Wednesday, February 28, 2018

কখন ডায়বেটিস পরীক্ষা করাবেন?

কখন ডায়বেটিস পরীক্ষা করাবেন?

কখন ডায়বেটিস পরীক্ষা করাবেন?

ডায়াবেটিস রোগটি বিশ্বব্যাপীই দেখা যায়। কিন্তু এই রোগ নিয়ে এখনো মানুষের মধ্যে সচেতনতার যথেষ্ট ঘাটতি আছে। রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে বেশিদিন ধরে থাকলেই ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়। সাধারণত ডায়াবেটিস বংশগত কারণে হলেও জীবযাপন ও পরিবেশের প্রভাবেও এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। কখনো কখনো অন্য রোগের প্রভাবেই ডায়াবেটিস দেখা দেয়।

টাইপ ১ এবং টাইপ ২-এই দুই ধরনের ডায়বেটিস হয়। এর লক্ষণগুলো অনেকটাই একরকম, তবে চিকিৎসা পদ্ধতি কিছুটা আলাদা। তবে সবার আগে জানতে হবে ঠিক কোন কোন সমস্যা দেখা দিলে ডায়বেটিস পরীক্ষা করাতে হবে। আসুন জেনে নিই ডায়াবেটিসের লক্ষণ:

ঘন ঘন প্রস্রাব এবং পিপাসা পেলে

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ডায়াবেটিসের একটি অন্যতম লক্ষণ। রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে কিডনি প্রস্রাবের মাধ্যমে সেটি বের করে দিতে চায়। এর ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। এ সময় পানির তেষ্টাও বেড়ে যায়। ঘন ঘন প্রস্রাবের ফলে শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে, তাই পিপাসাও বেড়ে যায়।

ক্ষুধা বেড়ে গেলে

শরীরে যখন ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়, তখন শরীর শর্করা ধরে রাখতে পারে না। শর্করা শক্তি জোগায় শরীরে। শর্করার অভাব হলে শরীরের শক্তি হ্রাস পায়। ফলে ক্যালরির চাহিদা বেড়ে গিয়ে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে।

ক্লান্তি ও অবসাদগ্রস্ত ভাব

ক্ষুধার চাহিদা বাড়ার ফলে শরীর দুর্বল, ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। যেহেতু এ সময় শরীর শর্করার সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারে না, তাই এই সমস্যাগুলো হয়।

মাত্রাতিরিক্ত ওজন হ্রাস
ডায়াবেটিসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ওজন হ্রাস। এ সময় রক্তে শর্করার আধিক্য ওজন কমার একটি অন্যতম কারণ। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ২০ পাউন্ড ওজন কমে যায়।

অসাড়তা

রক্তে অতিরিক্ত শর্করার ফলে স্নায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে তাই ব্যক্তি অসাড় অনুভব করতে পারে। শুধু তাই নয়, স্নায়ু দুর্বল হলে রক্তচাপ কমে যায়। ফলে মাথা ঘুরতে পারে, দুর্বল লাগতে পারে।

দৃষ্টি ঝাঁপসা হয়ে যাওয়া
রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলে চোখে এর প্রভাব পড়তে পারে। যদি চোখের মনি স্ফিত হয় এবং আকারের পরিবর্তন হয় তবে হঠাৎ করে চোখে ঝাঁপসা দেখার সমস্যা হতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া

ডায়াবেটিসের ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে এই ঘটনা ঘটে। ফলে সহজে কোনো রোগ নিরাময় হতে চায় না।

ঘন ঘন ইনফেকশন
রক্তে শর্করার অসামঞ্জস্যতার ফলে ঘন ঘন বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ (ইনফেকশন) হতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে ও চুলকানি ভাব

আমাদের শরীর ৫০ থেকে ৭৮ ভাগ পানি থাকে। ঘন ঘন প্রস্রাব ও ঘাম হওয়ার ফলে শরীর শুষ্ক হয়ে পড়ে। যার প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপর। তাই এ সময় চামড়ায় শুষ্ক, খসখসে এবং চুলকানি ভাব হতে পারে।

বিরক্তি

দেহে শক্তি কমে যাওয়া এবং ক্ষুধা বৃদ্ধির ফলে সব সময় খারাপ লাগা এবং বিরক্তিবোধ হতে পারে। যেহেতু শরীর শক্তি পায় না এবং কর্মক্ষম থাকে না তাই এটা আপনার মেজাজকে খিটখিটে করতে পারে।

মাথাব্যথা

ডায়বেটিসের আরেকটি প্রধান লক্ষণ হচ্ছে মাথাব্যথার সমস্যা শুরু হওয়া। অতিরিক্ত পানিশূন্যতা, ওজন কমে যাওয়া এবং ম্যালাইসের কারণে এই মাথাব্যথার সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু করে।

মুখ শুকিয়ে যাওয়া
অনেকেই এই সমস্যার ব্যাপারে একেবারেই অবগত নন। ডায়বেটিসের কারণে আমাদের মুখের ভেতরের স্যালিভার উৎপাদন কমে যায়। যার কারণে মুখে ভেতর অনেক বেশি শুকনো হয়ে থাকে। এই ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন।

উল্লিখিত সমস্যাগুলো দেখা গেলে দেরি না করে ডাক্তারের শরনাপন্ন হয়ে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডায়াবেটিস ধরা পড়লে ভেঙ্গে পড়বেন না। বরং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হন। কারণ ডায়াবেটিস হওয়ার পর নিয়ন্ত্রিত জীবনই বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়।

মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বাড়াবে যে খাবার


মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বাড়াবে যে খাবার
যে মস্তিস্ক আমাদের পুরো শরীরকে পরিচালনা করে, তার সুস্থতার জন্য আমরা খুব একটা ভাবি না। বরং চিন্তাভাবনা, অনিয়ম, অনিয়ন্ত্রিত খাওয়া-দাওয়া করে মস্তিস্ককে আরও বেশি অসুস্থ আর বিকল করে ফেলি। কিন্তু ভালো থ্কতে গেলে আগে দরকার মাথা ঠিক রাখা। এজন্য এমন কিছু খাবার খাওয়া দরকার যা মস্তিস্ককে ভালো আর সুস্থ রাখবে।

ব্রকলি

ব্রকলিতে আছে সালফারাফেন নামক উপাদান। এটি খেলে শরীরের ক্ষতিকর উপাদান বেরিয়ে যায়। এতে করে মস্তিস্কের কোষের থেকেও বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়। ফলে মস্তিস্ক সতেজ থাকে।

ডিম

এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় কোলিন এবং উপকারি কোলেস্টেরল। যা নিউরনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ফলে সার্বিকভাবে মস্তিস্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে বিশেষ ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। মস্তিস্কের কোষের কোনো ক্ষতি হয়না।

জাম

এই ফলে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিস্কের কোষ শুকিয়ে যাওয়ার কবল থেকে আমাদের বাঁচায়। পাশাপাশি মস্তিস্কের প্রদাহ কমিয়ে মস্তিস্কের রোগ কমিয়ে দেয়। যাদের পরিবারে অ্যালঝাইমারস বা ডিমেনশিয়ার মতো মস্তিষ্কের রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের প্রতিদিন জাম খেলে উপকার মিলবে।

শতমূলী

শতমূলীতে প্রচুর মাত্রায় ফাইবারসহ কিছু উপাদান রয়েছে, যা মস্তিষ্কের উপকারি ব্য়াকটেরিয়ার মাত্রা বৃদ্ধি করে। সেই সঙ্গে এর ফলেট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদানও এক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক।

অলিভ অয়েল

অলিভ অয়েলে রয়েছে পলিফনল নামে একটি উপাদান, যা মস্তিস্ক সচল করতে সহায়তা করে। করেছেন পলিফেনল নামক উপাদানটি নার্ভ সেলের কর্মক্ষমতা বাড়য়ে দেয়। ফলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়তে শুরু করে।

আখরোট

আখরোটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, কপার, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফাইবার। এগুলো নানাভাবে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগে। সেই সঙ্গে দেহে উপকারি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাও বাড়ায়। ফলে সবদিক থেকে মস্তিষ্কের উপকার হয়।

পালং শাক

পালং শাকে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন কে, ফলেট এবং লুটেইন। এগুলো মস্তিস্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কাজে আসে।

মাছ
তৈলাক্ত মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দারুন কাজে আসে। এই উপাদনটি মস্তিস্কের কোষের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেয়।

হলুদ
মস্তিস্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন প্রদাহ কমানো, বুদ্ধির বিকাশে হলুদের কোনো বিকল্প নেই। এটি প্রাচীনকালে থেকে আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসাতে ব্যবহার হয়ে আসছে। এবং আজ পর্যন্ত এর সেই প্রচলন রয়ে গেছে।

ক্লান্তি আর রক্তচাপ কমাবে যে দশ খাবার

সারাদিন এতো এতো কাজ, দুশ্চিন্তা আর ক্লান্তির ভিড়ে মাঝেমধ্যে সব ছেড়ে পালিয়ে যেতে ইচ্ছা করে। এই অবস্থায় শরীর আর মন শরীরের সুস্বাস্থ ধরে রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে। শরীর আর মন ক্লান্ত হলে রক্তচাপ বাড়ে। 

ক্লান্তি আর রক্তচাপ কমাবে যে দশ খাবারআর এর কারণ হলো শরীরে পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়ামের অভাব। এই অভাব মেটানোর জন্য হুট করে ওষুধ খেয়ে নেওয়াও ঠিক না। এর চেয়ে খাদ্যাভাস সমৃদ্ধ করুন। এমন কিছু খাবার খান যা ক্লান্তি দূর করবে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবে, ম্যাগনেশিয়ামের অভাব পূরণ করবে। কী সেই খাবার দেখে নিই-


কলা

কলা প্রায় বারোমাসই বাজারে পাওয়া যায়। এই ফল শরীরে রক্তে লোহিত কণিকার মাত্রা বাড়ায়। পাকা কলা ঘাটতি মেটায় ম্যাগনেশিয়ামের। একটি মাঝারি মাপের কলায় ৮% ম্যাগনেশিয়াম থাকে| তাই নিয়ম করে কলা খান।

ঢ্যাড়স
১ কাপ পরিমাণ ঢ্যাড়স সিদ্ধতে থাকে ১৪ শতাংশ ম্যাগনেশিয়াম। অল্প দামের এই সবজিতে যখন এতো পুষ্টি, তখন নিয়মিত ঢ্যাড়স খাওয়াই যায়।

মসুর ডাল
ডাল বেশিরভাগ মানুষেরই প্রিয়। চিকিৎসকেরা বাচ্চাদের নিয়মিত ডালের পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন। এটা বড়দের জন্যেও খুব উপকারি। এই ডালে আছে ১৮শতাংশ ম্যাগনেশিয়াম। তাই প্রতিদিন ডাল খাওয়ার চেষ্টা করুন, চনমনে থাকুন।

কুমড়োর দানা
সবাই কুমড়ো খেলেও কুমড়োর দানা বা বিচি খাইনা। কিন্তু আমরা জানিই না যে কুমড়োর দানায় প্রায় ১৯ শতাংশ ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই দানা ফেলে না দিয়ে রোদে শুকিয়ে কৌটোয় ভরে রাখুন। পরে রান্না করেও খাওয়া যায়।

ডুমুর
কম দামের সস্তা ও পুষ্টিকর ফল ডুমুর| ডুমুরে প্রচুর আয়রন আছে| তাই যাঁরা অ্যানিমিয়ায় ভোগেন তারা রোজ এই ফলটি খেতে পারেন| এছাড়াও, ডুমুরে আছে ২৫ শতাংশ ম্যাগনেশিয়াম| শরীরের ক্লান্তি মেটাতে এর জুড়ি নেই।

পালং শাক
এক কাপ পালং শাকে প্রায় ৩৯ শতাংশ ম্যাগনেশিয়াম থাকে। শীতকালে এই শাক বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, দামও যথেষ্ট কম থাকে। তাই আর দেরি না করে এই শাক বিভিন্ন ভাবে রান্না করে খেয়ে নিন।

সয়াবিন বড়ি বা দানা
এতে আছে ৫০ শতাংশ ম্যাগনেশিয়াম। কমদামি এই পুষ্টিকর খাবার বাড়ির ছোট-বড় সবাই খেতে পারেন। বিভিন্ন পদ্ধতিতে এই বড়ি রান্না করে খাওয়া যায়।

ডার্ক চকলেট
চকলেট কে না ভালবাসে? আর ডার্ক চকলেট হলে তো আর কথাই নিই। অনেকেরই ধারণা চকলেট খেলে ওজন বাড়ে, দাঁত নষ্ট হয়ে যায়। এতে ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ ৫৮ শতাংশ। এই কারণেই অনেক চিকিত্সক দ্রুত ক্লান্তি কাটাতে ডার্ক চকলেট খাওয়ার পরামর্শ দেন।

কাজু

একমুঠো বাদাম শরীরে পুষ্টি বাড়ায়| একমুঠো কাজু শরীরে ২০ শতাংশ ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে| তাই এই বাদাম নানাভাবে খেয়ে দেখতে পারেন।

ব্রাউন রাইস
ঢেঁকি ছাটা মোটা, লালচে ভাতের কথা শুনে অনেকেই নাক কোঁচকাবেন| খুব স্বাদু না হলেও এই চাল অত্যন্ত পুষ্টিকর| এই চাল থেকে কমপক্ষে ২১ শতাংশ ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়। তাই আর নাক না কুচকে এই চাল খান নিয়মিত।

ত্বকের কালো দাগ দূর করুন মাত্র ৩ দিনে

ত্বকের কালো দাগ দূর করুন মাত্র ৩ দিনে বেড়াতে গেলে যেমন রোদে কালো হয়ে যায় আমাদের ত্বক, ঠিক তেমনই প্রতিদিন ঘর থেকে বের হওয়া বা চুলোর ধারে কাজ করার ফলেও ত্বকে জন্মায় কালো কালো ছোপ ছোপ। আস্তে আস্তে আমাদের আসল রঙ ঢাকা পড়ে যায় সেই কালো ছোপের আড়ালে।

কিন্তু জানেন কি, কোন রকমের রাসায়নিক উপাদান ছাড়াই ত্বকের রোদে পোড়া দাগ কিংবা চুলোর ধারে কাজ করার ফলে ত্বকে পড়া কালচে ছোপ দূর করা সম্ভব। আপনার রান্নাঘরে থাকা দুটি মাত্র উপাদান লাগবে এতে। আর সময় লাগবে দৈনিক মাত্র ৩০ মিনিট।
চলুন, জেনে নিই বিস্তারিত পদ্ধতি। হাত, পা, মুখ সহ সমস্ত দেহেই কার্যকরী এই ঘরোয়া রূপচর্চা।

যা লাগবে
পাকা নরম টমেটো ১ টি
অরগানিক খাঁটি মধু ১ টেবিল চামচ
ভিটামিন ই এক্সট্রাক্ট ২/৩ ফোঁটা


যা করবেন
- টমেটো কেটে ভেতরের বীজ সহ অংশটুকুন বা পাল্প বের করে নিন। টমেটো জুস না, পাল্প।
-এবার এই পাল্পের সাথে বাকি দুটি উপাদান মিশিয়ে নিন।
-শরীরের কাঙ্ক্ষিত স্থানে ভালো করে মেখে রাখুন। মাখার আগে ত্বক ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন।
-মাখার পর অপেক্ষা করুন ২০-৩০ মিনিট বা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত।
-শুকিয়ে গেলে স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। খুব বেশি আঠালো মনে হলে হালকা কোন ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। সাবান ব্যবহার করবেন না। সাবানে ক্ষারের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এতে ত্বকের ক্ষতি হয়।

টমেটো হচ্ছে প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট, যা ত্বকের রোদে পোড়া দাগ সহজে দূর করে। টমেটোর পাল্প ভালো কাজ করে যদি এর সাথে যোগ করা হয় শুদ্ধ মধু। এছাড়াও ভিটামিন ই ত্বকের দাগ-ছোপ দূর করে ও ত্বককে টানটান করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র
লিভস্ট্রং, টপ টেন হোম রেমিডিজ

একটু সতর্কতাই রুখতে পারে ব্রঙ্কাইটিস

একটু সতর্কতাই রুখতে পারে ব্রঙ্কাইটিসফুসফুসের এক ধরনের ইনফেকশন ব্রঙ্কাইটিস। ব্রঙ্কাইটিস হলে ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ করার টিস্যুটি (ব্রঙ্কিয়াল ট্রি) ফুলে ওঠে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাসঘটিত তবে ব্যাকটেরিয়া থেকেও এটি হতে পারে। এটি প্রাণঘাতী হয়ে দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন দিন ধরে ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত থাকলে বা বারবার এই রোগ দেখা দিলে শরীরের জন্য তা মারাত্মক ক্ষতিকর।


লক্ষণ
ব্রঙ্কাইটিস প্রথম লক্ষণ হলো কাশি। কফযুক্ত কাশি, কাশতে গেলে বুকে ব্যথা, সঙ্গে জ্বর ইত্যাদি ব্রঙ্কাইটিসের লক্ষণ। মাঝে মাঝে নিঃশ্বাস নিতেও সমস্যা হতে পারে। স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ক্লান্ত লাগে। এছাড়া অনেকের ক্ষেত্রে পা, পায়ের পাতা ও গোড়ালি ফুলতে পারে। মাঝেমধ্যে গলার শিরা চিড়ে গিয়ে রক্তও বের হতে পারে। বুকের ভেতর সাঁই সাঁই শব্দও হতে পারে। এ লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিত্‍সকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। তবে হাঁপানি বা অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে ব্রঙ্কাইটিসের সম্ভাবনাও বেশি। চারপাশের ধূলাবালি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সমস্যা ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

সতর্কতা
হাঁপানির সমস্যা থাকলে অবশ্যই বাড়তি কিছু সতর্কতা নিতে হবে। রুটিন চেক-আপের মধ্যে থাকতে হবে। ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে। বাইরের ধুলাবালি থেকে নিজেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে। ইনফেকশন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ভালো করে হাত ধোয়া উচিৎ। যোগাসনও খুব ভালো উপায়। নিয়মিত প্রাণায়াম ফুসফুসের সমস্যা দূর করে, রক্ত চলাচল বাড়িয়ে তোলে। ব্রঙ্কাইটিস ঠেকাতে গেলে শুধু ওষুধের ওপর ভরসা না করে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করতে হবে।

পিরিয়ডের রং দেখে কী বুঝব?

পিরিয়ডের রং দেখে কী বুঝব? নারীদের জন্য প্রতি মাসে পিরিয়ড হওয়া স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। এই পিরিয়ডের বৈশিষ্ট্য, স্থায়ীত্ব, রং বিভিন্ন জনের বিভিন্ন রকমের হয়। এই রঙের ভিন্নতা কেনো হয় বা রং দেখে কী চিহ্নিত করা যায় তা কী আমরা জানি? অনেক গবেষণাতেই দেখা গেছে পিরিয়ডের রং একজন নারীর শরীরের অনেক অজানা বিষয় সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। 
 
শরীরে কোনো জটিল রোগ বাসা বেধে বসে আছে কিনা তাও নির্ণয় করা যায় রক্তের রং দেখে। তাই তো প্রতিটি মহিলারই পিরিয়ডের রক্তের রং দেখে সে সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। আমরা জেনে নেই কোন ধরণের পিরিয়ডের রং কোন ধরণের সমস্যা নির্দেশ করে।


গাড় লাল ক্লট:
পিরিয়ডের রং যদি গাড় লাল ক্লট হয়, তাহলে বুঝতে হবে আপনার শরীরে প্রজেস্টেরন হরোমনের ক্ষরণ মারাত্মক কমে গেছে। কল্ট ছোট আকারের হলে খুব একটা চিন্তা নেই। কিন্তু বড় কল্ট হলে বুঝতে হবে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য একদমই ঠিক নেই। এমনটা হলে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে।
ক্র্যানবেরির মতো লাল:
এটা একদম পিরিয়ডের যথার্থ অবস্থা। রক্তের রং যদি উজ্জ্বল লাল রঙের হয় তাহলে বুঝতে হবে শরীরে কোনো সমস্যা নেই।

জ্য়ামের মতো যদি রং হয়:
পিরিয়ডের রক্তের রং কিছুটা জ্য়ামের মতো টকটকে লাল হলে এটা শরীরে প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমের ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু ইস্ট্রোজেনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে। রক্তের রং এমন হলে অনেক সময় ইউটেরাইন ফাইব্রয়েডস হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
হালকা লাল:
পিরিয়ডের সময়ে রক্তের রং খুব হালকা হলে বুঝতে হবে এটি অপুষ্টি অথবা অ্যানিমিয়ার লক্ষণ। অবশ্য অন্য অনেক রোগেরও ইঙ্গিত দেয় এই রং।
ধূসর লাল:
কোনও সেক্সচুয়াল ট্রান্সমিটেড অসুখে আক্রান্ত হলে সাধারণত রক্তের রং ধূসর হয়ে যায়। সেই সঙ্গে রক্ত থেকে বাজে গন্ধও বের হয় অনেক সময়।

পানির মতো রং হলে:
রক্তের রং একদম হালকা পানির মতো হলে বুঝতে হবে শরীরে পুষ্টিঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হলে মূলত পিরিয়ডের রং এমন হয়ে থাকে। তাই পর পর ২-৩ বারের বেশি রক্তের রং এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গোলাপী যদি হয়:
হালকা গোলাপী বা ফ্য়াকাশে রক্ত হলে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা খুব কমে গেছে বুঝে নিতে হবে। ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে গেলে অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই খেয়াল রাখতে হবে এই বিষয়ে।
কালো খয়েরি রং:
রক্তের রং কালো খয়েরি হয়ে গেলে বুঝতে হবে শরীরের ইউটেরাইনের লাইনিং বেশ মোটা হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে চিন্তার তেমন কোনো কারণ না থাকলেও সাবধান থাকা উচিত।

এড়িয়ে চলুন ভিটামিন ট্যাবলেট

শরীরকে সুস্থ্য আর সচল রাখতে ভিটামিনের কোনো বিকল্প এড়িয়ে চলুন ভিটামিন ট্যাবলেটনেই। শরীরে পর্যাপ্ত বৃদ্ধি আর যথাযথ গঠন ভিটামিন ছাড়া সম্ভব নয়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে অবশ্যই ভারসাম্যপূর্ণ ভিটামিনের উপস্থিতি রাখতেই হবে। 

তবে অনেকেই ভিটামিনযুক্ত খাবারের পাশাপাশি নানা ধরনের ভিটামিন ট্যাবলেটও খেয়ে থাকেন। কখনো কখনো তা আবার কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই। তারা মনে করেন এত হয়তো শরীর আরও সবল হয়ে উঠবে। কিন্তু এই ধারণা একেবারেই ঠিক নয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ আর প্রেসক্রিপশন ছাড়া কিছু ভিটামিন ট্যাবলেট খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিৎ। যাতে করে নিজের অজান্তে শরীরে কোনো ক্ষতি না হয়। দেখে নিই এমন পাঁচ ধরনের ভিটামিন ট্যাবলেট সম্পর্কে যা হয়ে উঠতে পারে শরীরের জন্য ক্ষতিকর:

ভিটামিন এ:
ভিটামিন এ খুব শক্তিশালী ভিটামিন। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ ও গতিশীল রাখে সবসময়। কিন্তু আমেরিকার জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউশনের গবেষকরা বলছে, যাদের ধূমপানের অভ্যাস রয়েছে তাঁরা নিয়মিত ভিটামিন ট্যাবলেট খেলে ফুসফুস ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এছাড়াও অতিরিক্ত পরিমাণে ভিটামিন এ ট্যাবলেট লিভারের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। তাই ট্যাবলেট না খেয়ে রাঙা আলু, গাজর, ফলমূল খাওয়া অনেক ভালো।


ভিটামিন বি ৬:
ভিটামিন বি ৬ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে চাঙ্গা করে রাখে। কিন্তু এই ভিটামিন মাত্রাতিরিক্ত খেলেই হতে পারে বিপত্তি। যদিকোনো ব্যক্তি দিনে ১০ মিলিগ্রামের বেশি এই ভিটামিন ট্যাবলেট খেলে নার্ভের সমস্যায় ভুগতে পারেন। পাশাপাশি ত্বকের রোগ, বমি বমি ভাব, গ্যাসট্রিক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই ট্যাবলেটে ভরসা না করে মাছ, আলু, পেস্তা বাদাম খেলে আরও উপকার পাওয়া যাবে।

ভিটামিন সি:
ভিটামিন এ-র মতো সি-ও শক্তি বৃদ্ধিকারক। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। কিন্তু ভিটামিন সি ট্যাবলেট নিয়মিত খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ট্যাবলেট না খেয়ে পেঁপে, কমলালেবু, ব্রকলি, টমেটো খাওয়া উচিৎ, এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে।

ভিটামিন ই:
হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় প্রমাণিত, অতিরিক্ত ভিটামিন ই শরীরে মৃত্যুঝুঁকি এনে দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের ট্যাবলেট না খাওয়াই ভালো। ভিটামিন ই এর চাহিদা পূরণ করতে আলমন্ড, পালং শাক, কুমড়ো অনেক কার্যকর।

মাল্টি ভিটামিন:     
মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট মানেই যে সব ভিটামিন একসঙ্গে পাবো আর তাতে শরীর আরও বেশি সুস্থ ও চাঙ্গা হবে- এই ধারণা আসলে ঠিক নয়। এ ধরনের ট্যাবলেট খেলে হার্টের রোগ এবং ক্যানসারের সম্ভাবনা বেশি হয়। মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট না খেয়ে রুটিন মেনে খাওয়া-দাওয়া করলে অনায়াসেই সব ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে। তাই আর ট্যাবলেটের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকা নয়।

জটিল মাথাব্যথা, হতে পারে ফাইব্রোমায়ালজিয়া

জটিল মাথাব্যথা, হতে পারে ফাইব্রোমায়ালজিয়া
কমবেশি মাথাব্যথায় ভোগেন নি, এমন মানুষ খুব কমই আছে। কারও ব্যথা নিয়মিত দীর্ঘস্থায়ী, কারোরটা আবার মাঝেমাঝে ব্যথা হয়। আমরা বেশিরভাগই মাথাব্যথাকে অতটা গুরুত্বের চোখে দেখি না। কিন্তু অনেক ব্যথাই যে কঠিন রোগের উপসর্গ নিয়ে আসতে পারে, সে বিষয়েও জানা থাকতে হবে।

আমাদের যাদের কঠিন এবং জটিল মাথাব্যথা হয়, তারা সাবধান। একটু খোঁজ খবরে নিয়ে জটিল মাথাব্যথার কারণ জেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে।
জটিল মাথাব্যথার পেছনে রয়েছে মাংসপেশীর অস্বাভাবিকতা। একে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ফাইব্রোমায়ালজিয়া। মেরুদণ্ড, কবজি, কনুই,ঘাড়-সহ শরীরে যেকোনো অংশ ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে।

ফাইব্রোমায়ালজিয়াকে টিউমারের একটি প্রাথমিক রূপ বলা যেতে পারে। শরীরের যে অংশে টিস্যু জমে ফাইব্রোমায়ালজিয়া সেখানে অস্ত্রোপচার করলে হয়তো রোগমুক্তি ঘটতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আবার একই জায়গায় বাসা বাঁধে ফাইব্রোমায়ালজিয়া।

আমরা ব্যস্ত জীবনে রোগব্যাধিকে অবহেলা করছি। সেই সুযোগে খুব অল্প সময়েই তীব্র মাথাব্যথা, অবসাদ, নিদ্রাহীনতা, ভুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ আমাদের গ্রাস করছে। তেমনভাবেই ফাইব্রোমায়ালজিয়ার হাত ধরেই এরা একে একে বাসা বাঁধছে মানবশরীরে।

ফাইব্রোমায়ালজিয়ার সূত্রে সবথেকে বেশি স্পর্শকাতর হলো মাথা। কোনো ধরনের মানসিক অবসাদ হলেই মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। গবেষণায় প্রমাণিত যে ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত কোনো অল্প শব্দও সহ্য করতে পারে না। ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান ও পোহাং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে এমন অনেক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি জটিল মাথাব্যথায় ভোগেন। সামান্য শব্দ কানে গেলেই শুরু হয়ে যায় যন্ত্রণা। জটিল মাথা যন্ত্রণা রোগীকে আরও বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। স্বাভাবিকভাবেই রোগী সবসময় তটস্থ হয়ে থাকে, ঘুম কমে যায়,  ধীরে ধীরে অবসাদ ঘিরে ধরে।

রোগ নিয়ে বেশি ভাবনাচিন্তা করতে গিয়ে প্রাত্যহিক জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ রোগীর স্মৃতি থেকে উধাও হয়ে যায়। ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্ত ১০জন মহিলার ওপর গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য এসেছে। এই মহিলাদের প্রত্যেকের মস্তিষ্কই সুস্থ মানুষের মস্তিষ্কের থেকে অনেকবেশি সংবেদনশীল। এই সংবেদনশীলতাই মাথা ব্যথাকে বাড়িয়ে দিয়ে জটিল রোগে পরিণত হয়েছে।

আর তাই কারও মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দিলেই সাবধান। বসে না থেকে খুব তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

ডায়েট: ওজন কমানোয় ভুল ধারণা

 
শরীর ঠিক রাখতে এবং ওজন কমাতে ব্যায়ামের পাশাপাশি জানতে হবে কোনটা কতটুকু খাবেন। ছবি: অধুনা
শরীর ঠিক রাখতে এবং ওজন কমাতে ব্যায়ামের পাশাপাশি জানতে হবে কোনটা কতটুকু খাবেন। ছবি: অধুনাওজন কমাতে গিয়ে কেউ কেউ এমন সব কাজ করেন, যা ওজন তো কমায় না বরং তৈরি করে নানা শারীরিক জটিলতা। ওজন কমাতে জানতে হবে, কোনটা খাবেন, কতটা খাবেন। একবারে খাওয়া বাদ দিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই শরীরের জন্য ভালো নয়।
 
শর্করা বাদ
ওজন কমাতে শর্করা খাওয়া বাদ দিয়ে দিন। ওজন কমাতে গেলে বা সুস্বাস্থ্য পেতে হলে যাওয়া যাবে না কোনো ক্রাশ ডায়েটে যেখানে শর্করা ছাড়া খাবার খেতে বলা হয়। স্বল্পমেয়াদি এসব পরিকল্পনায় তৈরি হবে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা। ওজন কমাতে শর্করা বাদ দিয়ে পরে শর্করা খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিলে তা তৈরি করবে নানা জটিলতা। ফল, সবজি, বাদাম, গম এসব খাবারে যেসব শর্করা আছে, তা আসলেই শরীরের জন্য উপকারী। কমিয়ে দিতে হবে ফাস্ট ফুড, ভাত, পাস্তা—এ ধরনের খাবার খাওয়া।


চর্বি মানেই খারাপ
শরীর সুস্থ থাকার জন্য চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া খুব জরুরি। জলপাইয়ের তেল, অ্যাভোক্যাডো, বাদাম, নারকেলের মাখন, পনির এসব খাবার শরীরকে কাজ করার শক্তি দেবে। চর্বিজাতীয় খাবার বাদ দিয়ে দিলে শরীর ভাঙতে শুরু করবে, চামড়া কুঁচকে যাবে।


সামান্য চিনিই তো
ওজন কমাতে চিনির ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া অনেকেই মেনে নিতে পারেন না। অল্প একটু চিনি, সামান্য একটু পানীয় বা কালো কফি খেতে খারাপ লাগে এসব বলে একটু একটু করে চিনি শরীরে জমা হচ্ছে অনেকটা হয়ে। এতে একদিকে যেমন ওজন বাড়ছে তেমন ক্ষতি হচ্ছে স্বাস্থ্যেরও।


ব্যায়াম করলে একটু খাওয়া যায়
স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য একটু বেশি ব্যায়াম করে তার দোহাই দিয়ে অনেকটা খেয়ে ফেলার অভ্যাস আছে অনেকেরই। ব্যায়াম করলে খুব ক্ষুধা লাগে, এটিও একটি পুরোনো যুক্তি। সারা দিনের প্রয়োজনীয় ক্যালরির থেকে বেশি খরচ না করতে পারলে ওজন কমবে না। ব্যায়াম করেছি বলে যা খুশি খেয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। সে ক্ষেত্রে ভিটামিন সি-যুক্ত ফল খাওয়া যেতে পারে। তাতে ওজন কমবে আরও সহজে।

পপকর্ন বা চিপস
অনেকেই মনে করেন পপকর্ন বা চিপস ইচ্ছেমতো খাওয়া যায়। এতে ওজন বাড়বে না কারণ এতে পেট তো আর ভরছে না। অথচ পপকর্নে থাকা অতিরিক্ত লবণ আর ভাজার সময় ব্যবহার করা ঘি, মাখন বা তেলে ওজন বাড়বে অনেকটাই।

কফির আগে ভাবনা
কফি উচ্চ ক্যালরি ও চিনিতে পরিপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে পরেরবার কফি পান করতে চাইলে বাদাম দুধ এবং দারুচিনি দিয়ে পান করা যেতে পারে। ব্ল্যাক কফি খেতে সমস্যা হলে খেতে পারেন মধু দিয়ে। দিনে কয়েকবার কফি পানের অভ্যাস এড়িয়ে গেলে আপনি সপ্তাহে ১৬০০ ক্যালরির বেশি ওজন কমাতে পারবেন।

Sunday, February 18, 2018

ভোক্তা অধিদফতরে অভিযোগ করবেন যেভাবে

রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকই ভোক্তা। একজন ভোক্তা হিসেবে রয়েছে তার ভোক্তা অধিকার। কিন্তু ভোক্তার অধিকার কি, তা জানে না ভোক্তাই। প্রতারিত হলে কি করতে হবে, কোথায় যেতে হবে তাও ভোক্তাদের অজানা। 

জনগণের অধিকার ভূলুণ্ঠিত হলে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন আর এই জন্য কিছু নিয়মাবলী মেনে আবেদন করতে হবে। সরকার জনগণের দোঁড়গোরায় ডিজিটাল তথ্য সেবা পৌঁছে দিতে তথ্য বাতায়ন নামে একটি সেবা চালু করেছে। এই তথ্য বাতায়নের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই যেকোনো তথ্য পেতে পারেন। আসুন জেনে নিই কীভাবে আবেদন এর নিয়মাবলী মেনে চলবেন।

আবেদন দাখিলের নিয়মাবলি
অনলাইন আবেদনের সময় সতর্কতার সঙ্গে ফরম পূরণের প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করুন এবং প্রেরণ বাটনে ক্লিক করার পূর্বে ভালো করে যাচাই করে নিন। অসতর্কতার জন্য কোন ভুল অথবা অসম্পূর্ণ আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। একটি ধাপে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করুন। পরবর্তী ধাপে প্রবেশের সাথে সাথে পূর্ববর্তী ধাপের পূরণকৃত তথ্যসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে সংরক্ষিত হয়ে যাবে।

১। আবেদন ফরমের লাল তারকা চিহ্নিত ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করুন। অন্যান্য ঘরগুলো পুরণ ঐচ্ছিক।
২। আবেদনের সময় যদি পেমেন্ট/ অর্থ পরিশোধের বিষয় থাকে তাহলে মোবাইল ব্যাংকিং বা ই-চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করুন।
৩। আবেদন ফরমে ছবি (প্রযোজ্য হলে) ও স্বাক্ষর আপলোড করুন এবং যে সব কাগজপত্র আবেদনের সাথে দাখিল করা প্রয়োজন (সাইজ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে ) সেগুলো “সংযুক্ত” অপশনে ক্লিক করে আপলোড করুন।
৪। ‘অফিস বাছাই করুন’ অপশন থেকে আবেদনটি যে অফিসে পাঠাতে চান সেই অফিস নির্বাচন করুন।
৫। এরপর ‘প্রেরণ’ বাটনে ক্লিক করুন। “আপনার আবেদনটি সফলভাবে প্রেরণ করা হয়েছে” মর্মে একটি বার্তা আসবে।
৬। আবেদন প্রেরণের পর আপনি একটি প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাবেন। এটি সংরক্ষণ করুন। পরবর্তীতে “আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা” বাটনে ক্লিক করে এই নম্বরটি দিয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে পারবেন।
৭। আপনি আবেদন প্রেরণ না করা পর্যন্ত আপনার সিস্টেমে তা খসড়া হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে। পরবর্তীতে তা আপনি প্রেরণ করতে পারবেন।
এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পেতে পারেন এই ওয়েবসাইটে http://online.forms.gov.bd/onlineApplications/apply/MTMyLzMzLzI2

শরীরে রক্ত বাড়ায় যেসব খাবার

প্রায় সব বয়সী মানুষ রক্তস্বল্পতায় ভোগেন। রক্তে লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিনের সংখ্যা কমে গেলে রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। এ সময় শরীরে রক্ত বৃদ্ধির জন্য প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

আসুন জেনে নিই শরীরে রক্ত বৃদ্ধিতে যেসব খাবার ভূমিকা রাখে সেই সম্পর্কে-

১) আয়রন সমৃদ্ধ খাবার : শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। হিমোগ্লোবিন তৈরিতে লাল মাংস, ডিম, কচু, কলিজা, আলু সিদ্ধ ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। এসব খাবারে আপনার শরীরে রক্ত বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

২) ফলিক এসিড বা ভিটামিন বি৯ : ভিটামিন বি৯ বা ফলিক এসিড লোহিত রক্ত কণিকা উৎপন্ন করে এবং রক্তসল্পতা প্রতিরোধ করে। শরীরে এগুলোর চাহিদা পূরণে পালং শাক, বাদাম, ডাল, তিলের বীজ সিরিয়াল এগুলো খেতে পারেন।

৩) ভিটামিন বি১২ : ভিটামিন ১২ সমৃদ্ধ খাবার-দাবার লোহিত রক্ত কণিকা উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। মাছ, ডিম, গরুর মাংসের লিভার, দুগ্ধ জাতীয় খাবার এই চাহিদা পূরণ করবে।

৪) সবুজ শাক : সবুজ শাকে রয়েছে আয়রণ, প্রোটিন, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি। এগুলো রক্তের জন্য খুব ভালো। তাই রক্ত ভালো রাখতে সবুজ শাকসবজি প্রত্যেকদিনের খাবারের তালিকায় রাখেন।

৫. ফল : লোহিত রক্ত কণিকা বাড়াতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে কমলা। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই এসব উপকার পেতে নিয়মিত কমলা খান। এছাড়া কলা, আঙ্গুর, গাজর ইত্যাদি আপনার শরীরে রক্ত বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

৬) ভিটামিন ‘সি’ : লেবু, স্ট্রবেরি বা বিভিন্ন টক জাতীয় ফলে ভিটামিন ‘সি’ থাকে। এছাড়া টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ স্বাস্থ্যবিদরা প্রতিদিন একটি করে টমেটো খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ভিটামিন ‘সি’ শরীরে আয়রন শোষণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

আঁচিল দূর করার ঘরোয়া উপায়

আঁচিল এক প্রকার ভাইরাসজনিত সংক্রামণ। এটি মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশে উঠতে দেখা যায়। আঁচিল কিছুটা ফোস্কার মত। মুখের ত্বকে উঠলে এটি খুব বিব্রতকর দেখায়। আঁচিল সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়। উঠলে যেন আর যেতেই চায় না। তাই আঁচিল দূর করার জন্য বিভিন্ন প্রকার ওষুধ খাওয়া হয়। এই ওষুধের পরিবর্তে আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে আঁচিল দূর করতে পারেন।


আঁচিল দূর করার প্রাকৃতিক উপায় একুশে টেলিভিশন অনলাইনে তুলে ধরা হলো-

১) কলার খোসা : কলার খোসার মাধ্যমে আঁচিল দূর করা সম্ভব। খোসার ভিতরের অংশটি বের করে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এখন আঁচিলের উপর লাগিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ুন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কলার খোসায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা আঁচিল দূর করতে সাহায্য করে।

২) টি ট্রি অয়েল : টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে যা ত্বকের যে কোন ইনফেকশন দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে। প্রথমে কিছু তুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার টি ট্রি অয়েলে ভিজিয়ে নিয়ে আঁচিলের উপর লাগান। কয়েক ঘন্টা এভাবে রেখে দিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি দিনে তিনবার ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

৩) রসুন : রসুনের মাধ্যমেও আঁচিল সহজে দূর করা যায়। কয়েকটি রসুনের কোয়া কুচি করে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি ত্বকের আঁচিলের উপর লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণ রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে বেশিক্ষণ রাখবেন না, ক্ষতি হতে পারে।

৪) পেঁয়াজের রস : আঁচিল দূর করতে পেঁয়াজেরও প্রয়োজন রয়েছে। পেঁয়াজ কুচি করে কেটে নিন। পেঁয়াজ কুচি ও আধা চামচ লবণ মিশিয়ে সারাদিন ঢাকনা দিযে রেখে দিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এটি আঁচিলের উপর ব্যবহার করুন। পরদিন সকালে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিরাতে এটি ব্যবহার করুন দেখবেন আঁচিল দ্রুত সেরে গেছে।

৫) অ্যালোভেরা জেল : অ্যালোভেরা ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। আঁচিলের উপর কিছু পরিমাণ অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে ম্যাসেজ করুন। ত্বকে জেল শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এটি দিনে তিনবার ব্যবহার করলেই হবে।

Friday, February 2, 2018

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০১৬

( ২০১৬ সনের
রেলওয়ে সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী গঠন এবং উহার নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও পরিচালনার জন্য বিদ্যমান আইন পরিমার্জনপূর্বক নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন

 
যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন), অতঃপর ‘‘পঞ্চদশ সংশোধনী’’ বলিয়া উল্লিখিত, দ্বারা সংবিধান (পঞ্চম সংশোধন) আইন, ১৯৭৯ (১৯৭৯ সনের ১নং আইন) বিলুপ্তির ফলশ্রুতিতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হইতে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারিকৃত অধ্যাদেশসমূহ, অতঃপর ‘‘উক্ত অধ্যাদেশসমূহ’’ বলিয়া উল্লিখিত, অনুমোদন ও সমর্থন (ratification and confirmation) সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ৩ ক এবং ১৮ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং
যেহেতু সিভিল পিটিশন ফর লীভ টু আপীল নং ১০৪৪-১০৪৫/২০০৯ এ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (পঞ্চম সংশোধন) আইন, ১৯৭৯ (১৯৭৯ সনের ১নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ার ফলশ্রুতিতেও উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং

যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহ ও উহাদের অধীনে প্রণীত বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন ইত্যাদি প্রজাতন্ত্রের কর্মের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন, জনগণের অর্জিত অধিকার সংরক্ষণ এবং বহাল ও অক্ষুণ্ণ রাখিবার নিমিত্ত, জনস্বার্থে, উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা প্রদান আবশ্যক; এবং


যেহেতু দীর্ঘ সময় পূর্বে জারিকৃত উক্ত অধ্যাদেশসমূহ যাচাই-বাছাইপূর্বক যথানিয়মে নূতনভাবে আইন প্রণয়ন করা সময় সাপেক্ষ; এবং

যেহেতু পঞ্চদশ সংশোধনী এবং সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের প্রদত্ত রায়ের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট আইনী শূন্যতা সমাধানকল্পে সংসদ অধিবেশনে না থাকাবস্থায় আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হওয়ায় তিনি ২১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে ২০১৩ সনের ১নং অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করেন; এবং


যেহেতু সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদের নির্দেশনা পূরণকল্পে উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখিবার স্বার্থে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হইতে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জারিকৃত কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকরকরণ (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৬ নং আইন) প্রণীত হইয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া যে সকল অধ্যাদেশ আবশ্যক বিবেচিত হইবে সেইগুলি সকল স্টেক-হোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলা ভাষায় নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত রহিয়াছে; এবং

যেহেতু সরকারের উপরিবর্ণিত সিদ্ধান্তের Railway Nirapatta Bahini Ordinance, 1976 (Ordinance No. XLVII of 1976) এর বিষয়বস্তু বিবেচনাক্রমে উহা পরিমার্জনপূর্বক রেলওয়ে সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী গঠন এবং উহার নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও পরিচালনার জন্য নূতনভাবে আইন প্রণয়ন সমীচীন ও প্রয়োজন;

সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :
   



 
সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন  
১। (১) এই আইন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০১৬ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
   

   



 
সংজ্ঞা  
২। (১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) ‘‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা’’ অর্থ ধারা ৫ এর অধীন নিযুক্ত বাহিনীর চীফ কমান্ড্যান্ট, কমান্ড্যান্ট এবং সহকারী কমান্ড্যান্ট পদবীর যে কোনো কর্মকর্তা;

(২)‘‘চীফ কমান্ড্যান্ট’’ অর্থ বাহিনীর চীফ কমান্ড্যান্ট;

(৩)‘‘বাহিনী’’ অর্থ ধারা ৪ এর অধীন গঠিত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী;

(৪)‘‘বাহিনীর সদস্য’’ অর্থ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্যতীত ধারা ৬ এ উল্লিখিত বাহিনীতে নিযুক্ত যে কোনো ব্যক্তি;

(৫)‘‘বিধিমালা’’ অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধিমালা;

(৬) ‘‘রেলওয়ে সম্পত্তি’’ অর্থ রেলওয়ে প্রশাসনের মালিকানাধীন বা জিম্মায় বা অধিকারে যে কোনো মালামাল, অর্থ, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা প্রাণী।

(২) এই আইনে ব্যবহৃত যে সকল শব্দ বা অভিব্যক্তির সংজ্ঞা দেওয়া হয় নাই, সেই সকল শব্দ বা অভিব্যক্তি Railway Act, 1890 (Act No. IX of 1890) এ যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে প্রযোজ্য হইবে।
   

   



 
আইনের প্রাধান্য  
৩। আপাততঃ বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
   

   



 
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গঠন  
৪। (১) Railway Nirapatta Bahini Ordinance, 1976 (Ordinance No. XLVII of 1976) এর অধীন গঠিত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী এমনভাবে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন গঠিত হইয়াছে।

(২) নির্ধারিত সংখ্যক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাহিনীর সদস্য সমন্বয়ে বাহিনী গঠিত হইবে।

(৩) রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২ অনুসারে শৃঙ্খলা-বাহিনী যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে একটি শৃঙ্খলা-বাহিনী হইবে।
   

   



 
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়োগ  
৫। সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি এবং শর্তাধীনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়োগ করিবে।
   

   



 
বাহিনীর সদস্যদের শ্রেণী ও পদমর্যাদা  
৬। বাহিনীর সদস্যদের পদমর্যাদা নিম্নবর্ণিত শ্রেণী এবং ক্রমানুসারে হইবে, যথা:-

(ক) কর্মকর্তার শ্রেণী -

(১) চীফ ইন্সপেক্টর;

(২) ইন্সপেক্টর;

(৩) সাব-ইন্সপেক্টর; এবং

(৪) সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর;

(খ) অন্যান্য পদমর্যাদার শ্রেণী -

(১) হাবিলদার;

(২) নায়েক; এবং

(৩) সিপাহী।
   

   



 
বাহিনীর সদস্য নিয়োগ  
৭। (১) চীফ কমান্ড্যান্ট, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি এবং শর্তে, বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করিবেন :

তবে শর্ত থাকে যে, চীফ কমান্ড্যান্ট কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এই ধারার অধীন বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করিতে পারিবেন।

(২) নিয়োগ প্রাপ্তির পর বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য এই আইনের তফসিল মোতাবেক চাকুরিতে নিযুক্তির সনদ পাইবেন এবং কোনো কারণে তাহার নাম বাহিনীর সদস্য বা বাহিনী হইতে বাদ দেওয়া হইলে, উক্ত সনদ বাতিল হইয়া যাইবে।
   

   



 
বাহিনীর তত্ত্বাবধান এবং প্রশাসন  
৮। (১) বাহিনীর তত্ত্বাবধান সরকারের উপর ন্যস্ত থাকিবে।

(২) বাহিনীর প্রশাসন চীফ কমান্ড্যান্টের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং তিনি এই আইন এবং বিধি অনুযায়ী, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক এর তত্ত্বাবধানে, কার্য সম্পাদন করিবেন।

(৩) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই আইনের অধীন প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাহিনীর সদস্যদের উপর ক্ষমতা প্রয়োগ এবং কর্তৃত্ব করিবেন।
   

   



 
বাহিনীর সদস্যের শাস্তি  
৯। (১) বাহিনীর কোনো সদস্য অবাধ্য, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসদাচরণ, দুর্নীতি, কর্তব্যে অবহেলা বা শিথিলতা বা অন্য কোনো কার্যের দ্বারা নিজেকে কর্তব্য পালনে অযোগ্য প্রতিপন্ন করিবার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হইলে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, কারণ উল্লেখপূর্বক, নিম্নবর্ণিত যে কোনো এক বা একাধিক শাস্তি প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:

(ক) বরখাস্ত;

(খ) অপসারণ;

(গ) বাধ্যতামূলক অবসর;

(ঘ) পদাবনমিত;

(ঙ) পদোন্নতি স্থগিতকরণ;

(চ) অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসরের জন্য জ্যেষ্ঠতা স্থগিতকরণ;

(ছ) অনূর্ধ্ব ১ (এক) মাসের বেতন ও ভাতাদি বাজেয়াপ্তকরণ;

(জ) বেতন বৃদ্ধি স্থগিতকরণ;

(ঝ) অনূর্ধ্ব ১ (এক) মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা;

(ঞ) অনূর্ধ্ব ১৪ (চৌদ্দ) দিনের কোয়ার্টার গার্ডে আটক রাখাসহবা ব্যতীত ড্রিল (Drill), এক্সট্রা গার্ড (Extra Guard), ফ্যাটিগ (Fatigue) বা অন্য ডিউটি প্রদান; বা

(ট) তিরস্কার।

(২) উপ-ধারা (১) অনুসারে বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণকালে তদন্ত করিবার প্রয়োজন হইলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাহাকে সাময়িক বরখাস্ত করিতে পারিবেন এবং সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তাহার চাকুরির সনদ অকার্যকর থাকিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে-

(ক) চীফ কমান্ড্যান্ট কর্তৃক আদেশ প্রদত্ত হইয়া থাকিলে, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ; এবং

(খ) কমান্ড্যান্ট বা সহকারী কমান্ড্যান্ট কর্তৃক আদেশ প্রদত্ত হইয়া থাকিলে, চীফ কমান্ড্যান্ট এর নিকট;

আপিল করা যাইবে।

(৪) এই ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আদালতের নিকট প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
   

   



 
রেলওয়ে কর্মচারী বলিয়া গণ্য  
১০। এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাহিনীর সদস্য Railway Act, 1890 (Act No. IX of 1890) এর অধ্যায় VIA ব্যতীত অন্য সকল অর্থে রেলওয়ে কর্মচারী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং রেলওয়ে কর্মচারীদের জন্য প্রদত্ত সুবিধাদির অধিকারী হইবেন এবং রেলওয়ে কর্মচারীদের ন্যায় ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।
   

   



 
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাহিনীর সদস্যদের কর্তব্য  
১১। প্রত্যেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাহিনীর সদস্যের দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা:

(ক) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইনসঙ্গতভাবে প্রদত্ত সকল আদেশ অবিলম্বে প্রতিপালন করা;

(খ) রেলওয়ে সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা প্রদান এবং রক্ষা করা;

(গ) রেলওয়ে চলাচলে যে কোনো বাধা দূর করা;

(ঘ) রেলওয়ে যাত্রী এবং যাত্রী এলাকার অধিকতর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে রেলওয়ে পুলিশকে সহায়তা প্রদান করা;

(ঙ) Railway Act, 1890 (Act No. IX of 1890) এর বিধান অনুযায়ী রেলওয়ে কর্মচারীর উপর অর্পিত দায়িত্ব, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, পালন করা;

(চ) রেলওয়ে এলাকায় আইন শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য, ক্ষেত্রমত, আইন প্রয়োগকারী শৃঙ্খলা বাহিনী, সংস্থা এবং প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা; এবং

(ছ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, অর্পিত বা নির্দেশিত দায়িত্ব পালন করা।

ব্যাখ্যা। দফা (ঘ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে-

(ক) ‘‘যাত্রী’’ অর্থে বৈধ টিকেট বা পাশ দ্বারা ট্রেনে ভ্রমণকারী ব্যক্তি; এবং

(খ) ‘‘যাত্রী এলাকা’’ অর্থ রেলওয়ে স্টেশন, প্লাটফরম, ইয়ার্ড ও ট্রেন এবং যাত্রী সাধারণ কর্তৃক বহুল ব্যবহৃত হয় এমন এলাকাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
   

   



 
পরোয়ানা ব্যতীত তল্লাশি, গ্রেফতার, ইত্যাদি করিবার ক্ষমতা  
১২। (১) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা বাহিনীর সদস্য, ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বা পরোয়ানা ব্যতীত, নিম্নবর্ণিত কারণে যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিতে পারিবেন, যদি-

(ক) রেলওয়ে সম্পত্তির বিষয়ে ৬ (ছয়) মাসের ঊর্ধ্বে কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোনো অপরাধের সহিত উক্ত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা থাকে বা রহিয়াছে বলিয়া যুক্তিসঙ্গতসন্দেহ হয়; বা

(খ) যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, রেলওয়ে সম্পত্তি চুরি বা ক্ষতিসাধন ও অপরাধ সংঘটন করিবার উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যক্তি রেলওয়ে সীমানার মধ্যে আত্মগোপন করিবার প্রস্তুতি গ্রহণ করিতেছিল।

(২) যদি কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা হাবিলদার পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কোনো বাহিনীর সদস্যের বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, কোন ব্যক্তি কর্তৃক উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোনো অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বা হইতেছে এবং তল্লাশি পরোয়ানা সংগ্রহ করিবার প্রয়োজনীয় সময়ের মধ্যে অপরাধী পলায়ন করিতে পারে বা অপরাধের আলামত নষ্ট করিতে পারে, তাহা হইলে তিনি, ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বা পরোয়ানা ব্যতীত, তাহাকে আটক এবং তৎক্ষণাৎ তাহার দেহ ও তাহার দখলে থাকা মালামাল তল্লাশি করিতে পারিবেন এবং উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিতে পারিবেন।

(৩) এই ধারার অধীন তল্লাশি বা গ্রেফতারের ক্ষেত্রে, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
   

   



 
গ্রেফতার পরবর্তী কার্যক্রম  
১৩। কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা বাহিনীর সদস্য ধারা ১২ এর অধীন কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিলে, উক্ত গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে যথাশীঘ্র সম্ভব কোনো পুলিশ কর্মকর্তার নিকট বা, পুলিশ কর্মকর্তা না থাকিলে, নিকটতম থানায় হাজির করিবেন।
   

   



 
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বাহিনীর সদস্যগণের কর্তব্য পালন  
১৪। (১) প্রত্যেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাহিনীর সদস্য, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে সার্বক্ষণিক কর্তব্যরত বলিয়া গণ্য হইবেন এবং যে কোনো সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের যে কোনো অংশে দায়িত্ব পালনে বাধ্য থাকিবেন।

(২) কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা বাহিনীর সদস্য এই আইনের অধীন নির্ধারিত দায়িত্ব, ক্ষমতা ও কর্তব্য ব্যতীত অন্য কোনো কার্যে নিজেকে নিযুক্ত করিতে পারিবেন না।
   

   



 
অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন  
১৫। সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশ ও আরোপিত শর্ত সাপেক্ষে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাহিনীর সদস্যগণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ বহন ও অস্ত্রসহ কর্তব্য পালন করিতে পারিবেন।
   

   



 
বাক-স্বাধীনতা, সংগঠন প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, ইত্যাদি সম্পর্কিত সীমাবদ্ধতা  
১৬। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাহিনীর সদস্যগণ

(ক) অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনোট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক ইউনিয়ন, রাজনৈতিক সংগঠন বা শ্রেণিভুক্ত ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করিতে অথবা উহার সদস্য বা কর্মকর্তা হইতে পারিবেন না, বা উহার সহিত কোনো প্রকারের সংশ্রব রাখিতে পারিবেন না;

(খ) কোনো ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সংবাদপত্র বা কোনো প্রকার প্রকাশনায় কোনো সংবাদ, পুস্তক, চিঠি বা অন্য কোনো প্রকার দলিল প্রকাশ বা প্রকাশে সহযোগিতা করিবেন না বা প্রকাশ করিবার কারণ হইবেন না; বা

(গ) কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে গঠিত সংগঠনের কোনো মিছিল, সমাবেশ বা সভায় অংশগ্রহণ বা বক্তব্য প্রদান করিবেন না বা অন্যের দ্বারা করাইবার উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন না :

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার বা চীফ কমান্ড্যান্ট বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পূর্বানুমোদন গ্রহণ সাপেক্ষে পেশা সংক্রান্ত দক্ষতা বৃদ্ধি বা বাহিনীর স্বার্থে পেশাজীবী সংঘ বা সংগঠনের সদস্য হইতে এবং উপ-ধারা (খ) এ বর্ণিত কার্য করিতে পারিবেন।
   

   



 
দণ্ড  
১৭। ধারা ৯ এ বর্ণিত বিধানের সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, বাহিনীর কোনো সদস্য যদি

(ক) প্রহরাবস্থায় কোনো চৌকি, ইউনিট বা পোস্ট বা প্রহরাস্থল বিনা অনুমতিতে পরিত্যাগ করেন বা উক্ত কার্য করিতে বাহিনীর অন্য কোন সদস্যকে বাধ্য বা প্ররোচনা করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(খ) ধারা ১২ এর অধীন দায়িত্ব পালন না করেন বা অপরাধীদের সহায়তা করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন ;

(গ) তাহার অস্ত্র, গোলাবারুদ, যন্ত্রপাতি, সাজ-সরঞ্জাম, পোশাক-পরিচ্ছদ বা অন্য কোনো সামগ্রী, যাহা সরকারি বা বাহিনীর সম্পত্তি অথবা রেলওয়ে সম্পত্তি, ইচ্ছাকৃতভাবে বিনষ্ট করেন বা হারাইয়া ফেলেন বা পরিত্যাগ করেন বা অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন ;

(ঘ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করেন বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতি অপরাধজনক বল প্রয়োগ ও হুমকি প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন ;

(ঙ) দফা (ক), (খ), (গ) ও (ঘ) এ উল্লিখিত অপরাধ ব্যতীত অন্য কোন অপরাধ করেন, তাহা হইলে, তিনি দেশে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দণ্ডিত হইবেন।

ব্যাখ্যা। দফা (ক) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে-

(ক) ‘‘ইউনিট বা পোস্ট’’ অর্থ বাহিনীর সদস্য সমন্বয়ে গঠিত কোনো ইউনিট বা পোস্ট; এবং

(খ) ‘‘চৌকি’’ অর্থ রেলওয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর কোনো ইউনিট বা পোস্ট যে স্থান হইতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, তদন্ত ও অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
   

   



 
অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ  
১৮। চীফ কমান্ড্যান্ট বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ ব্যতীত কোনো আদালত এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না।
   

   



 
আমলযোগ্যতা  
১৯। এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধ আমলযোগ্য (cognizable) হইবে।
   

   



 
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সীমাবদ্ধতা  
২০। অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা বাহিনীর সদস্য কর্তৃক, এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত বা সংঘটনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হইলে উক্ত উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে উক্ত অপরাধ সংঘটিত হইবার ৩ (তিন) মাসের মধ্যে কোনো দেওয়ানী বা ফৌজদারী কার্যক্রম দায়ের করিতে হইবে এবং কোনো দেওয়ানী বা ফৌজদারী কার্যক্রম দায়েরের অন্যূন ১ (এক) মাস পূর্বে এতদসংক্রান্ত লিখিত নোটিশ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা বাহিনীর সদস্য এবং তাহার নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে প্রদান করিতে হইবে।
   

   



 
সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ  
২১। এই আইনের অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোনো কাজকর্মের ফলে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।
   

   



 
বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা  
২২। এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে।
   

   



 
রহিতকরণ ও হেফাজত  
২৩। (১) এই আইন কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে Railway Nirapatta Bahini Ordinance, 1976 ( Ordinance No. XLVII of 1976) রহিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত Ordinance এর অধীন-

(ক) কৃত কোনো কাজ, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা চলমান কোন কার্যক্রম এই আইনের অধীন কৃত, গৃহীত বা চলমান বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) গঠিত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সদস্য বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বাহিনীর সদস্য হিসাবে গণ্য হইবেন এবং এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে তাহারা যে শর্তে চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন সেই সকল শর্তে নিযুক্ত থাকিবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাহাদের চাকুরির শর্তাবলী পরিবর্তিত হয়;

(গ) গঠিত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সকল অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তি বাহিনীর নিকট তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং অর্পিত হইবে;

(ঘ) প্রণীত বিধি, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে;

(ঙ) দায়েরকৃত কোনো মামলা বা কার্যধারা কোনো আদালতের নিকট চলমান থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উক্ত Ordinance রহিত হয় নাই; এবং

(চ) বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় কার্যধারা চলমান থাকিলে উহা এমনভাবে নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন উক্ত Ordinance রহিত হয় নাই।
২ নং আইন ( ২০১৬ সনের ২ নং আইন ))( ২০১৬ সনের ২ নং আইন )

রেলওয়ে আইন, ১৮৯০

 
ধারা অপরাধের বিবরন শাস্তিরধারা শাস্তির বিবরন
৬০ ভাড়ার হাড় নির্ধারণে অবহেলা ৯৯ ২০(বিশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  মাতাল অবস্থায় দায়িত্ব পালন করা ১০০ ৫০(পঞ্চাশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  কোন ব্যক্তির নিরাপত্তা বিপন্ন করা ১০১ ২ (দুই) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড
 কিংবা জরিমানা অথবা উভ্য় প্রকারের দণ্ডে দণ্ডিত হবে
  পরিপূর্ণ কামরায় যাত্রী উঠানো ১০২ ২০(বিশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা
৮৩,৮৪ দূর্ঘটনার নোটিশ প্রদান না করা ১০৩ ৫০(পঞ্চাশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  লেভেল ক্রসিং-এ ১০৪ ২০(বিশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা
প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি করা
  মিথ্যা রিটার্ন দাখিল করা ১০৫ ৫০০(পাঁচ) শত টাকা জরিমানা বা ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড
 কিংবা উভয় প্রকারের দণ্ডে দণ্ডিত হবে
  মালামালের মিথ্যা বিবরন দাখিল করা ১০৬ প্রতি মনের বা এর কোন অংশের জন্য ১০ (দশ) টাকা হারে জরিমানা
  বেআইনিভাবে বিপদজনক ও অপরাধজনক দ্রব্য রেলপথে বহন করা ১০৭ ৫০০ (পাঁচ শত) টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং ক্ষয় ক্ষতির জন্যও দায়ী থাকবে
  অকারনে রেলগাড়ির মধ্যে ১০৮ সর্বনিম্ম ১০০(পাঁচ) শত টাকা সর্বোচ্চ ২৫০ (দুই শত পঞ্চাশ) টাকা জরিমানা বা ১ (এক) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
যোগাযোগ ব্যবস্থার বিঘ্ন সৃস্টি করা  কিংবা উভয় প্রকারের দণ্ডে দণ্ডিত হবে
  অনির্ধারিত স্থানে রেলগাড়ি থেকে অবতরণ করা ১০৮-ক ৫০(পঞ্চাশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  যাত্রী পরিপূর্ণ কোন রিজার্ভ কারমায় আরোহন এনং অপরিপূর্ণ কামরায় আরোহণে বাধা প্রদান করা ১০৯ ২০(বিশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  গাড়ির কামরায় ধূমপান করার শাস্তি ১১০  
  সর্বসাধারনের জন্য দেয়া নোটিশ বিকৃত করা ১১১ ৫০(পঞ্চাশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  অবৈধ পাশ বা টিকেট  ব্যতীত প্রতারনাপূর্বক রেল ভ্রমন ১১২ দেয় ভাড়ার অতিরিক্ত ১০০(এক) শত টাকা জরিমানা বা ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা উভয় প্রকারের দণ্ডে দণ্ডিত হবে
  পাশ বা টিকেট ব্যতীত রেল ভ্রমন ১১৩  
  পাশ বা টিকেট পরিবর্তন অথবা অস্পষ্ট বা বিকৃতকরন   ৫০(পঞ্চাশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  রিটার্ন টিকেটের অধিকাংশ হস্থান্তরের শাস্তি ১১৪ সর্বোচ্চ ২৫০ (দুই শত পঞ্চাশ) টাকা জরিমানা বা ১ (এক) মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
 কিংবা উভয় প্রকারের দণ্ডে দণ্ডিত হবে
  সংক্রামক বা ব্যধিগ্রস্ত ব্যাক্তির রেলভ্রমন/ অনুমতি প্রদান ১১৭ টিকেট ফেরত ও ২০ টাকা জরিমানা/ ১০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  চলতি গাড়িতে উঠানামা বা অসংগতভাবে রেলভ্রমন ১১৮ ৫০(পঞ্চাশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত কামরায় আরোহন ১১৯ ১০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  লাইসেন্স ব্যতীত রেলগাড়িতে ক্যানভাস করা ১২০-ক ২৫০ (দুই শত পঞ্চাশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হবে
  রেল কর্মচারিকে তার কর্তব্য পালনে বাধা প্রদান ১২১ ১০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  রেল গাড়িতে অনধিকার প্রবেশ ১২২ ২০(বিশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা/ নামতে অস্বীকার করলে
 ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা জরিমানা এবং নামিয়ে দেয়া হবে
  বাস চালক কর্তৃক রেল কর্মচারীর নির্দেশ অমান্যকরন ১২৩ ২০(বিশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  রেলক্রসিং এর গেট খোলা এবং ঠিকমত বন্ধ না করা ১২৪ ৫০(পঞ্চাশ) টাকা পর্যন্ত জরিমানা
  গবাদিপশুর অনধিকার প্রবেশ ১২৫ গবাদিপশু অনধিকার প্রবেশ আইন, ১৮৭১ অনুযায়ী
  দূরভিসন্ধিমূলকভাবে কোন রেলগাড়ি ধ্বংস করা অথবা ধ্বংস করার চেষ্টা করা ১২৬ যাবজ্জীবন বা ১০ (দশ) বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড
  দূরভিসন্ধিমূলকভাবে রেলযাত্রীকে আঘাত করা ১২৭ যাবজ্জীবন বা ১০ (দশ) বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড
  ইচ্ছাকৃত কার্যের দ্বারা রেলযাত্রীর নিরাপত্তা ব্যহত করা ১২৮ ২ (দুই) বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড
  বেপরোয়া ও অবহেলামূলক কার্যের দ্বারা রেলযাত্রীর নিরাপত্তা বিপন্ন করা ১২৯ ১ (এক) বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড

http://www.mahid24.com/laws/%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8-%E0%A7%A7%E0%A7%AE%E0%A7%AF%E0%A7%A6/