Wednesday, October 23, 2013

ডিসিসি নিয়ন্ত্রণ করছেন বহিরাগত ৯ প্রভাবশালী

এমএ বাবর
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নিয়ন্ত্রণ করছেন বহিরাগত ৯ প্রভাবশালী ব্যক্তি। রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পদে নিয়োজিত দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এই প্রভাবশালীরা সংস্থা দুটি লুটেপুটে খাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে এ প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সংস্থার নিজস্ব সম্পত্তি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দখল, টেন্ডার জালিয়াতি, ক্রয় ও ভাণ্ডার বিভাগ থেকে নানা কৌশলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলিতেও তারা প্রভাব বিস্তার করছেন।
Photo: http://manobkantha.com/2013/07/05/128615.html
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির টেন্ডার থেকে শুরু করে ক্রয়-বিক্রয়সহ সব ধরনের কার্যক্রমে বড়ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করছেন দক্ষিণাঞ্চলের একজন তরুণ এমপি, মহানগর যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা। এদের প্রায় প্রত্যেকেরই নিজের নামে-বেনামে রয়েছে একাধিক ঠিকাদারি লাইসেন্স। আর তাদের সহযোগিতায় রয়েছেন সংস্থা দুটির শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। এরই মধ্যে তারা সংস্থা দুটির উন্নয়নকাজে চক্রটি বেশ কিছু অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্ম করে ফেলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ চক্রটি নিজেদের সুবিধাজনক পত্রিকায় নামমাত্র বিজ্ঞাপন দিয়ে নিজেদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে টেন্ডার বাগিয়ে নিয়েছে
অনেক সময় বিভিন্ন পত্রিকার ভেতরের পাতায় নিজেরা টেন্ডার ছাপিয়ে বাগিয়ে নেন কাজ। আর সে কাজ না করেই তারা হাতিয়ে নিচ্ছেন বরাদ্দের টাকা। এছাড়া চক্রটি সংস্থা দুটির ক্রয় ও ভাণ্ডার বিভাগে মশক নিধন প্রকল্প, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির টেন্ডার নিজেদের দখলে নিয়ে নামমাত্র ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি ক্রয় করে ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি এ চক্রের সহযোগিতায় ফাইল জালিয়াতি, নোটশিট বদল, মন্ত্রী-এমপির সুপারিশ ও স্বাক্ষর জাল এবং সার্ভে নকশা পরিবর্তন করে ডিএসসিসির বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকার বঙ্গবাজার ও ঢাকা ট্রেড সেন্টারের দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ওই প্রভাবশালীদের দুই এবং সংস্থার সম্পত্তি বিভাগের কয়েক কর্মকর্তার যোগসাজশে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বরাদ্দপ্রাপ্তদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। 
এ অপকর্মে চক্রটি একজন প্রতিমন্ত্রী ২ জন এমপি ও ডিসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করেছে। আর তাদের সুপারিশ কম্পিউটারে স্ক্যান করে বসিয়ে ফাইলের প্রথম পাতা ফেলে দিয়ে পুনরায় দুই পাতা সংযোজন ও পরিবর্তন করেছেন। মূল নথিতে কাটাকাটি ও ঘষামাজার মাধ্যমে বরাদ্দের বিবরণ পরিবর্তন করে মেয়রের অনেক আগের স্বাক্ষর নিয়ে অনুমোদন নিয়ে নেন।
এদিকে প্রভাবশালী চক্র গত বছরের অক্টোবর মাসে খিলগাঁও, মাদারটেক, বাসাবো এলাকার ভাঙা সড়ক ও ড্রেন মেরামতের নামে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ডিএসসিসির ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরস্পর যোগসাজশে দুটি জাতীয় পত্রিকার ভেতরের পাতা স্ক্যান করে নিজেদের কম্পোজ করা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি বসিয়ে হুবহু নকল পত্রিকা ছেপে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
অন্যদিকে জাল-জালিয়াতি, অনিয়মের মাধ্যমে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসির আন্তঃজেলা তিনটি বাস টার্মিনাল ইজারার নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার লুটপাট চলছে। চক্রটি ইজারাদার ও সংস্থা দুটির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে রাজধানীর মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে প্রতি বছর ৫-৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে।

অভিযোগ রয়েছে- এ কাজে সহযোগিতা করছেন সংস্থার টার্মিনাল বিভাগ এবং অভ্যন্তরীণ অডিট বিভাগের কতিপয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এছাড়া এ প্রভাবশালী চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করছে উন্নয়ন সংস্থার বিজ্ঞাপন সেল, বিউটিফিকেশন, পরিবহনের তেল, ভাগাড়ের মালামাল বিক্রি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ক্লিনারদের চাকরিতে নিয়োগ-বাণিজ্য, বিভিন্ন এলাকায় নগদ টাকায় পরিচ্ছন্ন কাজ করানো এবং কমিউনিটি সেন্টার ভাড়াও। 
আর মশার ওষুধ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার দরপত্র আহ্বান থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়াই হচ্ছে বিস্তর দুর্নীতি। এ ব্যাপারে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম এনামুল হক ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনছার আলী বলেন, কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সংস্থার কোনো কাজ বা টেন্ডার অনুমোদন দেয়া হচ্ছে না। কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে টেন্ডার ও প্রকল্পের কাজ অনুমোদন দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সে প্রকল্পের অর্থ ছাড় দেয়া হবে না।
- See more at: http://manobkantha.com/2013/07/05/128615.html#sthash.6Dh8Q9X2.dpuf

No comments: