এম এ বাবর
বৃষ্টির পানিসহ ঢাকা মহানগরীর ময়লা পানি অপসারণে ব্যবহৃত সারফেস ড্রেনের বিগত তিন-চার বছরে তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। অথচ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় সারফেস ড্রেন সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে ডিসিসির দুর্নীতিবাজ কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে গঠিত সংঘবদ্ধ চক্র এ খাতে বরাদ্দের টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।
বৃষ্টির পানিসহ ঢাকা মহানগরীর ময়লা পানি অপসারণে ব্যবহৃত সারফেস ড্রেনের বিগত তিন-চার বছরে তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। অথচ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় সারফেস ড্রেন সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে ডিসিসির দুর্নীতিবাজ কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে গঠিত সংঘবদ্ধ চক্র এ খাতে বরাদ্দের টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় মোট সারফেস ড্রেন রয়েছে ৮৯৫ দশমিক ২০৬ কিলোমিটার। আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় মোট সারফেস ড্রেন রয়েছে এক হাজার ১৫৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার। অবিভক্ত ডিসিসির সময় এসব সারফেস ড্রেন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অতিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও দুই ডিসিসি এরিয়া মিলিয়ে বর্তমানে ৫শ’ কিলোমিটার সারফেস ড্রেন ভালো নেই। রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে অনেক এলাকার সারফেস ড্রেন বিলীন হয়ে গেছে। যার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই নগরীর বেশির ভাগ আবাসিক এলাকার রাস্তায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে ময়লা পানি রাস্তা গড়িয়ে ওয়াসার ড্রেন দিয়ে অপসারিত হয়।
ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির বর্তমান অর্থবছরসহ বিগত তিন অর্থবছরের বাজেটে রাস্তা, ফুটপাত ও সারফেস ড্রেন সংস্কার বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিএসসিসি ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ব্যয় দেখিয়েছে ১৪৩ কোটি টাকা। এছাড়া বর্তমান অর্থবছরে (২০১৩-১৪) বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২৫ কোটি টাকা।
ডিএনসিসির ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ব্যয় দেখানো হয়েছে ২০৩ কোটি টাকা। আর বর্তমান অর্থবছরে (২০১৩-১৪) অর্থবছরের জন্য ব্যয় রাখা হয়েছে ১৬০ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে বিগত দুই অর্থবছরে শুধু সারফেস ড্রেন বাবদ বিল উত্তোলন করা হয়েছে প্রায় একশ’ কোটি টাকা। অথচ নগরীর অধিকাংশ এলাকার সারফেস ড্রেন তিন-চার বছর আগ থেকেই ব্যবহারের সক্ষমতা হারিয়েছে। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে নগরীর বেশির ভাগ রাস্তায় পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
সরেজমিন কিছু এলাকার অবস্থা: রামপুরা এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিগত চার বছরে তাদের এলাকায় কোনো সারফেস ড্রেনের উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। মাঝেমধ্যে প্রধান সড়কের ড্রেন পরিষ্কার কার হলেও তার সুফল এলাকাবাসী পায় না। আবাসিক এলাকার ড্রেন বন্ধ হয়ে রাস্তায় পানি ময়লা দুর্গন্ধ পানি জমে গেলে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে ড্রেন পরিষ্কার করান। মিরপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান দীর্ঘ চার-পাঁচ বছরে এ এলাকার সারফেস ড্রেন সংস্কার হয়েছে এমন কোনো নজির নেই। এসব এলাকার অনেক ড্রেনের দেয়াল ভেঙে দীর্ঘদিন ভেতরে পড়ে আছে। এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে মাঝে মাঝে ড্রেন পরিষ্কার করান। এমন অভিযোগ রাজধানীর সব এলাকাতেই।
এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (সার্কেল-২) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘সারফেস ড্রেনের কাজ প্রতি বছরই করানো হয়। সারফেস ড্রেন না করা হলে বর্ষা মৌসুমে পানি কীভাবে নদীতে যায়। তবে এ খাতে আমাদের যে বাজেট বরাদ্দ থাকে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কাজগুলো করানো হয়।’ তবে বিগত দু’বছর কোনো কোনো এলাকার সারফেস ড্রেনের কাজ করানো হয়েছে এ ব্যাপারে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
No comments:
Post a Comment