Monday, August 6, 2012

এবারের ঈদেও সড়ক-মহাসড়কে তীব্র যানজটের আশংকা!

                                        ছবি: রুপম ভট্টাচার্য
                
এম এ বাবর

সড়ক মহাসড়কের বেহাল দশা কাটিয়ে উঠতে যোগাযোগমন্ত্রী নিজেই মাঠে নেমেছেন। তবুও আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগের আশংকা রয়েই গেছে।

রাজধানীর বেশির ভাগ রাস্তায় খানাখন্দ কমলেও বিভিন্ন কারণে ব্যবহার উপযোগী রাস্ত হয়ে পড়েছে অর্ধেক। এদিকে ঢাকার চারপাশের বিভিন্ন রাস্তার বেহাল দশা রয়েই গেছে। আর ঈদের আগে এমন অবস্থা থাকলে, রাজধানী ছাড়তে এবারও যাত্রীদের তীব্র যানজটের অশংকা থেকেই যাচ্ছে।

প্রিয়জনদের সাথে প্রতিবারই ঈদ করতে রাজধানী ছাড়ে লাখ লাখ মানুষ। আর ঘরমুখো মানুষের চাপে রাস্তায় দীর্ঘ যানজটসহ নানা দুর্ভোগে তৈরি হয়। অবশ্য যোগাযোগমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন আসন্ন ঈদে এমনটি হবে না। তবে মন্ত্রীর এমন আশ্বাসের সাথে মিলনেই রাস্তার।

রাজধানী থেকে যারা চট্টগ্রাম, ফেনী ও কক্সবাজারসহ দেশের দ¶িণ পূর্বাঞ্চলের গš—ব্যে যাবেন তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে গুলিস্থান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার। এখনো চলছে ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ। যার ফলে এখান থেকে যানবাহন পার হতে চালকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। যদিও ফ্লাইওভারের পর কাঁচপুর পার হলেই রা¯—ার ভোগাšি— অনেকটা কমবে। তবুও যারা এ রা¯—ার চলাফেরা করেন, তারা এবারও ভোগাšি—র আশংকা করছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম র“টের বাস চালক আকবর হোসেন বলেন, ‘এখনই সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী জাম পার হইতেই দুই ঘণ্টা লাগতাছে। ঈদে আরো অনেক বেশি সময় লাগব।’ আর ঈদের এক-দুই দিন এ পথে আরো তিন-চার ঘণ্টা যানজটের আশংকা করেন আকবর। 

গাবতলী-মানিকগঞ্জ হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের যাত্রীদের রয়েছে নানা সমস্যা। গাবতলী পার হতেই আমিন বাজারে দীর্ঘক্ষণ যানজটের ভোগান্তি। রাস্তার অর্ধেকেরও বেশি দখল হয়ে আছে বিভিন্ন টং দোকান ও দীর্ঘ গাড়ি পার্কিং করে। আর এগুলো যাদের দেখভাল করার দায়িত্ব তারও দেখে দেখেন না। ট্রাফিক কর্মকর্তাদের সামনেই এসব অনিয়ম চলছে।
এছাড়া এ রুটের অনেক রাস্তায় প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রসস্থ ও ভাঙাচোরা। যার ফলে পথে পথে আগের মতই যানজটের আশংকা করছেন যাত্রীরা। এদিকে একই অবস্থা সাভারেরও। এখানে রা¯—াগুলো দখল করে বাজারে পরিণত হয়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহা সড়কে টঙ্গী পার হয়ে যারা এ পথে গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাবেন এবার ঈদে তারা একটু সস্থির আশা করছেন। এ মহা সড়কের খানাখন্দ আগের তুলনায় অনেকটা কমলেও কিছু-কিছু রাস্তা অপ্রসস্থ এবং আগের সমস্যা রয়েই গেছে। এছাড়া গাজীপুর চৌরাস্তার পর অনিয়ন্ত্রিত ভাবে প্রধান  রাস্তার দুই পার্শ্বে যানবাহন পার্কিং করা থাকে। যার ফলে এ পথেও যানজটের আশংকা করছেন যাত্রীরা।

এ পথের যাত্রী  মোখলেছুর রহমান জানান, গাজীপুর চৌরাস্তা পার হলে রাস্তার দুই পার্শ্বে দীর্ঘ ট্রাক পার্কিং থাকে। বেশ কিছু রাস্তর অর্ধেকটা দখল করে রীতি মত বাস-ট্রাক মেরামতের ওয়ার্কশপ খুলে বসেছেন। ফলে মূল রাস্তা ছোট হয়ে যাওয়া সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এ মহাসড়কটিতে অবৈধ বাস-ট্রাক পার্কিং বন্ধ করা না হলে ঈদে ঘরমুখো মানুষেরা দীর্ঘ যানজটে পরবেন বলে আশংকা করনে তিনি।

যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এবার ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাতে কোন ধরনের দুর্ভোগ না হয় সে জন্য আমরা আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি। ‘প্রতিদিন মোবাইল ইউনিট দিয়ে রাস্তার যেখানেই  খারাপ হবে সেটা যেন সঙ্গে সঙ্গে মেরামত করা হয়, তার ব্যবস্থাও রয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সৎ মানুষ খুঁজে পেলে কাজের মানুষ পাই না, কাজের মানুষ খুঁজে পেলে সৎ মানুষ পাই না। সঠিক ভাবে কাজ আগাবে কি ভাবে?’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীরা সবাই যদি রাস্তায় থাকত তাহলে বাংলাদেশের রাস্থার এতদিন আরো অনকে উন্নতি হত। রাস্তায় তারা থাকেন না, যোগাযোগ মন্ত্রীকে রাস্তায় থাকতে হবে।’    

সবমিলিয়ে এবার ঈদে যারা রাজধানী ছাড়বেন তাদের জন্য যাত্রা পথে খুব বেশি সস্থি নেই। তাই যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকেই কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ যাত্রী সাধারণের।



No comments: