Friday, August 17, 2012

বিভক্ত ডিসিসির নাগরিক সেবার মান কমে যাচ্ছে

এম এ বাবর:
নাগরিকসেবার মান বাড়ানোর অজুহাতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) বিভক্ত করেছে সরকার। কিন্তু বিভক্ত ডিসিসির সেবার মান আগের তুলনায় কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

                                           ছবি: রাশেদুজ্জামান

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ডিসিসির সেবার মান নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত নগরীর বিভিন্ন রাস্তাঘাটের বেহাল দশার সংবাদ দেখে সম্প্রতি তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে তার কার্যালয়ে ডেকে
অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দ্র“ত এসব সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি।

অন্যদিকে নগর বিশেষজ্ঞরা বিভক্ত ডিসিসির কার্যক্রম ভেঙে পড়ার অভিযোগ করেছেন।
রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টারের (রিক) ঢাকা আরবান গভার্ন্যান্স কর্মসূচির প্রধান এসএমএ মুয়িদ বলেছেন, ‘সরকার ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দুই ভাগ করে নাগরিক সেবার মান কমিয়েছে। আর জনপ্রতিনিধি না থাকায় অঞ্চলভিত্তিক কার্যক্রমও পিছিয়ে পড়েছে।’
নগর গবেষক অধ্যাপক নজর“ল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত করা সরকারের মহাভুল।’

কোনো দেশের রাজধানী বিভক্ত হলে নাগরিক সেবার মান কমে যায় উলে­খ করে তিনি বলেন, ‘এতে কিছু লোকের প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমš^য়ের অভাব দেখা দেয়। আর বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ¶েত্রেও তা-ই হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভক্ত ডিসিসির সীমানা জটিলতা এখনো কাটেনি। এতে দুই সিটি কর্পোরেশনের বর্ডার এলাকায় নাগরিক সুবিধা অনেকটা কমে গেছে। 

প্রশাসক নিয়োগের বিধান রেখে গত বছরের ২৯ নভেম্বর ডিসিসিকে দু’ভাগ করতে ‘স্থানীয় সরকার, সিটি কর্পোরেশন সংশোধন বিল-২০১১ সংসদে পাস হয়। পহেলা ডিসেম্বর’১১ থেকে বিভক্ত ডিসিসির ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা দ¶িণ সিটি কপোরেশন (ডিএনসিসি) হিসেবে কাজ শুর“ হয়। 
                                        ছবি: বিপ্লব দিক্ষিত
সরেজমিন দেখা গেছে, দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান অফিসের আশপাশেই ময়লা-আবর্জনার ¯—‚প, ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল ও ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখল হয়ে গেছে। ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান বন্ধ হয়ে গেছে। সড়ক ও ড্রেন সংস্কার কাজ চলছে ঢিমে তালে।
ঢাকা দ¶িণ সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনের দ¶িণ পাশেই ফুলবাড়িয়া থেকে বিআরটিসি বাস কাউন্টার পর্যš— রা¯—াটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে রয়েছে। এছাড়া বঙ্গবাজার, গুলি¯—ান, বংশাল, ছিদ্দিক বাজার, নাজিরা বাজার, আরামবাগ, ফকিরাপুল, খিলগাঁও, গোড়ান, যাত্রাবাড়ী, শাšি—নগর, মালিবাগ, রামপুরা ও মগবাজারসহ সব এলাকাতে ময়লা-আবর্জনার ¯—‚প। পুরো এলাকাই যেন এক ডাস্টবিন। সড়কগুলো ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের উপরে দুই-চার দিন পানি জমে থাকে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকারও একই অবস্থা। সেবামূলক কাজগুলো হচ্ছে না বললেই চলে। বর্তমানে এ কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের কাজকর্ম দেশের অভিজাত এলাকা গুলশানে।
এ কর্পোরেশনের আওতায় গুলশান-১, ২ বাড়িধারা ও বনানী এলাকায় রয়েছে, বিভিন্ন দূতাবাসের অফিস, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গুর“ত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আবাসিক ব্যবস্থা।
এ এলাকার রা¯—াগুলো ময়লা-আবর্জনায় একাকার থাকে। নগর ভবনের আশপাশের এলাকার প্রতিটি রা¯—ার ফুটপাত অবৈধ দখলে। রা¯—া দখল করে রয়েছে যেখানে সেখান গাড়ি পার্কিং।

গুলশান ১-এর গোলচত্বরে নাভানা টাওয়ারের পেছনের রা¯—ায় ময়লা-আবর্জনায় একাকার। ১৩৫ থেকে ১৪০ নম্বর রা¯—া ময়লা-আবর্জনায় একাকার। ১৩৮ নম্বর রা¯—ায় দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকা অফিসের আশপাশে ময়লা-আবর্জনার ¯—‚প হয়ে আছে দীর্ঘদিন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসসির একজন কর্মকর্তা বলেন, উভয় সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে কোনো সমš^য় নেই। অনেক কর্মকর্তার নির্দেশ তাদের অধীন¯—রা আমলে নেয় না। শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক ¶মতার প্রভাব দেখিয়ে যা ইচ্ছে তা করে যাচ্ছে। এ কারণে সার্বিকভাবে ডিসিসির ¯^াভাবিক কাজকর্ম ঝিমিয়ে পড়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জিল­ার রহমান জানান, আমরা যথারীতি সেবামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে জনবল সংকট থাকার কারণে আশানুরূপ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। খুব তাড়াতাড়ি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
কয়েকবার চেষ্টা করেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে এ কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা বলেন, আমাদের কাজে আš—রিকতার কমতি নেই। নতুন একটি প্রতিষ্ঠান হলে তা গুছিয়ে নিতেই এক-দেড় বছর লেগে যায়। তাই গোছানো হয়ে গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

No comments: