ব্যবসা ও অর্থনীতি

                  পেঁয়াজ-রসুনে বেজায় ঝাঁঝ বেড়েছে ডালের দামও  

নিজস্ব প্রতিবেদক: হঠাত্ করেই পেঁয়াজ-রসুনের বাজার বেসামাল হয়ে পড়েছে। অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে পণ্য দুটির। বিশেষ করে আমদানি করা রসুন ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে বেশি। বাজারে প্রতিকেজি আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। এছাড়া গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে বেশ কিছু সবজি, মসলা ও ডালের দাম বেড়েছে। তবে চাল, চিনি, মাছ ও মাংসের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতিকেজি আমদানি করা রসুন বিক্রি হয়েছে ১০০-১১০ টাকায়। আর এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। এক মাস আগে দাম ছিল ৯০ টাকা। খোদ সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে দেশি রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। বাজারে এখন দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়। রসুনের মতো পেঁয়াজের বাজারও চড়া হচ্ছে দিন দিন। বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪২ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৩২-৩৪ টাকা। আর আমদানি করা প্রতিকেজি পেঁয়াজে ৮ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২২ টাকার বদলে ৩০ টাকায়। পেঁয়াজ-রসুন ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত ও চীন থেকে আমদানি কমে যাওয়ায় পণ্য দুটির দাম বেড়েছে। পেঁয়াজ-রসুন ছাড়াও বাজারে সব মসলাজাতীয় পণ্যের দাম বেড়েছে সামনে ঈদ থাকায়। ডালের বাজারও এখন বেশ চড়া। গত কয়েক বছরের মধ্যে মসুর ডালের দাম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের প্রতিকেজি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ১২০ টাকা। এছাড়া বাজারে নিম্নমানের মসুর ডাল ১১০-১১৫, দেশি মসুর ডাল ১২২-১২৫, অ্যাঙ্কর ডাল ৬০-৬৫ এবং মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১৫-১১৮ টাকায়। সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে গত সপ্তাহের তুলনায়। বাজারভেদে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। এছাড়া টমেটো ৮০-৯০, করল্লা ৬০-৭০, বেগুন ৫৫-৬০, বরবটি ৫০-৬০, মুলা ৫০-৫৫, প্রতি পিস ফুলকপি-বাঁধাকপি ৩০-৩৫, পটোল ৪৫-৫০, কাঁকরোল ৫০-৫৫, শসা ৬০-৬৫, প্রতি পিস লাউ ৪৫-৫০, পেঁপে ৩০-৩৫, কচুরমুখি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৮০-১০০ টাকায়। গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। আগের সপ্তাহে ১৪৫ টাকায় নেমে এলেও আবার ১৫৫ টাকা হয়েছে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি। এছাড়া প্রতিহালি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এদিকে চাল, চিনি এবং ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।

               ---------------------------------------------------

বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের আপত্তি: তবু অ্যারোমা টি বেসরকারি খাতে


সোহেল রহমান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা: বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের আপত্তি সত্ত্বেও চট্টগ্রামের অ্যারোমা টি লিমিটেডের ৫১ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সম্প্রতি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রতিষ্ঠানটির সরকারি শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

বেসরকারিকরণ কমিশন জানায়, প্রথমে অ্যারোমা টি’র অবশিষ্ট ৪৯ শতাংশ শেয়ার হোল্ডারদের কাছে সরকারি ৫১ শতাংশ শেয়ার ক্রয়ের প্রস্তাব দেওয়া হবে। তারা কিনতে রাাজ না হলে দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ চা বোর্ডের আওতাধীন অ্যারোমা টি’র ৫১ শতাংশ সরকারি শেয়ারের মধ্যে ৩১ শতাংশের মালিক হচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ১০ শতাংশ করে অবশিষ্ট ২০ শতাংশের মালিক হচ্ছে ‘ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ’ (আইসিবি) ও ‘সাধারণ বীমা কর্পোরেশন’।

অ্যারোমা টি’র সরকারি অংশের শেয়ার বেসরকারিকরণে আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিষ্ঠানটির পুনর্গঠিত বোর্ড সম্প্রতি এটাকে পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশিপ (পিপিপি) কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে নতুন করে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে এর সরকারি অংশের শেয়ার বেসরকারি খাতে ছেড়ে না দেওয়ার জন্য বেসরকারিকারিকরণ কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ড।”

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেসরকারিকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মির্জা আবদুল জলিল ‘বাংলানিউজ’-কে বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এর দায়-দেনার পরিমাণও অধিক। কমিশনের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা বোর্ড পুনর্গঠন ও সচল করা হয়েছে। এর সরকারি শেয়ার বেসরকারিকরণ করা হলে সরকার আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং দায়-দেনা থেকে মুক্ত হবে।”

অ্যারোমা টি’র শেয়ার বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির আপত্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মাত্র ৩১ শতাংশ শেয়ারের মালিক। অপর দুই প্রতিষ্ঠান আইসিবি ও ‘সাধারণ বীমা কর্পোরেশন’ শেয়ার বিক্রয়ের পক্ষেই সম্মতি দিয়েছে।”

উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে উৎপাদন শুরু করা অ্যারোমা টি’র পণ্য তালিকায় রয়েছে, টি ব্লেন্ডিং, প্যাকেজিং ও মার্কেটিং। এ জমির পরিমাণ ১৫ দশমিক ৮৫ একর। ২০১০ সালের নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী  প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদ মূল্য হচ্ছে ১২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং মোট দায়-দেনার পরিমাণ ৮৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শুধু গুদাম ভাড়া দিয়ে ব্যয় নির্বাহ করছে বলে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রেরিত বেসরকারিকরণ কমিশনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ সময় : ১৪০৪ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৯, ২০১২

No comments: