Thursday, October 24, 2013

ডিসিসির চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরাও কোটিপতি!

এম এ বাবর
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) দুই অংশেই জাল-জালিয়াতি ও দুর্নীতি-অনিয়মের মহোৎসব চলছে। সংস্থায় কর্মরত বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারীই কোটিপতি হয়ে গেছেন। এমনকি এখানকার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের অনেকেই রাজধানীতে জমি ও বাড়ির মালিক হয়েছেন। এদিকে সংস্থাটিতে দীর্ঘ বছর ধরে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব চললেও সরকারের পক্ষ থেকে এগুলো প্রতিরোধে কার্যকরী উদ্যোগ নেই। ফলে নগর উন্নয়নের নামে চলছে দেদার লুটপাট ও অর্থ অত্মসাতের প্রতিযোগিতা। 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডিসিসির জনৈক বাজার সুপারভাইজার খুব অল্প সময়ের কর্মজীবনে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তিনি বাজার সুপারভাইজারের পাশাপাশি অতিরিক্ত ডেপুটি ট্যাক্স অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থ-সম্পদ তার নিজের নামে-বেনামে, স্ত্রী, শ্যালক ও শ্বশুরের নামে করছেন। সূত্র জানায়, তার অর্জিত সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দক্ষিণ বনশ্রীর ব্লক-এল, রোড নং-১৩ এর ১৭ নম্বর বাড়িতে একটি ফ্লোর (ফ্ল্যাট)। এই ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রী ও শ্যালকের নামে করেছেন। আর এ ফ্ল্যাটের তিনটি রুমে তিনি পরিবারসহ থাকেন। বাকি রুমগুলো ভাড়া দিয়েছেন। Photo: http://manobkantha.com/2013/09/29/140843.html
এছাড়া তার নিজের নামে বাড্ডার সাতারকূল মৌজার ১৫৯৭নং দাগে এক বিঘা জমি, নতুন বাজার ১৬/২৩-এ একটি ক্রোকারিজের দোকান, যাত্রাবাড়ী এলাকার ধলপুরে মার্কেটের দুই নম্বর শেডের ৬ নম্বর দোকান, মোহাম্মদপুর রিং রোডের সাঈদ মার্কেটের ১৫ নম্বর দোকান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকার সাঈদ মার্কেটের নিচতলার ৯৬ নম্বর দোকান রয়েছে। তবে সম্প্রতি তিনি নতুন বাজারের ক্রোকারিজের দোকান ও ধলপুর দোকানটি বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।  

ডিএসসিসির সায়েদাবাদ অঞ্চল-৫ এ কর্মরত এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কিন্তু কয়েক বছর আগে ডিসিসির প্রকৌশলী পদে চাকরি পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি কোটিপতি বনে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সংস্থার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে নিয়ে পর্দার অন্তরালে থেকে তিনিই কাজগুলো করে থাকেন। আর নিজেই প্রকৌশলী হওয়ায় নামমাত্র কাজ করে আবার কাজ না করেই উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ করছেন। তার অনিয়মের ঘটনা কর্পোরেশনের কারো অজানা নয়। কিন্তু আর্থিক সুবিধা দিয়ে তিনি কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে রাখছেন। সূত্র জানায়, ঢাকার মিরপুর ও উত্তরায় তার একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ডিএসসিসির নগর ভবন রেস্তোরাঁটিও অনিয়মের মাধ্যমে তার এক নিকট আত্মীয়ের নামে ইজারা নিয়ে আড়ালে থেকে নিজেই চালাচ্ছেন।
মূলত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারী খুঁজে পাওয়া দায়। ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত এক খাদ্য পরিদর্শক আগামীতে চাঁদপুরে একটি দলের ব্যানারে সংসদ নির্বাচন করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য মান যাচাইয়ের নামে বাজার থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন। আর ওই খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকারক উপাদান রয়েছে এমন হুমকি দিয়ে বিশুদ্ধ খাদ্য আইনে মামলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেন। এভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন।

রাজস্ব বিভাগে কর্মরত অপর কর্মকর্তা নানা অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সূত্র জানায়, তার নিজের ও পরিজনের নামে রাজধানীর কয়েক স্থানে জমি ও বাড়ি রয়েছে।
একটি বিশেষ দলের শ্রমিক নেতা পরিচয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদের মালিক। অভিযোগ রয়েছে, তার মাধ্যমেই ঠিকাদারদের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার কাজের অবৈধ লেনদেন হয়। আর এ মধ্যস্থতা করেই তিনি বছরে কোটি টাকার মালিক হন। অন্যদিকে কম্পিউটারভিত্তিক বিভিন্ন দলিলপত্র ডেটাবেজে জালিয়াতি করে কোটিপতি বনে গেছেন ডিএনসিসির এক কম্পিউটার অপারেটর।
এদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন শুধু সরাসরি ডিসিসিতে নিয়োগ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নন। এখানে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া সরকারের অনেক আমলাও কর্মক্ষেত্রে ভয়াবহ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। গত মে মাসে সরাসরি ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও চিত্র নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। আর ওই ভিডিও চিত্রটির মাধ্যমে ডিসিসির একটি ঘুষ লেনদেন চক্রের সন্ধান মিলে যায়। 
ভিডিও চিত্রে ডিএসসিসির একটি কাজ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে ঘুষ আদায়ের সূত্র ধরা পড়ে। আবার চক্রটি কর্পোরেশনের সাসপেন্ড বা চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের চাকরি ফিরে পাওয়ার তদবিরে বাণিজ্যও করেন। আর এর কাজে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় খোদ সংস্থার তৎকালীন এক প্রশাসক। অন্যদিকে সম্প্রতি ডিএনসিসি ১৪৫ অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ নিয়ে জনপ্রতি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সংস্থার সদ্য বিদায়ী এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তিনি ঘুষ নিয়ে অর্ধ শতাধিক শ্রমিককে পুরনো আদেশ জারির ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ১৮ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে ওএসডি করে। 
এদিকে কর্মক্ষেত্রে কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন দাবি করে ডিসিসির বাজার সুপারভাইজার-৩ বলেন, যেসব সম্পত্তি রয়েছে এগুলো তার পৈতৃকভাবে পাওয়া। ডিএসসিসির সায়েদাবাদ অঞ্চল-৫ এ কর্মরত কর্মকর্তা দাবি করেন তিনি কোটিপতি নন। এছাড়া তার নিজের নামে কোনো সম্পত্তি নেই। কোনো স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
- See more at: http://manobkantha.com/2013/09/29/140843.html#sthash.CmJmREot.dpuf

No comments: