Wednesday, September 26, 2012

নয়া ফাঁদ ! সাবধান !

নয়া ফাঁদ ! সাবধান !

  “স্যার, এই কাগজটা ‘কী’, একটু দেইখ্যা দিবেন?
ভাড়া চুকিয়ে রিক্সা থেকে নামতে যাবো এমন সময় রিক্সাওয়ালা সবুজ রঙের একটি কাগজ এগিয়ে দিয়ে প্রশ্নটি করে।

২০ ডলারের একটি নোট। না, কোনো ভেজাল নেই, আসল-ই মনে হচ্ছে।

হেসে বললাম, এটা তো ডলার, ২০ ডলারের নোট। তুমি পেলে কোত্থেকে?

স্যার, ডলার কি?

ডলার হচ্ছে আমেরিকান টাকা। ২০ ডলারে অনেক টাকা। তুমি পেলে কোত্থেকে?

এক স্যারে খুশি হইয়া দিছে। স্যার এইটা দিয়া অনেক টাকা ক্যামনে পামু?

মে মাসের শেষের দিনের ঘটনা এটি। ভাবলাম, যে লোকই টাকাটা ওকে দিয়ে থাকুক, তার মনটা অনেক বড়। হয় তো কিছুক্ষণ আগেই বড় কোনো দান মেরেছেন তিনি, তাই খুশী হয়ে রিক্সাওয়ালাকে এত টাকা বকশিস দিয়েছেন।

রিক্সাচালককে বললাম, মানি এক্সচেঞ্জে যেতে হবে তোমাকে। বসুন্ধরা সিটির নিচের তলায় মানি এক্সচেঞ্জ আছে। ওখানে গেলেই তারা এটা ভাঙ্গিয়ে তোমাকে টাকা দেবে। এখন ডলারের রেট ৮১ টাকার মত। ২০ ডলার ভাঙ্গিয়ে ১৬২০ টাকা পাবে।

স্যার, আমি রিক্সাওয়ালা মানুষ। আমি গেলে ভেজাল করতে পারে। আপনিই এইটা রাইখা আমারে কিছু টাকা দেন।

আমি সতর্ক হয়ে উঠি। এসব তো পুরনো খেল। পিতলের টুকরোকে স্বর্ণের টুকরো বলে প্যাসেঞ্জারকে লোভের জালে ফেলে রিক্সাওয়ালাবেশি প্রতারকদের বাটপারির অনেক ঘটনা জানা আছে। ভালো করে তাকাই চালকের মুখের  দিকে। নাহ্‌, একেবারে সিধাসাদা আদমি। তারপরও সতর্ক হই। বলি,
না। এ মুহূর্তে আমার কাছে এক টাকাও নেই। তুমি অন্য কোথাও চেষ্টা কর।

স্যার, এক কাম করলে কিমুন অয়— আমি আপনারে রিক্সায় কইরা বসুন্ধরায় লইয়া যাই। হেইহানে আপনি এই টাকাটা আমারে ভাঙ্গাইয়া দেন। তারপর আমি আমার রিক্সায়ই আপনেরে এইহানে নামায়া দিয়া যামু।

নিজেকে আমি বোকা মনে করি না কখনোই। এছাড়া ডেয়ার-ডেভিল মাসুদ রানা না হলেও একেবারে ভীতু নই। সাত-পাঁচ চিন্তা করে সাহসেরই জয় হয়। বলি, চল। ধানমন্ডি ৯/এ সড়কে আমার বাসার সামনে থেকে ফের রিক্সায় উঠি।

বসুন্ধরা সিটিতে সহজেই টাকা ভাঙানো গেল। ডলারটায় কোনো ভেজাল নেই দেখে নিজের বিবেচনার ওপর ভক্তিটা আরও জোরালো হলো।

এরপর ফেরার পথে গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল রিক্সাওয়ালার সঙ্গে টুকটাক কথাবার্তা হয়। সে বারবার কৃতজ্ঞতা জানাতে থাকে। আমিও একজন রিক্সাওয়ালার উপকার করতে পেরে আনন্দিত মনে বাড়ি ফিরি। তার নাম সুলতান। বিদায় জানানোর আগে সে আমার সেল নাম্বার চেয়ে নেয়।

এরপর রাতেই রিক্সাওয়ালা সুলতান ফোন দিয়ে কুশল জিজ্ঞাসা করে। আমি খুশি হই। এরপর তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ জারি থাকে।

একদিন ফোন করে বলে, স্যার আমার কাছে ওই রকম টাকা আরও আছে।

মানে ডলার?
হ্যাঁ।
কোত্থেকে পেয়েছে? আবার সেই ভদ্রলোক দিয়েছে নাকি।

না স্যার। এইটা আসলে অন্য কাহিনী। আমি আপনারে টাকাগুলান দেহাইবার চাই।

চলে আস। আমার কর্মস্থলের ঠিকানা বলি তাকে।

না স্যার। আমি রিক্সাওয়ালা মানুষ হেই হানে এই লেবাস-সুরতে যাইবার পারুম না।

ঠিকই বলেছে। রিক্সাওয়ালা তো কি। সুলতান ব্যাটার কমন সেন্স আছে! আমি আবারও খুশি হই।

পরে সাব্যস্ত হয়, ইটিভি ভবনের পাশের গলিতে দেখা করবো। জায়গাটা আমার অফিস থেকে কাছে।

সুলতানের সঙ্গে আরও দু’জন আসেন। একজন তার সমবয়সী, নাম কামাল। সুলতান জানায় পেশায় ফেরিওয়ালা কামাল তার বস্তির পাশেই থাকে। আর অপরজন বয়সে তরুণ। কথাবার্তায় বিহারি টান। সুলতান বললো, সে থাকে চট্টগ্রাম। তবে নাম জানায়নি।

তারা একটি কাপড়ের ভেতরে মোড়ানো অনেকগুলো ডলার দেখায়। পুরনো নতুন মিলিয়ে ডলারগুলো এবারও আসলই মনে হলো।

জিজ্ঞেস করলাম, এগুলো কোত্থেকে পেয়েছো?

স্যার, টেকাগুলান এক মাউরা (মারোয়ারি) ব্যবসায়ীর। সে চিটাগাংয়ে রেল স্টেশন এলাকায় এক বাড়িতে থাকতো। একদিন ঘুমের মইধ্যে মারা যায়। তার মাথার বালিশের মধ্যে এই টেকাগুলান ছিল। তার বাড়িতে ঝি’র কাম করতো এক মাতারি। একদিন ঘর পরিষ্কার করার সময় বালিশটা ছিড়া যাওয়ায় ভিতর থেইকা একটা টেকা বাইর অইয়া আহে। মাতারি টেকাটারে পুরানা লটারির কাগজ মনে কইরা তার অল্প বয়েসি এই ভাইগনারে দেয় (বলে তরুণ ছেলেটাকে ইঙ্গিত করে)। পরে জানা যায় এইটা ডলার। তারপর মাউরা মারা যাওয়ার পর একদিন ওই বালিশটা নিয়ে চইলা আসে ওই মাতারি। ওই বাড়ির কেউ জানতো না এর ভেতরে যে ডলার ভর্তি।

ওই পোলাটা হইলো কামালের আত্মীয়। সেই এইগুলা আমগোর কাছে আনছে।

আমার কেমন কেমন অবিশ্বাস হতে থাকে। কিন্তু সুলতান যে সহজ সরল প্রকৃতির, আর আমাকে যে সম্মান করে, তাতে তাকে অবিশ্বাস করা যায় না।

জিজ্ঞেস করি, কতগুলি আছে নোট?

শ পাঁচেক।

মনে মনে হিসেব করি, তার মানে ৮ লাখ টাকার ওপরে!

জিজ্ঞেস করি, কি করবে?

স্যার হেই লেইগাই তো আপনের কাছে আইছি। আমরা গরিব-ধরিব মানুষ। ভদ্রলোকগো লগে কথা কইবার পারি না। কুনু জাগায় কথা কইতে গেলেই ধমকি-ধামকি দিয়া খেদায়া দিব। আপনি অহন আমগো মা-বাপ। আপনেই এইগুলান রাইখা দেন।

আমার কাছে তো এগুলো নেওয়ার মত অত টাকা নাই।

স্যার, আপনে ভালা মানুষ। আপনে আমগো ঠকাইবেন না হেইটা জানি। আপনে অর্ধেক দাম দিয়েন স্যার।

তারপরও আমি সর্বোচ্চ শ’দুয়েক নোট কিনতে পারবো এখান থেকে।

স্যার, আপনের লগে কুনু দরদাম নাই। আপনের যা দিবেন তাতেই আমরা খুশি।

আমার কাছে এখন টাকা নেই। কয়েকদিন সময় লাগবে টাকা বন্দোনস্ত করতে।

তাদের কাছে কয়েকদিন সময় চেয়ে নেই। বলি আমার অফিসে আসতে। সুলতান ফের আমাকে মনে করিয়ে দেয় তার লেবাস-সুরতের কথা। আমি লজ্জা পাই। তাই তো! তারা ওখানে কি করে আসবে? সেখানে তো সমাজের উচ্চস্তরের এলিটদের আনাগোনা।

পরে তারা প্রস্তাব দেয় টিএসসি’র সামনে হবে লেনদেন। অন্য যেখানেই বলি, তারা সমস্যা দেখায়। তবে সুলতান যেহেতু নির্ভেজাল সরল মানুষ, আমি তাদের কথায় সায় দিই। হোটেল রেস্টুরেন্ট বা অন্য যে কোনো জায়গায় ডলার বিনিময় ঝামেলার ব্যাপার। টিএসসি হচ্ছে নিরাপদ জায়গা।

এরপর কয়েকবার যোগাযোগ শেষে ঠিক হয় ৬ আগস্ট বেলা সাড়ে এগারোটায় টিএসসির সামনে সুলতান আসবে ডলার নিয়ে। আমি ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে যাবো।

সুলতান-কামাল এল সময় মতই। সঙ্গে বিহারী ছেলেটাও। আমিও ছিলাম আগে থেকেই। কামাল আর বিহারী ছেলেটা আমার সঙ্গে রিক্সায় উঠলো। সুলতান দাঁড়িয়ে রইলো একটু দূরে। ‌আমি ৯৫ হাজার টাকার বান্ডিল তাদের হাতে দিলাম। তারা কাগজের একটি প্যাকেট দিল। আমি খুলে ডলারগুলো দেখতে চাইলাম। ওরা বললো, স্যার এইখানে রাস্তায় খুইলেন না। ছিনতাইকারীর নজরে পইড়া যাইবেন। পুলিশও ঝামেলা পাকাইবার পারে। আমি কম সাবধানী লোক না। এতদিন সুলতান পার্টির সব কথায়ই সায় দিয়ে আসলেও এবার কাগজের প্যাকেট খুলে দেখতে চাইলাম।

প্যাকেটটি খুলতে শুরু করতেই হঠাৎ দু’জন একসঙ্গে রিক্সা থেকে লাফ দিয়ে নেমে দৌড় দিল। আমি চি‍ৎকার করে তাদের ডাকতে থাকলাম। তারা শুনলো না এবং কাছেই দাঁড় করানো একটি সিএনজিতে উঠে মিলিয়ে গেল চোখের সামনে থেকে।

তাদের আকস্মিক এ আচরণে বিস্মিত হই। পাগলের মত তাড়াহুড়ায় প্যাকেটটা ছিড়ে ফেলি। দেখি, প্যাকেট ভর্তি বাজে কাগজের টুকরা শুধু।”

কথা শেষ করলেন ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলের কর্মকর্তা জামাল সাহেব (ছদ্মনাম)। একটু বিরতি নিয়ে বললেন, বিষয়টি শেয়ার করলাম, যাতে আমার মত আর কেউ প্রতারকদের এরকম ধোঁকায় না পড়ে। রমজান মাস। ঈদকে সামনে রেখে এরকম ঘটনা নিশ্চয়ই আরও ঘটানোর চেষ্টা করছে প্রতারকরা। অনুরোধ করলেন, তার নাম পরিচয় যেন না প্রকাশ না করা হয়।

জিজ্ঞেস করলাম পুলিশ র্যাবকে জানিয়েছেন?

থানায় যাবো জিডি করতে। আর র্যাব-৩ কে ঘটনা জানিয়েছি। র্যাব কর্মকর্তা মেজর সাদিক জানিয়েছেন, এসব বিষয় তারা সেভাবে ডিল করেন না। তবে জিডি করে তার একটা কপি তাদের দিয়ে রাখতে বলেছেন। তারা চেষ্টা করবেন।

জামাল আরও বললেন, সুলতানের মোবাইলটা (০১৮৩৯-৭৬০২৬৫) এখনও মাঝেমধ্যে খোলা পাচ্ছি (সোমবার রাত সাড়ে ৯টা)। ফোন রিসিভ করলেও তারা উল্টাপাল্টা কথা বলছে। বলছে তারা কামরাঙ্গির চরে থাকে। সুলতান বা কামাল নামে কাউকে চেনে না।

আবার মাঝেমধ্যে সুলতান পরিচয় দিয়ে জিজ্ঞেস করছে- আমি কত টাকা দিয়েছিলাম? তারপরই ফোন কেটে দিচ্ছে।

অর্থা‍ৎ এই চক্রটি খুবই শক্তিশালী আর বেপরোয়া। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত সেলফোন বন্ধ করে দেয় দুর্বৃত্তরা। কিন্তু এক্ষেত্রে তারা ফোন বন্ধ করছে না।

জামাল আবারও বললেন, ভাই আমার নাম পরিচয় প্রকাশ করবেন না। বাড়িতে, বন্ধুমহলে আর অফিসে বেকায়দায় পড়তে পারি।

সবচেয়ে বেশি অনিদ্রায় ভোগেন বাংলাদেশি নারীরা

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি অনিদ্রায় ভোগেন বাংলাদেশি নারীরা


পৃথিবীতে বাংলাদেশী নারীরাই সবচেয়ে বেশি অনিদ্রায় ভোগেন। রোববার এ তথ্য জানিয়ে একটি গবেষণা জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে বৃটেনের একটি চিকিৎসা বিদ্যার প্রতিষ্ঠান। উন্নত দেশের ব্যস্ত ও নিঃসঙ্গ মানুষ অনিদ্রায় ভোগেন- এমন প্রচলিত ধারণায় এ জরিপ বড় ধরণের আঘাত। জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর লোকেরা তুলনামূলক বেশি অনিদ্রার রাত যাপন করেন। সম্প্রতি বৃটেনের ওরউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ওরইউক মেডিকেল স্কুল কর্তৃপক্ষ এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অনিদ্রা সমস্যা সম্পর্কে এ জরিপ চালিয়েছে।

গবেষনায় দেখো গেছে, বিশ্বজুড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ১৫ কোটি প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ ঘুম জনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে।

উন্নত বিশ্বের দেশ, যেমন আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ২০ শতাংশ মানুষ নিদ্রাহীনতায় ভোগেন। আর জরিপ চালানো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ১৬.৬ শতাংশ মানুষ অনিদ্রা জনিত নানা রোগে আক্রান্ত।সর্বশেষ এই গবেষণাটি চালানো হয় ঘানা, তানজানিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ায় এবং কেনিয়ায়। এসব দেশের ৫০ ঊর্ধ্ব ২৪,৪৩৪ জন মহিলা ও ১৯,৫০১ জন পুরুষের ঘুমের ধরনের ওপর চালানো হয় গবেষণা জরিপটি।গবেষণায় এসব মানুষের ঘুমের সঙ্গে সমাজের জনসংখ্যার ঘনত্ব, জীবন যাত্রার মান, স্বাস্থ্য ও মনোরোগ সংক্রান্ত অবস্থার আন্তঃসম্পর্ক খোঁজা হয়।

অনিদ্রা সমস্যার সঙ্গে দুশ্চিন্তা, উৎকণ্ঠার মতো মনোরোগগুলোর গভীর সম্পর্ক পাওয়া যায় গবেষণায়। তবে দেশভেদে উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোতে নিদ্রা সমস্যার বিরাট পার্থক্য লক্ষ করা যায়। যেমন বাংলাদেশে নিদ্রা সমস্যাটি খুবই প্রকট। যেমন বাংলাদেশে ৪৩.৯ শতাংশ নারী ও ২৩.৬ শতাংশ পুরুষ নিদ্রাহীনতায় ভোগে যা উন্নয়নশীলদেশগুলোর গড় পরিস্থিতিরও দ্বিগুণ।

ভিয়েতনামে ৩৭.৬ শতাংশ নারী এবং ২৮.৫ শতাংশ পুরুষ, তানজানিয়া, কেনিয়া, ঘানায় ৮.৩ শতাংশ থেকে ১২.৭ শতাংশ মানুষ নিদ্রাহীনতায় ভোগে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩১.৩ শতাংশ নারী ও ২৭.২ শতাংশ পুরুষ নিদ্রাহীনতায় ভোগে যা অফ্রিকার অন্যান্য দেশের দ্বিগুণ। তবে শান্তির ঘুম ঘুমায় প্রতিবেশি ভারত ও দ্বীপদেশ ইন্দোনেশিয়ার মানুষ। ভারতে ৬.৫ শতাংশ নারী ও ৪.৩ শতাংশ পুরুষ নিদ্রা সমস্যার মুখোমুখি হয়। অপর দিকে ইন্দোনেশিয়াতে ৪.৬ শতাংশ নারী ৩.৯ শতাংশ পুরুষের ঘুমে সমস্যা হয়।

গবেষক দলের সদস্য ড. সেব্রিও স্ট্রেঞ্জেস বলেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঘুমের সমস্যা আগে যেভাবে চিন্তা করা হতো এখন তা চিন্তার চেয়েও অনেক বেশি।”

বাংলাদেশী কন্যাশিশু বিদেশের যৌনপল্লীতে

৫ বছরে ৫ লাখ বাংলাদেশী কন্যাশিশু বিদেশের যৌনপল্লীতে পাচার

সেভ দ্য চিল্ড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইকেল ম্যাকগ্রাথ বলেছেন, গত ৫ বছরে প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশী কন্যাশিশু বিদেশের যৌনপল্লীতে পাচার করা হয়েছে। পাচারের পর যৌনকর্ম তাদের বাধ্য করা হয়েছে। ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করা হয়েছে ওই শিশুদের। তিনি বলেন, এদের মধ্যে ৩ লাখ শিশু ভারতে ও ২ লাখ শিশু পাকিস্তান যৌনপল্লীতে রয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ (এনএইচআরসি) আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল পিয়্যারইঅডিক রিভিউ : ফলো-আপ অন দ্য রিকমেন্ডেশনস অন চাইল্ড লেবার এন্ড ট্র্যাফিকিং’ শীর্ষক কর্মশালায় মাইকেল ম্যাকগ্রাথ এ কথা বলেন। গতকাল বুধবার গুলশানের ব্র্যাক ইন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য কাজী রেজাউল হকের সভাপতিত্বে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মিকাইল শিপার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব রোখসানা হোসেন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র সহকারী পরিচালক গীতা চক্রবর্তী, উদ্দীপনের নির্বাহী পরিচালক এমরানুল হক চৌধুরী, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ ও কমিশনের সদস্য অ্যাডভোকেট ফৌজিয়া করিম ফিরোজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মাইকেল ম্যাকগ্রাথ আরো বলেন, পাচার রোধে বাংলাদেশ সরকার চমৎকার সব পলিসি গ্রহণ করছে এবং দেশটির আধুনিক আইনও রয়েছে; কিন্তু তার যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটছে না। ফলে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে বেসরকারি সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান। ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শিশুশ্রম রোধের ব্যাপারে একটি স্ট্র্যাটিজি প্লান তৈরি করবে। এছাড়া মানবাধিকার কমিশন ভুক্তভোগী বা অপরাধী কিশোরদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে ইতিমধ্যে কিছু সুপারিশ পেশ করেছে। মাইকেল শিপার বলেন, শিশুশ্রম বিশ্বব্যাপী রয়েছে। এটা এখন আর্ন্তজাতিক সমস্যা। তবে বাংলাদেশে শিশুশ্রম রোধে সরকারের উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন নামে একটি প্রকল্প রয়েছে।

এর তৃতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ এখন চলছে। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ইতিমধ্যে ১৪ হাজার শিশুশ্রমিককে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে মুক্ত করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ৫০ হাজার শিশুকে স্কিল করে তোলা হবে। রোখসানা হোসেন বলেন, বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ শিশু পাচার হচ্ছে তার সিংহভাগ যাচ্ছে ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যে। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে গঠিত টাস্কফোর্সের কারণে বর্তমানে উভয় দিক থেকেই পাচার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের পুলিশ বাহিনীর মনিটরিং সেলের কারণেও এ ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া যাচ্ছে। অ্যাডভোকেট ফৌজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, অভিবাসনের আড়ালে পাচারের ঘটনা বেড়ে চলেছে। তাই শিশুশ্রম ও পাচার রোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর ফেয়ারনেস প্রতারণা !

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর ফেয়ারনেস প্রতারণা !

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী তাদের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করছে, শুধুই ক্রিম নয়, যেন ফেয়ানেস ট্রিটমেন্ট। নিউ ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী অ্যাডভান্সড মাল্টি ভিটামিনের বিজ্ঞাপনের অপরাংশে লেখা রয়েছে, নতুন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী এক্সপার্ট ফেয়ারনেস ট্রিটমেন্টের মতোই টার্গেট করে স্পটস, ডার্ক সার্কেলস, রোদে পোড়া, ফ্যাকাসে এবং শ্যামলা ভাবকে আর আপনাকে দেয় ট্রিটমেন্টের মতো ফেয়ারনেস প্রতিদিন। কিন্তু বিজ্ঞাপনের নিচেরাংশে স্টার চিহ্ন (শর্ত প্রযোজ্য অংশ) দিয়ে লেখা রয়েছে, ফেয়ারনেস ট্রিটমেন্ট বলতে কসমেটিক ডোমেইনের ট্রিটমেন্টের কথা বোঝানো হয়েছে এবং কার্যকারিতা ক্লিনিক্যাল বা ইনভ্যাসিভ স্কিন ট্রিটমেন্টের সঙ্গে তুলনীয় নয়। একই বিজ্ঞাপনে দুই ধরনের কথায় ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর ব্যবহারকারীরা ধীরে ধীরে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন এ পণ্যটি ব্যবহারে। বিষয়টিকে এক ধরনের প্রতারণা হিসেবেই দেখছেন তারা। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ব্যবহারকারী এবং ত্বক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্রিমটি ব্যবহারে প্রথমে ত্বকে ফেয়ারনেস ভাব আসলেও পরে ত্বক কালো হয়ে যায় এবং নানা সমস্যা দেখা দেয়।

রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় কথা হয় ফারজানা নামে একজনের সঙ্গে। তিনি জানান, একটানা ছয় সপ্তাহ তিনি ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ভালো ফল তো পাননি, উল্টো তার ত্বকে অনেক ব্রণ ফুটেছে এবং ত্বক আগের চেয়ে অনেক কালো হয়ে গেছে।

মতিঝিল এলাকায় সুমনা হক নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর ব্যাপারে অনেক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর বিজ্ঞাপনে যে ধরনের ভাওতাবাজির ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। আরও বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারাও ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে একই ধরনের মন্তব্য করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যেসব মডেল ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর বিজ্ঞাপন করেন, তাদের কেউই ক্রিমটি ব্যবহার করেন না। কারণ, তারা এর আসল রূপটি জানেন।

বিষয়টির ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল্লাহ সিকদার বলেন, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ব্যবহার করলে প্রথমে ত্বক ফর্সা হলেও পরে তা কালো হয়ে যায়। এটি ব্যবহারের কারণে পিগমেন্ট দেখা দেয়। গালের ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়ে যায়, যার কারণে ত্বকের কিছু অংশ পাতলা এবং কিছু অংশ মোটা হয়ে যায়। ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী ব্যবহারের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ত্বকে ব্রণ দেখা দেয় এবং ছোট ছোট গোটা হয়। এ ক্রিমটি ব্যবহারে ভালোর চেয়ে মন্দই বেশি হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিলীন হচ্ছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা

বিলীন হচ্ছে ঢাকার ঐতিহ্

Old-_Dhaka-_SaKiL_-_3
সাকিল আলম : ংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংস হচ্ছে ঢাকার পুরাকীর্তি হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ শতাধিক ঐতিহ্যবাহী ভবন। আইন করেও ঢাকার গর্ব হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এসব স্থাপনা রক্ষা করা যাচ্ছে না।
অবৈধ দখলদার ও ভূমিদস্যু চক্র নির্বিচারে একের পর এক ঐতিহ্য ধ্বংস করে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৯ সালে ঐতিহ্য সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন হয়েছে। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অবহেলাসহ নানা দুর্নীতির কারণে ঢাকার বুক থেকে একের পর এক ঐতিহ্য বিলুপ্ত হতে চলেছে।

lalbagh kella_পরি বিবির সমাধি

ঢাকা সিটি করপোরেশন, রাজউক ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগসূত্রে জানা যায়, মহান স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত পুরনো ঢাকাসহ রাজধানীতে সহস্রাধিক কারুকাজ মন্ডিত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। গত দশ বছরে বিনাশ করা হয়েছে আরো শতাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এরকম আরো শতাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার আশংকা করা হচ্ছে। ঐতিহ্য বিনাশ রোধে সরকার তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

lalbagh kella_লালবাগ কেল্লা

অতিসম্প্রতি ঢাকা সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সরকার একাধিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি হেরিটেজ কমিটি গঠন করেছে। কমিটি পুরনো ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত প্রাচীন ভবনগুলোকে হেরিটেজ হিসাবে চিহ্নিত করে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসির ভিতর শিব মন্দির, লালবাগ কেল্লা, জাতীয় তিন নেতার মাজার, ছোট কাটারা, বড় কাটারা, শাহবাজ খান মসজিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রূপলাল হাউজ, ঢাকা ব্রাহ্ম সমাজ মন্দির, নবাব বাড়িসহ ৯৩টি ঐতিহ্যবাহী ভবনকে চূড়ান্তভাবে হেরিটেজ তালিকাভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত স্থাপনাগুলো দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা পাঠানো হলেও সংস্কারের ব্যাপারে এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

bara katra_বড় কাটরা

অবশ্য ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাককে বলেন, ঢাকার ঐতিহ্য রক্ষায় ইতিমধ্যেই সরকারের উচ্চ মহল থেকে তাগিদ এসেছে। ঢাকার আদি ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন,  রাজউক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী ঐতিহ্য সংরক্ষণের কাজ চলছে। কিন্তু সরেজমিনে পরিদর্শনে এ বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

turag bridge_তুরাগ সেতু

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার অন্যতম হচ্ছে রূপলাল হাউজ। সরকারিভাবে এই স্থাপনাটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সম্পদ ঘোষণা করা সত্ত্বেও তা দীর্ঘকাল ধরে বেদখল হয়ে রয়েছে। রূপলাল হাউজকে ঘিরে শতাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে জামান হাউজ, জনতা কৃষি পণ্য বিপণন কেন্দ্র, বৈশাখী বাণিজ্যালয়, আরাফাত ট্রেডার্স, মেসার্স ঢাকা-বাংলা আড়ত্, রাশেদ বাণিজ্যালয়, ইউনাইটেড ট্রেডার্স প্রভৃতি।  এছাড়া তিনতলা ভবনের একাংশে আর্মি স্টাফ কোয়ার্টার গড়ে তোলা হয়েছে।

katra masjid_ছোট কাটরা
ইতিমধ্যেই রূপলাল হাউজের সাইনবোর্ড পাল্টে জামান হাউজের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় জাদুঘর স্থাপিত সাইনবোর্ডটি অপসারণ করা হয়েছে। রূপলাল হাউজের দখলদার জামান হাউজের বাসিন্দাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
north brook hall_নর্থব্রুক হল লাইব্রেরি

এদিকে ঐতিহ্যবাহী ভবন সংরক্ষণের খবরে পুরনো ঢাকায় একাধিক প্রভাবশালী মহল আদি ঐতিহ্য বিনাশে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা রাতারাতি একাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস করে তাতে বহুতল ভবন গড়ে তুলছে। রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা বলেন, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাড়ি ও স্থাপনা রক্ষার দায়িত্ব সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সমাজ সচেতন মানুষের। তিনি বলেন, অতীতে নির্বিচারে বহু হেরিটেজ ধ্বংস করা হয়েছে। আগামীতে আর যাতে কোনো ঐতিহ্য ধ্বংস করার সাহস কেউ না পায় সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঐতিহ্য বিনাশকারী ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজউক মামলা করেছে। ঢাকার ঐতিহ্য বিনাশের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত একাধিক ডেভেলপার কোম্পানির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। শীঘ্রই এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে রাজউক। রাজউকের চেয়ারম্যান আরো বলেন, ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের। নগরীর ঐতিহ্য রক্ষায় রাজউক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছে।

pagla bridge_পাগলার পুল

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঐতিহ্য বিনাশকারীরা কোনো দোহাই মানছে না। তারা ডিসিসি কিংবা রাজউকের দেয়া নোটিসকে মোটেও আমলে নিচ্ছে না। ইতিমধ্যেই শাঁখারী বাজারের হেরিটেজভুক্ত ১৪ নম্বর বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সুত্রাপুরের বড় বাড়িটির সিংহভাগই ধ্বংস করা হয়েছে। মোগল আমলের স্মৃতিবাহী বংশাল মুকিম বাজার জামে মসজিদ, সিদ্দিক বাজার জামে মসজিদ সংস্কারের নামে ধ্বংস করা হয়েছে। সিংটোলায় দুইশ বছরের পুরনো আরেকটি স্থাপনা বিনাশ হয়েছে। এছাড়া হেরিটেজভুক্ত তাঁতীবাজার জগন্নাথ মন্দির, ফরাশগঞ্জ বড় বাড়ি। কোতোয়ালির ২৭/২ নম্বর বাড়ি, সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল বিল্ডিং, গোয়াল নগরের ২টি বাড়ি, শাঁখারী বাজার ১১৮ নম্বর বাড়ি, রাধিকা মোহন বসাক লেনের ২১ নম্বর বাড়ি ইতিমধ্যেই ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। এসব স্থাপনা রক্ষায় সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও রাজউক ও ডিসিসির কর্মকর্তারা রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছে। অনেকক্ষেত্রে এদের নীরবতা ঐতিহ্য ধ্বংস সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করছে।

stemar ghat_ahasan manji_আহসান মঞ্জিল

তবে ঐতিহ্যবাহী এসব স্থাপনার মালিকও ভবনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। কোনো ধরনের অধিগ্রহণ ছাড়াই পুরনো ঢাকার শতাধিক বাড়িঘর, স্থাপনা হেরিটেজ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিজ ভূমে পরবাসের মতোই এখন আমাদের জীবন। বাড়ির চুনকাম করতেও সরকারের অনুমতি লাগে। রাধিকা মোহন বসাক লেনের বাসিন্দা বিশখা রানী সরকার বলেন, তাদের পৈতৃক ভিটামাটিতে সরকারের অনুকম্পা নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে। কথায় কথায় পুলিশ আসে। আসে রাজউক ও ডিসিসি’র কর্মকর্তারাও। এদের সবার দাবি হেরিটেজ ভবনগুলো বাজার দর মোতাবেক উপযুক্ত ক্ষতিপূরণসহ অধিগ্রহণ করা হোক। একইসঙ্গে তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনেরও দাবি জানিয়েছেন।

chawlk bazar sahi masjid_চকবাজার

আরবান স্টাডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্থপতি তাইমুর ইসলাম বলেন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ কার্যক্রমকে জোরদার ও গতিশীল করতে হবে। তিনি ইমারত নির্মাণ বিধিমালা আইন কার্যকর ও হেরিটেজ ভবনগুলো সংরক্ষণের দাবি জানান।
seven pagoda mosque_সাতগম্ভুজ মসজিদ

পুরনো ঢাকার ছোট কাটারা, বড় কাটারা, লালবাগ কেল্লা, রূপলাল হাউজসহ শতাধিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা পুরাকীর্তি হিসাবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সম্পদ হিসাবে নথিভুক্ত রয়েছে। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হেরিটেজ ভবনের দুইটি তালিকা রয়েছে। প্রথমটিতে ১১২ ও দ্বিতীয় তালিকায় ৩২টি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার নাম রয়েছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বেশকিছু ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দখল করে মাদ্রাসা, আড়তসহ নানা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এই অমূল্য সম্পদগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বাকি স্থাপনাগুলোর প্রতিও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

pari bibir mosuque_পরি বিবির সমাধি
লালবাগ কেল্লা ঢাকা
লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র মুহাম্মদ আজম শাহ। তিনি ১৬৭৮ সালের ২৯ জুলাই বাংলার সুবাদার হিসেবে ঢাকায় আসেন। মাত্র এক বছর তিনি সুবাদার ছিলেন। এর মধ্যেই তিনি বুড়িগঙ্গার তীরে এক প্রাসাদ দুর্গ নির্মাণের কাজে হাত দেন। পিতার নামানুসারে এর নাম রাখেন 'কিল্লা আওরঙ্গাবাদ'। পরবর্তী সময়ে নামকরণ হয় লালবাগ কেল্লা। হয়তো এ এলাকায় লাল গোলাপের বাগান ছিল, সেই থেকে এলাকার নাম এবং এলাকার নামে কেল্লার নাম।
মারাঠাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য আজম শাহকে চলে যেতে হয়। তিনি নতুন সুবাদার শায়েস্তা খাঁকে কেল্লাটির কাজ শেষ করার অনুরোধ করে যান। শায়েস্তা খাঁ কেল্লাটি সম্পূর্ণ করতে না পারলেও কন্যা পরীবিবির সমাধি ভালোভাবেই শেষ করেছিলেন। পরীবিবির মাজার ছাড়াও কেল্লার অভ্যন্তরে আছে একটি হাম্মামখানা (গোসলখানা), একটি মসজিদ ও একটি পুকুর। ১৮৫৭ সালে এ কেল্লায় সিপাহিদের সঙ্গে ব্রিটিশ নৌসেনাদের লড়াই হয়। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের সংরক্ষিত প্রত্নসম্পদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে কেল্লায় যেতে রিকশা ভাড়া ১৫ টাকা।



আহসান মঞ্জিল


alt
পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিল বা নবাব বাড়ি সে এক অতীত ঐতিহ্য এ কথা সবার জানা। আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে যারা জানেন তাদের কাছে নতুন করে পরিচয় দেওয়ার কিছু নেই। আজ আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি তা-ই যথেষ্ট নয়। এর পিছনে লুকিয়ে আছে নবাব বাড়ির এক অন্ধকার অধ্যায়।

নবাব বাড়ির নবাব কি সত্যি নবাব ছিলেন? এর উত্তরে হয়তো সবাই বলবেন, অবশ্যই খাজা আবদুল গনি। কিন্তু কোথায় পেলেন তিনি এই নবাব খেতাব আর এই বাড়িটি তিনি কেনেন কোথা থেকে_ এসব জানতে হলে আপনাকে যেতে হবে সুদূর অতীতে।

প্রাণেশ সমাদ্দারের কিশোর ইতিহাস 'সিপাহী বিদ্রোহে ঢাকা' বইটিতে আহসান মঞ্জিল তথা নবাব বাড়ির আদি কথা তুলে ধরা হয়েছে। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের জুন মাস উত্তাল সারা ভারত। ইংরেজ বেনিয়া শাসককুল ঢাকায় বিদ্রোহ থামাতে অত্যন্ত সচেতন, কিন্তু ঢাকার সিপাহীদের থামাতে চাই ভিন্ন কৌশল। কারণ সিপাহীদের সদর কেন্দ্র জলপাইগুড়ি থেকে বিদ্রোহের খবর এসেছে। সদর কেন্দ্র বিদ্রোহী হলে ঢাকাকে রক্ষা করা যাবে না। তাই ইংরেজ জাত বাঁচানোর তাগিদে ৩০ জুলাই ঢাকা কলেজে এক সভা ডাকেন। (বাহাদুর শাহ পার্কের ঠিক পশ্চিমে যা বর্তমানে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে পরিণত হয়েছে) সে সভায় সাদা জাতির তীক্ষ্ন বুদ্ধি থেকে বের হয় এক নতুন ষড়যন্ত্র। ঢাকার বিদ্রোহ দমাতে চাইলে, এদের শায়েস্তা করতে হলে একজন 'গাদ্দার' রেব করতে হবে। যাকে কেনা যাবে টাকা ও সম্পদের মোহ দিয়ে। অতি অল্প সময়ে পাওয়া গেল একজন সম্ভ্রান্ত নাগরিককে। সেই নাগরিক হলেন ঢাকার নবাব খাজা আবদুল গনি। এই সেই আবদুল গনি, ঢাকার উন্নয়নকল্পে তার অবদান অস্বীকার করা যায় না। তিনি মূলত ছিলেন চামড়া ব্যবসায়ী। ব্যবসায়িক কারণে ইংরেজদের সঙ্গে যোগযোগ প্রায়ই হতো। ফলে তাকে বাগে পেতে খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি ইংরেজদের। দেশবাসীর প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার জন্য কোম্পানি বাহাদুর এনাম হিসেবে দিলেন নবাব এবং পরবর্তী সময়ে স্যার (কেসিএসআই) উপাধি। বেইমানির পুরস্কার হিসেবে তিনি ঢাকায় এক বিরাট ভূখণ্ড চিরস্থায়ী লিজ পান। এ ভূখণ্ডটিতে কোম্পানি বাহাদুর নবাব আবদুল গনির পুত্র আহসানের নামে এই ঐতিহাসিক আহ্সান মঞ্জিলটি গড়ে দেন। মূলত এ মঞ্জিলটি তৈরি হয়েছিল ইংরেজদের দুর্গ হিসেবে, পরে তা নবাব আব্দুল গনিকে এনাম হিসেবে দেওয়া হয়।

ইংরেজ জাতির চামচা হওয়ার ফলে 'নবাব' উপাধিও হয়ে যায় বংশগত উপাধি। ফলে বংশানুক্রমে নবাব আহসানউল্লাহ, নবাব সালিমুল্লাহ, নবাব হাবিবউল্লাহ আরো অনেকে নবাব উপাধি বহন করে এসেছেন। ঢাকার প্রকৃত ও আদি নবাবের বাড়ি ছিল ঢাকার নিমতলীতে। তাই তারা আবদুল গনিকে কাগুজে নবাব বলতেন। (শতবর্ষের ঢাকা : আহমেদ মীর্জা খবীর), এদিকে খাজা আবদুল গনি প্রচার করতে থাকেন খাজা আলিমউল্লাহ ১৮৩৫ সালে ফরাসি কুঠিয়ালদের কাছ থেকে এ বাড়ি কিনেছিলেন। তারপর থেকে সবাই জানে আহসান মঞ্জিলের সব বংশধর নবাব ছিলেন। এখন কথা হচ্ছে, '৪০০ বছরের ঢাকার ইতিহাস' এবং 'সিপাহী বিদ্রোহে ঢাকা' এ দুটি বইতে আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা বিতর্কিত। কারণ, দুটি অতীত ইতিহাস ভিন্নরকম, প্রমাণ দেওয়া কঠিন আসল সত্য কোনটি। তবে মিথ্যা সত্যকে কখনোই পরাজিত করতে পারে না।


কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: হোসেইনী দালান



Hossaini Dalan Dhaka

হুসেনী দালান বা হোসেইনী দালান (Hossaini Dalan) হচ্ছে শিয়া সম্প্রদায়ের মহররম উৎসবের কেন্দ্র ইমামবাড়া। আক্ষরিক অর্থে ইমামবাড়া বলতে ইমামের বাড়িকে বুঝায়। কিন্তু স্থাপত্যিক অর্থে ইমামবাড়া হলো একটি শিয়া মিলনায়তন যেখানে মহানবীর দৌহিত্র হযরত হোসাইনের মৃত্যু দিবস বা আশুরার উদযাপন পালিত হয়। মহরম মাসের ১০ তারিখে ইমাম হোসাইন শাহাদত বরণ করায় ঐ দিনটিকে শিয়া সম্প্রদায় সমগ্র বিশ্বে আশুরা বা শোকের দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। এই দিনে ইমামবাড়ায় কোরান পাঠ, কারবালার শোক গাথার বর্ণনা, মাতম বা বুক চাপড়িয়ে শোক প্রকাশ এবং মিলনায়তন থেকে তাজিয়া আনা-নেয়া হয়।

Hossaini Dalan Dhaka
বর্তমানে পুরনো ঢাকায় অবস্থিত যে ইমারতটি হুসেনী দালান নামে পরিচিত, তা মোগল সুবাদার শাহ সুজার আমলে নির্মিত হয়। সৈয়দ মুরাদ, নামান্তরে মীর মুরাদ, নামে জনৈক ব্যক্তি এটি নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়। জনশ্রুতি আছে যে সৈয়দ মুরাদ স্বপ্নে হযরত হোসাইনকে তাজিয়া নির্মাণ করতে দেখে এই তাজিয়াখানা নির্মাণ করেছিলেন, এবং তাকে হোসাইনী দালান হিসেবে নিজেই নামকরণ করেন।
Hossaini Dalan Dhaka
মূল ইমারতটি ডয়লী’র চিত্রে একটি চমৎকার মোগল স্থাপত্য হিসেবে দর্শিত হলেও পরবর্তী সংস্করণে তাকে বর্তমান ঔপনিবেশিক নিদর্শনে রূপান্তরিত করা হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৮০৭ ও ১৮১০ সালে ইমারতটিতে সংস্কারসাধন করলেও বর্তমান দালানটি ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পের পরবর্তী নির্মাণেরই ফসল। ভূমিকম্পে দালানটি ক্ষতিগ্রস্ত  হলে নবাব আহসানউল্লাহ তা আবার সংস্কার করে দিয়েছিলেন।
Hossaini Dalan Dhaka
জানা যায়, ঢাকার সবচেয়ে পুরনো হুসেনী দালান বা ইমামবাড়া ছিলো ফরাশগঞ্জে বিবি কা রওজা মহল্লায়। ইসলাম খাঁর ঢাকায় পদার্পণের আগে জনৈক আমীর খান ১৬০০ সালে তার নির্মাণ করেছিলেন। ১৮৬১ সালে আর, এম, দোসানজী এটি আবার সংস্কার করেছিলেন। তবে ইমামবাড়া হিসেবে বর্তমানে পুরনো ঢাকার এই হুসেনী দালানই সমধিক পরিচিত স্থাপনা।
Hossaini Dalan Dhaka

Monday, September 24, 2012

বাজারে কৃত্রিম ডিম বিক্রির আতংকে ক্রেতারা

দেশে ডিম পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই  
এম এ বাবর:
বাজারে কী ধরনের ডিম বিক্রি হচ্ছে ও ভোক্তা কোন প্রাণীর ডিম খাচ্ছেন তা নিরূপণের ব্যবস্থা নেই বাংলাদেশে। এদিকে দেশে ডিম আমদানি প্রক্রিয়া উম্মুক্ত করায় ক্রেতাদের মধ্যে কৃত্রিম ডিম বিক্রির আতংক বিরাজ করছে। ফলে শিশুখাদ্যের তালিকায় ডিম কিনতে যথারীতি হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতা সাধারণ।  

সম্প্রতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট মর্নিং নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, চীনের তৈরি কৃত্রিম ডিম চোরাইপথে বাংলাদেশে ঢুকছে। যা দেখতে অবিকল হাঁস মুরগির ডিমের মতো। মানব দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর এসব ডিম মায়ানমারের বিভিন্ন সীমান্ত পথে চীন থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে।


অন্যদিকে সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শক কামরুল হাসান রাজধানীর আগা সাদেক রোডের  মিরজল­া বাজার থেকে ৮টি হাঁসের ডিম কেনেন। ওই ডিম থেকে ৪টি ডিম ভাঙলে ভেতরে দেখা যায় কুসুমের চারদিকে স্বচ্ছ জলীয় অংশের পরিবর্তে গোলাপী জলীয় অংশ রয়েছে।


ডিমগুলো আদৌ হাঁসের ডিম কিনাÑ তা পরীক্ষার জন্য ভাঙা ডিমসহ ভালো ৪টি ডিম কেন্দ্রীয় প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগার কেন্দ্রে পাঠান। এছাড়া কোন প্রাণীর ডিম তা পরীক্ষায় মাধ্যমে জানার জন্য ডিএসসিসির পক্ষ থেকে বিএসটিআই ও সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে যোগাযোগ করা হয়। বিএসটিআই ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি কর্তৃপক্ষ ডিসিসিকে জানায় তাদের ল্যাবে ডিম পরীক্ষার কোনো সুযোগ নেই।
কেন্দ্রীয় প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লিখিতভাবে ডিসিসিকে জানায় ‘ডিমগুলো কোন প্রাণীর তা পরীক্ষার কোনো সুযোগ না থাকায় এ বিষয়ে কোনো মতামত দেয়া সম্ভব নয়।’


যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত ‘দ্য ইন্টারনেট জার্নাল অফ টক্সোকোলজি’তে কৃত্রিম ডিম সম্পর্কে বিশে­ষণধর্মী এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে ২০০৪ সাল থেকেই তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম ডিম। কৃত্রিম ডিমে কোনো খাদ্যগুন ও প্রোটিন নেই। বিশেষজ্ঞরা জানান, চীনে তৈরী হওয়া এসব কৃত্রিম (নকল ডিম) এক কথায় বিষাক্ত। কৃত্রিম ডিম তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট, স্টার্চ, রেসিন, জিলেটিন মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এ ধরনের ডিম খেলে স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। ক্যালসিয়াম কার্বাইড ফুসফুসের ক্যান্সারসহ জটিল রোগের কারণ।


দ্যা স্টার ডট কম-এ কৃত্রিম ডিম প্রস্তুত প্রনালীতে সম্পর্কে বলা হয়, কুসুম ও সাদা অংশের সময়ে কৃত্রিম ডিম তৈরি করতে প­াস্টিকের ছাঁচ ব্যবহৃত হয়। তবে তার আগে কুসম তৈরি করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে। সরাসরি ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ও কালারিং ডাই দিয়ে লাল বা গাঢ় হলুদ রংয়ের কুসুম তৈরি করা হয়। তার ওপর অতি পাতলা স্বচ্ছ রাসায়নিকের আবরণ তৈরি করা হয়। যাতে কুসুম ও সাদা অংশ এক না হয়ে যায়। সাদা অংশ তৈরিতে ব্যবহার হয় ক্যালসিয়াম কার্বনেট, স্টার্চ, রিজিন জিলাটিন ও এলাম। প­াস্টিকের ছাঁচ ডিমের সাদা অংশ তৈরি করে তার মাঝখানে ডিমের কুসুম তৈরি করা হয়। শেষ ধাপে ডিমের উপরের শক্ত খোলস তৈরিতে করা হয়। এর জন্য ব্যবহার করা হয় ওয়াক্স এর মিশনখানে ব্যবহার করা হয় প্যারাফিন, বেনজয়িক এসিড, বেকিং পাউডার, ক্যালসিয়াম কার্বাইড। সাদা অংশকে ওয়াক্সের দ্রবণে কিছুক্ষণ নাড়ানো চাড়ানো হয়। বাইরে  থেকে ¯^ল্প তাপ প্রয়োগ করা হয়। এতেই তৈরি হয়ে যায় আসল ডিমের ডিমের মতো হুবহু নকল ডিম।

বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় প্রাণিরোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. বিধান কুমার দাস বলেন, তাদের ল্যাবে ডিম পরীক্ষা করে কোন প্রাণীর ডিম তা বের করা সম্ভব নয়। ডিমের ভেতের কী কী উপদান আছে পরীক্ষার মাধ্যমে শুধু তাই নিরূপণ করা সম্ভব। এমনকি তার জানা মতে বাংলাদেশে কোনো পরীক্ষাগার নেই যে, ডিম পরীক্ষা করে কোন প্রাণীর ডিম তা বের করা সম্ভব।
বাজার থেকে সংগ্রিহীত ডিমে কোন ধরনের সমস্য দেখা গেলে তাদের অবহিত করা পরামর্শ দেন তিনি। এ বিষয়ে পরীক্ষা করে আসল ডিম কি নকল ডিম বা কোন জীবাণু আছে কিনা তা নির্ণয়ে সাধ্যমত চেষ্টা করবেন তারা। 


উলে­খ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গত ১৬ সেপ্টে¤^র এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাঁস-মুরগি ও পাখির ডিম, হ্যাচিং ডিম ও একদিনের মুরগি বাচ্চা আমদানির ক্ষেষত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন হবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যায় এসব ডিম অবাধে আমদানি করা যাবে।

Thursday, September 20, 2012

খুচরা বিদ্যুতের দাম ১৫% বেড়েছে
Thu, Sep 20th, 2012 4:52 pm 
 
 
ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিদ্যুতের দাম খুচরা পর্যায়ে প্রায় ১৫ শতাংশ এবং পাইকারিতে ১৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

বর্ধিত এই মূল্যহার ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন জানিয়েছেন।


এর অর্থ হচ্ছে, আগামী মাসে বিদ্যুতের বিল নতুন হারেই পরিশোধ করতে হবে।


বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্ল্যাব তিনটিকে ভেঙে ছয়টি করা হয়েছে। তবে প্রথম স্ল্যাবের পরবর্তী প্রতিটি স্ল্যাবের গ্রাহকরা পূর্ববর্তী স্ল্যাবের বিল সুবিধা পাবেন।


সর্বশেষ গত ২৯ মার্চ বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম প্রতি ইউনিটে যথাক্রমে গড়ে ২৮ পয়সা এবং ৩০ পয়সা করে বাড়ানো হয়। গত ১ মার্চ থেকে এই দাম কার্যকর হয়।


ইউসুফ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ছয় টাকা তিন পয়সা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমরা তা প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়িয়ে চার টাকা দুই পয়সা থেকে চার টাকা ৭০ পয়সা করেছি।”


পাইকারিতে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধির পরও চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৩ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা র্ভর্তুকি লাগবে বলে জানান বিইআরসি চেয়ারম্যান।


বিইআরসির হিসাবে, ভর্তুকি ছাড়া প্রতি কিলোওয়াট পাইকারি বিদ্যুতের দাম পড়ে ৬ টাকা ৮৭ পয়সা।


ছয়টি স্ল্যাব বিন্যাস করে পল্লী বিদ্যুৎ ও অন্যান্য গ্রাহকদের জন্য ভিন্ন ধরনের দাম বাড়ানো হয়েছে।


পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের জন্য ছয়টি স্ল্যাবে বিদ্যুতের মূল্যহার হল- শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত (প্রতি ইউনিট তিন টাকা ৬৬ পয়সা), ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত (চার টাকা ৩৭ পয়সা), ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত (চার টাকা ৫১ পয়সা), ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত (সাত টাকা ১০ পয়সা), ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত (সাত টাকা ৪০ পয়সা) এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি পর্যন্ত (নয় টাকা ৩৮ পয়সা)।


অন্যান্য বিতরণকারী সংস্থার গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের মূল্যহার হলো- শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত (তিন টাকা ৩৩ পয়সা), ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত (চার টাকা ৭৩ পয়সা), ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত (চার টাকা ৮৩ পয়সা), ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত (চার টাকা ৯৩ পয়সা), ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত (সাত টাকা ৯৮ পয়সা) এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি পর্যন্ত (নয় টাকা ৩৮ পয়সা)।


কৃষিতে ব্যবহারের জন্য পল্লী বিদ্যুতে ১১ শতাংশ বেড়ে তিন টাকা ৭৬ পয়সা এবং অন্যান্য বিতরণকারী সংস্থার গ্রাহকদের জন্য ১১ দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়ে দুই টাকা ৫১ পয়সা হয়েছে।


শিল্পে ব্যবহৃত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।


বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে ইউসুফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডের কথা বাদই দিলাম। আমাদের পাশের পশ্চিমবঙ্গেও বিদ্যুতের দাম আমাদের চেয়ে বেশি।”


বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছয়দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পর গত জুন মাসে আবার দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।


ওই প্রস্তাবে পাইকারি দাম ৫০ শতাংশ এবং খুচরা দাম কোম্পানি ভেদে ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। এ প্রস্তাবের ওপর ১৬ জুলাই বিইআরসিতে গণশুনানি হয়।


এরপর গত ২৬ জুলাই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য সংবাদ সম্মেলন ডেকেও পরে তা বাতিল করেছিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।


বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/আরবি/এমআই/১৮৩৫ ঘ.

Sunday, September 9, 2012

মোবাইল ফোনের সিম ক্লোন করে জালিয়াতি!

সিম ক্লোন করে একই নাম্বার অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারে। পেয়ে যেতে পারে ওই মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত সব তথ্য, নাম্বার ও এসএমএস। তাই অপরিচিত নাম্বার থেকে আসা মিসড কল ব্যাক না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সিম ক্লোন করে একই নাম্বার অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারে। পেয়ে যেতে পারে ওই মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত সব তথ্য, নাম্বার ও এসএমএস। তাই অপরিচিত নাম্বার থেকে আসা মিসড কল ব্যাক না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। 


একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান একটি জনপ্রিয় মোবাইল ফোন অপারেটরের সিম ব্যবহার করেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এই দীর্ঘ সময়ে নেটওয়ার্কসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে টুকটাক সমস্যা বোধ করলেও মোবাইল ফোন থেকে টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয় কখনই খেয়াল করেননি। কিন্তু গত সপ্তাহে হঠাৎ তার ফোন থেকে ৪২ টাকার ব্যালেন্স ফুরিয়ে যায়। আগে দু-একবার এমন হলেও তিনি বিষয়টি পাত্তা দেননি। ফোন অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করা হলে মাসুদ সাহেবকে জানানো হয়, তার ফোন থেকে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মাসুদ সাহেব জানান, তিনি কথা বলেননি। তার ডায়াল নাম্বারেও কারো নাম্বার নেই। পুরো ঘটনাটির কোনো কূলকিনারা বুঝে উঠতে পারেননি তিনি। পরে এক আইসিটি ও টেলিকম বিশেষজ্ঞ বন্ধুর কাছ থেকে বুঝতে পারেন পুরো বিষয়টি।


সাম্প্রতিক ওয়েবসাইট হ্যাক করার ঘটনা প্রচুর ঘটলেও মোবাইল ফোনের সিম হ্যাক করার ঘটনা একেবারেই নতুন। মূলত এক শ্রেণীর অপরাধী এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। অনেকে আবার মজার ছলেও এ ঘটনা ঘটাচ্ছে। মোবাইল ফোনের একই নাম্বার ও তথ্যাদি ব্যবহার করে নকল কোনো ইউজার ওই সিমটির সুবিধা নিলে বিষয়টিকে বলা হচ্ছে ক্লোনিং। উইকিপিডিয়ার সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘ক্লোন’ হলো কোনো জীব বা কোষ বা বৃহৎ জৈব অণুর হুবহু নকল। ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডের গবেষক ড. আয়ান উইলমুট প্রথমে একটি ভেড়ার ক্লোনিং করেন।

কিন্তু মোবাইল ফোনের সিম ক্লোনিং করার ঘটনা বাংলাদেশে একেবারেই নতুন একটি বিষয়। বাংলাদেশের আইটি, টেলিকম ও আইসিটি বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি মোটামুটি জানলেও মোবাইল সিম ক্লোনিং ঘটনা খুব একটা বেশি নয় বলে মনে করেন। মোবাইল ফোন অপারেটররাও জানিয়েছেন, তাদের কাছে এ বিষয়ে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে সত্যি সত্যিই মোবাইল ফোন সিম ক্লোনিংয়ের মতো ঘটনা যদি বেশি মাত্রায় ঘটেÑ সে ক্ষেত্রে ভয়াবহ ধরনের ভার্চ্যুয়াল অপরাধ ঘটে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা।

মোবাইল ফোন হ্যাকিং বা ক্লোনিংয়ের বিষয়ে গতকাল শনিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা ডয়চেভেলে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের সিম ক্লোন করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন গোয়েন্দারা। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, জঙ্গিসহ সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ক্লোন

করা সিম ব্যবহার করতে পারে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসিডিবি) মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, তারা এই ক্লোন্ড সিম সম্পর্কে সচেতন আছেন। ক্লোন্ড সিম ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কাজ করা সম্ভব। তাই এ ব্যাপারে গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে বিটিআরসি এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান ডিসিডিবি মনিরুল।

তবে মোবাইল ফোন অপারেটররা দাবি করছেন, তারা এখনো এরকম কোনো অভিযোগ পাননি। বাংলাদেশে ৬টি মোবাইল ফোন অপারেটরের এখন গ্রাহক সংখ্যা ৯ কোটি ৩০ লাখ। মোবাইল ফোনের গ্রাহক দিন দিন বাড়ার পাশাপাশি সচেতনতার অভাবে ঝুঁকিও বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন ডয়চেভেলেকে বলেন, পরিমাণে কম হলেও বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের সিম ক্লোন করা হচ্ছে। সচেতন না হলে তা আরো বেড়ে যেতে পারে।  তিনি বলেন, প্রচারণার অভাবে গ্রাহকরা ক্লোন করা সিম সম্পর্কে তেমন সচেতন নন। মোবাইল ফোনের ব্যালেন্স হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া অথবা একই ফোন নম্বর দুজন ব্যবহার করলে বুঝতে হবে সিম ক্লোন হয়েছে। আর এখন মূল সিম ছাড়াই কম্পিউটারের মাধ্যমে মিসড কল দিয়ে সিম ক্লোন করা সম্ভব। কোনো গ্রাহক যদি অপরিচিত ফোন থেকে পাওয়া মিসড কলে কল ব্যাক করেন তাহলে তার সিম ক্লোন হয়ে যেতে পারে বলে জানান জাকারিয়া স্বপন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোনের সিমের সঙ্গে ফোন সেটটিও ক্লোন হতে পারে। আর সেট ক্লোন হলে মেমোরিতে থাকা সব তথ্য চলে যেতে পারে অন্যের হাতে। তাই অপরিচিত মোবাইল ফোন থেকে আসা মিসড কলের জবাব দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য মোবাইল ফোন গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে ইন্টারনেটে পরিচয় বগুড়ার ওয়েবসাইট এক প্রোগ্রামারের। ‘ম’ আদ্যক্ষরের ওই গ্রোগ্রামার মূলত হ্যাকার হিসেবেই বেশি পরিচিত। তিনি বিশেষ কৌশলে তার ইন্টারনেট চালান পুরোপুরি ফ্রি। যে মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করেন সেটি থেকেও তিনি কথা বলেন অফুরন্ত। বিনিময়ে তাকে দিতে হয় না কোনো বিল! এ বিষয়ে ওই হ্যাকার বলেন, এটি হয়তো অসততা। কিন্তু ফ্রি কোনো কিছু করার সুযোগ থাকলে আমি কেন টাকা ব্যয় করবো। এটি কিভাবে করেনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব বলা যাবে না। তবে আমাদের দেশের আইসিটি ও টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলো তেমন কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয় না। এছাড়া তারাও অনেক ক্ষেত্রে ‘দু-নম্বরি’ করে। আমি তারই সুযোগ নিচ্ছি মাত্র।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে সিম ক্লোনিংয়ের বেশ কিছু ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো মাস দুয়েক আগে এ বিষয়ে জানায়, দেশটিতে এক লাখেরও বেশি মোবাইল ফোন গ্রাহক সিম ক্লোনিংয়ের শিকার হয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, খুব সহজ উপায়ে ক্লোনিং হয় বলেই এর শিকারে পরিণত হয়েছেন তারা। যে নম্বরগুলো থেকে ফোন আসে, সেগুলোর শুরুতে +৯২, #৯০ অথবা #০৯ এই তিন ধরনের কোড থাকে। মোবাইলের গ্রাহক যদি ফোন ধরে ফেলেন, তাহলে অপর প্রান্ত থেকে কল সেন্টারের কর্মী সেজে কথা বলে জালিয়াতরা। সংযোগ নির্বিঘœ আছে কিনা, তা পরীক্ষা করতে গ্রাহককে তার মোবাইলে #০৯ বা #৯০ চাপতে বলা হয়। এই নম্বরগুলো চাপার পর যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, সেই নম্বরে উল্টো কল যায় এবং সিম ক্লোন হয়ে যায়। কল ধরতে না পেরে গ্রাহক যদি পরে মিসড কলের ওই নম্বরে কলব্যাক করেন, তাহলেও একই পদ্ধতিতে সিম ক্লোন হয়।

সিম ক্লোন হওয়ার কারণে গ্রাহক বড় ধরনের ঝামেলায় পড়তে পারেন। জালিয়াতরা মূল ব্যবহারকারীর সিম, মেমোরি কার্ড বা ডেটা কার্ডে সংরক্ষিত তথ্যগুলো হাতিয়ে নেয়। সিমের নম্বর ব্যবহার করে তারা অন্য যে কোনো নম্বরে ফোন করতে পারে। যে কোনো ব্যক্তিকে হুমকি বা সন্ত্রাসমূলক ফোনের কাজে নম্বরটি ব্যবহার করতে পারে। আর্থিক বিপর্যয়, সামাজিক সম্মানহানি বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হতে পারেন তারা। ভারতে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি বিএসএনএলসহ আরো কয়েকটি কোম্পানি ভুয়া এসব কলের ব্যাপারে গ্রাহকদের সতর্ক করে দিয়েছে। ফোনে এটিএম বা ক্রেডিট কার্ডের পাসওয়ার্ড বা অন্য যে কোনো ধরনের পাসওয়ার্ড সেভ না করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।


ক্লোনিংয়ের বিষয়ে পরামর্শ হিসেবে জনপ্রিয় ব্লগ ‘আমার ব্লগে’ অরীত্র আহমেদ নামে একজন ব্লগার এ বিষয়ে বলেন, আপনার ব্যালেন্স নিয়মিত চেক করুন। অহেতুক কোনো কারণে ব্যালেন্স কমে গেলে কাস্টমার কেয়ারে খোঁজ নিন। তারা যদি বলে আপনি কোনো কল বা এসএমএস করেছেন, তাহলে ধরে নিন আপনার সিম ক্লোন করা হয়েছে। যদি কোনো নম্বর থেকে মিসড কল আসে, অপরিচিত নম্বর, তাহলে ব্যাক করবেন না। কারো যদি কথা বলার দরকার থাকে, নিজেই ফোন দেবে। কথা বলার সময় খেয়াল করুন কোনো ধরনের ডিজিটাল টোন পাচ্ছেন কিনা। যদি ওগঝও শর বা ডাটা (এনক্রিপশন কি) ব্যবহার করে আপনার সিম ক্লোন করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এক ধরনের টোন পাওয়া যায়। অনেক সময় মাইকের সাউন্ড সেটিংসে সমস্যা হলে একটা চিঁ চিঁ শব্দ হয়। অনেকটা সে রকম। তিনি বলেন, সিম অফ করে কল দিন সিমে। যদি বন্ধ আসে, তার মানে ক্লোনিং হচ্ছে না। তবে তার মানে এই নয় যে ক্লোন হয়নি। ক্লোন যারা করেছে, তারা যে ধরনের সিস্টেম ব্যবহার করে, তাতে চাইলে কোনো সিম ইচ্ছে করলে অফ করেই রাখতে পারে। তাই মাঝে সাঝেই এই কাজটা করে দেখুন।