এমএ বাবর
নানা অনিয়মের মধ্যে চলছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বিজ্ঞাপন বিভাগ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। কোনো ধরনের মাস্টারপ্ল্যান ছাড়াই চলছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বিভাগ দুটি। আর ঢাকা মহানগরীতে সৌন্দর্যবর্ধন ও বিজ্ঞাপন নীতিমালা-২০০৯ থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই। অভিযোগ রয়েছে, সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় জাল-জালিয়াতি ও ভুয়া কাজ দেখিয়ে ডিসিসির এ খাত থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট হয়ে যাচ্ছে।
নানা অনিয়মের মধ্যে চলছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বিজ্ঞাপন বিভাগ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। কোনো ধরনের মাস্টারপ্ল্যান ছাড়াই চলছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বিভাগ দুটি। আর ঢাকা মহানগরীতে সৌন্দর্যবর্ধন ও বিজ্ঞাপন নীতিমালা-২০০৯ থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই। অভিযোগ রয়েছে, সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় জাল-জালিয়াতি ও ভুয়া কাজ দেখিয়ে ডিসিসির এ খাত থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট হয়ে যাচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) গত অর্থবছরে বিজ্ঞাপন বিভাগ থেকে আয় করে ৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় ব্যয় করে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ডিএনসিসির বিজ্ঞাপনে আয় ধরা হয় ১০ কোটি টাকা এবং বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা ব্যয় রাখা হয় দেড় কোটি টাকা।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) গত অর্থবছরে বিজ্ঞাপন বিভাগ থেকে আয় করে ৩ কোটি টাকা। আর বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় ব্যয় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ডিএসসিসির বিজ্ঞাপনে আয় ধরা হয় ৫ কোটি টাকা এবং বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় ব্যয় রাখা হয় দেড় কোটি টাকা। তবে এ বিজ্ঞান ও প্রচারণায় কোন কোন খাতে ওই টাকা ব্যয় হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই সংস্থা দুটির কাছে।
অনুসন্ধানের জানা যায়, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্পটে প্রতিবছর যে পরিমাণ বিজ্ঞাপন প্রদর্শন হয় তার ২০ ভাগের হিসাব থাকে ডিসিসির তালিকায়। বাকি বিজ্ঞাপনগুলো সংস্থার ওই বিভাগীয় এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর ডিসিসির তালিকার বাইরে রেখে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এছাড়া বিজ্ঞাপনদাতার চাহিদামাফিক স্পটে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও অন্যায়ভাবে আড়ালে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়।
ঢাকা মহানগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির নামে ডিএনসিসি গত অর্থবছরে ব্যয় করে ১০ লাখ টাকা ও চলতি অর্থবছরের জন্য ব্যয় ধরেছে ৫০ লাখ টাকা। অন্যদিকে ডিএসসিসি এ কাজে ব্যয় করে ১ কোটি টাকা ও চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ রাখেছে ৩ কোটি টাকা। সার্বিকভাবে বরাদ্দের এ পরিমাণ টাকা কিভাবে এবং কোন পদ্ধতিতে ব্যয় হচ্ছে তার মাস্টারপ্ল্যান নেই সংস্থা দুটির।
সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজগুলো স্পন্সর ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানি করে দিয়ে থাকে। এ খাতে বরাদ্দের সিংহভাগ টাকাই ব্যয় হয় না।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম বলেন, ডিএসসিসির এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও বিজ্ঞাপন মাস্টারপ্ল্যান আইন-২০০৯ পরিবর্তন বা পরিবর্ধন কাজ প্রক্রিয়াধীন। এতে ডিএসসিসির সীমানার মধ্যে যে কোনো ভূমি বা ভবনের ছাদে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়মের মধ্যে আনা হবে। এছাড়া বিজ্ঞাপন ও সৌন্দর্যবর্ধনের আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত নকশা ও স্থাপত্য নকশা ডিএসসিসির স্থপতির মাধ্যমে অনুমোদন হতে হবে। বিজ্ঞাপন ও সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয়টি একটি নিয়মের মধ্যে আনা গেলে মহানগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সংস্থার রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক বলেন, প্রচলিত আইনেই বিজ্ঞাপন ও মাস্টারপ্ল্যানের কাজ চলছে। তবে এটি সময় উপযোগী করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।
http://manobkantha.com/2013/07/14/130021.html
No comments:
Post a Comment