Sunday, December 29, 2013

ভেজাল খাদ্যের অনাচারে অতিষ্ঠ মানুষ: প্রশ্নবিদ্ধ বিএসটিআই !!

এম এ বাবর 
অব্যাহত ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্যমিশ্রিত খাদ্যের অনাচারে অতিষ্ঠ দেশের মানুষ। আর খাদ্যমান রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)। দেশে উৎপাদিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সংস্থার নিজস্ব পরীক্ষাগার থাকলেও এর কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে নানা ধরনের অভিযোগ। এদিকে বিএসটিআই অনুমোদিত দেশে উৎপাদিত পণ্য দেশীয় বিভিন্ন ল্যাব ও বিদেশের ল্যাবে পরীক্ষায় ভেজাল ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে সংস্থাটি। 
দেশে নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ (দ্য পিওর ফুড অর্ডিন্যান্স-১৯৫৯ সদ্য বাতিল) বিদ্যমান থাকলেও নেই তার বাস্তবায়ন। ওই আইনে জীবননাশক বা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক বা ভারি ধাতু বা বিষাক্ত দ্রব্যমিশ্রিত কোনো খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, আমদানি, প্রস্তুত, মজুদ, বিতরণ ও বিক্রি করলে অনূর্ধ্ব সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এছাড়া পুনরায় অপরাধ করলে সাত বছর থেকে অনূর্ধ্ব ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এমনকি অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে নিষিদ্ধ করা করা যেতে পারে। কিন্তু খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণে বিএসটিআই’র কঠোর কোনো কার্যক্রম নেই। মাঝেমধ্যে নামমাত্র ভেজালবিরোধী অভিযান করেই দায়সারা ভূমিকা পালন করছে সংস্থাটি। লাইসেন্স দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যমানও তদারকি করা হয় না। ফলে দেশের বাজারে ভেজাল ও মানহীন পণ্য অতিমাত্রায় বেড়েছে। আর বিএসটিআই’র ল্যাবে পরীক্ষিত ও অনুমোদিত বেশ কিছু পণ্য অন্য পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে তাতে ভেজাল ও মানবদেহেরে জন্য ক্ষতিকারক পদার্থের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। 
Photo: http://manobkantha.com/2013/12/24/152428.html
 
ফার্মফ্রেশ দুধ ও দই: গত জুন মাসে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ উৎপাদিত ফার্মফ্রেশ পাস্তুরিত দুধ ও দই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। এতে পাস্তুরিত তরল দুধে বিভিন্ন অপরিহার্য উপাদান যথাযথ মাত্রায় নেই। ডিসিসি বারবার রাসায়নিক টেস্ট করলেও এর শুদ্ধতার প্রমাণ মেলেনি। বরং তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি বলে ল্যাবরেটরি টেস্ট প্রমাণিত হয়। পরে ডিসিসির বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের বিরুদ্ধে ভেজাল ফার্মফ্রেশ দুধ ও দই উৎপাদন ও বিপণনের অভিযোগে দুটি মামলা করেন ডিসিসির খাদ্য পরিদর্শক ফখরুদ্দীন মোবারক।

ফ্রেশ সয়াবিন তেল: বোতলজাত সয়াবিন তেলে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার অভিযোগে গত ৪ মার্চ তেল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রেস’র বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা দায়ের করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। দায়ের করা মামলায় ফ্রেশ তেল রিফাইনারি প্রতিষ্ঠান তানভির অয়েল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল এবং ওই তেল বিক্রয়কারী আগোরা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের একজন ব্যবস্থাপক শেখ ওয়াহিদ হাসানকে আসামি করা হয়।


এনার্জি ড্রিংক: সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বাজার থেকে সংগৃহীত ‘এনার্জি ড্রিংক’ হিসেবে পরিচিত সাত ধরনের পানীয় সংগ্রহ করে নিজস্ব পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে। অধিদফতরের পরীক্ষায় ভিগো-বি, ম্যান পাওয়ার (স্বচ্ছ তরল), ম্যান পাওয়ার (অস্বচ্ছ তরল), হর্স ফিলিংস, রয়েল টাইগার, ব্ল্যাক হর্স ও স্পিড নামের সাতটি পানীয়তে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পায়। পানীয়গুলোর মধ্যে প্রথম চারটিতে ‘অপিয়াম উদ্ভূত অপিয়েট’ ও ‘সিলডেনাফিল সাইট্রেট’ নামের রাসায়নিক দ্রব্য পাওয়া গেছে। এ দুটি দ্রব্য ‘ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-১৯৮২’ অনুযায়ী নিষিদ্ধ। পরের তিনটি পণ্যে পাওয়া গেছে উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন, যা বিএসটিআই অনুমোদিত পণ্যের চার-পাঁচগুণ বেশি ক্যাফেইন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে এসব উপাদান ভোক্তাদের আসক্তি বৃদ্ধি, যৌনশক্তি হ্রাস ও হৃদেরাগের কারণ হতে পারে।


প্রাণ হলুদ, আচার ও সস: সম্প্রতি প্রাণের কাঁচা আম ও জুসে ফরমালিনের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। কানাডায় রফতানি করা পণ্য ভাইরাসের কারণে ফেরত আসার ঘটনা ঘটেছে। এ সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিবেদন গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা দি ইন্টারন্যাশনাল ফুড সেফটি অথরিটিস নেটওয়ার্ক (আইএনএফওএসএএন)। এছাড়া গত ২৮ মে কাঁচা আমে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ফরমালিন মেশাতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত হন প্রাণের দুই কর্মকর্তা। এছাড়া প্রাণ টমেটো সসে ভেজাল ধরা পড়ায় গত বছর দুটি মামলা হয়েছে উৎপাদনকারী সংস্থা প্রাণ এগ্রো কোম্পানির বিরুদ্ধে। বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলাটি করেছেন ডিএসসিসির ফুড অ্যান্ড স্যানিটেশন ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান। সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রাণের গুঁড়ো হলুদে মাত্রাতিরিক্ত সিসার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর বাংলাদেশের বাজার থেকে সংগ্রহ করা প্রাণের গুঁড়া হলুদ পরীক্ষা করে বিএসটিআই ৪০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) থেকে ৫৮ পিপিএম মাত্রায় সিসা পায়, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এরপর গত মাসে প্রাণের প্যাকেটজাত গুঁড়া হলুদের লাইসেন্স বাতিল করে বিএসটিআই। 

 
বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) তাহের জামিল বলেন, দেশের লোকাল মার্কেটে মানসম্পন্ন পণ্য বাজারজাত করার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লাইসেন্স দেয় বিএসটিআই। সে ক্ষেত্রে সংস্থার প্রচলিত নিয়মে ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে সেখানকার অবস্থা দেখে পণ্যের মান-সংক্রান্ত যেসব বিষয় বলা আছে তা দেখে ওই পণ্য সিলড করা হয়। এরপর ওই পণ্য বিএসটিআই’র নিজস্ব ল্যাবে কেমিক্যাল টেস্ট বা আরো যেসব টেস্ট করার দরকার তা করেই গুণগত মান সঠিক থাকলেই লাইসেন্স দেয়া হয়। এরপর লাইসেন্স অনুযায়ীই ওই পণ্য বিএসটিআইর অনুমোদিত নিয়মে উৎপাদন ও বাজারজাত করতে হবে। আর পণ্য মান ঠিক আছে কিনা তা যাচাই জন্য সংস্থার পরিদর্শন টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় বিএসটিআই’র নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট নেই। ফলে মাঠপর্যায়ে আদালত পরিচালনায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হয়। তাই মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিএসটিআই’র সক্ষমতা বাড়াতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ ও নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া এ কাজ সম্ভব নয়।
http://manobkantha.com/2013/12/24/152428.html

ছুটির দিনেও রাজধানীতে তীব্র যানজট

এমএ বাবর 
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের চতুর্থ দফায় ৭২ ঘণ্টার অবরোধ শেষে গতকাল শুক্রবার রাজধানী ফিরে যায় আগের চেহারায়। ছুটির দিন হলেও অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় সকাল থেকেই রাস্তায় ছিল কর্মমুখী মানুষের ঢল। গণপরিবহনে ছিল প্রচণ্ড ভিড়। আর স্থবির জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও আজ শনিবার থেকে আবার ৮৩ ঘণ্টার অবরোধ ঘিরে জনমনে ছিল তীব্র আতঙ্ক।  ধারাবাহিক অবরোধ কর্মসূচিতে গোটা দেশে প্রায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্কুল-কলেজসহ প্রয়োজনীয় সব নাগরিক কাজ থমকে আছে। তাই প্রয়োজনীয় কাজ সারতে ছুটির দিনই সবার ভরসা। অনেকে আবার জরুরি কেনাকাটা করতে সপরিবারে বের হয়েছেন। কিন্তু এই স্বস্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তীব্র যানজট। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পণ্যবাহী ট্রাকও অনবরত ঢাকায় আসতে শুরু করে, আবার ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রওনা হয়। এতে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মহাসড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। 
 
গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনও সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা ছিল। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথারীতি পরীক্ষাও হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা, অফিস এবং শপিং মলসহ বিভিন্ন মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি প্রত্যেকেরই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ সেরে দ্রুত ঘরে ফেরার তাড়া লক্ষ্য করা গেছে। পুরনো ঢাকার ব্যবসায়িক এলাকা চকবাজার পাইকারি মার্কেটেও সকাল থেকে ভিড় দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, অবরোধের সময় বিক্রি ছিল মন্দা। প্রতিদিন দোকান খুললেও তেমন কোনো ক্রেতা ছিল না। গতকাল দোকান খুলতে না খুলতেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে।

এদিকে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকেও প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। গ্রাহকরা দীর্ঘক্ষণ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে লেনদেন করেছেন। বিরোধীদলীয় জোটের এভাবে ধারাবাহিক অবরোধ কর্মসূচি অপরাজনীতি চর্চা মন্তব্য করে রামপুরা ও প্রগতি সরণি এলাকার কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, হরতাল-অবরোধ-সহিংসতার আতঙ্কের কারণে কর্মদিবসে অনেক গ্রাহক ব্যাংকে আসেননি। আর বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক লেনদেনও ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু আজ (শুক্রবার) ব্যাংক খোলা থাকায় গ্রাহকদের প্রচণ্ড ভিড় হয়েছে
http://manobkantha.com/2013/12/21/151966.html

ডায়াবেটিসে মিষ্টি নিয়ে ভুল ধারণা

বেশি মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয় এ ধারণাটি পুরোপুরি ঠিক নয়।

টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার জন্য কিছু ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’ আছে। এগুলোর মধ্যে আছে বয়স ৪৫ বছরের বেশি হওয়া, শরীর বেশি মোটা, পরিবারে বাবা, মা, ভাই কিংবা বোনের কারও ডায়াবেটিস থাকা, শারীরিক পরিশ্রম, হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম কম করা, রক্তে এইচডিএলের মাত্রা ৩৫-এর কম আর ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ২৫০-এর বেশি থাকা, রক্তচাপ ১৪০/৯০ মিমি পারদের বেশি থাকা, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হওয়া, বেশি ওজনের বাচ্চা প্রসবের ইতিহাস থাকা, খালি পেটে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১১০-১২৫ মিলিগ্রাম (৬.১ মিলিমোল থেকে ৬.৯ মিলিমোল/লিটার) এবং ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১৪০-১৯৯ মিলিগ্রাম (৭.৮ মিলিমোল থেকে ১১ মিলিমোল/লিটার) হওয়া অর্থাৎ ‘প্রি-ডায়াবেটিক’ হওয়া।


তবে একসঙ্গে বেশি মিষ্টি খেলে হঠাৎ করেই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি হয়ে যায়। এটা একটা সমস্যা। তা ছাড়া মিষ্টি খেয়ে খেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করে ঠিকমতো হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম না করলে সে ক্যালোরি শরীরে জমা হয়ে শরীর মোটা হয়।


ডায়াবেটিস হলে মিষ্টি খাওয়া যায় না। মিষ্টি শর্করাজাতীয় খাবার। শরীরে ক্যালোরির চাহিদা হিসাব করে বেশি নয়, সামান্য কিছু তো খাওয়া যাবে। ডায়াবেটিস হলে শুধু মিষ্টি কেন, সব খাবারই হতে হবে স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিমিত। পরিবারে কারও ডায়াবেটিস না থাকলেও অন্য কোনো রিস্ক ফ্যাক্টর উপস্থিত থাকলে ডায়াবেটিস হতে পারে।

ওষুধ খেলে বা ইনজেকশন নিলেও খাবার হতে হবে পরিমিত এবং সুষম। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খাবারে থাকতে হবে নিয়ন্ত্রণ, জীবনে থাকতে হবে শৃঙ্খলা আর প্রয়োজনে গ্রহণ করতে হবে ওষুধ।

উন্নয়ন ব্যয়ের নামে ডিসিসির ২৩৩৫ কোটি টাকা লোপাট!

এম এ বাবর 
মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার (গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী) নির্মাণ প্রকল্পের উন্নয়ন ব্যয় দেখিয়ে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) দুই হাজার তিনশ’ ৩৫ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। অথচ এ ফ্লাইওভারটির নির্মাণ চুক্তি অনুযায়ী ডিসিসির কোনো ধরনের উন্নয়ন ব্যয় নেই। অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাশালী রাজনৈতিক ও আমলা চক্র এ ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন ব্যয়ের নামে গত পাঁচ অর্থবছরে উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ লোপাট করেছে। এদিকে এ বিপুল পরিমাণ অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে তার উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য-প্রমাণও নেই সংস্থার কাছে। 
 
মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২২ জুন মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগে নির্মিত প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ফ্লাইওভারের সংশোধিত ব্যয় ধরা হয় দুই হাজার ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বিল্ড ওন অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার (বিওওটি) পদ্ধতিতে এ প্রকল্পে পরামর্শক ব্যয় ছাড়া সিটি কর্পোরেশনের আর কোনো বিনিয়োগ নেই। কিন্তু ফ্লাইওভার নির্মাণে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ২০০৯-১০ অর্থবছরে ব্যয় দেখায় ১শ’ কোটি ও ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩৩৫ কোটি টাকা। আর বিভক্ত হওয়ার পর ডিএসসিসি ২০১১-১২ অর্থবছরে এ প্রকল্পে ব্যয় দেখায় ৭শ’ কোটি ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৬শ’ কোটি টাকা। আর ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬শ’ কোটি টাকা।  

Photo: http://manobkantha.com/2013/12/20/151826.html
http://www.emanobkantha.com/2013/12/20/এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনছার আলী খান জানান, প্রকল্পে ডিএসসিসির উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যয় নেই। শুধু পরামর্শক খাতে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছর পর্যন্ত এক হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘এটা আসলে ব্যয় নয়, এমনিতেই দেখানো হয়েছে। এ অর্থ কোথায় গেছে বা কেন দেখানো হয়েছে, সে বিষয়টি আমার জানা নেই।’ এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে তিনি ডিএসসিসির প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ ওমর ফারুক এ বিষয়ে বলেন, প্রকল্পের তিন স্তরের পরামর্শক খাতে এ পর্যন্ত সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে প্রতিবছর যে ব্যয় দেখানো হচ্ছে তার সঠিক কোনো হিসাব নেই। প্রকৃতপক্ষে সংস্থার এ ধরনের কোনো ব্যয় হয়নি।
প্রতিবছর কেন এ ব্যয় দেখানো হয়েছে বা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২৪ বছর পর এ ফ্লাইওভারটি সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি হবে। তাই এ খাতে প্রতিবছর ব্যয় দেখানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনারা প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’
প্রকল্প পরিচালক ও ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আশিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ফ্লাইওভার নির্মাণে সিটি কর্পোরেশন বা সরকারের এক টাকাও ব্যয় হয়নি। সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগে ফ্লাইওভারটি নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে এ সংক্রান্ত কোনো বিলও তিনি পরিশোধ করেননি। তাহলে এক হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা কিভাবে ব্যয় হলো জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক গ্রহণযোগ্য কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার প্রকল্পের তথ্যানুযায়ী, ফ্লাইওভারের মূল সুপার স্ট্রাকচার ও র‌্যাম্প নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৮১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অন্যান্য ব্যয়ের মধ্যে সড়ক নির্মাণে ২১৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, টোল প্লাজা, টোল ব্যবস্থা ও লাইটিং খাতে ১০৫ কোটি ৩৭ লাখ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে ১৪৮ কোটি ৭৯ লাখ, পরিবেশগত প্রশমন (মিটিগেশন) খাতে ৫৫ কোটি ৮০ লাখ, ট্রাফিক ডাইভারশনে ২০ কোটি ও পরিষেবা সংযোগ লাইন স্থানান্তরে ২৪ কোটি টাকা। এ ব্যয়ের পুরোটাই বহন করছে ওরিয়ন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেলহাসা-একম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট লিমিটেড।
এ প্রসঙ্গে ওরিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপক (সরবরাহ) চৌধুরী খালেদ মাসুদ বলেন, প্রকল্প ব্যয় পুরোটাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বহন করছে। প্রাথমিকভাবে পরিষেবা সংযোগ লাইন স্থানান্তরের ব্যয় সিটি কর্পোরেশনের দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না পাওয়ায় এ ব্যয়ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করছে। সিটি কর্পোরেশন বাজেটে কেন প্রতিবছর এ প্রকল্পে ব্যয় দেখাচ্ছে সে বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে কোনো তথ্য নেই।
উল্লেখ্য, ফ্লাইওভারটি নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের পর ২০১০ সালের জুলাইয়ে ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিমপ্লেক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে বেলহাসা-একম। ফ্লাইওভারটি নির্মাণে সিমপ্লেক্সকে ৭৮৮ কোটি ৯০ হাজার ৩৮১ টাকা প্রদান করবে বেলহাসা-একম। যদিও তার আগেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বেলহাসা-একম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট সরকারের কাছ থেকে ১ হাজার ৩৩২ কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদন করিয়ে নেয়। অর্থাৎ শুরুতেই বাড়তি ব্যয় দেখানো আছে প্রায় ৫৪৫ কোটি টাকা। পরে নির্মাণসামগ্রী ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে এ ব্যয় ৭৭৬ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ১০৮ কোটি টাকা করা হয়।

আমি কাছ থেকে সাদ্দামকে ফাঁসিতে ঝুলতে দেখেছি

saddam1ap.jpgহ্যালোটুডে ডটকম ডেস্ক: মাওয়াফফাক আল রুবাই ইরাকের একজন প্রখ্যাত কুটনীতিজ্ঞ এবং নাগরিক অধিকারকর্মী। ইরাকি গভর্নিং কাউন্সিলের ২৫ সদস্যের একজন ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে যখন সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়, তখন সরাসরি তিনি দেখেছিলেন তা। এবং এই ‘কর্মযজ্ঞের’ একজনও ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ফাঁসির আগ মুহুর্ত পর্যন্ত অনমনীয় ছিলেন সাদ্দাম।রুবাই বলেন, সাদ্দাম ক্রিমিনাল হতে পারেন, ঘাতক হতে পারেন, কসাই হতে পারেন। কিন্তু তিনি ভঙ্গুর ছিলেন না সেটা ফাঁসির মঞ্চে তাকে দেখে বুঝেছি। তিনি বলেন, ‘আমি সাদ্দামকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাবার জন্য গ্রহণ করি। আমাদের সাথে আর কেউ ছিল না। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কিংবা অন্য দেশের কোনো মানুষ উপস্থিত ছিলেন না। ফাঁসিতে নেয়ার দিন সাদ্দাম একটি জ্যাকেট এবং সাদা শার্ট পরে ছিলেন। তাকে বিন্দুমাত্র ভীত কিংবা বিচলিত দেখাচ্ছিল না। অনেককে বলতে শুনেছি, সাদ্দামকে টেনে হিঁচড়ে ফাঁসিমঞ্চে নিয়ে যেতে হয়েছিল। কিন্তু আমি বলব সেসব মিথ্যা কথা। তিনি মোটেও প্রতিরোধ করেননি। আর যিনি একটু পরে মারা যাবেন তিনি সাধারণত সৃষ্টিকর্তার নাম করতে থাকেন। তার কাছে জীবনের সমস্ত কৃতকর্মের জন্য ক্ষমাভিক্ষা করেন। কিন্তু সাদ্দামকে বিড়বিড় করেও কিছু বলতে শুনিনি। পুরো সময়টাতেই ছিলেন নির্বাক।
১৯৮২ সালে ১৪৮ জন শিয়াকে গ্যাস হামলায় হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে তার মৃত্যুদন্ড দেয় আদালত। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়।
এএফপিকে রুবাই বলেন, আমি যখন তাকে নিয়ে আসি তখন তার হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। হাতে ধরা ছিল পবিত্র কোরআন। আমি তাকে বিচারকের রুমে নিয়ে গেলাম, সেখানে বিচারক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং সাজা পড়ে শোনান। সব শুনে তিনি উচ্চারণ করলেন, ‘আমেরিকা নিপাত যাক। ইসরায়েলের পতন হোক, ফিলিস্তিন দীর্ঘজীবী হোক।’
এরপর আমি তাকে ফাঁসির কক্ষে নিয়ে যাই। রুমে ঢুকেই সাদ্দাম দাঁড়িয়ে পড়লেন। তিনি ফাঁসির দঁড়িটা উপর থেকে দেখতে দেখতে নিচের দিকে চোখ রাখলেন। এরপর তিনি আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখলেন।
যখন তার গলায় ফাঁসির রশি পরানো হয় তখনও তার দুই পা এবং দুই হাত বাধা ছিল। ফাঁসির লিভার টানার আগ মুহুর্তে কয়েকজন শ্লোগান দিয়ে ওঠে ‘ইমাম মোহাম্মদ বকর আল-সদর দীর্ঘজীবী হোন’ বলে। উল্লেখ্য, সাদ্দামের শাসনামলে তার প্রতিদ্বন্দ্বি এবং ক্ষমতাধর শিয়া ব্যক্তিত্ব ইমাম মোহাম্মদ বকর আল-সদরকে হত্যা করা হয়েছিল।
শ্লোগান শুনে সাদ্দাম বিরক্ত হলে বলেন, এটা কোন ধরনের বীরত্ব প্রদর্শন? এরপর রুবাই ফাঁসির লিভার ধরে টান দেন। কিন্তু সেটা কাজ করল না। এরপর রুবাইকে সরিয়ে আরেকজন সেটা ধরে টান দিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে দেখেন। এবার ঝুঁলে পড়েন সাদ্দাম।
মৃত্যু নিশ্চিত হবার পর রুবাই মৃতদেহটি তুলে আনেন। এরপর একটি সাদা ব্যাগে ভরে সেটি একটি স্ট্রেচারে রাখেন। এরপর মৃতদেহটি একটি মার্কিন হেলিকপ্টারে করে বাগদাদের উপর দিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকির বাড়িতে। সাদ্দামের লাশ দেখে তিনি সবার উদ্দেশে বললেন, আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। এই ঘটনা তার জীবনের অনন্য এক অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেছেন রুবাই।
http://www.hello-today.com/57004#.UsAOz_s7vFw

Saturday, December 28, 2013

রেড মিট কেন কম খাবেন


গবেষকগণ দেখেছেন দৈনিক শুধু একবার যারা লাল মাংস আহার করেন তাদের হূদরোগে মৃত্যুঝুঁকি ১৬ ভাগ বেশি এবং ক্যান্সারে মৃত্যু ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ ভাগ বেশি। গবেষণায় আরও বলা হয়, রেডমিট প্রেমীদের সামগ্রীকভাবে অকাল মৃত্যুর হার শতকরা ১২ ভাগ বেশি। আর মৃত্যু ঝুঁকি প্রক্রিয়াজাত রেডমিটে আরও বেশি।
ড: উইলেট গবেষণায় আরও উল্লেখ করেছেন যারা নিয়মিত রেডমিট আহার করেন তাদের মধ্যে ধূমপান, মদ্যপানসহ নানা অভ্যাস গড়ে উঠে। এতে হূদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ড: ওয়াল্টার উইলেট-এর গবেষণা তথ্যটি সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ পেয়েছে। শিকাগো সান টাইমস এর প্রতিবেদক ন্যান্সি হেলমিক তার 'রেডমিট লিংকড টু প্রিম্যাসিউর ডেথ' শিরনামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন অপ্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন: হ্যামবার্গ, পর্ক, বিফ, ল্যাম্ব এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস বেকন, হটডগস ইত্যাদি এসব বেশি আহারে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। এসব খাবারের পরিবর্তে মাছ, পোল্ট্রি, বাদাম এবং সিম জাতীয় সবজি খাওয়া ভালো। এছাড়া রেডমিট ভোজীদের ডায়াবেটিস ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকির কথাও বলা হয়।
গবেষণার প্রধান অথার হারভার্ড পাবলিক স্কুলের গবেষক অ্যানপ্যান মনে করেন, মাংসভোজীরা যদি তাদের খাদ্য তালিকায় লাল মাংসের পরিবর্তে মাত্র সপ্তাহে এক বেলা মাছ অন্তর্ভুক্ত করেন তবে অকাল মৃত্যুর হার ৭ ভাগ কমতে পারে। প্রক্রিয়াজাত মাংসের ক্ষেত্রে হূদরোগ, ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সম্পর্কে অ্যানপ্যান মনে করেন এতে সোডিয়াম ও নাইট্রেটের কারণে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে তিনি এটাও বলেন, লাল মাংস আহারেই যে অকাল মৃত্যু ঘটবে এর যথেষ্ট প্রমাণ ও তথ্যাদি তারা পাননি। তবে ঝুঁকি বাড়ে এটা যথাযথ।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির বিশেষজ্ঞ মার্জি ম্যাককুলাউ মনে করেন, লাল মাংস আহার হূদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে এবং এমন কোন ম্যাজিক পরামর্শ নেই যে আপনি নিরাপদে লাল মাংস আহার করতে পারেন। লাল মাংস প্রেমীদের হতাশ না করে তিনি উল্লেখ করেন সপ্তাহে একদিন পরিমাণ মত লাল মাংস খাওয়া যেতে পারে। এতে বড় ধরনের বিপদের কিছু নেই।
রেড মিট বা লাল মাংস ভোজীদের জন্য রীতিমত দু:সংবাদ দিয়েছেন হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড: ওয়াল্টার উইলেট। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন যে কোন ধরনের রেডমিট আপনার জীবন থেকে কেড়ে নিতে পারে কয়েকটি সোনালী বছর।

ডায়াবেটিস ও চোখের সমস্যা


শরীরের ইনসুলিন হরমোনের অভাব বা স্বল্পতাজনিত কারণে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশী হওয়াকে ডায়াবেটিস বলে। ডায়াবেটিস শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে আক্রান্ত করে। চোখ তার মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীব্যাপী অন্ধত্বের চারটি প্রধান কারণের মধ্যে ডায়াবেটিসজনিত চোখের রোগ একটি। অন্য কারণগুলো হলো-চোখের ছানি, কর্ণিয়ার রোগ ও গ্লুকোম।

ডায়াবেটিসজনিত চোখের রোগ ১. প্রতিসরণজনিত দৃষ্টি স্বল্পতা বা রিফ্রাকটিভ:

(ক) মায়োপিয়া বা নিকট দৃষ্টিঃ দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা যায়। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে চোখের অ্যাকুয়াস হিউমারেও গ্লুকোজ বেড়ে যায়। তখন বেশী পরিমাণে গ্লুকোজ লেন্সের কর্টেক্সে ঢুকে। এতে লেন্সের কর্টেক্সেও পানির পরিমাণ বেড়ে যায়। এজন্য লেন্সের নিউক্লিয়াসের প্রতিসরণ সূচক বেড়ে যায়। ফলে কোন বস্তুর প্রতিবিম্ব রেটিনাতে না পড়ে তার সামনে পড়ে।
(খ) হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূরদৃষ্টি: কাছের জিনিস ঝাপসা দেখা যায়। চিকিত্সার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে যায়। লেন্সের কর্টেক্সে গ্লুকোজের পরিমাণও স্বাভাবিক হয়ে যায়। এতে লেন্সের কর্টেক্সের পানির পরিমাণ কমে যায়। সেজন্য লেন্সের নিউক্লিয়াসের প্রতিসরণ সূচক কমে যায়। ফলে কোন বস্তুুর প্রতিবিম্ব রেটিনাতে না পড়ে তার পিছনে পড়ে। চিকিত্সা দ্বারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত হওয়ার এক থেকে দেড় সপ্তাহ পরে চোখের চশমার পাওয়ার পরীক্ষা করা উচিত।
২. চোখের ছানি বা ক্যাটার্যাক্ট ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ডায়াবেটিক রোগীদের দ্রুত ছানি পড়তে দেখা যায়। এ ধরণের ছানি তরুণ বয়সেও পড়তে পারে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে চোখের লেন্সেও গ্লুকোরেজ মাত্রা বেড়ে যায়। এতে লেন্সে বেশী পরিমাণে পানি ঢুকে। ফলে লেন্স অস্বচ্ছ হয় ও ছানি পড়ে। বৃদ্ধ বয়সে অনেকের ছানি পড়ে। এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস ছানি পড়াকে ত্বরান্বিত করে।

চািকত্সা
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে ছানি অপারেশন করে চোখের ভিতর কৃত্রিম লেন্স লাগানো হয়। ডায়াবেটিক রোগীদের ছানি অপারেশনে কোন বাধা বা ভয় নেই।

 
৩. ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি
ডায়াবেটিস চোখের ভিতরের স্নায়ুপর্দা বা রেটিনার ক্ষুদ্র রক্তনালীতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন আনে যা শেষ পর্যন্ত চোখকে দৃষ্টিহীন করে দিতে পারে। ডায়াবেটিক রোগীদেও চোখের এই অবস্থাকেই বলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি।
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ঝুকি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সময়কাল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যাদের ৩০ বত্সর বয়সের আগে ডায়াবেটিস হয় তাদের ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শতকরা ৫০ জনের ১০ বত্সরের মধ্যে এবং শতকরা ৯০ জনের ৩০ বত্সরের মধ্যে দেখা দেয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি তাড়াতাড়ি দেখা দেয় এবং চোখ দ্রুত অন্ধ হয়ে যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বিলম্বিত হয়, রেটিনোপ্যাথির মাত্রা কম হয় এবং চোখ অন্ধত্বের হাত থেকে রক্ষা পায়। কিছু বিষয় ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে-যেমন গর্ভধারণ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির অসুখ, রক্তশূণ্যতা, সূ্থ্থলতা, ধূমপান ইত্যাদি।

কিভাবে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হয়
১. ক্ষুদ্র রক্তনালী বা ক্যাপিলারীর মাধ্যমে রক্তের অক্সিজেন শরীরের কোষে প্রবেশ করে ও কোষের কার্বন ডাই অক্সাইড রক্তে আসে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্যাপিলারী বেজমেন্ট মেমব্রেন স্থূল হয়ে যায়, ক্যাপিলারী কোষ নষ্ট হয়ে যায়, লোহিত রক্ত কণিকার বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার ফলে অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা কমে যায় এবং রক্তের অনুচক্রিকার জমাট বাঁধার প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে রেটিনাতে অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়। এতে ক্যাপিলারী পর্যায়ে শিরা ও ধমনীতে অস্বাভাবিক রক্ত চলাচল ও শান্ট সৃষ্টি হয় এবং নতুন রক্তনালী সৃষ্টির প্রবণতা দেখা দেয়।


২. ক্ষুদ্র রক্তনালী ছিদ্র হয়ে যাওয়া- ক্যাপিলারী কোষগুলো দুই প্রকার এন্ডোথেলিয়াম ও পেরিসাইট। ক্যাপিলারীগুলো পেরিসাইট দ্বারা শক্ত বাঁধনের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। সাধারণত প্রতিটি এন্ডোথেলিয়াম কোষে একটি করে পেরিসাইট থাকে। কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীদের রেটিনাতে পেরিসাইটের স্বল্পতা দেখা দেয়। ফলে ক্যাপিলারীর দেয়াল স্ফীত হয়ে যায় এবং রক্তের জলীয় অংশ বা প্লাজমা রেটিনাতে ঢুকে। ক্যাপিলারীর যে অংশ স্ফীত হয়ে ছোট থলের আকার ধারণ করে তাকে মাইক্রোঅ্যানিউরিজম বলে। এ থেকে রেটিনাতে রক্তপাত হয় এবং স্বল্প পরিসরে বা বিস্তৃতভাবে পানি জমে। রেটিনাতে স্বল্প পরিসরে পানি জমার ফলে হার্ড এক্সুডেট তৈরি হয়।

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির শ্রেণী বিন্যাস

ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিকে তিনটি স্তরে ভাগ করা যায়।

(ক) ব্যাকগ্রাউন্ড ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি যেমন-মাইক্রোঅ্যানিউরিজম, রেটিনাতে বিন্দুর মত রক্তক্ষরণ (ডট হিমোরেজ), হার্ড এক্সুডেট ও রেটিনাতে পানি জমা।

চিকিত্সা:ব্যাকগ্রাউন্ড ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির সুনির্দিষ্ট কোন চিকিত্সা নেই। তবে ম্যাকুলার কেন্দ্র হতে ৫০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে পানি বা হার্ড এক্সুডেট জমলে লেজারের সাহায্যে চিকিত্সা করা হয়। রোগীকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রক্তশূণ্যতার চিকিত্সা
করতে হবে। ধূমপান, মদ্যপান সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে। অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে। বছরে অন্তত একবার চোখ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।
(খ) প্রিপ্রলিফারেটিভ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, যথা-রক্তনালীর বিশেষতঃ শিরার পরিবর্তন- শিরার পুতির মালার মত হয়ে যাওয়া, বেঁকে যাওয়া ও মাংসের কাবাবে মত খন্ডাংশে পরিণত হওয়া, রেটিনাতে বিশেষ ধরণের রক্তক্ষরণ. তুলার আশের মত দাগ বা চিহ্ন এবং রেটিনার ভিতরের ক্ষুদ্র রক্তনালীর অস্বাভাবিকতা।

চিকিত্সা: এই স্তরেও সুনির্দিষ্ট কোন চিকিত্সা নেই।তবে রোগীকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ দ্বারা নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাতে হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে লেজার চিকিত্সা লাগতে পারে। তবে তা ফান্ডাস ফ্লুরোসেন্স এনজিওগ্রাফির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়।

প্রলিফারেটিভ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি যেমন-
১. নতুন রক্তনালী সৃষ্টি হওয়া।
২. চোখের ভিতরের জেলীর মত জিনিস বা ভিট্রাসের রেটিনা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।
৩. নতুন রক্তনালী থেকে রেটিনা,
রেটিনার সামনে ও ভিট্রাসে রক্তক্ষরণ। জটিলতা; ভিট্রাসে রক্তক্ষরণ, রেটিনার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, আইরিশে নতুন রক্তনালী সৃষ্টি হওয়া ও চোখের চাপ বেড়ে গ্লুকোমা হয়ে যাওয়া।

চিকিত্সা: প্রলিফারেটিভ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিতে রেটিনাতে অনেক নতুন রক্তনালী সৃষ্টি হয়, যা থেকে যে কোন সময় রক্তক্ষরণ হতে পারে। লেজারের সাহায্যে এসব নতুন রক্তনালীগুলো নষ্ট করে দেয়া হয়। যদি রেটিনা বা ভিট্রাসে রক্তক্ষরণ হয় তবে তা চিকিত্সার মাধ্যমে কমিয়ে পরে লেজারের সাহায্যে চিকিত্সা করা হয়। আবার ভিট্রাসের রক্ত যদি দীর্ঘ সময় পরও পরিষ্কার না হয় তবে ভিট্রাস অপারেশনের মাধ্যমে বের করে ফেলা হয়, যা ভিট্রেক্টোমি নামে পরিচিত। ভিট্রেক্টোমির সাথে বা পরে লেজার চিকিত্সা দেয়া হয়।

ডায়াবেটিক রোগীদের চোখের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
ডায়াবেটিস ধরা পড়লে বত্সরে অন্তত একবার চক্ষু বিশেষজ্ঞ দ্ব্বারা চোখ পরীক্ষা করাতে হবে। ডায়াবেটিস অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। একবার ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হয়ে গেলে তার উপযুক্ত চিকিত্সা করাতে হবে। তা না হলে জীবনে অন্ধত্বের অভিশাপ নেমে আসতে পারে।