Monday, October 23, 2017

উইন্ডোজ কম্পিউটারে এন্ড্রয়েড অ্যাপ চালাবেন কিভাবে? যেনে নিন


মোবাইল ফোন এবং ট্যাবের জন্য গুগলের এন্ড্রয়েড ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম অন্যতম পরিচিত ওএস। বর্তমানে প্রায় সব অ্যাপ ডেভেলপার জনপ্রিয় এন্ড্রয়েড নির্ভর অ্যাপ তৈরি নিয়ে ব্যস্ত। আমাদের অনেকেরই পকেটে স্মার্টফোন আছে কিন্তু নিম্ন মানের বা লো-কনফিগারের কারনে সব গেমস খেলা সম্ভব হয়ে ওঠে না। যেখানে আপনাদের বন্ধুরা প্রায় সব মজার মজার গেমস খেলছে।
হয়তো আপনারা সবাই শুনে থাকবেন যে, উইন্ডোজ ভিত্তিক কম্পিউটারে এন্ড্রয়েড অ্যাপ চালানো যায় তবে কিভাবে সেটি চালাতে হয় জানা আছে কি আপনার? যদি না থেকে থাকে তবে আজকে আপনাদের জন্য শেয়ার করবো অসাধারণ ৫টি এমুলেটর। যেগুলো ব্যবহার করে খুব সহজে আপনি এন্ড্রয়েড গেমস পিসিতে চালাতে পারবেন।


Android
#১ BlueStacks–
এটি একটি অসাধারণ উইন্ডোজ অ্যাপ। গুগলে সার্চ করে খুব সহজে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। মজার ব্যাপার হল এটি দেখতে অনেকটা এন্ড্রয়েড চালিত অ্যাপ এর মতো। চাইলে গুগল প্লে-স্টোর থেকে পছন্দের অ্যাপ ডাউনলোড’ও করে নিতে পারবেন।
মিনিমাম সিপিইউ কনফিগার-
র‍্যাম ২জিবি, হার্ডডিস্ক স্পেস ৯জিবি, মোটামুটি ভালো মানের গ্রাফিক(নতুন মডেলের মাদার বোর্ড হলে ডিফল্ট গ্রাফিকেই চলবে), এবং ডুয়াল কোর প্রসেসর।
অ্যাপটি ডাউনলোড করতে যেতে হবে এই লিংকে


#২ Android SDK-
এটি মূলত কোন অফিসিয়াল এমুলেটর না, কারন এর ব্যবহার অ্যাপ টেস্ট বা বিল্ড কোয়ালিটি চেক করে দেখার জন্য। আপনি এটিকে ডেভেলপারদের জন্য প্রয়োজনীয় একটি টুলস্‌ বলতে পারেন।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে “Android SDK” আপনার জন্য রেকমেন্ড করবো না কারন আমার কাছে এটি সেই মান্ধাতার আমলের একটি অ্যাপ মনে হয়। দ্বিতীয়ত খুবই স্লো।
এমুলেটর টি চালানোর জন্য আপনার পিসি কনফিগার যেমন হতে হবে-
যেকোনো উইন্ডোজ দিয়ে এটি চালাতে পারবেন যেমন, এক্সপি, উইন্ডোজ ৭/৮ (৩২ বা ৬৪ বিট)। র‍্যাম মিনিমাম ২ জিবি, গ্রাফিক মোটামুটি ভালো হতে হবে। হার্ডডিস্ক স্পেস ৪০০এমবি।
অ্যাপটি ডাউনলোড করতে যেতে হবে এই লিংকে


#৩ Genymotion-
মোটামুটি ভালো মানের গেমস বা অ্যাপ চালাতে হলে “Genymotion” কে অসাধারণ বলা যেতে পারে। এটিকে BlueStacks এর অল্টারনেটিভ’ও বলা যেতে পারে।
মজার ব্যপার হচ্ছে Genymotion এ অসাধারণ একটি ফিচার আছে “ড্রাগ অ্যান্ড ড্রপ” যেকোনো অ্যাপ বা গেমেস খেলতে চাইলে শুধু সেটিকে নিয়ে এসে Genymotion অন স্ক্রিনের ওপরে ছেড়ে দিলেই সেটি প্লে বা ওপেন হয়ে যাবে।


Genymotion চালানোর জন্য কেমন কনফিগারের পিসি প্রয়োজন-
এটিও ঠিক আগের মতো পিসি কনফিগার চাইবে, ২জিবি র‍্যাম, ৪০০এমবি হার্ডডিস্ক স্পেস, মোটামুটি ভালো মানের গ্রাফিক এবং মিনিমাম ডুয়াল কোর প্রসেসর।
অ্যাপটি ডাউনলোড করতে যেতে হবে এই লিংকে


#৪ Manymo Browser–
নাম শুনেই বুঝতে পারছেন যে, এটি মূলত ব্রউজার বেজ এমুলেটর। এটি চালাতে আপনার তেমন কোন হাই কনফিগারের প্রয়োজন নেই। শুধু প্রয়োজন আপনার ইচ্ছা।
কিভাবে চালাবেন? খুবই সহজ, এই লিংকে যান এবং বর্ণনা অনুযায়ী কাজ করে যেকোনো গেমস প্লে করুন আপনার পিসিতে।


#৫ Live Android-
এটি একটি স্বয়ং শম্পুর্ন ওএস আপনি চাইলে উইন্ডোজের পাশাপাশি এটি ব্যবহার করতে পারবেন। আরও বিস্তারিত ধারণা এবং অ্যাপটি ডাউনলোড করতে চাইলে যেতে পারেন এই লিংকে


এগুলো ছিল আমার জানা মতে সেরা এমুলেটর। এগুলোর বাইরেও আরও অনেক এমুলেটর আছে যেগুলো সম্বন্ধে আপনাদের হয়তো ভালো ধারণা থাকতে পারে। চাইলে কমেন্ট বক্সে সেগুলো শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিতে পারেন।

Saturday, October 14, 2017

বাড়ি বানাচ্ছেন, নির্মাণ সামগ্রী সম্পর্কে জানেন তো?

প্রধান নির্মাণ সামগ্রীসমূহ হচ্ছে:
  • পানি
  • ইট
  • বালি
  • সিমেন্ট
  • খোয়া
  • রড
  • কাঁচ
  • রং, ভার্ণিশ, ডিষ্টেম্পার
  • মোজাইক
  • কাঠ
  • অ্যালুমিনিয়াম এর দরজা/জানালা প্যানেল
  • পানিবিরোধী পদার্থ
  •  টাইলস্ ইত্যাদি।
আমাদের জীবনের জন্য পানি যেমন অত্যন্ত জরুরি, তেমনি নির্মাণ কাজে পানির ভূমিকা অপরিসীম।
নির্মাণ কাজে পানি দুইভাবে কাজ করে
১) রাসায়নিক প্রক্রিয়া
পানি সিমেন্টের মধ্যকার পদার্থসমূহকে বিক্রিয়ার জন্য সাহায্য করে। পানি ছাড়া সিমেন্ট বালু ও খোয়ার মধ্যে সংযোগ তৈরি হয় না। পানি সিমেন্টের সেটিং (setting) ও হার্ডেনিঙে (Hardening) সাহায্য করে।
২) ভৌত প্রক্রিয়া
ভৌতভাবে পানি কংক্রিটের কর্ম উপযোগিতা প্রদান করে। এছাড়া পানি দিয়েই কিউরিং করা হয়।
  • পানি অবশ্যই খাবার উপযোগী হতে হবে।
  • আয়রনের পরিমাণ বেশি হওয়া চলবে না (সমুদ্রের পানি কাজের অনুপযুক্ত)।
  • শ্যাওলা/আবর্জনা থাকা চলবে না।
  • এক ঘনফুট পানির ওজন ৬২.৪ পাউন্ড।
পানি সিমেন্ট এর সাথে বিক্রিয়া করে কংক্রিটকে শক্ত করে। এছাড়া সব পদার্থ একসাথে মিলিয়ে ঢালাই এর যোগ্য বানায়। পানি ততোটাই মেশানো উচিত যতটা দরকার। পারিন সম্ভাব্য কম ব্যবহার কংক্রিটকে অধিক শক্তিশালী করে তোলে।
পানির মাত্রা সম্বন্ধে কিছু কথা: কংক্রিটে পানির প্রয়োজনীয়তা ব্যবহারের সর্বনিম্ন চাহিদা নিশ্চিত করতে পারেল কংক্রিটে অধিক শক্তি অর্জন করা সম্ভব। পানির ব্যবহার কমানোর জন্য ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের এডমিক্সচার ব্যবহার করতে পারেন।
৫ লিটারের একটা টিন জোগাড় করুন। ৫ লিটারের টিন না পেলে ১০ বা ১৫ লিটারের বালতি দিয়ে মিস্ত্রি অথবাঠিচাকারকে বলুন এটা দিয়ে পানি মাপতে । ঢালাই করার সময় একব্যাগ সিমেন্ট ২৩ লিটারের চেয়ে বেশী পানি দেয়া উচিত নয়।
পানির পরিমাণ পরীক্ষণ (ফিল্ড টেস্ট): আপনি নিজেই পানির পরীক্ষা করতে পারেন। মশলা তৈরী হলে তা একটুখানি হাতে নিয়ে টিপে টিপে একটা ছোট বলের আকার দিন। এবার ঐ বলটিকে বাতাসে প্রায় এক মিটার উপরে ছুঁড়ে দিন এবং বলটি হাতে ফিরে আসার পর ভেঙ্গে যায় তার মানে হল মশলাতে পানির পরিমাণ বেশী। তাড়াতাড়ি মশলার পানি কম করুন, অন্যথায় মশলার শক্তি কম হয়ে যাবে। বলটা যদি হাতে গড়ার পরও ঠিক থাকে তাহলে পানির মাত্রা ঠিক আছে। আপনি এবার কাজ শুরু করতে পারেন।
নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ইট যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ভারবহনকারি দেয়াল, পার্টিশন দেয়াল ইত্যাদি তৈরিতে ইট কাজে লাগে। এছাড়া ইট দিয়ে খোয়া তৈরি করা হয়।
তৈরির পXতি অনুসারে ইটকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়
  • সাধারণ ইট বা বাংলা ইট
  • সিরামিক ইট বা মেশিনে বানানো ইট
  • কংক্রিটের তৈরি ইট
সাধারণ ইট বা বাংলা ইট
সাধারণ ইট চার ধরনের হয়-
  • প্রথম শ্রেণীর ইট
  • দ্বিতীয় শ্রেণীর ইট
  • তৃতীয় শ্রেণীর ইট
  • ঝামা ইট
১. প্রথম শ্রেণীর ইট
প্রথম শেণীর ইট নিম্নলিখিতবৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ করে
  • প্রথম শ্রেণীর ইট একই মাপের হয় এবং রংও একই রকম হয়।
  • ভালোমত পোড়ানো হয়।
  • হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে ধাতব শব্দ হয়।
  • ইকটি ইট খাড়া অবস্থায় রেখে এর উপর অন্য একটি ইট দিয়ে T এর মতো তৈরি করে ৩.২৮ ফুট বা ১ মিঃ উপর থেকে ফেললে উপরের ইটটি ভাঙ্গবে না।
  • নখ দিয়ে বা চাবি দিয়ে ইটের গায়ে দাগ বসানো যাবে না।
  • একটি প্রথম শ্রেণীর ইটের আকার ৯.৫”X ৪.৫” X ২.৭৫”।
  • একটি প্রথম শ্রেণীর ইটকে ২৪ ঘন্টা পানিতে ডুবিয়ে রাখলে ইটটি তার ওজনের ১৫% পরিমাণ পানি শোষণ করে।
২. দ্বিতীয় শ্রেণীর ইট
  • দ্বিতীয় শ্রেণীর ইট নিম্নলিখিতবৈশিষ্টসমূহ ধারণ করে
    • অনেকটা প্রথম শ্রেণীর মত, ভাল পোড়ানো থাকে তবে একটু বেশি পোড়ানো থাকে।
    • দুটি ইট পরস্পর আঘাত করলে ধাতব শব্দ হয় না।
    • ২৪ ঘন্টা পানিতে ডুবিয়ে রাখলে এর শুষ্ক ওজনের সর্বোচ্চ ২২% এর বেশি পানি শোষণ করবে না।
    • ভেঙ্গে ফেলার শক্তি কমপক্ষে ৯০ kg/cm২ হওয়া উচিৎ।
    • এর আকার আকৃতি এবং রং কিছুটা অসমান এবং ইটের তলা অমসৃণ থাকে।
৩. তৃতীয় শ্রেণীর ইট
  • এই ধরণের ইট অনেকটা কম পোড়ানো থাকে
  • সহজে ভেঙ্গে যায় এবং হালকা রংয়ের হয়ে থাকে।
  • যখন দুটি ইট একে অপরকে আঘাত করে তখন দুর্বল শব্দ হয়।
  • এর আকার আকৃতি খুবই অসমান থাকে।
  • ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এর ওজনের সর্বোচ্চ ২৫% এর বেশি পানি শোষণ করবে না।
৪. অধিক পোড়া বা ঝামা ইট
অধিক পোড়ানোর ফলে এই ইট ফাঁপা হয়ে যায় এবং এর আকার এতটাই বিকৃত হয় যে, সাধারণ নির্মাণ কাজে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যায়। এটা সাধারণত খোয়া তৈরিতে ব্যবহার করা হয় যা চুন কংক্রিটের ভিত্তি ও রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হয়।
কম পোড়া বা পিলা ইট
কম পোড়া ইটকে সাধারণত পিলা ইট বলে। এগুলো অর্ধেক পোড়া হয় এবং হলদেটে রঙের হয়। এসব ইটের কোন শক্তি থাকে না। তাই এগুলো সুরকি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
ইট ব্যবহারের সতর্কীকরণ নির্দেশিকা
দীর্ঘস্থায়ী নির্মাণ কাজে সব সময় প্রথম শ্রেণীর ইট ব্যবহার করা উচিৎ। পাকা কাজে অথবা বাড়ির প্রাচীর নির্মাণ কাজে বা অস্থায়ী শেড তৈরির কাজে ২য় ও ৩য় শ্রেণীর ইট ব্যবহার করা যেতে পারে।
ফিল্ড বা সাইটে ইট পরীক্ষা
নিচের পরীক্ষাগুলোর সাহায্যে নির্মাণ স্থলে ভাল ইট শনাক্ত করা যেতে পারে। যেমন-
  • প্রথমে একটি ইট নিয়ে এর পিঠে বা তলাতে নখ দিয়ে আচড় দিয়ে হবে, যদি আচড় পড়ে তবে তা খারাপ ইট বলে বিবেচিত হবে, আর না পড়লে ভাল ইট।
  • একটি ইট নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে হবে যদি ধাতব শব্দের সৃষ্টি হয় তবে ভাল ইট।
  • দুটো ইট হাতে নিয়ে T এর মত একটি অপরটির উপর ধরে ১ মিটার উপর থেকে সমান মাটিতে ফেলতে হবে, ভাল ইট হলে উপরের ইটটি ভাঙ্গবে ন্
ইটের ব্যবহার সাধারণত নিম্নরূপ
  • যে কোন আকৃতির দেয়াল তৈরিতে।
  • মেঝে বা ফ্লোর তৈরিতে।
  • আর্চ ও কার্নিশ তৈরিতে।
  • খোয়া তৈরিতে।
  • সুরকি তৈরিতে যা সাধারণত চুন প্লাষ্টার বা চুন কংক্রিটে ব্যবহার হয়ে থাকে।
ইটের আকৃতি বা সাইজঃ
বাংলাদেশে পি.ডব্লিউ.ডি সিডিউল অনুযায়ী ইটের সাইজ সাধারণত ৯ ১/২ ইঞ্চি X ৪ ১/২ ইঞ্চি X ২ ৩/৪ ইঞ্চি বা (২৩৮ মিমি X ৭০ মিমি) মাপের বাংলা ইট ব্যবহৃত হয়। আরও অনেক আকৃতির ইট আছে তবে এই আকৃতির ইট সবচেয়ে সুবিধা জনক মর্টারসহ উক্ত সাইজ হয় ১০ ইঞ্চি X ৫ ইঞ্চি X ৩ ইঞ্চি (২৫০ মিমি X ১২৫ মিমি X ৭৫ মিমি)।
সিরামিক ইট
এটি অতি উন্নতমানের প্রথম শ্রেণীর ইটের অন্তর্ভূক্ত। এই প্রকার ইট মেশিনে তৈরি করা হয় বলে আকার ও আকৃতি সঠিক ভাবে বজায় রাখা সম্ভব হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গ্যাস অথবা বিদ্যুতের সাহায্যে পোড়ানোর ফলে এর রঙের সাম্যতা সর্বত্র বজায় থাকে। ফেয়ার ফেস ব্রিক ওয়ার্কে অর্থাৎ আস্তর করা হবে না এমন দেয়াল নির্মানে এই ইট ব্যবহার করা হয়। সিরামিক ইটে ৫৫% বালি, ৩০% অ্যালুমিনিয়াম, ৮য় আয়রণ অক্সাইড, ৫% ম্যাগনেসিয়া ও ১% জৈব পদার্থ থাকতে পারে।
ব্রিক ওয়ার্ক করা সাধারণত সিরামিক ইট দিয়ে এবং এক্ষেত্রে অভিজ্ঞ রাজমিস্ত্রি দিয়ে কাজ করাতে হয়, (বিশেষ করে সিরামিক দিয়ে যারা আগে কাজ করেছে) না হলে ফেয়ার ফেসের সৌন্দর্য নষ্ট হবার সম্ভবনা থাকে।
হলো ব্লক:
বাড়ী নির্মানের হলো ব্লক খুবই উপযোগী। হলো ব্লক ব্যবহারে নিম্নলিখিত সুবিদাদি পাওয়া যায়:
ক) ইটের গাঁথুনির ওজন ৪০ ভাগ কমায় যার ফলে সাশ্রয়ী ডিজাইন সম্ভব হয়।
খ) পরিবেশ বান্ধব।
গ) ঘরের আয়তন প্রতি ১০০ বর্গফুটে ৬-১০ বর্গফুট বৃদ্ধি পায়।
ঘ) দেয়ালে লোনা ধরে না ও জ্যাম হয় না।
ঙ) শব্দ, তাপ, আগুন ও আর্দ্রতা প্রতিরোধক।
চ) সহজে প্লাষ্টার করা যায় এবং এর পুরুত্ব সাধারণ ইটের চেয়ে অর্ধেক হয় (১২মি:মি:-৬মি:মি)
ছ) ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিং এর কাজে সহায়ক।
নির্মাণ কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে বালি, যা সিলিকা থেকে তৈরি হয়। বেশির ভাগ সময় সমুদ্র বা নদীর উপক’লে, সমুদ্রের তলায়, নদীয় তলায় বালি পাওয়া যায়।
বালিকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়
  • পিট বালি
  • নদীর বালি
  • সমুদ্রের বালি
পিট বালি
মাটিতে গর্ত করে এই প্রকার বালি পাওয়া যায়। যা মসৃণ, কোণাকার এবং ক্ষতিকারক লবণ থেকে মুক্ত থাকে। এই প্রকার বালি সাধারণত মর্টারের কাজে ব্যবহৃত হয়।
নদীর বালি
এই প্রকার বালি নদীর উপকূলে পাওয়া যায়। যা চিকন ও গোলাকার হয়ে থাকে। এটা পিট বালি অপেক্ষা সূক্ষ্ম তাই প্লাষ্টারিং এর কাজ এই বালি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সমুদ্র বালি
এই প্রকার বালি সমুদ্রের উপকূলে পাওয়া যায়। যা নদীর বালির মত চিকন ও গোলাকার হয়ে থাকে। তবে এই প্রকার বালিতে ক্ষতিকারক লবণ থাকে।
মোটা দানার বালি
এই প্রকার বালির দানা তুলনামূলক একটু বড় আকৃতির হয় তাই নির্মাণ কাজে ঢালাইয়ের সময় খুবই উপযোগী। কংক্রিট তৈরিতে সিলেট বালি সমান থাকে।
বালি ব্যবহারে সতর্কীকরণ
বালির সঙ্গে কোন প্রকার ময়লা, কাদামাটি থাকতে পারবে না। লবণাক্ত বালি ব্যবহার করা যাবে না এবং নির্মাণ কাজের পূর্বে বালি ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে যেন বালির সালে সংযুক্ত কাদা, লবণ, ময়লা, আগাছা, ডালপালা, নুড়ি বের হয়ে যায়।
বালি পরীক্ষা
বালির গুণাবলী পরীক্ষার জন্য নিম্নলিখিতপরীক্ষাগুলো করা প্রয়োজন
  • কিছু বালি দুআঙ্গুলের ফাঁকে নিয়ে ঘষা দিতে হবে, যদি আঙ্গুলের সাথে ধুলা জাতীয় দ্রব্য লেগে থাকে, তবে বুঝতে হবে বালির সাথে ধুলা রয়েছে।
  • মুখ নিয়েও বালি পরীক্ষা করা যায়। একটু বালি মুখে নিয়ে বোঝা যাবে এর মাঝে লবণ জাতীয় পদার্থ আছে কিনা।
  • একটি পরিষ্কার কাঁচের গ্লাসে পানি নিয়ে তার মাঝে কিছু বালি ছেড়ে দিতে হবে এবং কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। যদি বালিতে ধুলা থাকে তবে তার স্তর বালির উপরে হবে।
  • কিছু পরিমাণ কষ্কিক সোডা ৩% একটি বোতলে নিয়ে তার সাথে অল্প কিছু বালি যোগ করে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে এবং কিছুক্ষণ ঝাকাতে হবে এবং ২৪ ঘন্টা ঐ অবস্থায় রেখে দিতে হবে। যদি বোতলে রক্ষিত দ্রব্যের রং পরিবর্তন হয়ে বাদামী হয়, তবে বুঝতে হবে বালিতে রাসায়নিক পদার্থ বিদ্যমান।
  • বালু তীক্ষ্ম নজর দিয়ে দেখলে যদি এতে পাথর, কয়লার টুকরা বা অন্য কোন নোংরা থাকে তাহলে ব্যবহারে না নেওয়াই ভালো। আরেকটা উপায় হল, একটা কাঁচের গ্লাসে আধা গ্লাস বালু নিয়ে বাকিটা পানি দিয়ে ভরে দিন এবং একটা চামচ দিয়ে ভাল করে নেড়ে নিন। বালুতে নোংরা থাকলে পানির রং ময়লা বা ঘোলা হয়ে যাবে। বালুটা নীচে বসে যাওয়ার পর দেখুন যদি বালুর ওপর মাটির স্তর বেশী মোটা হয় তাহলে এ বালু ব্যবহার করার দরকার নেই। যদি ভুল ক্রমে এমন বালু এসে যায় এবং পরীক্ষার পরে ব্যবহারযোগ্য মনে না হয় তাহলে ও চিন্তার কোন কারণ নেই, এমন বালুকে পরিস্কার করারও উপায় আছে।
  • বালুকে ধুয়ে পরিস্কার করা যায়: বালুর গাদায় পানি ঢেলে দিন তাতে করে ময়লা মাটি নীচে বসে যাবে। এবার কোদাল দিয়ে বালুটাকে ভাল করে মিশিয়ে নিন তারপর চালনি দিয়ে ছেঁকে নিন। বালু পরিস্কার হয়ে যাবে।
  • ভেজাল বালু ব্যবহারে অসুবিদা হতে পারে: শ্রমিকেরা মশলাতে বেশী পানি মেশানো পছন্দ করে। যদি প্রথম থেকেই বালুতে পানি বেশী থাকে তাহলে, সেই বালু ব্যবহারে নির্মাণ কমজোর হতে পারে। তাই যদি দেখেন বালু ভেজা তবে ঠিকাদারকে বলবেন ইঞ্জিনিয়ার এর পরামর্শ মতে পানি মেশাতে।
প্রচলিত ভাবে বালি তিন প্রকার
  • ভিটি বালি: ভিটি বালু-র এফ এম ০.৫ থেকে ০.৭। ভরাট কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • লোকাল বালি: এর এফ এম ১.২ থেকে ১.৮। গাঁথুনি, প্লাস্টারিং এর কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • মোটা বালি: মোটা বালু সিলেটে অধিক পাওয়া যায়। এর এফ এম ২.৩ থেকে ২.৮। ঢালাই এর কাজে ব্যবহৃত হয়।
গোলাকার বালু অপেক্ষা কোণাকার বালু ভাল । ঢালাইয়ের কাজে মোটা বালুই ভাল। বালুকে বলা হয় ফাইন এগ্রিগেট। বালু পরিস্কার ও কাদা মুক্ত হওয়া উচিত।

সিমেন্ট

সিমেন্ট কেনার আগে কি যাচাই বাছাই করা উচিত?
কোন অনুমোদিত বিক্রেতার নিকট থেকে গুনগত মানসম্পন্ন সিমেন্টই কেনা উচিত। হয়ত সেক্ষেত্রে দাম একটু বেশী হবে কিন্তু সাথে সাথে বিশ্বাস, মান এবং সুরক্ষায় আশ্বাস ও পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে মেরামতের জন্য অধিক অর্থ ব্যয় করার চেয়ে বর্তমানেই একটু বেশী অর্থ ব্যয় করা কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়? আমরা বাড়ীর রং, ফিটিংস পছন্দ না হলে বদলাতে পারি কিন্তু মূল স্থাপনায় সিমেন্ট একবার ব্যবহৃত হওয়ার পর আর কখনও বদলানো যাবে না, অতএব সতর্ক থাকুন। সিমেন্ট নির্মাণ কার্যের এক গুরুত্বপূর্ন উপাদান, যা পুরো বাড়ীটিকে ধরে রাখে।
ডিউরেব্ল কংক্রিট এর প্রপার্টিজ
ক্লোরাইড ও সালফেট প্রতিরোধী
স্বল্প পারমিয়েবল
কম পোরোসিটি
স্বল্প পানির চাহিদা
স্বল্প ব্লিডিং ও সেগ্রিগেশন
হাইড্রেশন বিক্রিয়ায় কম তাপ
দীর্ঘমেয়াদী শক্তি বৃদ্ধি
ভাল সিমেন্টের গুণাগুণ:
  • দীর্ঘকালীন শক্তি এবং টেকসই নির্মাণ।
  • মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষনে অপেক্ষাকৃত কম খরচ।
  • তাপের তারতম্য জনিত কারনে সৃষ্ট ফাটল প্রতিরোধ করে।
  • মাটি, পানি এবং বাতাসে বিদ্যমান ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থের আক্রমন প্রতিরোধ করে।
  • লোহাকে মরিচা ধরার হাত থেকে রক্ষা করে।
  • কম সংকুচিত হয়
  • সুন্দর ও সমৃণ ফিনিশিং
  • কংক্রিট মিশ্রনে কম পানির দরকার হয়।
  • পরিবশে বান্ধব।
  • ভমিকম্প প্রতিরোধক ডিজাইনের পক্ষে উপযোগী।
  • ক্ষতিকারক রাসায়নিক বিক্রিয়া প্রতিরোধী।
সিমেন্টর যাচাই: ধরুন আপনার সিমেন্টের মানের উপর সন্দেহ হচ্ছে, আপনার আশংকা সিমেন্টেটা খারাপ। তখন আপনি কি করবেন? যদি নিশ্চিত হতে চান তাহলে নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করে নিন।
একটু সিমেন্ট নিন, সিমেন্টের পরিমাণ ২৫-৩০ শতাংশ পানি মিলিয়ে ৫০ল্প৫০ল্প২০ মিলিমিটার আকারে ব্লক বানান। পরের দিন সকালে সিমেন্ট জমে যাওয়ার পর আঙ্গুল দিয়ে টিপে দিলে ব্লকগুলো যদি না ভাঙ্গে তার মানে ভাল সিমেন্ট।
বাংলাদেশ নিম্নলিখিতচার ধরনের সিমেন্ট পাওয়া যায়
১.সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট
২.হোয়াইট সিমেন্ট
৩.পোর্টল্যান্ড প্রজ্জোলনা বা ফ্লাই অ্যাশ সিমেন্ট
৪.ব্লাষ্ট ফার্নেস স্ল্যাগ সিমেন্ট
বাংলাদেশ প্রায় ৯৮% সিমেন্ট তৈরি হয় মধ্যবর্তী পণ্য অর্থাৎ কিংকার থেকে।
কাঁচামাল- ক্লিংকার অর্থাৎ প্রথম ধাপ যা তৈরি হয় বাংলাদেশের বাইরে।
ক্লিংকার- সিমেন্ট অর্থাৎ দ্বিতীয় ধাপ যা বাংলাদেশে তৈরি হয়।
ক্লিংকারে চুন থাকে প্রায় শতকরা আটষট্টি ভাগ, এছাড়া বালি, লোহা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন অনুপাতে থাকে।
ক্লিংকার জিপসামের অনুপাতঃ
সিমেন্ট জিপসাম যোগ করা হয় যাতে সিমেন্ট জমাট বাঁধতে দেরি করে এবং কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। ক্লিংকার অ্যালূমিনা পরিমানে বেশি থাকলে সিমেন্ট দ্রুত জমাট বাঁধে। সিমেন্ট জিপসামের পরিমাণ নির্ভর করে C3A (ট্রাই ক্যালসিয়াম অ্যালুমিনেট) এবং ক্ষারীয় পদার্থের পরিমানের উপর। সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট ক্লিংকার থাকে >=৯৭% এবং জিপসাম =<০৩%। অন্য ধরনের সিমেন্টগুলোতে জিপসামের পরিমাণ =<০৩% হলেও ক্লিংকারের পরিমাণ বিভিন্ন অনুপাতে হয়।
জিপসামের পরিমাণ বেশি হলে সিমেন্টপেষ্টের আয়তন বেড়ে যায় এবং বন্ধনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
সিমেন্টের প্রাথমিক জমাট বাঁধার সময় কমপক্ষে ৪৫ মিনিট।
সিমেন্টের শেষ জমাট বাঁধার সময় সর্বোচ্চ ১০ ঘন্টা।
বাংলাদেশে সাধারণত যে চার ধরনের সিমেন্ট বেশি ব্যবহৃত হয় সে সব সিমেন্টের উপাদানসমূহ, ষ্ট্রান্ডার্ড নাম্বার এবং ব্যবহার সংক্ষিপ্ততভাবে নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট
সিমেন্ট ইতিহাসের প্রথম থেকেই এক প্রকার সিমেন্ট তেরি হয়ে আসছে এবং কিছুদিন আগে পর্যন্ত এই প্রকার সিমেন্টই সমস্ত নির্মাণ কাজে ব্যবহার হতো।
উপাদান
ক্লিংকার >=৯৭% এবং জিপসাম =<০৩%
ষ্ট্যান্ডার্ড
ASTM (আমেরিকান সোসাইট ফর টেষ্টিং এন্ড মেটেরিয়ালস্) : C ১৫০-০২
BDS (বাংলাদেশ ষ্ট্যান্ডার্ড) : ২৩২-১৯৯৩
EN (ইউরোপিয়ান নর্ম) : ১৯৭-১:২০০০ CEMI
ব্যবহার
সবধরনের কাজের জন্য এই সিমেন্ট ব্যবহার করা যায়। কিছুদিন আগ পর্যন্ত এই ধরনের সিমেন্ট ছিল আমাদের দেশের একমাত্র সিমেন্ট। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও কাজের ধরন অনুযায়ী সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়। সাধারণত ভারী নির্মাণ কাজে এখন আর সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট ব্যবহৃত হয় না। কারণ এই সিমেন্ট পানির সঙ্গে মিশালে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় যা ভারি নির্মাণ কাজের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু মাঝারি আকৃতির নির্মাণ কাজের জন্য এই সিমেন্ট অত্যন্ত উপযোগী।
২. পোর্টল্যান্ড প্রজ্জোলনা বা ফ্লাই অ্যাশ সিমেন্ট
সিমেন্টের প্রধান উপকরণ হলো ক্লিংকার আর এই ক্লিংকারের প্রধান উপকরণ চুনাপাথর। চুনাপাথর পানির সাথে বিক্রিয়া করে প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে যা ভারি এবং বিশাল আয়তনের নির্মাণ কাজের জন্য ক্ষতিকর। তাপ বেশি উৎপন্ন হলে ঢালাইয়ের পর স্থাপনাতে চুলের মতো সূক্ষ্ম ফাটল দেখা দেয়, যা Hard crack নামে পরিচিত। বর্তমানে এই সমস্যা দূর করার জন্য সিমেন্টে ক্লিংকারে পরিমাণ কমিয়ে তার জায়গায় কয়লা চালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বাই প্রোডাক্ট হিসাবে যে পোড়ানো কয়লা পাওয়া যায় তা ব্যবহার করা হয়। এই পোড়ানো কয়লা ফ্লাই অ্যাশ নামে পরিচিত। ফ্লাই অ্যাশের কণা ক্লিংকারের কণা বিকল্প হিসাবে এই ধরণের সিমেন্ট ফ্লাই অ্যাশ ব্যবহার করা হয় তাই এই সিমেন্টকে পোর্টল্যান্ড প্রজ্জোলনা বা ফ্লাই অ্যাশ সিমেন্ট বলে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
ফ্লাই অ্যাশ সিমেন্ট ঢালাইয়ের সময় খুব কম তাপ উৎপাদন করে, ফলে ঢালাই শক্ত হওয়ার পরে hair crack এর প্রবণতা কমে যায়। এ ছাড়া এই ধরনের সিমেন্ট সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট অপেক্ষা বেশি শক্তি প্রদান করে। তবে এর প্রাথমিক শক্তি অর্জনের হার সাধারন পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট অপেক্ষা কম থাকে।
উপাদান
ক্লিংকার = ৮৪-৮৬%, ফ্লাই অ্যাশ=১১-১৩% এবং জিপসাম =<০৩%
ষ্ট্যান্ডার্ড
ASTM (আমেরিকান সোসাইট ফর টেষ্টিং এন্ড মেটেরিয়ালস্) : Type IP ৫৯৫-০২
BDS-EN (বাংলাদেশ ষ্ট্যান্ডার্ড-ইউরোপিয়ান নর্ম) : EN১৯৭-১:২০০০ CEMI II / (I-M) ৪২.৫N
ব্যবহার
ভারি কন্সট্রাকশন কাজে যেখানে একসাথে প্রচুর সিমেন্ট ব্যবহৃত হয় এবং প্রচুর তাপ উৎপন্ন হবার সম্ভাবনা থাকে। লোনা পানির আবহাওয়াতে, মাটির নিচের কাজে, পানির নিচে বা পানির সংস্পর্শে থাকে এমন স্থাপনাতে।
উল্লেখ্য যে যুক্তরাষ্ট্রে হেবিটি উঅগ যা বিশ্বের বৃহত্তম উঅগ এই প্রকার সিমেন্টের তৈরি।
৩. ব্লাষ্ট ফার্মেস স্লাগ সিমেন্ট
বর্তমান সময়ে সিমেন্ট ক্লিংকারের অনুপাত কমিয়ে তার বদলে বিভিন্ন ধরনের সমধর্মী উপাদান মেশানো হয়। সেরূপ একটি সমধর্মী উপাদন হলো ‘স্লাগ। ইস্পাত কারখানা থেকে উৎপাদিত এক প্রকার বাই প্রোডাক্ট হচ্ছে স্লাগ। এই ব্লাষ্ট ফার্নেস স্লাগ সিমেন্ট এবং কার্যকারিতা OPC সিমেন্টের মতই বরং এটি কম তাপ উৎপন্ন করে এবং লবণাক্ত আবহাওয়াতে এই সিমেন্ট সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট থেকে বেশী কার্যকরী। এই সিমেন্ট স্থাপনাকে বাতাসের সালফারের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট এর তুলনায় যদিও প্রথম দিকে এর শক্তি অর্জনের হার কম কিন্তু পরবর্তীতে স্লাগ সিমেন্ট OPC সিমেন্ট থেকে প্রায় দেড় গুণ শক্তি বেশি অর্জন করে থাকে।
উপাদান
ক্লিংকার =৭০-৭৫%, ব্লাষ্ট ফার্নেস স্লাগ =২০-২৫% এবং জিপসাম =<০৫%
ষ্ট্যান্ডার্ড
ASTM (আমেরিকান সোসাইট ফর টেষ্টিং এন্ড মেটেরিয়ালস্) : ঈ ৫৯৫-০২
BDS-EN (বাংলাদেশ ষ্ট্যান্ডার্ড-ইউরোপিয়ান নর্ম) : EN১৯৭-১:২০০০ CEM II /ই-গ (ঝ-খ) ৪২.৫ঘ
ব্যবহার
ভারি কন্সট্রাকশন কাজে যেখানে একসাথে প্রচুর সিমেন্ট ব্যবহৃত হয় এবং প্রচুর তাপ উৎপন্ন হবার সম্ভবনা থকে। লোনা পানির আবহাওয়াতে, মাটির নিচের কাজে, পানির নিচে বা পানির সংস্পর্শে থাকে এমন স্থাপনাতে।
৪. হোয়াইট সিমেন্ট
এ ধরনের সিমেন্ট সিমেন্ট শুধু সৌন্দর্য বর্ধনের কাজে ব্যবহৃত হয়। যেমন ফ্লোরের মোজাইকের কাজ বা স্থাপনার বাহিরের দিকের fare face finishing এর জন্য এই সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়। এই সিমেন্টের মূল উপাদান ক্লিংকার কিন্তু এ ক্লিংকার সাধারন ক্লিংকার থেকে অনেক গুণ বেশি পরিশোধিত। ফলে এর দামও সাধারণ সিমেন্টের চেয়ে  থেকে ৪ গুণ বেশি।
ষ্ট্যান্ডার্ড
ASTM (আমেরিকান সোসাইট ফর টেষ্টিং এন্ড মেটেরিয়ালস্) : C ১৫০-৯২
BS (বৃটিশ ষ্ট্যান্ডার্ড) : ১২:১৯৮৯
ব্যবহার
মোজাইকের কাজে ও বাহিরের দেয়ালের কাজে।
নিম্নলিখিতবিষয়গুলির জন্য সিমেন্ট চুন অপেক্ষা অধিক ব্যবহার উপযোগী এবং উৎকৃষ্ট
  • ভিজা এবং পানির নিচে নির্মাণ কাজ তৈরিতে।
  • যেখানে নির্মাণ কাজে স্থায়ীত্ব এবং অধিক শক্তির প্রয়োজন
  • যেখানে মর্টার বা প্লাষ্টার তাড়াতাড়ি জমান বাঁধার দরকার হয়।
  • পানিরোধক নির্মাণ কাজে।
সিমেন্ট পরীক্ষা
  • মিহিত্ব পরীক্ষা।
  • জমাট বাঁধার সময় পরীক্ষা (প্রাথমিক ও শেষ)।
  • সাউন্ডনেস্ পরীক্ষা।
  • রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পরীক্ষা।
  • কমপ্রেসিভ ও টেনসাইল ষ্ট্রেংন্থ পরীক্ষা।
সিমেন্ট মজুদ রাখার নিয়মাবলি
  • শুল্ক বায়ু চলাচল করে এমন জায়গায় সিমেন্ট রাখতে হবে।
  • দেয়ালের ঠেস দিয়ে রাখা যাবে না।
  • পানি সংস্পর্শে আসতে পারে এমন জায়গায় রাখা যাবে না।
  • ব্যাগগুলো ধাপে ধাপে রাখতে হবে।
  • একটি ব্যাগের উপর আরেকটি এভাবে সর্বোচ্চ দশটি ব্যাগ রাখা যাবে।
  • দুই লাইনের মাঝে ফাঁকা জায়গা থাকতে হবে।
  • ষ্টোর করার জায়গায় নিচে কাঠের গুড়া (ভুসি) ছিটিয়ে দিয়ে তার উপর কাঠের বাটাম রেখে সিমেন্ট রাখতে হবে।
  • মনে রাখতে হবে পানি সিমেন্টের সবচেয়ে বড় শত্রু। অতএব, সাবধান থাকতে হবে যাতে ঘরের দেয়াল বা মেঝে কিংবা সানশেড দিয়ে পানির ঝাপটা আসতে না পারে।
  • ঠেলা গাড়িতে সিমেন্ট সরবরাহের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে হঠাৎ বৃষ্টি এলেও সিমেন্ট ভিজে না যায়। এজন্য বর্ষাকালে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও ত্রিপল অথবা পলিথিন দিয়ে সিমেন্ট ঢেকে নিয়ে যেতে হবে।
সিমেন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তার উত্তর
১) গুটি ধরা
২) জমাট বাঁধতে দেরি হওয়া
৩) হাতপা ক্ষয়ে যাওয়া
৪) সিমেন্টের রং
৫) ওজন কম হওয়া
৬)  ব্যাগ ফেটে যাওয়া
৭) মজুদ সংক্রান্ত সমস্যা
নিচে সমস্যাগুলোর ব্যাখ্যা করা হল
প্রথমেই গুটি ধরা সংক্রান্ত সমস্যা সম্বন্ধে কথা বলা যাক। মূলত সিমেন্টের ব্যাগ এয়ার টাইট বা বাতাস অপরিবাহী নয় এবং সিমেন্ট বাতাস থেকেও জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে। অতএব যদি সঠিকভাবে সিমেন্ট মজুদ করা না যায় তবে তাতে গুটি ধরতে পারে। সাধারণত দুই ধরনের দানা দেখা যায়। এক ধরনের গুটিকে হাতের আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে ভেঙ্গে যায়। সে ধরনের গুটি তৈরি হয় মূলত চাপের কারণে। এক ব্যাগ সিমেন্টের উপর যদি অনেকগুলো ব্যাগ রাখা হয় তবে কিছুদিন পর নিচের দিকের ব্যাগগুলোতে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে তা সিমেন্টে গুণগত মানের কোন পরিবর্তন করে না।
দ্বিতীয় ধরনের গুটি হাতের চাপে তো ভাঙ্গে না, হাতুড়ি দিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করা হলেও সহজে ভাঙ্গে না। এই ধরনের গুটি তৈরি হয় সিমেন্ট পানির সংস্পর্শে এল। যতই বলা হোক যে সিমেন্ট কোনভাবেই পানি যায়নি তবুও এটা ১০০% নিশ্চিত যে পানি ছাড়া অন্য কোনভাবে এই ধরনের গুটি তৈরি হতে পারেনা। যদি ১ ব্যাগ সিমেন্টের ২০% এর বেশি দানাদার না হয়ে, তবে বাকি ৮০% সিমেন্ট স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা যাবে। তবে এর চেয়ে বেশি দানাদার মিক্সিং অনুপাত বাড়িয়ে ঢালাই করতে হবে। সাধারণত পেপার ব্যাগের মুখের দিকে পাথর পাওয়া যায় আর পলি ব্যাগে পাওয়া যায় ভিতরের দিকে।
জমাট বাঁধতে দেরি করা
বিভিন্ন কারণে সিমেন্ট জমাট বাঁধতে দেরি করা। যেমন-
  • মিক্সিং এর সময় পানি বেশি দেওয়া
  • শীতল আবহাওয়া
  • বৃষ্টি হওয়া।
  • সিমেন্টের পরিমাণ কম হওয়া
  • বালির গুণগত মান ভাল না হওয়া
  • আগেই কিউরিং শুরু করা
  • অকারণে অথবা অতিরিক্ত অ্যাডমিক্সার ব্যবহার করা।
  • প্লাষ্টার করার আগে ঠিকমত দেয়াল ভিজিয়ে না নেয়া (গ্রাওটিং) না করা।
  • সিলিং প্লাষ্টার করার পূর্বে চিপিং না করা।
সাধারণত সিমেন্ট জমাট বাঁধতে এক থেকে দুইদিন সময় নেয়। তবে সঠিক শক্তি অর্জন করে সাত (৭) দিন পর। অতএব, জমাট বাঁধতে দেরি হলেই ভয় পাওয়া উচিৎ নয়।
হাত পা ক্ষয় হওয়া
সিমেন্টে চুনের উপস্থিতির কারণে হাতপা ক্ষয় হয়।
রং
সিমেন্ট সাধারণত ধূসর বর্ণের হয়। মূলতঃ যে সিমেন্ট যত সাদা সে সিমেন্ট তত ভাল। সিমেন্ট কালো হওয়া মানে এর মধ্যে আয়রনের পরিমাণ বেশি আছে। অথচ অতিরিক্ত আয়রন ঢালাইয়ের ক্ষতি করে। অতএব, সিমেন্ট রঙের ক্ষেত্রে উজ্জ্বলতার দিকে বেশি খেয়াল রাখতে হবে।
লাসা না হওয়া
অনেক সময় রাজমিস্ত্রিরা অভিযোগ করেন যে সিমেন্ট লাসা টিকমত হচ্ছে না। তারা বুঝাতে চান যে সিমেন্ট এবং বালি মিশানোর পর পানি দেওয়া হলে ঠিকমত ফেনা হয় না সে কারণে তারা সিমেন্টের গুণগত মান সম্বন্ধে সন্দেহপোষণ করেন, কিন্তু কথাটি আদৌ সত্যি নয়। কারণ সিমেন্টে অতিরিক্ত চুন অথবা ভেজাল থাকলে তা পানির উপরে ভেসে উঠে ফেনা তৈরি করে, যা সত্যিকার অর্থে মসলা বা প্লাষ্টারের জন্য ক্ষতিকর।

খোয়া

ছোট ছোট পাথরের টুকরো অথবা ঝামা ইটের টুকরো কংক্রিটে আয়তন ও শক্তি দেয়। বাড়ী তৈরী করার সময় এর আকার সাধারণত: দু-রকমের হয়। পোনে এক ইঞ্চি অথবা এক সাথে দুটোকে মিশিয়ে দেয়া হয়। সাধারণত: ৬০:৪০ থেকে ৭০:৩০ এর অনুপাতে। এগুলোকে বলা হয় কোর্স এগ্রিগেট।
কোর্স এগ্রিগেট বাছাই:
  • এগুলো ঘনাকার এবং ধুলা মাটি ছাড়া হওয়া উচিত।
  • এগুলো বিভিন্ন আকারের হওয়া উচিত। ছোট বড় এগ্রিগেটের সঠিক মিশ্রণ থাকা উচিত।
  • বড় আকারে এগ্রিগেডের মাঝের খালি জায়গায় ছোট ছোট এগ্রিগেট, ছোট ছোট এগ্রিডেটের খালি জায়গা বালু দিয়ে ভরতে হয়, এতে কংক্রিট ঘন ও মজবুত হয়।
  • একই আকারের এগ্রিগেড ব্যবহার করা ঠিক নয় কারণ সমান আকারের জোড়-গুলোতে খালি জায়গা অনেক বেশী থাকে তাই এতে মোট ওজন কম হয়ে যায়।
  • ঢালাইয়ের পূর্বে এগ্রিগেট ভিজিয়ে নেয় উচিত।
খোয়া নির্মাণ কাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা কংক্রিট তৈরির কাজে ব্যবহ্রত হয়। তবে প্রথম শ্রেণীর ইট ভেঙ্গেই খোয়া তৈরি করা উচিৎ। খোয়ার আকৃতি বা সাইজ সাধারণত ৩/৪ ইঞ্চির বেশি এবং ১/৪ ইঞ্চির কম হওয়া উচিৎ নয়।
খোয়া তৈরির পXতির উপর নির্ভর করে খোয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
  • হাতে ভাঙ্গা
  • মেশিনে ভাঙ্গা
হাতে ভাঙ্গা
এ ধরনের খোয়া খুব ভাল আকৃতির হয়ে থাকে এবং এতে সুরকির পরিমাণ কম থাকে অবশ্য এই পXতিতে খোয়া তৈরিতে অধিক সময় লাগে।
মেশিনে ভাঙ্গা
এ ধরনের খোয়া বড়, ছোট হয়ে থাকে এবং সুরকির পরিমাণও বেশি হয়ে থাকে, তবে এ পXতিতে তাড়াতাড়ি খোয়া তৈরি করা যায়।
খোয়া ব্যবহারের পূর্বে সতর্কতা
ইট ভেঙ্গে খোয়া করার পর খোয়া ভালভাবে চালতে হবে যেন সুরকি না থকে এবং মিক্সার বানানোর আগে অবশ্যই নির্দিষ্ট সময় ভিজিয়ে রাখতে হবে। এতে খোয়ার মধ্যকার ক্ষতিকর উপাদানসমূহ দূর হয়ে যায়।
ভেজানোর প্রয়োজনীয়তা
  • খোয়া ভেজানো না হলে তা কিছু পানি শোষণ করে যা সিমেন্ট পানির অনুপাত (ড/ঈ) নষ্ট করে।
  • খোয়া ভেজানো না হলে মিক্সার ভালো হয় না।
  • ইটের মধ্যে ক্ষতিকর পদার্থ যেমন অপরফ, অষশধষর, লবণ থাকলে তা বের হয়ে যায়।
সাধারণত একটি বাড়ি নির্মাণের মোট খরচের ১০ থেকে ১২ ভাগ খরচ হয় রড কেনার কাজে। একটা ছাদের ক্ষেত্রে কংক্রিট দেয় চাপ সহ্য করার শক্তি আর রড দেয় টান সহ্য করার শক্তি। এজন্য বাড়ি নির্মাণের জন্য রড কেনার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। cast iron এবং wrought iron এর মধ্যবর্তী অবস্থাকে লোহা বলে। cast iron এ বেশি পরিমাণ কার্বন থাকে সেই তুলনায় wrought iron এ কার্বন কম থাকে। রট আয়রন প্রায় বিশুX লোহা।
কার্বনের উপস্থিতির উপর নির্ভর করে লোহাকে তিন প্রকারে ভাগ করা যায়
  • মৃদু কার্বন লোহা
  • মাঝারি কার্বন লোহা
  • উচ্চ কার্বন লোহা
মৃদু কার্বন লোহা বা মাইল্ড লোহা
এ ধরনের লোহাতে কার্বনের পরিমাণ ০.২৫%।
মাঝারি কার্বন লোহা
এ ধরনের লোহাতে কার্বনের পরিমাণ ০.২৫% থেকে ০.৭% থাকে।
বেশি কার্বন লোহা
এ ধরনের লোহাতে কার্বনের পরিমাণ ০.৭% থেকে ১.৫% থাকে।
রডের মসৃণতার উপর নির্ভর করে দুভাগে ভাগ করা যায়
  • মসৃণ রড
  • অমসৃণ বা ডি-ফরমড্ রড
রড ব্যবহারের নির্দেশিকা
নির্মাণ কাজে রড ব্যবহারের পূর্বে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান, ইঞ্জিনিয়ার বা কনসালটেন্ট কর্তৃক রডের গুণাগুণ পরীক্ষা করা অত্যাবশ্যক।
  • ৩ ও ৪ সুতা রড- সাধারণত বাড়ি বা ভবনের ছাদের রড হিসাবে ডিজাইনার কর্তৃক ব্যবহৃত হয়।
  • ৫ সুতা বা ততোধিক রড- কলাম, ফাউন্ডেশন ও বিমে ব্যবহৃত হয়।
  • ২ সুতা বা ৩ সুতা রড- ষ্টিরাপ বা টাই রড হিসেবে বিম বা কলামে ব্যবহৃত হয়।
আমাদের দেশে দুই ধরনের শক্তি সম্পন্ন রড ব্যবহার করা হয়। এগুলো হচ্ছে ৪০ গ্রেড ও ৬০ গ্রেডের রড। ৪০ গ্রেডের রডের টান সহ্য করার ক্ষমতা ৪০,০০০ ঢ়ংর (Pound per square inch) এবং ৬০ গ্রেডের রডের টান সহ্য করার ক্ষমতা ৬০,০০০ ঢ়ংর ৪০ গ্রেড রডের চেয়ে ৬০ গ্রেড রডের শক্তি বেশি। সাধারণ নির্মাণ কাজে ৪০ গ্রেড রড ব্যবহারই উত্তম, যেহেতু বাজারে ৬০ গ্রেড রড সহজলভ্য নয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই ৪০ গ্রেডকেই ৬০ গ্রেড রড হিসেবে চালানো হয়, তাই ৪০ গ্রেড রড বেশি লাগলেও এটা ব্যবহার করা উচিৎ। কংক্রিট তৈরি করতে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হল সেক্ষেত্রে ৬০ গ্রেডের রড ব্যবহার না করাই ভালো সাধারণত ৬০ গ্রেড রড ব্যবহার করতে হলে পাথরের খোয়া ব্যবহার করতে হবে।
লোহার রড এর আকার আকৃতি সমান হতে হবে। ফাঁটল বা চিড় থাকবেনা। প্লেইন রড অপেক্ষা ডিফরমড্ বারে বন্ড ভালো হয়। মরিচা আক্রান্ত রড মরিচা রড দূর না করে ককনও ব্যবহার করতে নেই। লোহা নির্ধারিত জায়গায় তার এবং কভার ব্লকের সাহায্যে লাগানো উচিত। লোহা লাগাবার সময় পর্যাপ্ত ডেভলপমেন্ট লেংথ দেওয়া উচিত (৪০ল্প লোহার ব্যাস অথবা ডায়মিটার), যেখানে দুটো লোহার ল্যাপিং এবং এ মেম্বারের রড অন্য মেম্বারে যায় (যেমন বীম ও কলামের সংযোগস্থ)।

রং/পেইন্ট ও থিনার

বাড়ি যত সুন্দর ভাবেই তৈরি করা হোক না কেন ভাল রং ছাড়া সে বাড়ি হয়ে পড়ে ম্লান। বাড়িকে আলোকিত করার উপায় হল রং/পেইন্ট। শুধু বাড়ির বাহ্যিক সৌন্দর্য নয় বরং এমন রং ব্যবহার করা উচিৎ যা বাড়িকে প্রকৃতির অত্যাচার থেকে রক্ষা করে। ভবনের বাইরে চুনকাম বা হোয়াট ওয়াশ, সিমেন্ট ওয়াশ, স্নোসেম/ডিউরেসেম ব্যবহার করা যায় এবং ভবনের ভিতরে ডিস্টম্পার, প্লাষ্টিক পেইন্ট ব্যবহার করা যায়। প্লাষ্টিক পেইন্টের দেয়াল পানিতে ধুয়ে পরিস্কার করা যায়। আমাদের দেশে ভালো মানের পেইন্ট পাওয়া যায় যা গ্রীল বা লোহা জাতীয় সারফেসে ব্যবহার করা যায়।
রং/পেইন্ট ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা
  • পেইন্ট ও ভার্ণিশ মরিচা থেকে লোহাকে রক্ষা করে।
  • কাঠকে পোকামাকড়, ছত্রাক এবং পচন থেকে রক্ষা করে।
  • বাড়ির দেয়ালকে প্রকৃতির অত্যাচার থেকে রক্ষা করে।
  • বাড়ির বাইরের রং/পেইন্ট বাড়ির ভিতরের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়। বাড়ির বাইরের সৌন্দর্য করে উজ্জ্বল।
বিভিন্ন প্রকার পেইন্ট
  • অ্যালুমিনিয়ান পেইন্ট
  • সিমেন্ট পেইন্ট
  • কোলটার পেইন্ট
  • এনামেল পেইন্ট
ক্রমিক নং পেইন্ট ব্যবহারের স্থান পেইন্ট ধরন (টাইপ) মন্তব্য
প্লাষ্টারের ওয়াল (ভবনের বাইরের দেয়াল)চুনকাম কালার ওয়াশ
সিমেন্ট ওয়াশ
প্লাষ্টিক পেইন্ট
¯েœাসেমডেউরোসেম
ভবনের ভিতরের দেয়াল হোয়াইট ওয়াশকালার ওয়াশ ডিষ্টেম্পার
প্লাষ্টিক পেইন্ট
চক পুটিং হিসেবেব্যবহৃত হয়
স্যাঁতস্যাঁতে প্লাষ্টার দেয়াল  ড্যাম্প স্টপ পেইন্ট 
সিরামিক ইটের দেয়ালরিপেলেন্ট সিলিকন ওয়াটার
বাথরুম এবং কিচেনরুমের দেয়াল এনামেল পেইন্টরাবার পেইন্ট
ভবনের ছাদ রুফিং কমপাউন্ড
ভবনের মেঝে (ফ্লোর)রেড-অক্সাইড রং ব্যবহার নেট সিমেন্টের সাথে
কাঠের দরজা-জানালা ফ্রেঞ্চপলিশএনামেল পেইন্ট
লোহার দরজা-জানালা এনামেল পেইন্ট
কংক্রিট জোড়া দেওয়া(শুল্ক অবস্থান) এপক্সি জয়েন্টিংকম্পাউন্ড
রং বা পেইন্টিং আমাদের ঘরে সুরক্ষা ছাড়াও আরও অনেক কিছু প্রদান করে। ঘরের রং ব্যক্তিত্বের প্রতিবিম্ব। রং এর কাজ আমরা তিন ভাগে করব।
১. রং করার পূর্ব প্রস্তুতি।
২. সারফেস সমতল করার কাজ।
৩. রং ব্যবহার করা।
কিছু পরামর্শ যা আপনার রং করার কাজকে আরও সহজ কর।
  • যে ঘরটি রং করা হবে তার দেওয়ালে যদি ফাটল অথবা সিপেজ থাক তাহলে আগে ওটাকে মেরামত করিয়ে নিন।
  • কি ধরনের রং এবং শেড চাই সেটা আগে নির্বাচন করে নিন। গুণগত মানসম্পন্ন কোম্পানীর সাহায্য নিন।
  • রং কোম্পানির সমস্ত উৎপাদিত পণ্যের খবর নিন তাতে করে জানতে পারবেন আপনার প্রয়োজন।
  • বাইরের রং হালকা রাখুন তাতে ভিতরে তাপমাত্রা কম থাকবে।
  • ভিতরে দেওয়াল যেখানে প্রাকৃতিক আলো চাই সেখানে হালকা রং লাগান।
রং লাগাবার কাজ (ঘরের ভিতরে দেওয়ালের জন্য):
  • দেওয়াল শিরিষ কাগজ দিয়ে পরিস্কার করে নিন।
  • ডবল প্রাইমার ১ অথবা ২ কোট লাগান।
  • দেওয়ালের উপর পুটিং ১ অথবা ২ কোর্ট লাগান। (যদি ফাঁকফোকর বন্ধ করতে হয়)
  • প্রাইমার দিয়ে আরেকবার ১ অথবা ২ কোর্ট লাগান।
  • শেষে ২ বা ৩ কোট রং লশাগান।
  • সিন্থেটিক এ্যানামেল বা তেল রংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন মত থিনার ব্যবহার করুন।
থিনার
পেইন্টের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
বিভিন্ন প্রকার থিনার হচ্ছে
  • তারপিন তেল
  • ন্যাফতা
  • স্পিরিট
  • পানি
মোজাইক হলো একধরনের বহুলব্যবহৃত ফ্লোর ফিনিশ। কংক্রিটের ফ্লোরের উপর মার্বেল পাথরকুচি (৬মি. মি. এর ছোট) সিমেন্ট , সাদা পাউডার, পানি নিরোধক এজেন্ট ইত্যাদি আনুপাতিক হারে মিশিয়ে যে ফ্লোর ফিনিশ তৈরি করা হয় তাকে মোজাইক বলে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
ক) পাথর কুচি = ২ভাগ
খ) সিমেন্ট (গ্রে ও হোয়াইট) = ১ ভাগ
গ) পানি = প্রয়োজন মত
ঘ) ঘর্ষণ পাথর = প্রয়োজন মত
মার্বেল চিপস সাধারণত ভারতীয় বা পাকিস্তানি হয়ে থাকে। আমাদের দেশে জয়পুরহাটে উন্নতমানের মার্বেল পাথর থাকলেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে উত্তোলন ও ব্যবহার শুরু হয়নি।
তৈরির পদ্ধতি
কংক্রিটের ফ্লোরের উপর নির্দিষ্ট সাইজের মার্বেল পাথরকুচি, রঙিন/সাদা সিমেন্ট, সাদা পাউডার, পানি নিরোধক এজেন্ট ইত্যাদি মিশিয়ে পানি দিয়ে মসলা তৈরি করা হয়। মোজাইকের কাজ শুরু করার পূর্বে ১:২ (১ ভাগ সিমেন্ট, ২ ভাগ বালি) অনুপাতে নিচের মূল ফ্লোরটি তৈরি করে নেয়া হয়। এর উপর মোজাইকের মসলা আন্ত ১/২” পুরু করে প্রলেপ দেয়া হয়। মোজাইকের এ প্ররেপটি ১৫ থেকে ২০ দিন যথানিয়মে কিউরিং করানো হয়। অতঃপর পর্যায়ক্রমে ৪০,৬০,৮০,১০০ ও ১২০ নং পাথর দিয়ে ঘর্ষণ করে মসৃণ করা হয়। এ কাজকে মোজাইক কাটিং ওয়ার্ক বলে।
মোজাইক অনেকটা টাইলসের মত কাজ করে। তবে মোজাইকে টাইলসের চেয়ে খরচ কম। মোজাইকে বিভিন্ন ডিজাইন করা সম্ভব।
এখানে বিভিন্ন প্রকার মোজাইকের পাথর এবং সিমেন্টের মূল্য দেওয়া হল
প্রকার উৎস ওজন (ব্যাগ প্রতি) মূল্য
সাদা পাথর ইন্ডিয়ান ৪৫ কেজি ২৩০-৩০০
কালো ইন্ডিয়ান ৪০ কেজি ৯০-১১০
রঙিন ইন্ডিয়ান ৪০ কেজি ২৪০-২৬০
সাদা পাথর পাকিস্তানী ৪০ কেজি ৪৫০-৫০০
সাদা সিমেন্ট থাইল্যান্ড ৪০ কেজি ৬০০-৬৫০
সাদা সিমেন্ট বাংলাদেশ ৪০ কেজি ৪২০-৬০০
প্রয়েদ মূল্য তালিকা পরিবর্তীত বাজার দরের উপর নির্ভরশীল।
প্রাচীনকাল হতে মানুষ বসতবাড়ির খুঁটি, কড়ি, বরগা, চৌকাঠ, দরজা, জানালা, দেয়াল, মেঝে, আসবাবপত্র ইত্যাদি কাঠ দিয়ে তৈরি করে আসছে। গাছ থেকে আমরা কাঠ পেয়ে থাকি। বর্তমানে রড, সিমেন্ট, পাথর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ সামগ্রীর পাশাপাশি কাঠও ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের দেশে সাধারণত যে সমস্ত কাঠ ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে কাঠাল, চিটাংগা সেগুন, চিটাংগা শীলকড়ই, মেহগনি, শাল, গর্জন উন্নতমানের।
কাঠের সুবিধাসমূহ
  • সহজে সব জায়গায় পাওয়া যায়।
  • পুনঃবিক্রয়মূল্য অধিক।
  • বড় আকার থেকে ছোট আকারে পরিণত করে সহজে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া যায়।
  • কাজ করা খুব সহজ এবং কাঠের কাজ নষ্ট হলে সহজে কাঠ লাগিয়ে বা বদলে ঠিক করা যায়।
  • সহজে জোড়া লাগানো যায়।
  • অনেক হালকা, তাই ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় নির্মাণকাজে ব্যবহার উপযোগী।
  • ঘরের সুন্দর আসবাবপত্র তৈরির জন্য খুব ভাল উপাদান।
  • ভাল শব্দ নিয়ন্ত্রক।
  • এর সাথে লোহার প্লেট লাগিয়ে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
বিভিন্ন প্রকার কাঠের ব্যবহার
  • ঘরের আসবাবপত্র বা সুন্দর সুন্দর ফার্নিচার তৈরিতে মূলত মেহগনি, কড়াই, চম্বল, কাঁঠাল, সেগুন ইত্যাদি কাঠ ব্যবহৃত হয়।
  • ঘরের দরজার চৌকাঠ তৈরিতে মূলতঃ মেহগনি, শিলকড়ই, কড়ই, জাম, গজারি কাঠ ব্যবহৃত হয়।
  • দরজার পাল্লার কাজে শাল, সেগুন, গামারি কাঠ ব্যবহৃত হয়।
  • নির্মাণ কাজের সাটারিং তৈরিতে মূলতঃ কম দামী কাঠ ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ভাল কাঠ শনাক্তকরণ পদ্ধতি
কাঠের রং, আঁশ, গন্ধ, ফাটল ও ওজন ইত্যাদি বাহ্যিকভাবে ভালভাবে দেখে ভাল কাঠ শনাক্ত করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে কাঠের রঙের ব্যাপারে জানতে হবে। যেমন- শিলকড়ই অনেকটা খয়েরি রঙের হয়ে থাকে, কাঁঠাল কাঠ হলদে রঙের হয়ে থাকে, মেহগনি, গজারি হাল্কা কালচে ও হলদে রঙের হয়ে থাকে।
কাঠ ব্যবহারে সতর্কীকরণ নির্দেশিকা ও সংরক্ষণ করার উপায়
কাঠের কিছু সাধারণ সমস্যা দেখা যায়, কাঠ ব্যবহারের সময় সে সব সমস্যা আছে কি না দেখে ব্যবহার করতে হবে। সমস্যাগুলো নি¤œরূপঃ
১. গিঠ (Knots)
২. ব্যাবর্ত আঁশ (Twisted Fibers)
৩. ফাট (shakes)
৪. আপসেট (updates)
৫. ত্বকস্ফোটক বা আব (Ring galls, also known as burls or excrescence)
৬. পাটল (Foxiness)
৭. Compression wood
৮. Pitch pockets
কাঠের স্থায়ীত্ব বাড়ানোর জন্য কাঠে সাধারণত পেইন্ট, বিটুমিন, প্রলেপ, ভার্ণিশ, ক্রিয়োজট, তেল ইত্যাদি যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়।

Share this: