মনে পড়ে
--ফারজানা বৃষ্টি
মনে পড়ে যদি অনেক,
ইচ্ছাঘুড়ি ওড়াও,
মনের মধ্যে আগুন জলুক,
মনকে নাহয় পোড়াও।
না হোক কথা, না হোক দেখা,
কি আসে যায় তাতে?
নাহয় মনে জায়গা পাইনি,
আছি বারান্দাতে।
মনের ঘরে আসবাব আর অনেক লোকের ঠাঁই,
বারান্দাটা শুধুই আমার, প্রতিদ্বন্দি নাই।
---------------------------------------------------------------------ইচ্ছাঘুড়ি ওড়াও,
মনের মধ্যে আগুন জলুক,
মনকে নাহয় পোড়াও।
না হোক কথা, না হোক দেখা,
কি আসে যায় তাতে?
নাহয় মনে জায়গা পাইনি,
আছি বারান্দাতে।
মনের ঘরে আসবাব আর অনেক লোকের ঠাঁই,
বারান্দাটা শুধুই আমার, প্রতিদ্বন্দি নাই।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের চিরপ্রস্থান
|
||||
|
|
ভারতীয় টেলিভিশন ইটিভি বাংলার খবরে জানানো হয়, সোমবার রাত ২টায় কলকাতায় নিজের বাড়িতে মারা যান ৭৮ বছর বয়সী এই সাহিত্যিক। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।
তার পারিবারিক বন্ধু দীপেন্দু ভট্টচার্য বলেন, “শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। কালও ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা ছিল; কিন্তু ও বললো পরে যাব। রাতে অনেকক্ষণ গল্প করলাম। এরপর বাথরুমে গেল। কয়েক মিনিট পর হার্ট অ্যাটাক।”
সুনীলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালেই শোকের ছায়া নেমে আসে দুই বাংলার সাহিত্যিক, শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। অনেকেই তার কলকাতার বাড়িতে ছুটে যান, এই সাহিত্যিককে শেষবারের মতো দেখতে।
সকালে বাড়ি থেকে সুনীলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পিস হেভেন সংরক্ষণাগারে। বুধবার কলকাতায় এই কবির শেষকৃত্য হবে বলে ইটিভি বাংলা জানিয়েছে।
একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, সাংবাদিক ও কলাম লেখক সুনীলের জন্ম ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশের ফরিদপুরে। পরিবারের সঙ্গে কলকাতা চলে যান মাত্র চার বছর বয়সেই। তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এবং ব্যক্তিগত সফরে বেশ কয়েকবারই বাংলাদেশে এসেছেন তিনি।
বয়সের পার্থক্য থাকলেও বাংলা ভাষার আরেক জনপ্রিয় কথশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে সুনীলের বন্ধুত্বের নৈকট্য তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশে বেড়াতে এসে গাজীপুরে হুমায়ূনের গড়া নুহাশ পল্লীতেও বেড়াতে গেছেন সুনীল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধও গভীরভঅবে নাড়া দিয়েছিল তরুণ সুনীলকে। ১৯৭১ সালের সেই দিনগুলোয় বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ঘুরে তিনি কলম চালিয়েছেন জন্মস্থানের মানুষের পক্ষে।
পরিণত বয়সের অনেকটা সময় গদ্য লেখায় মজে থাকলেও সুনীলের ‘প্রথম প্রেম’ ছিল কবিতা। ১৯৫৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার ঠিক আগের বছর তিনি কবিতার পত্রিকা কৃত্তিবাসের সম্পাদনা শুরু করেন, যা পরে পরিণত হয় তখনকার তরুণ লেখকদের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে।
সেই সময় ভারতে ‘হাংরিয়ালিজম’ নামের সাহিত্য আন্দোলনে যারা যুক্ত হয়েছিলন, সুনীল ছিলেন তাদেরই একজন। সুনীলের লেখা ‘নিখিলেশ’ আর ‘নীরা’ সিরিজের কবিতাগুলো তরুণদের মুখে মুখে ছিল বহুদিন।
১৯৫৮ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের পর ১৯৬৬ সালে পাঠকের হাতে পৌঁছায় সুনীলের প্রথম উপন্যাস ‘আত্মপ্রকাশ’।
নীললোহিত, সনাতন পাঠক, নীল উপাধ্যায় ছদ্মনামে সুনীল লিখে গেছেন ভ্রমণ কাহিনী, গোয়েন্দ গল্প, কখনো বা শিশুতোষ সাহিত্য। ‘আমি কী রকমভাবে বেঁচে আছি’, ‘যুগলবন্দী’, ‘হঠাৎ নীরার জন্য’, ‘অর্ধেক জীবন’, ‘প্রথম আলো’, ‘সেই সময়’, ‘পূর্ব পশ্চিম’, ‘মনের মানুষ’ এর মতো বইগুলো যেমন পাঠকপ্রিয় হয়েছে, তেমনি পেয়েছে সমালোচকদের স্তুতি।
সুনীলের ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ও ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ উপন্যাসকে চলচ্চিত্রের রূপ দিয়েছেন অস্কারজয়ী পরিচালক সত্যজিৎ রায়। আর লালনকে নিয়ে লেখা সুনীলের ‘মনের মানুষ’ এর চলচ্চিত্রায়ন করেছেন গৌতম ঘোষ।
সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৭২ ও ১৯৮৯ সালে দুই দফা আনন্দ পুরস্কার, ১৯৮৫ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার, ২০১১ সালে দ্য হিন্দু লিটারেরি পুরস্কারসহ জীবনভার বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন।
বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও সুনীল এখনই চলে যাবেন- তা ভাবতে পারেননি কলাকাতায় তার ঘনিষ্ট সাহিত্যক বন্ধুরাও।
পশ্চিমবঙ্গের আরেক জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় কলকাতার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, “সবাই তো জানে, সে কতো বড় মাপের সাহিত্যিক ছিল। কিন্তু কতো বড় মাপের মানুষ সে ছিল- তা তো সবাই জানবে না।”
“এতো কোমল, এতো আবেগপ্রবণ মানুষ, এতো ন¤্র ভদ্রলোক সচরাচর দেখা যায় না। ও যে কতোজনকে গোপানে সাহায্য করেছিল, তা আমি জানি।”
জীবিকার জন্য সুনীল পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতা। ভারতের সর্বাধিক পঠিত বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন। দায়িত্ব পালন করেছেন ভারতের জাতীয় সাহিত্যপ্রতিষ্ঠান সাহিত্য আকাদেমি ও পশ্চিমবঙ্গ শিশুকিশোর আকাদেমির সভাপতি হিসেবেও।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার বরেণ্য এই কথ সাহিত্যিককে ২০০২ সালে সাম্মানিক পদ ‘কলকাতার শেরিফ’ হিসাবে নিয়োগ দেয়।
দুই শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা সুনীল ১৯৬৭ সালে স্বাতী বন্দোপাধ্যায়কে। তাদের একমাত্র সন্তান সৌভিক গঙ্গোপাধ্যায়।
এই
ঐতিহ্যবাহী মসজিদের অন্যতম আকর্ষণ তিন গম্বুজের সর্বমোট ছোটবড় চব্বিশটি
মিনার। দেওয়ালের অলংকরণ করা হয়েছে মোগল স্থাপত্যের ধারায় কারুকার্য খচিত
নকশা দিয়ে ।
জনৈক হংসরাজ নামে খ্যাত রাজমিস্ত্রি ভারতের দিলী, আগ্রা, এলাহাবাদ, লèৌ ঘুরে এসে মসজিদটির নির্মাণ কাজ করেন ।
মূল
মসজিদের দৈর্ঘ্য ৪১ ফুট ৬ ইঞ্চি, প্রস্থ ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি । মসজিটির বারান্দা
রয়েছে দু’টি । প্রথমটির দৈর্ঘ্য ৪১ ফুট ২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১১ ফুট ৩ ইঞ্চি ।
দ্বিতীয়টির দৈর্ঘ্য ১৪ ফুট ২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১৯ ফুট ৫ ইঞ্চি । মসজিদে ৩
শতাধিক মুসলি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন ।
২০১১
সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে যে তীব্র ভূমিকম্প হয় তাতে মসজিদের বেশ
কয়েকটি মিনারে ফাটল দেখা দেয় । ফাটল ধরা মিনারগুলি যে কোন সময় ধসে পড়তে
পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
দু’শ
বছরের প্রাচীন এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি সংষ্কারের অভাবে তার ঐতিহ্য হারাতে
বসেছে । ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনরকমে টিকিয়ে রাখা হয়েছে । মোগল স্থাপত্যের
অপূর্ব নিদর্শন ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটির সংস্কার সাধন করে দেশ এবং এলাকার
স্বার্থে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন । এ জন্য সরকারের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে
করেন এলাকার মানুষ ।
মসজিদ
কমিটির সদস্য মঞ্জুর চৌধুরী বলেন, মোগল স্থাপত্যের এই অপূর্ব নিদর্শনটিকে
টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারী সাহায্যের কোন বিকল্প নেই । শুধুমাত্র জমিদার
বাড়ির সদস্যদের সাহায্য সহযোগিতায় এটিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় । মসজিদটি
রার জন্য সরকারকে এগিয়ে আসার আবেদন জানান তিনি ।
ঠাকুরগাঁও
সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দবিরুল ইসলাম জানান, মসজিদটি এই
এলাকার একটি ঐতিহ্য । মসজিদটি সংষ্কার এবং সংরন করা প্রয়োজন । কিস্তু
মসজিদটি সংষ্কার করার মত পর্যাপ্ত টাকা ইউনিয়ন পরিষদের নেই । তিনি মসজিদটি
সংষ্কারের জন্য সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ।
ঠাকুরগাঁওয়ের
জেলা প্রশাসক মুহা. শহিদুজ্জামান জানান, ঐতিহাসিক এই মসজিদটি সংষ্কার এবং
সংরণ করা প্রয়োজন । এ বিষয়ে সরকারের প্রত্নতত্ত বিভাগকে জেলা প্রশাসন থেকে
অতি শীঘ্র জানানো হবে ।
No comments:
Post a Comment