Friday, November 30, 2012

বাংলাদেশ বাহিনীর জনবল (১৯৭১)

বাংলাদেশ বাহিনীর জনবল

সূত্র: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141533
‘জেড’ ফোর্স
১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং রওশন আরা ব্যাটারি।
‘এস’ ফোর্স
২য় ও ১১তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।
‘কে’ ফোর্স
৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং মুজিব ব্যাটারি।
১নং সেক্টর
ক. নিয়মিত বাহিনী: ২,১০০ খ. গণবাহিনী: ২০,০০০
২নং সেক্টর
ক. নিয়মিত বাহিনী: ৪,০০০ খ. গণবাহিনী: ৩০,০০০
৩নং সেক্টর
ক. নিয়মিত বাহিনী: ৬,৬৯৩ খ. গণবাহিনী:২৫,০০০
৪নং সেক্টর
ক. নিয়মিত বাহিনী: ৯৭৫ খ. গণবাহিনী: ৯,০০০
৫নং সেক্টর
ক. নিয়মিত বাহিনী: ১,৯৩৬ খ. গণবাহিনী: ৯,০০০
৬নং সেক্টর
ক. নিয়মিত বাহিনী: ২,৩১০ খ. গণবাহিনী: ১১,০০০
৭নং সেক্টর
ক. নিয়মিত বাহিনী: ২,৩১০ খ. গণবাহিনী: ১২,৫০০
৮নং সেক্টর
ক. নিয়মিত বাহিনী: ৩,৩১১ খ. গণবাহিনী: ৮,০০০
৯নং সেক্টর
ক. নিয়মিত বাহিনী: ৩,৩১১ খ. গণবাহিনী: ৮,০০০
১০নং সেক্টর
এই সেক্টরের কোনো ভৌগোলিক সীমানা ছিল না। বিভিন্ন নদীবন্দর ও শত্রুপক্ষের নৌ-যানগুলোতে অভিযান চালানোর জন্য নৌ-কমান্ডোদের নিয়ে সেক্টরটি গঠিত হয়েছিল। নৌ-কমান্ডোর সংখ্যা ৫১৫ জন।
১১নং সেক্টর

৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ :ইন্দিরা গান্ধীর বিবৃতি

৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ ভারতের লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিবৃতি

৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ ভারতের লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিবৃতি

আক্রমণকারীকে প্রত্যাঘাত করতে হবে

সূত্র: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141543

মাননীয় স্পিকার, আজ সকালে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় পশ্চিম পাকিস্তান বিমানবাহিনী আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে এবং আমাদের বেশ কয়েকটি বিমান ক্ষেত্রের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। সমান্তরালভাবে তাদের স্থলবাহিনীগুলো পশ্চিম সীমান্তজুড়ে আমাদের অবস্থানের ওপর গোলাবর্ষণ করেছে। তাদের প্রচারযন্ত্র সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে এই অভিযোগ প্রচার করছে যে ভারত তাদের ওপর আক্রমণ ও আগ্রাসন শুরু করেছে।
খবরটি আমার কাছে পৌঁছায়, ঠিক যখন আমি কলকাতা ত্যাগ করছিলাম। [দিল্লিতে] ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার সহকর্মী ও বিরোধীদলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের পরামর্শ গ্রহণ করেছি। আমরা সবাই একমত এবং এই সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি যে জাতির স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে এবং সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে আগ্রাসী আঘাতকারী শক্তিকে প্রত্যাঘাত করতে হবে।
নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক সরকার বর্বরোচিতভাবে দলিত করে চলেছে বাংলাদেশের জনগণের মুক্তি ও মৌলিক মানবাধিকার। তাদের হানাদার বাহিনী যেসব অপরাধ করে চলেছে, প্রতিহিংসাপ্রসূত হিংস্রতার দিক থেকে সেগুলো তুলনাবিহীন। লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে, আমাদের দেশে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এক কোটি মানুষকে। পুরো একটি জাতির এই নিশ্চিহ্নকরণ অভিযানের প্রতি এবং আমাদের নিরাপত্তার ওপর এই হুমকির প্রতি আমরা বারবার বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। সবখানেই মানুষ সহানুভূতি প্রকাশ করেছে, ভারতের ওপর অর্থনৈতিক ও অন্যান্য বোঝা এবং তার বিপদ উপলব্ধি করেছে।...
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ক্রোধান্ধ হয়ে উঠেছে, কারণ বাংলাদেশের জনগণ এমন কিছু মূল্যবোধের জন্য উঠে দাঁড়িয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে নিবেদিত হয়েছে, যেসব মূল্যবোধ উপলব্ধি করতে সামরিক বাহিনী অক্ষম; এবং সেই সব মূল্যবোধ তারা দলিত করে চলেছে পাকিস্তানের প্রতিটি প্রদেশেই।
মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ-তৎপরতার সাফল্য যতই বেড়েছে, পাকিস্তানি বাহিনী ততই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমাদের ঐতিহ্য নিপীড়ক স্বৈরাচারীদের পাশে দাঁড়ানো নয়, বরং নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়ানো; এবং সে কারণেই তাদের রোষানল এখন বর্ষিত হচ্ছে আমাদের ওপর।...
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত আগ্রাসনকে পাকিস্তান বিস্তৃত করেছে ভারতের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধরূপে।..আমরা শান্তির পক্ষে, কিন্তু আজ শান্তিই বিপন্ন: শান্তি রক্ষা করতে হবে। আজ আমরা লড়াই করছি জাতীয় ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে। সর্বোপরি আমরা লড়ছি আমাদের লালিত আদর্শ ও শান্তি রক্ষার স্বার্থে।

কমান্ডারদের নাম (মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১)

কমান্ডারদের নাম

সূত্র: http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-03-31/news/141534

দেশরক্ষা মন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ
প্রধান সেনাপতি : কর্নেল এম এ জি ওসমানী
চিফ অব স্টাফ : লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ রব
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ : গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
‘জেড’ ফোর্স কমান্ডার : মেজর জিয়াউর রহমান
‘এস’ ফোর্স কমান্ডার : মেজর কে এম সফিউল্লাহ
‘কে’ ফোর্স কমান্ডার : মেজর খালেদ মোশাররফ
সেক্টর নং ১
মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল-১০ জুন ’৭১)
মেজর রফিকুল ইসলাম (১১ জুন-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)
সেক্টর নং ২
মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-অক্টোবর ’৭১)
ক্যাপ্টেন এ টি এম হায়দার (অক্টোবর-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)
সেক্টর নং ৩
মেজর কে এম সফিউল্লাহ (এপ্রিল-৩০ সেপ্টেম্বর ’৭১)
মেজর এ এন এম নূরুজ্জামান (১ অক্টোবর-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)
সেক্টর নং ৪
মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত (মে-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)
সেক্টর নং ৫
মেজর মীর শওকত আলী (আগস্ট-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)
সেক্টর নং ৬
উইং কমান্ডার এম কে বাশার (জুন-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)
সেক্টর নং ৭
মেজর খন্দকার নাজমুল হক (এপ্রিল-আগস্ট ’৭১)
মেজর কাজী নূরুজ্জামান (আগস্ট-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)
সেক্টর নং ৮
মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল-১৫ আগস্ট ’৭১)
মেজর এম আবুল মঞ্জুর (১৮ আগস্ট-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)
সেক্টর নং ৯
মেজর এম এ জলিল (এপ্রিল-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)
সেক্টর নং ১০
কোনো সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়নি। প্রধান সেনাপতি তাঁর নিয়ন্ত্রণে এই বাহিনীকে রেখেছিলেন।
সেক্টর নং ১১
মেজর জিয়াউর রহমান (১০ জুন-১২ আগস্ট ’৭১)
মেজর আবু তাহের (১২ আগস্ট-১৪ নভেম্বর ’৭১)
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম হামিদুল্লাহ খান (১৫ নভেম্বর-১৬ ডিসেম্বর ’৭১)
সূত্র: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, (২০০৪)।

১৬ ডিসেম্বর ‘৭১- একটি অন্যরকম গল্প

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১১:৩৮ |

শেয়ারঃ
1 0


(এক জায়গায় পড়া একটি স্মৃতি কথা, এক জায়গায় দেখা কিছু ছবি- পাঠক যখন আমি, একটা কিছু নিশ্চয়ই বেরিয়ে যাবে)

আব্বাস একজন ফটোগ্রাফার। বিখ্যাত বললে কম বলা হয়। ১৯৭১ সালেও পূর্ব পাকিস্তানের চেয়ে ভিয়েতনাম বরং অনেক আকর্ষনীয় ছিলো ছবি সাংবাদিকদের কাছে। যে কজন ভিন্নমতের তাদের একজন আব্বাস। ফ্রান্সে অভিবাসী এই ইরানী যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে পাকিস্তানে আসেন। প্রথম দিকে পাকিস্তানীরা প্রেস ফটোগ্রাফারদের নিয়ে খুলনা-যশোরের দিকে নিয়ে যেত। ভারতীয়দের আগ্রাসনের প্রমাণ দিতে। ভারতীয় সেনাদের মৃতদেহের ছবি তোলাতো। ডিসেম্বরের শুরুতে ছবিটা পাল্টে গেলো। আব্বাসের লক্ষ্য ঢাকার মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু তারা ধরা দিতে নারাজ। এই পর্যায়ে এসে এক্সপোজড হতে ভয় তাদের।



আমাদের ছবির ঘটনাটা ১৬ ডিসেম্বরের। অন্যদের মতো সেদিনও আব্বাস হোটেল ইন্টারকনের প্রাঙ্গনে ঘুরোঘুরি করছেন। শহরজুড়ে একটাই খবর। মিত্রবাহিনী ঢুকে পড়েছে শহরে, আত্মসমর্পনের বেশী দেরি নেই। এখানে ওখানে জয় বাংলা ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। একটু পর সে ধ্বনি বেড়ে গেলো। আব্বাস এগিয়ে এসে দেখলেন ভারতীয় বাহিনীর জিপ দেখা যাচ্ছে। এগিয়ে এসে লিফট চাইলেন। গাড়ীতে বসা একজন লেফট্যানেন্ট কর্ণেল। কেএস পান্নু। তখনও আব্বাস জানেন না যার সঙ্গী হয়েছেন তার বীরত্বগাথা।



অবশ্য প্রমাণ পেতে দেরী হলো না। ফার্মগেটের দিকে খানিকটা এগোতেই গাড়ির দিকে গুলি হলো। জিপের সবাই মাটিতে লাফিয়ে শুয়ে পড়লেন। একজন বাদে- পান্নু। দুহাত তুলে এগিয়ে গেলেন দেওয়ালের দিকে, গুলি এসেছে যেখান থেকে। লাফিয়ে আব্বাস সঙ্গী হলেন। তারও হাত তোলা, তবে ডান হাতে রাখা ক্যামেরায় শাটার টিপে চলেছেন। একজন পাকিস্তানী মেজরের নেতৃত্বে একদল সেনা এখানে অবস্থান নিয়েছে। পান্নু তাদের বললেন-পূর্ব পাকিস্তানের কমান্ড আত্মসমর্পন করেছে। ঢাকা শহর এখন মিত্রবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে গোলাগুলি না করে তারাও যেন এতে যোগ দেয়। মেজর এরপর অধীনস্থদের সঙ্গে কথা বলেন। হেড কোয়ার্টারে ফোন করেন। তারপর নিশ্চিত হয়ে হাত মেলান পান্নুর সঙ্গে। একটি সম্ভাব্য বিপর্যয়ের কাহিনী এখানেই শেষ।

এবার আসি পান্নুর কথায়। কুলওয়ান্ত সিং পান্নু আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা দখল করেছিলেন। ১১ ডিসেম্বর ১৯৭১ টাঙ্গাইলে ভারতীয় সেকেন্ড প্যারাট্রুপার বাহিনী তার নেতৃত্বে আকাশ থেকে নামে। পুংলি ব্রিজ দখল এবং ঢাকার দিকে পালিয়ে আসা পাকিস্তানী ৯৩ বিগ্রেডকে বিপর্যস্ত করে টাঙ্গাইল দখল নেন। ১৬ ডিসেম্বর বেলা ১০-৪৫ মিনিটে ঢাকায় ঢোকেন পান্নু ও তার বাহিনী। তার ভাষায় : I had five columns moved out into positions in Dacca taking control of the capital city. ১১টায় ঢাকা আসেন জেনারেল জ্যাকব। আত্মসমর্পনের সব কিছু চূড়ান্ত করেন তিনি। যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পান্নুকে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বের পদক মহাবীরচক্র দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

ভিডিও ফুটেজ : পান্নুর নেতৃত্বে ঢাকায় ঢুকেছে সেকেন্ড প্যারা

ফিরে দেখা ডিসেম্বর (২-৯) 1971

ফিরে দেখা ডিসেম্বর (২-৯)

১১ ই ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১০:৪৫ |

শেয়ারঃ
6 0



২ ডিসেম্বর
গতকাল (১ ডিসেম্বর’১১) নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে বিজয় মাসের প্রথম তারিখ। স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তীতে শিল্পকলা একাডেমী ৪০ হাজার মোমবাতি জ্বালিয়ে উদযাপন করেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪০ বছর। বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে একাডেমী ভবন ঘিড়ে এই ৪০ হাজার মোমবাতি জ্বালানো হয়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ। এ দিকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ১লা ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষাণার আহ্বান জানিয়েছে। বিজয়ের মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

একাত্তরের এই সময়ে বাংলার দামাল সন্তানেরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। প্রতিদিন কোনঠাসা হতে থাকে পাক বাহিনী। নভেম্বরের শুরু থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। সীমান্ত এলাকাগুলোতে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে মুক্তিবাহিনীর সাথে যোগ দেয় ভারতীয় বাহিনী। আর এদিকে দেশ জুড়ে চলছিল প্রতিরোধ। প্রতিদিন মুক্তিবাহিনীর কাছে নাস্তানাবুদ হচ্ছিল পাক বাহিনী।

মুক্তিযোদ্ধারা দিনাজপুরে আকস্মাৎ এমন এক হামলা চালায় যার জন্য প্রস্তুত ছিল না পাকিস্তান বাহিনী। সেখানে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে একত্রিত হয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী পঞ্চগড় মুক্ত করে এগিয়ে চলছিল ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে। মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় রামপুরা ও মালিবাগে এদিন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন। আন্তর্জাতিক মিডিয়া সমূহে তখন মুক্তিবাহিনীর সাফল্যের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়।

৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযোদ্ধারা যখন রাজধানী ঢাকাকে দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে ঢাকার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন পাকিস্তান বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে চালিয়ে যাচ্ছিল নানা অপপ্রচার। এ দিকে প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার প্রত্যয়ে প্রতিদিন শহীদ হচ্ছিল হাজারো মুক্তিকামী জনতা। হানাদার বাহিনীর অত্যাচার থেকে রেহাই পাচ্ছিল না মা-বোনেরা।

নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামের পথে পথে শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ। আখাউড়া রেল স্টেশনে চলে সম্মুখযুদ্ধ। একাত্তরের এই দিনে ময়মনসিংহ, জামালপুরসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী।


৩ ডিসেম্বর
সারাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিজয় উৎসব। দেশের নানা জায়গায় শুরু হয়েছে বিজয় মেলা। বিজয়ের উল্লাসে উদ্বেলিত আবাল, বৃদ্ধ, বনিতা সহ শিশু-কিশোর সবাই।

৭১ এর ডিসেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনীর একেরপর এক হামলায় পাক হানাদারেরা তখন দিশেহারা। এই মাসের শুরু দিক থেকে বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ের বেশে সামনে দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো। মুক্তিবাহিনীর সাথে পেরে উঠতে না পেরে পাকিস্তান বাহিনী হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ, নির্যাতন বাড়িয়ে দিল আগের চাইতে বেশি পরিমাণে।

১৯৭১ সালের এই দিনে ভারতে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। উদ্দেশ্য মুক্তিযুদ্ধকে পাক-ভারতের মধ্যেকার যুদ্ধ বলে চালিয়ে দিয়ে জাতিসংঘের কাছ সুবিধা আদায় করা। তারা চেয়েছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা আদায়। পাকিস্তান চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধকে যদি দুই দেশের মধ্যেকার যুদ্ধ হিসেবে দেখানো যায় তাহলে জাতিসংঘ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার জন্য উভয় পক্ষকে বাধ্য করবে এবং উভয় দেশে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করবে। আর এতে করে পাকিস্তান বাহিনী বাংলাদেশের মাটিতে অনির্দিষ্ট কালের জন্য অবস্থান করবে। এই উদ্দেশ্যে পাকিস্তান বিমানবাহিনী এই দিন বিকেলের দিকে ভারতের অমৃতসর, পাঠানকোর্ট, শ্রীনগর, অবনত্মীপুর, উত্তরালই সহ আগ্রার বিমান ঘাঁটিতে আক্রমণ করে। ভারতের উপর পাকিস্তান বাহিনীর এই হামলা পরিপ্রেক্ষিতে রাত সাড়ে ১১টায় ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের উপর পাল্টা হামলা চালায় এই দিনে।

এদিনে তৎকালীন পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন জানায়, বাংলাদেশ সম্পূর্ণ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদে যেকোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভেটো দিবে তারা।

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় বরগুনার বিভিন্ন জায়গায় পাক হানাদার বাহিনী পৈশাচিক নারী নির্যাতন ও নির্বিচারে গণহত্যা চালায়।





৪ ডিসেম্বর
১৯৭১ সালের এই সময়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য সময়টুকু ছিল অস্থির আর উদ্বেগের। এই দিনে জাতিসংঘে চলে চরম উত্তেজনা। কারণ পাকিস্তানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সিনিয়র জর্জ বুশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধকে পাক-ভারতের মধ্যেকার যুদ্ধ হিসেবে সবার সামনে উপস্থাপন করা। যার ফলে পাকিস্তান বাহিনী অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাংলাদেশে অবস্থান করার সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দাবি করে যে, “এই মূহুর্তে ভারত ও পাকিস্তান নিজ নিজ সীমান্তের ভেতর সৈন্য প্রত্যাহার করে নিতে হবে।” উল্লেখ্য, জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করার জন্য, মুক্তিযুদ্ধকে পাক-ভারতের মধ্যেকার যুদ্ধ হিসেবে জাতিসংঘে উপস্থাপন করার জন্য পাকিস্তান বিমানবাহিনী ৭১ এর ৩ ডিসেম্বর ভারতের বেশ কয়েকটি জায়গায় বিমানহামলা চালায় এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে একই তারিখে রাতের বেলা ভারত পাকিস্তানের উপর হামলা চালায়।

এই যখন উৎকন্ঠাময় অবস্থা তখন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ লিখিত এক পত্রে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের আহবান জানান।

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাশ করানো জন্য যুক্তরাষ্ট্র তখন বৈঠকের পর বৈঠক করছে। সবাই যখন চরম উদ্বেগ আর চিন্তার মধ্যে ছিলেন তখন আসলো খুশির সংবাদ। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো প্রধানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে ভেস্তে যায়। পোল্যান্ডও এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। তবে আরো একটি আনন্দের সংবাদ ছিল যে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ভোটদানে বিরত থাকা।

এই প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট যখন হেরে গিয়েছিল তখন পক্ষন্তরে পাকিস্তানের পরাজয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ তীব্র আক্রমণের মুখে বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গা থেকে পালানোর পথ খুঁজতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

এ সময়ে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি জামাতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল আলা মওদুদী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে জানান যে, “প্রতিটি দেশপ্রেমিক মুসলমান প্রেসিডেন্টের সাথে রয়েছে।”

মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে লক্ষীপুর হানাদার মুক্ত হয়। যুদ্ধের পুরোটা সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর, আশ-শামস বাহিনীর হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষনের ঘটনায় লক্ষীপুর ছিল বিপর্যস্ত।

একাত্তরের এই দিনে ৩নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা শমশেরনগর বিমান বন্দর এবং আখাউড়া রেল স্টেশন দখল করেন। ৮নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা দখল করেন মেহেরপুর। এছাড়া ১১নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক আক্রমণ চালিয়ে কামালপুর নিজেদের আয়ত্তে আনেন।


৫ ডিসেম্বর
একাত্তরের এই দিনেও বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন উত্তপ্ত ছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মূল লড়াইটা ছিল দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নয়ের মাঝে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল বাংলাদেশের পক্ষে আর যুক্তরাষ্ট্র ছিল পাকিস্তানের পক্ষে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আশংকা করেছিলেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব শিবির দুইভাগে ভাগ হয়ে সংঘাতে জড়িয়ে যেতে পারে। ৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উত্থাপন করার প্রেক্ষাপটে এই দিন সোভিয়েত ইউনিয়ন নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রস্তাবটি ছিল এই যে, “পূর্ব পাকিস্তানে এমন এক রাজনৈতিক নিষ্পত্তি প্রয়োজন যার ফলে বর্তমান সংঘাতের অবসান ঘটবে।” এই প্রস্তাবে পোল্যান্ড সমর্থন জানায়। কিন্তু চীন ভেটো প্রদান করে এবং অন্যরা ভোটদানে নিজেদের বিরত রাখে। এই দিন জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি বলেন, কোন শর্ত ছাড়াই পাকিস্তান থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে। চীনের প্রধানমন্ত্রী চউ এন লাই ভারতীয় হামলার মুখে পাকিস্তানকে সর্বাত্নক সহায়তা দেয়ার কথা বলেন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এই উত্তপ্ত অবস্থাতে যাতে মুক্তিযোদ্ধারা মনোবল হারিয়ে না ফেলেন সে জন্য মুক্তিবাহিনীর সেনাপতি জেনারেল ওসমানী জাতির উদ্দেশ্যে বেতারে ভাষণ দেন।

মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে নৌবাহিনীর যৌথ কমান্ডার চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে সকল বিদেশী জাহাজগুলোকে বন্দরে ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বিদেশী জাহাজগুলো এই সময় নিরাপত্তা চাইলে যৌথ কমান্ডার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। পৃথিবীর সব দেশ তখন বুঝতে পারে যে শীঘ্রই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটতে যাচ্ছে। এই দিন লেফটন্যান্ট আরেফিনের নেতৃত্বে চালনা নৌবন্দরে এক তীব্র আক্রমণ সংঘটিত হয়। মুক্তিবাহিনীর এই আক্রমণের ফলে পাক বাহিনীর সব সৈন্য বন্দর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

৭১ এর এই দিনে আখাউড়া সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়। মিত্রবাহিনী আখাউড়ার দক্ষিণ ও পশ্চিম দিক অবরোধ করে ফেলে। এর ফলে পাক হানাদার বাহিনী মিত্রবাহিনীর সাথে যুদ্ধে টিকতে না পেরে আত্মসমর্পণ করে।





৬ ডিসেম্বর
মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় যশোর ও কুড়িগ্রাম। প্রথম কোন জেলা শহর হিসেবে যশোরই প্রথম হানাদার মুক্ত হয়।

মুক্তিযোদ্ধা আর ভারতীয় বাহিনীর যৌথ আক্রমণে যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যায় পাকিস্তান বাহিনী। ক্যান্টনমেন্ট ত্যাগ করে তারা খুলনার শিরোমনিতে অবস্থান নেয়। পাক হানাদার বাহিনী যশোর ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে যাওয়ার ফলে এই দিন যশোর শত্রু মুক্ত হয়।

এই দিনে শত্রুমুক্ত হয় কুড়িগ্রাম জেলা। ৮টি থানা নিয়ে সে সময়ে কুড়িগ্রাম একটি মহকুমা ছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র আক্রমণ চালিয়ে পরাস্ত করে পাক হানাদার বাহিনীকে। এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় বাহিনীর ৬ষ্ঠ মাউন্টেন ডিভিশনের সহায়তায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উপর তীব্র আক্রমণ চালিয়ে ১৪ই নভেম্বর ভুরুঙ্গামারী, ২৮শে নভেম্বর নাগেশ্বরী ও ৩০ই নভেম্বর উত্তর ধরলা মুক্ত করে। মুক্তিবাহিনী ১লা ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম শহরের চারপাশে অবস্থান নেয়। ৬ তারিখ পর্যন্ত পাক হানাদার বাহিনীর উপর নিয়মিত আক্রমণ চালাতে থাকে। অতঃপর ৬ই ডিসেম্বর বিকেলের দিকে শত্রুমুক্ত হয় কুড়িগ্রাম।

এই অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শহীদ লেফটন্যান্ট আশফাকুস সামাদ বীর উত্তম (মরণোত্তর) খেতাব পান। বীর বিক্রম খেতাব অর্জন করেন- শওকত আলী এবং সৈয়দ মনসুর আলী টুংকু। বীর প্রতীক খেতাব পান- বদরুজ্জামান, আব্দুল হাই সরকার, আবদুল আজীজ এবং তারামন বিবি।


৭ ডিসেম্বর
সারাদেশে পালিত হচ্ছে বিজয় উৎসব। এ যেন বিজয়ের উল্লাসে উল্লসিত সারা দেশ। প্রায় সব জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিজয় মেলা।

১৯৭১ সালের এই দিনে যশোরের কেশবপুর হানাদারমুক্ত হয়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আল-বদর, আশ-শামসরা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পরাজয় বরণ করে। কেশবপুরকে শত্রুমুক্ত করে মুক্তিবাহিনী রাইফেলের আগায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উঁচিয়ে কেশবপুর থানায় উত্তোলন করার মধ্য দিয়ে কেশবপুর বিজয় উদযাপন করে। এ সময় কেশবপুর উপজেলার সর্বস্ততের মানুষ বিজয় উল্লাসে মেতে উঠেন।

রাজাকার, আল-বদর, আশ-শামসরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই বিজয় দেখে প্রাণভয়ে কেশবপুর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। আজকের এই দিনটিকে স্বরণীয় করে রাখতে কেশবপুর পৌরসভার উদ্যোগে একটি বিজয় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।

একের পর এক জায়গা শত্রুমুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা বীরবলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। আজকের এই দিনে জামালপুর, ময়মনসিংহ, মধুপুরও শত্রু মুক্ত হয়।





৮ ডিসেম্বর
মুক্তিযুদ্ধের আগুন ঝড়া দিনগুলোর আজকের এই দিনে হানাদার মুক্ত হয় ময়মনসিংহের গৌরীপুর। মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৩ এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী গৌরীপুরে পৌঁছে। হানাদার বাহিনী ভৈরব রেলপথ দিয়ে গৌরীপুরে পৌঁছে তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকারদের সহায়তায় শুরু করে হত্যা, লুটপাট, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ। পাক বাহিনী নিয়মিত ধ্বংসলীলা চালাতে থাকলে শহরের বাসিন্দারা তাদের ব্যবসা, বসতবাড়ি ফেলে জান বাঁচাতে অন্যত্র চলে যায়।

পাকিস্তান বাহিনীর এই নির্মম অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে, নিজ মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার প্রত্যয়ে গৌরীপুরের মুক্তিকামী মানুষ দলে দলে সংগঠিত হতে থাকে। মুক্তিকামী মানুষেরা গৌরীপুর ডিগ্রী কলেজ প্রাঙ্গনে গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে হানাদার বাহিনীর উপর একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে। গেরিলা হামলার মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধারা গ্রেনেড মেরে ধ্বংস করে গৌরীপুরের রেলপথ, সেতু, গৌরীপুর টেলিফোন একচেঞ্জ। এতে পাক বাহিনীর যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম বাধাগ্রস্থ হয়।

১৯৭১ সালের এই দিনেও শত্রুমুক্ত হয় চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার মীরসরাই। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণের মুখে পাক হানাদার বাহিনী মীরসরাই ছেড়ে পালিয়ে যায়। মীরসরাইয়ের বিজয় উল্লাসে সে দিন মাতোয়ারা হয়েছিল সর্বস্তরের মানুষ। মুক্তিযোদ্ধারা মীরসরাই পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মীরসরাইয়ের বিজয় উদযাপন করেন সে দিন।

মীরসরাই উপজেলার তালবাড়িয়া রেলষ্টেশন রোডের লোহার ব্রীজ নামক স্থানে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান বাহিনী তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর, আশ-শামস বাহিনীর সহায়তায় অগনিত মুক্তিযোদ্ধা, নারী, শিশু, পুরুষদের ধরে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করে লোহার ব্রীজের নিচে ফেলে দিত।


৯ ডিসেম্বর
একাত্তরের এই সময়ে দ্রুত মুক্ত হতে থাকে একের পর এক জায়গা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধে টিকতে না পেরে পাক হানাদার বাহিনী পিছু হঠতে থাকে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধকে নস্যাৎ করে দেয়ার জন্য পাকিস্তানের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা থেমে থাকেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ সময়ে পাকিস্তানকে সহযোগিতা করার পদক্ষেপ নেয়। আজকের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিক্সন তার ৭ম নৌবহরকে বঙ্গোপসাগরের দিকে রওনা দিতে আদেশ দেন। উদ্দেশ্য মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়া। কিন্তু তার উদ্দেশ্য সফল হয়নি। কারণ বীর সন্তানদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়া মোটেও সহজ কাজ নয়।

মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে যে সমস্ত জায়গাগুলো শত্রুমুক্ত হয় তাদের মধ্যে অন্যতম হলো- দাউদকান্দি, গাইবান্ধা, কপিলমুনি, ত্রিশাল, নকলা, ঈশ্বরগঞ্জ, নেত্রকোনা, পাইকগাছা, কুমারখালী, শ্রীপুর, অভয়নগর, পূর্বধলা, চট্টগ্রামের নাজিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকা।

দাউদকান্দি শত্রুমুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে মূলত মেঘনার সম্পূর্ণ পূর্বাঞ্চল মুক্তিবাহিনীর দখলে আসে। এর আগে কুমিল্লা মুক্ত হওয়ার খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে দাউদকান্দির মুক্তিযোদ্ধারা দ্বিগুন উৎসাহ নিয়ে পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিবাহিনীর হামলায় টিকতে না পেরে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়।

৭১ এর এই দিনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মুক্তিবাহিনী সকাল ১১টার দিকে শহরের চারিদিকে অবস্থান নেয়। এর ফলে পাক হানাদারদের এ দেশীয় এজেন্ট আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার ফিরোজ বাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধ হয়। এই খবর পেয়ে জেলা শহরে অবস্থানরত পাকিস্তান সেনাবাহিনী দ্রুত এসে কুমারখালী শহর ঘিরে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে। মুক্তিবাহিনী আবারো পাল্টা হামলা চালিয়ে রাজাকার, আল-বদর, আশ-শামস বাহিনীর ক্যাম্প ঘিরে ফেলে এবং অতর্কিত হামলা চালালে পাক বাহিনী ও তাদের দোসররা শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

Monday, November 26, 2012

এক ড্রামে একই উপাদানে হরেক নামের প্রসাধনী

লেখক: আবুল খায়ের  |
একটি ড্রামে একই উপাদান দিয়ে তৈরি হতো প্রসাধনী। তারপর বিভিন্ন নামে বিভিন্ন মোড়কে বাজারজাত করা হতো প্রসাধনীগুলো। এভাবেই ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম বলে বাজারে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন ক্রিম ছেড়েছে বোটানিক এ্যারোমা। প্রসাধনীর নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে করতো প্রতারণা। সমপ্রতি মোবাইল কোর্ট কেরানীগঞ্জে বোটানিক এ্যারোমার কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণার এমন চিত্র দেখে।
তাদের কোন কেমিস্ট নেই, নেই অভিজ্ঞ জনবল। আছে একদল প্রতারক। একটি ড্রামের মধ্যে আটা, ময়দা ও নানা ধরনের গুঁড়ার সঙ্গে মার্কারি, হাইড্রোকুইনন ও স্টেরয়েড জাতীয় দ্রব্য মেশানো হত। ড্রামভর্তি বিষাক্ত মিশ্রণে ব্যবহার করা হতো ভিন্ন সুগন্ধী। তারপর বিভিন্ন টিউব কিংবা কৌটায় তা ভরা হত। সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যেতো হরেক নামের ক্রিম। ফেয়ারনেস ক্রিম, ব্লাক ডায়মন্ড ক্রিম, নাইট কুইন ক্রিম ও জেন্টস স্পট আউট ক্রিমসহ হরেক নামে বাজারজাত করা হতো এই ক্রিম। গ্রেফতারকৃত বোটানিক এ্যারোমার মালিক আসাদুজ্জামান লিটন  এই বিষাক্ত ক্রীম তৈরি, বাজারজাতকরণের এমন তথ্য জানিয়েছেন মোবাইল কোর্টকে।
এদিকে দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, শুধু বোটানিক এ্যারোমা নয়, বাজারে ‘ত্বক ফর্সাকারী’ ৯৯ ভাগ হারবাল প্রসাধনীতে মার্কারি, হাইড্রোকুইনন ও স্টেরয়েডসহ নানা রাসায়নিকের মিশ্রণ ব্যবহার হয়। আর এ কারণেই দেশে চামড়ায় ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে বেড়েছে।
এদিকে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্রিমসহ বিভিন্ন নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনীর বিরুদ্ধে বিএসটিআই সোমবার অভিযান শুরু করেছে। গতকাল সোমবার দৈনিক ইত্তেফাকে ‘প্রসাধনীর আড়ালে প্রতারণা’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ভুক্তভোগী অনেক নারী-পুরুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
পুরান ঢাকার উর্মি নামে এক তরুণী বলেন, চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। নিয়মিত ত্বকে ক্রিম ব্যবহার করতেন। হঠাত্ তার গর্ভপাত হয়। গাইনি বিশেষজ্ঞরা তাত্ক্ষণিক কোনো কারণ খুেঁজ পাননি। বিষাক্ত ক্রিমের কারণে তার গর্ভপাত হয় বলে পরে গাইনি চিকিত্সকরা তাকে জানিয়েছিলেন। তার মতো আর কোনো নারীর যাতে এ অবস্থা না হয় সেজন্য বিষাক্ত ক্রিম প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।
শ্রমিক থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক লিটন
বোটানিক এ্যারোমার মালিক আসাদুজ্জামান লিটন দুই বছর আগেও ছিলেন একজন সাধারণ শ্রমিক। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে। বাড়ির আশপাশের লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে তার সম্পর্কে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই লিটন প্রসাধনী প্রতারণা করে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। চড়েন কোটি টাকা দামের গাড়িতে। মাত্র দুই বছরেই ‘আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ’ দশা হয়েছে তার। হয়েছেন ‘জিরো থেকে হিরো’।
মোবাইল কোর্টকে লিটন জানান, ১৫ টাকা দামের ক্রিম তিন হাজার টাকায় কখনো এর চেয়ে বেশি দামেও তিনি বিক্রি করতেন।
ইত্তেফাকের মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার ঘটকচর গ্রামের মৃত তফেল মাতাব্বরের ছেলে আসাদুজ্জামান লিটন। তারা তিন ভাই। লিটন সবার ছোট। বাবা নয়াবাজার এলাকায় রং মিস্ত্রীর কাজ করতেন। লিটনের বড় ভাই এসকেন মাতাব্বর একজন ভ্যান চালক। দুই বছর আগেও এলাকায় ভ্যান চালাতেন তিনি। লিটনের বাবা চরম অর্থকষ্টে মারা যান।
মেঝো ভাই মোস্তফা মাতাব্বর ও লিটন ঢাকায় একটি কসমেটিক কারখানায় শ্রমিক ছিল। দুই বছর আগে দুই ভাই বোটানিক এ্যারোমা নামে বিষাক্ত ক্রিম উত্পাদন করে বাজারজাত শুরু করে। এক ড্রাম ভর্তি বিষাক্ত ক্রিম বিক্রি হয় কোটি টাকায়। খরচ হয় মাত্র কয়েক হাজার টাকা। দুই বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে তারা। দুই বছরে গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল ভবন দিয়েছেন তিনি। মাদারীপুর সদর উপজেলা, কোটালিপাড়া ও রাজৈর উপজেলায় ৫৬ একর, কেরানীগঞ্জ থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৫শ বিঘা জমি এবং ঢাকায় রয়েছে আলিসান অফিস ও বাসা। দুই বছরে তার এতো পরিবর্তন দেখে এলাকাবাসী বলতো আলাদিনের চেরাগ পেয়েছে লিটন।
এলাকার কোনো অনুষ্ঠানে কিংবা ‘সমাজ কল্যাণ কর্মসূচিতে’ এক কোটি টাকার নিচে লিটন অনুদান দেয় না। আগামী ৫ ডিসেম্বর ঘটকচর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে লিটনের প্রধান অতিথি হিসাবে অংশগ্রহণ করার কথা। ওই অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে নামিদামি গায়কা-গায়িকা ও মডেল তারকাদের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত শনিবার র্যাব ও মোবাইল কোর্ট বোটানিক এ্যারোমার কেরানীগঞ্জের কারখানায় অভিযান চালিয়ে আসাদুজ্জামান লিটন ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী জামানসহ ১৪ জনকে আটক করে।
পকেট ভারী হয়েছে আরো অনেকের
একশ্রেণীর রাজনৈতিক নেতাকে মোটা অংকের মাসোহারা দিতেন লিটন। ঐসব নেতাকেও কোটিপতি বানিয়েছেন তিনি। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়েই বোটানিক এ্যারোমা স্কিন ক্রিম উত্পাদন ও বাজারজাত করেছেন লিটন। ঘুষ দিয়ে বিএসটিআইয়ের কাছ থেকে এ সুযোগ নেন। এ কারণে বিষাক্ত প্রসাধনীটি গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
লিটনের ইচ্ছা ছিল এমপি হওয়ার
লিটনের স্বপ্ন ছিল তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এজন্য এলাকায় প্রচুর টাকা ছড়াচ্ছিলেন। কিন্তু এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা লিটনকে বলেন, তোমার আগের অবস্থার কথা মনে করো। টাকা হলেই সবকিছু হওয়া যায় না। এরপর তিনি এমপি হওয়ার ইচ্ছা আপাতত ত্যাগ করেন। লিটনের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এ তথ্য জানান।
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আকরাম হোসেন বলেন, বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের নামে মার্কারি, হাইড্রোকুইনন ও স্টেরয়েডসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল সংমিশ্রণে বিষাক্ত ক্রিম তৈরি করে বাজারজাত করে আসছে। কামিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা। দেখার কেউ নেই। জাতিকে উপহার দিচ্ছে মরণব্যাধি। ওষুধ প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, কসমেটিক্স নিয়ন্ত্রণে কোন আইন নেই। যার কারণে যার যা খুশি বিষাক্ত ক্রিমসহ হারবালের প্রসাধনী বাজারে ছাড়ছে।
http://new.ittefaq.com.bd/news/view/173391/2012-11-20/1

Wednesday, November 21, 2012

ভাতের মাড় ফেলে দিলে ১৫ শতাংশ পুষ্টি নষ্ট হয়

সবজি ধুয়ে অতিরিক্ত সেদ্ধ করার কারণে নষ্ট হয় ৩০ শতাংশ পুষ্টি

ইফতেখার মাহমুদ | তারিখ: ২১-১১-২০১২
ভাত,  ভাতের মাড়
ভাত, ভাতের মাড়
খাদ্য নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন দিকের প্রতি আলোকপাত করেছেন বাংলাদেশের গবেষকেরা। জাতিসংঘের খাদ্য, কৃষি সংস্থাসহ (এফএও) বেশির ভাগ খাদ্যনিরাপত্তা-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে খাদ্যের অপচয়ের বিষয়টিকে আমলে নিয়েছে। বাংলাদেশের কয়েকজন গবেষক ভাত রান্নার পদ্ধতির কারণে অপচয়ের বিষয়টিকে তুলে ধরেছেন।
গবেষকদের মতে, পুষ্টিসম্মতভাবে ভাত-তরকারি রান্না সম্পর্কে জ্ঞান কম থাকায় দেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ খাদ্যের অপচয় হয়। শুধু ভাতের মাড়ের সঙ্গে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পুষ্টির অপচয় হয়। আর সবজি কাটার পর ধুয়ে এবং অতিরিক্ত সেদ্ধ করে রান্না করায় নষ্ট হয় প্রায় ৩০ শতাংশ পুষ্টিগুণ।
এফএও বিশ্বের খাদ্য নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে অপচয় ও উৎপাদনের সময় নষ্ট হওয়ার বিষয়টিকে আমলে নেয়। গত বছর এফএও প্রকাশিত ‘বিশ্বের খাদ্য নষ্ট ও অপচয়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে মোট উৎপাদিত খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১৩০ কোটি টন খাদ্য অপচয় হয়।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকায় মাথাপিছু খাদ্য নষ্ট হওয়ার পরিমাণ বছরে ৯৫ থেকে ১১৫ কেজি। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এবং আফ্রিকার সাব-সাহারার অঞ্চলগুলোতে বছরে খাদ্য অপচয়ের পরিমাণ মাথাপিছু ছয় থেকে ১১ কেজি।
বাংলাদেশের গবেষক গাজী রফিক তাঁর এক গবেষণায় দেখিয়েছেন, মাড় না ফেলে ভাত রান্না করলে এই অপচয় রোধ করা সম্ভব। এতে বছরে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টন চালের অপচয় রোধ করা সম্ভব। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে পুষ্টিভাত রান্নার অভ্যাস জনপ্রিয় করলে তা সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন।
আন্তর্জাতিক ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ইফপ্রি) বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী আখতার আহমদ এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে পুষ্টির ঘাটতি বিষয়টি নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। মাড় ফেলে ভাত রান্না করা এবং সবজি কাটার পর ধুয়ে ফেলায় এবং অতিরিক্ত সেদ্ধ করায় বিপুল পরিমাণ পুষ্টি থেকে দেশের মানুষ বঞ্চিত হয়। সরকারের উচিত সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুষ্টিসম্মতভাবে রান্নার পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া।
বসা বা পুষ্টিভাত: ‘বিকল্প পদ্ধতি প্রয়োগে রান্নায় চালের ওজনগত অসমতা’ শীর্ষক ওই গবেষণায় গাজী রফিক দেখিয়েছেন, ভাতের মাড় না ফেলে রান্নার সময় পানি শুকিয়ে ফেলে ওই অপচয় রোধ করা সম্ভব। এতে বছরে দেশে ৪২ থেকে ৫১ লাখ মেট্রিক টন চালের অপচয় রোধ করা যাবে। বিশ্বের চাল ভোগকারী দেশগুলোর মধ্যে জাপান ও ইন্দোনেশিয়া ছাড়া প্রায় সব দেশে ভাতের মাড় ফেলে রান্না করা হয়। এভাবে বিশ্বে বছরে তিন থেকে চার কোটি টন চাল নষ্ট হয়।
পুষ্টি বা বসা ভাত রান্না করার এই পদ্ধতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে অনুসরণ করা হয়। তবে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা এখন পর্যন্ত সারা দেশে এই পদ্ধতিতে ভাত রান্না করার জন্য উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেয়নি। এর পক্ষে কোনো প্রচারও নেই। এ কারণে প্রতিদিনই রান্নার পদ্ধতি ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ পুষ্টি ও শর্করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে গাজী রফিক মনে করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরাও পুষ্টিভাত রান্নার পদ্ধতির কার্যকারিতার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁরা রাষ্ট্রীয় সংস্থার মাধ্যমে পুষ্টিভাত রান্নার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রচার এবং একে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক খুরশিদ জাহান বলেন, ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শর্করা ভাতের মাড়ের সঙ্গে চলে যায়। আরও যায় প্রোটিন, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-বি, চর্বি, দ্রবীভূত পানি, আয়রন, জিংক, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশ ও ফসফরাসের বড় অংশ।
এই ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ৯০ শতাংশ ধান বর্তমানে যন্ত্রচালিত কলে ছাঁটাই করে চালে পরিণত করা হয়। চালকলে বিআর-২৮ জাতের চাল ছাঁটাই করে চিকন করে মিনিকেট হিসেবে বিক্রি করা হয়। এতেও চাল থেকে চর্বি, ক্যালসিয়াম, শর্করাসহ প্রায় ২০ শতাংশ পুষ্টি উপাদান চলে যায়। এরপর আবার মাড়ের সঙ্গে ১৫ শতাংশ পুষ্টি উপাদান ফেলে দেওয়ায় দেশের মানুষ বিপুল পরিমাণ পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ধোয়া ও অতিরিক্ত সেদ্ধ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন আ ব ম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, সবজি কাটার পর ধোয়া হলে তা থেকে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন-ডি, বি কমপ্লেক্স পানির সঙ্গে দ্রবীভূত হয়ে চলে যায়। সবজি বেশি সেদ্ধ করলে ভিটামিন-সি ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ চলে যায়।
সর্বশেষ ২০১১ সালের জাতীয় পুষ্টি জরিপ অনুযায়ী, দেশের মানুষের মোট খাবারের ৯০ শতাংশ আসে উদ্ভিজ উৎস থেকে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আসে চাল থেকে। ফলে চাল হচ্ছে দেশের গরিব মানুষের পুষ্টির প্রধান উৎস। কিন্তু ওই ভাতের ১০ শতাংশ ভাতের মাড়ের সঙ্গে চলে গিয়ে তা জাতীয়ভাবে পুষ্টি পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-11-21/news/307375

Monday, November 19, 2012

প্রসাধনীর আড়ালে প্রতারণা

প্রসাধনীর আড়ালে প্রতারণা

লেখক: আবুলখায়ের:  সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১২, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪১৯
Details
‘এ প্রসাধনী ব্যবহার করুন, এক মাসেই ত্বক ফর্সা’ কিংবা ‘মেকআপ ছাড়াই সুন্দরী হোন’। টিভি কিংবা পত্রিকা খুললেই দেখা যায় এমন চটকদার বিজ্ঞাপন। মডেল দেশের নামীদামী মডেল, অভিনেতা ও অভিনেত্রী। এভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে দেদারসে বিক্রি করা হচ্ছে ‘ত্বক ফর্সাকারী’ প্রসাধনী। বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে নারীরা ত্বক ফর্সা করার জন্য হুমড়ি খেয়ে কিনছেন ক্রিম। তারা জানেন না এ সব ক্রিমে ব্যবহার করা হয় এমন সব উপাদান যাতে ক্যান্সার অনিবার্য। এতে ব্যবহার করা হয় মার্কারি (পারদ), হাইড্রোকুইনসহ নানা বিষাক্ত উপাদন। ক্যান্সার ছাড়াও, কিডনির সমস্যা, মস্তিষ্কে প্রদাহ ও প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম দানসহ নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন নারীরা।
পরমাণু শক্তি কমিশনের পরীক্ষাগারসহ বিভিন্ন পরীক্ষাগারে পরীক্ষায় ‘ত্বক ফর্সাকারী’ ক্রিমে মার্কারিসহ বিষাক্ত দ্রবণ থাকার প্রমাণ মিলেছে। সমপ্রতি পরিচালিত মোবাইল কোর্টের অভিযানে ঐ সব ‘ত্বক ফর্সাকারী’ ক্রিম প্রস্তুতকারীরা নিজেরাই স্ব্বীকার করেছেন এসব প্রসাধনে ত্বক ফর্সা করে এমন উপাদান নেই। এভাবে বিষাক্ত ক্রিম বিক্রি করে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এসব প্রসাধনী প্রস্তুতকারীরা। বিনিময়ে নারীদেরকে উপহার দিয়েছে মরণব্যাধি ।
এক প্রসাধন প্রস্তুতকারী স্বীকার করেছেন এ পর্যন্ত তিনি ৫০ লাখ লোকের কাছে তার বিষাক্ত ক্রিম বিক্রি করেছেন। বিএসটিআই ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন বিষাক্ত ক্রিম প্রস্তুতকারী অনেকের বিএসটিআইয়ের অনুমোদন রয়েছে। সমপ্রতি প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান বোটানিকা এ্যারোমার মালিক ও তার স্ত্রীসহ তিন জনকে দুই বছর জেল এবং চার জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে মোবাইল কোর্ট। কারখানা সিলগালা এবং কোম্পানির বাজার থেকে সব ক্রিম প্রত্যাহার করার আদেশ দিয়েছে মোবাইল কোর্ট।
যেভাবে বিষাক্ত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের সন্ধান লাভ
ত্বক ফর্সার চটকদার বিজ্ঞাপন রাজধানী থেকে গ্রামাঞ্চলে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এসব প্রসাধনী ব্যবহার করে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় পড়েন ব্যবহারকারীরা। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের কাছে এ ধরনের অনেক রোগী আসতে থাকেন। পরে চিকিত্সকরা এ ব্যাপারে সোচ্চার হন।
অভিযোগ আসে র্যাবের কাছেও। র্যাব-১ বাজার থেকে বোটানিক এ্যারোমার ও বোটানিক হারবালের ১১টি প্রসাধনী বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগার পরমাণু কেন্দ্রে পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় উদ্বেগজনক মাত্রায় মার্কারি পাওয়া যায়। র্যাবের সংগৃহীত পণ্যের মধ্যে জেন্টস স্পট অডিট ক্রিম, নাইট কুইন ক্রিম, ব্লাক ডায়মন্ড ক্রিম ও ফেয়ারনেস ক্রিমে সবচেয়ে মার্কারি থাকার পরীক্ষা প্রমাণ মেলে। নামিদামি মডেল তারকারা বিপুল টাকার লোভে এ বিষাক্ত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমের চটকদার বিজ্ঞাপনে অংশ নেয়। মডেল অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের দেখে গ্রাম কিংবা শহরের তরুণ-তরুণীরা এ ক্রিম ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হন।
পরীক্ষার রিপোর্ট, প্রতারণার তথ্য প্রমাণ ও ব্যবহারকারীদের অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশিদুল আলমের পরিচালনায় ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশার নেতৃত্বে গত শনিবার কেরানীগঞ্জের তিরনি এলাকার বোটানিক এ্যারোমার কারখানায় অভিযান চালানো হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত অভিযান চলে। বিপুল পরিমাণ ত্বক ফর্সার ক্রীম আটক করে র্যাব। বোটানিক এ্যারোমার মালিক মো. আসাদুজ্জামান লিটন ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী জামান এবং সুপার ভাইজারের ভাগ্নে আখতার বেপারীকে আটক করা হয়। তার শ্যালক হেমায়েত হাওলাদার পলাতক। বিষাক্ত মার্কারি ও হাইড্রোকুইনন সংমিশ্রণের বিষয়টি মালিকপক্ষের চারজন ছাড়া কারখানার আর কেউ জানতেন না বলে মোবাইল কোর্ট জানায়। মোবাইল কোর্ট মালিক ও তার স্ত্রী এবং ভাগ্নেকে দুই বছর জেল দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। এছাড়া উক্ত চারজনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(গ) ধারায় (জামিন অযোগ্য) মামলা দায়ের করা হয়।
যে ধরনের ক্ষতি হয়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ডারমাটোলজী বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা ত্বক ফর্সা ক্রিমে অনেক ক্ষতিকর দিক পেয়েছেন।
চর্ম ও যৌন রোগী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কবির চৌধুরী বলেন, শুধু বোটানিক এ্যারোমা ও হারবাল প্রসাধনী নয়, অনেক কোম্পানি মার্কারি ও হাইড্রোকুইনন মিশিয়ে ‘ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম’ তৈরি করে। হারবালের নামে নানা বিষাক্ত প্রসাধনীতে এখন বাজার সয়লাব।
এগুলো ব্যবহারে মানুষের ত্বকে নানা ধরনের সংক্রমণ হয়। ঘরে ঘরে চামড়ায় ক্যান্সার ও মুখমণ্ডলে ক্যান্সার দেখা দেয়ার জন্য এই বিষাক্ত ক্রিমই দায়ী।
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের মতে, এসব ক্ষতিকর ক্রিম ব্যবহারে কিডনি ও লিভার নষ্ট, গর্ভবতী মায়ের গর্ভের সন্তানের মস্তিষ্কের গঠন বাধাগস্ত হয়ে প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্ম দেয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। এছাড়া স্মৃতিশক্তি লোপ, মানসিক উদ্বেগ বৃদ্ধি, হতাশা বৃদ্ধি, হাত-পা অবশ, স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়া নষ্ট, চামড়া বিবর্ণ ও রেশ সৃষ্টি হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাসজনিত রোগ মস্তিষ্কে বিষক্রিয়া করে মানসিক বিকৃতি ঘটায় ও পরিপাকতন্ত্রে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। এছাড়া পরিবারের কোনো সদস্য উক্ত ক্রিম ব্যবহার করলে শিশুরা মার্কারির স্পর্শ দ্বারা এসব রোগে আক্রান্ত হতে পারে। গোসল বা হাত-মুখ ধোয়া পানি মার্কারিযুক্ত হয়ে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। খাবার পানি, মাছের মাধ্যমে তা মানব দেহে প্রবেশ করে অনুরূপ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএন হুদা জানান, ‘ত্বক ফর্সাকারী’ ক্রিম ব্যবহার করে মুখমণ্ডলে ইনফেকশন, স্থায়ী জটিলতা ও স্কিন ক্যান্সারে আক্রান্ত অনেক রোগী তার কাছে প্রতিদিনই আসছেন চিকিত্সার জন্য। বিজ্ঞাপন দেখে এসব ক্রিম ব্যবহারের প্রবণতা অনেকটা মাদকাসক্তের মতো। কেউ একবার এসব ক্রিম ব্যবহার করলে বার বার এগুলো ব্যবহারে উত্সাহিত হয়ে পড়েন নারীরা।
ক্যান্সার, কিডনি, লিভার, শিশু ও গাইনি বিশেষজ্ঞরাও একই মত পোষণ করে বলেন, ত্বক ফর্সা ক্রিম ব্যবহারে চামড়া পাতলা হয়ে যায়। চামড়া পাতলা হয়ে সাদা হয়ে গেলে ব্যবহারকারী ভাবে ত্বক ফর্সা হয়ে গেছে। ব্যবহার বন্ধ করলে আবার কালো হয়ে যায় ত্বক।
অর্ধ শতাধিক হারবাল প্রসাধনী কোম্পনির প্রতারণা
বিএসটিআই ও ওষুধ প্রশাসনের সামনে অর্ধ শতাধিক কোম্পানি নানা চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে ‘ত্বক ফর্সাকারী’ ক্রিম ও যৌন উত্তেজক হারবাল ওষুধ প্রকাশ্যে বিক্রি করে চলছে। নতুন করে বাজারে এসেছে বায়োলিফ বিউটি ক্যাপসুল। চুল পড়া বন্ধ করাসহ নানা ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এসব কোম্পানি। জনপ্রিয় মডেলদের এ সব প্রতারক কোম্পানি ক্রেতার বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করে থাকে। ঐ সব মডেল নিজেরা কখনো এসব বিষাক্ত ক্রিম ও ওষুধ ব্যবহার করে না বলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানান। অনেক ভুয়া প্রতিষ্ঠান ত্বক ফর্সা করার ইনজেকশন দেয়। ১৫টি ইনজেকশনের দাম পাঁচ লাখ টাকা। এক শ্রেণীর বিউটি পারলার, স্কিন লেজার সেন্টার ও ডাক্তার ঐ সব বিষাক্ত ত্বক ফর্সা ক্রিম, ক্যাপসুল ও ইনজেকশন ব্যবহারে নারীদের প্রলুব্ধ করে। এর বিনিময় তারা মোটা অংকের কমিশন পেয়ে থাকে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, বিষাক্ত ত্বক ফর্সা ক্রিম, ক্যাপসুল, ইনজেকশনের কোনো অনুমতি নেই। যারা এগুলো উত্পাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত ঐ সব কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। ওষুধ প্রশাসন ও বিএসটিআইয়ের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ঐ সব প্রতারক কোম্পানি থেকে প্রতি মাসে মোটা অংকের উেকাচ পেয়ে থাকেন।  এ কারণে ঐ সব প্রতারক কোম্পানি বিষাক্ত ত্বক ফর্সা ক্রিম, ক্যাপসুল ও ইনজেকশনসহ নানা ধরনের প্রসাধনী নিরাপদে বাজারজাত করে আসছে বলে দুই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান।
http://new.ittefaq.com.bd/news/view/172863/2012-11-19/2

পুষ্টিকর মিষ্টি দই, লাচ্ছি

  তৈরি করুন মজাদার, স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর মিষ্টি দই, লাচ্ছি।
আমরা দইয়ের উপকারিতা সম্পর্কে জানলাম। বাইরের দই খেতে না চাইলে খুব সহজে ঘরেই তৈরি করুন মজাদার, স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর মিষ্টি দই।
যা যা লাগবেঃ

দুধ-৪ লিটার, চিনি-১ কাপ, টক দই-২ টেবিল চামচ।

প্রনালীঃ
দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে অর্ধেক করুন। দুধ জ্বালানোর সময় করার সময় অল্প অল্প করে চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন যাতে সর না পড়ে।এবার চুলা থেকে নামিয়ে দুধ উঁচু থেকে পাত্রে ঢালুন।দুধ অল্প গরম থাকতে ফেটানো টক দই মিলিয়ে নিন।

এবার পাত্রের মুখে ঢাকনা দিয়ে গরম কাপড় দিয়ে ঢেকে এমনভাবে রাখবেন যেন নাড়া না লাগে।১২ ঘণ্টা পর ঢাকনা খুলে দেখুন, দই জমে যাবে। দইয়ের পরিবর্তে সিরকা বা লেবুর রস দিলেও দই জমবে।

এবার দই দিয়ে কয়েক পদ তৈরি করুন এই গরমে:

দই-আম লাচ্ছি 

উপকরণঃ

মিষ্টি দই ২ কাপ, পাকা আমের রস ২ কাপ, চিনি ১ কাপ, পানি ২ কাপ, বরফ কুচি ১ কাপ, লবন সামান্য

প্রণালীঃ

বরফ কুচি বাদে বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন। স্বচ্ছ গ্লাসে লাচ্ছি ঢেলে, বরফ কুচি দিয়ে এই গরমে পরিবেশন করুন ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা দই-আমের লাচ্ছি
http://sonarbangladesh.com/blog/zuhana/113500 

টকদই এর রেসিপি: খুব অল্প খরচে, অল্প সময়ে বাসায় এই ট্কদই বানাতে পারেন

নিজের হাতে বানানো টকদই- আসুন আজই হয়ে যাক

আমি বরাবরই ভোজন রসিক সেটা এ ব্লগের অনেকেই জানেন। সেসব নিয়েও আছে অনেক অনেক গল্প। যাক সে কথা। আজকে ঘরে বানানো টকদই এর রেসিপি দিবো। যা এই রোজার দিনে ইফতারের পরে ভালো পুষ্টির যোগান দিবে। খুব অল্প খরচে, অল্প সময়ে বাসায় এই ট্কদই বানাতে পারেন।

উপকরণ :
দুধ ২ লিটার (আমরা দুই লিটারকে ষ্ট্যান্ডার্ড ধরে নিলাম), পানি ২ কাপ,
দইয়ের বীজ (আগের দই) ১.৫ টেবিল চামচ, মাটির বড় হাঁড়ি ১টি।

প্রণালী:
১। ২ লিটার দুধে ২ কাপ পানি মিশিয়ে প্রায় সাত/আট মিনিট চুলায় গরম করতে হবে।
২। যখন একটু বলক উঠবে তখন চুলার জ্বাল কমিয়ে দিতে হবে।
৩। এরপর এই অল্প জ্বালে প্রায় ২০ মিনিট রাখতে হবে। (পাতিলের নিচে দুধ যাতে না ধরে যায় এজন্য মাঝে মাঝে চামচ দিয়ে নাড়তে হবে)
৪। মিশ্রণটি যখন একটু ঘন হয়ে আসবে তখন মাটির ঐ হাঁড়িতে ঢালতে হবে।
৫। এরপর দইএর বীজ আধাকাপ পানিতে গুলিয়ে মাটির হাঁড়িতে রাখা দুধের মধ্যে ঢেলে দিতে হবে।
৬। এরপর হাঁড়িটি ঢেকে রাখতে হবে। ঠান্ডা হলে ফ্রিজিং করা যেতে পারে।

 

দই এর বীজ কিভাবে বানাবেন?
১ম পদ্ধতি: আগের যেকোন দই থেকে অল্প কিছু দই পরের দই এর বীজ হিসেবে ব্যাবহার করা যায়।
২য় পদ্ধতি: এককাপ দুধের মাঝে ৩/৪ চামচ ভিনেগার দিলে সেটা জমে দই এর বীজ হবে।
৩য় পদ্ধতি: এককাপ দুধের মাঝে দশ বারো ফোঁটা লেবুর রস দিলেও সেটা দই এর বীজ হিসেবে।

দই এর পরিচয় এবং সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
দই হল এক ধরনের দুগ্ধজাত খাদ্য যা দুধের ব্যাক্টেরিয় গাঁজন হতে প্রস্তুত করা হয়। ল্যাক্টোজের গাঁজনের মাধ্যমে ল্যাক্টিক এসিড তৈরি করা হয়, যা দুধের প্রোটিনের ওপর কাজ করে দইয়ের স্বাদ ও এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গন্ধ প্রদান করে। মানুষ ৪৫০০ বছর ধরে দই প্রস্তুত করছে এবং তা খেয়ে আসছে। সারা পৃথিবীতেই এটি পরিচিত। পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে এর সুনাম আছে। দই প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, রাইবোফ্ল্যাভিন, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন বি১২ এ অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

টক দই এর ১০টি উপকারীতা:
১। টক দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ঠান্ডা লাগা , সর্দি ও জ্বর না হওয়ার জন্য এটি ভালো কাজ করে।
২। টক দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে বাড়িয়ে হজম শক্তি বাড়ায় বা ঠিক রাখে।
৩। টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া হজমে সহায়ক তাই এটি পাকস্থলীর জ্বালাপোড়া কমাতে বা হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
টক দই হাড় ও দাঁতের গঠনে ও মজবুত করতে সাহায্য করে ।
৪। কম ফ্যাট যুক্ত টক দই রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএল কমায়।
৫। টক দইয়ের আমিষ দুধের চেয়ে সহজে হজম হয়, এটি দুধের চেয়ে অনেক কম সময়ে হজম হয়। তাই যাদের দুধের হজমে সমস্যা তারা দুধের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন।
৬। টক দই রক্ত শোধন করে। উচ্চ রক্ত চাপের রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
৭। ডায়বেটিস, হার্টের অসুখ এর রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে এসব অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। নিয়মিত টক দই খেলে তা অন্য খাবার থেকে পুষ্টি নিয়ে শরীরকে সরবরাহ করে ।
৮। টক দইয়ে আমিষ থাকে, যেহেতু আমিষ হজম হতে সময় লাগে, তাই পেট ভরা বোধ হয় ও শক্তি পাওয়া যায় | অতিরিক্ত খাবারও খেতে ইচ্ছা করে না।
৯। দই এর পুষ্টি উপাদানগুলো হজমের সময় তাড়াতাড়ি শরীরে শোষিত হয়ে দ্রুত শরীরকে শক্তি দেয়।
১০। টক দই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে | তাই গ্রীষ্মকালে টক দই খেলে ভালো।

তো আজকেই হয়ে যাক, ইফতারের পরে নিজের হাতে বানানো টক দই। আর খেয়ে বলেন কেমন লাগলো?
 http://www.somewhereinblog.net/blog/miltoncis/29646072
প্রকাশ করা হয়েছে: মিষ্টান্ন ও খাবার  বিভাগে 

---------
টকদই এর রেসিপি:  খুব অল্প খরচে, অল্প সময়ে বাসায় এই ট্কদই বানাতে পারেন।
উপকরণ :
দুধ ২ লিটার (আমরা দুই লিটারকে ষ্ট্যান্ডার্ড ধরে নিলাম), পানি ২ কাপ,
দইয়ের বীজ (আগের দই) ১.৫ টেবিল চামচ, মাটির বড় হাঁড়ি ১টি।

প্রণালী:
১। ২ লিটার দুধে ২ কাপ পানি মিশিয়ে প্রায় সাত/আট মিনিট চুলায় গরম করতে হবে।
২। যখন একটু বলক উঠবে তখন চুলার জ্বাল কমিয়ে দিতে হবে।
৩। এরপর এই অল্প জ্বালে প্রায় ২০ মিনিট রাখতে হবে। (পাতিলের নিচে দুধ যাতে না ধরে যায় এজন্য মাঝে মাঝে চামচ দিয়ে নাড়তে হবে)
৪। মিশ্রণটি যখন একটু ঘন হয়ে আসবে তখন মাটির ঐ হাঁড়িতে ঢালতে হবে।
৫। এরপর দইএর বীজ আধাকাপ পানিতে গুলিয়ে মাটির হাঁড়িতে রাখা দুধের মধ্যে ঢেলে দিতে হবে।
৬। এরপর হাঁড়িটি ঢেকে রাখতে হবে। ঠান্ডা হলে ফ্রিজিং করা যেতে পারে।

দই এর বীজ কিভাবে বানাবেন?
১ম পদ্ধতি: আগের যেকোন দই থেকে অল্প কিছু দই পরের দই এর বীজ হিসেবে ব্যাবহার করা যায়।
২য় পদ্ধতি: এককাপ দুধের মাঝে ৩/৪ চামচ ভিনেগার দিলে সেটা জমে দই এর বীজ হবে।
৩য় পদ্ধতি: এককাপ দুধের মাঝে দশ বারো ফোঁটা লেবুর রস দিলেও সেটা দই এর বীজ হিসেবে।

দই এর পরিচয় এবং সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
দই হল এক ধরনের দুগ্ধজাত খাদ্য যা দুধের ব্যাক্টেরিয় গাঁজন হতে প্রস্তুত করা হয়। ল্যাক্টোজের গাঁজনের মাধ্যমে ল্যাক্টিক এসিড তৈরি করা হয়, যা দুধের প্রোটিনের ওপর কাজ করে দইয়ের স্বাদ ও এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গন্ধ প্রদান করে। মানুষ ৪৫০০ বছর ধরে দই প্রস্তুত করছে এবং তা খেয়ে আসছে। সারা পৃথিবীতেই এটি পরিচিত। পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে এর সুনাম আছে। দই প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, রাইবোফ্ল্যাভিন, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন বি১২ এ অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

টক দই এর ১০টি উপকারীতা:
১। টক দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ঠান্ডা লাগা , সর্দি ও জ্বর না হওয়ার জন্য এটি ভালো কাজ করে।
২। টক দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে বাড়িয়ে হজম শক্তি বাড়ায় বা ঠিক রাখে।
৩। টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া হজমে সহায়ক তাই এটি পাকস্থলীর জ্বালাপোড়া কমাতে বা হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
টক দই হাড় ও দাঁতের গঠনে ও মজবুত করতে সাহায্য করে ।
৪। কম ফ্যাট যুক্ত টক দই রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএল কমায়।
৫। টক দইয়ের আমিষ দুধের চেয়ে সহজে হজম হয়, এটি দুধের চেয়ে অনেক কম সময়ে হজম হয়। তাই যাদের দুধের হজমে সমস্যা তারা দুধের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন।
৬। টক দই রক্ত শোধন করে। উচ্চ রক্ত চাপের রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
৭। ডায়বেটিস, হার্টের অসুখ এর রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে এসব অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। নিয়মিত টক দই খেলে তা অন্য খাবার থেকে পুষ্টি নিয়ে শরীরকে সরবরাহ করে ।
৮। টক দইয়ে আমিষ থাকে, যেহেতু আমিষ হজম হতে সময় লাগে, তাই পেট ভরা বোধ হয় ও শক্তি পাওয়া যায় | অতিরিক্ত খাবারও খেতে ইচ্ছা করে না।
৯। দই এর পুষ্টি উপাদানগুলো হজমের সময় তাড়াতাড়ি শরীরে শোষিত হয়ে দ্রুত শরীরকে শক্তি দেয়।
১০। টক দই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে | তাই গ্রীষ্মকালে টক দই খেলে ভালো।

---------------=============---------------------

টক দইয়ের উপকারিতা 

এতে আছে প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, যা হাড় ও দাঁতের গঠনে সহায়ক। মহিলাদের টক দই বেশী প্রয়োজন,কেননা তারাই ক্যালসিয়ামের অভাবে বেশী ভোগেন। 

টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত উপকারী,এটা শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

  • টক দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া ঠান্ডা,সর্দি,জ্বরকে দুরে রাখে।                
  • টক দইয়ে আছে ল্যাকটিক অ্যাসিড,যা কোষ্টকাঠিন্য দুর করে ও ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে। এটি কোলন ক্যানাসার রোগীদের খাদ্য হিসাবে উপকারী।
  • যারা দুধ খেতে পারেন না বা দুধ যাদের হজম হয় না, তারা অনায়াসেই টক দই খেতে পারেন। কারন টক দইয়ের আমিষ দুধের চেয়ে সহজে ও কম সময়ে হজম হয়।
  • টক দই ওজন কমাতেও সাহায্য করে। এর আমিষের জন্য পেট ভরা বোধ হয় ও শরীরে শক্তি পাওয়া যায়। ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহন করতে ইচ্ছে করে না। আর অতিরিক্ত খাবার না খেলে সহজেই ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা যায়।
  • টক দই শরীরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখে। প্রতিদিন মাত্র এক কাপ করে টক দই খেলেউচ্চ রক্তচাপ প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমে যায় এবং স্বাভাবিক হয়ে আসে। এছাড়া এটি রক্তের খারাপ কোলেষ্টেরলের মাত্রাও কমিয়ে দেয়।
  • হার্টের অসুখ ও ডায়াবেটিসের রোগীরা টক দই খেলে অসুখ নিয়ন্ত্রনে থাকে।
  • টক দই শরীরে টক্সিন জমতে দেয় না। ফলে অন্ত্রনালী পরিস্কার থাকে। যা শরীরকে সুস্হ রখে ও বার্ধক্য রোধে সাহায্য করে।
  • নিয়মিত টক দই খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।


ঘরে কিভাবে টক দই তৈরী করা যায়
এক লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করতে হবে। এবার ছয়/সাত চামচ টকদই এর ভিতর দিয়ে ভাল করে ঘেঁটে দিতে হবে। তারপর মাটির পাত্রে দুধটা ঢেলে সাত আট ঘন্টা রেখে দিলেই টক দই তৈরী হয়ে যাবে। ফ্রিজে কখনও দই পাতবেন না, কারন ফ্রিজে ব্যাকটেরিয়া কাজ করে না।


টক দই কিভাবে খাওয়া যায়
টক দই খাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে বোরহানি করে খাওয়া। টক দইয়ের ভিতর বিট লবন, গোল মরিচ গুঁড়া, পুদিনা বাটা ইত্যাদি দিয়ে তৈরী করা বোরহানি খেতে যেমন অসাধারন তেমনি স্বাস্হ্যকরও বটে। এছাড়া স্বাদ অন্যরকম করতে তেতুলের রস ও জিরা গুঁড়াও মেশানো যায় বোরহানির সাথে। টক দইয়ের ভিতর সবকিছু দিয়ে হ্যান্ড বিটার দিয়ে ভাল করে ফেটে বা ব্লেন্ডারে দিয়ে বোরহানি তৈরী করা যায়।
টক দই আরও খাওয়া যায় সালাদের সাথে। টমাটো, শসা, গাজর ইত্যাদি কেটে টক দই মিশিয়ে তার সাথে বিট লবন, গোল মরিচের গুঁড়া যোগ করে খেতে হবে। এছাড়াও বিভিন্ন ফল কেটে টক দই সহযোগেও খাওয়া যায়। দুটো পদ্ধতিই সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর।
যেভাবেই টক দই খাওয়া হোক না কেন মূল কথা হচ্ছে এটি ভীষন উপকারি। নিয়মিতভাবে টক দই খেলে আমাদের শরীর থাকবে অনেক রোগমুক্ত, সতেজ ও স্বাভাবিক। যা প্রতিটি মানুষেরই কাম্য।

Sunday, November 18, 2012

ডিসিসির সেবার মান নিয়ে নগরবাসীর ক্ষোভ

এম এ বাবর:
নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর অজুহাতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) বিভক্ত করেছে সরকার। কিন্তু বিভাজিত ডিসিসির সেবা গ্রহীতাদের পদে পদে হয়রানি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর জনদুর্ভোগে অতিষ্ঠ নগরবাসীর ডিসিসির প্রতি ক্ষোভ বাড়ছেই।
জনপ্রতিনিধিহীন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন ও সেবার নামে চলছে কোটি কোটি টাকা লুটপাট। কর্তৃপক্ষ নগরবাসীর নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ার দাবি করলেও নাগরিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডে বাস্তবে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
এদিকে নগরীর ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, জলাবদ্ধতা ও মশার উপদ্রবসহ নানামুখী সমস্যা ও দুর্ভোগে অতিষ্ঠ নগরবাসীর ঘাড়ে চেপে বসেছে নতুন-নতুন সমস্যা। নাগরিক সনদ, জন্ম নিবন্ধন সনদ, মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স করতে গিয়ে পদে পদে হয়রানি হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা। আর উত্তর-দক্ষিণের ঠেলাঠেলিতে রিকশার নম্বর নবায়ন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন রিকশা মালিকরা। সেবার মান না বাড়িয়ে হঠাৎ করে নগরীর বাড়ি-ঘরের হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর ভাড়াটিয়াদের কাঁধে।
অন্যদিকে দু’সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে সমন্বয়হীনতা। প্রেষণে নিয়োজিত সরকারি আমলাদের কার্যক্রমে ডিসিসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তা নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দিকে দৃষ্টি না দিয়ে খেয়ালখুশি মতো চলছেন।
আগে কাউন্সিলরদের কাছ থেকে নগরবাসী ১৭ ধরনের সনদপত্র গ্রহণ করত। এখন সে সনদ দেয়ার দায়িত্বে রয়েছেন আমলারা। বর্তমানে ১৭ ধরনের সনদের মধ্যে নগরবাসী ৫-৬টি সনদ পেয়ে থাকেন। আর নানা অজুহাতে বাকিগুলো তারা দিতে চান না। এলাকার সালিশ, বিচার, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানাবিধ সমস্যার সমাধানের কেউ নেই।
এদিকে নাগরিক সেবার মান নিয়ে সেবা প্রত্যাশীদের রয়েছে নানা ধরনের অভিযোগ। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) মায়ের মৃত সনদ নিতে এসে হয়রানির শিকার হয়েছেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আবিদ রেজা সাইদ। গত ১৩ নভেম্বর এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব জমা দিয়েছি গত বুধবার (৭ নভেম্বর)। কিন্তু নানা অজুহাতে আমাকে পাঁচদিন যাবত ঘোরানো হচ্ছে।’ এক পর্যায়ে এ প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হলে মাত্র পাঁচ মিনিটেই আবিদ রেজা তার মায়ের মৃত্যু সনদ পেয়ে যান। একই সঙ্গে ওই দিন কাগজপত্র জমা দিয়েই তার চাচার মৃত্যু সনদও পেয়ে যান ৩০ মিনিটেই। 
নদ্দা এলাকার বাসিন্দা সাজিয়া বেগম সাতদিন ঘুরেও সন্তানের জন্ম সনদ নিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘ডাক্তার সার্টিফিকেট নিয়ে অঞ্চল অফিসে যেতে বলা হয় আমাকে। অঞ্চল অফিসে গেলে বলে নগর অফিসের অনুমোদন না আনলে সার্টিফিকেট দেয়া যাবে না। এভাবে আমাকে দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছে।’
এমন অভিযোগ রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সেবা প্রত্যাশীদেরও।  
ব্যবসায়ী সামছুর রহমান বলেন, ‘দোকানের ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রায় এক মাস আগে ফি জমা দেয়ার পরেও লাইসেন্স নিতে পারিনি। পরে দালাল ধইরা দুই হাজার টাকা দিয়া ৬ দিনে লাইসেন্স পাইছি।’
অন্যদিকে নগরীর বেশিরভাগ রাস্তাই ভাঙাচোরা। একটু বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটু পানি জমে যায়। রাস্তার খানাখন্দে জমে থাকা ময়লা পানির মধ্যে রিকশা সিএনজি উল্টে যায়। এতে দুর্ঘটনাও ঘটে। অনেক সময় ময়লা-আবর্জনায় শ্রীহীন থাকে প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত। দিন-রাত মশার কামড়ে অতিষ্ঠ থাকে নগরবাসী। প্রধান সড়কগুলোতে সড়কবাতি থাকলেও অনেক এলাকার বেশিরভাগ রাস্তায় সড়কবাতি অকেজো।
কূটনৈতিকপাড়া হিসেবে খ্যাত গুলশান-১, গুলশান-২, বারিধারা এলাকার বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসহ এলাকার অলিগলি এবং নিকেতনের একাংশ, নাবিস্কো থেকে মেরুল বাড্ডা সংযোগ রাস্তার পুরো অংশই ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। ওয়্যারলেস থেকে মহাখালী কাঁচাবাজার এবং কলেরা হাসপাতাল থেকে নিকেতন যাওয়ার রাস্তাটিরও একই অবস্থা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গুলশান-১ চত্বর থেকে গুলশান-২, তেজগাঁও ও মহাখালী অভিমুখের রাস্তার ফুটপাত খানাখন্দে ভরা এবং চলাচলের অনুপযোগী। মহাখালী দক্ষিণপাড়া এলাকার রাস্তা বলতে অসংখ্য খানাখন্দে ভরা কয়েকটি অপরিসর আঁকাবাঁকা গলি। সিটি কর্পোরেশনের ডাস্টবিন না থাকায় রাস্তার পাশেই সবসময় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থাকে। একই ধরনের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয় রাজধানীর যাত্রাবাড়ি, খিলগাঁও, তেজগাঁও, রামপুরা, মিরপুর, পল্লবী, উত্তরা, পুরাণ ঢাকার বেগমগঞ্জ লেন, ঝিলপাড়, বানিয়ানগর, আরএম দাস লেন, ঋষিকেশ লেন ও জাস্টিস লাল মোহন দাস লেন এলাকার।
এদিকে গত ৫ নভেম্বর ডিসিসির সেবার মান নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান। সূত্র জানায়, ওই সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শাহজাহন আলী মোল্লা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জিল্লার রহমানকে তলব করা হয়। স্থানীয় সরকার সচিব ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকদের কাছে জানতে চান, ‘সেবার মান কি কারণে খারাপ হচ্ছে? নাগরিক সেবা বৃদ্ধি করা না গেলে দুটি সিটি কর্পোরেশন করে কি লাভ হলো?’
এর আগে গত জুলাই মাসে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকও ডিসিসির সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত নগরীর বিভিন্ন রাস্তাঘাটের বেহাল দশার সংবাদ দেখে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন প্রশাসক খলিলুর রহমান ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন প্রশাসক খোরশেদ আলম চৌধুরীকে মন্ত্রণালয়ে তলব করেন। সেবার মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস হবে না বলে দুই প্রশাসককে তখন তিনি হুঁশিয়ার করেছিলেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান বলেন, নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে দ্রুত জনবল নিয়োগ, রাজধানীর ভাঙাচোরা ও বেহাল সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের প্রশাসকদের তাগিদ  দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিকল সড়ক বাতি ঠিক করা, মশা নিধন এবং রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেয়া হয়। এছাড়া সেবার মান নিশ্চিত করতে দু’সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের যেসব সমস্যা রয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে  দ্রুত তা সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে।
http://manobkantha.com/details_news.php?id=93720&&+page_id=+6

মশক নিধনে চলছে ডিসিসির জালিয়াতি


এম এ বাবর:
ঢাকা মহানগরীর মশা নিধনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে চলতি অর্থবছরে ৩৫ কোটি এক লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ইতিমধ্যে এ কার্যক্রম পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় মেশিনারি ও ওষুধ ক্রয় খাতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
মশক নিধনের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ১২ দিনব্যাপী বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এজন্য তারা গত ৮ নভেম্বর বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপনও দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের ওই কার্যক্রম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনেও রয়েছে শুভংকরের ফাঁকি। ডিএসসিসির পাঁচটি অঞ্চলে ১২ দিনব্যাপী ক্রাশ প্রোগ্রামে যেসব মেশিনারির সংখ্যা দেয়া হয়েছে এবং যে পরিমাণ ওষুধ ও জনবল কাজ করার কথা বলা হয়েছে সেখানেও রয়েছে জালিয়াতি।
অন্যদিকে মশার ওষুধ কেনার কার্যক্রম শেষ না করেই ডিএসসিসি ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে। প্রায় এক লাখ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড কেনার জন্য কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত সরবরাহ করেছে মাত্র ১৯ হাজার লিটার। এছাড়া চার হাজার লিটার লার্ভিসাইড কেনার জন্য টেন্ডার হলেও ওষুধ এখনো ভাণ্ডারে আসেনি।
সূত্র জানায়, ডিএসসিসির চলমান ক্রাশ প্রোগ্রামে প্রতিদিন ১৮০টি ফগার মেশিন ও ২৫৩টি হস্তচালিত মেশিনের মাধ্যমে কাজের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ডিএসসিসির পাঁচটি অঞ্চলে ফগার মেশিন সচল রয়েছে সর্বোচ্চ ১শ’ এবং হস্তচালিত মেশিন সচল রয়েছে ১২০-১৩০টি। এছাড়া অঞ্চল অফিসগুলোতে চলতি অর্থবছরে মশক নিধনের নতুন কোন মেশিন সরবরাহ করা হয়নি। ব্যবহৃত মেশিনগুলো ২০১১ সালের শেষের দিকে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে পুরান মেশিনের মাধ্যমে কাজ করতে গিয়েও অনেক মেশিন অচল হয়ে যাচ্ছে।
ডিএসসিসির অঞ্চল-১, ৩ ও ৪-এর সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা মুনির জানান, প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের কিছুটা মেশিন স্বল্পতা রয়েছে। কিছু মেশিন নষ্টও রয়েছে। তবে সচল মেশিনগুলো ডাবল ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। অঞ্চল-২ এর সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কবির জানান, ৪১টি ফগার মেশিনের মধ্যে ৩২টি মেশিন সচল রয়েছে। এছাড়া ৫৫টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের মধ্যে ৪৭টি সচল রয়েছে। সচল মেশিন ডাবল ব্যবহার করে চাহিদা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মশক নিধনে বিশেষ কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চলে ১৪৩টি ফগার মেশিনের মধ্যে ৮৬টি মেশিনই অচল। এছাড়া ২২১টি হস্তচালিত স্প্রে মেশিনের মধ্যে ৬২টি অচল, ২১টি হুইল ব্যুরো মেশিনের মধ্যে ৭টি অচল, ২টি ইউএলডি মেশিনের ২টিই অচল ও ৬টি পাওয়ার স্পেয়ার মেশিনের মধ্যে ৩টি অচল। প্রয়োজনীয় মেশিনারি, ওষুধ ও জনবল না থাকায় অতিসত্বর এ কাজ শুরু হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই।
সূত্র জানায়, সচল মেশিনারিগুলো চালানোর জন্যও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জনবল নেই। অথচ চলতি অর্থবছরের (২০১২-২০১৩) বাজেটে মশক নিধন কাজে ডিএনসিসির বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৬ কোটি ৫ লাখ টাকা।
মশক ওষুধ, কচুরিপানা পরিষ্কার, ফগার-হুইল-স্প্রে মেশিনসহ মশক নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি ক্রয় বাবদ ওই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর ডিএসসিসির এ খাতে বরাদ্দ ১৯ কোটি ৫ লাখ টাকা।    ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নূর-উন-নবী বলেন, ‘নগরবাসী সচেতন না হলে হাজারো ক্রাশ প্রোগ্রাম চালিয়েও কোনো লাভ হবে না। মশার উৎপাত কমাতে আমাদের যার-যার আঙিনা, ফুলের টব ও নোংরা ডোবাসহ সব কিছু পরিষ্কার রাখতে হবে।’
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ-আল-হারুন বলেন, পাঁচটি অঞ্চলে মশা নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সম্মিলিত ভাবে এ ক্রাশ প্রোগ্রামে কাজ করছেন।
http://manobkantha.com/details_news.php?id=93558&&+page_id=+6

Saturday, November 17, 2012

আমেরিকা প্রবাসী দীপের সঙ্গে নাফিজার বিয়ে নাকি লিভ টুগেদার !

আমেরিকা প্রবাসী দীপের সঙ্গে নাফিজার বিয়ে নাকি লিভ টুগেদার !

    Nafija___SaKiL___1




হ-বাংলা নিউজ : ঢাকা থেকে : দীর্ঘ ছয় মাস আমেরিকায় বসবাস করে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন অভিনেত্রী নাফিজা জাহান। সেখানে প্রেমিক দীপকে তিনি বিয়ে করেছেন বলে খবর রটেছিল। একটি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুনে নাফিজা আমেরিকার টিক্কা গার্ডেন রেস্টুরেন্টে ছোট পরিসরে একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দীপকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর দীপের সঙ্গে আমেরিকার পর্যটন এলাকাগুলোতে ঘুরেও বেড়িয়েছেন। আমেরিকায় ছয় মাস তারা এক বাসাতেই ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি দেশে ফিরে নাফিজা সবাইকে বলছেন, Nafija___SaKiL___2তিনি বিয়ে করেননি। তার এমন মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আমেরিকা প্রবাসীদের অনেকে। তারা মনে করছেন, নাফিজা দীপের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতোই মেলামেশা করেছেন। একই ছাদের নিচে বসবাস করেছেন। যদি তারা বিয়ে করে না থাকেন তবে এ সম্পর্কের নাম কি? নাফিজার মন্তব্য প্রসঙ্গে অনেক প্রবাসী বলেন, বিয়ে ছাড়া একই ছাদের নিচে বসবাস করাকে লিভ টুগেদার বলে। নাফিজা কি তাহলে লিভ টুগেদার করেছে?

এদিকে নাফিজা দেশে ফিরে শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। শুটিংয়ের ফাঁকে তাকে বিয়ে নিয়ে সহকর্মীদের কৌতূহলের জবাব দিতে হচ্ছে। সবাইকে তিনি পরিস্কার জানিয়ে দিচ্ছেন, তিনি বিয়ে করেননি। বিয়ে নিয়ে লুকোচুরি করার কোনো ইচ্ছে তারNafija___SaKiL___4 নেই। দীপকে সে ভালোবাসে, তাকেই বিয়ে করবে। কিন্তু নাফিজার মুখে ভালোবাসার কথা শুনে আড়ালে অনেকে হাসাহাসি করছেন। তার সহকর্মীদের অনেকেই জানান, নাফিজার এমন প্রেমের সম্পর্ক অনেক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে দীপকে বিয়ে করার কথা বলছে হয়তো আমেরিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্যই। এ কথার পেছনে যুক্তি হিসেবে তারা দেখাচ্ছেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে অভিনেত্রী হওয়ার Nafija___SaKiL___3জন্য অনেক সাধারণ নির্মাতার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েছিলেন নাফিজা জাহান। এভাবে সিঁড়ি হিসেবে অনেক নির্মাতা-প্রযোজকের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক গড়ে আজ অভিনেত্রী হয়েছেন তিনি। তাই দীপের সঙ্গে তার সম্পর্ককে 'আমেরিকার নাগরিকত্ব সিঁড়ি' হিসেবেই দেখছেন সবাই।

নাফিজাকে নিয়ে পুরো বিষয়টি ঘোলাটে আকার ধারণ করেছে মিডিয়ায়। কেউ বলছেন তিনি বিয়ে করেছেন। কিন্তু নাফিজা তা স্বীকার করছেন না। তিনি বলছেন, দীপকে তিনি ভালোবাসেন এবং তাকেই বিয়ে করবেন। আবার আমেরিকা প্রবাসীরা বলছেন, নাফিজা-দীপ একই ছাদের নিচে ছয় মাস বসবাস করেছেন। তাই বিয়ে না করলে এ সম্পর্কের নাম 'লিভ টুগেদার'। অন্যদিকে নাফিজার সহকর্মীদের কেউ কেউ বলছেন, তিনি আমেরিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য দীপকে বিয়ে করবেন। সবমিলিয়ে প্রসঙ্গটি নিয়ে নাটকপাড়ায় বেশ আলোচনা হচ্ছে। 
http://hollywoodbangla.com/index.php?option=com_content&view=article&id=9652:2012-11-11-09-12-28&catid=28:2010-10-11-16-46-39&Itemid=136


দেশে মোবাইল ফোন সদৃশ পিস্তল আতঙ্ক

:: নজরুল ইসলাম :: 
দেশে একদিকে চলছে জামায়াত-শিবিরের হামলার আতঙ্ক, অন্যদিকে চলছে মোবাইল ফোন সদৃশ পিস্তল আতঙ্ক। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদ ভবন, বিমানবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ অফিস এবং স্থাপনায় মোবাইল ফোন বিষয়ে বেশি সতর্ক থাকেন আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

mobile_gunপ্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য জানান, এই মোবাইল ফোন পিস্তলের কারণে সব সময় তাদের আতঙ্কে থাকতে হয়। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, এই ধরণের অস্ত্র বাংলাদেশের কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে থাকতে পারে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যে কোন অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি মোবাইল ফোন পিস্তল বিষয়ে অধিক নজর দিতে হয়। গত বছর ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সকল মোবাইল ফোন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে রাখা হয়েছিল।
দেখতে মোবাইল ফোনের মত মনে হলেও এর ভিতরে লুকিয়ে আছে পয়েন্ট টুটু বোরের একটা পিস্তল। সম্প্রতি এই পিস্তলের আবির্ভাব ঘটেছে সন্ত্রাস জগতে।
এর আগে এ ধরনের পিস্তল প্রথম নজরে আসে ইতালীর পুলিশের। ইতালীতে একটি মাদক ব্যবসায়ী পরিবারে অভিযান চালানোর সময় এই অস্ত্র তাদের হাতে আসে। এটি মূলত ইতালীর নেপলসের এক ব্যক্তি প্রথম ডিজাইন বা তৈরি করেন।
বিবিসি জানায়, এ ধরনের পিস্তল উদ্ধারের সময় ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করে।
mobile_gun অস্ত্রটিকে সুকৌশলে একটি মোবাইল ফোন সেটের ভিতরে বসানো হয়। মোবাইল ফোনটিকে মাঝ বরাবর স্লাইডিং করা খোলা যায় এবং একসাথে ৪টি বুলেট ভরা যায়। পিস্তলটিতে ট্রিগার হিসেবে কাজ করে এর চারটি বাটন। মোবাইল ফোনের অ্যান্টেনা কাজ করে এর ব্যারেল হিসেবে। এটিকে আরো বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য এর গায়ে লাগানো হয়েছে একটা নকল ডিসপ্লে।
মোবাইল ফোনের ভেতর আগ্নেয়াস্ত্র লুকানো থাকে বলে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দর এবং নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতে মোবাইল ফোন স্ক্যানারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে ঢোকানো হচ্ছে। সাধারণত এই মোবাইল ফোন সেট ওজনে কিছুটা ভারী হয়। ওজনের বিষয়টিই মূলত এই পিস্তল শনাক্ত করার ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য সহায়ক হয়ে থাকে।

কেএমএস/

Friday, November 16, 2012

১২ বছর পরে বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ছে রাজবংশী ইলিশ

মোহাম্মদ সিরাজুল হক সিরাজ মহেশখালী
তারিখ: ১৬ নভেম্বর, ২০১২
বঙ্গোপসাগরে বিখ্যাত রাজবংশী রুপালি মা ইলিশ মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ১২ বছর পরে। গভীর বঙ্গোপসাগরে (লামার বাহারা) ৬২ বাম গভীর পানিতে শক্তিশালী ফিশিং ট্রলারগুলোতে বিখ্যাত রুপালি মা ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
ফিশিং ট্রলারের মাঝিদের পাওয়া সূত্রে জানা যায়, কুতুবদিয়ার ছৈয়দ নুর মাঝি, হাবিল মাঝি, মহেশখালীর ননাইয়া মাঝি, ইসলাম মাঝি, বদি আলম মাঝি ও কক্সবাজারের খুরুশখুলের নুরুল হক মাঝি বলেন, বঙ্গোপসাগরে লামার বাহারাতে ৬২ বাম পানির গভীরে একদম জালের নিচের মাথায় বিখ্যাত রুপালি মা ইলিশ ধরা পড়েছে জেলেদের জালে। এই সব রুপালি মা ইলিশ গত ১২ বছর পর্যন্ত সাগরে পাওয়া যায়নি। কোথায় থেকে এই মাছ আসছে মাঝিরা তা জানেন না। মাঝিদের অনুমান বঙ্গোপসাগরের পটুয়াখালী জেলার মহিপুর (অর্থাৎ ফাত্তারার) পূর্বসংলগ্ন সোনার চরের দক্ষিণ-পশ্চিমে গভীর বঙ্গোপসাগরে ৬২ বাম পানির গভীরে এই মাছ পাওয়া গেছে। এই ৬২ বাম পানির রঙ একটু হলদে কালো ধরনের, পানির পরিমাণ ৬২ বাম, ওই পানিতে তরঙ্গ খুবই ঘন বলে মাঝিদের সূত্রে জানা যায়।
প্রতিটি খেও বা খোপে পানিতে জাল একদম নিচের মাথায় রুপালি মা ইলিশ তাদের জালে ধরা পড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০টি পর্যন্তÍ। এই ভাবে রাতে দুটি খেও বা খোপে জেলেদের জাল সাগরে ভাসিয়ে জাল টানলে এই রুপালি মা ইলিশ পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত প্রতিটি ট্রলারে তিন হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার পর্যন্ত রুপালি মা ইলিশ মাঝিরা পান বলে জানান। এখনো ওই ৬২ বাম পানিতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জাল পানিতে ভাসিয়ে মাছ ধরতে। বহু বছর পর রুপালি মা ইলিশ মাঝিরা পাওয়ায় খুবই আনন্দিত জেলেরা।
রুপালি এই মা ইলিশ মাঝিদের কথা মতো প্রতিটি দুই কেজির চেয়েও বেশি হবে বলে জানা গেছে। মাঝিরা জানান, জেলেদের ফিশিং ট্রলার ওই ৬২ বাম পানিতে মাছ ধরা অবস্থায় আছে। তারা বলেন ১৯-২০ টির মতো শক্তিশালী ফিশিং ট্রলার মাছ ধরায় রত রয়েছে। মাঝিদের জিজ্ঞাসা করা হয় বাম অর্থ কী? মাঝিরা বলেন, সাড়ে তিন হাত মেপে ওই মাপকে বাম বলে। এইভাবে ৬২ বাম গভীরে বঙ্গোপসাগরে রুপালি মা ইলিশ পাওয়া গেছে। মাঝিরা জানান, ভারতের রায়মঙ্গল খাড়ির কাছাকাছি বাংলাদেশের ভেতরে বঙ্গোপসাগরে এই রুপালি মা ইলিশ পাওয়া গেছে।
মাঝিরা জানান, বঙ্গোপসাগরের মাছের জগতে এ রকম সুস্বাদুু আর কোনো মাছই নেই। এই মাছ সাধারণত গভীর সাগরে কালো সুরমা রঙের পানিতে পাওয়া যায়।
http://www.dailynayadiganta.com/new/?p=42206

Sunday, November 11, 2012

তৈরি হচ্ছে ইউনিকোড ফন্ট ‘আমার বর্ণমালা’


সাব্বিন হাসান:

সরকারি উদ্যোগে দেশে প্রথমবার ইউনিকোড সুবিধাযুক্ত নতুন বাংলা ফন্ট ‘আমার বর্ণমালা’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমী এ উদ্যোগে নেতৃত্বে দিচ্ছে।

বাংলা একাডেমী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিকস ডিজাইন বিভাগ ও প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেনশনের (এটুআই) যৌথ উদ্যোগে ১২ নভেম্বর সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

এ অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিকস ডিজাইন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর নাইমা হক এবং অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারক সই করবেন।

এ মুহূর্তে দেশীয় অনলাইন আবহে বাংলা ভাষার জন্য একাধিক ফন্ট থাকলেও তা বাংলা একাডেমীর অনুমোদন ছাড়াই প্রস্তুত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে বাংলা ফন্ট প্রস্তুত করে ব্যবহার ও বিতরণ করছে। এসব ফন্টে যুক্তবর্ণ ও অন্য সব বিষয় ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আর জটিলতা রয়েই যাচ্ছে।

এদিকে প্রমিতকরণের কাজটি অসম্পূর্ণই রয়ে গেছে। এ ছাড়া সরকারের সব সেবাকে ই-সেবাভুক্ত এবং জনসাধারণের কাছে নিয়ে যেতে প্রায় ২৫ হাজার সরকারি অফিসের ওয়েবসাইট তৈরির অপেক্ষায়।

এ ছাড়া সরকারি সেবা সুনিশ্চিত করতে মোবাইল ফোন ব্যবহারের পরিকল্পনাও আছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে অনলাইনে বাংলা ভাষার চাহিদা বিবেচনায় ইউনিকোড সুবিধার প্রমিত বাংলা ফন্ট প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অনলাইন গণমাধ্যমে বাংলা ভাষাকে জনপ্রিয় করতে জাতীয় ই-তথ্যকোষ এবং মোবাইল ফোনের জন্য প্রমিত বাংলা কিপ্যাড চালু করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় ‘আমার বর্ণমালা’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষা ও ফন্ট বিষয়ক গবেষণ‍া, প্রমিতকরণ, প্রচারণা এবং বিতরণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বাংলা একাডেমীর নেতৃত্বে ফন্ট প্রস্তুত কাজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগ কারিগরি এবং অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দেবে।

গুলশানে জনদুর্ভোগ: মহাখালী ও কালাচাঁদপুরে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য

এম এ বাবর: দীর্ঘ দিনেও রাস্তা, স্যুয়ারেজ ও পানি সমস্যার সমাধান হয়নি রাজধানীর গুলশান থানার কয়েকটি এলাকায়। থানার মহাখালী ও কালাচাঁদপুরের অলি-গলিতে নির্বিঘঘ্ন চলে মাদক বেচাকেনা।

নাগরিক দুর্ভোগের পাশাপাশি মহাখালী সাততলা ব¯ি— এলাকা, হাজারী বাড়ি, আইপিএইচ, টিবি গেট, দক্ষিণপাড়া, রসুলবাগ এলাকায় অনেকটা প্রকাশ্যেই চলে মাদক ব্যবসা। আর মাদক সেবীদের উৎপাতসহ সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে এলাকাবাসী জিম্মি। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র এসব কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মহাখালি ওয়ারলেস রেলগেট এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মূল হোত ফয়সাল।
এদিকে নর্দ্দা, কালাচাঁদপুর এলাকায় উদীয়মান তর“ণেরা পরিচালনা করছেন জমজমাট ইয়াব ব্যবসা। প্রকাশ্যে ইয়াবা বেচাকেনার সময় কয়েক দিন আগে পিন্টু নামে এক ব্যবসায়ীকে ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। পরে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে রাতেই ছাড়া পেয়ে আবার ব্যবসা শরু করে পিন্টু। জানা গেছে এসব ব্যবসায়ীরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের আত্মীয়জন।


এদিকে ক‚টনৈতিক পাড়া হিসাবে খ্যাত গুলশান-বারিধারা এলাকার অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাই ভাঙাচোরা আর যত্রতত্র ময়লা আবর্জনারস্তুপ। এ থানার আওতায় রয়েছে আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, কোরিয়া, চীন, ফ্রান্স, আফগানিস্থান, থাইল্যান্ড, ইরান, ব্রুনাই, নেপাল, নাইজেরিয়া, ভুটান, মালয়েশিয়া, লিবিয়া, থাইল্যান্ড ও মরক্কোর দূতাবাসসহ শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর দূতাবাস। এলাকাটিতে বিদেশি লোকজনের আনাগোনা থাকে সবসময়।

অন্যদিকে গুলশান থানার আওতায় রয়েছে সরকারি-বেসরকারি ২০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কারণেও সংশি­ষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহের আশেপাশের এলাকায় প্রচুর মানুষ বসবাস করে।   

সরেজমিন দেখা গেছে, গুলশান-১ চত্বর থেকে গুলশান-২, তেজগাঁও ও মহাখালী অভিমুখের রাস্তার ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের অনুপোযগী। এসব রাস্তার ফুটপাতের মাঝেমধ্যে ইট দেবে গর্ত হয়ে গেছে। শাখা রাস্তা বেশির ভাগই ভাঙাচোরা।

গুলশান-২ এর ৫৩ নম্বর রাস্তার মাঝেমধ্যে গর্ত ও রাস্তার দু’পাশে ময়লা আবর্জনাস্তূপ। ৫১ নম্বর রাস্তাটির পুরোটারই ভাঙাচোরা ও ড্রেনেজ সমস্যা। এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল জানান, একটু বৃষ্টিতেই রাস্তায় ময়লা দুর্গন্ধ পানি জমে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে সে সময় গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া যায় না।

গুলশান-১ এর ৯, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর রাস্তাটি খানাখন্দে ভড়া। সরু পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থার করণে একটু বৃষ্টিতে গুলশান এভিনিউর ৯০ ও ৯১ নম্বর রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার ১৫, ১৯, ২১, ২৩, ২৩/এ, ২৩/বি, ২৪, ৩২, ৪৬, ৫৩, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৭৬, ৮১, ৯৮, ১০১, ১০৪, ১০৯, ১১০, ১১১, ১১৩, ১৩১, ১৩২, ১৩৩ ও ১৩৪ রাস্তাগুলোয় প্রচুর খানাখন্দ। নিকেতনের একাংশ, নাবিস্কো থেকে মেরুল বাড্ডা সংযোগ রাস্তাটিও ভাঙাচোরা।

মহাখালী দক্ষিণপাড়া এলাকার রাস্তা বলতে কয়েকটি অপরিসর আঁকাবাঁকা গলি। তাও আবার অসংখ্য খানাখন্দে ভরা। রাস্তা প্রসস্থ না হওয়ায় যানবাহন ঢুকতে পারে না এই এলাকায়। রিকশা কিংবা তিন চাকার অটোরিকশা চলাচল করে কোনোমতে। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থাও খুব নাজুক হওয়ায় একটু বৃষ্টিতেই রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আর সিটি কর্পোরেশনের ডাস্টবিন না থাকায় রা¯—ার পার্শ্বে ময়লা ফেলছে এলাকাবাসী। ফলে এলাকায় ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ থাকে সবসময়। 

ওয়্যারলেস থেকে মহাখালী কাঁচা বাজার এবং কলেরা হাসপাতালে থেকে নিকেতন যাওয়ার রাস্তাটি ভাঙাচোরা। এলাকাবাসী জানায়, ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ লাইনগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার করা হয় না। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই ব­ক-চ, ছ, সাততলা বস্তি হাজারী বাড়ি, আইপিএইচ, টিবি গেট, দক্ষিণপাড়া, রসুলবাগে হাঁটু পর্যর্ন্ত পানি জমে যায়। আর পুরো এলাকায় মশার উপদ্রব রয়েছে।

কালাচাঁদপুর, নর্দ্দা, বারিধারা এলাকায় দুই লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করে। এলাকার প্রধান সড়কগুলো ভাল হলেও গলির ভেতরে বেশকিছু রাস্তা ভাঙাচোরা ও যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তুপ। ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ লাইনের দৈন্যদশা দীর্ঘ দিনের।  নর্দ্দার বাসিন্দা ফুলমিয়া বলেন, এলাকায় চুরি, ছিনতাইর ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটে। বিশ্বরোডের মাথায় রেললাইন যানজটে অনেক সময় যাত্রীদের হাতে যা-ই থাকে, তা ছিনিয়ে নিয়ে ছিনতাইকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।
নর্দ্দা ও কালাচাঁদপুরে অনেকটা প্রকাশ্যেই চলে ইয়াবা বেচাকেনা। পুলিশকে ম্যানেজ করেই এখানে ইয়াবা ব্যবসা চলে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এসব ইয়াবা ব্যবসায়ী তর“ণেরা অপ্রতিরোধ্য অবস্থায় যত্রতত্র খদ্দেরের কাছে ইয়াবা বিক্রি করছে।
জানা যায়, কয়েকদিন আগে কালাচাঁদপুর এলাকা পিন্টু নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে ২০ হজার টাকা ঘুষ দিয়ে রাতেই সে ছাড়া পেয়ে আবার সে ব্যবসা শুরু করে। এখানের ইয়াবা ব্যবসায়ীরা স্থানীয় প্রভাশালীদের নিকট আÍীয়। মহাখালী ওয়ারলেস গেট এলাকার ইয়াবা ব্যবসার মূল হোতা ফয়সাল। সে শীর্ষ সন্ত্রাশী ইমামের সহযোগী ছিল।