Monday, May 27, 2013

ভাঙা রাস্তা ও খোড়াখুড়িতে নাকাল গুলশান-বারিধারাবাসী


এম এ বাবর: 
জোড়াতালি, ভাঙাচোরা রাস্তা ও খোঁড়াখুঁড়িতে নাকাল অভিজাত কূটনৈতিকপাড়া হিসেবে পরিচিত গুলশান-বারিধারা এলাকাবাসী। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে শুষ্ক মৌসুমেও ড্রেনের ময়লা-দুর্গন্ধ পানি উপচে রাস্তায় জমা হয়ে থাকে। আর পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা না থাকায় একটু বর্ষা হলেই বেশিরভাগ রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।  

বিভিন্ন কারণে গুলশান ও বারিধারা দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে প্রায় ৫ লাখ মানুষ বসবাস করেন। এখানে রয়েছে আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, কোরিয়া, চীন ও ফ্রান্সসহ শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর দূতাবাস। একই সঙ্গে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি অর্ধশতাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেবাদানকারী সংস্থাগুলো এলাকাটির উন্নয়ন কাজ করতেও বার বার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। গুলশান-১ থেকে তেজগাঁওগামী রাস্তার মেরামত ও উন্নয়ন কাজ গত বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে চলতি বছরের ৩০ মার্চে শেষ হওয়ার কথা ছিল। 
আর রাস্তাটি মেরামতের জন্য একপাশে কয়েক ফুট চওড়া করে কেটে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন। কিন্তু রাস্তাটির ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি ঢাকা ওয়াসা। আর কিছু রাস্তায় ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হলেও এগুলো কার্পেটিং না করে ফেলে রাখা হয়েছে প্রায় ৩ মাস। বৃষ্টিতে খানাখন্দক, গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। 
ফলে এসব রাস্তায় যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ির চাকা কাটা রাস্তার খাদে পড়ে যায়। অন্যদিকে খুঁড়ে রাখা রাস্তা দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে। সেবা সংস্থাগুলোর উন্নয়ন কাজের লক্ষ্যে খোঁড়াখুঁড়ির ২৮ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তা মানছে না। কাজ শুরু করলে তা মাসের পর মাস ঢিমেতালে চলতেই থাকে। 
সরেজমিন দেখা গেছে, মার্কিন দূতাবাসসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী এভিনিউয়ের ভাঙাচোরা সড়কটি মাসতিনেক আগে কার্পেটিং করা হয়। গত মাসে সড়কটি কেটে পয়ঃনিষ্কাশন লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করলেও এখনো পুরো কাজ শেষ হয়নি। বারিধারা ১২ নম্বর রাস্তার সংস্কার হয় না দীর্ঘদিন। পুরো রাস্তার মাঝেমধ্যে খানাখন্দ থাকায় যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। এদিকে গুলশান-১ চত্বর থেকে গুলশান-২, তেজগাঁও, মহাখালী অভিমুখের রাস্তার ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের অনুপোযগী। শাখা সড়কগুলোর অধিকাংশই খানাখন্দে ভরা।
গুলশান-২ এর ৫৩ নম্বরটি মাঝেমধ্যে গর্ত ও রাস্তার দু’পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ৫১ নম্বর রাস্তাটির পুরোটাই ভাঙাচোরা ও ড্রেনেজ সমস্যা। আর ম্যানহোলে ঢাকা না থাকায় একটু বৃষ্টিতেই রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা যুক্ত পানি জমে যায়। একটু বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যায়। 

গুলশান-১ এর ৯, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা। সরু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে একটু বৃষ্টিতে গুলশান এভিনিউর ৯০ ও ৯১ নম্বর রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। গুলশান দক্ষিণ এভিনিউ এলাকার দক্ষিণ অংশে বেশ কয়েকটি রাস্তার অবস্থা খারাপ। 

একই অবস্থা গুলশান ক্লাবের পেছনে রাস্তাগুলোর। এছাড়া প্রায় ৩ মাস আগে ১৩৪ থেকে ১৩৮ নম্বরসহ বেশ কয়েকটি রাস্তায় ওয়াসার ভূগর্ভস্থ পয়ঃনিষ্কাশন লাইন স্থাপন করে খোঁড়া রাস্তা কার্পেটিং না করে ফেলে রেখেছে কয়েক মাস। কবেনাগাদ এগুলো কার্পেটিং করা হবে তার সঠিক তথ্যও দিতে পারছে না সংস্থাগুলো।
ঢাকা-উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল খায়ের বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে একসঙ্গে সব রাস্তা সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সাধ্য অনুযায়ী যতুটুক সম্ভব উন্নয়ন ও মেরামত কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য সেবা সংস্থার ঠিকাদাররা দ্রুত কাজ শেষ করতে না পারায় উন্নয়ন কাজের জন্য সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়। 
আবার অনেক সংস্থা তাদের উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি করে রাস্তা সঠিকভাবে কার্পেটিং করে না। এতে অনেক সময় রাস্তার অনেকাংশ ভেঙে যায়। তবে মূল রাস্তার দুই পাশে ইউটিলিটি সার্ভিসের জন্য আলাদা ডকটাইল লাইন না করা পর্যন্ত রাস্তাগুলো রক্ষা করা যাবে না বলে তিনি জানান।
http://manobkantha.com/2013/05/27/122791.html

No comments: