Thursday, October 24, 2013

আশিয়ান গ্রুপের সুনাম ক্ষুণœ করতে মরিয়া বসুন্ধরা গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আবাসন ব্যবসার নামে নানা অন্যায়, অনিয়ম ও অপকর্মের ধারক-বাহক হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিপক্ষসুলভ আচরণ যেন কিছুতেই থামছে না। রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারদের বিরুদ্ধে হত্যা, গুম ও অন্যের জমি দখলের অভিযোগ। এসব অভিযোগে আইনের ফাঁকফোকর থেকে অভিযুক্তরা বেরিয়ে এসেও আবার বিভিন্ন অপকর্মের জোগান দিচ্ছেন। আর নিজেদের ললাটের অন্যায়-অনিয়মের কালিমা অন্যের ললাটে স্থাপনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আশিয়ান গ্রুপের বিরুদ্ধে চালানো হচ্ছে নানা অপপ্রচার আর ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র। তারা আশিয়ান গ্রুপের সুনাম নষ্ট করতে নিজেদের মালিকানাধীন সংবাদপত্র ও একটি অনলাইন পত্রিকায় অসত্য সংবাদ প্রকাশসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ স্বার্থান্বেষী মহলটি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টিতে নানা ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
Photo: http://manobkantha.com/2013/10/12/142683.html
রাজধানীর সন্নিকটে রূপগঞ্জের (নারায়ণগঞ্জ) ইছাপুরায় ২০১১ সালের শেষের দিকে ‘জলসিঁড়ি’ আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করে আশিয়ান গ্রুপ। কিন্তু এ আবাসন প্রকল্প শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপ আশিয়ান গ্রুপের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে। আশিয়ান গ্রুপ যাতে ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন না করতে পারে সেজন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়ে। নাওড়া ও ইছাপুরা গ্রামবাসীকে উসকে দেয়। এতে জলসিঁড়ি প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি কিনতে বেগ পেতে হয় আশিয়ান গ্রুপকে। গ্রামবাসীকে বুঝিয়ে আর অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে জলসিঁড়ি প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি সংগ্রহ করা হয়। আর এ কাজে সহযোগিতা করেন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার (সদস্য) ও নাওড়া এলাকার স্থানীয় যুবলীগ নেতা মোশারফ ভূঁইয়া।
 
এদিকে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ মোশারফ ভূঁইয়ার পেছনে তাদের প্রতিষ্ঠিত সন্ত্রাসী রফিক বাহিনীকে (আন্ডা রফিক) লেলিয়ে দেয়। আর রফিক বাহিনী নানা ধরনের ষড়যন্ত্রের জাল সৃষ্টি করে মোশারফকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমার ফাঁদে ফেলে। মোশারফের বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে এলেও তাদের হুমকি-ধমকি দেয় রফিক বাহিনী।
অন্যদিকে জলসিঁড়ির সূত্র ধরে বসুন্ধরা আশিয়ান গ্রুপের ব্যবসায়িক সাফল্য ক্ষুণœ করতে নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়। এভাবে একাধিক ষড়যন্ত্র ও কূটকৌশলের জালে আশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টদের জড়াতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।   
সূত্র জানায়, বসুন্ধরা গ্রুপের কর্ণধারদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৭ সালের ৪ জুলাই বসুন্ধরা টেলিকমের পরিচালক হুমায়ুন কবির সাব্বির বসুন্ধরার ১০৬ নম্বর ফ্ল্যাটে খুন হন। এ হত্যার অভিযোগে সিআইডি তদন্ত শেষে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ আলমের ছেলে সানবীরসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। সাব্বির খুন হওয়ার কিছুদিন পর সানবীর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় তৎকালীন একজন প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে এ মামলায় আইনের ফাঁকফোকর থেকে বেরিয়ে আসেন তারা। বিগত তত্ত্বাবধায়ক (১/১১) সরকারের সময় গ্রেফতার হওয়ার পর সেই প্রতিমন্ত্রী জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে, তিনি সানবীরকে খুনের মামলায় বাঁচাতে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকের কাছ থেকে ২১ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। এছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপের জমি আগ্রাসনের শিকারে খুন হয়েছেন ভাটারা থানা এলাকার আরো কয়েকজন। এলাকাবাসীর দাবি, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত করলে এসব হত্যার আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে।
- See more at: http://manobkantha.com/2013/10/12/142683.html#sthash.yKQuRMFr.dpuf

No comments: