দীপংকর গৌতম:
মাকুর খটখট শব্দে এখন ঘুম আসেনা বোয়ালমারী উপজেলার সোতাসী গ্রামের তাতীঁদের । ঘরের ছোট বড় সবাইকে নিয়ে তারা রাত পার করেও কাজ করে চলছে । এ মাসেই বছরের সবচে বড় রোজগার করে রাখবেন তারা । রমজান মাসে আরো বেশি ব্য¯— হয়ে পড়েছেন তারা। ঈদ যখন হাতছানি দিয়ে ডাকছে তখন নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। এ কারণে তারা ভীষণ ব্য¯— ।
এ শাড়ির সুনাম সারা উপমহাদেশ জুড়ে । আর এ সুনামের দাবিদার মসলিন থেকে ।ঐতিহ্যবাহী মসলিন জামদানি শাড়ির নামটি ধরে রেখেছে। কার্পাস সুতা থেকে তৈরি মসলিন জামদানির কয়েকটি তাঁত এরই মধ্যে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সোতাসী গ্রামে স্থাপন করা হয়েছে। কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই কয়েকজন ¶ুদে উদ্যোক্তা এরই মধ্যে তাঁত বসিয়ে মসলিন জামদানি তৈরি করতে শুর“ করেছে। ৫-৬ বছর আগে কয়েকজন কিশোর পেটের তাগিদ মেটাতে কর্মের সন্ধানে নারায়ণগঞ্জ জেলার জামদানি পলীতে উপস্থিত হন। কয়েক বছর কাজও করেন সেখানে। প্রথমে পেটে-ভাতে তারপর মাসিক ৪-৫ হাজার টাকা উপার্জন করলেও তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই থেকে ¯^প্ন দেখতে শুর“ করেন নিজে তাঁত স্থাপনের মাধ্যমে অধিক উপার্জনের। সে অনুযায়ী কেউ কেউ বাড়ি ভাড়া নিয়ে তাঁত বসানোর চেষ্টা করলে বাদ সাধেন অন্য তাঁত মালিকরা।
এতে অনেকের ¯^প্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেলেও হাল ছাড়েননি মো. তৈয়বুর বিশ্বাস (১৯), মো. তৌহিদ বিশ্বাসরা। ফিরে আসেন নিজ ভিটা সোতাসী গ্রামে। লালিত ¯^প্ন প্রতিষ্ঠায় মনোবল আর জিদকে কাজে লাগিয়ে একটি তাঁত স্থাপন করে মসলিন জামদানি শাড়ি তৈরির কাজ শুর“ করেন তৈয়বুর বিশ্বাস। নিজের ভাই মো. ইউসুফ বিশ্বাসসহ কয়েকজনকে শি¶া দেন তাঁত চালানোর। এরই মধ্যে তিনটি তাঁত স্থাপন করেছেন তিনি। একইভাবে একই গ্রামের অপর যুবক মো. তৌহিদ বিশ্বাসও স্ত্রী আলাদী বেগম ও নিজ ভ্রাতা মো. আমিনুর বিশ্বাসকে প্রশি¶ণ দিয়ে মাস দেড়েক আগে পাঁচটি তাঁত স্থাপনের মাধ্যমে যাত্রা শুর“ করেছেন। যার প্রতিটি তাঁত থেকে দু’জন কারিগরের মাধ্যমে মাসে তিনটি মসলিন জামদানি শাড়ি উৎপাদন করা যায়। প্রত্যেকটি শাড়ির মূল্য সর্বনিæ চার হাজার টাকা থেকে শুর“ করে ৮-১০ হাজার টাকা। প্রত্যেকটি শাড়িতে ৪ থেকে ৬শ’ টাকার সুতা প্রয়োজন হয়। শাড়ির ওজন হয় দুই থেকে আড়াইশ গ্রাম। উদ্যোক্তারা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রতি ভরি সুতা ৪৫ থেকে ৬০ টাকায় ক্রয় করতে হয়। খরচ খরচা বাদে বিক্রীত শাড়ির লাভের টাকার অর্ধেক কারিগরের বাকি অর্ধেক থেকে হেলপারের বেতন দিয়ে যা থাকে তা মালিকের। কারিগরদের অনেকেই শিশু শ্রেণীর হলেও স্কুলে লেখাপড়ার পাশাপাশি ¯^-উৎসাহেই স্কুল সময়ের আগে পরে কাজ করে থাকে। কথা হয় ¶ুদে কারিগর নাসির উদ্দিন (১৩), জিহাদ বিশ্বাস (১০), মো. হƒদয় (১৪), জাহিদ (১০), আরশাদ (৮), সাগর বিশ্বাস (১০), ও দ্বীন ইসলামের (১২) সঙ্গে। তারা জানায়, কাজ করতে ভালোই লাগে। উপার্জিত অর্থ লেখাপড়াসহ সংসারের কাজে লাগাবে বলেও জানায় তারা।
এ ¶ুদ্র উদ্যোক্তারা জানান, উৎপাদিত শাড়ি বিদেশে চলে যায়।
স্থানীয় বাজার না থাকায় শাড়ি বিক্রি করতে সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে বাধ্য হয়েই নারায়ণগঞ্জের ফড়িয়াদের কাছে তাদের (ফড়িয়াদের) নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি করতে হয়। এতে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়েও সংশয়ে রয়েছে ¶ুদ্র উদ্যোক্তারদের। উদ্যোক্তাদের একজন মো. আমিনুর বিশ্বাস জানান, বোয়ালমারী ও ফরিদপুরের বিভিন্ন দোকানে দোকানে ঘুরে আমাদের উৎপাদিত শাড়ি বিক্রি করতে পারিনি। তিনি দাবি করেন, এ শাড়ির স্থানীয় বাজার সৃষ্টি করা গেলে অনেকেই এ পেশায় আসবে। উদ্যোক্তারা আরো জানান, এ ব্যবসা পরিচালনা করতে তাদের বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে চড়া সুদে ঋণ করতে হয়েছে। ফলে পেশাটি লাভজনক হলেও তাদের (উদ্যোক্তাদের) লাভের মুখ দেখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উদ্যোক্তারা এ শিল্পের প্রসারে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার প্রত্যাশা করেন।



No comments:
Post a Comment