জাতীয়

----------------------------------------------- 
মগবাজার-মৌচাক উড়াল সেতুর কাজ শুরু নভেম্বরে 

লেখক: এজাজ হোসেন  |  বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১২, ৯ কার্তিক ১৪১৯

Details
রাজধানীর তীব্র যানজটপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত মগবাজার, মৌচাক, রামপুরায় উড়াল সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে নভেম্বরেই। প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যয় হবে ৭৭৩ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর প্রকল্পটি (এলজিইডি) বাস্তবায়ন করবে। এলজিইডির দায়িত্বশীল সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজকে তিনটি অংশে বিভক্ত করে সমপ্রতি টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত সোমবার (২২ অক্টোবর)  দুইটি অংশের কাজ করার জন্যে ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেছে। বাকি অংশের জন্যে ঠিকাদার নিয়োগের কাজ দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। প্রকল্পের জন্যে সউদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৩৭৩ কোটি টাকা। ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ( ওএফআইডি) দেবে ২০০ কোটি টাকা। আর সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ২০০ কোটি টাকা।
সূত্র আরো জানায়, রাজধানীর   কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) অংশ হিসেবেই  তিনটি বড় অংশ ও কয়েকটি ছোট অংশের সমন্বয়ে উড়াল সেতুটি নির্মিত হবে। এর মধ্যে একটি অংশ শুরু হবে তেজগাঁও সাতরাস্তার মোড়ের আগে থেকে। সেখান থেকে এফডিসি মোড়, মগবাজার রেলগেট, মগবাজার মোড় হয়ে এই অংশটি নামবে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের কাছে। দ্বিতীয় অংশটি শুরু হবে বাংলামোটর থেকে। এটি মগবাজার মোড়, মৌচাক মোড়, মালিবাগ মোড় হয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের কাছে নামবে। তৃতীয় অংশটি শুরু হবে রামপুরার দিক থেকে। এটি মালিবাগ রেল ক্রসিং, মৌচাক মোড়, মালিবাগ মোড়, শান্তিনগর মোড় পার হয়ে নামবে। উড়াল সেতুর ক্রসিংগুলো হবে দুই ধাপের। নির্মাণ কাজ শেষ হলে এটি হবে দেশের বৃহত্তম উড়াল সেতু।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উড়াল সেতুটি নির্মিত হলে এয়ারপোর্ট রোড মহাখালী হয়ে যানবাহনগুলো সহজেই মতিঝিল-গুলিস্তানের দিকে আসা-যাওয়া করতে পারবে। আবার প্রগতি সরণী-রামপুরা হয়ে যানবাহনগুলো শান্তিনগর ও রাজারবাগ, মতিঝিল বা গুলিস্তানে যাতায়াত করতে পারবে। বাংলামোটরের দিক থেকে আসা যানবাহনও একই ধরনের সুবিধা পাবে। সব মিলিয়ে মগবাজার-মৌচাক-রামপুরা এলাকায় তীব্র যানজট একেবারে কমে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা  মনে করছেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে, ভিআইপি রোডে নানা ধরনের বিধি নিষেধ থাকায় রাজধানীর মগবাজার এলাকা দিয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। কয়েক বছর আগে ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক জাইকার অর্থায়নে করা এক সমীক্ষায় দেখা যায়, রাজধানীর অন্য সব এলাকার তুলনায় মগবাজার এলাকায় দেড় থেকে দুই গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করে। সেই সমীক্ষাতেই মগবাজার ক্রসিংয়ে উড়াল সেতু নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। সে সময় জাইকা এটি নির্মাণে অর্থায়ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিষয়টির আর কোন অগ্রগতি হয়নি।
 

-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
কোরবানীর পশুর হাট

মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উত্সব হলো ঈদ-উল-আযহা। এই ঈদে সামর্থ্যবান মুসলমানগন সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় সামর্থ্য অনুযায়ি পশু কোরবানী দিয়ে থাকে। রাজধানীর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হাতের নাগালে এসকল পশু পৌছে দেয়ার উদ্দেশ্যে সরকারী উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট বসে থাকে। রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী পশুর হাট হলো গাবতলী পশুর হাট। এবার রাজধানীতে অনুমোদিত অস্থায়ী পশুর হাট বসেবে ২০টি। এসকল হাটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (দক্ষিণ ও উত্তর) এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে।
 
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (দক্ষিণ) জোনের এবারের কোরবানির পশুর হাটগুলো হলো:
  • আরমানিটোলা খেলার মাঠ (নয়াবাজার)
  • গোপীবাগ ব্রাদার্স ইউনিয়ন সংলগ্ন বালুর মাঠ
  • মেরাদিয়া বাজার
  • ঝিগাতলা হাজারীবাগ মাঠ
  • উত্তর শাজাহানপুর মৈত্রী সংঘের মাঠ
  • লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ
  • সাদেক হোসেন খোকা মাঠ (ধোলাইখাল, নারিন্দা)
  • গোলাপবাগ মাঠের পাশে সিটি কর্পোরেশন আদর্শ স্কুল মাঠ ও আশপাশের খালি জায়গা
  • পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গা
  • ধুপখোলা ইস্ট এ্যান্ড ক্লাব মাঠ
 
ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (উত্তর) জোনের এবারের কোরবানির পশুর হাটগুলো হলো:
  • গাবতলী গবাদি পশুর হাট
  • এয়ারপোর্ট রোডের খিলক্ষেত নবরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গা
  • উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাও জনপথ সংলগ্ন খালি জায়গা
  • উত্তরার আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ
  • তালতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন খালি জায়গা
  • আগারগাও বস্তির খালি জায়গা
  • কাকলী মোড়ে বনানী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন খালি জায়গা
  • তেজগাও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠ
  • বারিধারা জে-ব্লকের (সাবেক নুরের চালা) রাস্তার পাশের খালি জায়গা
  • মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খালি জায়গা ও সড়কের দুই পাশ
 
এসকল হাট ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন স্থানে অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসায়ীগন পশু নিয়ে ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করেন। এসকল হাটগুলো ছোট হলেও ক্রেতা মন্দ নয়। কেননা এসকল স্থান থেকে গরু ক্রয় করলে হাসিল দিতে হয় না, এলাকার মধ্যে হওয়ায় বাসায় নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা কম।
রাজধানীর হাটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পশুর হাট হলো গাবতলী পশুর হাট। এই হাটে গরু ছাড়াও ছাগল, মহিষ, ভেড়া, উট এবং ভূটান থেকে আগত ঘুট্টু গাই পাওয়া যায়।
এসকল হাটে গরুর মূল্য ২৫০০০ থেকে ১৫০০০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। খাশি পাওয়া যায় ৮০০০ থেকে ৪০০০০ টাকা পর্যন্ত। একটি ঘুট্টু গাইয়ের দাম ৬০০০০ টাকা থেকে ৮০০০০ টাকা। উটের মূল্য ৭.৫০ লক্ষ টাকা।
 
গো খাদ্যের দাম
এসময় ঢাকার প্রায় সকল স্থানেই মৌসুমী ব্যবসায়ীগন গো খাদ্য বিক্রয় করে থাকেন। গো-খাদ্যের মধ্যে রয়েছে চালের ভূষি (প্রতি কেজি ২০ টাকা), গমের ভূষি(প্রতি কেজি ৩০ টাকা),  খেসারীর ভূষি(প্রতি কেজি ৩০ টাকা),  ছোলা-বুটের ভুষি(প্রতি কেজি ৩৫ টাকা),  ডালের পাউডার(প্রতি কেজি ২২ টাকা),  খৈল(প্রতি কেজি ৪৫ টাকা),  সবুজ ঘাসের আটি(ছোট আটি ১০ এবং বড় আটি ৩০ টাকা), খড়ের আটি (ছোট আটি ১০ এবং বড় আটি ৩০ টাকা)।
 
সকল হাটগুলোতে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া পদক্ষেপগুলো হলো:
  • সিসিটিভি ক্যামেরা
  • জাল টাকা শনাক্তকরণ যন্ত্র (Fake Currency Identifier)
  • প্রত্যকে হাটে রয়েছে পুলিশের অস্থায়ী সাব কন্ট্রোল রুম, যেখানে রয়েছে ইউনিফর্ম পরিহিত আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য।
  • অধিক পরিমান নগদ অর্থ বহনের জন্য রয়েছে পুলিশ স্কট।
  • পশু আনা-নেওয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
  • হাটের আশেপাশের রাস্তার যানজট নিরসনের জন্য রয়েছে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ।

No comments: