Monday, May 27, 2013

ভাঙা রাস্তা ও খোড়াখুড়িতে নাকাল গুলশান-বারিধারাবাসী


এম এ বাবর: 
জোড়াতালি, ভাঙাচোরা রাস্তা ও খোঁড়াখুঁড়িতে নাকাল অভিজাত কূটনৈতিকপাড়া হিসেবে পরিচিত গুলশান-বারিধারা এলাকাবাসী। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে শুষ্ক মৌসুমেও ড্রেনের ময়লা-দুর্গন্ধ পানি উপচে রাস্তায় জমা হয়ে থাকে। আর পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু বর্ষা হলেই বেশিরভাগ রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।  

বিভিন্ন কারণে গুলশান ও বারিধারা দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে প্রায় ৫ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এখানে রয়েছে আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, কোরিয়া, চীন ও ফ্রান্সসহ শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর দূতাবাস। একই সঙ্গে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি অর্ধশতাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেবাদানকারী সংস্থাগুলো এলাকাটির উন্নয়ন কাজ করতেও বার বার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। গুলশান-১ থেকে তেজগাঁওগামী রাস্তার মেরামত ও উন্নয়ন কাজ গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে চলতি বছরের ৩০ মার্চে শেষ হওয়ার কথা ছিল। 
আর রাস্তাটি মেরামতের জন্য একপাশে কয়েক ফুট চওড়া করে কেটে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন। কিন্তু রাস্তাটির ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি ঢাকা ওয়াসা। আর কিছু রাস্তায় ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হলেও এগুলো কার্পেটিং না করে ফেলে রাখা হয়েছে প্রায় ৩ মাস। বৃষ্টিতে খানাখন্দক, গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। 
ফলে এসব রাস্তায় যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ির চাকা কাটা রাস্তার খাদে পড়ে যায়। অন্যদিকে খুঁড়ে রাখা রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে। সেবা সংস্থাগুলোর উন্নয়ন কাজের লক্ষ্যে খোঁড়াখুঁড়ির ২৮ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তা মানছে না। কাজ শুরু করলে তা মাসের পর মাস ঢিমেতালে চলতেই থাকে। 
সরেজমিন দেখা গেছে, মার্কিন দূতাবাসসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী এভিনিউয়ের ভাঙাচোরা সড়কটি মাসতিনেক আগে কার্পেটিং করা হয়। গত মাসে সড়কটি কেটে পয়ঃনিষ্কাশন লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করলেও এখনো পুরো কাজ শেষ হয়নি। বারিধারা ১২ নম্বর রাস্তার সংস্কার হয় না দীর্ঘদিন। পুরো রাস্তার মাঝেমধ্যে খানাখন্দ থাকায় যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। এদিকে গুলশান-১ চত্বর থেকে গুলশান-২, তেজগাঁও, মহাখালী অভিমুখের রাস্তার ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের অনুপোযগী। শাখা সড়কগুলোর অধিকাংশই খানাখন্দে ভরা।
গুলশান-২ এর ৫৩ নম্বরটি মাঝেমধ্যে গর্ত ও রাস্তার দু’পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ৫১ নম্বর রাস্তাটির পুরোটাই ভাঙাচোরা ও ড্রেনেজ সমস্যা। আর ম্যানহোলে ঢাকা না থাকায় একটু বৃষ্টিতেই রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা যুক্ত পানি জমে যায়। একটু বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যায়। 

গুলশান-১ এর ৯, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। সরু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে একটু বৃষ্টিতে গুলশান এভিনিউর ৯০ ও ৯১ নম্বর রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গুলশান দক্ষিণ এভিনিউ এলাকার দক্ষিণ অংশে বেশ কয়েকটি রাস্তার অবস্থা খারাপ। 

একই অবস্থা গুলশান ক্লাবের পেছনে রাস্তাগুলোর। এছাড়া প্রায় ৩ মাস আগে ১৩৪ থেকে ১৩৮ নম্বরসহ বেশ কয়েকটি রাস্তায় ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পয়ঃনিষ্কাশন লাইন স্থাপন করে খোঁড়া রাস্তা কার্পেটিং না করে ফেলে রেখেছে কয়েক মাস। কবেনাগাদ এগুলো কার্পেটিং করা হবে তার সঠিক তথ্যও দিতে পারছে না সংস্থাগুলো।
ঢাকা-উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল খায়ের বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে একসঙ্গে সব রাস্তা সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সাধ্য অনুযায়ী যতুটুক সম্ভব উন্নয়ন ও মেরামত কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য সেবা সংস্থার ঠিকাদাররা দ্রুত কাজ শেষ করতে না পারায় উন্নয়ন কাজের জন্য সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়। 
আবার অনেক সংস্থা তাদের উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি করে রাস্তা সঠিকভাবে কার্পেটিং করে না। এতে অনেক সময় রাস্তার অনেকাংশ ভেঙে যায়। তবে মূল রাস্তার দুই পাশে ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য আলাদা ডকটাইল লাইন না করা পর্যন্ত রাস্তাগুলো রক্ষা করা যাবে না বলে তিনি জানান।
http://manobkantha.com/2013/05/27/122791.html

Friday, May 24, 2013

পানিতে ভাসছে ঢাকার নিম্নাঞ্চল: জনদুর্ভোগ চরমে


এম এ বাবর:
প্রবল বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানের সড়ক মহাসড়ক। টানা বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। গত বুধবার মাঝ রাত থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক এলাকার ফসলি জমি। এমনকি সড়ক-মহাসড়কের কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। 
অবিরাম বর্ষণে সারাদেশের মতো রাজধানীরও কয়েকটি এলাকা হাঁটুপানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে নগরবাসী। এছাড়া দিনভর বৃষ্টির কারণে গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জবাসীর জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে সারাদেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয় টাঙ্গাইলে ৮২ মিলিমিটার। অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ    বজলুর রহমান জানান, কালবৈশাখীর প্রভাবে আজ শুক্রবারও ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। 

আর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত  উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে রাজধানীতে গতকাল ভারি বর্ষণে নগরজীবনে বয়ে এনেছে দুর্ভোগ। বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণ না হওয়ায় ড্রেন ও স্যুয়ারেজ লাইন থেকে বেরিয়ে আসা নোংরা পানি রাস্তায় জমা হলে পথচারীরা সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টিতে অলিগলিসহ ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কের বেশিরভাগই চলে যায় হাঁটুপানির নিচে। সরকারি ছুটি থাকলেও কর্মমুখী মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেননি। 

রাস্তায় যান চলাচলও ছিল খুবই কম। কিছু পাবলিক বাস চলাচল করলেও তাতে যাত্রীদের উঠতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে। অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে বাইরে বের হতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুররা। আর বৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতার কারণে দোকান বসাতে পারেননি হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা পৌনে ১১টার দিকে কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবনের সামনের সড়কে পানি জমে আছে। বেলা ১২টার সময় ব্যাংকপাড়া মতিঝিলের বনশিল্প ভবন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আশপাশের রাস্তায় জমে আছে হাঁটুপানি। জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকেই ধানমণ্ডির জিগাতলা থেকে হাজারীবাগ রাস্তায় রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 
মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে, মিরপুরের সনি সিনেমা হল থেকে চিড়িয়াখানা রাস্তা ও মাজার রোড এবং গাবতলীর বিভিন্ন স্থানেও পানি জমে থাকতে দেখা যায়। একই অবস্থা দেখা যায় গুলশান, বারিধারা, মৌচাক, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মহাখালী, মগবাজার, ফার্মগেট, ফকিরাপুল, কমলাপুর, কাকরাইল, মালিবাগ, শান্তিনগর, মৌচাক, সিদ্ধেশ্বরী, বেইলি রোড, মগবাজার, খিলগাঁও, মাদারটেক, বাসাবো, বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী, মেরাদিয়া, গোড়ান, খিলগাঁও, কাঁঠালবাগান, যাত্রাবাড়ী, কলাবাগান, পল্লবী, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরসহ বেশকিছু এলাকায়।
জলাবদ্ধতার কারণে এসব রাস্তায় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও ট্যাক্সিক্যাবের সাইলেন্সারে পানি ঢুকে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে যায়। অন্যদিকে জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল ভোর থেকে টানা বৃষ্টিতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েছে জেলাবাসী। ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত বেশি বৃষ্টিপাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এতে মাহসড়কে ভয়াবহ জানজট সৃষ্টি হয়ে দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। জেলার কালিগঞ্জ, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, টঙ্গী, শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। টঙ্গীর শিল্পাঞ্চলে স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল ও শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বৃষ্টির পানি ঢুকে যায়। প্রবল বর্ষণে প্লাবিত হয় গাজীপুরের নিুাঞ্চল বোর্ড বাজার, বড়বাড়ি, টঙ্গীর বিসিক এলাকা, টঙ্গী থানা ও এরশাদনগর এলাকা। এদিকে তুরাগ, শীতলক্ষ্যাসহ জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানিই বৃদ্ধি পেয়েছে।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হন পৌরবাসী। গতকাল সকালে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জমে যায় হাঁটুপানি। শহরের প্রবেশমুখে এমন জলাবদ্ধতায় যানবাহন চলাচল বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি দিনভর ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সদর হাসপাতাল ফটক পর্যন্ত হাঁটুপানি জমে যায়। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় কর্নেল মালেক সড়কের পৌর এলাকার মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে রমজান আলী ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জে দিনভর বৃষ্টির কারণে জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। শহরের রাস্তাঘাটে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। গত কয়েকদিন ধরে টানা আবার কখনো থেমে থেমে এই বৃষ্টির কারণে ফসলেরও ক্ষতি হচ্ছে। লৌহজং, শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলার শত শত একর জমির উঠতি বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। গতকাল কয়েক ঘণ্টায় মুন্সীগঞ্জে ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে উল্লেখ করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জানান, বৃষ্টিতে এখানে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, দুই দিনের টানা বর্ষণে রূপগঞ্জে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার গোলাকান্দাইল, নাগেরবাগ, ৫নং ক্যানেল, আড়িয়াব, মাসাবো, বরপা, গোলাকান্দাইল ইসলামবাগ, আউখাবো, ভাণ্ডাব, সোনাব, কর্ণগোপ, কালি, ডুলুরদিয়া, আমলাব, শিংলাব, আতলাশপুরসহ ২০ গ্রামের দুই লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রবল বর্ষণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় শত শত বিঘা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সবজি চাষের। এ ক্ষতি চলতি মৌসুমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুষলধারের টানা বৃষ্টিতে নারায়ণগঞ্জে ডিএনডি বাঁধের ভেতরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় এলাকার লোকজন গতকাল প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে এসে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ তুলে নেয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-ডেমরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে সিদ্ধিরগঞ্জের   গোদনাইল, চৌধুরীবাড়ি, এনায়েতনগর ও জেলেপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার পানিবন্দি হাজার হাজার নারী-পুরুষ। জেলেপাড়া এলাকায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে রেখে অবরোধ করে এলাকাবাসী।
http://manobkantha.com/2013/05/24/122313.html

Thursday, May 23, 2013

উন্নয়ন কাজ ও খোঁড়াখুঁড়িতে দুর্ভোগে রাজধানীবাসী


এম এ বাবর
রাজধানীর রাস্তার বেহাল অবস্থা! প্রায় দেড় কোটি মানুষ বসবাসকারী ঢাকা মহানগরীর রাস্তাগুলোর ওপরে শনির আছর যেন কাটছেই না। রাস্তা উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নগরীর রাস্তাঘাটের বেহাল দশা ও নানা সমস্যায় জনদুর্ভোগের শেষ নেই। এমনকি কূটনৈতিক পাড়া হিসেবে খ্যাত গুলশান-বারিধারা এলাকার রাস্তাগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ। 
উন্নয়নের লক্ষ্যে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ ২৮ দিনের মধ্যে শেষ করার নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তা মানছে না। কাজ শুরু করলে তা মাসের পর মাস ঢিমেতালে চলতেই থাকে। 
অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) আওতায় ২ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এছাড়া রাস্তার সঙ্গে ২ হাজার ৪৬০ কিলোমিটার নর্দমা, ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাত ও ২শ’ কিলোমিটার মিডিয়ান রয়েছে। ডিসিসির আওতাধীন এই রাস্তা, ফুটপাত ও সারফেস ড্রেন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার খাতে বিগত পাঁচ অর্থবছরে বরাদ্দ হয়েছে এক হাজার ২৮৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। 
এরমধ্যে চলতি অর্থবছরে (২০১২-১৩) বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) ৩১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি) ১৪৬ কোটি টাকা। কিন্তু এ বিপুল পরিমাণ বরাদ্দকৃত টাকার কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সংস্থা দুটির এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে কাজ না করেই অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এদিকে রাস্তা উন্নয়ন ও সংস্কারের অভাবে বর্ষা মৌসুমে নগরীর বেশিরভাগ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আর নামমাত্র কিছু কাজ করা হলেও তাতে চলে নানা অনিয়ম। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমের আগে এসব কাজ শুরু হওয়ায় নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ।


সরেজমিন দেখা গেছে, গুলশান-১ থেকে তেজগাঁওগামী রাস্তার মেরামত ও উন্নয়ন কাজ গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে চলতি বছরের ৩০ মার্চে শেষ হওয়ার কথা ছিল। আর রাস্তাটি মেরামতের জন্য একপাশে কয়েক ফুট চওড়া করে কেটে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন। কিন্তু রাস্তাটির ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি ঢাকা ওয়াসা। ফলে কাটা রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। মাঝে মধ্যে ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও।
কূটনৈতিকপল্লী হিসেবে পরিচিত বারিধারা এলাকার মার্কিন দূতাবাস সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ের ভাঙাচোরা রাস্তাটি মাস তিনেক আগে কার্পেটিং করা হয়। গত মাসে সড়কটি কেটে পয়ঃনিষ্কাশন লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করে এখনো শেষ করতে পারেনি ঢাকা ওয়াসা। একইভাবে শ্যামলী রিং রোডটি মেরামত করা হয় গত জানুয়ারিতে। ওই সড়কটিও আবার কাটা শুরু করেছে ওয়াসা। এছাড়া গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার প্রকল্পের কিছু অংশে এখনো পাইলিং চলছে। বেশিরভাগ অংশের পাইলিং বছরখানেক আগে শেষ হলেও রাস্তাগুলো ঠিকভাবে মেরামত হয়নি। গত মার্চে শুরু হয়েছে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ। এ কারণে মগবাজার থেকে ইস্কাটন ও তেজগাঁওগামী রাস্তায় শুরু হয়েছে খোঁড়াখুঁড়ি। একই প্রকল্পের অন্য প্যাকেজের জন্য মগবাজার-মৌচাক এলাকার মাঝখানে খোঁড়া শুরু হচ্ছে। আগামী এক বছর ধরে সাতরাস্তা মোড় থেকে শুরু করে এফডিসি মোড়, মগবাজার, মৌচাক, শান্তিনগর, মালিবাগ, চৌধুরীপাড়া ও রমনা থানা মোড় পর্যন্ত বড় এলাকাজুড়ে চলবে এই খোঁড়াখুঁড়ি।
গত ৩০ মার্চের মধ্যে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর থেকে কাজীপাড়া ও রোকেয়া সরণি পর্যন্ত ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পানির লাইন স্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু রাস্তা খুঁড়ে রাখলেও এখনো ওই কাজ শেষ হয়নি। এছাড়া কলাবাগান থেকে উত্তর ধানমণ্ডি এলাকায় গ্যাস পাইপলাইনের কাজ গত ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও এখনো শেষ করতে পারেনি তিতাস কর্তৃপক্ষ।
ডিপিডিসির পক্ষ থেকে ১১ কেভি ভূগর্ভস্থ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২৫৬ এলিফ্যান্ট রোড থেকে সোনারগাঁও রোড পর্যন্ত রাস্তা খোঁড়ার অনুমতি নিয়ে ৩০ মার্চের মধ্যে কাজ শেষের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা শেষ করেনি। একইভাবে বিজয়নগর, মৌচাক ক্রসিং, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ক্রসিং ও সোনারগাঁও ক্রসিংসহ মোট ১৩টি পয়েন্টের খননকাজ নির্ধারিত ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করতে পারেনি বিটিসিএল।
ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দ্রুত সময় কাজ শেষ করার জন্য নির্ধারিত সময় ধরে দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের। কিন্তু নানা কারণে তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক কাজ শেষ করতে পারেন না। তখন আবেদন করলে কাজের সময় কিছুদিন বাড়িয়ে দেয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তার খারাপ অবস্থা তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে যে ঠিকাদার সড়ক মেরামত করেন, তা আগের মানের হয় না। ফলে মেরামত করা অংশ কিছুদিনের মধ্যেই দেবে যায়। রাস্তার উপরিভাগ ভেঙে ইট-সুরকি বেরিয়ে পড়ে।’
ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল খায়ের বলেন, ‘মূল রাস্তার পাশে ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য আলাদা ডকটাইল লাইন না থাকায় বিভিন্ন সেবা সংস্থা কিছুদিন পর পর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে। যত ভাল করেই রাস্তায় ঢালাই দেয়া হোক না কেন এভাবে খোঁড়াখুঁড়িতে রাস্তার অবস্থা বেহাল হবেই। তবে সংস্থার সাধ্যানুযায়ী রাস্তার মান রক্ষায় কাজ করা হচ্ছে।’
http://manobkantha.com/2013/05/23/122186.html
http://www.emanobkantha.com/2013/05/23/index.php

Saturday, May 18, 2013

মাত্র তিন মিলিমিটার বৃষ্টিতে রাজধানী সয়লাব!

এম এ বাবর:
মাত্র তিন মিলিমিটার (মিমি) বৃষ্টিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেশিরভাগ রাস্তায় পানি জমে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তা তলিয়ে যায় হাঁটু পানির নিচে। এতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বেড়ে যায় জনদুর্ভোগ। 


আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের কারণে উপকূলের জেলাগুলোর মতো রাজধানীতেও থেমে থেমে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে তিন মিমি। আর দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪৫ মিমি। ঘূর্ণিঝড়ের এই রেশের কারণে আজ শুক্রবারও রাজধানীতে এই ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শাহ আলম জানান।
এদিকে সকাল থেকে টানা বৃষ্টিপাতে প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজধানী। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে যায় বৃষ্টিপাতের পরিমান। আর বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণ না হওয়ায় ড্রেন ও স্যুয়ারেজ লাইন থেকে বেড়িয়ে আসা মলমুত্র যুক্ত দুর্গন্ধ পানি রাস্তায় জমা হয়ে থাকে।  দুপুর পর্যন্ত অবিরাম বৃষ্টিতে অলি গলিসহ ঢাকার প্রধান-প্রধান রাস্তাগুলোর বেশিরভাগই চলে যায় পানির নিচে। এতে দুর্ভোগে পড়েন স্কুল ও অফিসগামী মানুষেরা। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের স্কুলে নেয়া-আনায় অভিভাবকরা পড়েন মহাবিপাকে। অনেক শিক্ষাথীর স্কুলে যাবার পথে বইসহ ভিজে যায় পরিধেয় পোশাক। 
সরেজমিন দেখা যায়, বেলা আড়াইটার সময় ব্যাংক পাড়া মতিঝিলের বনশিল্প ভবন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আশপাশের রাস্তায় জমে আছে হাঁটু পানি। জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকেই ধানমন্ডির জিগাতলা থেকে হাজারিবাগ রাস্তায় রিক্সা, সিএনজি অটোরিক্সা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে, মিরপুরের সনি সিনেমা হল থেকে চিড়িয়াখানা রাস্তায়ও মাজার রোড এবং গাবতলীর বিভিন্ন স্থানেও পানি জমে থাকতে দেখা যায়। একই অবস্থা দেখা যায়, গুলশান, বারিধারা, মৌচাক, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মহাখালী, মগবাজার, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, ফকিরাপুল, কমলাপুর, কাকরাইল, মালিবাগ, শান্তিনগর, মৌচাক, সিদ্ধেশ্বরী, বেইলি রোড, মগবাজার, খিলগাঁও, মাদারটেক, বাসাবো, বাড্ডা, রামপুরা, বনশ্রী, মেরাদিয়া, গোড়ান, খিলগাঁও, কাঁঠালবাগান, যাত্রাবাড়ী, কলাবাগান, পল্লবী, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরসহ বেশকিছু এলাকায়। জলাবদ্ধতার কারণে এসব রাস্তায় প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও ট্যাক্সি ক্যাবের সাইলেন্সারে পানি ঢুকে যাওয়ায় বেশকিছু যানবাহনকে বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে বিকেল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। সকাল থেকে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর রাস্তায় যানবাহন ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কম। ফলে সিএনজি, ট্যাক্সি ক্যাব ও রিক্সা পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় লোকজনকে। পেলেও আরোহীদের ভাড়া গুনতে হয় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
আমিরুল ইসলাম নামের এক বাসযাত্রী বলেন, ‘বাসে গুলিস্থান থেকে মেরুল বাড্ডা যেতে সময় লাগে এক ঘণ্টা। কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) লেগেছে আড়াই ঘণ্টা।’ গাড়ি না পেয়ে মানির হোসেন নামের আরেক ব্যক্তি মাতিঝিল থেকে রামপুরা যান হেঁটে হেঁটে। তিনি বলেন, ‘অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি পাইনি। মৌচাক ও মালিবাগে পানি জমে থাকায় রিক্সা কিংবা সিএনজি ওই দিকে যেতে চায়নি। তাই হাঁটা শুরু করলাম।’
রাজধানীজুড়ে এই জলাবদ্ধতার জন্য ঢাকা ওয়াসার দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন সাধারণ মানুষ। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ১৫ মিলিমিটার থেকে সর্বোচ্চ ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে সেই পানি এক ঘণ্টায় অপসারণ করা সম্ভব। কিন্তু রাজধানীর ৬৫টি খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিষ্কাশন লাইনে বালু, কংক্রিট ইত্যাদি জমে যাওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে যেতে পারছে না। এ জন্য তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন। নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজ চলছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, কাজ শেষ হলে এ ধরনের সমস্যা থাকবে না।

http://manobkantha.com/2013/05/17/121337.html

Thursday, May 16, 2013

যেসব ঝড় সামলাতে পারেনি বাংলাদেশ


আদিত্য আরাফাত, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
যেসব ঝড় সামলাতে পারেনি বাংলাদেশ
ঢাকা: ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানলে যদিও দুর্যোগের সৃষ্টি হয়, কিন্তু এটি আবহাওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পৃথিবীতে তাপের ভারসাম্য রক্ষা করে। পৃথিবীতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮০টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়।
এর অধিকাংশই সমুদ্রে মিলিয়ে যায়, কিন্তু যে অল্প সংখ্যক উপকূলে আঘাত হানে, তা অনেক সময় ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করে।

ঘূর্ণিঝড় কী:
‘ঘূর্ণিঝড়’ বা ‘ঘূর্ণিবাত্যা’ হলো- ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে সৃষ্ট বৃষ্টি, বজ্র ও প্রচণ্ড ঘূর্ণি বাতাস সম্বলিত আবহাওয়ার একটি নিম্নচাপ প্রক্রিয়া (low pressure system), যা নিরক্ষীয় অঞ্চলে উৎপন্ন তাপকে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত করে।
এই ধরনের ঝড়ে বাতাস প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে ছুটে চলে বলে এর নামকরণ হয়েছে ‘ঘূর্ণিঝড়’।
ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণন উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে প্রবাহিত হয়।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বাংলানিউজকে বলেন, “ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি মূলত নিম্নচাপ থেকে। নিম্নচাপ বিশিষ্ট ঝড়কেই ‘ঘূর্ণিঝড়’ বলা হয়।”

তিনি জানান, ঘূর্ণিবাত্যার কেন্দ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে চাপের সমতা রক্ষার জন্য চতুর্দিকে উচ্চচাপের শীতল বায়ু ওই কেন্দ্রের দিকে প্রবল গতিতে ধাবিত হয় এবং কেন্দ্রে গিয়ে তা ঊর্ধ্বগামী হয়।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, পৃথিবীতে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮০টি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়। এর অধিকাংশই সমুদ্রে মিলিয়ে যায়। কিন্তু যে অল্প সংখ্যক উপকূলে আঘাত হানে, তা অনেক সময় ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করে।

বাংলাদেশে ৯১ সালের প্রলঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’, ‘আইলা’ বহু প্রাণহানি ঘটিয়ে উপকূলের অসংখ্য মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

গত কয়েক দশক ধরে বঙ্গোপসাগরে অসময়ে এবং ঘন ঘন সৃষ্টি হচ্ছে নানা সামুদ্রিক দুর্যোগ। সাইক্লোন সিজন বা ঘূর্ণিঝড় মৌসুমগুলো ব্যতিক্রমী আচরণ শুরু করেছে। আর সম্প্রতি তা চরম আকার ধারণ করেছে। ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে মাত্রাতিরিক্ত লঘুচাপ ও নিম্নচাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি, গতি, সংখ্যা এবং স্থায়িত্বের রেকর্ডও দিন দিন পেরিয়ে যাচ্ছে। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ১৯৭০, ১৯৯১, ২০০৭ ও ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব দেখে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য থেকে জানা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলে ১৫৮৪ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ৩৮৫ বছরে অস্বাভাবিক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সংখ্যা ছিল ২৭টি।

এরপর মে-১৯৭০ সাল থেকে মে-২০০৯ সাল পর্যন্ত মাত্র ৩৯ বছরে একই ধরনের দুর্যোগের সংখ্যা ছিল ২৬টি।

একটি বেসরকারি সংস্থা তাদের ‘নিরাপদ বার্তা’ নামে প্রকাশনায় জানিয়েছে, ১৮৭৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত গত ১২৫ বছরে বাংলাদেশের উপকূলে ৮৩টি বড় ও মাঝারি ধরনের ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।

এই ৮৩টি ঝড়ের মধ্যে একটিও জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও জুলাই মাসে আঘাত হানেনি।

পরিবেশ বিষয়ক গবেষক আজিজুর রহমান সম্প্রতি তার এক নিবন্ধে জানান, গত কয়েক বছর ধরে দেশে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কমে আসছে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির ব্যবধান। আগে ১০, ১৫ কিংবা ২০ বছর পর পর ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলেও এখন এ ব্যবধানের সময়টা ৪-৫ বছরে নেমে এসেছে।

তিনি জানান, কয়েক বছর আগেও নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে ১ বা ২ নম্বর সতর্ক সংকেতের বেশি দেখানো হতো না। এখন লঘুচাপ ও নিম্নচাপ সৃষ্টির প্রকোপ এবং শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্র বন্দরগুলোকেও মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় প্রতিমাসেই একাধিকবার সরাসরি ৩ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হচ্ছে।

প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে ১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর আঘাত হানা ‘গোর্কি’ নামে ঘূর্ণিঝড়টির স্থায়িত্ব ছিল ৫ ঘণ্টা, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ‘হারিকেন’ নামে ঘূর্ণিঝড়টির স্থায়িত্ব ছিল ১১ ঘণ্টা এবং ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর আঘাত হানা সুপার সাইক্লোনটির স্থায়িত্ব ছিল ২৪ ঘণ্টা।

২০০৭ ও ০৯ সালের ‘সিডর’ এবং ‘আইলা’র ভয়াবহতা মানুষ ভুলতে পারেনি আজও। এবার দেখে নেওয়া যাক উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ের চিত্র।

’৬০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে নিহত ১৩ হাজার:

 ১৯৬০ সালের অক্টোবরে দুবার ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। প্রথমবার ৮ ও ৯ অক্টোবর। এ ঘূর্ণিঝড়ে মেঘনা নদীর খাঁড়ি অঞ্চল ও নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ, ফরিদপুর, পটুয়াখালী অঞ্চলের তিন হাজার মানুষ মারা যান। ঝড়ের বেগ ছিল ২০১ কিলোমিটার ঘণ্টায়। ৬২ হাজার ৭২৫টি বাড়িঘরের ক্ষতি হয়।

এছাড়া ৩০-৩১ অক্টোবর ২১০ কিলোমিটার বেগে সংঘটিত ঝড়ে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলায় ১০ হাজার মানুষ মারা যান।

গবাদিপশু মারা যায় ২৭ হাজার ৭৯৩, পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়, যার ৭০ শতাংশই হাতিয়ায়। সাগরগামী দুটি বড় জাহাজ উপকূলে উঠে পড়ে ও পাঁচ-ছয়টি লাইটারেজ জাহাজ কর্ণফুলীতে ডুবে যায়।

ভোলা সাইক্লোন ১৯৭০:

এ বছরের ৭ থেকে ১৩ নভেম্বর ভোলা সাইক্লোনে প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।

চট্টগ্রাম, ভোলা, চরফ্যাসন, মনপুরা, সন্দ্বীপ, বরগুনা, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, বোরহানুদ্দিন, চর তজুমদ্দিন, দক্ষিণ মাঈজদী, হারিয়াঘাটা এলাকার ওপর দিয়ে এ সময় ২২২ কিলোমিটার বেগে ঝড় হয়েছিল।

২০ হাজার জেলে নৌকা নিখোঁজ হয়েছিল। ১০ লক্ষাধিক গবাদিপশু মারা গিয়েছিল অথবা হারিয়ে গিয়েছিল জলোচ্ছ্বাসে।

বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছিল চার লাখের বেশি। এ ঝড়পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলা, ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার অপ্রতুলতা ইত্যাদি নিয়ে তখন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছিল।

২৪-২৫ মে ১৯৮৫:

চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজারের সন্দ্বীপ, হাতিয়া, উড়িরচরে ঝড়টি হয়। চট্টগ্রামে ১৫৪ কিলোমিটার বেগে, সন্দ্বীপে ১৪০ কিলোমিটার, কক্সবাজারে ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হয়। ৩ থেকে ৬ মিটার উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসে সম্পদের ক্ষতির সঙ্গে মানুষ মারা যায় ১১ হাজার ৬৯ জন, এক লাখ ৩৬ হাজার গবাদিপশুও মারা যায়।

২৪-৩০ নভেম্বর ১৯৮৮:

যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, বরিশাল ও খুলনার উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চলে ১৬২ কিলোমিটার বেগে সংঘটিত ঝড়ে পাঁচ হাজার ৭০৮ জন মারা গিয়েছিল। এ ঝড়ে সুন্দরবনে ১৫ হাজার হরিণ ও ৯টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার মারা গিয়েছিল। গবাদিপশু মারা যায় ৬৫ হাজার। এ ঝড়ে সম্পদের ক্ষতি হয় ৯৪১ কোটি টাকার।

১৯৯১ সালের চট্টগ্রাম ঝড়:

১৯৯১ সালের ২৯ ও ৩০ এপ্রিল চট্টগ্রাম ঝড়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষ মারা যায় এবং গবাদিপশু মারা যায় প্রায় ৭০ হাজার। সব মিলিয়ে এ ঝড়ে ৬০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

১৯৯১ সালের ২৯ ও ৩০ এপ্রিল ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার। তবে এনওএএ-১১ নামক স্যাটেলাইটের রেকর্ড থেকে বলা হয়েছিল, ঝড়টির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার।

এটি ভারত মহাসাগর থেকে উত্থিত হয় এবং ২০ দিন পর বঙ্গোপসাগরে এসে পৌঁছায় ও চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানে।

ঝড়টি ৬০০ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে ঘূর্ণন করে। উপকূলীয় এলাকায় পাঁচ থেকে আট মিটার উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হয়ে তলিয়ে গিয়েছিল ফসলের মাঠ, ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল ঘর, গাছপালা ও পশুপাখি।

সিডর:

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ঙ্করী এ ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করে দেয় বাংলাদেশের সুন্দরবন, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট।

২৬০ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হওয়া এই ঝড়টি মধ্য বঙ্গোপসাগরে হঠাৎ উত্থিত হয়েই শক্তিশালী হয়ে পড়ে।

প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ এ ঝড়ে মারা যান। সেভ দ্য চিলড্রেন ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিসংখ্যান মতে, মৃতের সংখ্যা পাঁচ থেকে ১০ হাজারের মধ্যে ছিল।

আইলা:

২০০৯ সালের ২৭ মে বাংলাদেশ ও ভারতে আঘাত হানে আইলা। এ ঝড়ে ৩৩০ জন মারা গেলেও সাড়ে আট হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়। বাড়িঘর থেকে স্থানচ্যুত হয় ১০ লাখের বেশি মানুষ। আইলা পরবর্তী দুর্যোগে সাত হাজারের বেশি মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়।

নিরাপদ পানির ঘাটতি দেখা দেয়। সম্পদের ক্ষতি হয়েছিল ৫৫ কোটি ২৬ লাখ ডলারের।

http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=65828ba9e6159fa4c38ec4a9d42ae29c&nttl=16052013196828

Monday, May 13, 2013

নগর পরিচ্ছন্নের নামে পরিবেশ দূষণ


এম এ বাবর 
মানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে না তোলা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পরিবহন চালক-হেলপারদের অসচেতনতার কারণে নগর পরিচ্ছন্নের নামে পরিবেশ দূষণ করছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি)। নিয়মানুযায়ী সংস্থাটি থেকে যেসব নাগরিক সুবিধা প্রদান করা হয় তার মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সংস্থাটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের চরম অবহেলার কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় হচ্ছে নানা অনিয়ম। 

 নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালের ২৯ ডিসেম্বর ডিসিসিকে দু’ভাগ করতে স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন সংশোধন বিল-২০১১ সংসদে পাস হয়। পহেলা ডিসেম্বর’ ১১ থেকে বিভক্ত ডিসিসির ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) হিসেবে কাজ শুরু হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ওপরেই রাখা হয়েছে ডিসিসির বর্জ্য রাখার কন্টেইনার। এসব কন্টেইনার এমনভাবে রাখা হয়েছে যে, এর অধিকাংশ ময়লা দিনভর রাস্তার ওপর জমা থাকে।  ফলে এসব কন্টেইনারের পাশ থেকে দুর্গন্ধে হাঁটা-চলা যায় না। আবার কোনো কোনো কারণে এসব কন্টেইনারের পাশে ট্রাফিক জ্যামে যাত্রীবাহী পরিবহন আটকা পড়লে দুর্গন্ধে অনেকে বমি করে দেয়। আর এসব ময়লা-আবর্জনা বেশির ভাগ অপসারণ করা হয় সকাল থেকে দুপুর ভাগে। খোলা ট্রাকে এসব ময়লা পরিবহন করার সময় রাস্তায় ময়লা ও পচা দুর্গন্ধ পানি পড়ে ওইসব এলাকাও দুর্গন্ধময় হয়ে যায়।    
এদিকে  নগরীর বিভিন্ন কন্টেইনার থেকে সংগ্রহ করা এসব ময়লা-আবর্জনা মাঝেমধ্যে  বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ডিসিসির বক্স কালভার্ট ও সার্ফেজ ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কার করে সে ময়লাও দীর্ঘদিন রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। যার ফলে এসব জমানো ময়লার দুর্গন্ধে পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাস করা দায় হয়ে যায়। 
অন্যদিকে বর্জ্যবাহী ট্রাক থেকে পুরান ঢাকার বাদামতলী থেকে নবাবগঞ্জ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা নদীর তিন কিলোমিটার এলাকায় বর্জ্য ফেলার কারণে সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে সতর্ক করেছে পরিবেশ অধিদফতর। আর বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে গত ২৮ মার্চ ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে তলব করেন পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. আলমগীর। কিন্তু প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এনামুল হক অনুপস্থিত থাকায় তার স্থলে শুনানিতে অংশ নেন লালবাগ-নবাবগঞ্জ এলাকার (অঞ্চল-৩) বর্জ্য ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন। শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্যবাহী গাড়ি থেকে বর্জ্য বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলার কথা অস্বীকার করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, লালবাগ-নবাবগঞ্জ এলাকায় ডিসিসির যে কন্টেইনারগুলো ময়লা বা বর্জ্য রাখার জন্য স্থাপন করা হয়েছে, কিছু অসচেতন লোক সেখানে ময়লা না ফেলে নদীতে নিক্ষেপ করছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কুকুর ও ময়লা স্ক্যাভেঞ্জাররা (টোকাই) জমাকৃত ময়লা থেকে ধাতব পদার্থ খুঁজে বের করার জন্য তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে। বাতাস এবং বৃষ্টিতে এ ময়লা-আবর্জনা অনেক সময় নদীতে গিয়ে পড়তে পারে। এছাড়া এলাকার মানুষ, দোকানপাট অনেক বেড়ে যাওয়ায় এখানকার সৃষ্ট আবর্জনায় অতি তাড়াতাড়ি কন্টেইনার ভরে যায় বলে অনেকে তা নদীতে ফেলছেন বলে তিনি শুনানিতে স্বীকার করেন। শুনানি শেষে পরিবেশ অধিদফতর থেকে ডিএসসিসিকে মানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী, পরিবহন চালক-হেলপারদের সচেতনতা বাড়ানো নির্দেশ দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এনামুল হক এবং ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা বলেন, সংস্থার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রযুক্তিগত সংকটের পাশাপাশি জনবল সংকটও রয়েছে। ফলে বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক প্রচুর পরিচ্ছন্নকর্মী দিয়ে বর্জ্য অপসারণ করা হয়। আর এক্ষেত্রে এ ধরনের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।  
http://manobkantha.com/2013/05/13/120734.html

তাণ্ডব চালিয়েও নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে ভূমিদস্যু আণ্ডা রফিক বাহিনীর মামলা :


 আতঙ্কে রূপগঞ্জের নাওড়াবাসী!
এম এ বাবর/হানিফ মোল্লা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় রফিকুল ইসলাম ওরফে আণ্ডা রফিক বাহিনীর তাণ্ডবে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত শনিবার রফিক তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এলাকার নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করেছে। এতে চারজন নিরীহ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 
এদিকে নাওড়া গ্রামবাসী অভিযোগ করেছেন, রফিক সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নিরীহ মানুষের প্রতি গুলি চালিয়েছে, আবার তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ    দিয়ে মামলা দায়ের করেছে। আর এ মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রামের অনেক নিরীহ পুরুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।  সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল পৌনে ১০টায় ভূমিদস্যু আণ্ডা রফিক সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এলাকায় মহড়া দিতে গিয়ে গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়েন। 
তার পূর্ব অপকর্মের জের ধরে কয়েকশ’ এলাকাবাসী তাকে ঘিরে ফেলে। নিরীহ কৃষকের জমি দখল করার পাঁয়তারা করছে এমন আশঙ্কা করে এলাকাবাসী রফিকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় রফিক বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র তাক করে গ্রামবাসীকে ধাওয়া করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাওড়া এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ রফিক বাহিনীকে পাল্টা ধাওয়া দেয়। রফিক বাহিনী ও গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলার এক পর্যায়ে রফিক বাহিনীর লোকজন আশিয়ান শীতলছায়া প্রকল্পে ঢুকে পড়ে। তারা শীতলছায়ায় নিয়োজিত আনসার বাহিনীর সদস্য, গার্ড, কর্মচারী ও গ্রামবাসীর ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় রানা, আমির হোসেন আমির হামজা ও ফারুক নামে চারজন গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়। অন্যদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে আশিয়ান শীতলছায়ার আনসার সদস্যরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সঙ্গে যোগ দেয় শত শত এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী রফিক ও তার সহযোগীদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে দুপুর ২টার দিকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে আণ্ডা রফিককে প্রশাসন উদ্ধার করে। 

এদিকে ওই ঘটনার কেন্দ্র করে গতকাল রোববার আণ্ডা রফিকের চাচা কফিলউদ্দিন বাদী হয়ে নাওড়ার বদিউজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, শাখাওয়াতুল্লাহ, আলী আজগর, নুর ইসলাম, ছলু, সাইফুল ইসলাম, রুবেল মিয়া, লিটন, রাসেল, দেলোয়ার হোসেন, আজিজুল্লা, নুরুল ইসলাম, রাজুসহ ১৮জন নাম উল্লেখ করে দেড় শতাধিক নিরীহ লোকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সৃজন করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে শনিবার রফিক বাহিনীর তাণ্ডব ও পরবর্তীতে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। রূপগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে নাওড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে বেশকিছু পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈনুর রহমান বলেন, ‘শনিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কফিলউদ্দিন নামে একজন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। বিষয়টি তদন্তে থাকায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।’ 

নাওড়ার দরিদ্র পরিবার আমান উল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম। সাত-আট বছর আগেও রূপগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে ডিম সংগ্রহ করে রাজধানীর বনানী বাজারে বিক্রি করতেন তিনি। এরপর একই বাজারে কিছুদিন একটি ফলের দোকান দেন। ওখান থেকে একটি হাউজিং কোম্পানির জমির দালালি শুরু করেন তিনি।  আর এখানে থেকে তার অন্যায়-অনিয়মের সূত্রপাত শুরু। খুব কম সময়ের মধ্যেই তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। স্থানীয় নিরীহ মানুষের জমি জাল-জালিয়াতি ও জোড়পূর্বক দখল করার অভিযোগে ভূমিদস্যু রফিকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে। রূপগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, রফিকের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় ৪০(৯) ২০০৯, ৪১ (৯) ২০০৯, ৫৬ (৮) ২০০৮, ২৭ (৪) ২০০৯, ০৮ (৪) ২০১২, ১৬ (৫) ২০১০ মামলাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
http://manobkantha.com/2013/05/13/120716.html

Saturday, May 11, 2013

মাছের তেল নয়, বরং মাছ হার্টের জন্য হিতকর।

মাছ খাবেন, ফিস ক্যাপসুল আর নয়

ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম
এতদিন ধরে আমরা মাছের তেল বা ফিস অয়েল বা ফিস অয়েলসমৃদ্ধ ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট সেবনকে উত্সাহিত করে আসছি। আর ফিস অয়েল হার্ট এ্যাটাক রোধ করে বলা হয়ে থাকে। কিন্তু বিশেষজ্ঞগণ এখন বলছেন, ফিস অয়েল বা ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্টের হার্ট এ্যাটাক রোধের কোন ক্ষমতা নেই। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, মাছের তেল নয়, বরং মাছ হার্টের জন্য হিতকর। 
এ কারণে বেশি বেশি করে মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মিলানের মেরিও নেগরি ইনস্টিটিউট অব ফার্মাকোলজিক্যাল রিসার্চ নামক প্রতিষ্ঠানে ফিস অয়েল নিয়ে এক গবেষণার পর এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে পূর্বেকার একাধিক গবেষণায় দাবি করা হয় যে, হার্ট ফেইলিওর অথবা হার্ট এ্যাটাকের রোগীদের ক্ষেত্রে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড নতুন করে হূদরোগে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি কমায়। কিন্তু নতুন এই গবেষণায় বিশেষজ্ঞগণ দেখেছেন, আর্টারিয়াল ফিব্রিলিয়েশন নামের একটি সাধারণ হার্ট সমস্যা থেকে হার্ট এ্যাটাক রোধে ফিস অয়েল ক্যাপসুলের কোন ভূমিকা নেই। তবে বোস্টনের টাফট ইউনিভার্সিটির কার্ডিওভাসকুলার নিউট্রিশন ল্যাবের পরিচালক ড. এলিচ মনে করেন, যারা ফ্রেশ ফিস, হার্টের জন্য হিতকর ডায়েট আহার করেন, নিয়মিত ব্যায়াম ও কায়িক পরিশ্রম করেন তাদের হার্টের সুরক্ষায় সাপ্লিমেন্টের কোন প্রয়োজন পড়ে না। এ ব্যাপারে আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের পরামর্শ হচ্ছে সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ফিস বা মাছ খেতে হবে।

হেলথ টিপস : শক্তি বাড়ায় মলা-ঢ্যালা মাছ

আকারে ছোট মলা-ঢ্যালা মাছ পুষ্টির দিক দিয়ে অনেক উঁচু মানের। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’। ভিটামিন এ শিশু  থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবার চোখের জন্য মলা-ঢ্যালা মাছ খুবই উপকারী। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় খনিজলবণও। 
এই মাছের হাড়ে রয়েছে উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’ দাঁত, হাড়, চুল ও নখের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই এই মাছে। তাই মোটা ব্যক্তিরা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে এটি খেতে পারেন। এই মাছ মানুষকে রোগ-জীবাণুর বিরুদ্ধে দ্বিগুণ শক্তিশালী করে। নতুন খাবার খেতে শিখেছে এমন শিশুদের জন্য মলা-ঢ্যালা মাছের তরকারি বা বিভিন্ন সবজির সাথে এই মাছ মিশিয়ে খিঁচুড়ি বেশ পুষ্টিকর। তবে ছোটদের েেত্র মাছের কাঁটা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বড়রা কাঁটাসহ মলা-ঢ্যালা মাছ খেতে পারলেই ভালো। কারণ খুব ছোট মাছের কাঁটাতেও রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম।
 
গর্ভবতী মায়েদের প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। এগুলো দেহে রক্ত বাড়ায়। গর্ভস্থ শিশুকে সুস্থ-সবল রাখতে এ মাছ পালন করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এতে প্রোটিন বা আমিষ রয়েছে যথেষ্ট। এ ছাড়া মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে দেহে ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমতে থাকে। এই ঘাটতি পুরুষের চেয়ে মেয়েদের হয় বেশি। তাই মেয়েরা এই মলা-ঢ্যালা মাছ নিঃসঙ্কোচে খেতে পারেন।  সূত্র : ইন্টারনেট

জন্ডিসঃ কি খাবেন না


জন্ডিসঃ কি খাবেন নাডা. মামুন-আল মাহতাব
সহযোগী অধ্যাপক, লিভার বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

জন্ডিস হয়েছে মনে করলেই মনে নানা অজানা আশঙ্কার উদ্ভব ঘটে। আর চারপাশের সবাই হয়ে উঠেন একেকজন বিশেষজ্ঞ। বিশেষ করে কি খেতে হবে আর কি খাওয়া যাবে না এই নিয়ে পরামর্শের যেন শেষ থাকে না। প্রতিদিন জন্ডিস রোগীদের চিকিত্সা করতে গিয়ে দেখতে পাচ্ছি রোগীরা তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে খুবই বিভ্রান্তিতে থাকে। বিশেষ করে লিভার বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলতে যেয়ে তাদের বিভ্রান্তি অনেক ক্ষেত্রেই বেড়ে যায়। কারণ জন্ডিস রোগীর পথ্যের ব্যাপারে আমাদের যে প্রচলিত বিশ্বাস তা অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিক চিকিত্সা বিজ্ঞানের সাথে খাপ খায় না।
জন্ডিস নিজে কিন্তু কোন রোগ নয়, বরং এটি রোগের লক্ষণ। জন্ডিস বলতে সাধারণত আমরা লিভারের একিউট প্রদাহ বা একিউট হেপাটাইটিস জনিত জন্ডিসকেই বুঝে থাকি। ভাইরাস থেকে শুরু করে নানা ধরণের ওষুধ, এলকোহল ইত্যাদি অনেক কারণেই লিভারে একিউট হেপাটাইটিস হতে পারে। আমাদের দেশে একিউট হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ হেপাটাইটিস ই, এ এবং বি ভাইরাস। এর মধ্যে প্রথম দু'টি হলো পানি ও খাদ্যবাহিত আর তৃতীয়টি ছড়ায় মূলত:রক্তের মাধ্যমে। হেপাটাইটিস এ ভাইরাস প্রধানত শিশুদের জন্ডিসের কারণ, তবে যে কোন বয়সের মানুষই হেপাটাইটিস ই ও বি ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। আমাদের প্রথাগত বিশ্বাস হচ্ছে জন্ডিস হলে বেশী বেশী পানি খেতে হবে। খেতে হবে বেশী করে আখের রস, ডাবের পানি, গ্লুকোজের সরবত ইত্যাদি। আসলে ব্যাপারটি এরকম নয়। জন্ডিস রোগীকে সাধারণ মানুষের মতোই পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে। সমস্যা হতে পারে স্বাভাবিকের চেয়ে কম পানি পান করলে। কারণ সে ক্ষেত্রে একিউট কিডনি ইনজুরি বা কিডনি ফেইলিয়্যুর হতে পারে। জন্ডিসের রোগীরা অনেক সময়ই বমি বা বমি-বমি ভাব এবং খাবারে অরুচির কারণে যথেষ্ট পরিমাণে পানি এবং অন্যান্য খাবার খেতে পারেন না। সেক্ষেত্রে রোগীকে শিরায় স্যালাইন দেয়া জরুরী হয়ে পড়ে। সাধারণের ধারণা বেশী বেশী পানি বা তরল খেলে প্রস্রাবের রং অনেকটাই হালকা বা সাদা হয়ে আসে বলে জন্ডিসের রোগীরা প্রায়শ:ই বেশী বেশী তরল খাবার খেয়ে থাকেন। তবে বাস্তবতা হলো, এতে জন্ডিস এতটুকুও কমে না। বেশী বেশী পানি খেলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় বলে তা কিছুটা হালকা হয়ে এলেও রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ এতে বিন্দুমাত্রও কমে না। বরং বিশ্রাম যেখানে জন্ডিসের রোগীদের প্রধান সমস্যা সেখানে প্রস্রাব করার জন্য রোগীকে বারবার টয়লেটে যেতে হলে রোগীর বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটে, যা রোগীর জন্য মোটেও মঙ্গলজনক নয়। তেমনিভাবে বেশী বেশী ফলের রস খাওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ এতেও একই কারণে রোগীর বিশ্রামের ব্যাঘাত ঘটে। পাশাপাশি বেশি বেশি ফলের রস খেলে পেটের মধ্যে ফার্মেন্টেশনের কারণে রোগীর পেট ফাপা, খাওয়ার অরুচি ইত্যাদি বেড়ে যায়। আখের রস আমাদের দেশে জন্ডিসের একটি বহুল প্রচলিত ওষুধ। অথচ সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে রাস্তার পাশের যে দূষিত পানিতে আখ ভিজিয়ে রাখা হয় সেই পানি মিশ্রিত আখের রস খাওয়া থেকে হেপাটাইটিস এ বা ই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছাড়াতে পারে। আমাদের দেশে আরেকটি প্রচলিত বিশ্বাস হচ্ছে জন্ডিসের রোগীকে হলুদ দিয়ে রান্না করা তরকারি খেতে দেয়া যাবেন। কারণ এতে রোগীর জন্ডিস বাড়তে পারে। আসল কথা হলো, রক্তে বিলিরুবিন নামক একটি হলুদ পিগমেন্টের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারনেই জন্ডিস দেখা দেয়। এর সাথে খাবারের হলুদের কোন ধরণের যোগাযোগ নেই। একইভাবে জন্ডিসের রোগীকে তেল-মসলা না দিয়ে শুধুমাত্র সিদ্ধ-সিদ্ধ খাবার খেতে দেয়ারও কোন যুক্তি থাকতে পারে না। এ সমস্ত রোগীদের এমনিতেই খাবারে অরুচি দেখা দেয়। তার উপর এ ধরণের খাবার-দাবার রোগীদের উপকারের চেয়ে অপকারই করে বেশী। তাই জন্ডিসের রোগীকে সব সময় এমন খাবার দেয়া উচিত যা তার জন্য রুচিকর এবং যা তিনি খেতে পারছেন। তবে মনে রাখতে হবে রোগীকে বাইরের খাবার সব সময় পরিহার করতে হবে। বিশেষ করে খুব সাবধান থাকতে হবে পানির ক্ষেত্রে। জন্ডিস থাক বা না থাক, না ফুটিয়ে পানি পান করা যাবে না।
তেমনিভাবে বাইরের খাবার যদি খেতেই হয় তবে তা অবশ্যই গরম হতে হবে। সতর্ক থাক থাকতে হবে ফুচকা, চটপটি, বোরহানি আর সালাদের ব্যাপারে। কারণ হেপাটাইটিস এ বা ই-এর মতো পানিবাহিত ভাইরাসগুলো এসবের মাধ্যমেই ছড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের খুব সাবধান থাকা উচিত। এসময় মায়েরা প্রায়শই বাইরের খাবার খেয়ে থাকেন যা থেকে তারা অনেক সময় হেপাটাইটিস ই ভাইরাস জনিত জন্ডিসে আক্রান্ত হন। আর গর্ভাবস্থায় শেষ তিন মাসে যদি হেপাটাইটিস-ই হয়, তবে তা থেকে মা ও গর্ভের শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা শতকরা পঞ্চাশ ভাগেরও বেশী। জন্ডিসের রোগীদের সাথে একই প্লেট-বাসন বা গ্লাসে খাবার বা পানি খাওয়া যাবে কিনা রোগীর স্বজনদের মনে এমন একটি প্রশ্ন থাকে। যে সমস্ত ভাইরাসের মাধ্যমে একিউট হেপাটাইটিস জনিত জন্ডিস হতে পারে, তাদের মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি ছড়ায় রক্তের মাধ্যমে। আর হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস দুটি খাদ্য ও পানি বাহিত হলেও এই দুটি ভাইরাসের কারণে রোগীর যতদিনে জন্ডিস দেখা দেয়, তখন তার কাছ থেকে আর ঐ ভাইরাস দুটি ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে। কাজেই জন্ডিস রোগীর সাথে প্লেট-বাসন শেয়ার করার মাধ্যমে কারো এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোন কারণ নেই। ঠিক তেমনিভাবে জন্ডিস রোগে আক্রান্ত মা নিশ্চিন্তে তার সন্তানকে দুধ পান করাতে পারেন তবে মার যদি হেপাটাইটিস বি ভাইরাস জনিত জন্ডিস হয়ে থাকে তবে শিশুর জন্মের সাথে সাথেই হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের টিকা এবং ইমিউনোগ্লোবুলিন ইঞ্জেকশন দেয়া অত্যন্ত জরুরী। কারণ মায়ের দুধের মাধ্যমে না ছড়ালেও, মার ঘনিষ্ট সাহচর্যে শিশুর হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা থাকে এবং আমাদের দেশে অনেক হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের রোগীই
এভাবেই এই রোগ আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তাই জন্ডিসের রোগীদের খাবারের ব্যাপারে বিভিন্ন রকম বাছ-বিচার আর সতর্কতা এসব রোগীদের ভাল থাকতে যেমন অনেক খানি সাহায্য করে তেমনি অজ্ঞতা বা ভুল ধারণার কারণে অনেক সময়েই তারা বড় ধরণের সমস্যায় পরতে পারেন। এ ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান খুবই জরুরী।

রাখে আল্লাহ মারে কে


এম এ বাবর 
রাখে আল্লাহ মারে কে? এ চিরাচরিত প্রবাদ বাক্যটি আবারো বাস্তবে প্রমাণিত হলো। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সাভার রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপে যে অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটল, তা চমকে দিয়েছে গোট বিশ্ববাসীকে। মৃত্যুপুরী থেকে ৪০৮ ঘণ্টা পর অক্ষত অবস্থায় গার্মেন্টস কর্মী রেশমা উদ্ধার হওয়া এক অভূতপূর্ব, অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক ঘটনায় ইতিহাস হয়ে থাকল বাংলাদেশ। 

এর আগে গত ২৪ এপ্রিল সাভার রানা প্লাজা ধসের পড়ার পাঁচ দিনের মাথায় শাহীনা নামের এক গার্মেন্টস কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা বিফল হয়েছিল। এরপর গত ১২ দিনে ধ্বংসস্তূপে আর কোনো জীবিত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে যখন কোনো প্রাণের স্পন্দনের আশা একবারে ছেড়ে দিয়েছিলেন ঠিক সে মুহূর্তেই মানুষের সব চিন্তা ও ধারণাকে পেছনে ফেলে
দিয়েছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জের মেয়ে রেশমা।

গতকাল (10.05.13) ছিল শুক্রবার। ধসে যাওয়া রানা প্লাজার উদ্ধার কাজের ১৭তম দিন অতিবাহিত হতে চলেছে। জুমার নামাজ শেষে অনেকেই দেখতে এসেছেন রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের সর্বশেষ পরিস্থিতি। উদ্বার কাজ চলছে, এ অবস্থায় উদ্ধারকর্মী সেনা সদস্য মোয়াজ্জেম ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে সহকর্মীদের শুনালেন নিচতলায় একজন নারী জীবিত আছেন। তার কথা শুনে সহকর্মীদের অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি। এরপর আরো দু’জন উদ্ধার কর্মী ভেতরে প্রবেশ করে নিশ্চিত হলেন সত্যিই এখনো প্রাণের স্পন্দন রয়েছে! মুহূর্তের মধ্যেই উপস্থিত সবার মুখে উচ্চৈঃস্বরে বেরিয়ে আসতে থাকল নারায়ে তকবির, আল্লাহু আকবার ধ্বনি। উপস্থিত সবাই দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে জীবিত নারীকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করতে থাকেন। চঞ্চল হয়ে ওঠে উদ্ধার কর্মীদের হাত। উদ্ধার কাজে ভারী যন্ত্র ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া হয়। হস্তচালিত যান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ থেকে রেশমাকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনার চেষ্টা শুরু হয়। মেজর দেলোয়ার ও কর্নেল মইনের নেতৃত্বে চলে রেশমাকে উদ্ধার কাজ। এ সময় ওই উদ্ধার কাজে অংশ নেন ফায়ার ব্রিগেডসহ কয়েকজন সেনা সদস্য। প্রায় ৪৫ মিনিট উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। নিচতলার নামাজের কক্ষে তিনি অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার ৪টার ২৫ মিনিটে তাকে উদ্ধার করা হয়। অলৌকিকভাবে বেঁচে রেশমা জানান, তিনি রানা প্লাজার নিউ ওয়েভ বটম কারখানায় অপারেটর পদে কাজ করতেন। ভবন ধসের সময় তিনি দৌড়ে নিচে নামতে থাকেন। নিচে নামাজের কক্ষে প্রবেশ করার পরই চারদিকে অন্ধকার হয়ে যায়। তখন তিনি আল্লাহকে স্মরণ করেন। ১৭টি দিন মেশিনে দেয়াল কাটার শব্দ ও বাইরের মানুষের ডাক-চিৎকার শুনতে পান। কিন্তু তার চিৎকার কেউ শুনে না। পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য সঙ্গে থাকা শুকনো এক খণ্ড রুটি খেয়েছেন। এরপর নিচ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া শুকনো খাবার ও মাটি খেয়েছেন। মেঝেতে জমে থাকা পানি পান করে জীবন বাঁচিয়ে রেখেছেন রেশমা। এভাবে মৃত্যুপুরীতে জীবন বাঁচাতে ৪০৮ ঘণ্টা ধরে যুদ্ধ করেছেন। অবশেষে উদ্ধার কর্মীদের জোর প্রচেষ্টায় 
বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে তাকে উদ্ধার করা হয়।
http://manobkantha.com/2013/05/11/120402.html
http://www.emanobkantha.com/2013/05/11/

Friday, May 10, 2013

১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে উদ্ধার পেলেন রেশমা


উদ্ধারের পর রেশমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে একটি বহুতল কারখানা ভবন ধসে পড়ার ১৭ দিন পর এর ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে এক মহিলাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ দমকল বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান জানিয়েছেন, ধসে পড়া ভবনের দ্বিতীয় তলার ধ্বংসস্তূপের নিচে রেশমা নামের এই মহিলা আটকে আছেন বলে উদ্ধারকর্মীরা জানতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পানি, খাবার এবং অক্সিজেন পাঠানো হয়।উদ্ধারকর্মীরা সেখানে সব ধরণের ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার বন্ধ করে দেন। কেবল হাতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তাঁকে ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে টেনে বের করা হয়।
ধসে পড়া রানা প্লাজার কয়েক হাজার টন ধ্বংসাবশেষের নিচে ১৭ দিন পর একজন জীবিত মানুষকে খুঁজে পাওয়ার এই ঘটনাকে উদ্ধারকর্মীরা 'বিস্ময়কর' বলে বর্ণনা করছেন।
"আমি দৌড়ে গিয়ে পাইপটা ধরি। দেখি ভেতরে একটা মেয়ে। মেয়েটা আমাকে বললো, স্যার আমাকে বাঁচান"
আবদুর রাজ্জাক, সেনাবাহিনীর উদ্ধার কর্মী
উল্লেখ্য এর আগে ভবন ধসে পড়ার পাঁচ দিনের মাথায় শাহীনা নামের এক মহিলা গার্মেন্টস কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা বিফল হয়েছিল।
এরপর গত ১২ দিনে ধ্বংসস্তূপে আর কোন জীবিত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় নি।

অবিশ্বাস্য ঘটনা
রানা প্লাজার ধ্বংসাবশেষে ১৭ দিন পর কাউকে জীবিত পাওয়া যাবে, এটা উদ্ধারকর্মীদের কল্পনারও বাইরে ছিল।
গত দু সপ্তাহ ধরে বুলডোজার দিয়ে সেখান থেকে শত শত টন ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে শত শত মানুষের গলিত শবদেহ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই শিল্প দুর্ঘটনার বলি হয়েছেন যারা।
নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ছবি হাতে যারা সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, তাদের শেষ ভরসা ছিল যদি প্রিয়জনের লাশটা অন্তত পাওয়া যায়।
সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে রেশমা
কিন্তু শুক্রবার বিকেলে যে অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটলো, তা চমকে দিয়েছে গোটা বাংলাদেশকে।
বেঁচে থাকা রেশমার অবস্থান প্রথম জানতে পেরেছিলেন সেনাবাহিনীর উদ্ধারকর্মী আবদুর রাজ্জাক।
শ্বাসরুদ্ধকর এই উদ্ধার অভিযানের পর টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে তিনি ঘটনার বর্ণনা দেন।
“আমরা মিডিয়ার লোকজনকে রানা প্লাজার ধ্বংসাবশেষের ওপর নিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি একটা পাইপ নড়ছে। মেয়েটা ভেতর থেকে একটা ছোট পাইপ বের করে নাড়ছিল। আমি আমার স্যারকে বললাম, স্যার এখানে লোক আছে নিশ্চয়ই।”
"অনেক কষ্ট করে চিপা দিয়ে চিপা দিয়ে লাঠি দিয়ে ভেঙ্গে নিচে নামছি। আমি অনেক ডাকছি, কেউই শুনে নাই"
রেশমা
“আমি দৌড়ে গিয়ে পাইপটা ধরি। দেখি ভেতরে একটা মেয়ে। মেয়েটা আমাকে বললো, স্যার আমাকে বাঁচান।”
রেশমার জীবিত থাকার খবর মূহুর্তে রটে যায় সাভারের দুর্ঘটনাস্থলে, তার মিডিয়ার মাধ্যমে সারা দুনিয়ায়।
শ্বাসরুদ্ধকর ৪৫ মিনিট
শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উদ্ধার কর্মীরা রেশমার সন্ধান পান। আর তাঁকে ধ্বংসাবশেষের নিচে থেকে টেনে বের করা হয় বিকেল চারটা ২৭ মিনিটে। এই ৪৫ মিনিট বাংলাদেশের মানুষ শ্বাসরুদ্ধকর প্রতীক্ষায় ছিলেন রেশমাকে জীবিত দেখার আশায়।
১২ দিন আগে একই ভাবে সন্ধান পাওয়া আরেক গার্মেন্টস কর্মী শাহীনাকে উদ্ধারের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বিফল হয়েছিল। উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত ড্রিল মেশিন থেকে আগুন ধরে গেলে শাহীনা মারা যান। একই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ উদ্ধার কর্মী কায়কোবাদও পরে সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। কাজেই অনেকেই শংকায় ছিলেন রেশমাকে নিয়ে।
ঘটনাস্থল থেকে বিবিসির আকবর হোসেন জানান, উদ্ধারকর্মীরা যখন রেশমাকে জীবিত অবস্থায় টেনে বের করেন, শত শত মানুষ খুশিতে চিৎকার দিয়ে উঠেন। ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠে চারিদিক।
"রেশমাকে জীবিত বের করে আনার পর সেখানে এক আবেগময় দৃশ্য দেখা যায়। অনেকে খুশিতে চিৎকার করছিলেন, কাঁদছিলেন।"
বিবিসির সংবাদদাতা আকবর হোসেন
হাজার হাজার মানুষ এই উদ্ধার কাজ দেখতে পুলিশ বেষ্টনীর বাইরে জড়ো হয়েছিলেন। এদের অনেকেই তখন রেশমাকে যেন জীবিত বের করে আনা যায় সেজন্যে প্রার্থনা করছিলেন। রেশমাকে জীবিত বের করে আনার পর সেখানে এক আবেগময় দৃশ্য দেখা যায়। অনেকে খুশিতে চিৎকার করছিলেন, কাঁদছিলেন।
স্ট্রেচারে শায়িত রেশমাকে যখন অ্যাম্বুলেন্সের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি টেলিভিশন ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসেন।
উদ্ধার কর্মীরা জানান, রেশমা শারীরিকভাবে অক্ষত আছেন। তারপরও তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান।
যেভাবে বেঁচে ছিলেন
হাসপাতালে রেশমাকে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
হাসপাতালের বেডে শুয়ে রেশমা ঢাকার এক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কিভাবে তিনি দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করেছেন।
তিনি বলেন, "অনেক কষ্ট করে চিপা দিয়ে চিপা দিয়ে লাঠি দিয়ে ভেঙ্গে নিচে নামছি। আমি অনেক ডাকছি, কেউই শুনে নাই।"
সেনাবাহিনীর উদ্ধার কর্মী আবদুর রাজ্জাক জানান, উদ্ধার করার সময় রেশমার কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন এতদিন তিনি কি খেয়ে ছিলেন। রেশমা তাকে জানিয়েছেন, সেখানে অনেক খাবার-দাবার পড়ে ছিল, অনেক শুকনো খাবার ছিল। দুর্ঘটনার পর ১৫ দিন ধরে তিনি সেই খাবার খেয়েছেন। তবে শেষ দুই দিন ধরে তিনি না খেয়ে ছিলেন। আর কোন খাবার ছিল না।
আবদুর রাজ্জাক জানান, গার্মেন্টস কর্মীরা দুপুরের লাঞ্চের জন্য যে শুকনো খাবার সাথে নিয়ে আসেন, সেরকম অনেক খাবার রেশমা পেয়েছিলেন।
নয়তলা ভবন ধসে যেভাবে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, এবং আরও শত শত মানুষ আহত হয়েছেন, তার মধ্যেও কিভাবে রেশমা প্রায় অক্ষত থাকলেন সেটাও এক বিস্ময়কর ঘটনা।
উদ্ধারকর্মী আবদুর রাজ্জাক বলেন, রেশমা যেখানটায় আটকে ছিলেন, সেটি ভবনের দ্বিতীয় তলায়। সেখানে অনেক ঘন ঘন পিলার থাকায় পুরোটা ধসে
পড়েনি। কিছু ফাঁকা জায়গা ছিল। এ কারণেই সেখানে রেশমা এতদিন টিকে থাকতে পেরেছেন।

হাইতির ইভানস এবং বাংলাদেশের রেশমা


হাইতির ইভানস এবং বাংলাদেশের রেশমা
:: আকিদুজ্জামান আকিব ::
চিকিৎসা বিজ্ঞানকে ভুল প্রমাণ করে ধ্বংসস্তুপের নিচে ২৭ দিন বেঁচে থাকার অলৌকিক, অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছিল ২০১০ সালে হাইতিতে। বাংলাদেশেও এ রকম অবিশ্বাস্য ঘটনার প্রমাণ মিলল ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে ৪০৮ ঘণ্টা পর রেশমা নামে এক পোশাক কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের মাধ্যমে।

হাইতির ইভানস মনসিনাক ২৭ দিনও বেঁচে ছিলেন ভূমিকম্পে একটি বিধ্বস্ত ভবনের নিচে। এমন ঘটনার নজির পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
এ অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটল শুক্রবার ৩ টা ২০ মিনিটে। অলৌকিক এ ঘটনা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে । রেশমার বেঁচে থাকা ও উদ্ধারের খবর বিবিসি, রয়টার্স, ভয়েস অব আমেরিকা, আল জাজিরা, জি নিউজ, এএফপিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রচার করেছে।
ধসে পড়া ভবনের দুই নম্বর ফ্লোরের মার্কেটে অবস্থান করছিলেন রেশমা। ভবন ধসের সময় তিনি তার কর্মস্থল চতুর্থ তলা থেকে দুই নম্বর ফ্লোরে নেমে আসতে পেরেছিলেন। ১৭ দিনের অনিদ্রা, অনাহার ও দুর্গন্ধের কারণে এক সময় তিনি বাঁচার আশা ছেড়েই দিয়েছিলেন।

ইভানস উদ্ধার হয় ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি। উদ্ধারের বহু বছর পেরিয়ে গেলেও নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হয় তার। ইভানসের আগে পাকিস্তানে এক ভূমিকম্পের ঘটনায় প্রায় ২ মাস পর নাকাশা বিবি নামে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে এই নারী আটকা পড়েছিলেন তার রান্না ঘরে। সেখানে তিনি পচা ও বাসী খাবার খেয়ে বেঁচে ছিলেন।
ইভানসের বেঁচে থাকার ঘটনা নতুন করে মনে পড়েছে অনেকেরেই মনে পড়েছে রেশমার উদ্ধারের ঘটনা থেকে। হাইতিতে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প হয় ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি । মাটির সাথে মিশে যায় দেশটির রাজধানি পোর্ট অব প্রিন্স। ছোট্ট এ শহরটির দুই লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পরেই জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ছেড়ে দিয়ে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেন। ২৭ দিনের মাথায় ৮ ফেব্রুয়ারি ইভানসকে জীবিত উদ্ধার করা হয় ইভানসকে।

দ্যা টেলিগ্রাফের রিপোর্ট অনুসারে, সুপারস্টোর বিক্রয়কর্মী ইভানস উদ্ধারের ১০ সপ্তাহ পর প্রথম সাক্ষাৎকারে বলেছেন উদ্ধারের আগে পর্যন্ত তিনি কিছু খেয়েছিলেন বা পান করেছিলেন কি-না তা মনে করতে পারেন নি।
বিস্ময়ভরা কণ্ঠে তিনি তিনি টেলিগ্রাফকে বলেছেন, “কীভাবে বেঁচে ছিলাম মনে নেই। মনে করতেও চাই না। আমার কাছে এটাই বড় এখন আমি বেঁচে আছি।”

রানা প্লাজায় জীবিত উদ্ধার হওয়া প্রাণের মধ্যে রেশমা হচ্ছেন ২৪৩৮ তম মানুষ। ৭০০ জনের লাশের পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা হল। এর আগে ২৮ এপ্রিল সাদেক নামে একজনকে সর্বশেষ জীবিত উদ্ধার করা হয়।

http://www.poriborton.com/article_details.php?article_id=19473



Thursday, May 2, 2013

ডিম ফেরিওয়ালা থেকে কোটিপতি: পর্ব-২


Photo: ডিম ফেরিওয়ালা থেকে কোটিপতি :
এম এ বাবর, রূপগঞ্জ থেকে ফিরে
অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের উচ্চ বিলাসীকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের দিনমজুর আমানউল্লার ছেলে রফিক ওরফে আন্ডা রফিক। কয়েক বছর আগেও কায়েতপাড়া থেকে ডিম সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকার বনানী বাজারের ডিমের দোকানে বিক্রি করতেন। এ সময় তিনি গুলশান-বনানীর বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি দেখে এমন সম্পদের মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতেও সক্ষম হয়েছেন। তবে বৈধ উপায়ে নয়, অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকা, বিলাসবহুল গাড়ি ও বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন আন্ডা রফিক (৪৫)।  আর এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের পাহাড় গড়তে গিয়ে রূপগঞ্জের অনেক নিরীহ সাধারণ কৃষক পরিবারকে পথে বসিয়েছেন তিনি! অনুসন্ধানে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের মেজ সন্তান হওয়ায় খুব কম বয়সেই বাবার সঙ্গেই উপার্জনের সন্ধানে নেমে পড়েন রফিক। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয় রফিককে। ভাই-বোনদের কেউই স্কুলের গণ্ডি পাড়ায়নি। এলাকাটি অতিমাত্রায় গ্রাম ও খাল-বিল থাকায় গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরেই প্রচুর পরিমাণ হাস-মুরগি পালন হতো। এক পর্যায়ে বনানী বাজারের এক ডিম পাইকারের পরামর্শ ও সহযোগিতায়  গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিম সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিক্রি শুরু করেন তিনি। এভাবে তিনি গ্রামের কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধাসহ সব বয়সী মানুষের কাছে আন্ডাওয়ালা রফিক নামে পরিচিত হয়ে যান। এদিকে রূপগঞ্জ ঢাকা খুব সন্নিকটে হওয়ায় একটি হাউজিং কোম্পানিকে জমি কিনে দিতে সহযোগিতা শুরু করেন। এরপর ডিমের ব্যবসা ছেড়ে বনানী বাজারেই একটি ফলের দোকান দেন। আস্তে আস্তে জমির দালালি থেকে হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর ভূমিদস্যু। রূপগঞ্জ এলাকায় গড়ে তোলেন সন্ত্রাসী বাহিনী যা বর্তমানে রফিক বাহিনী নামে পরিচিত। আন্ডাওয়ালা রফিক হয়ে যান কোটিপতি রফিক সাহেব! ভয়, হুঙ্কার আর অস্ত্রের মুখে এলাকার নিরীহ ও সাধারণ মানুষের জমি দখল করে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ব্যাপক। আর তার সন্ত্রাস ও প্রহসনের স্বীকার হয়ে জান-মাল ও ইজ্জত হারানোর ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না। তার গঠিত সন্ত্রাসী বাহিনীর (রফিক বাহিনী) কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৮ গ্রামের মানুষ।
সূত্র জানায়, রাতারাতি ধনি বনে যাওয়া আন্ডা রফিক রাজধানীতে কয়েকটি বাড়ি, গাড়ি ও বিদেশে মার্কেটসহ অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। নারায়ণগঞ্জের ভুলতার বরপা এলাকায় শুভ সিএনজি পাম্প, গাউছিয়ায় একটি ফুড ও বেভারেজ কারখানাসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিলাসবহুল একটি মার্কেটও রয়েছে। ঢাকার উত্তর বাড্ডার আলীর মোড় এলাকায় ১টি ৬তলা বাড়ি, উত্তর বাড্ডা হোসেন মার্কেট এলাকায় একটি বহুতলবিশিষ্ট ভবনে দুটি ফ্ল্যাট ৩টি ৬তলা বাড়ি, মধ্য বাড্ডা স্বাধীনতা সরণিতে দুটি বিলাসবহুল বাড়ি ৬তলা বাড়ি, উত্তর বাড্ডা উপশম হাসপাতালের পশ্চিম পাশে ১টি ৬তলা বাড়ি, বসুন্ধরায় কয়েকটি ফ্ল্যাট ও গুলশান শিকদার হাসপাতালের সামনে একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। এ বাড়িতে ৭ জন দারোয়ানসহ সার্বক্ষণিক ৪ জন গানম্যান থাকে আন্ডা রফিকের।
এম এ বাবর, রূপগঞ্জ থেকে ফিরে:
অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের উচ্চ বিলাসীকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের দিনমজুর আমানউল্লার ছেলে রফিক ওরফে আন্ডা রফিক। কয়েক বছর আগেও কায়েতপাড়া থেকে ডিম সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকার বনানী বাজারের ডিমের দোকানে বিক্রি করতেন। এ সময় তিনি গুলশান-বনানীর বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি দেখে এমন সম্পদের মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতেও সক্ষম হয়েছেন। 
তবে বৈধ উপায়ে নয়, অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকা, বিলাসবহুল গাড়ি ও বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন আন্ডা রফিক (৪৫)। আর এ বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের পাহাড় গড়তে গিয়ে রূপগঞ্জের অনেক নিরীহ সাধারণ কৃষক পরিবারকে পথে বসিয়েছেন তিনি! অনুসন্ধানে জানা যায়, দরিদ্র পরিবারের মেজ সন্তান হওয়ায় খুব কম বয়সেই বাবার সঙ্গেই উপার্জনের সন্ধানে নেমে পড়েন রফিক। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয় রফিককে। ভাই-বোনদের কেউই স্কুলের গণ্ডি পাড়ায়নি। এলাকাটি অতিমাত্রায় গ্রাম ও খাল-বিল থাকায় গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরেই প্রচুর পরিমাণ হাস-মুরগি পালন হতো। এক পর্যায়ে বনানী বাজারের এক ডিম পাইকারের পরামর্শ ও সহযোগিতায় গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডিম সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিক্রি শুরু করেন তিনি। এভাবে তিনি গ্রামের কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধাসহ সব বয়সী মানুষের কাছে আন্ডাওয়ালা রফিক নামে পরিচিত হয়ে যান। এদিকে রূপগঞ্জ ঢাকা খুব সন্নিকটে হওয়ায় একটি হাউজিং কোম্পানিকে জমি কিনে দিতে সহযোগিতা শুরু করেন। এরপর ডিমের ব্যবসা ছেড়ে বনানী বাজারেই একটি ফলের দোকান দেন। আস্তে আস্তে জমির দালালি থেকে হয়ে ওঠেন ভয়ঙ্কর ভূমিদস্যু। রূপগঞ্জ এলাকায় গড়ে তোলেন সন্ত্রাসী বাহিনী যা বর্তমানে রফিক বাহিনী নামে পরিচিত। আন্ডাওয়ালা রফিক হয়ে যান কোটিপতি রফিক সাহেব! ভয়, হুঙ্কার আর অস্ত্রের মুখে এলাকার নিরীহ ও সাধারণ মানুষের জমি দখল করে অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ব্যাপক। আর তার সন্ত্রাস ও প্রহসনের স্বীকার হয়ে জান-মাল ও ইজ্জত হারানোর ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও সাহস পায় না। তার গঠিত সন্ত্রাসী বাহিনীর (রফিক বাহিনী) কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৮ গ্রামের মানুষ।
সূত্র জানায়, রাতারাতি ধনি বনে যাওয়া আন্ডা রফিক রাজধানীতে কয়েকটি বাড়ি, গাড়ি ও বিদেশে মার্কেটসহ অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। নারায়ণগঞ্জের ভুলতার বরপা এলাকায় শুভ সিএনজি পাম্প, গাউছিয়ায় একটি ফুড ও বেভারেজ কারখানাসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিলাসবহুল একটি মার্কেটও রয়েছে। ঢাকার উত্তর বাড্ডার আলীর মোড় এলাকায় ১টি ৬তলা বাড়ি, উত্তর বাড্ডা হোসেন মার্কেট এলাকায় একটি বহুতলবিশিষ্ট ভবনে দুটি ফ্ল্যাট ৩টি ৬তলা বাড়ি, মধ্য বাড্ডা স্বাধীনতা সরণিতে দুটি বিলাসবহুল বাড়ি ৬তলা বাড়ি, উত্তর বাড্ডা উপশম হাসপাতালের পশ্চিম পাশে ১টি ৬তলা বাড়ি, বসুন্ধরায় কয়েকটি ফ্ল্যাট ও গুলশান শিকদার হাসপাতালের সামনে একটি বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। এ বাড়িতে ৭ জন দারোয়ানসহ সার্বক্ষণিক ৪ জন গানম্যান থাকে আন্ডা রফিকের।

মামলাবাজ আন্ডা রফিক :

এমএ বাবর, রূপগঞ্জ থেকে ফিরে
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু আন্ডা রফিকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে হার মেনেছে স্থানীয় থানা পুলিশও।
অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে অনেক ভুক্তভোগী মামলা করতে গিয়েও পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছেন না। আবার তিনি ইচ্ছে করলে রূপগঞ্জসহ রাজধানীর যে কোনো থানায় খুব কম সময়ে কারো বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করতে পারেন।

যেমন গত ২২ মার্চ মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে রাজধানীর বাড্ডা ও ভাটারা থানায় কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোশাররফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তার দুই ভাই পৃথক দুটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন।  
সরেজমিন খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, কায়েতপাড়ার নাওড়া, বরুণা, কামসাইর, নিমেরটেক, হরিনা নদীরপাড়, মাঝিনা, সুতিরপাড় এলাকার কয়েক হাজার লোক রফিকের ভয়ে অতিষ্ঠ। এমনকি তার অত্যাচার ও প্রহসনের স্বীকার হয়েও মুখ না খুলে নীরবে সহ্য করে যান। কারণ যে মুখ খুলবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিপদে ফেলের আতঙ্ক রয়েছে। এদিকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষকের চাষাবাদের জমি এবং বসতভিটা রক্ষায় তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোশাররফ ভূঁইয়া। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোশাররফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক সাজানো মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন আন্ডা রফিক ও তার সহযোগীরা। অথচ রফিকের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় ৪০ (৯) ২০০৯, ৪১ (৯) ২০০৯, ৫৬ (৮) ২০০৮, ২৭ (৪) ২০০৯, ০৮ (৪) ২০১২, ১৬ (৫) ২০১০ মামলাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব মামলায় তাকে জেলহাজতে জেতে হলেও তার পেছনে থাকা অদৃশ্য শক্তির কারণে কোনো মামলা-মোকদ্দমাই তার অন্যায়-অনিয়ম দমাতে পারেনি।
এক পর্যায়ে আন্ডা রফিকের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে নাওড়া ও বরুরাবাসী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মোশাররফ ভূঁইয়ার সহযোগিতা চান। নিরীহ কৃষক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় মোশাররফ ভূঁইয়া আন্ডা রফিক বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। ফলে আন্ডা রফিকের ভূমিগ্রাসী টার্গেট থেকে রক্ষা পায় অনেক নিরীহ সাধারণ মানুষের চাষাবাদের জমি ও বসতভিটা। অন্যদিকে মোশাররফ ভূঁইয়াকে সাধারণ মানুষের পাশ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য গোপনে বিভিন্নভাবে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে রফিক ও তার সহযোগীরা মোশাররফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাবন্দি রাখার চক্রান্ত করে। এমনকি সম্প্রতি রফিক বাহিনীর দায়ের করা একটি সাজানো মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে মোশাররফ ভূঁইয়াকে জেলহাজতেও যেতে হয়েছে। আর জেলহাজতে থাকা অবস্থায়ও তার বিরুদ্ধে দুটি চাঁদাবাজি মামলা করে আন্ডা রফিক।   
মোশাররফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আন্ডা রফিক ও তার সহযোগীদের হয়রানিমূলক যত মামলা: আন্ডা রফিকের চাচাত ভাই বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৪ মার্চ রূপগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় (৩২৬ ধারায়) হাজিরা দিতে গিয়ে জেলহাজতে যেতে হয় মোশাররফ ভূঁইয়াকে। ওই মামলার এক সপ্তাহের মধ্যে ২২ মার্চ একই থানায় রফিকের ভাই মিজানুর বাদী হয়ে মোশাররফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আর একটি মামলা দায়ের করে। এছাড়া আন্ডা রফিকের সহযোগী মারুফ গত ২২ মার্চ রাজধানীর ভাটার থানা এবং এমতাজ বাদী হয়ে ২৪ মার্চ বাড্ডা থানায় মোশাররফ ভূঁইয়া পৃথক দুটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। আন্ডা রফিক নিজেই বাদী হয়ে গত ২১ মার্চ রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এছাড়া রফিকের সহযোগীরা ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭ মার্চ ও ১৬ মার্চ পৃথক দুটি মামলা দায়ের 
করেন। যার মামলা নং যথাক্রমে ৩২ ও ৬৪।
http://manobkantha.com/2013/04/30/118901.html