Thursday, October 24, 2013

বসুন্ধরার আগ্রাসনের শিকার রাজধানীর ১২ এলাকার নিরীহ মানুষ

এমএ বাবর
বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনীর অব্যাহত অন্যায়, অনাচার ও জবরদখলের কবলে নিষ্পেষিত রাজধানীর ভাটারা ও খিলক্ষেত থানার ১২ এলাকার মানুষ। বসুন্ধরার ভূমি আগ্রাসনের শিকার হয়ে পৈত্রিক সম্পত্তিটুকু হারিয়েছেন বেরাইদ, পাঁচখোলা, সাঁতারকুল, খিলবাড়িরটেক, নূরেরচালা, ভাটারা, ছোলমাইদ, ডুমনি, পাতিরা, কাঁঠালদিয়া, আন্দারটেক ও কুতুবদিয়া এলাকার অনেকে। এসব এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, বসুন্ধরার ভূমি আগ্রাসন থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের কোনো ধরনের সহযোগিতা না পাওয়ায় অসহায় জীবন-যাপন করছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি ভাটারা-ছোলমাইদ এলাকার সাধারণ মানুষের দুই হাজার বিঘা জমি জবরদখল করে বসুন্ধরা গ্রুপের আই-ব্লক তৈরির কাজ শুরু করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বসুন্ধরার সন্ত্রাসী বাহিনীর রক্তচক্ষু ও হুমকিতে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। এসব নিয়ে কথা বললে তাদের হত্যা ও মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল বন্ধ করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসী জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধন করে। কিন্তু ওই মানববন্ধনের পরে রাতেই বসুন্ধরার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা সংশ্লিষ্ট অনেককে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভাটারা ছোলমাইদ এলাকায় মাত্র ১০-১২ বিঘা জমি কিনে এলাকার দুই হাজার বিঘা জমি বাড়িঘরসহ দখল করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে বসুন্ধরা। যতগুলো সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে তার সিংহভাগ জমিই অন্যের। এমন কি আই-ব্লকের ভেতরে অন্যের দুই বিঘা জমি দখল করা হয়েছে। অথচ জমির মালিক ওই জায়গায় মাটি ফেলে পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন করেছেন। অথচ এখন সেখানে প্রকৃত জমির মালিকদের ঢুকতেই দিচ্ছে না বসুন্ধরার সন্ত্রাসীরা।
Photo: http://manobkantha.com/2013/10/13/142821.html
ছোলমাইদ এলাকার জমির মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভাটারা ছোলমাইদ এলাকায় আমরা জমির মালিকরা বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সংযোগসহ বাড়িঘর নির্মাণ করে বছরের পর বছর বসবাস করে আসছি। এখানে অনেকেরই বাড়ি নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি বসুন্ধরা গ্রুপের ক্যাডার বাহিনী আমাদের বসবাসকৃত বাড়িঘর সব দখল করে নিয়েছে। বালু নদী ও কাঁঠালদিয়া হয়ে ভাটারা খাল দিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী ট্রলার বসুন্ধরার ক্যাডার বাহিনীর বাধার কারণে আসতে পারছে না। তারা মালামাল আটকে দিচ্ছে। তারা বলে এই জমিতে কেউ বাড়ি নির্মাণ করতে পারবে না। যারা চেষ্টা করবে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। 
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন আমরা বসুন্ধরার কাছে কোনো জমি বিক্রি করিনি। বসুন্ধরা অবৈধভাবে আমাদের জমি দখল ও মাটি ভরাট করে প্লট বিক্রির পাঁয়তারা করছে। তাদের পোষ্য সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলেছে। এই সন্ত্রাসী বাহিনী এলাকার গরিব লোকদের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। জমি না দিতে চাইলে তাকে হত্যা কিংবা গুম করে ফেলে। এর সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক আহমেদ আকবর সোবহান ওরফে শাহ্ আলম নিজেও জড়িত রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী তার এসব অপকর্মের বিচার চায়। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকার লোকজন আজও বিচার থেকে বঞ্চিত। এ এলাকার ৮ লাখ মানুষের প্রাণের দাবি একটাই বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক শাহ্ আলমকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বেরিয়ে আসবে অজানা অনেক অপকর্মের কাহিনী।
অপর এক সূত্র জানায়, শাহ্ আলম চান বসুন্ধরা গ্রুপ এ দেশের ব্যবসায় একক রাজত্ব কায়েম করবে। তাই তাদের মালিকানাধীন একটি অনলাইন পত্রিকাসহ তিনটি দৈনিক পত্রিকায় দেশের স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে মিথ্যা, বানোয়াট নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর সম্প্রতি আশিয়ান গ্রুপ রূপগঞ্জে ‘জলসিঁড়ি আবাসন’ প্রকল্পের কাজ শুরু করলে বসুন্ধরা গ্রুপ ধারাবাহিকভাবে এর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছে।
- See more at: http://manobkantha.com/2013/10/13/142821.html#sthash.OBnx919z.dpuf

No comments: