Saturday, July 27, 2013

মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়

এম এ বাবর
অবশেষে বিক্রেতাদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে। রমজানের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরতালের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে যাওয়ায় ১৫ রোজার পর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতান বেশ জমে উঠেছে। বিপুলসংখ্যক ক্রেতার সমাগম হওয়ায় সকাল থেকে প্রায় গভীর রাত পর্যন্ত অনেক মার্কেট খোলা থাকছে। ঈদের চাঁদরাত পর্যন্ত এভাবে চলতে থাকলে রোজার শুরুর দিকের ব্যবসায়িক ক্ষতি পুষিয়ে ভালো মুনাফার আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ছোটেন নগরবাসী। বেলা ১২টার মধ্যেই তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলো মুখরিত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিশু ও তরুণ-তরুণীদের তৈরি পোশাকের দোকানে বেচাকেনা বেশি হয়েছে। 

খিলগাঁও থেকে মৌচাক মার্কেটে শপিং করতে এসেছেন আমিনুর রহমান। তিনি বললেন, আজ আত্মীয়স্বজনের জন্য থ্রি-পিস, শাড়ি, পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি। এখানে এলে সবার জন্য কেনাকাটা করা যায়। এছাড়া মার্কেটটা হাতের কাছে বলে যানজট এড়াতে ঘুরে-ফিরে এ মার্কেটেই আসি। কাকরাইলের কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির তৈরি পোশাকের দোকানগুলোতে প্রচুর বেচাকেনা হতে দেখা গেছে। এ মার্কেটের রাজকন্যা ফ্যাশন হাউসের স্বত্বাধিকারী মনোয়ারা বেগম বলেন, বরাবরের মতোই ভারতীয়, পাকিস্তানি ও চাইনিজ সেলাই ছাড়া থ্রি-পিস ও শাড়ির বিক্রি বেশি হচ্ছে। 
দুপুরে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের তিনটি ফ্লোর ঘুরে দেখা যায়, শত শত তরুণ-তরুণী পছন্দের পোশাক কেনাকাটা করছেন। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিক্রেতাদের।
পান্থপথের বসুন্ধরা সিটির বিপণিবিতানগুলোতে স্থান পেয়েছে বাহারি পোশাক। বিক্রেতারা বলছেন, দেশীয় পোশাকের চেয়ে বিদেশি পোশাকেই বেশি আগ্রহ শিশুদের। ঈদের কেনাকাটায় এ বছর শিশুদের পছন্দ কার্টুনযুক্ত টি-শার্ট। শুধু ছেলেদের টি-শার্টই নয়, মেয়েদের ফ্রকেও রয়েছে কার্টুন আঁকা নকশার বাহার। এসব পোশাককে আকর্ষণীয় করার জন্য রা-ওয়ান, ডোরেমনসহ বিভিন্ন কার্টুনের নামেও রাখা হয়েছে। কন্যাশিশুদের পোশাকে ঝিলিক, দীপিকা, কারিনা, গোপী, রাশি, সুহানাসহ বলিউড-টালিউডের বিভিন্ন মডেল ও নায়িকার নামের ট্যাগ বসানো হয়েছে।
এদিকে রাজধানীর অভিজাত মার্কেটগুলোর বিদেশি পোশাকের শোরুমের পাশাপাশি দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো সাজানো হয়েছে শিশুদের রংবেরঙের পোশাক দিয়ে। ঈদ সামনে রেখে আড়ং কন্যাশিশুদের জন্য এনেছে ফ্রিল দেয়া পার্টি ফ্রক, হাতের জমকালো কাজ করা সালোয়ার-কামিজ, ঘাঘড়াচোলি। সালোয়ার ও প্যান্টের কাজে নকশায় রয়েছে বৈচিত্র্য। দেশীদশের ফ্যাশন হাউসগুলোতে পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি, পাজামা, শার্ট, টি-শার্ট, ফতুয়া, লুঙ্গি পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া মিরপুর রোডের অর্কিড প্লাজা, রাপা প্লাজা, প্রিন্স প্লাজা এবং বেইলি রোড, গুলশান, উত্তরা ও বনানীসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে আড়ং, দেশাল, বাংলার মেলা, কে-ক্রাফ্ট, অঞ্জন’স, নন্দন ও নিপুণসহ বিভিন্ন দেশি ফ্যাশন হাউসের শোরুমগুলোতে ঈদ ফ্যাশন নিয়ে নতুন নতুন ডিজাইন আর বাহারি নামের বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও পোশাকের কমতি নেই।
আজিজ সুপার মার্কেটের নিচতলার ‘যুগান্তর’ শো-রুমের ম্যানেজার মিজানুর রহমান হিরু বলেন, বেচাকেনা বেশ ভালো জমেছে। এভাবে চলতে থাকলে প্রথম রোজার দিকে হরতালের কারণে যে লোকসান হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠা যাবে। তিনি বলেন, এই মার্কেটে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায়। তাই ঈদ এলে বিক্রেতাদের আর ঘুম থাকে না। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। এ মার্কেটের দোকানগুলোতে তরুণদের বাহারি শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট থেকে শুরু করে তরুণীদের বিভিন্ন ডিজাইনের কামিজ, ফতুয়া, বিভিন্ন নামের পায়জামা বেশি বিক্রি হচ্ছে।
বেইলি রোডে অঞ্জনের ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম বলেন, এবার ঈদেও আমাদের বেশ কিছু নতুন কালেকশন রয়েছে। মেয়েদের জন্য ২৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের থ্রি-পিস রয়েছে। আর ছেলেদের জন্য ১৪০০ থেকে ৫০০০ টাকায় উন্নতমানের পাঞ্জাবি ও ৬৯৫ থেকে ১৪০০ টাকায় হাফ শার্ট পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতাদের রুচি ও পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা এবার টুয়েল কটন, লিনেন কটন, সিল্ক কটন, স্ল্যাপ কটন, অ্যান্ডি কটনের থ্রি-পিস, অ্যান্ডি কটনের পাঞ্জাবি, মসলিন, অ্যান্ডি সিল্ক, টাঙ্গাইল, জুট কাতান শাড়ি নিয়ে এসেছি।

http://manobkantha.com/2013/07/27/131972.html
http://www.emanobkantha.com/2013/07/27/index.php

Friday, July 26, 2013

ভোগান্তি আর দুর্ভোগের অপর নাম যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ

এম এ বাবর:
তিন বছর ধরে ভোগান্তির সীমা নেই গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণাধীন এলাকায়। চার দফা সময় বাড়িয়েও এখনো নির্মাণ কাজের অনেকাংশ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন গ্রুপ। এদিকে কাজ শুরু থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভায়াবহ যানজট আর নাগরিক দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে নগরবাসী। অন্যদিকে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সেপ্টেম্বরে এটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। ফলে যাত্রাবাড়ী এলাকায় যানজট এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমে যাবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নির্মাণাধীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার প্রকল্প এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এদিকে আসন্ন ঈদুল ফিতরের কেনাকাটায় মার্কেটমুখী মানুষের চাপে গত কয়েকদিন ধরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আর নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত পানির কারণে প্রায় সব সময়ই রাস্তা কর্দমাক্ত থাকে। ফলে কর্দমাক্ত রাস্তায় চলতে গিয়ে নাকাল হচ্ছেন পথচারীরা। অন্যদিকে যানজটের কারণে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ হেঁটে শনিরআখড়া ও পোস্তগোলা থেকে গুলিস্তান মতিঝিল এলাকায় আসা-যাওয়া করছে। এ এলাকার বাসিন্দারা জানান, যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তান একটি বাস পৌঁছতে সময় লেগে যায় তিন-চার ঘণ্টা। অথচ হেঁটে যেতে সময় লাগে সর্বোচ্চ পৌনে এক ঘণ্টা।
এদিকে এই পথে চলাচলকারী যানবাহনগুলো যাত্রাবাড়ী পৌঁছে যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দূরপাল্লার পরিবহন চালকরা জানান, এখানের যানজটের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাতায়াতকারী ১৮ জেলার যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী গাড়িসহ বিভিন্ন প্রকারের যানবাহন সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছতে পারে না। এতে যাত্রীদের পোহাতে হয় দুঃসহ ভোগান্তি আর পাশাপাশি পরিবহন ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। রাজধানীর আভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী পরিবহন মালিকরা বলছেন, অতিরিক্ত যানজটের কারণে দৈনিক বাস ট্রিপ অনেক কমে গেছে।
সায়েদাবাদে-লক্ষ্মীপুরগামী ইকোনো পরিবহনের চালক রিপন মিয়া বলেন, ‘আগে ঢাকা থেকে রায়পুর পর্যন্ত একটা বাস ৩-৪ বার আপডাউন করত এখন যাত্রাবাড়ী এলাকার যানজটে প্রতি ট্রিপে দেড়-দুই ঘণ্টা নষ্ট হয়। ফলে দুই-তিন ট্রিপের বেশি দেয়া যায় না।’ ফতুল্লা বিসিক এলাকার একটি গার্মেন্টসের পিকআপ চালক ওমর আলী বলেন, ‘আমাদের গার্মেন্টস মালামাল বেশির ভাগ যাত্রাবাড়ী হয়ে যাতায়াত করে থাকে। এখানের যানজটের কারণে আমরা নির্দিষ্ট সময়ে মালামাল পৌঁছাতে পারি না।’
পোস্তগোলা-গাবতলী রুটে চলাচলকারী ৮ নম্বর পরিবহনের চালক সাফিউর রহমান বলেন, ‘যাত্রাবাড়ীতে মাত্রাতিরিক্ত যানজটের কারণে দৈনিক ৭-৮টি ট্রিপ কম হয়। এতে দৈনিক দেড়-দুই হাজার টাকা ইনকাম কম হয়। আর যানজটের কারণে অনেক সময় পোস্তগোলা না গিয়ে সায়েদাবাদ থেকেই গাড়ি ঘুরাই।’
অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে এ ফ্লাইওভারটি উদ্বোধনের লক্ষ্যে খুব জোরেশোরে নির্মাণ কাজ চলছে। ইতিমধ্যে গুলিস্তান থেকে টিকাটুলি ও সায়েদাবাদ হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত ফ্লাইওভারের পিলার নির্মাণ ও সুপার স্ট্রাকচার (যেখান দিয়ে গাড়ি চলবে) স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ফুলবাড়ীয়া নিমতলী থেকে গুলিস্তান সিটি মার্কেটের সামনে দিয়ে সুপার স্ট্রাকচার বসানোর কাজ চলছে। গুলিস্তান পয়েন্টে ফ্লাইওভারে ওঠানামার জন্য দুটি র‌্যাম্প তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তের সামনে কুতুবখালী থেকে ফ্লাইওভারে ওঠানামার জন্য রাস্তার কাজ চলছে। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় পিলার নির্মাণের কাজ শেষ, চলছে স্ট্রাকচার স্থাপনের কাজ। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে সায়েদাবাদ জনপথ এলাকার র‌্যাম্পের নির্মাণ কাজ। এখানে সুপার স্ট্রাকচার নির্মাণ শুরু করা হয়নি। এছাড়া গুলিস্তান, রাজধানী মার্কেটের বিপরীতে দয়াগঞ্জ সড়ক ও যাত্রাবাড়ীতে আরো কয়েকটি র‌্যাম্পের কাজও ধরা হয়নি। ওই এলাকায় পিলার নির্মাণও শেষ হয়নি। গুলিস্তান থেকে শনিরআখড়া পর্যন্ত মূল ফ্লাইওভারের ফিনিশিং কাজ চলছে। তবে গুলিস্তান-কাপ্তানবাজার চৌরাস্তা থেকে পশ্চিম দিকে ফুলবাড়িয়া হয়ে চাঁনখারপুল পর্যন্ত প্রকল্প এলাকায় ফ্লাইওভারের জন্য পিলার নির্মাণ করা হলেও সুপার স্ট্রাকচার স্থাপনের কাজ চলছে ধীরগতিতে।
ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টিতে সার্বক্ষণিক আমার নজরদারি রয়েছে উল্লেখ করে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার সেপ্টেম্বরে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। এতে এলাকার যানজট কমে যাবে। তবে এটি খুলে দেয়ার আগ পর্যন্ত এখানে যেন তীব্র যানজট হয় সে বিষয় তদারকির জন্য ট্রাফিক ও সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের সময় রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই যাতে যানজট সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
http://manobkantha.com/2013/07/26/131768.html
http://www.emanobkantha.com/2013/07/26/index.php