বিজ্ঞান + প্রযুক্তি

তৈরি হচ্ছে ইউনিকোড ফন্ট ‘আমার বর্ণমালা’

---------------------------------------                 

ল্যাপটপ কেনার পূর্বে কিছু জরুরী বিষয়!

বর্তমান বাংলাদেশের কম্পিউটার বাজারের সব চেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি পণ্যের নাম হল ‘ল্যাপটপ’। সুবিধা মত যেখানে ইচ্ছে-এর ব্যবহার উৎকর্ষতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণ। ভ্রমনের সঙ্গী হিসেবে, লোডশেডিং এর সময় ইত্যাদি নানা কারনে ল্যাপটপ আজ বিশ্বব্যাপী অনেক জনপ্রিয়।

এখন মূলত বিদ্যুৎ প্রকটের সমস্যায় অনেকে নিরবিচ্ছিন্ন কম্পিউটিং উপভোগ করার জন্য সামান্য বেশি দাম দিয়ে হলেও একটি Desktop এর চেয়ে Laptop কেনাটাকে-ই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
ল্যাপটপ কেনার পূর্বে কিছু জরুরী বিষয়
যাই হোক, কাজের পারফরমেন্স এর উপর ভিত্তি করে ল্যাপটপ মূলত ২ প্রকার হয়ে থাকে।
১) নেটবুক (Net-book) এবং ২) নোটবুক (Notebook)
যারা হালকা কাজ বা অনলাইনে কাজ করে থাকেন তারা সাধারনত নেটবুক ব্যবহার করেন। আবার, যারা একটু ভারী কাজ করেন- High Definition Graphics/ Video Editing অথবা High-End PC Gaming এর জন্য নোটবুক বেশ উপযোগী।
ল্যাপটপ কেনার পূর্বে কিছু জরুরী বিষয়ঃ
আপনি যখন ল্যাপটপ কিনতে যাবেন, তখন কিছু জরুরী বিষয় আপনাকে অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে হবে যাতে কেনার পরে ঠকে গেছেন- এমনটা মনে না হয়।
১) সাধারন কাজে- মুভি দেখা, গান শোনা, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা সহ ছোটখাটো কাজের জন্য কম বাজেটের ল্যাপটপ কেনাই যথেষ্ট। তবে মুভি দেখা যদি আপনার নেশা হয় (আমার মত) তবে একটু বড় স্ক্রিন (১৬”/ ১৭”) দেখে ল্যাপটপ কিনে ফেলুন।
২) ল্যাপটপ নিয়ে যদি আপনাকে বেশির ভাগ সময় ঘরের বাইরে কাজ করতে হয়, তবে বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ সম্পন্ন ল্যাপটপ কেনাই ভালো। কিন্তু, আরেকটা ব্যাপার মাথায় রাখবেন, আপনার পছন্দের ল্যাপটপটির স্ক্রিন যত বড় হবে, ব্যাটারি চার্জ তত কম থাকবে, আবার স্ক্রিন ছোট হলে ব্যাটারি চার্জ বেশিক্ষণ ধরে থাকবে। সাধারনত সব ল্যাপটপের ব্যাটারি লিথিয়াম আয়নের হয়ে থাকে এবং যত বেশি সেল(৪টা-১২টা) থাকবে ব্যাটারিতে, ব্যাটারির ব্যাকআপ সময় ততটাই বেশি হবে। বর্তমান ল্যাপটপগুলির ব্যাটারির ব্যাকআপ সময় ৩-৮ ঘণ্টা হয়ে থাকে। কেনার সময় বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন আপনার পছন্দের ল্যাপটপটির ব্যাটারি ব্যাকআপ কতক্ষন দিবে!
৬ সেল= ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা
৯ সেল= ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা
১২ সেল= ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা
৩) গেম খেলা, ভিডিও এডিটিং বা গ্রাফিক্সের কাজের জন্য উচ্চ গতি সম্পন্ন একটু হাই-কনফিগারেশনের ল্যাপটপ কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রথমেই, প্রসেসরের ক্লক স্পিডের দিকে লক্ষ রাখবেন, যত বেশি ক্লক স্পীড ( 3.0 GHz বা এর উপরে) হবে, তত ভালো পারফরমেন্স দিবে। এখন তো Core i series বাজারে চলছে। আপনার বাজেটের মধ্যে যেটা কুলায় সেটাই নিয়ে নিন, কিন্তু ক্লক স্পিডটা যেন বেশি থাকে। পাশাপাশি, কেনার সময় ল্যাপটপটির হার্ডডিস্ক, র‍্যাম এবং গ্রাফিক্স কার্ড চেক করে নিন। কমপক্ষে 4GB DDR3 র‍্যাম নেবার চেষ্টা করবেন। হার্ডডিস্ক নিবেন আপনার জায়গার প্রয়োজন বুঝে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হচ্ছে, ল্যাপটপটিতে যে Graphics Memory থাকবে সেটা Shared Memory না কি Dedicated Memory- সেই দিকে লক্ষ রাখবেন। Shared Memory র‍্যাম এর কিছু অংশ নিয়ে তা গ্রাফিক্স মেমোরি হিসেবে কাজ চালাবে। কিন্তু, Dedicated Memory র‍্যাম থেকে কোন অংশই শেয়ার করবে না।
৪) ল্যাপটপের প্রধান সুবিধা হচ্ছে এটি সহজেই বহনযোগ্য। তাই যে মডেলের ল্যাপটপ কিনতে চাচ্ছেন, সেটার ওজন কেমন তা নিজ দায়িত্তে জেনে নিন। ছোট স্ক্রিনের ল্যাপটপগুলোর ওজন বড় স্ক্রিনগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম হয়ে থাকে, যা বহন করা সুবিধাজনক। বাইরের কাজে বেশি ব্যবহারের প্রয়োজন হলে কম ওজনের ল্যাপটপ কেনাই ভালো।
৫) ল্যাপটপ কেনার সময় দেখে নিন, যে ব্রান্ডের পণ্যটি কিনছেন সেটার Warranty কত মাসের/ বছরের। এছাড়া USB port কতগুলো রয়েছে। এখনকার গুলোয় মূলত USB 3.0 port চলে এসেছে। অনেকগুলোতে USB port এর দুটো (USB-2.0 এবং USB-3.0) ভার্সন-ই সমর্থন করে থাকে।
৬) আপনি যদি একটু সৌখিন/ স্টাইলিশ মানুষ হন, তবে ডিজাইনের দিকে আলাদা করে নজর দিতে পারেন। অনেকে তাদের পারসোনালিটি বা স্ট্যাটাস এর সঙ্গে মিল রেখে ল্যাপটপ ব্যাবহার করতে পছন্দ করেন। সেক্ষেত্রে আমি এগিয়ে রাখবো Apple MacBook Air (13 inch display), Dell Inspiration 14z বা Origin EON17-S এর মত প্রোডাক্টগুলোকে। সেজন্য আপনাকে দামটাও একটু বেশি গুনতে হবে। তবে এটা ঠিক, বেশি দাম দিয়ে হলেও যদি একবার এগুলো কিনতে পারেন, তাহলে বার বার আর পিছন ফিরে তাকানো লাগবে না।
৭) কেনার সময় অবশ্যই ওয়ারেন্টি কার্ড, চার্জার, ব্যাগ (যদি ফ্রী দেয়) ইত্যাদি আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র যা আপনার ল্যাপটপের সঙ্গেই পাচ্ছেন, সব বুঝে নিন। সবসময় আমদানিকারক, অনুমোদিত ডিলার, বিশ্বস্ত মাধ্যম বা ব্যাক্তির কাছ থেকে ল্যাপটপ কিনুন।
৮) সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কেনা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন।
৯) নতুন কেনার আগে একবার আশেপাশের অভিজ্ঞ বন্ধু/ কলিগদের সাথে আলোচনা করে নিতে পারেন।
১০) কেনার আগে অবশ্যই ২-৩ দিন কম্পিউটার মার্কেট ঘুরে দাম এবং জিনিসটি যাচাই করুন।
ল্যাপটপ কেনার পূর্বে কিছু জরুরী বিষয়
আগ্রহ নিয়ে পড়ার জন্য সবাই কে ধন্যবাদ। ল্যাপটপ-এর যত্নআত্তি নিয়ে আরো কিছু লিখার আগ্রহ আছে। সবাই ভালো থাকবেন।        http://pechablog.com/archives/1387 
 -------------------------------------------------------------------------------------------------------------- 

                   ফেসবুক নিয়ে আসছে নুতন সার্চ ইঞ্জিন

সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ফেসবুক এবার সার্চ ব্যবসার দিকে নজর দিয়েছে। ফেসবুক সার্চ আরও উন্নত করতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক ওয়ালে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। এই ছবির সূত্র ধরেই ফেসবুকের সার্চে পরিবর্তনের তথ্য পেয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। জাকারবার্গ তাঁর পোস্ট করা  ছবিটিতে বিশাল একটি সাদা বক্স দেখিয়েছেন। এই বাক্সটিই নতুন সার্চ ইঞ্জিনের সূত্র বলে প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে ফেসবুকের ওপরের বারে একটি সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে। ফেসবুকে বেশ কিছু পরিবর্তন আনলেও সার্চের কোনো পরিবর্তন আনেনি ফেসবুক। তবে এবার ফেসবুকের এই সার্চ ইঞ্জিনটিই গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের মতো যাতে সার্চ রেজাল্ট দেখাতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ করছে ফেসবুক। ফেসবুকের সাধারণ প্রোফাইল সার্চের পাশাপাশি মাইক্রোসফটের বিং সার্চ ইঞ্জিনের ফলও ফেসবুক থেকে দেখা যাবে।
সার্চ ইঞ্জিনটির উন্নয়নকল্পেই সম্প্রতি গুগলের সাবেক কর্মকর্তা লারস রাসমুসেনকে নিয়োগ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রাসমুসেন ও তাঁর প্রকৌশলী দল ফেসবুকের সার্চ উন্নয়ন করতে এখন কাজ করছেন বলে এক খবরে জানিয়েছ এনডিটিভি। প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের সঙ্গে ফেসবুকের এই সার্চ ইঞ্জিন হয়তো এখনই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারবে না। হয়তো সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন তথ্য ও বিং এর এলগরিদম ব্যবহার করে সার্চ রেজাল্ট দেখাবে ফেসবুক।

কম্পিউটার এর Speed বাড়িয়ে নিন

) প্রথমে Start menu > All Programs > Accessories > Notepad- Open করে mystring= (80000000) লিখে
ফাইলটি ram.vbe নামে Desktop এ সেভ করুন । (আন্য কোন নাম ব্যাবহার করবেন না)
২)এবার Start menu >Run এ regedit লিখে Enter চাপুন । এখন রেজিস্ট্রি এডিটর এর বাম পাশের HKEY_CURRENT_USER > Control Panel > Desktop-এ Single ক্লিক করুন ।
Speed UP computer
৩)এবার ডান পাশে Desktopএর Registry গুলো দখেত পাবেন সেখান থেকে MenushowDelay খুজে বের করে নিন এবং ডাবল ক্লিক করুন ।
৪) এবার এর String Editor আসেব। এখানে ভেলু যাই দেয়া থাক না কেন আপনি “0” দিয়ে OK করুন ।
৫) এবার ফাইল মেনুতে গিয়ে Exit প্রেস করুন এবং কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন।
৬) এবার কম্পিউটার চালু হলে Desktop এ থাকা ram.vbe ফাইলটি তে Double Click করুন এবং আপনার কম্পিউটার এর Speed এর পরিবর্তন লক্ষ করুন।এরপরে আপনার সুবিধার জন্য Desktop এ থাকা ram.vbe ফাইলটি cut করে Start menu > All Programs > startup এ Right ক্লিক করে Open করে (startup ফোল্ডারে) pest করুন।
এবং সুবিধার জন্য Hidden করে দিতে পারেন ইচ্ছা করলে, না করলেও ক্ষতি নাই।
এখন আপনার কম্পিউটার এর Speed এর পরিবর্তন লক্ষ করুন। আপনাদের ভাল লাগলে উৎসাহিত করতে ভুলবেন না আশা করি।
সবাইকে ধন্যবাদ।
( সংগ্রহীত পোস্ট )
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------

 নুতন টেলিটক 3G সিম কার্ড নিয়ে কিছু কথা

নুতন সিমের মূল্যঃ ৯০০ টাকা। নুতন সিম এর সাথে থাকছে কিছু ফ্রী অফার।
  1. ৫০০ মিনিট ভয়েস কল
  2. ৫০০ মিনিট ভিডিও কল
  3. ১০০০ এসএমএস
  4. ১ গিগা ইন্টারনেট
টেলিটক 3G
টেলিটক 3G
আবার জেনে নিন ভয়েস কল রেটঃ
  1. রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টাঃ
  2. অন-নেটঃ ৩০ পয়সা,
  3. অফ-নেটঃ ৯৬ পয়সা
  4. সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টাঃ
  5. অন-নেটঃ ৬০ পয়সা,
  6. অফ-নেটঃ ৯৬ পয়সা
ভিডিও কল রেটঃ
  1. রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টাঃ ১.২০ টাকা
  2. সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টাঃ ৩ ৩ টাকা
  3. সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টাঃ ৩ ৩ টাকা
  4. মেসেজঃ ৪৫ পয়স
  5. ডাটা ৫KB/১পয়সা
  6. এসএনএফঃ ১টি
  7. ভয়েস কলঃ ৩০ পয়সা
  8. ভিডিও কলঃ ৯০ পয়সা
  9. ভিডিও কলঃ ৯০ পয়সা
সাথে থাকছে কিছু ইন্টারনেট ডাটা ইউস অফার। ইন্টারনেট বান্ডেল কিনতে কোড লিখে পাঠাতে হবে ১১১ তে।
  1. ১ গিগা ২০০ টাকা, ১০ দিন (কোডঃ D19)
  2. ২ গিগা ৫০০ টাকা, ৩০ দিন (কোডঃ D20)
  3. ১০ গিগা ১০০০ টাকা, ৩০ দিন (কোডঃ D22)
teletalk

জেনেনিন থ্রি-জি কী?


টেলিটক 3gটেলিটক 3G
বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশ তৃতীয় প্রজন্মের (থার্ড জেনারেশন-থ্রি-জি) প্রযুক্তিতে প্রবেশ করেছে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রযুক্তিটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে এটি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হচ্ছে। অনেকেই জানেন না থ্রি-জি কি, এতে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে, বহির্বিশ্বে কবে থেকে থ্রি-জি চালু হলো এবং বাংলাদেশে সামগ্রিকভাবে থ্রি-জির অবস্থান কি? চলুন এসব প্রসঙ্গ জেনে নেয়া যাক।
থ্রি-জি প্রযুক্তি কি?
আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থা বা আইটিইউ এর সংজ্ঞানুসারে  Application services include wide-area wireless voice telephone, mobile Internet access, video calls and mobile TV, all in a mobile environment.থ্রিজিকে এক কথায় মোবাইল ভিডিও কল ও মোবাইল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ট্রান্সপোর্টার নেটওয়ার্কও বলা যেতে পারে।
থ্রি-জি প্রযুক্তির সুবিধা : থ্রি-জির অনেক অনেক সুবিধা রয়েছে। এ প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় সুবিধা হল এই প্রযুক্তি কার্যকর থাকলে মোবাইল হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে ভয়েস সুবিধার পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা ভৌগোলিকভাবে যে অবস্থানেই থাকুক না কেন উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। গ্রামের অর্ধশিক্ষিত একজন মানুষ সবসময় সবখানে বসে সারাবিশ্বের সাথে যোগাযোগ এবং সব ধরনের তথ্য অতি সহজেই আদান-প্রদান করতে পারে। থ্রি-জি প্রযুক্তির মাধ্যমে টিভি দেখা, খেলা দেখা, ভিডিও ক্লিপস আদান-প্রদান সবই সম্ভব। একজন ব্যবহারকারী থ্রিজি সাপোর্টেড মোবাইল সেটের সাহায্যে ভিডিও কনফারেন্স করতে পারে। ভিডিও টেলিফোনি পাওয়ারফুল ক্যামেরা, ইমেজ এডিটিং, ব্লগিং, ভিডিও কল, মুভি ট্রান্সফার সবই সম্ভব। বিনোদনের ক্ষেত্রে এটি অদ্বিতীয়। মোবাইল হ্যান্ডসেটে ইন্টারনেটের গতি বাড়বে অন্তত দশগুণ। এখন যে কাজ করতে দশ মিনিট লাগে তখন সেটি হবে এক মিনিটে। থ্রিজি মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ গতিতে তথ্য পরিবহন সম্ভব বলে জিপিএসের মাধ্যমে পথ নির্দেশনা পাওয়া, উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারসহ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেওয়া যাবে। এছাড়া মোবাইল ফোনেই দেখা যাবে টেলিভিশন। যিনি মোবাইলে ফোন করেছেন তার ছবিও দেখা যাবে, জানা যাবে তার অবস্থান। থ্রিজি প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই সন্তানদের নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাবে। শহরের সব সড়কের গাড়ির গতিবিধি দেখে অনাকাঙ্ক্ষিত জ্যাম নিয়ন্ত্রণও করতে পারবে পুলিশ। থ্রিজি’র এমন হাজারও সুবিধা রয়েছে।
দেশে দেশে থ্রি-জি : ১৯৭৯ সালে জাপানে প্রথম প্রজন্মের (১জি) মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে জেনারেশন প্রযুক্তির যাত্রা শুরু করে। এরপর ২০০১ সালের মে মাসে জাপান সরকার প্রথম সে দেশে এই ২.৫/২.৭৫ জি মোবাইল নেটওয়ার্ক আপগ্রেড করে থ্রিজি মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন করার অনুমতি দেয়া। পরবর্তী দুই তিন বছরের মধ্যেই ধনী দেশগুলোর সরকারের কাছ থেকে মোবাইল অপারেটরেরা তাদের নেটওয়ার্ক আপগ্রেড করার অনুমতি লাভ করে যা ২০০৬ থেকে ২০০৭ সালে এসে ৩.৫ জি বা ইউনিভার্সাল মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম হাই স্পিড ডাউনলিংক প্যাকেট এ্যাক্সেস-এ আপগ্রেড করেছে বলে অনেকে দাবি করছে। এছাড়া দুই একটি ধনী দেশ/অঞ্চল/শহর এরই মধ্যে ফোরজি নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে বলে শোনা যাচ্ছে।
বাংলাদেশের মোবাইল কোন জেনারেশনের : থ্রি-জি হচ্ছে এই মোবাইল নেটওয়ার্কের ‘থার্ড জেনারেশন মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক’। বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা ২০১০ সালেও যে ধরনের মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছে, একে অন্তত দশ বছর আগের ২.৫জি/(জিপিআরএস-GPRS) বা ২.৭৫জি/(GR-EDGE) নেটওয়ার্ক দাবি করা হয়। সহজে নেটওয়ার্কের এই আপগ্রেডেশনকে এভাবে দেখা যায়, শুরুতে ২জি, ২.৫জি, ২.৭৫জি। GR-EDGE নেটওয়ার্ক আপগ্রেড করে থ্রিজি মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন করলে মৌলিক যে সুবিধাটি পাওয়া যায় তাহলো স্বল্পমূল্যে/গণতান্ত্রিকমূল্যে ও দেশের সকল জনগণকে সমান সুবিধা দিয়ে যেকোন অবস্থানে যেকোন নাগরিক হাইস্পিড এবং ম্যাসডাটা ট্রান্সপোর্ট করার সক্ষমতা অর্জন করবে।
থ্রিজি বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ট্রান্সপোর্টের একমাত্র সমাধান। আর ডিজিটাল বাংলাদেশ বললে প্রথমই যে প্রশ্নটা আসে তা হলো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। আমাদের বাস্তবতা হলো মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়া অন্য কোন নেওয়ার্কে যে কোন লোকেশনে ব্রডব্যান্ড দেয়া আগামী প্রায় ১০০ বছরেও অবাস্তব। মোবাইল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিবহনের ক্ষমতা বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ কাজ করবে।
টেলিটকের থ্রি-জি : বাংলাদেশে থ্রিজি নেটওয়ার্কের শুরুটা করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান টেলিটক। এই নেটওয়ার্কের নানা সুবিধা টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা বাড়াতে সহায়ক হবে। থ্রিজি সেবা চালু হলে দেশের ব্যবহারকারীরা কথা বলার ক্ষেত্রে, টেলিফোনের ক্ষেত্রে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক নতুন জগতে প্রবেশ করল। ২১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (এক হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা) ব্যয়ে চীনা কোম্পানি সিএমইসি টেলিটকের থ্রিজি নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে। সারাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজ করতে আরও এক বছর সময় লেগে যেতে পারে। তবে ঢাকায় নেটওয়ার্ক স্থাপন কাজ শেষ হয়েছে। নেটওয়ার্ক কতটা কার্যকর হয়েছে তা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।
আপাতত যে সুবিধা পাওয়া যাবে : আপাতত শুধু রাজধানী ও আশপাশের গ্রাহকরা থ্রিজি সুবিধা পাবেন। প্রাথমিকভাবে ঢাকা শহরের ৪ লাখ গ্রাহক এই সুবিধা পাবেন। এ বছরের শেষ নাগাদ চট্টগ্রামে চালু করা হবে থ্রিজি। নেটওয়ার্ক সমপ্রসারণের কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ভয়েস কলের (শুধু কথা বলা) রেট এখন যা আছে থ্রিজিতেও তাই থাকবে বলে জানা গেছে।
টেলিটকের থ্রিজির সব সার্ভিসেই ১০ সেকেন্ড পালস সুবিধা থাকবে। আর প্রাথমিক ভাবে দেশের ৫টি টেলিভিশন চ্যানেল মোবাইল ফোনে দেখা যাবে। এগুলো হলো বিটিভি, সময় টিভি, জিটিভি (গাজী টিভি), আরটিভি ও মাইটিভি। থ্রি-জিতে কোনো কল ড্রাপ থাকবে না।
http://en.wikipedia.org/wiki/3G 


No comments: