Tuesday, August 28, 2012

রাস্তা সংস্কার কাজের স্থায়িত্ব মূল্যায়ন করেনা ডিসিসি


এম এ বাবর:
ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) আওতায় প্রতি বছর রাস্তা সংস্কার খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও এগুলো মূল্যায়ন কমিটি নেই।


ডিসিসির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নাম মাত্র সংস্কার কাজ করেই ভুয়া বিল জমা দিয়ে বরাদ্দের টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নবগঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় মোট রাস্তা রয়েছে ৮৪৩ দশমিক ৪৯২ কিলোমিটার। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় মোট রাস্তা রয়েছে ৯৯৪ দশমিক ৬৯৩ কিলোমিটার।

সরজমিনে দেখা যায়, এসব রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অতিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হলেও ডিসিসির আওতাধীন নগরীর এক তৃতীয়াংশ রাস্তাও ভাল নেই। প্রায় সকল রাস্তাই ভাঙ্গা ও খানাখন্দে ভরা।
বর্তমান (২০১১-২০১২) অর্থ বছরসহ বিলুপ্ত ডিসিসির তিন অর্থ বছরে রাস্তা, ফুটপাত ও সারফেজ ড্রেন সংস্কার বাবদ ব্যয় হয়েছে ৬৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অথচ অনেক ওয়ার্ডের প্রতিটি রাস্তাই ভাঙ্গাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে নগরীর বেশীর ভাগ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরে।

এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী এনামুল হকের মতে, রাস্তাগুলো খুব নিæ মানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়। এছাড়া পিচ ও বিটুমিন সঠিক পরিমানে দেয়া হয়না। সর্বোপরি পুরুত্বও দেয়া হয় কম।  যার ফলে সংস্কার বা তৈরির পরে সামান্য পানি জমা অবস্থায় যানবাহন চলাচল করলে রাস্তা ভাঙ্গতে থাকে।

সরেজমিন নগরীর কিছু রাস্তার চিত্র:

  ডিসিসি বিগত ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে মাত্র ৫০ কিলোমিটার রাস্তা, ফুটপাত ও মিডিয়ন মেরামতে ব্যয় করেছে ২২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সে হিসাবে প্রতি কিলোমিটারের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪কোটি টাকা। অথচ রাস্তাগুলো সংস্কারের কিছুদিন পরেই ভাঙ্গতে শুরু করেছে।
বিলুপ্ত ডিসিসির অঞ্চল-১ এর  সায়েদাবাদ, টিকাটুলী, মানিকনগর, গেন্ডারিয়া এলাকায় ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে ২২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬২টি গ্রæপের রাস্তার কাজ করা হয়। কিন্তু এলাকায় একটি রাস্তাও ভাল নেই। এ অঞ্চলের সব রাস্তাই খানখন্দে ভরা। 

এমন অবস্থা দেখা গেছে অঞ্চল-২ এর বংশাল, সদরঘাটসহ পুরানো ঢাকার রাস্তাগুলোতে। অঞ্চল-৩ এর লালবাগ, হাজারীবাগ, জিগাতলা এলাকার রাস্তায়। অঞ্চল- ৪ এর মতিঝিল খিলগাঁও, রামপুরা এলাকায় এবং অঞ্চল-৫ এর নগরভবন থেকে শুরু করে মৌচাক, সিদ্ধে¯^রী, বাংলামোটর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার রাস্তাগুলোতে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঠিকাদারদের রাস্তার কাজ দেয়ার সময় একটি মান নির্ধারন  করে দেয়া হয়। কিন্তু মান যাচাইয়ের জন্য ডিসিসির কোন মূল্যায়ান কমিটি নেই। তবে কোন রাস্তা সংস্কারের পরে ৬ মাস বা ১ বছরের মধ্যে ভাঙ্গলে তা ওই ঠিকাদারের মাধ্যমে মেরামত করানো হয়। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ঠিকাদারের জামানত কেটে রাখা হয়। তবে নগরীর রাস্তাগুলো মানসম্পন্ন ও টেকসই করতে বাজেট বরাদ্দ আরো বাড়ানো উচিত বলে তিনি অভিমত দেন।