. মলদ্বারের অভ্যন্তরে অর্শ : ১-২ ইঞ্চি ভেতরের দিকে শিরার স্ফীতি হয়ে বলির সৃষ্টি হয়। একে আবার ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
  • প্রথমতঃ মলদ্বারের ভেতর থেকে ব্যথাহীন রক্তপাত হয়। কিন্তু অর্শের বলি মলদ্বারের বাইরে বের হয়ে আসে না।
  • দ্বিতীয়তঃ বলি মলদ্বারের বাইরে বের হয়ে আসে, তবে মলত্যাগের পর নিজেই ভেতরে চলে যায়।
  • তৃতীয়তঃ বলিগুলো বাইরে বের হয়ে আসে এবং হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে না দিলে বাইরেই থেকে যায়।
২. মলদ্বারের বাইরে অর্শ : মলদ্বারের বাইরে বলির সৃষ্টি হয় এবং হাত দিয়ে তা অনুভব করা যায় এবং
৩. মিশ্র অর্শ : এক্ষেত্রে মলদ্বারের ভেতরে এবং বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই অর্শের বলি পাওয়া যায়।
লক্ষণসমূহ :-
  • পায়খানা করার সময় অত্যধিক বা অল্প পরিমাণে রক্ত যেতে পারে।
  • গুহ্য দ্বারে জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যায়।
  • টাটানি ও যন্ত্রণা।
  • কাঁটাবিদ্ধ অনুভূতি।
  • মাথা ধরা ও মাথা ভার বোধ।
  • উরুদেশ, বক্ষ, নাভির চারপাশে ব্যথা ও মলদ্বারে ভার বোধ।
  • কোমর ধরা ও কোষ্ঠবদ্ধতা।
অর্শ রোগে আক্রান্তদের করণীয় :-
  • নিয়মিত পায়খানা করা।
  • পেটে হজম হতে চায় না এমন খাদ্য বর্জন করা।
  • চিকিৎসকের পরামর্শমতো বিশ্রাম নেয়া।
  • হাতুরে ডাক্তার বা কবিরাজ দিয়ে চিকিৎসা না করা।
প্রতিরোধের উপায় :-
  • কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সে দিকে খেয়াল রাখা।
  • নিয়মিত ঘুমানো।
  • পরিমাণ মতো পানি পান করা।
  • অতিরিক্ত পরিশ্রম না করা।
  • তরলও সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণ।
  • অধিক মশলা জাতীয় খাদ্য পরিহার করা।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা :-
হোমিওপ্যাথি রোগ নিরাময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র ও সদৃশ উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয়। এটি উপসর্গ ও জটিলতা মুছে ফেলে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য অবস্থায় রোগীর ফিরে যাবার একমাত্র উপায়। সদৃশবিধানের লক্ষ্য শুধু অর্শ চিকিত্সা নয়, তার অন্তর্নিহিত কারণ ও স্বতন্ত্র প্রবণতা মোকাবেলায়ও সহায়তা করে। স্বতন্ত্র ঔষধ নির্বাচন এবং চিকিত্সার জন্য, রোগীকে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ও রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত ।
যে সকল কারণে মলদ্বারের নিকটবর্তী শিরা সমূহে রক্ত চলা-চলের গতিরোধ হয়ে রক্ত সঞ্চিতির ফলে স্ফীতি এবং বড় হয় তাকে পাইলস বা অর্শ বলে। কখনও একটা কখনও বা একাদিক থোকা থোকা আঙ্গুরের ন্যায় দেখতে পাওয়া যায়। অর্শের বলি মলদ্বারের বাইরে থাকলে তাকে বর্হিবলি এবং অভ্যন্তরে থাকলে তাকে অন্তর্বলি বলে।
মানুষের রোগব্যাধির মধ্যে মলদ্বারের রোগই সবচেয়ে বেশি স্বচিকিৎসা এবং হাতুড়ে চিকিৎসা হয়। কিছুটা ভয় ও বিব্রতকর অনুভূতির জন্য এ জাতীয় রোগ হলে রোগীরা ডাক্তার দেখাতে চায় না। রোগীরা নিজে নিজে অথবা সস্তায় পাওয়া হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যান বেশি। বিভিন্ন কুসংস্কার এবং মলদ্বারের সব রোগই পাইলস এ ভ্রান্ত ধারনার কারনে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন,যা কখনো কখনো ভয়াবহ পরিনতি ডেকে আনে।
পাইলসের প্রকারভেদ :-
বলিভেদে পাইলস দুই প্রকার। যথা- বহির্বলি ও অন্তর্বলি। আবার স্রাব সম্বন্ধীয় পাইলস বা অর্শকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
  • যে অর্শ থেকে প্রবল রক্ত ধারা ছুটে তাকে রক্তস্রাবী পাইলস বলে।
  • যে অর্শে রক্ত স্রাব থাকে না কিন্তু জ্বালা যন্ত্রনা, সুঁচ ফোটান ব্যথা ইত্যাদি কষ্টদায়ক উপসংগ থাকে তাকে অস্রাবী পাইলস বলে।
  • যে অর্শে কেবল মাত্র আম নির্গত হয় তাকে আম শ্রাবী পাইলস বলে যা বর্ষাকালেও বসন্তকালে প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।
যে রোগীরা পাইলসে ভোগেন তাদের সাধারনত কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া জাতীয় সমস্যা থাকে। অনেক রোগী আছেন যাদের পেটে গ্যাস হয়। পায়খানার সঙ্গে মিউকাস বা আম যায়। পায়খানা করার পর মনে হয় ক্লিয়ার হয়নি। দুধ, পোলাও, ঝাল, গরু বা খাসির মাংস ইত্যাদি খেলে হজমে গোলমাল হয়। টয়লেটে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয়। অনেকে মলদ্বারের ভেতর আঙুল দিয়ে মলত্যাগ করেন। রোগীরা এ সমস্যাগুলোকে গ্যাস্ট্রিক বা ক্রনিক আমাশয় হিসেবে মনে করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে আমরা বলি ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ডোম বা আইবিএস। এ জাতীয় রোগীদের দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, পোলাও, ঝাল, বিরিয়ানি খাওয়া নিষেধ।
পাইলসের উৎপত্তি :-
কোষ্ঠবদ্ধতা, উৎকট উদরাময়, যকৃতের বিবৃদ্ধি, অতিরিক্ত মদ্য কিংবা মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার, অলস জীবন যাপন, স্ত্রীলোকের জরায়ুর বিবৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে বস্তি গহ্বরের শিরা সকলে চাপা পড়ে। ফলে রক্তের গতিরুদ্ধ হওয়ার কারণে মলদ্বারে নিকটবর্তী শিরা সকল রক্ত সঞ্চিত হয়ে স্ফীত হয়। এভাবে অর্শের জন্ম হয়। মোট কথা বস্তি গহ্বরের শৈরিক রক্তস্রোত বাধা প্রাপ্ত হলেই পাইলস বা অর্শের উৎপত্তি ঘটে।
এই রোগের লক্ষনাদি :-

মলের সঙ্গে রক্তের ছিটে দেখা যায় অথবা সময় সময় এক বারকার পাইখানাতেই প্রায় এক ছটাক হতে আধ পোয়া পর্যন্ত রক্ত বাহির হয়। মল ত্যাগকালে রোগী বিষম কষ্ট পান এবং সরলাস্ত্র মধ্যে জ্বালা, দপ্‌দপানি ও চিড়িক মারা মতন যাতনা ভোগ করেন এবং সময় বিশেষে মল নির্গত হয়ে যাবার পরও অনেকক্ষন পর্যন্ত উক্ত যাতনাদি অবস্থান করে। যখন অর্শের বলীগুলো প্রদাহিত হয় অথবা গুহ্যদ্বারের পেশী বা স্ফিংটার দ্বারা নিষ্পেষিত হয়, তখন অতিশয় ক্লেশ বোধ হতে থাকে এবং উপর্যুপরি দুই তিন দিন পর্যন্ত রোগী বিছানা হতে উঠে কোন কাজকর্ম করতে পারেন না। প্রায় সকল সময়েই অর্শ্বরোগের সাথীরূপে কোষ্টবদ্ধতা প্রকাশ পায়। এই রোগ কতকটা পূর্বোক্ত “মেক্যানিক্যাল অবষ্ট্রাকসান” এবং কতকটা মলত্যাগকালীন যন্ত্রনা জন্য আনীত হয়। অর্শরোগ নিবন্ধন, আলস্য বোধ, রুক্ষ্ম মেজাজ, শিরপীড়া, মূর্চ্ছাভাব এবং পরবর্তী অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তস্রাবহেতু রক্তাল্পতা ও মাথা ঘোরা, উপসর্গ রূপ দেখা দেয়।
খাদ্যাভাসের পরিবর্তন :-
আমরা প্রচুর রোগী পাই। যাদের সঠিক খাদ্যাভাসের অভাবে পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ হয়। পায়খানার পরিমান বাড়ে এমন খাবার খাওয়া উচিত। যেমন- শাক, সবজি,সালাদ, ফল, ইসুপগুলের ভূষি, গমের ভূষি ইত্যাদি। দৈনিক পরিমিত পানীয় খেতে হবে। একজন পূর্ন বয়স্ক লোকের জন্য ৬-৮ গ্লাস পানি প্রতিদিন পান করতে হবে।
হোমিওপ্যাথিক প্রতিবিধান :-
পাইলস বা অর্শে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের কার্যকারিতা বহু প্রাচীনকাল থেকেই সন্দেহাতীতভাবে দৃঢ়তার সাথে প্রমানিত হয়ে আসছে। কেন্ট রেপার্টরীর প্রয়োগ-সংকেতও এ পীড়ায় প্রনিধানযোগ্য। অর্শে বহুল প্রচলিত ওষধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিশেু প্রদত্ত হল।
  • শ্রম বিমুখতা ও ভোগ বিলাসিতাজনিত অর্শে নাক্স ভমিকা, সালফার, পডোফাইলাম, পালসেটিলা বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে,
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হেতু অর্শে ইস্কিউলাস, নাক্স, সালফার,কলিনসোনিয়া ও কার্বোভেজ
  • গর্ভাবস্থায় অর্শে- কলিনসোনিয়া, ইস্কুলাস, নাক্স ভমিকা,হ্যামামেলিস, অ্যাসিড মিউর, অ্যালো,
  • রক্তস্রাবী অর্শে- কলিনসোনিয়া, ইগ্লোসিয়া, র‌্যাটানহিয়া,হ্যামামেলিস, পিওনিয়া, এব্রোটেনাম, সালফার, ক্যাপসিকাম, ইস্কুইলাস-গ্ল্যাবরা, এসিড নাইট্রিক,তমন কার্ব।
  • অস্রাবী অর্শে- আর্সেনিক এল্ব, একোনাইট ন্যাপ, ইস্কুইলাস হিপ, এসিড মিউর, এমন মিউর,প্লান্টেগো, ক্যালিকার্ব।
  • আমস্রাবী অর্শে- এন্টিম ক্রুড, হিসার সালফ, লাইকোপডিয়াম সফলতার সাথে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
 
 

Friday, March 2, 2018

রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল রোধ করবে খাবার




কিছু খাবার নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে রক্তে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যাবে। ফলে বাড়বে আয়ু, কমে রোগভোগের আশঙ্কা।  যেসব খাবারগুলি নিয়মিত খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে সেগুলির একটি তালিকা পাঠকদের জন্য দেওয়া হল-

১।মধু ও পেঁয়াজের রস-
এক চামচ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে দিনে একবার করে এই মিশ্রন খান। টানা কয়েক মাস খেলেই সুফল মিলতে শুরু করবে।

২। আমলকি-
এক গ্লাস গরম পানিতে এক চামচ আমলকি পাউডার মিশিয়ে প্রতিদিন খালি পেটে পান করা শুরু করুন। কয়েক সপ্তাহ এই ঘরোয়া টোটকাকে কাজে লাগালেই দেখবেন কোলেস্টেরল একেবারে নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

৩।  কমলা লেবুর রস-
এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি এবং ফ্লেবোনয়েড, যা বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। তাই এই শীতে প্রতিদিন কম করে ২-৩ বার কমলা লেবুর রস খেতে ভুলবেন না যেন!

৪। মাছ-
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত মাছ খাওয়া শুরু করলে শরীরে উপকারি ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর পাশাপাশি হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫। সয়াবিন-
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন ২৫ গ্রাম করে সয়া প্রোটিন শরীরে প্রবেশ করলে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ৫-৬ শতাংশ হারে কমতে শুরু করে। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে এল ডি এল কোলেস্টেরলের মাত্রা যত কমে, তত হার্টের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

যেভাবে বুঝবেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে চলেছে



বিভিন্ন কারনে নারী শরীরে হরমোনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অবশ্য কয়েকটা লক্ষনের দ্বারা ভাল ভাবে বোঝা সম্ভব। কারণ হরমোনের গণ্ডগোলের থেকেই উৎপত্তি হয় বিভিন্ন রোগের উপসর্গ। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য এভাবে ব্যহত হবার পেছনে থাকতে পারে গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যা। বিশেষ করে নিচের কয়েকটি লক্ষণ দেখতে পেলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াটাই ভাল-

১।ত্বকের অবনতি- ত্বকে ব্রণ ওঠার ব্যাপারটাকে অনেকেই হেলাফেলার দৃষ্টিতে দেখেন। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মুখের নিচের অংশে ব্রণ ওঠার সাথে শরীরে উঁচুমাত্রার টেস্টোস্টেরনের সংযোগ থাকতে পারে। শরীরের গোপন অঙ্গে হঠাৎ করে পশম জন্মাতে শুরু করতে পারে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যাবার কারণে। আর টেস্টোস্টেরন এভাবে বেড়ে যেতে পারে যদি শরীরে এক ধরণের টিউমার থেকে থাকে।

২।অবসাদ- অবসাদের অনেক কারণ থাকতে পারে। শুধুমাত্র ক্লান্তি মনে করে একে উড়িয়ে দেন অনেকেই। সারা সপ্তাহ কাজ বা পড়াশোনার ধকলের পর ক্লান্ত থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু সারাক্ষণই ক্লান্ত থাকা এবং তার পাশাপাশি ওজন বেড়ে যাওয়া, রুচির পরিবর্তন এবং বদহজমের উপসর্গ থাকলে তা হলে পারে আন্ডারঅ্যাকটিভ থাইরয়েডের লক্ষণ। কোনো কারণ ছাড়াই সবসময় ক্লান্ত লাগলে ডাক্তারকে জানান।

৩।ঘুমের মাঝে ঘেমে যাওয়া- অনেকেই এমন আছেন, যারা ঘুমের মধ্যেই ঘেমে যান। বেডরুমে ইলেক্ট্রিসিটি থাকা সত্ত্বেও ঘেমে যাওয়া মানে, হতে পারে ইস্ট্রোজেনের অভাব এবং অনিয়মিত ডিম্বপাত। এই জটিলতাকে বলা হয় প্রি মেনোপজ। মেনোপজ হবার মতো বয়স হবার আরও বছর দশেক আগেই দেখা দিতে পারে প্রি মেনোপজ। এসব উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তার দেখিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন সমস্যাটি আরও গুরুতর কি না।

৪।অনিয়মিত পিরিয়ড- অবসাদের মতই অনিয়মিত পিরিয়ডের পেছনেও থাকতে পারে অনেক কারণ। যেমন স্ট্রেস, থাইরয়েডের সমস্যা, ইস্ট্রোজেনের অভাব অথবা পি সি ও এস (পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম)। পি সি ও এস এর লক্ষণ হলো অনিয়মিত পিরিয়ড, অনিয়ন্ত্রিত ওজন বাড়া অথবা শরীরে পশমের আধিক্য।
প্রসঙ্গত, প্রতি মাসেরই একটি নির্দিষ্ট সময়ে নারীদের শরীরে হরমোনের ক্রিয়াকলাপ বেড়ে যায়। এ সময়ে হরমোন তাদের শারীরিক এবং মানসিক অবস্থার ওপর বেশ বড় প্রভাব রাখে। পিরিয়ডের পর শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেও মাঝে মাঝে দেখা যায় অকারণেই অনেক দিন ধরে রয়ে যায় এসব উপসর্গ।

পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায় যেসব কারণে

শুক্রাণু সংখ্যা কমে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ আমাদের চারপাশে রয়েছে। দৈনন্দিন অভ্যাস এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার শরীরে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে।গবেষণায় দেখা গেছে খুব সাধারণ কিছু অভ্যাস থেকে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যেতে পারে।

এদিকে পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের জন্য দায়ী অন্যতম কারণ হচ্ছে শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান কমে যাওয়া। পুরুষদের কিছু অভ্যাস তাদের যৌন স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে যা গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রাণুর গুণমান না থাকায় অনেক দম্পতিরা সমস্যার সম্মুখীন হয়।

খুব সাধারণ কিছু অস্বাস্থ্যকর দৈনন্দিন অভ্যাস এখানে তুলে ধরা হল-
১.পকেটে ফোন রাখা
ফোনটি হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে হয়ত প্যান্টের সামনের পকেটে রাখা নিরাপদ মনে করছেন। কিন্তু এটিও শুক্রাণুর জন্য সম্ভাব্য ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে স্মার্ট ফোন থেকে যে বিকিরণ বের হয় তা পুরুষদের প্রজনন নষ্ট করতে শতকরা নয়ভাগ ভূমিকা রাখে।

২. কোমল পানীয় পানের অভ্যাস
কার্বনেটেড ড্রিঙ্ক বা কোমল পানীয় এবং খুব ঠাণ্ডা পানীয় পছন্দ করেন, তাহলে শুক্রাণুর গতিশীলতা প্রভাবিত হতে পারে। দিনে এক বোতল কার্বনেটেড পানীয় পান করলেও  শুক্রাণুর গতিশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। তেমনি অত্যধিক বিয়ার পান করলে শুক্রাণু দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কারন কার্বনেটেড পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি থাকে, যা শরীরে ইনসুলিন তৈরীতে ব্যাহত করে এবং শুক্রাণু গতিশীলতা কমিয়ে দেয়।

৩. কোলের উপর ল্যাপটপ রাখা
ল্যাপটপ কোলে রেখে ব্যবহার করতে হয়ত বেশি সুবিধাজনক লাগে। কিন্তু এই অভ্যাসের কারণে যে বাবা হয়ে একটি শিশু কোলে নেওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। হ্যাঁ, ল্যাপটপের মৌলিক কিছু উপাদান  শুক্রাণুও হত্যা করতে পারে। যন্ত্রটি ঠান্ডা থাকার প্রয়োজন, যা অবশ্যই শরীরের বাইরে রেখে। কারণ যখন ল্যাপটপটি কোলের উপর রাখা হয়, এর গরম শরীরের সংস্পর্শে আসে। ফলস্বরূপ, শুক্রাণু মরে যেতে পারে।

৪. তীব্র গরম পানি ব্যবহার
সারাদিনের কাজ শেষে একটি দীর্ঘ উষ্ণ গোছল অবশ্যই কাম্য । তবে বাষ্পীয় গরম গোছল যেন তীব্র তাপমাত্রায় না হয় তাহলে শুক্রাণু ক্ষতি হতে পারে।

৫. স্লিমফিট জিনস
স্লিমফিট জিনস হয়ত পুরুষদের আকর্ষণীয় লাগে দেখতে কিন্তু জিনসও শুক্রাণুর সংখ্যার পরিমাণ হ্রাস করতে পারে। বেশি চাপা জিনস বা প্যান্ট শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে, ফলে যে তাপ সৃষ্টি হয় তা শুক্রাণুর জন্য ভালো না।

৬. কম ঘুমানো
কম ঘুমালে শরীরে সব ধরনেরই সমস্যা হতে পারে। মন ও শরীরের সঠিকমাত্রায় বিশ্রাম হলেই শুক্রানু হবে স্বাস্থ্যবান। কার্যকরী ও সক্রিয় শুক্রাণুর জন্য পরিপূর্ণ ঘুমের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে একজন পুরুষের ন্যূনতম সাত-আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে।

গ্যাস্ট্রিক থেকে বাঁচাবে যে ৩ খাবার



অ্যাসিডিটি থেকে বুকে জ্বালাপোড়া ও আলসারের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এগুলো খুব কষ্টদায়ক।  এছাড়া খাবার হজম না হওয়া, বদ হজম হওয়া গ্যাস্ট্রিকের লক্ষণ।
প্রায়ই কি অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন আপনি? যদি তাই হয়, তবে কিছু খাবার আপনার খাদ্য তালিকায় যোগ করুন। এগুলো অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে কাজে দেবে।

দুধ :
অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে দুধ পান করতে পারেন। দুধের মধ্যে থাকা উপাদান অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে।

ভেষজ চা :
পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে লড়াই করতে ভেষজ চা চমৎকার একটি ঘরোয়া উপাদান। অ্যাসিডিটি হলে ভেষজ চা হালকা ঠাণ্ডা করে ধীরে ধীরে পান করলে অনেকটাই আরাম পাওয়া যায়।

আদা :
আদার মধ্যে রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান। এটি পাকস্থলীর অ্যাসিড প্রশমনে কাজ করে। পাশাপাশি এটি হজমের সমস্যা কমায়। পরবর্তী সময়ে অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগলে আদার টুকরো চিবাতে পারেন অথবা আদার চা পান করতে পারেন।

‘প্রস্রাবে ফেনা’ ভয়ানক কোনো রোগের লক্ষণ


বিডিমর্নিং ডেস্ক-
ইউরিন দেখে শরীরের অন্দরের একাধিক গোপন রদবদল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা করে নেওয়া সম্ভব। শুধু শিখে নিতে হবে শরীরের ভাষাটা। অনেকেরই প্রস্রাব করার সময় ফেনা হয়। কেন এমনটা হয় জানা আছে?
সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে এক্ষেত্রে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ মনে করেন প্রস্রাব খুব স্পিডে বেরোনোর কারণেই এমনটা হয়ে থাকে। যদিও এই ধরণা একেবারে ভুল নয়। তবে প্রস্রাবে ফেনা হওয়ার পিছনে অনেক সময় কোনো না কোনো রোগের ভূমিকাও থাকে। তবে সেক্ষেত্রে ইউরিনে ফেনার হওয়ার সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন:
প্রস্রাবে ফেনা এবং আরো কিছু
কোনো রোগের কারণে যদি প্রস্রাবের ধরনে এমন বদল আসে, তাহলে হাতের তালু, পা এবং মুখ ঘামতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে ক্লান্তি, ক্ষুধা কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, বমি, ঘুম কমে আসা, প্রস্রাবের রং গাড় হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলিও প্রকাশ পেতে শুরু করবে।

কী কী কারণে প্রস্রাবে এমন ফেনা হতে পারে?
ব্লাডার থেকে খুব দ্রত গতিতে প্রস্রাব বের হলে সাধারণত এমন ধরনের ফেনা হয়ে থাকে। কিন্তু যদি রোগের প্রসঙ্গে আসেন, তাহলে বলতে হয় শরীরে যখন পানির অভাব দেখে দেয়, তখন প্রথম লক্ষণ হিসেবে প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেয়। তাছাড়া প্রস্রাবে প্রোটিন বা অ্যালবুমিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে, কিডনির কর্মক্ষমতা কমতে থাকলে এবং স্পার্মের ক্ষরণ ঠিক মতো না হলে এমন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে।
কিডনির কাজ হল রক্তে উপস্থিত টক্সিক উপাদান প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়া। কিন্তু যখন কিডনির ক্ষমতা কমতে থাকে, তখন প্রস্রাবের সঙ্গে বর্জ্য পদার্থের পাশাপাশি প্রোটিনও বের হতে শুরু করে। প্রোটিন বায়ুর সংস্পর্শে এলে ফেনায় পরিণত হয়। তাই টানা কয়েক দিন ধরেই যদি প্রস্রাবে ফেনা হতে থাকে, তাহলে যত শীঘ্র সম্ভব চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

ভয়ের কারণ আছে কী?
শরীরের ভাইটাল অর্গানগুলির মধ্যে অন্যতম হল কিডনি। তাই এই অঙ্গটি যদি ঠিক মতো কাজ করতে না পারে তাহলে তো বিপদ। সেই কারণেই প্রস্রাবে ফেনা হওয়াটাকে হাল্কা চালে নেওয়া উচিত নয়। প্রসঙ্গত, যে যে কারণে কিডনির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেই কারণগুলি হল- ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি ডিজজ, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি।
তাই কারো যদি এই রোগগুলির মধ্যে কোনোটা থাকে এবং প্রস্রাবে ফেনা হওয়ার মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়, তাহলে সাবধান হতে হবে। এক্ষেত্রে কী কারণে এমন লক্ষণ দেখা দিচ্ছে সে সম্পর্কে জেনে নিয়ে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করতে হবে। না হলে কিন্তু মৃত্যু মুখে পড়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

আরেকটি রোগের কারণেও অনেক সময় প্রস্রাবে ফেনা হয়ে থাকে, কী সেই রোগ?
শরীরের নিয়ম অনুসারে বীর্য ইউরেটার হয়ে শরীরের বাইরে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু এমনটা না হয়ে যখন বীর্য উল্টো পথে ইউরিনারি ব্লাডারের দিকে চলে যায়, তখন নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। যার অন্যতম হল প্রস্রাবে ফেনা হওয়া। এই রোগকে চিকিৎসা পরিভাষায় রেট্রোগেড ইজেকুলেশন বলা হয়ে থাকে।

ইউরিনে ফেনা হচ্ছে কেন তা জানতে কী করণীয়?
এক্ষেত্রে প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি যদি প্রয়োজন বোধ করেন তাহলে ইউরিনের নমুনা নিয়ে কয়েকটি টেস্ট করলেই ধরা পরে যাবে ফেনা হওয়ার কারণ কী।

এক্ষেত্রে চিকিৎসা কী?
কী কারণে এমনটা হচ্ছে জানার পর সেই মতো চিকিৎসা শুরু করতে হয়। যদি কিডনির কোনো রোগের কারণে প্রস্রাবে ফেনা হয়ে থাকে তাহলে সেই রোগের চিকিৎসা শুরু করতে হবে। একবার রোগ সেরে গেলেই লক্ষণও কমে যেতে শুরু করবে।

ফেনা কোনো রোগের কারণে হচ্ছে কিনা জানার কোনো সহজ পদ্ধতি আছে?
মাঝে মধ্যে প্রস্রাবে ফেনা হওয়াটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিন্তু যদি দেখেন বেশ কয়েকদিন ধরেই এমনটা হচ্ছে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। এছাড়াও যে যে বিষয়গুলির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে, সেগুলি হল, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়ছে কিনা এবং অন্য কোনো শারীরিক অসুবিধা দেখা দিচ্ছে কিনা।

৫ লক্ষণে বুঝে নিন আপনি কিডনি রোগে আক্রান্ত



কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি। কারণ কিডনি রোগ খুব নীরবে শরীরের ক্ষতি করে। খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশ পায় না।
তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি।

বমি বা বমি বমি ভাব
রক্তে বর্জ্যনীয় পদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনির রোগে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে।

প্রস্রাবের সময় ব্যথা
প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া কিডনির সমস্যার আরেকটি লক্ষণ। মূলত প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া- এগুলো ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের লক্ষণ। যখন এটি কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন জ্বর হয় এবং পিঠের পেছনে ব্যথা করে।

দেহে ফোলা ভাব
কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি পানি বের করে দেয়। কিডনিতে রোগ হলে এই বাড়তি পানি বের হতে সমস্যা হয়। বাড়তি পানি শরীরে ফোলাভাব তৈরি করে।

সবসময় শীত বোধ হওয়া
কিডনি রোগ হলে গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত শীত অনুভব হয়। আর কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে।

পেছনে ব্যথা
কিছু কিছু কিডনি রোগে শরীরে ব্যথা হয়। পিঠের পাশে নিচের দিকে ব্যথা হয়। এটিও কিডনি রোগের একটি অন্যতম লক্ষণ।

শরীরের এই ৭ স্থানের ব্যথা কখনও অবহেলা করবেন না!



আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানের ব্যথাকে অধিকাংশ সময়েই আমরা তেমন কোনো গুরুত্বের চোখে দেখি না। অনেকেই সামান্য ব্যথায় ঘরোয়া চিকিৎসা করেন, যা একেবারেই উচিত নয়। এসব ব্যথাই হতে পারে অনেক বড় কোনো সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ! সামান্য অবহেলাই ডেকে আনতে পারে মৃত্যু! তাই ব্যথাকে অবহেলা করা উচিত নয়। শরীরের কোন কোন স্থানের ব্যথাকে অবহলো না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত তা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘বোল্ডস্কাই’

১. দাঁতের মাড়ি ব্যথা
দাঁতের মাড়ি ব্যথা সেই বোঝে, যার এই ব্যথা হয়। মাড়ি ব্যথাকে অনেকেই ছোট করে দেখেন। মনে করেন, বিষণ্নতার কারণে এই ব্যথা হচ্ছে। বিষণ্নতার কারণেও অনেক সময় মাড়ি ব্যথা হয় এ কথা সত্যি। কিন্তু মাড়িতে টান পড়া এবং প্রায় সময় ব্যথা হার্টের সমস্যার কারণেও হতে পারে।

২. পিরিয়ডের সময় অস্বাভাবিক ব্যথা
পিরিয়ডের সময় ব্যথা হওয়া খুব সাধারণ বিষয়। অনেক মেয়েরা ব্যথার ঔষধ খেয়ে এই ব্যথা নিরাময়ের চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যথা তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়া অনেক সময় জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ। তাই এই পরিস্থিতিতে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়ার চেষ্টা করুন দ্রুত।

৩. তীব্র মাথা ব্যথা
মাথা ব্যথা খুব সাধারণ বিষয়। অতিরিক্ত চিন্তা করলে সাধারণত মাথা ব্যথা হয়। কিন্তু হঠাৎ যদি মাথায় অস্বাভাবিক ব্যথা ওঠে এবং মাথার ব্যথায় আপনি চোখে ঘোলা দেখতে শুরু করেন তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করা একেবারেই উচিত হবে না। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, টিউমার ইত্যাদি কারণে এ ধরণের অস্বাভাবিক ব্যথা হতে পারে আপনার মাথায়। তাই সব সময় মাথা ব্যথা অবহেলা না করাই ভাল।

৪. পায়ে ব্যথা
দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটি করলে পায়ে ব্যথা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি দেখেন পায়ের ব্যথায় কোনোভাবেই কমছে না, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন। পায়ে দীর্ঘ সময় ডায়বেটিস রোগের অন্যতম লক্ষণ।

৫. পিঠের মাঝামাঝি ব্যথা
আপনার পিঠের মাঝামাঝি ব্যথা অনুভব করলে একদমই অবহেলা করবেন না। কারণ এই ব্যথা হতে পারে কিডনি সমস্যার লক্ষণ। কিডনিতে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ এবং ইউরিন ইনফেকশনের জন্য এ ধরণের ব্যথা হতে পারে আপনার।

৬. পিঠ ব্যথা
অনেকেই কম-বেশি পিঠের ব্যথায় ভোগেন। বিশেষ করে বয়স্করা এই সমস্যার মুখোমুখি হয় বেশি। দীর্ঘ সময় বসে থাকলে, ভারী কোনো কিছু বহন করলে অনেক সময় পিঠের ব্যথা হয়। কিছু সময় পর তা চলেও যায়। কিন্তু যদি পিঠের ব্যথা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত থাকে তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় মেরুদণ্ডের সমস্যার কারণে পিঠের ব্যথা হতে পারে।

৭. তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা
তলপেটের ব্যথাও সাধারণ ব্যথার মতোই। গ্যাসের সমস্যাজনিত কারণে অনেক সময় তলপেটে ব্যথা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ব্যথা অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ হতে পারে।তাই দীর্ঘ সময় পেটের ব্যথা হলে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হোন।

নিজের অজান্তেই ৯ উপায়ে ধ্বংস করছেন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা


বিডিমর্নিং ডেস্ক-
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শরীর চর্চা এসব আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী রাখে। তেমনি এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো আপনার অজান্তেই আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। আসুন জেনেও নেওয়া যাক কোন অভ্যাসগুলো অজান্তেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করছে।

১. মদপান
নিয়মিত মদপান করলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। অ্যালকোহলে থাকা টক্সিন বা বিষ শরীরে প্রবেশ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করতে থাকে।

২. অতিরিক্ত ভ্রমণ
আজকাল যেন দুনিয়াটা ঘুরে দেখা একটি রীতিতে পরিণত হয়েছে। আর যে যত বেশি স্থান দেখতে পারবে ততই যেন খ্যাতি। কিন্তু আপনি যদি প্রায়ই ভ্রমণ করেন বা আপনার যদি এমন কোনো চাকরি থাকে যার জন্য আপনাকে প্রচুর ভ্রমণ করতে হয় তাহলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। কারণ নতুন নতুন প্রাকৃতিক পরিবেশ, জলবায়ু, পানি এবং খাদ্য এবং বিশ্রামহীনতার কারণে আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর চাপ পড়ে।

৩. দেহের অতিরিক্ত ওজন
দেহের ওজন বেড়ে গেলে উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা সহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমা হলেও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়ার ফলে হরমোনগত ভারসাম্য নষ্ট হয়। আর তার ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।

৪. দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ
অতিরিক্ত ওজনের মতোই দীর্ঘমেয়াদের স্ট্রেস বা মানসিক চাপে আক্রান্ত হলেও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। স্ট্রেসের ফলে দেহে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোল এর মাত্রা বেড়ে যায়। কর্টিসোল এর মাত্রা বেড়ে গেলে তা রোগ-বালাই সৃষ্টিকারী উপাদানের বিরুদ্ধে দেহের লড়াই করার সক্ষমতা নষ্ট করে।

৫. নিঃসঙ্গতা
এমন অনেকে আছেন যারা তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় ঘরে একাকি কাটিয়ে দিতে পছন্দ করেন। এতে মস্তিষ্কে ডোপামিনের মাত্রা কমে যায়। কেননা একাকি থাকার ফলে নিঃসঙ্গতার বোধ এবং অবসাদ বেড়ে যায়। মস্তিষ্কে ডোপামিন এর মতো উপকারী হরমোন নিঃসরনের হার কমে গেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।

৬. আবেগ দমন করা
আপনি যদি এমন কেউ হন যিনি রাগ, দুঃখ, উত্তেজনা প্রকাশ না করে অবদমন করেন তাহলে আপনি আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছেন। কারণ গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, আবেগ দমন করলে দেহে কর্টিসোল এর মাত্রা বেড়ে যায়। যার ফলে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। সুতরাং আবেগগুলোকে দমন না করে বরং নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রকাশ করুন।

৭. অপুষ্টি
রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস জরুরি। আপনি যদি এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস মেনে না চলেন যাতে সব ধরনের জরুরি পুষ্টি উপাদানগুলো থাকে, যেমন, ভিটামিন, প্রোটিন, খনিজ, স্বাস্থ্যকর চর্বি, আঁশ, ইত্যাদি তাহলে আপনার শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিবে বা আপনি অপুষ্টিতে আক্রান্ত হবেন। এতে আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে। সুতরাং সুস্থ্য থাকতে চাইলে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

৮. অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার
অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ হলো ক্ষতিকর জীবাণুদের হত্যা করা। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিক রক্তের শ্বেতকণিকাগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়।

৯. পানিশুন্যতা
আপনি যদি প্রতিদিন অন্তত দুই লিটার পানি না পান করেন তাহলেই আপনার দেহে পানিশুন্যতা দেখা দিবে। যার ফলে নানা রোগ-বালাই আক্রমণ করবে। পানিশুন্যতা আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও দুর্বল করে দিবে। কেননা পানির অভাবে রক্তের শ্বেতকণিকাগুলো শুকিয়ে যায়।
এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমানো, অনলাইনে অতিরিক্ত সময় কাটানো এবং চারপাশে অতিরিক্ত আওয়াজ প্রভৃতিও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তোলে।

মাইগ্রেনের ব্যথা সারায় এই ১৩টি খাবার

যে কাউকে নিমেষে কুপকাত করে ফেলতে পারে মাইগ্রেন। এটি এমন এক ধরনের সমস্যা, যা যে কোনো সময় আক্রমণ করে । 
শুধু তাই নয়, মাঝে মাঝে যন্ত্রণা এমন মাত্রা ছাড়ায় যে জীবন দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে সিংহভাগই যন্ত্রণা কমানোর ওষুধ খেয়ে কষ্টের হাত থেকে রক্ষা পেতে চান।

কিন্তু আর নয় ওষুধ! এবার থেকে যন্ত্রণা কমানোর ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে খেতে হবে এই খাবারগুলো। তাহলেই হবে কেল্লাফতে!



১. আপেল
মাথা যন্ত্রণার সময় কয়েক টুকরো আপেল খেয়ে নিলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে। কারণ আপেলে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর অ্যাসিড-অ্যালকালাইন ব্যালেন্স ঠিক মাত্রায় নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে শরীরের ভেতরে তৈরি হওয়া প্রদাহ কমায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কষ্ট কমতে সময় লাগে না।


২. লবঙ্গ
এতে আছে পেইন-রিলিভিং প্রপার্টিজ যা সারা শরীরের ঠাণ্ডার স্রোত বইয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে কপালে হওয়া প্রদাহকে একেবারে কমিয়ে দেয়। তাই তো এবার থেকে কপালে ঠিপ ঠিপ করলেই অল্প কয়েকটা লবঙ্গ বেটে একটা পরিষ্কার রুমালে রেখে বারে বারে গন্ধ নিতে থাকবেন। এমনটা কয়েক মিনিট করলেই দেখবেন কষ্ট কমে যাবে।

৩. আদা
মাথা যন্ত্রণা কমাতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ আদায় আছে অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান যা কপালের ভেতরে থাকা ব্লাড ভেসেলের প্রদাহ কমানোর মধ্যে দিয়ে নিমেষে মাথা যন্ত্রণা কমাতে দারুন উপযোগি ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো এবার থেকে কপালে আগুন জ্বললেই এক কাপ আদা চা বানিয়ে ঝটপট খেয়ে ফলেবেন। তাহলেই দেখবেন কেল্লাফতে!

৪. সেগে পাতা
এই পাতাটি মাথার ব্যথা তো কমায়ই, সেই সঙ্গে আরো নানা ধরনের সমস্যার প্রকোপ কমাতে কাজে লাগে।

৫. পার্সলে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি মাথার যন্ত্রণা কমাতে এটি দারুন কাজে আসে। তাই এবার থেকে মাথার যন্ত্রণা হলেই অল্প করে পার্সলে শাকের পাতা খেয়ে নেবেন। নিমেষে কমে যাবে ব্যথা।

৬. বরফের সাহায্য নিতে ভুলবেন না
একাধিক কেস স্টাডিতে দেখা গেছে মাইগ্রেন অ্যাটাকের সময় অল্প পরিমাণ বরফ রুমালে নিয়ে ঘাড়ে ঘষতে থাকলে ধীরে ধীরে কষ্ট কমে যেতে শুরু করে। কারণ এমনটা করলে ইনফ্লেমেশন বা প্রদাহ কমতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যন্ত্রণা কমতেও সময় লাগে না।

৭. দারুচিনি
আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা এই মশলাটিকে ‘মিরাকেল স্পাইস’ নামে ডেকে থাকেন। দারুচিনিকে কেন এমন নাম দেওয়া হয়েছে জানা আছে? আসলে দেখতে ছোট্ট হলেও আমাদের শরীরকে চাঙ্গা রাখতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 
শুধু তাই নয়, মাথার যন্ত্রণা কমাতেও দারুচিনি দারুন কাজে আসে। এক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ দারুচিনি পাউডার নিয়ে পরিমাণ মতো পানিতে মিশিয়ে একটা পেস্ট বানাতে হবে প্রথমে। তারপর সেই পেস্টটা কপালে কম করে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখলেই দেখবেন মাথার যন্ত্রণা উবে যাবে।

৮. অ্যালো ভেরা
এতে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং বেশ কিছু কার্যকরি এনজাইম, যা মাথার যন্ত্রণা এবং একাধিক স্কিনের সমস্যা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৯. থাইম পাতা
ল্যাভেন্ডার পাতার মতোই এতেও রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লমেটরি প্রপার্টিজ যা প্রদাহ কমায়। তাই মাথায় যন্ত্রণা হলেই থাইম পাতার রস খান। ফল পাবেন হাতে-নাতে।

১০. রোজমেরি
এটি এক প্রকার গুল্ম। এটি দিয়ে বানানো চা খেলে মাথার যন্ত্রণা সঙ্গে সঙ্গে কমে যায়।

১১. ল্যাভেন্ডার
এতে রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-সেপটিক প্রপার্টিজ, যা যে কোনো ধরনের যন্ত্রণা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিমাণ মতো গরম পানিতে কয়েকটি ল্যাভেন্ডার পাতা ফেলে ভাপ নিন। দেখবেন অনেক আরাম পাবেন।

১২. মিন্ট পাতা
প্রতিদিন নিয়ম করে মিন্ট পাতা দিয়ে বানানো চা খেলে শুধু মাথায় যন্ত্রণা নয়, সেই সঙ্গে পেটের ব্যথা এবং মাথা ঘোরার মতো সমস্যাও কমে।

১৩. তুলসি
কয়েকটি তুলসি পাতা নিয়ে হাতে ঘঁষে কপালে লাগিয়ে ফেলুন। আরাম পাবেন। কারণ এই পাতাটির ভেতরে ঠাসা রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা এই ধরনের কষ্ট কমাতে দারুন কাজে আসে।
প্রসঙ্গত, নানা করণে মাইগ্রেন অ্যাটাক হতে পারে। আর সেই কারণগুলির পেছনে যেমন আমাদের জীবনযাত্রা দায়ি থাকে, তেমনি নানা রোগের ভূমিকাকেও অস্বীকার করা যায় না। তবে আজকাল স্ট্রেস একটা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাথা ব্যথার ক্ষেত্রে। তাই তো আরো বেশি করে এইসব ঘরোয়া ওষুধগুলিকে সঙ্গে রাখতে হবে। কেন? পরিসংখ্যান বলছে যত দিন যাচ্ছে স্ট্রেস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আগে থেকেই সাবধান হওয়াটা জরুরি।