Thursday, January 30, 2014

পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে যে খাবার!

সুখী দাম্পত্য জীবনের মূল মন্ত্র হলো পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা ও সুস্থ সন্তানের জন্মদান করতে পারা। শরীর সুস্থ না থাকলে দাম্পত্য জীবন কখনোই সুখের হয় না ও সুস্থ সন্তানের জন্ম হয় না। আজকাল অনেক পুরুষই সন্তান জন্মদানের অক্ষমতায় ভুগে থাকেন। এছাড়াও শারীরিক অক্ষমতা সহ নানান রকমের সমস্যা এখনকার পুরুষের নিত্য সঙ্গী। স্ট্রেসে ভরা জীবন, দূষিত পরিবেশ, ভেজাল খাদ্য, ধূমপান ইত্যাদি সবই পুরুষের উর্বরতা ক্রমশ কমাচ্ছে।
সুস্থ দেহ ও সন্তান উৎপাদনে সক্ষমতার জন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা। কিছু বিশেষ খাবার আছে যেগুলো খেলে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, বীর্যের মান উন্নত হয় ও যৌন স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব দূর হয়। আসুন,জেনে নেয়া যাক খাবার সম্পর্কে যেগুলো পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও সন্তান উৎপাদন নিশ্চিত করে তোলে।
কলা
কলায় আছে ব্রোমেলাইন নামক এঞ্জাইম যা পুরুষের যৌন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও রিবোফ্লাবিন আছে যা শরীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে ও শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। একই সাথে বীর্যের মান উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে কলা।
ডিম
পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে যে খাবার!
ডিমে আছে ভিটামিন বি৫ ও বি৬। এই উপাদানগুলো শরীরের হরমোন উৎপাদন প্রত্রিুয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে যা স্পার্ম-এর গুনগত মান বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিনের সকালের নাস্তায় একটি করে ডিম রাখুন। এতে আপনার শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
রসুন
অনেকেই রসুনের গন্ধ পছন্দ করে না। কিন্তু রসুনে আছে অ্যালাকাইন যা যৌনাঙ্গে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরিক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
চকলেট
চকলেটে ক্যাফেইন জাতীয় উপাদান থিওব্রোমাইন আছে। এছাড়াও এতে আছে ফিনাইলেথাইলামাইন যা মস্তিষ্কে ভালোবাসার অনুভূতি সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ডার্ক চকোলেটে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, বীর্যের মান উন্নত করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
বাদাম
চিনা বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদিতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে। বাদাম শরীরে উপকারী কোলেস্টেরল তৈরী করতেও সহায়তা করে। সেক্স হরমোন গুলো ঠিক মতো কাজ করার জন্য এই কোলেস্টেরল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই প্রতিদিন অল্প করে হলে বাদাম খেলে সন্তান উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে যে খাবার!
স্ট্রবেরী
স্ট্রবেরী শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। ফলে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও উদ্দীপনা বাড়ে। এছাড়াও স্ট্রবেরীতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পুরুষের স্পার্মের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
তরমুজ
তরমুজকে প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা বলা হয়ে থাকে। ২০০৮ সালে টেক্সাস A&M রিসার্চের এক গবেষণায় জানা গিয়েছে যে তরমুজে আছে লাইকোপেন, সাইট্রুলাইন ও বিটা ক্যারোটিন যা শরীরে যৌন উত্তেজনা বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়া আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা স্পার্মের মান উন্নত করে।

Friday, January 3, 2014

ঢাকার অলি-গলির অদ্ভুতুড়ে নামগুলোর মজার কাহিনী

ইন্দিরা রোডঃ বেশীর ভাগ মানুষের ধারণা ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামে নামকরণ করা হয়েছে রাস্তাটির। আসলে তা নয়। এককালে এ এলাকায় দ্বিজদাস বাবু নামে এক বিত্তশালী ব্যক্তি বসবাস করতেন। তার ছিল বিশাল বাড়ি। বাড়ির কাছের এই রাস্তাটি তার বড় মেয়ে ইন্দিরার নামে নামকরণ করা হয় ইন্দিরা রোড।
পিলখানাঃ
ইংরেজ শাসনামলে যাতায়াত, মালামাল পরিবহন ও যুদ্ধের কাজে প্রচুর হাতি ব্যবহার করা হত। বন্য হাতিকে পোষ মানানো হত যেসব জায়গায় তাকে বলা হত পিলখানা। সে সময় ঢাকায় একটি বড় সরকারি পিলখানা ছিল। সরকারি কাজের বাইরেও ধনাঢ্য ঢাকাবাসীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে তাদের হাতিগুলোকে এখানে পোষ মানানোর জন্য পাঠাতে পারতেন।

dhaka2.jpgএলিফ্যানট রোডঃ
সে সময়ে রমনা এলাকায় মানুষজন তেমন বাস করত না। ছিল বিস্তৃর্ণ ফাঁকা এলাকা। এখানে পিলখানার হাতিগুলোকে চড়ানো হত। আর আশেপাশের খালে হাতিগুলোকে গোসল করানো হত। যে রাস্তা দিয়ে পিলখানার হাতিগুলোকে রমনার মাঠে আনানেয়া করা হত সে রাস্তাটাই আজকের এলিফ্যানট রোড।

কাকরাইলঃ
ঊনিশ শতকের শেষ দশকে ঢাকার কমিশনার ছিলেন মিঃ ককরেল। সম্ভবত তার নামে সে এলাকায় কোন রাস্তা ছিল। সে সময় ইংরেজ কমিশনারদের নামে রাস্তার নামকরণ করার রেওয়াজ ছিলো। সেই ককরেল রোড থেকে কালক্রমে এলাকার নাম হয়ে যায় কাকরাইল।

কাগজীটোলাঃ
ইংরেজ শাসনামলে ঢাকায় কাগজ তৈরি করা হত। যারা কাগজ তৈরি করতেন তাদের বলা হত ‘কাগজী’। কাগজীরা যে এলাকায় বাস করতেন আর যেখানে কাগজ উৎপাদন ও বিক্রি করতেন সে এলাকাই কাগজীটোলা নামে পরিচিতি লাভ করে।

গোপীবাগঃ
গোপীনাগ নামক এক ধনী ব্যবসায়ী এই এলাকার মালিক ছিলেন। তিনি স্থাপন করেছিলেন ‘গোপীনাথ জিউর মন্দির’। তখন থেকেই এই এলাকার নাম গোপীবাগ।

চাঁদনী ঘাটঃ
সুবাদার ইসলাম খাঁর একটা বিলাশবহুল প্রমোদতরী ছিল। প্রমোদতরীর নাম ছিল – চাঁদনী। ‘চাঁদনী’ ঘাটে বাধা থাকত। অন্য কোন নৌকা এই ঘাটে আসতে পারত না। সেখান থেকে এলাকার নাম চাঁদনী ঘাট।

টিকাটুলিঃ
এক সময় হুক্কা টানার বেশ চল ছিল বাংলা মুল্লুকে। আর ঢাকার এই এলাকা ছিল হুক্কার ‘টিকা’ তৈরির জন্য বিখ্যাত। ‘টিকা’ তৈরিকারকরা এই এলাকায় বাস করতেন ও ব্যবসা করতেন।

তোপখানাঃ
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর গোলন্দাজ বাহিনীর অবস্থান ছিল এখানে।

পুরানা পল্টন, নয়া পল্টনঃ
এ এলাকা ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ঢাকাস্থ সেনানিবাস।

ধানমন্ডিঃ
এখানে এককালে বড় একটি হাট বসত। হাটটি ধান ও অন্যান্য শস্য বিক্রির জন্য বিখ্যাত ছিল।

পরীবাগঃ
পরীবানু নামে নবাব আহসানউল্লাহর এক মেয়ে ছিল। সম্ভবত পরীবানুর নামে এখানে একটি বড় বাগান করেছিলেন আহসানউল্লাহ।

পাগলাপুলঃ ১৭
শতকে এখানে একটি নদী ছিল, নাম – পাগলা। মীর জুমলা নদীর উপর সুন্দর একটি পুল তৈরি করেছিলেন। অনেকেই সেই দৃষ্টিনন্দন পুল দেখতে আসত। সেখান থেকেই জায়গার নাম পাগলাপুল।

পানিটোলাঃ
যারা টিন-ফয়েল তৈরি করতেন তাদের বলা হত পান্নিঅলা। পান্নিঅলারা যেখানে বাস করতেন সে এলাকাকে বলা হত পান্নিটোলা। পান্নিটোলা থেকে পানিটোলা।

ফার্মগেটঃ
কৃষি উন্নয়ন, কৃষি ও পশুপালন গবেষণার জন্য বৃটিশ সরকার এখানে একটি ফার্ম বা খামার তৈরি করেছিল। সেই ফার্মের প্রধান ফটক বা গেট থেকে এলাকার নাম ফার্মগেট।

শ্যামলীঃ
১৯৫৭ সালে সমাজকর্মী আব্দুল গণি হায়দারসহ বেশ কিছু ব্যক্তি এ এলাকায় বাড়ি করেন। এখানে যেহেতু প্রচুর গাছপালা ছিল তাই সবাই মিলে আলোচনা করে এলাকার নাম দেন শ্যামলী।

সূত্রাপুরঃ
কাঠের কাজ যারা করতেন তাদের বলা হত সূত্রধর। এ এলাকায় এককালে অনেক শূত্রধর পরিবারের বসবাস ছিলো।

সুক্কাটুলিঃ
১৮৭৮ সালে ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হয়। এর আগে কিছু লোক টাকার বিনিময়ে চামড়ার ব্যাগে করে শহরের বাসায় বাসায় বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দিতেন। এ পেশাজীবিদেরকে বলা হত ‘ভিস্তি’ বা ‘সুক্কা’। ভিস্তি বা সুক্কারা যে এলাকায় বাস করতেন সেটাই কালক্রমে সিক্কাটুলি নামে পরিচিত হয়।

স্বামীবাগঃ
ত্রিপুরালিংগ স্বামী নামে এক ধনী এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি এ এলাকায় বাস করতেন। তিনি সবার কাছে স্বামীজি নামে পরিচিত ছিলেন। তার নামেই এলাকার নাম হয় স্বামীবাগ।

মালিবাগঃ
ঢাকা একসময় ছিল বাগানের শহর। বাগানের মালিদের ছিল দারুণ কদর। বাড়িতে বাড়িতে তো বাগান ছিলই, বিত্তশালীরা এমনিতেও সৌন্দর্য্য পিপাসু হয়ে বিশাল বিশাল সব ফুলের বাগান করতেন। ঢাকার বিভিন্ন জায়গার নামের শেষে ‘বাগ’ শব্দ সেই চিহ্ন বহন করে। সে সময় মালিরা তাদের পরিবার নিয়ে যে এলাকায় বাস করতেন সেটাই আজকের মালিবাগ।

[তথ্যসূত্রঃ ঢাকাঃ স্মৃতি-বিস্মৃতির শহর – মুনতাসীর মামুন]

Thursday, January 2, 2014

সবজি দিয়ে মজাদার মাংস ভুনা



মুরগি/খাসি/ভেড়া/গরুর মাংসের নানান রকম ভুনা আমরা রান্না করে থাকি। ঝাল ফ্রাই থেকে শুরু করে কষা মাংস, আচারি ভুনা, কালো ভুনা ইত্যাদি সবই মাংসের ভুনা রেসিপি। সেই সমস্ত চেনাজানা রেসিপির ভিড়ে আজ রইলো একদম ভিন্নধর্মী একটি রেসিপি। শীতের সবজি দিয়ে মাছের তরকারি কমবেশি সকলেরই পছন্দ। তাহলে এবার রেঁধে দেখুন শীতের সবজির সাথে মাংসের মজাদার যুগলবন্দী। আপনার পছন্দসই যে কোনো মাংস বেছে নিন, আর চেষ্টা করে দেখুন নতুন স্বাদের এই রেসিপিটি।

উপকরণ :

মুরগি/গরু/ভেড়া/খাসির মাংস ১ কেজি,
পেঁয়াজ বাটা ১/৪ কাপ,
আদা বাটা ১ টেবিল চামচ চামচ,
রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ,
দারুচিনি ২ সে. মি. ৩ টুকরা,
এলাচ ২ কাপ,
চিনি ২ চা চামচ,(ইচ্ছা)
লবণ স্বাদ মত,
মরিচ বাটা ১ টেবিল চামচ,
ধনে গুঁড়া-১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া-১ চা চামচ
জিরা গুঁড়া-১ চা চামচ
পেঁয়াজ স্লাইস ৬টি,
নতুন গোল আলু ৫/৬টি
টমেটো মোটা স্লাইস- ২ টি
গাজর মোটা স্লাইস-১/২ কাপ
পেঁয়াজ মোটা স্লাইস-১ কাপ
ক্যাপ্সিকাম ডুমো করে কাটা-১/২ কাপ
পেঁয়াজ পাতা- পছন্দ মত
ধনে পাতা- ইচ্ছা
তেল-১/২ কাপ
দই-১/২ কাপ

প্রণালী :

  • -মাংস টুকরা করে ধুয়ে নিন। বাটা মসলা, গুঁড়ো মসলা, দই, লবণ দিয়ে মাখিয়ে রাখুন।
  • -১ ঘণ্টা পর মাংস হাঁড়িতে করে চুলায় দিন।
  • -আন্দাজমতো অল্প ফুটানো পানি দিন (খাসি ও গরুর মাংসের ক্ষেত্রে), এবং সিদ্ধ হতে দিন। পানি শুকিয়ে ফেলবেন চুলাতেই।
  • -আলুর খোসা ছাড়িয়ে ২ টুকরা করুন। তেলে আলু লাল করে ভেজে তুলে রাখুন। চাইলে সিদ্ধ করেও নিতে পারেন। আবার হালকা ভাপিয়ে ভেজে নিতে পারেন।
  • -তেলে গরম মশলার ফোঁড়ন দিন ও কাটা পেঁয়াজ দিয়ে একটু ভাজুন। মাংস ও আলু তাতে দিয়ে দিন। ভালো করে কষিয়ে চুলার আঁচ কমিয়ে দিন।
  • -মাংস তেলের ওপরে উঠে এলে সবজি গুলো দিয়ে দিন। ভালো করে নেড়ে ভাজা ভাজা করুন। পরিবেশন করুন গরম গরম।
www.priyo.com/2014/01/01/47443.html#sthash.It1kx5pb.dpuf

শীতে উষ্ণ রাখবে ৬ টি জাদুকরী মশলা

শরীর ঠাণ্ডা করে এমন খাবারের পরিবর্তে শরীরকে একটু বাড়তি উষ্ণতা দেয় এমন খাবার খুঁজি আমরা এ সময়। সে জন্যই রান্নাঘরে স্থায়ী স্থান পেয়ে যায় কফি, মধু এবং কালিজিরার কৌটা। আমাদের খুব সাধারণ খাবার থেকেও কিন্তু ইচ্ছে করলেই শীতের বিরুদ্ধে লড়াই করার উষ্ণতা পাওয়া যায়। কীভাবে? খাবারে রাখুন এমন কিছু মশলা যা শীত দূর করতে সহায়ক। এমনিতেই আমরা বাঙালিরা মশলা ভালবাসি। তার ওপরে যদি এ থেকে পাওয়া যায় উপকারিতা, তবে তো সে মশলা রান্নায় ব্যবহার হতেই পারে! পুরো শীত জুড়েই ব্যবহার করুন এসব মশলা। এক কাপ গরম চা অথবা কোনও রান্নায় একটু করে মিশিয়ে দিন, শরীর জুড়ে উষ্ণতা ছড়িয়ে যাবে। দূরে থাকবে শীতের রোগ বালাই।

গোলমরিচ

গোলমরিচের ঝাঁঝ শীতের হাত থেকে বাঁচাতে পারে আপনাকে। Piperaceae ফ্যামিলির এই মশলার রয়েছে অ্যান্টিসেপ্টিক এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টাল বৈশিষ্ট্য। খাবার রান্না করার সময় যেমন ব্যবহার করতে পারেন একে, তেমনি খাবার খাওয়ার সময়ে তার স্বাদ বাড়াতেও গোলমরিচ গুঁড়োর তুলনা নেই।

এলাচি

কার্ডামম (Elettaria cardamomum) বা এলাচি হলো Zingiberaceae ফ্যামিলির একটা মশলা। এলাচির গন্ধটা বেশ মিষ্টি, মোটেও ঝাঁঝালো নয়। কিন্তু তাই বলে এই শীতে একে তাচ্ছিল্য করবেন না যেন! এর মূল কাজ হলো শ্বাসযন্ত্রের মধ্য দিয়ে নিঃশ্বাস চলাচল সুগম করে দেওয়া। শীতের সময় যে কোনও মিষ্টি খাবারে ব্যবহার করতে পারেন এলাচি।

মরিচ

শীত যতই হোক, আলুভর্তায় একটু বেশি করে মরিচ দিলেই একেবারে কান-মাথা গরম হয়ে যায়, চোখে পানি চলে আসে। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা শরীর থেকে ঠাণ্ডার অনুভূতি দূর করতে সাহায্য করে, সর্দি এবং কফ কমায়। শুধু খাবারে নয়, বরং মোজার মাঝে একটুখানি মরিচের গুঁড়ো রেখে দিতে পারেন। বাইরে যতই ঠাণ্ডা থাকুক, আপনার পা থাকবে উষ্ণ (হাত এবং মুখে যেন লেগে না থাকে সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখুন)।

দারুচিনি

শীতে অনেকের শরীরে রক্ত চলাচল ভালোভাবে না হবার কারণে তারা শীত কাটিয়ে উঠতে পারেন না। তাদের জন্য কাজে আসতে পারে দারুচিনি। শুধু তাই নয়, দারুচনি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবেও কাজ করে এবং হজমে করে সহায়তা। ঝাল বা মিষ্টি যে কোনও ধরণের খাবারে ব্যবহার করুন দারুচিনি।

রসুন

শীতে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকেই। আপনাদের কাজে আসতে পারে রসুন, কারণ এটি ইনফেকশন রোধ করে। রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রসুন আর রক্ত চলাচল ভালো হলে শরীরের তাপমাত্রাও থাকে নিয়ন্ত্রণে।

আদা

আদার মাঝেও রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅএক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিসেপ্টিক বৈশিষ্ট্য। সারা শরীরে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয় আদা। চা এবং খাবারের মাঝে আদার ঝাঁঝ তো কাজে লাগেই, আদার রস মেশানো জলে গোসল করলেও শরীর উষ্ণ থাকে, পেশী শিথিল হয়, আর ঠাণ্ডা এবং সর্দি দূর করে।
www.priyo.com/2014/01/02/47351.html#sthash.9amD2KoX.dpuf

Wednesday, January 1, 2014

ইংরেজী বছরের সূচনা ইতিহাস এবং.

..........ইংরেজী বছরের সূচনা ইতিহাস এবং..........
আমরা বাংলাদেশীরা বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ইংরেজী নতুন বছরকেও বেশ ধূমধাম করে আনন্দের মাঝেই প্রতি বছর উদযাপন করে থাকি। আর একটু পরেই ২০১২ সাল আমাদের জীবন থেকে চলে যাবে,চলে যাবে আরো একটি পুরানো বছর। দুঃখ কষ্ট ব্যথা যন্ত্রনা সবকিছুকে পিছনে ফেলে আবারো নতুন করে স্বাগত জানাবো আরো একটি নতুন বছর ২০১৩ সালকে। এই নতুন বছরে সবার চাওয়া থাকবে বিগত বছরের ভুলগুলো সব শুধরে নিয়ে এই বছরটিকে যেন আরো সুন্দর ও সাফল্যময় করে তুলতে পারি। এই বছরটি যেন জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বছরটি হয়। কিন্তু আনন্দ আর উল্লাসের মাঝে প্রিয়জনদেরকে নিয়ে শুরু হওয়া এই ইংরেজী বছরের সূচনা কেমন করে হয়েছিল তা আমরা অনেকেই জানিনা। জানিনা কিভাবে হয়েছিল এই আনন্দঘন মুহূর্তের জন্ম!

পৃথিবীব্যাপী যতগুলো উৎসব পালন করা হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো উৎসব হলো এই ইংরেজী বর্ষবরণ উৎসব। এই উৎসবের সূচনা হয় আজ থেকে প্রায় ৪০০০ বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে। সে সময় মেসোপটেমীয় সভ্যতায় প্রথম বর্ষবরণ উৎসব চালু হয়েছিল। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, তাকে বলা হয় মেসোপটেমীয় সভ্যতা। বর্তমানের ইরাককে প্রাচীনকালে বলা হতো মেসোপটেমিয়া। এই মেসোপটেমিয়ান সভ্যতার আবার ৪টা আলাদা আলাদা ভাগ আছে, সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, আসিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা। এদের মধ্যে বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয় ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়। সে সময় বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই পালন করা হতো এই বর্ষবরণ। তবে সেটা কিন্তু এখনকার মতো জানুয়ারির ১ তারিখে পালন করা হতো না। তখন নিউইয়ার পালন করা হতো বসন্তের প্রথম দিনে। বসন্তকাল শীতকালের রুক্ষতাকে ঝেড়ে ফেলে প্রকৃতিকে আবার নতুন করে সাজিয়ে তোলে। এই সময়ে গাছে গাছে নতুন পাতা দেখা দেয়। এসময়ে ফুলের কলিরা যেন হেসে উঠে । নতুন দিনে পাখীরাও গান গেঁয়ে উঠে পরম ভালোবাসায় । প্রকৃতির এই নতুন করে জেগে ওঠাকেই তাঁরা নতুন বছরের শুরু বলে চিহ্নিত করেছিল। অবশ্য তখন তাঁরা চাঁদ দেখেই বছর গণনা করত । উৎসবের শুরু হতো চাঁদ দেখে। যেদিন বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠত, শুরু হতো তাদের বর্ষবরণ উৎসব, চলতো টানা ১১ দিন। এই ১১ দিনের আবার আলাদা আলাদা তাৎপর্যও ছিল।

ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পর জাঁকজমক করে নববর্ষ পালন করা শুরু করে রোমানরা। রোমের উপাখ্যান খ্যাত প্রথম সম্রাট রোমুলাসই ৭৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করবার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। অবশ্য এই ক্যালেন্ডারও রোমানরা চাঁদ দেখেই বানিয়েছিলেন। আর সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ওদের নববর্ষ ছিল ১লা মার্চ। তবে প্রথম দিকে ওদের ক্যালেন্ডারে মাস ছিল মাত্র ১০টা, ছিল না জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি। পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে যোগ করেন। সমস্যা ছিল আরও, রোমানদের ক্যালেন্ডারে তারিখও ছিল না। ধীরে ধীরে চাঁদের বেড়ে উঠার ছবি দিয়ে ওরা মাসের বিভিন্ন সময়কে চিহ্নিত করতো। চাঁদ ওঠার সময়কে বলা হতো ক্যালেন্ডস, পুরো চাঁদকে বলতো ইডেস, চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলতো নুনেস। পরে সম্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন ঘটান। তিনি ক্যালেন্ডস, ইডেস, নুনেসের ঝামেলা শেষ করে বসিয়ে দেন তারিখ। ফলে বছরে মোট ৩৫৫ দিন হয়।
যেহেতু চাঁদের হিসাবে প্রতিমাসে দিন হয় সাড়ে ২৯টি। আর তাই চাঁদের হিসাব করায় তাদের বছরে ১০ দিন কম থেকে গিয়েছিল। এইভাবে বছর হিসাবের ফলে চাষীরা পড়লো সমস্যায়। পরে অনেক চিন্তা ভাবনা করে সম্রাট সিজার চাঁদের হিসাব না করে, সূর্য দিয়ে হিসাব করে বছরকে ৩৬৫ দিনে এনে এই সমস্যার সমাধান করেন। অনেকে বলেন সেই সময়ে সূর্য দেখে প্রথমে ৩৬৫ দিনের নয়, ৪৪৫ দিনের ক্যালেন্ডার বানিয়েছিলেন! রোমান সম্রাট জুলিয়ান সিজার লিপিইয়ার বছরেরও প্রচলন করেন। জুলিয়াস সিজার আলেকজান্দ্রিয়া থেকে গ্রিক জ্যোতির্বিদ মোসাজিনিসকে নিয়ে আসেন ক্যালেন্ডার সংস্কারের জন্য। মোসাজিনিস দেখতে পান পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে প্রদক্ষিন করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৬ঘন্টা। ৩৬৫ দিন বছর হিসাব করা হলে এবং প্রতি চতুর্থ বছরে ৩৬৬ দিনে বছর হিসাব করলে হিসাবের কোন গড়মিল হয় না। আর তাই মোসাজিনিস অতিরিক্ত একদিন যুক্ত করে এ বছরটির নাম করেন ‘লিপিইয়ার’।
যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৬০০ বছর আগে, অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে ঠিক করা হয়েছিল বর্ষবরণ হিসেবে পালন করা হবে ২৬ মার্চ তারিখটি। কিন্তু সেটা ঠিকভাবে মানা হচ্ছিল না। পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস যখন জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে স্থান দেন, তিনি ঠিক করে দেন, জানুয়ারির ১ তারিখ হলো বছরের প্রথম দিন। ওইদিনই হবে বর্ষবরণ। কিন্তু সে কথাও মানা হলো না। রোমানরা সেই আগের মতো মার্চের ১ তারিখেই বর্ষবরণ উৎসব করতে লাগলেন। পরে জুলিয়াস সিজার যখন ৩৬৫ দিনে বছরের ঘোষণা দেন, তখন আবার বলে দেন, মার্চে নয়, বছর শুরু হবে জানুয়ারির ১ তারিখে। উৎসবও সেইদিনই হবে। এরপরই বর্ষবরণ উৎসব মার্চ মাস থেকে চলে এলো জানুয়ারিতে।
সেইসময়ে রোমান সাম্রাজ্যে এই ক্যালেন্ডার নিয়ে অনেক রকম ঝামেলা হয়েছিল। আর তাই কবে যে নতুন বছর শুরু হবে, সেটা ঠিকই করা যাচ্ছিল না। একেক সময় একেক জায়গায় একেক দিন নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে পালিত হতো।
সিজারের ক্যালেন্ডারেও ছিল বেশকিছু সমস্যা । এই সমস্যার সমাধানে মাত্র ৪০০ বছর আগে ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরী জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণের পরামর্শ নিয়ে ক্যালেন্ডারটির সংস্কার করেন। তারই নাম অনুসারে ক্যালেন্ডারটির নামকরণ করা হয়েছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। আর এটি বের করার পর এর সুবিধার কারণে আস্তে আস্তে সকল জাতিই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করে। ফলে আগে যারা নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্ষবরণ উৎসব পালন করতো, তারাও এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জানুয়ারির ১ তারিখই নববর্ষ হিসেবে পালন করে । বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল ১লা জানুয়ারির বর্ষবরণ উৎসব। একই দিনে নতুন বছরকে স্বাগত জানালেও বিভিন্ন দেশে নববর্ষ পালনের রীতিনীতিও ভিন্ন ভিন্ন। কিছু কিছু মিল থাকলেও নববর্ষের অনুষ্ঠানের সঙ্গে যোগ হয় দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।
গ্রেট ব্রিটেনে এই গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার প্রচলিত হয় ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে। আর এই ক্যালেন্ডার আমাদের দেশে নিয়ে আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে। আমরাও পহেলা বৈশাখের পাশাপাশি প্রতিবছর ১লা জানুয়ারিতেও বর্ষবরণ করি। এদিনও আমরা সারারাত আনন্দে মেতে উঠি। মেতে উঠি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যতায়।
যেহেতু প্রাচীন রোমানদের হাতেই এই ক্যালেন্ডারের সৃষ্টি আর তাই ইংরেজী বছরের বারটি মাসের বেশীর ভাগই নামকরণ করা হয়েছে রোমান দেবতা বা সম্রাটের নামানুসারে।
জানুয়ারী-রোমান দেবতা জানো’স এর নামানুসারে ।
ফেব্রুয়ারী-ল্যাটিন শব্দ ফেব্রুয়া থেকে নেয়া হয়েছে যার অর্থ পবিত্র
মার্চ-রোমানদের যুদ্ধ দেবতা মার্সের নামানুসারে
এপ্রিল-ল্যাটিন শব্দ এপ্রিলিস নামানুসারে যার অর্থ খোলা
মে-বসন্তের দেবী মায়া’স নামানুসারে
জুন-বিবাহ এবং নারী কল্যাণের দেবী জুনো’র নামানুসারে
জুলাই- রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার-এর নামানুসারে
আগষ্ট-জুলিয়াস সিজারের পুত্র অগাস্টাস সিজারের নামানুসারে
সেপ্টেম্বর-ল্যাটিন সপ্তম সংখ্যা সেপ্টেম এর নামানুসারে
অক্টোবর- ল্যাটিন অষ্টম সংখ্যা অক্টো এর নামানুসারে
নভেম্বর- ল্যাটিন নবম সংখ্যা নভেম এর নামানুসারে
ডিসেম্বর- ল্যাটিন দশম সংখ্যা ডিসেম এর নামানুসারে

পরিশেষে- বছরের শুরুতে সবাই যেন মনে রাখি আমরা আমাদের স্বত্বাকে কোনভাবেই যেন বিসর্জিত না দেই। আনন্দ আর উল্লাসে সীমা অতিক্রম করে উগ্রতায় যেন মেতে না উঠি । যা বিপদ ডেকে আনবে, নিজেকে করবে হেয় এমন কিছুই যেন আমরা না করি। আমরা আমাদের অনৈতিক আচরন ও পশুত্বকে যেন বিদায়ী বছরের সাথেই জলাঞ্জলি দিয়ে দেশকে ভালোবাসি, দেশের মানুষকে ভালোবাসি। এই হোক নতুন বছরে আমাদের সবার প্রতিজ্ঞা।
করুণাময়ের কাছে দুহাত তুলে বলি-‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জানা, অজানা, প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ সব ধরনের পাপ ক্ষমা করে দাও। হে দয়াময়! নতুন এই বছরটিতে আমরা যেন নতুন উদ্যোমে সবাই একসাথে মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করতে পারি সেই তৌফিক তুমি আমাদেরকে দান কর... আমীন’।

সবাইকে ২০১৩ ইংরেজী নতুন বছরের অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা ...!আমরা বাংলাদেশীরা বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ইংরেজী নতুন বছরকেও বেশ ধূমধাম করে আনন্দের মাঝেই প্রতি বছর উদযাপন করে থাকি। আর একটু পরেই ২০১২ সাল আমাদের জীবন থেকে চলে যাবে,চলে যাবে আরো একটি পুরানো বছর। দুঃখ কষ্ট ব্যথা যন্ত্রনা সবকিছুকে পিছনে ফেলে আবারো নতুন করে স্বাগত জানাবো আরো একটি নতুন বছর ২০১৩ সালকে। এই নতুন বছরে সবার চাওয়া থাকবে বিগত বছরের ভুলগুলো সব শুধরে নিয়ে এই বছরটিকে যেন আরো সুন্দর ও সাফল্যময় করে তুলতে পারি। 
এই বছরটি যেন জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বছরটি হয়। কিন্তু আনন্দ আর উল্লাসের মাঝে প্রিয়জনদেরকে নিয়ে শুরু হওয়া এই ইংরেজী বছরের সূচনা কেমন করে হয়েছিল তা আমরা অনেকেই জানিনা। জানিনা কিভাবে হয়েছিল এই আনন্দঘন মুহূর্তের জন্ম!পৃথিবীব্যাপী যতগুলো উৎসব পালন করা হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো উৎসব হলো এই ইংরেজী বর্ষবরণ উৎসব। এই উৎসবের সূচনা হয় আজ থেকে প্রায় ৪০০০ বছর আগে, খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে। সে সময় মেসোপটেমীয় সভ্যতায় প্রথম বর্ষবরণ উৎসব চালু হয়েছিল। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, তাকে বলা হয় মেসোপটেমীয় সভ্যতা। বর্তমানের ইরাককে প্রাচীনকালে বলা হতো মেসোপটেমিয়া। এই মেসোপটেমিয়ান সভ্যতার আবার ৪টা আলাদা আলাদা ভাগ আছে, সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, আসিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা। এদের মধ্যে বর্ষবরণ উৎসব পালন করা শুরু হয় ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়। সে সময় বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই পালন করা হতো এই বর্ষবরণ। তবে সেটা কিন্তু এখনকার মতো জানুয়ারির ১ তারিখে পালন করা হতো না। তখন নিউইয়ার পালন করা হতো বসন্তের প্রথম দিনে। বসন্তকাল শীতকালের রুক্ষতাকে ঝেড়ে ফেলে প্রকৃতিকে আবার নতুন করে সাজিয়ে তোলে। এই সময়ে গাছে গাছে নতুন পাতা দেখা দেয়। এসময়ে ফুলের কলিরা যেন হেসে উঠে । নতুন দিনে পাখীরাও গান গেঁয়ে উঠে পরম ভালোবাসায় । প্রকৃতির এই নতুন করে জেগে ওঠাকেই তাঁরা নতুন বছরের শুরু বলে চিহ্নিত করেছিল। অবশ্য তখন তাঁরা চাঁদ দেখেই বছর গণনা করত । উৎসবের শুরু হতো চাঁদ দেখে। যেদিন বসন্তের প্রথম চাঁদ উঠত, শুরু হতো তাদের বর্ষবরণ উৎসব, চলতো টানা ১১ দিন। এই ১১ দিনের আবার আলাদা আলাদা তাৎপর্যও ছিল।
ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পর জাঁকজমক করে নববর্ষ পালন করা শুরু করে রোমানরা। রোমের উপাখ্যান খ্যাত প্রথম সম্রাট রোমুলাসই ৭৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমান ক্যালেন্ডার চালু করবার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। অবশ্য এই ক্যালেন্ডারও রোমানরা চাঁদ দেখেই বানিয়েছিলেন। আর সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ওদের নববর্ষ ছিল ১লা মার্চ। তবে প্রথম দিকে ওদের ক্যালেন্ডারে মাস ছিল মাত্র ১০টা, ছিল না জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারি। পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে যোগ করেন। সমস্যা ছিল আরও, রোমানদের ক্যালেন্ডারে তারিখও ছিল না। ধীরে ধীরে চাঁদের বেড়ে উঠার ছবি দিয়ে ওরা মাসের বিভিন্ন সময়কে চিহ্নিত করতো। চাঁদ ওঠার সময়কে বলা হতো ক্যালেন্ডস, পুরো চাঁদকে বলতো ইডেস, চাঁদের মাঝামাঝি অবস্থাকে বলতো নুনেস। পরে সম্রাট জুলিয়াস সিজার এই ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন ঘটান। তিনি ক্যালেন্ডস, ইডেস, নুনেসের ঝামেলা শেষ করে বসিয়ে দেন তারিখ। ফলে বছরে মোট ৩৫৫ দিন হয়।
যেহেতু চাঁদের হিসাবে প্রতিমাসে দিন হয় সাড়ে ২৯টি। আর তাই চাঁদের হিসাব করায় তাদের বছরে ১০ দিন কম থেকে গিয়েছিল। এইভাবে বছর হিসাবের ফলে চাষীরা পড়লো সমস্যায়। পরে অনেক চিন্তা ভাবনা করে সম্রাট সিজার চাঁদের হিসাব না করে, সূর্য দিয়ে হিসাব করে বছরকে ৩৬৫ দিনে এনে এই সমস্যার সমাধান করেন। অনেকে বলেন সেই সময়ে সূর্য দেখে প্রথমে ৩৬৫ দিনের নয়, ৪৪৫ দিনের ক্যালেন্ডার বানিয়েছিলেন! রোমান সম্রাট জুলিয়ান সিজার লিপিইয়ার বছরেরও প্রচলন করেন। জুলিয়াস সিজার আলেকজান্দ্রিয়া থেকে গ্রিক জ্যোতির্বিদ মোসাজিনিসকে নিয়ে আসেন ক্যালেন্ডার সংস্কারের জন্য। মোসাজিনিস দেখতে পান পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে প্রদক্ষিন করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৬ঘন্টা। ৩৬৫ দিন বছর হিসাব করা হলে এবং প্রতি চতুর্থ বছরে ৩৬৬ দিনে বছর হিসাব করলে হিসাবের কোন গড়মিল হয় না। আর তাই মোসাজিনিস অতিরিক্ত একদিন যুক্ত করে এ বছরটির নাম করেন ‘লিপিইয়ার’।
যিশু খ্রিস্টের জন্মের ৬০০ বছর আগে, অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে ঠিক করা হয়েছিল বর্ষবরণ হিসেবে পালন করা হবে ২৬ মার্চ তারিখটি। কিন্তু সেটা ঠিকভাবে মানা হচ্ছিল না। পরে সম্রাট নুমা পন্টিলাস যখন জানুয়ারি আর ফেব্রুয়ারিকে ক্যালেন্ডারে স্থান দেন, তিনি ঠিক করে দেন, জানুয়ারির ১ তারিখ হলো বছরের প্রথম দিন। ওইদিনই হবে বর্ষবরণ। কিন্তু সে কথাও মানা হলো না। রোমানরা সেই আগের মতো মার্চের ১ তারিখেই বর্ষবরণ উৎসব করতে লাগলেন। পরে জুলিয়াস সিজার যখন ৩৬৫ দিনে বছরের ঘোষণা দেন, তখন আবার বলে দেন, মার্চে নয়, বছর শুরু হবে জানুয়ারির ১ তারিখে। উৎসবও সেইদিনই হবে। এরপরই বর্ষবরণ উৎসব মার্চ মাস থেকে চলে এলো জানুয়ারিতে।
সেইসময়ে রোমান সাম্রাজ্যে এই ক্যালেন্ডার নিয়ে অনেক রকম ঝামেলা হয়েছিল। আর তাই কবে যে নতুন বছর শুরু হবে, সেটা ঠিকই করা যাচ্ছিল না। একেক সময় একেক জায়গায় একেক দিন নতুন বছরের প্রথম দিন হিসেবে পালিত হতো।
সিজারের ক্যালেন্ডারেও ছিল বেশকিছু সমস্যা । এই সমস্যার সমাধানে মাত্র ৪০০ বছর আগে ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরী জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণের পরামর্শ নিয়ে ক্যালেন্ডারটির সংস্কার করেন। তারই নাম অনুসারে ক্যালেন্ডারটির নামকরণ করা হয়েছে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। আর এটি বের করার পর এর সুবিধার কারণে আস্তে আস্তে সকল জাতিই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করে। ফলে আগে যারা নিজস্ব ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বর্ষবরণ উৎসব পালন করতো, তারাও এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জানুয়ারির ১ তারিখই নববর্ষ হিসেবে পালন করে । বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ল ১লা জানুয়ারির বর্ষবরণ উৎসব। একই দিনে নতুন বছরকে স্বাগত জানালেও বিভিন্ন দেশে নববর্ষ পালনের রীতিনীতিও ভিন্ন ভিন্ন। কিছু কিছু মিল থাকলেও নববর্ষের অনুষ্ঠানের সঙ্গে যোগ হয় দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।
গ্রেট ব্রিটেনে এই গ্রেগরীয়ান ক্যালেন্ডার প্রচলিত হয় ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে। আর এই ক্যালেন্ডার আমাদের দেশে নিয়ে আসে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে। আমরাও পহেলা বৈশাখের পাশাপাশি প্রতিবছর ১লা জানুয়ারিতেও বর্ষবরণ করি। এদিনও আমরা সারারাত আনন্দে মেতে উঠি। মেতে উঠি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যতায়।
যেহেতু প্রাচীন রোমানদের হাতেই এই ক্যালেন্ডারের সৃষ্টি আর তাই ইংরেজী বছরের বারটি মাসের বেশীর ভাগই নামকরণ করা হয়েছে রোমান দেবতা বা সম্রাটের নামানুসারে।
জানুয়ারী-রোমান দেবতা জানো’স এর নামানুসারে ।
ফেব্রুয়ারী-ল্যাটিন শব্দ ফেব্রুয়া থেকে নেয়া হয়েছে যার অর্থ পবিত্র
মার্চ-রোমানদের যুদ্ধ দেবতা মার্সের নামানুসারে
এপ্রিল-ল্যাটিন শব্দ এপ্রিলিস নামানুসারে যার অর্থ খোলা
মে-বসন্তের দেবী মায়া’স নামানুসারে
জুন-বিবাহ এবং নারী কল্যাণের দেবী জুনো’র নামানুসারে
জুলাই- রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার-এর নামানুসারে
আগষ্ট-জুলিয়াস সিজারের পুত্র অগাস্টাস সিজারের নামানুসারে
সেপ্টেম্বর-ল্যাটিন সপ্তম সংখ্যা সেপ্টেম এর নামানুসারে
অক্টোবর- ল্যাটিন অষ্টম সংখ্যা অক্টো এর নামানুসারে
নভেম্বর- ল্যাটিন নবম সংখ্যা নভেম এর নামানুসারে
ডিসেম্বর- ল্যাটিন দশম সংখ্যা ডিসেম এর নামানুসারে
পরিশেষে- বছরের শুরুতে সবাই যেন মনে রাখি আমরা আমাদের স্বত্বাকে কোনভাবেই যেন বিসর্জিত না দেই। আনন্দ আর উল্লাসে সীমা অতিক্রম করে উগ্রতায় যেন মেতে না উঠি । যা বিপদ ডেকে আনবে, নিজেকে করবে হেয় এমন কিছুই যেন আমরা না করি। আমরা আমাদের অনৈতিক আচরন ও পশুত্বকে যেন বিদায়ী বছরের সাথেই জলাঞ্জলি দিয়ে দেশকে ভালোবাসি, দেশের মানুষকে ভালোবাসি। এই হোক নতুন বছরে আমাদের সবার প্রতিজ্ঞা।
করুণাময়ের কাছে দুহাত তুলে বলি-‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জানা, অজানা, প্রত্যক্ষ, পরোক্ষ সব ধরনের পাপ ক্ষমা করে দাও। হে দয়াময়! নতুন এই বছরটিতে আমরা যেন নতুন উদ্যোমে সবাই একসাথে মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করতে পারি সেই তৌফিক তুমি আমাদেরকে দান কর... আমীন’।

সবাইকে ইংরেজী নতুন বছরের অনেক অনেক প্রীতি ও শুভেচ্ছা ...!