রাস্তা পারাপারে চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) বিশিষ্ট দেশের প্রথম ফুট ওভারব্রিজ নির্মিত হচ্ছে রাজধানী বনানীর ১১ নম্বর রোড ও এয়ারপোর্ট রোডের মধ্যবর্তী স্থানে। এতে ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হতে পথচারীকে আর হেঁটে উঠতে হবে না।
সিঁড়িতে উঠে দাঁড়ালেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পথচারীকে মূল ব্রিজে পৌঁছে দেবে। ২০ মিটার দীর্ঘ এ ওভারব্রিজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে দেড় কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।
বনানী ওভারব্রিজ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সড়ক থেকে ওভারব্রিজটির উচ্চতা হবে বিদ্যমান ফুট ওভারব্রিজের চেয়ে এক মিটার কম অর্থাৎ সাড়ে পাঁচ মিটার। পথচারীদের সুবিধার্থে পুরো ফুটওভারব্রিজের ওপরে থাকবে মজবুত ছাউনি। মানুষ ওঠার জন্য ব্রিজের দুই প্রান্তে ৮০০ মিলি মিটার চওড়া একটি করে এস্কেলেটর থাকবে। নামার জন্য থাকবে এক হাজার ২০০ মিলি মিটার চওড়া সাধারণ সিঁড়ি। চলন্ত সিঁড়িটি ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সচল থাকবে। এ সময়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক লোডশেডিং হলে জেনারেটরের মাধ্যমে এই সিঁড়ি চালু রাখা হবে। আর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য থাকবে ডিএনসিসির নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক সেহাব উল্লাহ বলেন, ‘জাপানি প্রযুক্তিতে মালয়েশিয়ায় তৈরি যন্ত্রাংশ এই ফুটওভারব্রিজে ব্যবহার করা হবে। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষকে জমা দেয়া রয়েছে। দাফতরিক কাজ শেষ হলেই এলসি করা হবে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও মালামাল আমদানিতে সময় লেগে যাবে আরো তিন-চার মাস। সব মিলিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়।’
তিনি বলেন, এ প্রকল্পের সুফল পাওয়া গেলে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে রাজধানীর সব ফুটওভারব্রিজই এ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে রাজধানীতে ২৩টি ফুটওভারব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১০টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৩টি।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা বনানী ফুটওভারব্রিজটিতে চলন্ত সিঁড়ি স্থাপনের কাজ শেষ করতে চাই। এ জন্য দাফতরিক প্রয়োজনীয় সব কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলতি বছরের মধ্যেই সব কাজ শেষ করে এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হবে। তিনি বলেন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীনসহ উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের চলন্ত সিঁড়ির ফুট ওভারব্রিজ রয়েছে। তাই আমরাও সব ফুটওভারব্রিজেই চলন্ত সিঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। পাইলট প্রকল্প হিসেবে বনানী ওভারব্রিজের কাজ নেয়া হয়েছে। এটিতে পথচারীদের ভালো সাড়া পেলে ডিএনসিসির সব ফুটওভারব্রিজই এ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
No comments:
Post a Comment