দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) দুই দফায় ১৪৫ শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম চলছে। অভিযোগ রয়েছে এ নিয়োগে সরকারদলীয় দু’জন এমপিসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে। আর এতে মদত দিচ্ছেন ডিএনসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া অনেক কর্মচারী সংস্থায় কাজ না করেও ১২ থেকে ১৬ বছর ধরে মাসিক বেতন পাচ্ছেন। আর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে এ ধরনের শ্রমিকের সংখ্যা রয়েছে শতাধিক। একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিসিসিতে দৈনিক বেতনভুক্ত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা প্রতি মাসে আট হাজার টাকা বেতন পান। যে সব শ্রমিক কাজ না করে বেতন নিয়ে থাকেন তারা এ বেতন থেকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা পান। বাকি তিন হাজার টাকা সিন্ডিকেটের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয়।
এবারো এ ধরনের শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ডিএনসিসিতে। পুরনো জারিকৃত আদেশের ভিত্তিতে ১৪৫ জন শ্রমিক নিয়োগে প্রার্থীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর এজন্য দফায় দফায় তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর পুরনো জারি হওয়া আদেশে এসব শ্রমিক নিয়োগের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত ১৬ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সরোজ কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ডিএনসিসিতে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে ১৪৫ শ্রমিক নিয়োগ সম্পন্ন করতে বলা হয়। ওই আদেশে বলা হয়, ‘গত বছর ৫ জুলাই জরুরি প্রয়োজনে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে প্রথম দফায় ৪৫ জন শ্রমিক নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। ওই বছরের নভেম্বরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে গত ফেব্রুয়ারিতে চাকরি প্রার্থীদের ইন্টারভিউ নেয়ার পর কোনো প্রতিবেদনসহ চাকরি প্রার্থীদের তালিকা জমা দেয়া হয়নি। ডিএনসিসির পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফায় দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে আরো ১শ’ শ্রমিক নিয়োগের অনুমতির আবেদন করলে গত ৩০ মে জরুরি ভিত্তিতে এই ১শ’ শ্রমিক নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু ডিএনসিসি আজো ওই শ্রমিকদের নিয়োগ সম্পন্ন করেনি।’ মন্ত্রণালয়ের ওই অফিস আদেশে তিন দিনের মধ্যে বাছাই করা শ্রমিকদের তালিকা প্রতিবেদনসহ দাখিল করতে বলা হয়। আর এ সময়ের মধ্যে চাকরিপ্রার্থী শ্রমিক বাছাই করা তালিকা এবং প্রতিবেদন পাঠাতে ব্যর্থ হলে মন্ত্রণালয়ের দেয়া পূর্বের স্মারকদ্বয়ে শ্রমিক নিয়োগের অনুমোদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
‘শ্রমিক নিয়োগে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের সঙ্গে আমি জড়িত নই। কারা নিয়েছেন তাও জানি না। কোনো মহল আমার নামে অপপ্রচার চালাতে পারে। তবে মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা না গেলেও এ নিয়োগে কোনো অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হবে না।’
- See more at: http://www.manobkantha.com/2013/09/08/137870.html#sthash.tErA3GDg.dpuf
No comments:
Post a Comment