Sunday, December 22, 2013

স্মৃতি ভুলিয়ে দেয় যে রোগ...!

http://bdlive24.com/uploads/news/full_969399819_1387687532.jpg
মাঝে মাঝে কিছু বিষয় মনে করতে পারছেন না! নিজের প্রিয় গানের লাইনটা ভুলে গেছেন?

অথবা নিজের  শখের গয়নাটা না পেলে কেমন রাগটা হয় নিজের উপর!

কিন্তু এমন যদি হয়, একটু পর পরই আপনি সব ভুলে যাচ্ছেন এবং একসময় এটা বাড়তে বাড়তে আপনি আর কাউকেই চিনতে পারছেন না, কিছুই মনে রাখতে পারছেন না...স্মৃতিশূন্য একটা শরীর হয়ে বেঁচে আছেন! ভাবা যায়!

এটা কিন্তু ভয়াবহ আর নির্মম একটি রোগ।

১৯০৬ সালে সর্বপ্রথম জার্মান নিউরোপ্যাথলজিস্ট Alois Alzheimer সর্বপ্রথম এই রোগটি আবিষ্কার করেন। তার নামানুসারেই এর নামকরন হয় আলঝেইমার। এতে রোগী প্রথম প্রথম খুব সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো ভুলে যেতে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে তার স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে পেতে শূন্যের কোঠায় চলে যায়। এর তেমন কোন চিকিৎসা নেই। তবু প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে ওষুধ ও মনোবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা বেশ খানিকটা কাজে লাগে। ২০০৬ সালে সারা পৃথিবীতে এই রোগীদের সংখ্যা ছিল ২৬ মিলিয়ন। ধারণা করা হচ্ছে ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে প্রতি ৮৫ জনে ১ জন।

রোগের কারণঃ
সাধারণত ৬৫ বছর বয়েসের পর এ রোগের ঝুঁকি বেড়ে গেলেও এর চেয়ে কম বয়েসেও দেখা দিতে পারে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, অপরিমিত মদ্যপান-ধূমপান ইত্যাদি নানা কারণে।

লক্ষণগুলো জেনে নিনঃ

১) কথা বলতে সমস্যা হওয়াঃ
অনেক সময় কথা বলতে সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া। কথার মাঝখানে অন্য প্রসঙ্গে চলে যাওয়া।

২) সাম্প্রতিক ঘটনা ভুলে যাওয়াঃ
এইমাত্র ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা মনে করতে না পারা, দিন, তারিখ ভুলে যাওয়া। উত্তর পাওয়া সত্ত্বেও বার বার একই প্রশ্ন করা।

৩) জিনিসপত্র ভুল জায়গায় রাখাঃ
যেটা যেখানে থাকার কথা তা সেখানে না রেখে ভুল জায়গায় রাখা ও পরে খুঁজে না পাওয়া।

৪) পরিকল্পনা করতে সমস্যা হওয়াঃ
মনোযোগ দিয়ে কোন পরিকল্পনা, সংখ্যা গণনা করতে সমস্যা হওয়া। একই হিসাব বার বার করা।

৫) পরিচিত কাজ করতে সমস্যা হওয়াঃ
যে কাজটি করে আপনি অভ্যস্ত, সেটি নিয়মানুযায়ী করতে না পারা। যেমন রান্নার সময়ে রেসিপির গন্ডগোল হয়ে যাওয়া।

৬) পরিচিত রাস্তা বা ঠিকানা ভুলে যাওয়াঃ
অনেক সময় পরিচিত রাস্তা ভুলে যাওয়া বা নিজের ঠিকানায় নিজে ফিরে আসতে না পারা।

৭) চিহ্ন/ নম্বর বা সম্পর্ক মনে করতে না পারাঃ
মাঝে মাঝে পরিচিত ছবি, নম্বর, রঙ ভুলে যাওয়া। প্রিয়জন, এমনকি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে চিনতে না পারা।

৮) আবেগীয় পরিবর্তনঃ
হুট করে রেগে যাওয়া, বিষন্ন হয়ে পড়া বা সমাজ বা পরিবার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়া।
এসব লক্ষণগুলো যদি আপনার বা আপনার পরিচিত কারো মাঝে দেখা দেয়, তবে অবশ্যই দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকুন। ভালো থাকুন।

ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর (বিডিলাইভ ডেস্ক)//টি এস//

No comments: