Wednesday, October 23, 2013

ডিসিসির জায়গাতেই অবৈধ পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে

এমএ বাবর
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে প্রায় অর্ধশত অবৈধ পশুর হাট বসার প্রস্তুতি চলছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এসব হাট বসানো হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে ডিসিসি স্টাফ কোয়ার্টারের খালি জায়গায় হাট বসানোর ব্যবস্থা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত একটি চক্র। এখানে পশুর হাট বসানোর ব্যাপারে এ চক্রের সদস্যরা ইতিমধ্যে গরু ও ছাগলের পাইকারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে ঢাকা মহানগরীতে বৈধ হাটের পাশাপাশি বেশকিছু অবৈধ পশুর হাট বসায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এসব হাটের কারণে চরম জনদুর্ভোগেরও সৃষ্টি হয়। কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল কয়েকজনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব হাট বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় না। এমনকি এসব পশুর হাটে স্থানীয় থানা পুলিশকে টহল দিতেও দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ এসব পশুর হাট ঘিরে রাজধানীতে প্রতিবছর প্রায় ৫০ কোটি টাকার লেনদেন হয়। যার ভাগবাটোয়ারা হয় ডিসিসির দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাশালীদের মধ্যে।
Photo: http://manobkantha.com/2013/09/13/138540.html 
আগামী মাসের মাঝামাঝি ঈদুল আজহা। এ ঈদে রাজধানীতে প্রায় ৫০ লাখ গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানি হয়। কোরবানির এসব পশু বেচাকেনার জন্য ডিসিসি ও ঢাকা জেলা প্রশাসন মিলে ২৫ থেকে ২৭টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু প্রতিবছর ডিসিসির এলাকায় বৈধ হাটের পাশাপাশি ২০-২৫টি অবৈধ পশুর হাট বসে।
 
খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে নগরীতে ২০টি অবৈধ পশুর হাটের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে মগবাজার দিলু রোড, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রায়েরবাগের জনতাবাগ, সূত্রাপুর ও উত্তরা উল্লেখযোগ্য। 
 
ধলপুরে ডিসিসি স্টাফ কোয়ার্টারের খালি জায়গায় অবৈধভাবে পশুর হাট বসানোর আয়োজন করছেন ডিএসসিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী। এদিকে পুরনো ঢাকার চাঁনখারপুলে একটি পশুর হাট বসানোর যাবতীয় আয়োজন শুরু করেছেন একজন যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। আর এটাকে বৈধতা দেয়ার জন্য সম্প্রতি ডিএসসিসিতে একটি আবেদন করা হয়েছে। 
কিন্তু এখানে কোনো বৈধ অস্থায়ী পশুর হাট দেয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ। তারপরও সেখানে পশুর হাট বাসানোর প্রস্তুতি চলছে। এসব অবৈধ হাটের আয়োজকরা পশুর ধরন বুঝে বিক্রেতাদের কাছ থেকে ৫শ’ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায় করেন। আবার অনেক হাটে বৈধ হাটের মতোই ৫ শতাংশ হারে হাসিলের টাকা আদায় করা হয়। 
 
অন্যদিকে অবৈধ হাট উচ্ছেদ করতে গিয়েও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের তোপের মুখে পড়তে হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতকে। গত বছর তেজগাঁওয়ে একটি অবৈধ হাট উচ্ছেদ করতে গিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের লোকজন লাঞ্ছিত হন। এ সময় উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ কামাল হোসেনের গাড়ি ভাঙচুর হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু একজন মন্ত্রীর ধমকে কিছুক্ষণের মধ্যে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সিটি কর্পোরেশনের লোকজন। 
 
এদিকে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক ও ডিএসসিসির প্রশাসক নাজমুল ইসলাম বলেছেন, অনুমোদিত ১৯টি অস্থায়ী পশুর হাটের বাইরে কোথাও একটি হাটও বসতে দেয়া হবে না। এ জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে।
- See more at: http://manobkantha.com/2013/09/13/138540.html#sthash.zF2kS9Ln.dpuf

No comments: