Saturday, February 22, 2014

মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড

মঞ্জুরকে তড়িঘড়ি ‘হত্যাকারী’ হিসেবে প্রচার
লরেন্স লিফশুলৎজ | আপডেট: ১৬:৪৬, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৪ |
মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড: লরেন্স লিফশুলৎজ‘যারা আক্রান্ত হয়নি, যতক্ষণ না 
তারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের মতো
ফুঁসে উঠছে, ততক্ষণ পর্যন্ত
ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।’
—বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন

আখ্যান
১৯৮১ সালের ১ জুন মধ্যরাতে চট্টগ্রামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মো. আবুল মঞ্জুর সেনানিবাসে সামরিক হেফাজতে থাকার সময়ে রহস্যজনকভাবে নিহত হন। একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে মঞ্জুর নিজের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পেয়েছিলেন রাষ্ট্রের উচ্চ সম্মান ‘বীর উত্তম’ খেতাব।
মঞ্জুরকে যাঁরা চিনতেন, সবাই তাঁর সম্পর্কে খুব উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন। তিনি একজন মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন। তার পরও চট্টগ্রাম সফররত অবস্থায় ৩০ মে ১৯৮১ জেনারেল জিয়াউর রহমান নিহত হলে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ তাঁর বিরুদ্ধে জিয়া-সরকার উৎখাতে অভ্যুত্থান সংগঠিত করার অভিযোগ তোলেন। এরশাদের সহযোগীরাও এর সঙ্গে গলা মেলান।
সেনা সদর দপ্তর থেকে যে গল্পটি ছড়ানো হয়, তা নিয়ে শুরু থেকেই জনমনে ব্যাপক সংশয় ছিল। আমরা যারা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান বা অন্যান্য রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করেছি, তাদের কাছে এটা পরিষ্কার ছিল যে এই সুপরিকল্পিত গল্প ছড়ানোর পেছনে অন্য কোনো গূঢ় উদ্দেশ্য আছে। যাঁদের ঘটে কিছু আছে, তাঁরা জানতেন, এই ‘দাপ্তরিক গল্প’-এর টালমাটাল ‘সত্য’কে বুঝতে হলে কঠোরভাবে যা অনুসরণ করতে হবে, তা হলো সন্দেহের মৌলিক দিকনির্দেশনা।


textচট্টগ্রামে কী ঘটেছে, তা নিয়ে সেনা কমান্ড প্রথম দিন সুবিন্যস্ত, সরল ও সুসমন্বিত ‘মিথ্যা আখ্যান’ ছড়ায়। জিয়া হত্যার ১২ ঘণ্টা পর এটি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। গল্পটা এ রকম: মেজর জেনারেল মঞ্জুর ক্ষমতা দখলের অভিপ্রায়ে অভ্যুত্থান করেছেন, যার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা।
কিন্তু চট্টগ্রামের খবরটাই ছিল গোলমেলে। মঞ্জুরের অভ্যুত্থান পরিকল্পনার উদ্দেশ্য যদি হয় জিয়াকে হত্যা করে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া, তাহলে নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি ছক কেটে দেখার মতো সামর্থ্য তাঁর ছিল বলে মনে হচ্ছে না।
সে সময় যাঁরা তাঁর পাশে ছিলেন এবং এখনো জীবিত রয়েছেন, তাঁরা বলেছেন, মঞ্জুরের মধ্যে তাঁরা যে চাঞ্চল্য ও দ্বিধা দেখেছেন, তাতে এটি স্পষ্ট যে তিনি নিজেই ঘটনার গতিপ্রকৃতি বুঝে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। তিনি সময় ক্ষেপণ করে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছিলেন। আর যা-ই হোক, অভ্যুত্থানের সতর্ক পরিকল্পক ও বাস্তবায়নকারীর আচরণ তা হতে পারে না।
বাংলাদেশের মানুষ অভ্যুত্থানের সঙ্গে পরিচিত। তারা জানে, কীভাবে তা সংঘটিত হয়। ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হন। রক্তমাখা হাতে যাঁরা ক্ষমতা দখল করেন, তাঁরাও এক ‘গল্প’ ফেঁদে বসেন। কিছুদিন তা চলেও। তবে সময় এলে সেই ‘আখ্যান’ ভেঙে পড়ে। ‘ছয় মেজর’ মিলে ‘পুরো ঘটনাটি কীভাবে ঘটাল’ তার ‘কার্যকরী খসড়া’র তত্ত্ব ভেঙে তছনছ হয়ে যায়। এই অভ্যুত্থানের পেছনে যে দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা ও বিশদ যোগাযোগ সক্রিয় ছিল, ছায়ার জগৎ থেকে ধীরে ধীরে তা আলোতে চলে আসে। মার্কিন দূতাবাসের একটি অংশের সঙ্গেও অভ্যুত্থানকারীদের যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়।
এই হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর অধীনদের এই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে চমকপ্রদ গল্প শোনা যায়। কিন্তু অভ্যুত্থান হয়ে যাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, দূতাবাসের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তিনি তাঁর নির্দেশ পালন করাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁদের নির্দেশদাতা ছিল অন্য কোথাও। সেই গল্পের তল খুঁজতে যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয়। (দেখুন, ‘অতীতের মৃত্যু নেই: ১৯৭৫-এর আগস্ট অভ্যুত্থানের দীর্ঘ ছায়া’, লরেন্স লিফশুলৎজ, প্রথম আলো, ১৫ আগস্ট, ২০০৫)।
সে বছর আমি ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে বসবাস করলেও ৩০ মে ১৯৮১ তারিখে, চট্টগ্রামে জিয়া হত্যার সময়, এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে আমি ভারতের বিহারে ছিলাম। খবরটা শোনার পর আমি কলকাতার উদ্দেশে রওনা হই। তিন দিন পর বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে রওনা দিই ঢাকার দিকে।
ঢাকায় আসার এক সপ্তাহের মধ্যে আমি অনেক তথ্য জোগাড় করে ফেলি। সেই সপ্তাহেরই শেষ দিকে পুলিশ আমাকে তুলে নিয়ে ঢাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করে। সে সময় অনেক বিদেশি সাংবাদিকই ঢাকায় অবাঞ্ছিত ছিলেন। মুজিববিরোধী অভ্যুত্থান ও কর্নেল তাহের হত্যাকাণ্ডের ওপর লন্ডন থেকে একটি বই প্রকাশ করার কারণে আমি ইতিমধ্যেই ‘কালো তালিকাভুক্ত’ হয়ে পড়েছিলাম।
নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নিচের প্রতিবেদনটি আমি ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউতে পাঠাতে সক্ষম হই। ঢাকার ডেটলাইনসহ এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালের ১০ জুলাই:
‘বিদ্রোহ চলাকালে যা ছড়ানো হয়েছিল, তার চেয়ে ভিন্নতর খবর এখন ঢাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন, এ বিদ্রোহ মঞ্জুরের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাঁরা যথেষ্ট সন্দিহান। সেনাসূত্র অনুযায়ী, ৩০ মে জিয়া হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঢাকার সেনা ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের মঞ্জুর ফোন করে জানান যে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মোটেই জড়িত নন। সবকিছু ঘটেছে তাঁর অজ্ঞাতসারে। তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, চট্টগ্রামের ঘটনার ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ছিল না। পরে তিনি সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
‘বহু তথ্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করা না গেলেও সেনাসূত্র দাবি করেছে, গৃহযুদ্ধ রোধে মঞ্জুর যে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, প্রথম দিন বিকেলেই তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এরশাদের নির্দেশে ঢাকা রেডিও থেকে মঞ্জুরের বিরুদ্ধে এই মর্মে অবিরাম প্রচারণা চালানো হয় যে তিনি “খুনি” ও “বিশ্বাসঘাতক”। মঞ্জুর সে সময় মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানানো হয়েছে।...তিনি মনে করেছিলেন, ঢাকা গ্যারিসনে অবস্থানরত তাঁর শত্রুরা, বিশেষত এরশাদ ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের মেজর জেনারেল মহাব্বত জান চৌধুরী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাঁকে খতম করে দেবে।
‘...ব্যাপক ধোঁয়াশা সৃষ্টি হওয়ায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা মহিউদ্দীন আহমেদ সেনা হেফাজতে মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি খোলাসা করার জন্য ২১ জুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ মৃত্যু সম্পর্কে সংবাদপত্রের কাছে বিবৃতি দিয়েছিল। সরকারি মুখপাত্রের দেওয়া বিবরণের সঙ্গে সেটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কর্তৃপক্ষের এমন স্ববিরোধী বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে মহিউদ্দীন আহমেদ দাবি করেন, বিচারের আগে মঞ্জুরকে কীভাবে হত্যাকারী বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, তা তাঁকে জানাতে হবে।’ (‘কনফিউশন ওভার এ কিলিং’, লরেন্স লিফশুল্ৎজ্, ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ, ১০ জুলাই ১৯৮১)।

মামলা
১৯৯৫ সালে, হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পর, মঞ্জুরের ভাই আবুল মনসুর আহমেদ জেনারেল এরশাদ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীর উত্তম মঞ্জুর হত্যা সংঘটনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ইতিমধ্যে জেনারেল এরশাদের এক দশকব্যাপী সামরিক একনায়কত্বের অবসান ঘটেছে। ১৯৭১ সালে অন্য সামরিক কর্মকর্তারা যুদ্ধ করে জীবনদান করলেও এরশাদ সে সময় পাকিস্তানে ছিলেন। অবশেষে মঞ্জুরের ভাই প্রাণ আশঙ্কা থেকে মুক্তি পাওয়ায় নিরাপদে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা গেল।
আর মঞ্জুরের ভাই মামলা দায়ের করার প্রায় দুই দশক পরে এখন ‘মঞ্জুর হত্যা মামলা’ সংবাদপত্রের শিরোনামে জায়গা করে নিচ্ছে। ১০ ফেব্রুয়ারি সেশন জজ হোসনে আরা আকতারের এই মামলার রায় ঘোষণা করার কথা ছিল। তাঁকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন খন্দকার হাসান মাহমুদ ফিরোজ। এই হঠাৎ পরিবর্তনের রহস্য কী, তা কেউ জানে না।
তবু সবাইকে আজ একটি প্রশ্ন উত্থাপন করতে হবে। বিচারক হোসনে আরা আকতার ১০ ফেব্রুয়ারি রায় দিয়ে দিলেই কি ন্যায়বিচার সম্পন্ন হতো? ১৯ বছর ধরে চলা এই দীর্ঘ ও দুর্বল প্রসিকিউশনের পর এ গুরুতর সন্দেহের কারণ ঘটেছে যে বিচারিক আদালত যদি শেষ পদক্ষেপ নিয়ে রায় ঘোষণাও করতেন, তাহলেও তাঁর পক্ষে সত্যিই কোনো অর্থপূর্ণ রায় দেওয়া সম্ভব হতো কি না। এমনকি চূড়ান্ত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে বিচারপতির পক্ষে শেষ মুহূর্তে রায় প্রদান থেকে দূরে থাকারও সমূহ কারণ ছিল।
২০১৩ সালের নভেম্বরে বিচারক হোসনে আর আকতার অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি আসাদুজ্জামান খানকে তাঁর প্রস্তুতিহীনতার জন্য প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। আসাদুজ্জামান ও তাঁর সহযোগীদের এই অযোগ্যতা কি শুধুই অযোগ্যতা, নাকি এ-ও কোনো পরিকল্পনা? আরেকজন সরকারি কৌঁসুলি আবুল কাশেম খান ২ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে ১৯৯৫ সালে এই মামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২২ বার এর বিচারক পরিবর্তন করা হয়েছে।
সাধারণত এ ধরনের জটিল মামলায় একজন বিচারককেই সব জট খোলার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনিই একে নিশ্চয়তার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। বিশ্বজুড়ে এটাই হচ্ছে সর্বোচ্চ মানদণ্ড। কিন্তু এই মামলাটি প্রমিত মানের ধারে-কাছে দিয়েও যায়নি। এই মামলাটিকে ভবঘুরে এতিমের মতো এক বিচারক থেকে আরেক বিচারক এবং এক কৌঁসুলির কাছ থেকে আরেক কৌঁসুলির কাছে পাঠানো হয়েছে। তার পরও এই মামলার গুরুত্ব আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে রয়েছে এর তাৎপর্য।
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় মঞ্জুরের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে কি না, বিচারক খন্দকার ফিরোজের নিয়োগের মধ্য দিয়ে সেটি কিছুটা অস্পষ্ট হয়ে পড়ল। এখানে উল্লেখ্য, কর্নেল তাহেরের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে ৩৫ বছর পর। মঞ্জুর ও তাহের উভয়েই বীর উত্তম খেতাবধারী—যা এরশাদ পাননি, জিয়া পেয়েছিলেন। তাঁরা দুজনই ছিলেন সেক্টর কমান্ডার। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীনের সঙ্গে তাঁরা পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে জিয়ার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। আর মুক্তিযুদ্ধের সময়টা এরশাদ কাটিয়ে দেন পাকিস্তানে বসে। জিয়া আর মঞ্জুর—এই দুজনের মৃত্যুর ঘটনাতেই এরশাদ ফেঁসে যেতে পারেন।
জেনারেল এরশাদের আইনজীবী দাবি করেছেন, একজন সাক্ষীও এরশাদ বা তাঁর কোনো ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে মঞ্জুর হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িয়ে সাক্ষ্য দেননি। সে কারণে তাঁকে এই অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হোক যে মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা, অনেকে যাকে বলে থাকেন পূর্বপরিকল্পিত ‘হত্যা’, তাতে তিনি একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
জেনারেল এরশাদ ‘সাধারণ সন্দেহভাজন’কে আটক করে আসল অপরাধীকে এড়িয়ে যাওয়ার সেই পুরোনো পুলিশি কৌশলের সুবিধাভোগী হয়েছেন। তবে এ দাবিও কেউ করতে পারবে না, কারণ গত ৩৩ বছরে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিও মঞ্জুর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হননি।
চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন চৌধুরী ১৯৮১ সালের ঘটনাপ্রবাহের ওপর একটি সুচিন্তিত বই লিখেছেন। ১৯৮১ সালের ১ জুন সংঘটিত মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডকে তিনি অভিহিত করেছেন চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় খুন’ বলে। জিয়াউর রহমান ছিলেন ‘প্রথম’ খুনের শিকার। জিয়াউদ্দীন চৌধুরী ভিন্ন ধাতুর মানুষ। তিনি গুরুতর প্রশ্ন তোলেন, আবার উত্তরের জন্য দুরূহ উপায় খোঁজেন।
জিয়াউদ্দীনের ভাষ্য হচ্ছে, জিয়া ও মঞ্জুর উভয়েই খুন হয়েছেন। তিনি সেই বিরল ব্যক্তিদের মধ্যে একজন, যিনি চট্টগ্রামের সেই নিয়তি-নির্ধারক দিনগুলোর ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে সময় দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক অনুসন্ধান পরিচালনা করেছেন। তিনি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ছিলেন। জিয়াউর রহমান ও আবুল মঞ্জুর উভয়েরই পরিচিত হওয়ায় তাঁর অবস্থানটি ছিল অনন্য।
২০০৯ সালে প্রকাশিত হলেও জিয়াউদ্দীন চৌধুরী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন, সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় বা তদন্তকারীরা কেউই তাঁর দ্য অ্যাসাসিনেশন অব জিয়াউর রহমান অ্যান্ড ইট্স্ আফটারম্যাথ বইয়ে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ সম্পর্কে তাঁর কাছে কিছু জানতে চাননি।
একইভাবে কয়েক বছর আগে ঢাকায় মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে আমার দুই দিন বসার সুযোগ হয়। আমরা দুজন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের সময়কার ঘটনাবলি মনে করার চেষ্টা করি। মেজর জেনারেল মইনের সঙ্গে আমার ৩০ বছরের জানাশোনা। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি লন্ডনে বাংলাদেশের মিলিটারি অ্যাটাশে হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আমি তখন সাংবাদিকতা থেকে ছুটি নিয়ে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েশন করছি। তিনি আমাকে একবার বলেছিলেন, তাঁর কাজ ছিল আমার ওপর নজর রাখা। আমার তরফ থেকেও অনেকটা এ রকম ব্যাপার ছিল বলে আমি জানিয়েছিলাম। এ উদ্দেশ্যে আমরা ঘন ঘন নৈশভোজে মিলিত হতাম।
এক দশক আগে জেনারেল মইন বাংলায় একটি বই প্রকাশ করেছিলেন, তার শিরোনাম ছিল এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য: স্বাধীনতার প্রথম দশক। ২০০৬ সালে যখন তাঁর সঙ্গে বসি, তাঁকে তখন বলেছি, তিনি যেন বইটির নির্দিষ্ট কিছু অংশের বিষয়বস্তু আমাকে বিশদভাবে জানান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমি বাংলা পড়তে পারি না। এর পরের কয়েক বছর আমি ও মইন একে অপরের কাছ থেকে নানা কিছু জানার চেষ্টা করেছি। বইটির ইংরেজি তর্জমা কবে পাব, তা অনিশ্চিত হওয়ায় সেই দুই দিন চট্টগ্রামে মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত ঘটনাবলির ওপর আমরা যতটা পারি পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেছি।
আলোচনার নোটসমেত প্রস্থানের সময় মইন বললেন, তিনি বইটির একটি ইংরেজি তর্জমা করে আমার কাছে পাঠিয়ে দেবেন। ২০১০ সালে তাঁর অসময়োচিত মৃত্যুর আগেই বইটির ইংরেজি তর্জমা আমার হাতে এসে পৌঁছায়। দশমবারের মতো এই অনুবাদটি যখন আমি পড়ছি, তখন সেই সময়কার চট্টগ্রামের ঘটনাপ্রবাহের ওপর মইনের জ্ঞানের পরিধিকে বৃহত্তর পরিসরে জানানোর এক দায় বোধ করছি। ঘটনাপ্রবাহের ওপর নজর রাখার এক অনুকূল অবস্থান তাঁর ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল হিসেবে তাঁর কর্মস্থল ছিল সেনাসদর।
জিয়াউদ্দীন চৌধুরী তাঁর বইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত মঞ্জুর তাঁর দুই-তৃতীয়াংশ সময় ফোনে ঢাকায় কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন। যাঁদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, তাঁরা ছিলেন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা। দৃশ্যপট থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ায় আমরা কখনোই জানতে পারব না যে তিনি কাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, কী বিষয়েই বা সমঝোতার চেষ্টা করছিলেন।’
তবে জিয়াউদ্দীনকে এ নিয়ে আর আক্ষেপ করতে হবে না। কারণ, আমরা এখন জানি, মঞ্জুর সেই চরম সময়ে সেনা সদর দপ্তরে ফোনে কার সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই ব্যক্তিটি ছিলেন মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী। মঞ্জুর তাঁকে বিশ্বাস করতেন। আর সেনাসদরে তখন মইনই ছিলেন একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা।

----

মঞ্জুরকে তড়িঘড়ি ‘হত্যাকারী’ হিসেবে প্রচার

মইন ও মঞ্জুর একে অপরকে চিনতেন এবং শ্রদ্ধা করতেন। তাঁরা দুজনই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের কাছে সেটি একটি বিরাট ব্যাপার ছিল। তাঁরা যুদ্ধ করেছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে; আর জেনারেল এরশাদ ও জেনারেল মহাব্বত জান চৌধুরী ছিলেন সেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অংশ। তার পরও, পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং স্বাধীনতার প্রায় দশ বছর পর ‘বাংলার ভিচি’ এই রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রায় পুরোটাই দখল করে ফেলেন। পথের কাঁটা দূর করতে চূড়ান্ত নৃশংস হতেও তিনি কসুর করেননি। এই রূপান্তরের গল্প এক স্বতন্ত্র কাহিনি।
আমার সঙ্গে আলাপচারিতায় মইন স্পষ্টভাবেই বলেন, সেনাসদরে তিনিই সেই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা, যাঁর সঙ্গে মঞ্জুর ফোনে আলাপ করেন। তাঁর আশা ছিল, চট্টগ্রামে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করা যাবে। এই ফোনালাপে মঞ্জুর পরিষ্কারভাবে জানান, জিয়া হত্যার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এসব আলাপচারিতা নিয়ে মইন তাঁর এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য বইটিতে বিস্তারিত লিখেছেন।
যাঁদের অন্তর্দৃষ্টি আছে, তাঁদের কাছে মইনের এই বইটি তথ্যের এক আকর। বিশেষত জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড, জেনারেল এরশাদ ও তাঁর সহযোগীরা কীভাবে মঞ্জুরের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে কুৎসা রটিয়েছেন এবং জিয়া হত্যাকাণ্ডে তাঁকে মিছামিছি ফাঁসিয়েছেন, সে সম্বন্ধে এখানে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
জিয়া হত্যাকাণ্ড এবং এর সঙ্গে মঞ্জুরের অসম্পৃক্ততা—এই দুটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে মইন বিষয়গুলো খোলাসা করেছেন। এসব ঘটনার খুবই আগ্রহোদ্দীপক বিবরণ দিয়েছেন মইন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, তিনি দেখিয়েছেন কী কারণে অভিযোগকারীরা মঞ্জুরকে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাঁকে হত্যা করে। জিয়া হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টা পরে তাঁরা হঠাৎ করে এ কাজ শুরু করেননি। তাঁরা সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যাচার শুরু করেন।
চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন চৌধুরী বেসামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্যতম প্রথম ব্যক্তি, যিনি সার্কিট হাউসে গিয়ে জিয়ার মৃতদেহ দেখেন। পরবর্তী কয়েকটা দিন তিনি শুধু ভাবেন কে, কাকে, কেন এবং কী করল। তবে সদুত্তর পেতে পেতে সপ্তাহ এমনকি মাসও পেরিয়ে যায়। অবশেষে সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ‘দাপ্তরিক প্রতিবেদন’ নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তার পরও, জিয়া হত্যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর সেনাসদরে এরশাদ মইনের সঙ্গে এই মর্মে তর্ক করেন যে সেখান থেকে কয়েক শ মাইল দূরে চট্টগ্রামে কী ঘটেছে তিনি তা জানেন। তাঁদের তর্কযুদ্ধের বিবরণ মইন তাঁর বইয়ে দিয়েছেন:
‘৩০ মে জিয়া হত্যার পর সেনাসদরে আমার সঙ্গে মঞ্জুরের ফোনে কথোপকথন থেকে আমি বুঝতে পারি, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে এই হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব বহন করতে হচ্ছিল। আমার এই ধারণা আমি আর্মি হেডকোয়ার্টারে সেনাপ্রধান এরশাদসহ আমার অন্য সহকর্মী, পিএসওদের সামনে ব্যক্ত করি। কিন্তু তাঁরা বিভিন্নভাবে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
‘এ ছাড়া বেশ তড়িঘড়ি করেই ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মঞ্জুরকে জড়িত করে বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে প্রচারণা শুরু হয়ে যায়। যদিও আমি মত প্রকাশ করি যে কোনো প্রকার খোঁজখবর না করেই রেডিও-টিভিতে এ রকম প্রচারণা ঠিক নয়।’
ওপরের উদ্ধৃতিটি ‘মঞ্জুর জিয়া হত্যায় সরাসরি জড়িত ছিলেন না’ শীর্ষক অধ্যায় থেকে নেওয়া হয়েছে। এই অধ্যায়ের শেষে মইন ইঙ্গিত করেন, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে পুরো ব্যাপারটাই মঞ্জুরকে সরানোর জন্য সাজানো হয়েছিল। অধ্যায়ের শেষে মইন বলেন, ‘মূলত জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়েছে ক্ষমতালোভী, উচ্চাভিলাষী, ষড়যন্ত্রকারী ও কিছু অমুক্তিযোদ্ধা অফিসারের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে। এটা সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের ফল।’
হ্যাঁ, মইন বুঝতে পেরেছিলেন, এটি ছিল একটি ‘সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র’। এরশাদ ও তাঁর সহযোগীরা দ্রুত তাঁদের ‘মিথ্যা আখ্যান’ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এটি ছিল সেই ষড়যন্ত্রের একটি বিশেষ দিক।

{লরেন্স লিফশুলৎজ ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ (হংকং)-এর দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি দ্য গার্ডিয়ান, লে মঁদ দিপ্লোমাতিক, দ্য নেশন (নিউইয়র্ক) ও বিবিসির পক্ষে লিখেছেন। তিনি বেশ কিছু বই রচনা ও সম্পাদনা করেছেন; তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ: দি আনফিনিশ্ড্ রেভল্যুশন, হিরোশিমা’জ শ্যাডো ও হোয়াই বসনিয়া?} চলবে।
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/153115/

Friday, February 21, 2014

যে ৬টি কৌশলে জিতে নিতে পারবেন প্রিয় মানুষটির মন

বিয়েটা হয়েছে পারিবারিক ভাবেই। আর তাই বিয়ের পর থেকেই মন জিতে নেয়ার চেষ্টা করছেন তার। কিন্তু কেন যেন সব চেষ্টাকেই বৃথা মনে হয় দিন শেষে। কোনো ভাবেই বুঝতে পারছেন না কিভাবে জীবন সঙ্গীর মন জিততে পারবেন।
প্রতিটি মানুষই নিজের মনের মানুষটির কাছে হয়ে উঠতে যায় একজন আদর্শ সঙ্গী। আর তাই প্রিয় মানুষটিকে খুশি করার জন্য কত কিছুই না করে থাকে মানুষ। জীবন সঙ্গীর কাছে নিজেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ বানিয়ে তোলার এই প্রয়াসটি সৃষ্টির শুরু থেকেই দেখা যায়। মনে রাখবেন, প্রিয় মানুষটির মন জিতে নেয়া খুব বেশি কঠিন কাজ নয়। প্রয়োজন শুধু একটু সদিচ্ছা। আসুন জেনে নেয়া যাক প্রিয় মানুষটির মন জিতে নেয়ার ৬টি উপায়।

সুবিধা অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখুন

জীবন সঙ্গীর মন জিতে নিতে চাইলে প্রতিদিনের সংসারেই জীবন সঙ্গীর সুবিধা অসুবিধার দিকে খেয়াল রাখা উচিত। সঙ্গী কী খাবে, কখন ঘুমাবে, ক্ষুধা লেগেছে কিনা, ক্লান্ত কিনা, কী প্রয়োজন ইত্যাদি সব বিষয়ের প্রতিই জীবন সঙ্গীর হয়ে উঠতে হবে সচেতন। প্রতিদিনের একটু একটু আদর যত্নই ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয় অনেক খানি। তাই জীবন সঙ্গীর মন জিতে নিতে চাইলে প্রতিদিন সঙ্গীর সুবিধা অসুবিধার দিকে লক্ষ্য রাখা জরুরী।

উপহার দিন

সঙ্গীর মন জিতে নিতে চাইলে সঙ্গীকে মাঝে মাঝে উপহার দেয়া উচিত। পৃথিবীর সব মানুষই জীবন সঙ্গীর কাছ থেকে উপহার আশা করে। প্রেমের সময় অধিকাংশ যুগলই উপহার আদান প্রদান করলেও বিয়ের পরে অধিকাংশ মানুষই তা করে না। সঙ্গীর মন জিতে নিতে চাইলে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী মাঝে মাঝে উপহার দিন তাকে। আর কিছু না হোক একটি ফুল নিয়ে তো চমকে দেয়াই যায় তাই না?

নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলুন

জীবন সঙ্গীর মন জিতে নিতে চাইলে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলাটা জরুরী। জীবন সঙ্গী আপনাকে সব সময়ই দেখে বলে নিজেকে অগোছালো রাখা উচিত না। প্রতিনিয়তই নিজের যত্ন নিন। সেই সঙ্গে জীবন সঙ্গীর পছন্দের সুন্দর পোষাক পরুন এবং সুগন্ধি ব্যবহার করুন। নিজেকে গুছিয়ে রাখলে সঙ্গীর মন জিতে নিতে পারবেন খুব সহজেই।

সঙ্গীর পরিবারের যত্ন নিন

একটি মানুষকে জীবন সঙ্গী করা মানে নতুন একটি পরিবারের সাথে আত্মীয়তা হওয়া। আপনার জীবন সঙ্গীর সব চাইতে কাছের মানুষ তো তারাই। তাই আপনার জীবন সঙ্গীর মন জিতে নিতে চাইলে তার পরিবারের সুবিধা অসুবিধার দিকে লক্ষ্য রাখুন। তাদের বিপদে আপদে সব সময় তাদেরকে সাহায্য করুন। তাহলে আপয়ান্র জীবন সঙ্গীর মন জিতে নিতে পারবেন সহজেই।

সঙ্গীকে স্বাধীনতা দিন

একজন মানুষকে জীবন সঙ্গী করা মানেই তার জীবনের সমস্ত স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয়া নয়। আপনার জীবন সঙ্গীকে যথেষ্ট পরিমাণে স্বাধীনতা দিন। তাকে তার নিজস্ব জগতটাকে উপভোগ করতে দিন। সারাক্ষণ তার পিছে পিছে না থেকে তাকে তার মত করে জীবনটাকে উপভোগ করতে দিন মাঝে মাঝে। তাহলে আপনার সঙ্গীর মন জিতে নিতে পারবেন আপনি।

নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখুন

দাম্পত্য সম্পর্ক মানেই নিজেকে উজার করে দেয়া নয়। জীবন সঙ্গীর কাছে নিজের ব্যক্তিত্বকে উজার করে দিলে এক পর্যায়ে জীবনসঙ্গী একঘেয়ে বোধ করে। তাই জীবন সঙ্গীর সাথে নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখুন। জীবন সঙ্গীর প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল হবেন না। আপনার ব্যক্তিত্ব ও আত্মনির্ভরশীলতা আপনার জীবন সঙ্গীকে মুগ্ধ করবে।
 http://www.priyo.com/2014/02/20/54943.html

৮টি কৌশলে কমিয়ে ফেলুন পেটের মেদ, বাড়ান সৌন্দর্য

একটু বাড়তি ওজন দেখতে বেশি খারাপ না লাগলেও পেটের মেদ দেখতে একটু বেশিই খারাপ লাগে। কিন্তু এই পেটের মেদ আমাদেরই অনিয়ম এবং বাজে খাদ্যাভ্যাসের কারণে হয়ে থাকে। একটু-আধটু মেদ সাধারণ ডায়েট এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে কমিয়ে ফেলা যায়। কিন্তু বেশি মেদ জমলেই সমস্যা। কিছুতেই পিছু ছাড়তে চায় না। বরং বাড়তেই থাকে এই পেটের মেদ। কিন্তু এই জমে থাকা মেদ নিয়ে তো বসে থাকা যায় না। মেদ কমানোর উপায় বের করতে হবে। তাই আজকে আপনাদের জন্য রইল পেটের মেদ দ্রুত ও সহজে কমানোর ৮টি দারুণ "অব্যর্থ" কৌশল।

দিন শুরু করুন লেবু গরম পানি দিয়ে

সকালে খালি পেটে খান এক গ্লাস লেবু পানি। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক ফালি লেবু চিপে নিয়ে এতে ১ চিমটি লবণ মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। প্রতিদিন নিয়ম করে পান করুন এই লেবু গরম পানি। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড এবং গরম পানি উভয়ই পেটের মেদ কাটাতে সাহায্য করবে।

ভাত খাওয়া বন্ধ করুন

ভাত খেলে পুরোটাই পেটে মেদ হিসেবে জমা হয়। ভাতের পরিবর্তে লাল আটার রুটি খান। মেদ কমবে। যদি নিতান্তই ভাত খেতে হয় তবে এক কাপের বেশি ভাত খাবেন না।

চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন

যেসব খাবারে চিনি রয়েছে সেসব খাবার খাওয়া বন্ধ করুণ। চিনি জাতীয় খাবার পেটে মেদ জমায়। চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করুণ।

দৈনিক ৬-৮ গ্লাস পানি পান করুন

যদি পেটের মেদ দ্রুত কমাতে চান তবে অবশ্যই প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করতে হবে। পানি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং দেহের টক্সিন দূর করে পেটের মেদ কমতে সাহায্য করে।

নিয়মিত কাঁচা রসুন খান

গন্ধের কারণে অনেকেই কাঁচা রসুন থেকে দূরে থাকেন। কিন্তু যদি দ্রুত পেটের মেদ কমাতে চান তবে নিয়মিত কাঁচা রসুন খাবেন। কাঁচা রসুন দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ও মেদ ক্ষয় হতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ২/৩ কোয়া রসুন খাবার অভ্যাস করুণ।

শাকসবজি খাবার অভ্যাস করুন

অনেকরই মাছ-মাংসের প্রতি আগ্রহ থাকে বেশি। এবং সবজি খাবার কথায় অনীহা প্রকাশ করেন। কিন্তু মাছ মাংসে প্রোটিনের পাশাপাশি ফ্যাট রয়েছে প্রচুর পরিমাণে যা দেহে মেদ জমায়। শাকসবজিতে আছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং পরিমিত ফাইবার। তাই পেটে মেদ জমতে দিতে না চাইলে শাকসবজি খান। মাছমাংস খাবার পরিমাণ কমিয়ে দিন।

মৌসুমি ফলমূল খান

সকালে, দুপুর, বিকাল এবং রাতের খাবারের তালিকায় ১ বাটি ফল রাখুন। এতে আপনার কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাট কম খাওয়া হবে। ফলে আপনি দ্রুত মেদ কমাতে সক্ষম হবেন। অনেকে মনে করেন ফলের চাইতে ফলের জুস খাওয়া ভালো। কিন্তু ফলের জুস ফ্যাট বাড়ায়। কারণ জুসে ফলের কোন ফাইবার থাকে না এবং স্বাদের জন্য এতে কিছুটা মিষ্টি যোগ করা হয়। সুতরাং ফলেরজুসের পরিবর্তে ফল খান।

খাবারে যোগ করুন কিছু মসলা

দারুচিনি, আদা, গোল মরিচ জাতীয় মসলা যুক্ত খাবার খান। এইসব মসলা দেহের সুগার লেভেল কমাতে সাহায্য করে। রান্নায় দারুচিনি, আদা ও গোল মরিচ যোগ করে রান্নার স্বাদের মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি কমিয়ে নিতে পারেন পেটের মেদ।
http://www.priyo.com/2014/02/20/52412.html

পুরুষের বাড়তি ওজন যেসব মারাত্মক ক্ষতি করে তাঁর যৌন স্বাস্থ্যের

আপনি কি জানেন যে অতিরিক্ত ওজন আপনার যৌন জীবনে ডেকে আনতে পারে অশান্তি? অতিরিক্ত মেদের কারনে যৌন স্বাস্থ্য ভয়াবহ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নারী-পুরুষ সবারই যৌন স্বাস্থ্যে নানান রকম মানসিক ও শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় অতিরিক্ত ওজনের কারণে। ফলে বিবাহিত জীবনে দেখা দেয় নানান রকম সমস্যা ও অশান্তি।
অতিরক্ত ওজনের কারনে সৃষ্ট যৌন সমস্যা গুলোর সমাধান হলো মেদ কমানো। কারণ ওজন যত বাড়তে থাকে সমস্যাও তত জটিল হতে থাকে। তাই যৌন স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য পুরুষদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। আসুন জেনে নেয়া যাক পুরুষের অতিরিক্ত মেদ যৌন স্বাস্থ্য ও জীবনে কোন ৫ ধরনের ক্ষতি করতে পারে সেই সম্পর্কে।

ইরেকটাইল ডিসফাঙ্কশন

আপনি কি জানেন যে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন যেসব পুরুষরা তাদের অনেকেই ইরেকটাইল ডিসফাঙ্কশন (ED) এ ভুগে থাকেন। এই সমস্যাটিতে শরীরে যৌন উদ্দীপনা সৃষ্টি হতে সমস্যা হয়। ফলে যৌন জীবনে নানান রকম সমস্যা দেখা দেয়।

উদ্যম কমে যায়

অতিরিক্ত মোটা হয়ে গেলে পুরুষের উদ্যম কমে যায়। ফলে খুব সহজেই হাঁপিয়ে ওঠেন তারা যৌন জীবনে। এমনকি যৌন সম্পর্কে আগ্রহও কমে যেতে থাকে ধীরে ধীরে।

প্রজননক্ষমতা হ্রাস

ওজন বৃদ্ধি পেলে নারীর প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায় একথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু ওজন বৃদ্ধি কারণে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতাও হ্রাস পায়। অতিরিক্ত ওজন পুরুষের শুক্রাণুর উপর প্রভাব ফেলে। গবেষণায় জানা গিয়েছে যে যারা অতিরিক্ত ফ্যাট যুক্ত খাবার খান তাদের শুক্রাণুর মান খারাপ হয়ে যায়। ফলে প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়।

হরমনের উপর প্রভাব

অতিরিক্ত ওজন হরমোনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং টেসটস্টেরন এর মাত্রাকে কমিয়ে দেয় যা পুরুষের যৌন আকাঙ্ক্ষাকে কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়াও অতিরিক্ত মেদ সেক্স হরমোনকে কমিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক যৌন জীবনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

পেটের মেদের জন্য আসন জনিত সমস্যা

পুরুষের শরীরে সবচাইতে বেশি মেদ জমে সাধারণত পেটে। আর পেটের অতিরিক্ত মেদের কারনে শারিরীক মিলনের সময় আসন জনিত সমস্যা হয়। বেশিরভাগ আসনেই তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। তাই যৌন জীবনে নানা ধরনের সমস্যা হয়।
http://www.priyo.com/2014/02/20/54901.html

Sunday, February 16, 2014

পুরুষের মন বুঝতে যে ৫টি বিষয় সকল নারীর জানা উচিত!


সবাই বলে নারীর মন বোঝা দায়। কিন্তু পুরুষের মনও কি পুরোপুরি বোঝা সম্ভব? কেউ হয়তো বলবেন ‘হ্যাঁ’, আবার কেউ বলবেন ‘না’! যদি পুরুষের মন সত্যিই নারীরা বুঝতেন তাহলে কি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এত জটিলতা হতো? নারীরা পুরুষের মন ঠিক মত বোঝেন না বলেই সম্পর্কে দেখা দেয় নানান রকম জটিলতা। আসুন জেনে নেয়া যাক পুরুষদের সম্পর্কে ৫টি বিষয় যেগুলো দীর্ঘ মেয়াদী সম্পর্কের জন্য জানা জরুরী। 14495_442990869083747_1881908688_n.jpg
পুরুষের ইগো থাকে
কম বেশি সব পুরুষেরই ইগো থাকে। আর এই ইগোর কারণে তারা নিজ থেকে আগ বাড়িয়ে ‘সরি’ কিংবা ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ বলতে চায় না। এবং তারা বেশিরভাগ সময়ে নারীর কাছ থেকেই কমনীয়তা আশা করে। আর তাদের এই স্বভাবের জন্য সম্পর্কে নানান রকম জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাই পুরুষদের ইগোর বিষয়টি মাথায় রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে গেলে সম্পর্কের জটিলতা কম হয়
ajsgbdjk.JPG
অন্য নারীদের দিকে তাকাবেই
পুরুষরা স্বভাবতই নারীদের দিকে তাকায়। পাশ দিয়ে সুন্দরী নারী গেলে পছন্দের পুরুষটি ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালে অভিমানে গাল ফুলিয়ে ফেলার দরকার নেই। কারণ তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে কিংবা অসৎ উদ্দেশ্যে এই কাজটি করে না। অনেকটা সহজাত অভ্যাস বশতই করে ফেলে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে হাসি-ঠাট্টা করে উড়িয়ে দিন। তাহলে দুজনের সম্পর্কটা ভালো থাকবে দীর্ঘদিন।
 পুরুষ অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না
অধিকাংশ নারীই আশা করে তাদের পুরুষ সঙ্গীটি তাদের মত করেই অনুভূতি প্রকাশ করবে। কিন্তু এই আশা করাটা ভুল। কারণ পুরুষরা স্বভাবতই চাপা স্বভাবের হয় এবং অনুভূতি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কাঁচা হয়। তাই এটা নিয়ে রাগারাগি না করাই সম্পর্কের জন্য ভালো।
75061_456441671072000_244662406_n_0.jpgতাঁরা খরচ যোগাতে ভালোবাসে
পুরুষরা অধিকাংশ সময়েই নারীদের পেছনে খরচ করতে ভালোবাসে। কোথাও খেতে গেলে কোনো নারী খাওয়ার বিল দিলে তারা বেশ অস্বস্তিবোধ করে। আর তাই পকেটে টাকা না থাকলে তারা সহজে খেতে কিংবা ঘুরতে যেতে চায় না। পছন্দের মানুষটি আপনাকে বেড়াতে নিয়ে না গেলে তাই মন খারাপ করবেন না। জানবেন যে তার পকেটে টাকা নেই।
তাঁরা স্বাধীনতা চায়
পুরুষরা স্বাধীনতা চায়। জোর করে তাদেরকে ঘরে বসিয়ে রাখতে চাইলে, বন্ধুদের সাথে মিশতে না দিলে কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না দিলে তাড়া মনঃক্ষুণ্ণ হয় এবং সম্পর্কের অবনতি হয়। এমনকি সম্পর্কের ভাঙনও এসব ক্ষেত্রে খুবই স্বাভাবিক।

Sunday, February 9, 2014

ঝগড়ায় হৃদযন্ত্রের ক্ষতি

স্বপ্নের ঝগড়া বাস্তবে
প্রিয়জনের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে তা আপনার হৃদয়কে আঘাত হানতে পারে। যে দম্পতির অনেকে মনে করেন তার সঙ্গী যথেষ্ট সহায়তা করে না, জেনে রাখুন তাদের জন্যে হৃদরোগে আক্রাšত্ম হওয়া অনেকটা সহজ হয়ে যায়। কারণ তাদের সঙ্গীর প্রতি এক ধরনের বিতৃষ্ণা জম্মে যা তার হৃদরোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সোজা কথা আপনি আপনার সহধর্মীনির সঙ্গে ঝগড়া করলে তা শুধু সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না তা একই সঙ্গে আপনার হৃদযন্ত্রের আর্টারিকে ক্ষীণ করে তোলে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, স্ত্রী বা পার্টনারের সঙ্গে ঝগড়া করলে তা আপনার মনকে শুধ বিষণœ করে না, আপনার হৃদযন্ত্রকে দুর্বল করে তোলে। অর্থাৎ আপনি ঝগড়ায় অভ্য¯ত্ম হয়ে উঠছেন মানে ক্রমশ হৃদরোগের দিকেও অগ্রসর হচ্ছেন।


উথা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী দেখতে পেয়েছেন, ঝগড়ার কারণে যে সব দম্পতি বিষণœ থাকেন তাদের হৃদযন্ত্রে রক্ত জমাট বাঁধার শঙ্কা বাড়ে অধিক হারে। এবং মৃত্যুর খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার মত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অর্থাৎ কথায় বলে না ‘ রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন’ আর ধর্মে আছে রেগে গেলে দাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়-ন, বসে থাকলে শুয়ে পড়-ন। কারণ রেগে ঝগড়া করার সময় তর্কে বিতর্কে লিপ্ত হলে আপনার শরীরে হঠাৎ করেই রক্তচাপ দ্রুত বৃদ্ধি পায় যার ধাক্কা আপনার হ্রদযন্ত্র নাও সামলাতে পারে।


চিকিৎসাবিজ্ঞানী বার্ট উচিনো বলেন, সহধর্মীনির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি মৃত্যুর সূচক হিসেবেও কাজ করে। বিশেষ করে হৃদরোগের ক্ষেত্রেতো বটেই। কিন্তু এমন কোনো সম্পর্ক নেই যা মতপার্থক্যবিহীন কিংবা কমবেশি ঝগড়ায় লিপ্ত হয় না। গবেষকরা ১৩৬ জন বয়স্ক দম্পতির আচরণ পরীক্ষা করে দেখেছেন, তাদের বিবাহিত জীবনে তারা কতটা নিজেদের প্রতি সহায়ক ছিলেন, কতটা ঝগড়ায় লিপ্ত ছিলেন।


পর্যালোচনা করে দেখা গেছে এসব দম্পতি একে অপরকে কতটা পরামর্শ দিয়েছেন, তাতে দেখা গেছে ৩০ ভাগ দম্পতির সম্পর্ক ছিল ইতিবাচক আর ৭০ ভাগেরই অভিজ্ঞতা তিক্ততায় পরিপূর্ণ যা বিষণœতারই নামাšত্মর। তাদের সিটি স্ক্যানার করে দেখা যায় পারস্পরিক সম্পর্কের কারণে তাদের হৃদযন্ত্রে রক্ত জমাট পরিমাণ কতটা। প্রমাণ পাওয়া গেছে যে সব দম্পতি অধিকমাত্রায় ঝগড়ায় লিপ্ত ছিল তাদের হৃদযন্ত্রে রক্ত জমাটের পরিমাণও বেশি। এসব দম্পতি গড়ে ৩৬ বছর সংসার করেছেন। চিকিৎসকরা তাই এসব দম্পতিদের পারস্পরিক আচরণের প্রতি আরো যতœবান হবার পরামর্শ দিয়েছেন। ডেইলি মেইল

মাছে বাড়ে বুদ্ধি


যে মহিলারা গর্ভাবস্থ্থায় সামুদ্রিক খাবার সপ্তাহে ১২ আউন্সের চেয়ে কম গ্রহণ করেন, তাদের সন্তানদের স্নায়বিক দুর্বলতা থেকে যায়। বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে তারা অনেক পিছিয়ে থাকতে পারে

ব্রিটেনের নয় হাজার মা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে আট বছর ধরে এ গবেষণা করে ব্রিটেনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ, ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েসের গবেষকরা বলেছেন, গর্ভবতী মহিলারা মাছ ও সামুদ্রিক খাবার প্রয়োজনমতো গ্রহণ না করলে শিশুর স্ব্বাস্থ্থ্য দুর্বল হতে পারে। দীর্ঘ সময় গবেষণা করে তারা দেখেছেন, যারা গর্ভাবস্থ্থায় সামুদ্রিক খাবার সপ্তাহে ১২ আউন্সের চেয়ে কম গ্রহণ করেন, তাদের সন্তানদের স্নায়বিক দুর্বলতা থেকে যায়। বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে তারা অনেক পিছিয়ে থাকতে পারে। সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা ও বোধশক্তি কম হতে পারে।

এ কারণে গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন, সুস্থ-স্ব্বাভাবিক তীক্ষ আইকিউসম্পন্ন শিশু পেতে চাইলে গর্ভাবস্থ্থায় মহিলাদের বেশি করে মাছ ও সামুদ্রিক খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, গর্ভবতী মহিলারা প্রয়োজনের তুলনায় এসব খাবার কম খেলে শিশুর স্নায়বিক দুর্বলতার কারণে বিভিন্ন জটিলতাও দেখা দিতে পারে। ব্যাহত হতে পারে মানসিক বিকাশ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি ২০০৪ সালে যৌথভাবে একটি পরামর্শপত্র প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, গর্ভবতী মহিলাদের সপ্তাহে ১২ আউন্সের বেশি সাধারণ মাছ এবং কাঁকড়া ও চিংড়িজাতীয় খোলস প্রাণী ও মাছ খাওয়া উচিত নয়। কারণ এসবে টক্সিন বেশি থাকে। হাঙ্গর ও টাইল ফিশসহ কিছু প্রাণী ও মাছ খেতেও নিষেধ করা হয়। কিন্তু গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এ সতর্ক প্রচারণা ভুল প্রমাণ করলেন। গর্ভাবস্থায় মাছ খেলে সন্তানের বুদ্ধি বাড়বে।

Saturday, February 8, 2014

"জন্ম তারিখ" অনুযায়ী জেনে নিন আপনার ব্যক্তিত্ব!

আপনার জন্মদিনের তারিখটা কত? আজকালকার দিনে আমরা সবাই নিজের নিজের জন্মদিন জানি। একে অন্যকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোটাও এখন অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে আমাদের। কিন্তু আপনার এই যে জন্মদিন, সেটা কি শুধুই একটি সংখ্যা? নাকি এরও রয়েছে কোনও তাৎপর্য? রাশিতত্ত্বের নিউমারলজি বা সংখ্যাতত্ব অনুযায়ী, আপনার ব্যক্তিত্বের ওপর এই জন্মদিনের রয়েছে অনেক বড় প্রভাব। জন্মদিন ব্যবহার করে আপনার ব্যক্তিত্ব নির্ণয় করার রয়েছে একটি চমৎকার উপায়। এ প্রক্রিয়ায় আপনি নিজের জন্মদিন থেকে বের করে নিতে পারবেন একটি বিশেষ সংখ্যা যা বলে দেবে আপনার ব্যক্তিত্বের বিচিত্র সব তথ্য।
কি করে বের করবেন আপনার এই সংখ্যাটি
পদ্ধতিটি বেশ সহজ আসলে। জন্মদিন ১ তারিখ হলে আপনার এই সংখ্যাও ১। ধরে নেওয়া যাক আপনার জন্মদিন হলো ২৬ তারিখে। তাহলে (২+৬)= ৮ হবে আপনার সংখ্যা। জন্মদিন যদি হয় ১০ তারিখে, তবে সংখ্যা হবে (১+০)=১। একই কথা ২০ এবং ৩০ তারিখের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এখন যদি জন্মদিন হয় ২৯ তারিখে তবে সংখ্যা কত হবে? (২+৯)= ১১ হবে। কিন্তু এই ১১ কে আবারও যোগ করতে হবে যতক্ষণ না একটা সংখ্যা আসে অর্থাৎ (১+১)=২ হবে তার সংখ্যা। এখানে আরেকটা কথা আছে। যার জন্মদিন ১১ বা ২২, তার সংখ্যাও ১১ বা ২২, একে আর যোগ করতে হবে না।
সংখ্যা তো বের হলো, এবার দেখে নিন এই সংখ্যা অনুযায়ী আপনার ব্যক্তিত্ব কেমনঃ

আপনার সংখ্যা যখন ১

এক হলো নেতা, পথ প্রদর্শক। শুধু তাই নয়, একা একাই পথ চলার ক্ষেত্রেও তিনি পারদর্শী। তিনি স্বাধীনভাবে জীবন কাটিয়ে দিতে পারেন। জীবনের সব ক্ষেত্রেই প্রথম হবার উচ্চাকাঙ্খা দেখা যায় তার মাঝে। এ কারণে আত্মবিশ্বাস এবং দৃঢ়তা দেখা যায় তার মাঝে। কিন্তু এর পাশাপাশি কখনো কখনো অহংকার এবং আত্মকেন্দ্রিক হতে দেখা যায় তাদেরকে। প্রেমের ক্ষেত্রেও তারা কর্তৃত্বপরায়ন হয়ে থাকেন। তবে যথেষ্ট উত্তেজনা না থাকলে ভালোবাসাও তাদের কাছে একঘেয়ে মনে হয়।

আপনার সংখ্যা যখন ২

এরা হয়ে থাকেন মধ্যস্থতাকারী এবং শান্তিপ্রিয়। শান্তি এবং স্থিতি ভালোবাসেন তারা। তাদের চরিত্রে থাকে উষ্ণতা। তারা নিজেদের জীবনেও শান্তি পছন্দ করেন এবং হয়ে থাকেন কিছুটা স্পর্শকাতর। তবে তারা অন্যের ওপরে নির্ভরশীল হয়ে থাকেন। নিজের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কখনো কখনো কূটচালের আশ্রয় নিয়ে থাকেন। প্রেমের ক্ষেত্রেও তারা পছন্দ করেন স্থিতিশীলতা। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য যা দরকার সবই করতে রাজি থাকেন তারা। এক্ষেত্রে জন্মতারিখ যেটাই হোক না কেন, অনেকটা কর্কট রাশির সাথে মিল রয়েছে তাদের।

আপনার সংখ্যা যখন ৩

এরা হয়ে থাকেন বেশ সামাজিক এবং আমুদে মানুষ। দয়ালু এবং ইতিবাচক মনোভাবের এসব মানুষ জীবনকে উপভোগের চেষ্টা করেন সব সময়ে। তাদের রসবোধও অনেক ভালো। তবে কখনো তারা হয়ে উঠতে পারেন এলোমেলো স্বভাবের, হতে পারেন অতিরিক্ত বিলাসী। প্রেমের ক্ষেত্রে কিছুটা দুরত্ব বজায় রাখেন তারা, দরকার হয় একটু স্বাধীনতা। নয়তো তারা নিজেদের বন্দী মনে করেন এবং সেই সম্পর্ক ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন।

আপনার সংখ্যা যখন ৪

এরা হয়ে থাকেন পরিশ্রমী এবং কাজের মানুষ। অন্যকে সাহজ্য করতেও তাদের জুড়ি নেই। বিশ্বস্ত মানুষ হয়ে থাকেন ৪ সংখ্যার মানুষ। যুক্তি দিয়ে কাজ করে সমস্যা সমাধান করেন তারা। আর নিজেই নিজেকে শাসনে রাখতে পারেন তারা। তবে কখনো কখনো খুব বেশি গোঁয়ার হয়ে থাকেন। প্রেমের ক্ষেত্রে তারা বিশ্বস্ত হয়ে থাকলেও কখনো খুব বেশি আবেগি এবং হতাশ হয়ে পড়েন।

আপনার সংখ্যা যখন ৫

সংখ্যা যাদের ৫, তাদের সবচাইতে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তারা স্বাধীনতা পছন্দ করেন। তারা হয়ে থাকেন বুদ্ধিমান, মাথায় যাদের গিজগিজ করে আইডিয়া। যে কোনও পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে চেষ্টা করেন তারা। হয়ে থাকেন আমুদে এবং নমনীয় প্রকৃতির। কিন্তু মাঝে মাঝে দায়িত্ব পালনে এদের অনীহা দেখা যায়। কোনও কাজে লেগে থাকতে হলে তা করার ক্ষেত্রে অনুৎসাহী হয়ে পড়েন। প্রেমের ক্ষেত্রে অপর পক্ষ থেকে যথেষ্ট সাড়া না পেলেও তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন।

আপনার সংখ্যা যখন ৬

অনেকটা ২ এর মতো, সংখ্যা ৬ এর মানুষ হয়ে থাকেন শান্তিপ্রিয়। পরিবারের প্রতি অনুগত থাকেন তারা। যাকে ভালোবাসেন তার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে পারেন। তবে তার প্রতি একটা অধিকার স্থাপন করে ফেলেন তিনি, এবং কখনো কখনো হয়ে ওঠেন ঈর্ষান্বিত।
http://www.priyo.com/2014/02/06/51949.html

Friday, February 7, 2014

মচমচে ফ্রেন্স ফ্রাই

Photo: [মচমচে ফ্রেন্স ফ্রাই]
By:Shahrin Haq

উপকরণ:
১.আলু বড়- ২ টি
২.টেস্টিং সল্ট- ২ চিমটি
৩.রাধুনী চটপটি মসলা- আধা চা চামচ
৪.কর্নফ্লাওয়ার- ১ চা চামচ
৫.লবন -পরিমান মত
৬.তেল- ৩ কাপ
প্রণালী:-
১.আলু গুলোকে লম্বা লম্বা করে কাটতে হবে। মোটা করে না কেটে চিকন করে কাটলেই ভাল হবে।
২.এবার আলুগুলোকে ধুয়ে ভাল করে পানি ঝড়াতে হবে।
৩.একটা কড়াইতে তেল দিয়ে ভাল করে গরম করতে হবে।
৪.আলুগুলোর মধ্যে সব উপকরন দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে গরম তেলে ছেড়ে দিতে হবে।
৫. মাঝারি আচেঁ আস্তে আস্তে ভাজতে হবে।বেশী আঁচে ভাজলে মচমচে হবে না।কর্নফ্লাওয়ারের কারনে আলুগুলো একটা আরেকটার সাথে লেগে যেতে পারে। তাই ঘন ঘন নেড়ে দিতে হবে।ঠিক মত হয়ে গেলে ফ্রেন্স ফ্রাই গুলো তেল থেকে উঠিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
______________________________________________
✿ If U Want U Can Send Us Ur yummy recipe with Picture!U have to just post it on our রান্না-বান্না ( Ranna-Banna )'s wall.InshAllah We will publish it on our Page.Hurry-Up উপকরণ:
১.আলু বড়- ২ টি
২.টেস্টিং সল্ট- ২ চিমটি
৩.রাধুনী চটপটি মসলা- আধা চা চামচ
৪.কর্নফ্লাওয়ার- ১ চা চামচ

৫.লবন -পরিমান মত
৬.তেল- ৩ কাপ
 

প্রণালী:-
১.আলু গুলোকে লম্বা লম্বা করে কাটতে হবে। মোটা করে না কেটে চিকন করে কাটলেই ভাল হবে।
২.এবার আলুগুলোকে ধুয়ে ভাল করে পানি ঝড়াতে হবে।
৩.একটা কড়াইতে তেল দিয়ে ভাল করে গরম করতে হবে।
৪.আলুগুলোর মধ্যে সব উপকরন দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে গরম তেলে ছেড়ে দিতে হবে।
৫. মাঝারি আচেঁ আস্তে আস্তে ভাজতে হবে।বেশী আঁচে ভাজলে মচমচে হবে না।কর্নফ্লাওয়ারের কারনে আলুগুলো একটা আরেকটার সাথে লেগে যেতে পারে। তাই ঘন ঘন নেড়ে দিতে হবে।ঠিক মত হয়ে গেলে ফ্রেন্স ফ্রাই গুলো তেল থেকে উঠিয়ে পরিবেশন করতে হবে।