Thursday, October 31, 2013

গরুর মাংসের কাঠি কাবাব

মুচমুচে,মশলাদার, গরম গরম কাঠি কাবাব আর সাথে টক-ঝাল সালাদ ও সস... চিন্তা করেই জিভে জল চলে এসেছে? এই মজাদার খাবারের স্বাদ পেতে ছুটে যেতে হবে না কোন রেস্তরাঁয় আর মোটা অংকের বিলও গুনতে হবে না। বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারবেন মুখরোচক কাঠি কাবাব এবং সেটাও ভীষণ সহজে। আর এত সুস্বাদু হবে যে আপনার তারিফ করতে করতে ক্লান্ত হবে না কেউ। রইলো সহজ রেসিপি।
উপকরন

গরুর মাংস (লম্বা পাতলা ফালি করা)– ৫০০ গ্রাম
পেঁপে বাটা(খোসা সহ)– আধা কাপ
আদা বাটা– ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা– ১ টেবিল চামচ
গরম মশলা বাটা– ১ চা চামচ
টেস্টিং সল্ট– আধা চা চামচ
সয়াসস– ১ টেবিল চামচ
রেডিমেড কাবাব মশলা- ১ চা চামচ
মরিচের গুঁড়া- স্বাদ মত
ধনিয়া গুঁড়া- ১ চা চামচ
জিরা ভাজা গুঁড়া- ১ চা চামচ
টক দই- ১/২ কাপ
চিনি- সামান্য
লবন– স্বাদ মতো
ডিম– ২ টি
টোস্ট বিস্কিটের গুঁড়া– ২ কাপ
টুথপিক- প্রয়োজনমত
প্রণালী–

    -চর্বি ছাড়া গরুর মাংস লম্বা করে পাতলা ফালি করে নিন। এক্ষেত্রে রানের মাংস হলে ভালো হয়। বিশেষ করে পিছনের রান। চাইলে হালকা থেঁতলে নিতে পারেন।
    -একটা বাটিতে গরুর মাংসের সাথে ডিম ও টোস্ট বিস্কিটের গুঁড়া বাদে বাকি সব উপকরন মেশান।
    -কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা ম্যারিনেট হতে ফ্রিজে রেখে দিন। সবচাইতে ভালো হয় সারা রাত রেখে দিলে। যত বেশি সময় রাখবেন, মাংস তত নরম হবে। মসলা দেয়া আছে বলে পচন ধরবে না।
    -ম্যারিনেট হয়ে গেলে মাংস টুথপিকে গেঁথে নিন।
    -২ টা ডিম একটু লবন দিয়ে ফেটে রাখুন। কাঠি সহ মাংস ডিমে চুবিয়ে বিস্কিটের গুড়ায় গড়িয়ে নিন।
    -সব কাবাব তৈরি হয়ে গেলে কিছু সময় কাবাব গুলো ফ্রিজে রেখে সেট হতে দিন।
    -গরম তেলে মাঝারি আঁচে কাবাব গুলো সোনালী করে ভেজে নিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।
    -যারা বিস্কিটের গুঁড়ো খেতে চান না, তারা জালি কাবাবের মতন ডিমে ডুবিয়ে ভাজতে পারেন। কিংবা সেঁকা তেলে ডিম ও বিস্কিটের গুঁড়ো ছাড়াই মাংস ভেজে নিতে পারেন।
http://www.priyo.com/2013/10/13/35859.html#sthash.dexQuPbR.dpuf

বসুন্ধরার প্রতারণার ফাঁদে ক্রেতারা

এমএ বাবর 
বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট  ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি প্রকল্পের আংশিক অনুমোদন রয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি রাজউকের ওই আংশিক অনুমোদনকে পুঁজি করে আটটি প্রকল্পের প্লট বিক্রি করছে। 
আর ক্রেতাদের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন লোভনীয় জায়গায় ঝামেলামুক্ত জমির মালিক হওয়ার প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এদিকে রাজউক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অননুমোদিত আবাসন প্রকল্পের প্লটে কোনো স্থাপনা তৈরি করার অনুমোদন দেবে না রাজউক। ফলে যারা রাজউকের অননুমোদিত প্রকল্প থেকে প্লট কিনে রাজধানীতে একখণ্ড জমির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন  আদৌ তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
 অন্যদিকে সম্প্রতি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের প্রথম পর্বেরই কেবল অনুমোদন আছে। রাজউক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের শুধু প্রথম পর্বের ৩০৫ একর জমির অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে ব্লক-এ, বি, সি এবং ডি, ই, এফ-এর আংশিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জমি পরিদর্শন শেষে এগুলো খণ্ড খণ্ডভাবে অনুমোদন দিয়েছে ১৯৮৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৯০ সালের ৩০ জুলাই ও ২৪ ডিসেম্বর। উল্লিখিত জমি ছাড়া ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রাঃ) লিমিটেডের আর কোনো প্রকল্পের সরকারিভাবে অনুমোদন নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বারিধারাস্থ বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের অনুমোদিত অংশের কয়েক গুণ জমি বিক্রির নামে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের ছয়টি ব্লকের অনুমোদন নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ১৫টি ব্লকের প্লট। এর মধ্যে নকশা অনুযায়ী বেশিরভাগ ব্লকের জমির মালিকানা এখনো তাদের হয়নি। 
এছাড়া নকশায় তুরাগ নদীর এপার-ওপারের জমি দেখিয়ে ‘পি’ ব্লক করা হয়েছে। আর নদী দখল করে এখানে প্লট তৈরির পাঁয়তারা চলছে। সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর ড্যাপ (ডিটেল এরিয়া প্ল্যান) উপকমিটিকে বিপুল পরিমাণ ঘুষ দিয়ে ড্যাপের শর্ত লঙ্ঘন করে ড্যাপের আওতাধীন ৫০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছে বসুন্ধরা। 
শুধু বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের অননুমোদিত জমির প্লট বিক্রি করাই হচ্ছে না। আইনের তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠানটি রাজধানী ও আশপাশের অননুমোদিত আরো সাতটি প্রকল্পের প্লট বিক্রি করছে। তারা রাজউকের আওতাধীন এলাকায় অনুমোদিত বেসরকারি আবাসন প্রকল্প নিয়ে বিকৃত তথ্য পরিবেশন করছে। আর এসব প্রকল্পের আকর্ষণীয় স্থানের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে সরকারি অনুমোদনের নামে ক্রেতাদের ধোঁকা দিয়ে প্লট বিক্রি করা হচ্ছে। 
 
বসুন্ধরার অননুমোদিত প্রকল্পসমূহ : অনুমোদন ছাড়াই যেসব প্রকল্প হাতে নিয়েছে বসুন্ধরা তার মধ্যে রয়েছে, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের কাছে রাজউকের ঝিলমিল প্রজেক্টের উল্টো পাশে ‘বসুন্ধরা রিভার ভিউ গ্রীনটাউন’ প্রকল্প, সাভার হেমায়েতপুরে ধলেশ্বরী নদীর তীর ঘেঁষা ‘বসুন্ধরা গ্রীনসিটি’ প্রকল্প, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রোড সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা ব্রিজের কাছে ‘বসুন্ধরা রিভারভিউ’ প্রকল্প, ঢাকা-মাওয়া রোডে ‘বসুন্ধরা রিভারভিউ দখিনা’ প্রকল্প, উত্তরায় ‘বসুন্ধরা উত্তরখান’ প্রকল্প, রাজউক উত্তরা তৃতীয় পর্বের প্রকল্পের কাছে ‘বসুন্ধরা লেক ভিউ’ প্রকল্প এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ডানে ঝিলমিল প্রজেক্টের পাশে ‘বসুন্ধরা সিটি ভিউ’ প্রকল্প।  
http://manobkantha.com/2013/10/31/144990.html
http://www.emanobkantha.com/2013/10/31/index.php

Sunday, October 27, 2013

অনলাইনে যেভাবে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) করবেন

পাসপোর্ট কার, কখন, কোথায় প্রয়োজন হয় সেটা বলা যায় না , তাই নিজের পাসপোর্ট থাকা ব্যাপারটা মন্দ না। পাসপোর্ট করা নিয়ে অনেকেরই বিরূপ অভিজ্ঞতা আছে , সেটা নিয়ে নতুন অনেকেরই ভয় কাজ করে। আসলে এইরকম অফিসিয়াল ব্যাপারগুলো আত্মবিশ্বাসের সাথে করলে একটা না একটা উপায় সহজভাবেই বের হয়ে আসে।

আমিও তেমনটাই করেছিলাম, এবং বিশ্বাস করুন - কোনরকম ঝামেলা ছাড়াই এবং একমাসের মধ্যে।
  • ফর্ম জমা আর ভেরিফিকেশান লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয় নি ।
  • পরে একদম সরাসরি যেয়ে ছবি তুলে এসেছি ! তাও আবার নিজের পছন্দসই ডেটে।
  • দালালের খপ্পড় বা পাসপোর্ট অফিসের কারো কোন সমস্যার ছাড়াই !
  • একদমই ঝামেলা ছিল না এবং যাতায়াত মিলিয়ে খরচ হয়েছে ৩৫০০/- টাকার মত !
তো এখন যারা অনলাইনে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট করতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য ব্যাপারটাকে আরো সহজ করে তোলার জন্য এই পোস্ট। আশা করি উপকৃত হবেন ।
আপনিও খুব সহজেই পারবেন। কারণ অনলাইনে পাসপোর্ট পাওয়া অনেক অনেক সহজ একটা কাজ যদি একটু জানা থাকে । পাসপোর্ট হাতে পাওয়াসহ সব মিলিয়ে আপনাকে মাত্র তিনদিন যেতে হবে। আর সাথে টুকিটাকি যদি জানা থাকে তাহলে আর কথাই নেই ।
আসেন, একদম শুরু থেকে শুরু করি অনলাইনে পাসপোর্ট ফর্ম পূরণ করা এবং পরের ধাপের কাজগুলো নিয়ে।

প্রথম ধাপ : ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া

সোনালী ব্যাংকের কলেজ গেইট শাখায় পাসপোর্ট আবেদনের ফি হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। রেগুলার ফি ৩০০০/- টাকা ( ১ মাসের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে হলে) আর ইমারজেন্সি ফি ৬০০০/- টাকা ( ১৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পেতে হলে) ।
প্রথমেই টাকা জমা দেয়া প্রয়োজন এই কারণে যে , অনলাইনে ফর্ম পূরণ করার সময় টাকা জমা দেয়ার তারিখ এবং জমাদানের রিসিটের নাম্বার উল্লেখ করার প্রয়োজন হবে। তাই টাকা আগে জমা দেয়া থাকলে একবারেই ফর্ম পূরণ করা হয়ে যাবে।
:arrow: আমার টিপস - কলেজ গেইট শাখায় বেশ দ্রুত টাকা জমা দেয়া যায় , কারণ এইখানে ভিড়টা কম । আপনার সুবিধামত ব্রাঞ্চে টাকা জমা দিয়ে রিসিট বুঝে নিন ।
লাইনে দাঁড়ালে ব্যাংকের কাজ শুরুর আগেই ব্যাংকের লোকজন রিসিট দিয়ে যাবে। বা নিজেই টাকা দেয়ার রিসিট সংগ্রহ করে নিন । রিসিট পেলে ইংরেজি ব্লক লেটার স্পষ্টভাবে পূরণ করুন।
সাথে অবশ্যই কলম রাখুন।
( আমি যখন টাকা জমা দিয়েছিলাম , তখন আগারগাঁও ব্রাঞ্চ এ টাকা জমা নিত , এখন খোঁজ নিয়ে দেখলাম সেখানে টাকা জমা নেয়া বন্ধ ! এছাড়া অনলাইনে যেসব ব্রাঞ্চের লিস্টগুলো আছে , তার অনেকগুলোতেই টাকা জমা নেয় না । তাই ঢাকায় থাকলে কলেজ গেইট ব্রাঞ্চেই যাওয়া বেটার)

দ্বিতীয় ধাপ - অনলাইনে ফর্ম পূরণ

অনলাইনে ফরম পূরণের জন্য প্রথমেই যান পাসপোর্ট অফিসের এই সাইটে - http://www.passport.gov.bd/ । নির্দেশনা ভালোভাবে দেখুন , সতর্কতার সাথে একাউন্ট করুন । আপনার নাম ও ব্যক্তিগত তথ্যাদি ( যেমন নামের বানান, প্যারেন্টস এর নাম ) যেন শিক্ষাগত সার্টিফিকেটের মতই হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
মেইল এড্রেস আর মোবাইল নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই রেগুলারটা দেবেন।
টাকা জমা দেয়ার তারিখ এবং রিসিট নাম্বার উল্লেখ করুন।
সবশেষে আপনি যেদিন ছবি তোলা ও হাতের ছাপ দেয়ার জন্য বায়োমেট্রিক টেস্ট দিতে যেতে চান, সুবিধামত সেইদিনটা নির্বাচন করে সাবমিট করুন। অর্থ্যাৎ আপনি নিজের পছন্দসই সময়েই যেতে পারছেন ! ব্যাপারটা দারূণ না ?
এবার , রিচেক করুন। দেখুন সব তথ্য ঠিক আছে কিনা।
সবশেষে সাবমিট করুন । সফলভাবে সাবমিশন শেষ হলে পূরণকৃত ফর্মের একটি পিডিএফ কপি আপনার মেইলে চলে আসবে । এইধাপ এইখানেই শেষ।
:arrow: আমার টিপস – অনলাইনে একাউন্ট খোলার পরপরই আপনাকে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড জানিয়ে দেবে । সেটা সংরক্ষণ করুন। আর ছবি তোলার জন্য যেদিন সময় দেবেন সেদিনটা ফ্রি রাখবেন। সময় লাগতেও পারে এই দিনে যদি মানুষ বেশী হয় ।

তৃতীয় ধাপ – জমা দেয়ার আগে ফর্মের প্রিন্ট এবং সত্যায়ন

আপনার পূরণকৃত ফর্মের যেই পিডিএফ কপিটা পেয়েছেন, সেটার ২ কপি কালার প্রিন্ট করে ফেলুন। যেসব জায়গা হাতে পূরণ করতে হবে সেগুলো করে ফেলুন । আপনার সাইন দিন।
এবার নিজের চারকপি ছবি , জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং পাসপোর্ট ফর্ম নিয়ে পরিচিত কোন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার কাছ থেকে সত্যায়িত করে নিন। পরিচিত কাউকে দিয়ে সসত্যায়ন করানো দরকার এই কারণে যে, ঐ কর্মকর্তার নাম , যোগাযোগ ও ফোন নাম্বার ফর্মে লিখতে হয়।
সত্যায়ন শেষে পুরো ফর্মটি রিচেক করুন।
সত্যায়িত ছবি এবং ব্যাংকের রিসিট আঠা দিয়ে ফর্মের সাথে যুক্ত করুন। সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপিটি নিন।
আপনার ফর্ম জমা এখন দেয়ার জন্য প্রস্তুত।
:arrow: আমার টিপস – ফর্মের প্রিন্ট করার সময় এক কপি এক্সট্রা করুন। ব্যাকআপ থাকা ভালো । আমার প্রথম পেজ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। শেষ সময়ে ব্যাকআপ কপির প্রথম পেইজ দিয়ে দিয়েছি।
ছবি দুই কপি লাগলেও এক্সট্রা দুই কপি করিয়ে রাখা ভালো , পাসপোর্ট অফিসে চেয়ে বসে মাঝে মাঝে। একই কথা জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যাপারেও।

চতুর্থ ধাপ – ছবি তোলা এবং অন্যান্য

আপনার নির্বাচন করা তারিখে সকাল সকাল পাসপোর্ট অফিসে চলে যান । অবশ্যই সাদা পোষাক পরবেন না , ফর্মাল পোষাক পরার চেষ্টা করুন।
সকাল ৯ টার দিকে গেলেই হবে। কোন লাইনে দাঁড়াতে হবে না আপনাকে । সরাসরি মেইন গেইট দিয়ে মূল অফিসে যান। সেখানে দায়িত্বরত সেনা সদস্যকে জিজ্ঞেস করুন কোন রুমে যাবেন ।
প্রথমে আপনাকে আটতলায় যেয়ে ফর্ম দেখিয়ে আনতে হবে। খুবই অল্প সময়ের কাজ । ৮০৩ নাম্বার রুম । সিরিয়াল নেবেন।
এবার ৮ তলার থেকে আসতে বলবে ৩ তলায় । সেখানে এসেই আসল কাজ ( আমার ছিল ৩০১ নং রুম)। প্রথমে আপনার ফর্মটি চেক করবে এবং সাইন করে দেবে।
সাইন শেষে আপনাকে জানিয়ে দেয়া হবে ছবি তোলার জন্য কোন রুমে যাবে। ঐ রুমগুলো ঠিক পাশেই। সিরিয়াল আসলে ছবি তুলুন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিন। ব্যস , কাজ শেষ !
এবার আপনাকে পাসপোর্ট রিসিভের একটা রিসিট দেবে। সেটা যত্ন করে রাখুন । পুলিশ ভেরিফিকেশান সাপেক্ষে, রিসিট পাওয়ার একমাস বা ১৫ দিনের মধ্যেই আপনি পাসপোর্ট পাবেন ।
:arrow: আমার টিপস – আবারো বলছি , সাদা পোষাক পরবেন না , ফর্মাল পোষাক পরার চেষ্টা করুন।
আর সাথে জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপিসহ সত্যায়িত কপিগুলো নিয়ে যান। তিনতলায় যেয়ে সেখানকার সেনাসদস্যের কাছ থেকে দেখিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন , সব সংযুক্তি ঠিক আছে কিনা।
সাথে অবশ্যই কলম রাখুন।
আঠা, স্ট্যাপলার, এক্সট্রা ছবিও সাথে রাখুন।
আর যারা সরকারী কর্মকর্তা বা শিশুসহ যাচ্ছেন , তাদের কিছু আলাদা কাগজ লাগবে । সেটার জন্য নির্দেশনা দেখুন । কিংবা ৮০৩ এ যোগাযোগ করুন।

পঞ্চম ধাপ – পুলিশ ভেরিফিকেশান ও পাসপোর্ট রিসিভ ডেট ( টিপস সহ)

পুলিশ ভেরিফিকেশানই আমার কাছে ঝামেলার মনে হয়েছে। যদি আপনার স্থায়ী আর বর্তমান ঠিকানা আলাদা হয় , তবে দুই জায়গাতেই আপনার ভেরিফিকেশান হয়ে থাকে। পুলিশের এস বি ( স্পেশাল ব্রাঞ্চ) এই কাজটা করে থাকে।
এবং এইটা করতে যেয়ে পুলিশ বখশিশ হিসাবে টাকা চেয়ে বসে। খুবই ইরিটেটিং একটা ব্যাপার । সেটা ৫০০-১০০০ পর্যন্ত হতে পারে !!!!!
তবে স্ট্রিক্ট থাকলে এটা এড়ানো সম্ভব। আপনি কীভাবে তাদের ফেইস করছেন সেটার উপর নির্ভর করে। সরাসরি বলে দিতে পারেন যে, এইটা আপনার দায়িত্ব, তো টাকা দেয়ার প্রশ্ন কেন। কিংবা বলতে পারেন যে, আপনি ছাত্র , টাকা দেয়া সম্ভব না । ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি !
যাই হোক, ভেরিফিকেশান শেষ হলে আপনার মোবাইলে এস এম এস আসবে। যেদিন এস এম এস আসবে তারপরেই আপনি পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবেন।
ব্যস, এইবার পাসপোর্ট হাতে নেয়ার পালা।

ষষ্ঠ ধাপ –পাসপোর্ট সংগ্রহ

এইখানে কাজ সহজ । পাসপোর্ট অফিসে চলে যান। লাইনে দাঁড়ান।
সাথে রিসিট আর কলম রাখুন । ৯ টার দিকে গেইট খুলবে। লাইন ধরে প্রবেশ করুন।
রিসিট জমা দিন। অপেক্ষা করুন।
এবার আপনার নাম ডাকবে ।
সাইন করুন , বুঝে নিন আপনার পাসপোর্ট ।
:arrow: আমার টিপস – হাতে পেয়েই সবার আগে চেক করুন আপনার ইনফোগুলো ঠিক এসেছে কিনা। নিজের এবং পিতামাতার নাম , ঠিকানা এবং অন্যান্যসব তথ্যগুলো মিলিয়ে নিন।
সব ঠিক থাকলে , বলুন ইয়াহুউউউ !
এই হচ্ছে একটি ঝামেলাবিহীন পাসপোর্টের আত্মকাহিনী বা আমি যেভাবে খুব সহজেই পাসপোর্ট পেলাম এর আদ্যোপান্ত । আশা করি কাজে লাগবে।
সবার জন্য শুভকামনা। হ্যাপি পাসপোর্টিং !

সংযুক্তি -

০১) আপনার বর্তমান ঠিকানা যদি ঢাকা হয় , তাহলে এখান থেকেই পাসপোর্ট করতে পারেন । আলাদা করে দেশের বাড়ির জেলা অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না ।
০২) ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার জন্য যে স্লিপ লাগে , সেখানে আলাদা একাউন্ট নম্বরের প্রয়োজন নেই ।নতুন পাসপোর্ট করা বা রিনিউ এর জন্য আলাদা স্লিপই থাকে ।
০৩) GO: Government order
NOC: NO Objection Certificate
PDS: Proof of retired Date
সরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকুরীজীবীরা এই ঘর পুরণ করবেন। আর কমেন্ট থেকে জানা গেল যে সরকারী কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট নীল রঙের । পুলিশ ভেরিফিকেশান এর ঝামেলা নাই ।

সপ্তম ধাপ - পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন চেক

পার্টপোর্ট ভেরিফিকেশন চেক এর জন্য
চেক করুন
এই টিউনটি নিয়মিত আপডেট করা হবে। কারো কাছে নতুন তথ্য থাকলে কমেন্টে জানান দিয়েন প্লিজ । যোগ করে দিব । ধন্যবাদ ।
http://www.techtunes.com.bd/how-to/tune-id/250363

Saturday, October 26, 2013

শরীরের যখন বাড়তি চর্বি

অধ্যাপক ডা: শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস বারডেম, ঢাকা
আমরা দেহে চর্বি বাড়তি হলে ঝরাতে চাই, তবে এজন্য দেহে চর্বি থাকবেনা পরিমিত, তাতো নয়। চর্বি বেশ প্রয়োজনীয়, জানেন তো। চর্বির দুটো কাজ তো আছেই। যেমন-
১. শরীরের বাড়তি ক্যালোরি, চর্বি রাখে ভান্ডারে নিরাপদে। যাতে ক্ষুধার্ত হলে, অনাহারে থাকলে শরীর শক্তি সংগ্রহ করতে পারে সেই ভান্ডার থেকে।
২. চর্বি নি:সৃত করে নানান হরমোন যা নিয়ন্ত্রণ করে দেহের বিপাককে।

শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকা ঠিক নয় সত্যি, তবে এটি পুরুষের মধ্যে স্ত্রী হরমোন বাড়ায় এ বড় মিথ্যে কথা। সত্যি কথা হলো স্থূল রমনীদের দেহে পু:হরমোন একটু বেশি আছে, আর তাই এদের হূদরোগের ঝুঁকি বেশি। এই হরমোনের জন্য এদের মাথায় কেশ বিরল হয় পুরুষদের মতো। ব্রুন ও মুখে লোম। স্থূল লোকদের ঘুমে শ্বাস রোধ হয়, বোবায় ধরে যাকে চিকিত্সা বিজ্ঞানে বলে 'স্লিপ এপিনয়া'। 

ঘুমে এমন বারবার শ্বাস রোধ হলে বিপদও হতে পারে, দেহে অক্সিজেন মান নেমে আসে, প্রভাব ফেলে হূদযন্ত্রের উপর, বেড়ে যায় হার্ট এটাকের ঝুঁকি। ঝুকি বাড়ে স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসেরও। কিন্তু তবু দেহে কিছু মেদ চাই, শক্তির ভান্ডার হিসেবে, তাপরোধক হিসেবে, শরীরে অভিঘাত সহার জন্য, আর দেহের নন্দনকান্তি, সুন্দর কান্ডির জন্য মেদতো চাই চাই।

মোটদেহ মেদের বাড়তি হলে স্থূলতা। তবে কথা আছে, শরীরের স্বাভাবিক ওজনের ২০% বেশি হলে তবে তাকে স্থূল বলা যায়। স্থূলতার সচরাচর পরিমাপ হলো বড়ি মাস ইনডেক্স বা বি.এম.আই। কারো বিএমআই ২৫-২৯.৯ এর মধ্যে হলে তাকে বলা যাবে বেশি ওজন। কারো বিএমআই ৩০ বা এর বেশি হলে স্থূল। যত কিলো শরীরের ওজন, একে যতটুকু লম্বা তা মিটারে মেপে এর বর্গফল দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে বিএমআই।
একগ্রাম চর্বি থেকে পাওয়া যাবে ৯ ক্যালোরি। শরীরের আয়তন ও কাজ কর্ম
বা শরীর চর্চা অনুযায়ী দৈনিক ক্যালোরি চাহিদা নিরূপন করা হয়। যার দিনে ২০০০ ক্যালোরি চাহিদা, তার দিনে গড়ে ৬৫ গ্রামের বেশি চর্বি খাওয়া ঠিক নয়।
কি করে বের করবেন
১. প্রতিদিন কত ক্যালোরি গ্রহণ করবেন এবং একে ৩০% শতাংশ দিয়ে গুণ করুন। (০.৩০) যেমন ২০০০ ক্যালোরি x = ৬০০ ক্যালোরি, চর্বি থেকে।
২. উত্তর ফলকে ৯ দিয়ে ভাগ করুন। কারণ প্রতি গ্রাম চর্বিতে রয়েছে ৯ ক্যালোরি। এতে বের হবে দৈনিক চর্বি গ্রহণের সীমা ৬০০ ভাগ ৯ = ৬৫ গ্রাম। তাই প্রতিদিন যিনি ২০০০ ক্যালোরি গ্রহণ করেন, তার ৬৫ গ্রামের বেশি চর্বি গ্রহণ করা ঠিক নয়। অনেকে বলেন এত চর্বি গ্রহণও ঠিক নয়। এটিও অতিরিক্ত, মন্তব্য অনেকের। তলপেটে মেদ বড়ই বিপজ্জনক। উরুতে বা নিতম্বে চর্বি হওয়া থেকে অনেক বিপজ্জনক। ইনসুলিন রেজিস্টেন্সের উপর এর প্রভাব ক্ষতিকর। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশ বাড়ে, রক্তের চর্বি মানের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে, উসকে দেয় হূদযন্ত্র ও স্ট্রোকের ঝুঁকি। তলপেটে মেদ মানে আপেল আকৃতি শরীর। হূদরোগ, মেটাবলিক সিনড্রোম ও ডায়অবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোমরের পরিধি যত বেশি, হার্ট ফেলিওরের ঝুঁকি তত বেশি। হার্ট ফেরিওর হলে হূদযন্ত্র যথেষ্ট রক্ত পাম্প করতে পারেনা এবং তরল জমা হয় ফুসফুসে বা জমা হয় পা ও পায়ের পাতায়।
ব্রাউন ফ্যাট মানে শিশু ফ্যাট
ব্রাউন এডিপোজ টিস্যু (ব্রাউন ফ্যাট) হলো শিশুদের জন্য এলার্জির দ্রুত উত্স এবং তা দেহের ওজনের ৫%। এটি বাদামী চর্বি, কারণ মেদকোষগুলো সাইটোকনড্রিয়ার ভর্তি, সাইটোকনড্রিয়া হলো
এনার্জির কারখানা এবং রক্ত
সরবরাহ খুব বেশি। ব্রাইন ফ্যাট বড় হলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
নারীদের দেহের ওজনের স্বাভাবিক ২৫-৩০ % হলো চর্বি, পুরুষদের ১৮-২৩%। ৩০% এর বেশি
দেহের চর্বি নারীদের হলে এবং
২৩% এর বেশি পুরুষদের হলে স্থূল বলা যেতে পারে। এক পাউন্ড চর্বিতে কত ক্যালোরি? ৩৫০০ ক্যালোরি।
১ পাউন্ড শরীর থেকে হারাতে
৩৫০০ ক্যালোরি পুড়াতে হয়।
দিনে ৫০০ পাউন্ড করে পোড়ালে ৭ দিন সময় লাগবে। বা ১০০০ ক্যালোরি প্রতিদিন সপ্তাহে ২ পাউন্ড হারাতে হলে। ওজন হরাসের নিরাপদ সীমা হলে প্রতি সপ্তায় ১-২ পাউন্ড। তাই কম ক্যালোরি গ্রহণ এবং ব্যায়াম করে ক্যালোরি পোড়ানো এই হলো কৌশল।
বিশ্বাস করুন বা নাই করুন, সুস্থত্বক ও চুলকে বজায় রাখে চর্বি।
চর্বি শরীর থেকে ভিটামিন এ, ডি, ই, কে এই চারটি ভিটামিন রক্তস্রোতে শোষিত হতে সাহায্য করে।
স্থূল হলে বিপদ। স্থূল হওয়া মানে শরীরে এত চর্বি জমা হয় যে স্বাস্থ্য পড়ে বিপদে। স্থূল হলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচুমান কোলেস্টেরল, উচুমান চর্বি বা ট্রাইগ্লিসারাইড, করোনারী ধমনী রোগ, স্ট্রোক, স্লিপ এপনিয়া এসব রোগের ঝুঁকি। ওজন হরাস হলে
এসব রোগের ঝুঁকি অনেক কমে। শরীরে কোথায় চর্বি জমেছে তা
কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ। চর্বি যদি বেশিরভাগ জমে পেটে, আপেল আকৃতি অবয়ব যদি হয় তাহলে খুব বড় ঝুঁকি থাকে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচুমান কোলেস্টেরল, করোনারী ধমনী রোগের অন্তত: যাদের নিতম্বে চর্বি তাদের চেয়ে অনেক বেশি। যারা ক্ষীনদেহ বা নাসপাতি আকৃতি তাদের চেয়ে অনেক বেশিতো বটেই। রক্তে চর্বি
খুব বেশি হলে আমরা একে চিকিত্সার ভাষায় বলি হাইপারলিপিডেমিয়া। অনেক
সময় উচুমান কোলেস্টেরল হয় পারিবারিক ধাতে, যাকে বলে
ফেমিলিয়ান হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া। এদের অনেক ছোট বেলায় হূদরোগ ও পরে হার্ট এ্যাটাক হয়। হাইড্রোজিনেটেড ফ্যাট ও আংশিক হাইড্রোজিনেটেড ফ্যাট বলে কথা আছে। হাইড্রোজিনেশন প্রক্রিয়ার সময় উদ্ভিজতেলে যোগ করা হয় হাইড্রোজেন। হাইড্রোজিনেশন করলে তরল চর্বি যেমন উদ্ভিজ্জ তেলে পরিণত হয় অর্ধকঠিন (শক্ত), অনেক দিন শেলফে থাকার মত চর্বি হয়ে যায় যেমন মার্জারিন। বেশিরভাগ তেলকে আংশিক হাইড্রোজিনেশন করা হয়। তৈরি হয় ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট। যা বেশি খেলে ক্রমে রক্তে বাড়ে কোলেস্টেরল। খাদ্য প্রস্তুত কারীরা উদ্ভিজ্জতেলে হাইড্রোজেন কেন যোগ করেন। খাদ্যের উম্মুক্ততাকে থাকার স্থিতিকাল বাড়ানো এবং এর ফ্লেভার অক্ষুন্ন রাখার জন্য। যাতে দীর্ঘকালের খাদ্যের অন্তর্গত সুবাস অক্ষুন্ন থাকে। প্রক্রিয়াজাত খাবার হিসেবে আংশিক হাইড্রোজিনেটেড তেল অনেক জনপ্রিয় কারণ এটি সস্তা, স্থিলিশীল ও অবাধে প্রাপ্তি সাধ্য।
বলছিলাম দেহ বিপাক সম্বন্ধে। নানান হরমোন ও এনযাইম মিলে মিশে খাবারকে জ্বালানিতে রূপান্তরিত করে। আমাদের দেহের জটিলসব প্রাণরাসায়নিক বিক্রিয়ার জাল সবইতো বিপাকের অন্তর্গত। এই বিপাকের ফলে কখনও দেহে তৈরি হয় নানা বস্তু বা কখনও যায় ভেঙ্গে। নির্গত হয় শক্তি, যা প্রয়োজন
শরীরের কাজের জন্য। শরীরে
ওজন যত বেশি, সম্ভবত বিপাকও চলছে দ্রুত গতিতে। অবাক হবার কথা। শরীর যত বেশি ওজন বহন করে, বিপাকও চলে তত দ্রুত।
সহজ কথাটি হলো বাড়তি ওজনটি শরীরকে আরও কঠোর কাজ করতে প্রবৃত্ত করে যাতে বিশ্রামের সময় শরীর বজায় থাকে, চলে উদ্যমে। তাই বিপাক চলে দ্রুততর-বলেন লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ মলি কিমব্ল। তাই খাদ্য বিধি পরিবর্তনের শুরুতে ওজন হারানো সহজ পরে তা হয়
বেশ কঠিন। খুব বেশি ভারি ওজনের হলে, বিপাক এত দ্রুত চলে যে সামান্য ক্যালোরি কমালেও বেশ সুফল পাওয়া যায়।
http://www.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMTBfMjZfMTNfNF80N18xXzgwNzU0

Thursday, October 24, 2013

ডিএনসিসিতে অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

এম এ বাবর
দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) দুই দফায় ১৪৫ শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম চলছে। অভিযোগ রয়েছে এ নিয়োগে সরকারদলীয় দু’জন এমপিসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে। আর এতে মদত দিচ্ছেন ডিএনসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে (ডিসিসি) কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গণমাধ্যমে এ নিয়ে অতীতে অনেক লেখালেখি হলেও সংস্থার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে ডিসিসি দুই ভাগে বিভক্ত হলেও এ ধরনের অনিয়ম দুর্নীতির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া অনেক কর্মচারী
সংস্থায় কাজ না করেও ১২ থেকে ১৬ বছর ধরে মাসিক বেতন পাচ্ছেন। আর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে এ ধরনের শ্রমিকের সংখ্যা রয়েছে শতাধিক। একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিসিসিতে দৈনিক বেতনভুক্ত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা প্রতি মাসে আট হাজার টাকা বেতন পান। যে সব শ্রমিক কাজ না করে বেতন নিয়ে থাকেন তারা এ বেতন থেকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা পান। বাকি তিন হাজার টাকা সিন্ডিকেটের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয়।
এবারো এ ধরনের শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ডিএনসিসিতে। পুরনো জারিকৃত আদেশের ভিত্তিতে ১৪৫ জন শ্রমিক নিয়োগে প্রার্থীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এজন্য দফায় দফায় তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর পুরনো জারি হওয়া আদেশে এসব শ্রমিক নিয়োগের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত ১৬ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোজ কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ডিএনসিসিতে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে ১৪৫ শ্রমিক নিয়োগ সম্পন্ন করতে বলা হয়। ওই আদেশে বলা হয়, ‘গত বছর ৫ জুলাই জরুরি প্রয়োজনে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে প্রথম দফায় ৪৫ জন শ্রমিক নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বছরের নভেম্বরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে গত ফেব্রুয়ারিতে চাকরি প্রার্থীদের ইন্টারভিউ নেয়ার পর কোনো প্রতিবেদনসহ চাকরি প্রার্থীদের তালিকা জমা দেয়া হয়নি। ডিএনসিসির পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফায় দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে আরো ১শ’ শ্রমিক নিয়োগের অনুমতির আবেদন করলে গত ৩০ মে জরুরি ভিত্তিতে এই ১শ’ শ্রমিক নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু ডিএনসিসি আজো ওই শ্রমিকদের নিয়োগ সম্পন্ন করেনি।’ মন্ত্রণালয়ের ওই অফিস আদেশে তিন দিনের মধ্যে বাছাই করা শ্রমিকদের তালিকা প্রতিবেদনসহ দাখিল করতে বলা হয়। আর এ সময়ের মধ্যে চাকরিপ্রার্থী শ্রমিক বাছাই করা তালিকা এবং প্রতিবেদন পাঠাতে ব্যর্থ হলে মন্ত্রণালয়ের দেয়া পূর্বের স্মারকদ্বয়ে শ্রমিক নিয়োগের অনুমোদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
‘শ্রমিক নিয়োগে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের সঙ্গে আমি জড়িত নই। কারা নিয়েছেন তাও জানি না। কোনো মহল আমার নামে অপপ্রচার চালাতে পারে। তবে মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা না গেলেও এ নিয়োগে কোনো অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হবে না।’
- See more at: http://www.manobkantha.com/2013/09/08/137870.html#sthash.tErA3GDg.dpuf