Thursday, May 2, 2013

মামলাবাজ আন্ডা রফিক :

এমএ বাবর, রূপগঞ্জ থেকে ফিরে
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু আন্ডা রফিকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে হার মেনেছে স্থানীয় থানা পুলিশও।
অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে অনেক ভুক্তভোগী মামলা করতে গিয়েও পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছেন না। আবার তিনি ইচ্ছে করলে রূপগঞ্জসহ রাজধানীর যে কোনো থানায় খুব কম সময়ে কারো বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করতে পারেন।

যেমন গত ২২ মার্চ মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে রাজধানীর বাড্ডা ও ভাটারা থানায় কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোশাররফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে তার দুই ভাই পৃথক দুটি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেন।  
সরেজমিন খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, কায়েতপাড়ার নাওড়া, বরুণা, কামসাইর, নিমেরটেক, হরিনা নদীরপাড়, মাঝিনা, সুতিরপাড় এলাকার কয়েক হাজার লোক রফিকের ভয়ে অতিষ্ঠ। এমনকি তার অত্যাচার ও প্রহসনের স্বীকার হয়েও মুখ না খুলে নীরবে সহ্য করে যান। কারণ যে মুখ খুলবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিপদে ফেলের আতঙ্ক রয়েছে। এদিকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও কৃষকের চাষাবাদের জমি এবং বসতভিটা রক্ষায় তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোশাররফ ভূঁইয়া। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোশাররফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক সাজানো মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন আন্ডা রফিক ও তার সহযোগীরা। অথচ রফিকের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় ৪০ (৯) ২০০৯, ৪১ (৯) ২০০৯, ৫৬ (৮) ২০০৮, ২৭ (৪) ২০০৯, ০৮ (৪) ২০১২, ১৬ (৫) ২০১০ মামলাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এসব মামলায় তাকে জেলহাজতে জেতে হলেও তার পেছনে থাকা অদৃশ্য শক্তির কারণে কোনো মামলা-মোকদ্দমাই তার অন্যায়-অনিয়ম দমাতে পারেনি।
এক পর্যায়ে আন্ডা রফিকের অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে নাওড়া ও বরুরাবাসী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য মোশাররফ ভূঁইয়ার সহযোগিতা চান। নিরীহ কৃষক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় মোশাররফ ভূঁইয়া আন্ডা রফিক বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। ফলে আন্ডা রফিকের ভূমিগ্রাসী টার্গেট থেকে রক্ষা পায় অনেক নিরীহ সাধারণ মানুষের চাষাবাদের জমি ও বসতভিটা। অন্যদিকে মোশাররফ ভূঁইয়াকে সাধারণ মানুষের পাশ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য গোপনে বিভিন্নভাবে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে রফিক ও তার সহযোগীরা মোশাররফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাবন্দি রাখার চক্রান্ত করে। এমনকি সম্প্রতি রফিক বাহিনীর দায়ের করা একটি সাজানো মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে মোশাররফ ভূঁইয়াকে জেলহাজতেও যেতে হয়েছে। আর জেলহাজতে থাকা অবস্থায়ও তার বিরুদ্ধে দুটি চাঁদাবাজি মামলা করে আন্ডা রফিক।   
মোশাররফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আন্ডা রফিক ও তার সহযোগীদের হয়রানিমূলক যত মামলা: আন্ডা রফিকের চাচাত ভাই বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৪ মার্চ রূপগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় (৩২৬ ধারায়) হাজিরা দিতে গিয়ে জেলহাজতে যেতে হয় মোশাররফ ভূঁইয়াকে। ওই মামলার এক সপ্তাহের মধ্যে ২২ মার্চ একই থানায় রফিকের ভাই মিজানুর বাদী হয়ে মোশাররফ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আর একটি মামলা দায়ের করে। এছাড়া আন্ডা রফিকের সহযোগী মারুফ গত ২২ মার্চ রাজধানীর ভাটার থানা এবং এমতাজ বাদী হয়ে ২৪ মার্চ বাড্ডা থানায় মোশাররফ ভূঁইয়া পৃথক দুটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। আন্ডা রফিক নিজেই বাদী হয়ে গত ২১ মার্চ রাজধানীর গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এছাড়া রফিকের সহযোগীরা ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭ মার্চ ও ১৬ মার্চ পৃথক দুটি মামলা দায়ের 
করেন। যার মামলা নং যথাক্রমে ৩২ ও ৬৪।
http://manobkantha.com/2013/04/30/118901.html  

No comments: