Monday, August 13, 2012

গাড়ি ছাড়া বাড়ি ফেরা!!!!!!

       গাড়ি ছাড়া বাড়ি ফেরা!!!!!!
      দীপংকর গৌতম:



ঈদের আর বেশি দেরি নেই। রাজধানীতে সাজসাজ রব পড়ে গেছে আরো ক’দিন আগে থেকেই। একবছর অপে¶ায় থাকার পর আবার মানুষ ছুটছে নাড়ির টানে, গ্রামের পথে। নিজ গ্রাম। ছায়া-সুনিবিড় জনপদ।  থরে থরে স্মৃতি ভর করে থাকা গ্রামে ফেরা। এর চেয়ে ভাল লাগার আর কি থাকতে পারে।
যে যেভাবে পারছে গ্রামে ফেরার যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছে। সোঁদা মাটির গন্ধে ভরা আউশ ধানের ¶েতের পাশ দিয়ে তাকে হাঁটতেই হবে। এ দাবি তার আজšে§র। শুধু  দুটো দিন। খেলার সাথী, পাশের বাড়ির লোকজন। বাজারের পুরনো চায়ের দোকানি সবার সঙ্গে চলবে গল্প, আড্ডা, স্মৃতিচারণ। স্ত্রী-সš—ান সবাইকে নিজের বাস্তুভিটা, স্মৃতিভরা স্কুল-কলেজ, বন্ধু-বান্ধব সবার সঙ্গে পরিচয় করানোর মধ্যে কত ভালো লাগা। তা কে বুঝবে? এসবের জন্যই মূলত মানুষ বাস্তুভিটার উদ্দেশে ছোটে। রাজধানীতে ইতিমধ্যে ছোটাছুটি শুর“ হয়ে গেছে। যাদের গাড়ি আছে তারা গাড়িতে করে বাড়ি যাচ্ছে। যাদের গাড়ি নেই কিন্তু টাকা আছে তারা রেন্ট-এ কারের গাড়ি ভাড়া করে বাড়ি যাচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে তাদের যাদের গাড়িও নেই আবার গাড়ি ভাড়া করার টাকাও নেই। তাদের ঘরে ফেরার মাধ্যম গণপরিবহন। কিন্তু এ¶েত্রে দেখা যায় প্রতিবছরের চিত্রই এক।

 ছবি : রুপম ভট্টাচার্জ্য


পরিবহনের টিকিট যেন সবার কাছে সোনার হরিণ  হয়ে ওঠে। অনিশ্চয়তা দেখা দেয় ¯^জনদের সান্নিধ্য প্রত্যাশী অনেকের। গতকাল কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপে¶া করছে ঘরমুখী মানুষ। কিন্তু ১৮-১৯ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও আসন পাওয়া যাবে কিনা এ নিশ্চয়তা দিতে পারছে না কেউ। গত তিনদিন ধরে দেখা গেছে টিকিট ছাড়ার ২-৩ ঘণ্টার মধ্যেই কাউন্টার থেকে মাইকিং করে বলা হচ্ছে টিকিট নেই। তাতে হতাশ হয়ে ফিরছেন বেশির ভাগ লোকজনই। একই অবস্থা সড়ক ও নদী পথে। বিশেষত নদী পথে যে অবস্থা প্রতিবছর ঘটে এবারো তার আশঙ্কা করা হচ্ছে।



কারণ অধিকাংশ যাত্রীবাহী লঞ্চ ও বিভিন্ন র“টের কোচের ফিটনেস নেই। ফলে আÍীয়¯^জনের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়াটাও ঝুঁকি হয়ে পড়েছে। তার পরে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের ঝক্কি তো রয়েছেই। যদিও যোগাযোগ ও রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন যে, ‘টিকিট নিয়ে কালোবাজারি এবং রেল কর্মকর্তাদের কোনোরকম দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না।’ কিন্তু  তারপরেও ট্রেনে স্টেশনে দূর্ভোগ আক্রাš— যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে।
বাসে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। দূরপাল­ার বাসে ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখের বাসের টিকিট আর মিলছে না। কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে, টিকিট বিক্রি শেষ; তবে কালোবাজারে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। লঞ্চও এবার উপচে পড়বে । বেশী ভাড়া নেয়া হবে । যাত্রী বোঝাই হবে ধারন ¶মতার অনেক বেশী । তারপর যা হবার তাই হবে । যে যাই বলুক সেই পরানো পথচিত্র বদলাবে না । এ কথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সামিউলের । ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে তিনি একটি তথ্যচিত্র নির্মানের অভিজ্ঞতা থেকে পরিবহন সংকট সংক্রাš— কথাগুলো বলেন । তার কথামতো,এই হলো বাড়ি ফেরার প্রকৃত চিত্র।


 যাদের সামর্থ্য আছে তারা এখানেও এগিয়ে। সমস্যায় শুধু সেইসব মানুষ যাদের টাকাও নেই, গাড়িও নেই। আছে শুধু এক কঠিন টান। এই টান মাটি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। বন্ধ-বান্ধব, বাবা-মার সাথে দুটো দিন কাটানো, খাবার আদান-প্রদান। ঈদের জামাতে একসঙ্গে নামাজ পড়া, এইতো... । কিন্তু শংকাহীনভাবে ঈদ করা বা ঈদ শেষে ঘরে ফেরা যাবেতো? এ প্রশ্ন করতে নিজ গাড়ি নিয়ে নওগায় ঈদ করতে যাওয়া ডাঃ ফজলুর রহমান বলেন, পথের নিশ্চয়তা কে দেবে? আমি বাড়ি পর্যš— পৌঁছাবো কিনা বা পৌঁছালেও ফিরবো কিনা তার ন্যুনতম নিশ্চয়তার সড়ক ব্যবস্থা এখনও দেশে নেই ।

No comments: