এম এ বাবর : ১৫
রমজান থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ঈদের জিনিসপত্র কেনা-বেচার ধুম পরে
গেছে। আর এবারের বেচা-কেনায় ব্যবসায়ীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।ব্যবসায়ীরা
দাবি করছেন জিনিসপত্রের দাম সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। এদিকে
ক্রেতার বলছেন অন্যান্য বছরে তুলনায় এ বছর জিনিসপত্রের দাম অনেকটা বেশি। গতকাল মৌচাক মার্কেটের ক্রেতা কামর“ল ইসলাম জানান, ‘পরিবারের জন্য ঈদের বাজার করতে লাকসাম (কুমিলা) থেকে ঢাকায় আসছি। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম খুব বেশি। বিক্রেতা যে দাম হাঁকছেন, তার বিপরিতে দামই বলতে বিবেকে বাধে। বাচ্চার জন্য গত বছর ঈদে যে ধরনের ড্রেস কিনেছি ১২’শ টাকায়, এ বছর সে ধরনের ড্রেসের দাম হাঁকছেন তিন হাজার টাকা। আর এই অবস্থা সব ধরনের জিনিসপত্রে। তাই নির্ধারিত বাজেটে এবার ঈদের মার্কেট হবে না।’
এমন কথা বলছিলেন, গুলিস্থান হকার্স মার্কেটের ক্রেতা সামছুল হক। তিনি জানান, ‘দশ রোজা থেকে মার্কেটে-মার্কেটে ঘুরতাছি। কিন্তু ঈদের পোশাক-আশাক এখনো অনেক কিছুই কেনা হয় নাই। পরিবারের জন্য এবার ঈদের বাজেট গত বছরের চাইতে অনেক কম। আর মার্কেটের জিনিসপত্রের দাম আগের চাইতে দেড়গুণ-দ্বিগুণ হইয়া গেছে। কিনবো কেমনে, কন?’
সামছুল হক দোকানে একটি শার্ট হাতে নিয়ে বলেন, ‘এই জামার দাম চাইতাছে ১২০০ টাকা। অথচ গত ঈদে এই মার্কেট দিয়াই এই ধরনের শার্ট কিনছি সাড়ে ৭০০ টাকায়। আর মার্কেটের সব দোকানদার সিন্ডিকেট কইরা একই দাম চায়। তাইলে কন, কেনাকাটা কেমনে করমু।’
ওই দোকানেরই সেলসম্যান (বিক্রেতা) রুবেল খান বলেন, ‘এ বছর এই শার্ট আমরা ৭০০ টাকার বেশি দিয়াই কিনা আনছি। দোকান আর অন্যান্য খরচ দিয়া প্রায় ৮০০ টাকা পড়ছে। তাই ৯০০ টকার নীচে বেচলে পোশাইব না। আর নয়’শ-এক হাজার টাকায়ই বেচতাছি।’
এদিকে ক্রেতারা জিনিসপত্রের দাম বেশির কারণে কিনতে হিমশিম খাওয়ার অভিযোগ করলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১৫ রোজার পর থেকেই তাদের ব্যবসা জমে গেছে। আর জমজমাট ব্যবসার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় মার্কেটগুলোতেও।
রামপুরা শপিং মলের থান কাপড় ব্যাবসায়ি আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘মাশওয়ালাহ্ বেচা-বিক্রি অনেক ভাল।’ তিনি জানান থান ও গজ কাপরের দাম সামান্য বাড়লেও ক্রেতারা কিনছেন।
মধ্য বাড্ডা লুৎফন শপিং কম্পেলেক্সের ক্রেতা ফারজানা ইয়াসমিন জানান, দেশি কসমেটিকস সামগ্রীর দাম নাগালের মধ্যে হলেও বিদেশি কসমেটিকস সামগ্রীর দাম অনেক বেশি।
ফারজানা বলেন, ‘তিন দিন ধরে মৌচাক, আনারকলি আর হল্যান্ড সেন্টার (উত্তর বাড্ডা) ঘুরে আজ এখানে আসছি। কিন্তু সিটি গোল্ডের গয়না আর বিদেশি কসমেটিকসের দাম সব জায়গায় বেশি। তবে ঈদ বলেতো কথা, কিনতেতো হবেই।’
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির মাহাসচিব এস এ কাদের কিরণ জানান, ব্যবসায়ীদের কোন সিন্ডিকেট নেই। ডলারের দাম বাড়ায় বিদেশ থেকে জিনিসপত্র আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম একটু বেশি। তাবে সাধারণে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে বলেই বেচা-কেনা ভাল হচ্ছে।


No comments:
Post a Comment