এমএ বাবর
জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মালিকানাধীন কয়েক হাজার কোটি টাকার প্লট এবং বাড়ি হাতিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র। রাজউকের আইন শাখার অসাধু কিছু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত এ সংঘবদ্ধ চক্রটির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গুলশান ও বনানী এলাকার মালিকানা নিয়ে বিরোধপূর্ণ ৩৮ বাড়ি ও প্লট হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সরকারি এসব সম্পত্তি উদ্ধারে এবার মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) মালিকানাধীন কয়েক হাজার কোটি টাকার প্লট এবং বাড়ি হাতিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র। রাজউকের আইন শাখার অসাধু কিছু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত এ সংঘবদ্ধ চক্রটির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে গুলশান ও বনানী এলাকার মালিকানা নিয়ে বিরোধপূর্ণ ৩৮ বাড়ি ও প্লট হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে সরকারি এসব সম্পত্তি উদ্ধারে এবার মাঠে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র ধরতে চলতি মাসেই দুদকের একটি অনুসন্ধান কমিটি মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করবে। দুদকে প্রাপ্ত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক জালিয়াত চক্র নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রভাবশালী এ জালিয়াত চক্রটি পরস্পরের যোগসাজশে ভুয়া এবং জাল কাগজপত্রের ভিত্তিতে নিু ও উচ্চ আদালতে অসংখ্য মামলার ফাঁদে ফেলে একের পর এক সম্পত্তি গ্রাস করে চলেছে। 

আর সুযোগসন্ধানী এ জালিয়াত চক্র বরাবরই সব সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসব সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার কাজে উঠেপড়ে লাগে। সম্প্রতি রাজউকের কিছুসংখ্যক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও আইনজীবীর যোগসাজশে এবং স্বার্থান্বেষী মহলের মদতে ওই সংঘবদ্ধ চক্রটি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি চক্রটির হাতিয়ে নেয়া কয়েকটি প্লটের মূল ফাইলও রাজউক থেকে গায়েব হয়ে গেছে।
রাজউকের ভূমি, এস্টেট ও আইন শাখার কতিপয় কর্মচারী, প্যানেলভুক্ত কয়েক বর্তমান ও সাবেক আইনজীবীই হচ্ছেন সম্পত্তি গ্রাসের মূল পরামর্শদাতা এবং নাটের গুরু। তারাই ওইসব বিতর্কিত ও একাধিক মালিকানার বাড়ি এবং প্লটের সব জাল কাগজপত্র তৈরি করে মামলার ফাঁদে ফেলে সরকারি এসব সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার পথ তৈরি করে দেন। এসব অসৎ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আইনজীবীই পরস্পর যোগসাজশ করে পরিত্যক্ত, বিতর্কিত ও একাধিক মালিকানার বিরোধপূর্ণ প্লট, বাড়ি ও জমির খবর প্রথমে প্রভাবশালী জালিয়াত চক্রের কাছে সরবরাহ করে।
সেই অনুযায়ী সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রটি ওই জমি, প্লট বা বাড়ির মালিকানার দাবির স্বপক্ষে ভুয়া দলিল, পর্চা, জরিপ রেকর্ড, আমমোক্তারনামা ও দানপত্রসহ যাবতীয় জাল কাগজ তৈরি করে। এক পর্যায়ে তারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সম্ভাব্য প্রাপ্ত জমি বা বাড়ির ভাগবাটোয়ারার শর্তে আদালতে দুই বা ততোধিক বা আরো অধিকসংখ্যক মামলা দায়ের করে। প্রতিটি গ্রুপই আদালতে প্লট বা জমির মালিকানা দাবিতে জাল দলিল ও কাগজপত্র দাখিল করে এবং রাজউকের আইনজীবীর সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের চুক্তি ও সমঝোতায় এসে আইনি লড়াইয়ে নেমে পড়ে।
এ পর্যায়ে এসে আদালত রাজউকের কাছ থেকে দাবিকৃত জমি বা বাড়ির প্রকৃত তথ্য ও কাগজপত্র চেয়ে পাঠান। এ সুযোগে রাজউকের ওইসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনজীবী সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্রের পক্ষে আইনি মতামতসহ আদালতে কাগজপত্র জমা দেন। এক পর্যায়ে নিু আদালতের রায় যায় প্রতারক চক্রের একজনের পক্ষে। এ পর্যায়ে এসে নিু আদালত থেকে রায় পাওয়া প্রতারক চক্রটি অন্যান্য জমির মালিকানা দাবিদারদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে সমঝোতা চুক্তি করেন এবং রাজউকের উল্লিখিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেন। রাজউকও উচ্চ আদালতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। এ অবস্থায় উচ্চ আদালতে মামলা ঝুলে থাকে বছরের পর বছর। আর মামলার ফাঁক ফোকরে এক পর্যায়ে উল্লিখিত জমি সরকারের হাতছাড়া হয়ে যায়।
দুদকে প্রাপ্ত অভিযোগে সরকারের যেসব বাড়ি ও প্লট হাতিয়ে নেয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো গুলশান মডেল টাউনের ৫৯ নম্বর সড়কের এনডব্লিউ (ই)-২ নম্বরে প্লটটি, গুলশান দুই নম্বর সার্কেলের ৫৯ নম্বর সড়কে এক বিঘা আয়তনের এনডব্লিউ (ই)-২ নম্বর প্লট।
এছাড়া রাজউকের তালিকায় বিতর্কিত প্লটগুলোর মধ্যে গুলশানের ১১ নম্বর সড়কের এসডব্লিউ (এ)-৩০ নম্বর প্লট, ৪১ নম্বর সড়কের সিডব্লিউএন (এ)-৪৩ নম্বর প্লট, ৪৪ নম্বর সড়কে সিডব্লিউএন (বি)-৬ নম্বর প্লট ও একই সড়কে সিডব্লিউএন (বি)-২৮ নম্বর প্লট।
কয়েকটি প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র সরকারের অনেক মূল্যবান সম্পত্তি হাতিয়ে নিচ্ছে উল্লেখ করে দুদক কমিশনার মো. বদিউজ্জামান বলেন, এ দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজউকের সহযোগিতায় দুদকের অনুসন্ধান কমিটি অতিসত্বর মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করবে। এ দুষ্টচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণ তথ্য দিয়েও অনুসন্ধান কমিটিকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি। প্রয়োজনে তথ্য দাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।
- See more at: http://manobkantha.com/2013/06/15/125745.html#sthash.1nrcTZyr.dpufদুদকে প্রাপ্ত অভিযোগে সরকারের যেসব বাড়ি ও প্লট হাতিয়ে নেয়া হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো গুলশান মডেল টাউনের ৫৯ নম্বর সড়কের এনডব্লিউ (ই)-২ নম্বরে প্লটটি, গুলশান দুই নম্বর সার্কেলের ৫৯ নম্বর সড়কে এক বিঘা আয়তনের এনডব্লিউ (ই)-২ নম্বর প্লট।
এছাড়া রাজউকের তালিকায় বিতর্কিত প্লটগুলোর মধ্যে গুলশানের ১১ নম্বর সড়কের এসডব্লিউ (এ)-৩০ নম্বর প্লট, ৪১ নম্বর সড়কের সিডব্লিউএন (এ)-৪৩ নম্বর প্লট, ৪৪ নম্বর সড়কে সিডব্লিউএন (বি)-৬ নম্বর প্লট ও একই সড়কে সিডব্লিউএন (বি)-২৮ নম্বর প্লট।
কয়েকটি প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র সরকারের অনেক মূল্যবান সম্পত্তি হাতিয়ে নিচ্ছে উল্লেখ করে দুদক কমিশনার মো. বদিউজ্জামান বলেন, এ দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজউকের সহযোগিতায় দুদকের অনুসন্ধান কমিটি অতিসত্বর মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করবে। এ দুষ্টচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণ তথ্য দিয়েও অনুসন্ধান কমিটিকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি। প্রয়োজনে তথ্য দাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।
No comments:
Post a Comment