Saturday, March 30, 2013

রাহার মোবাইলে অস্বাভাবিক তথ্য

নূরুজ্জামান: মডেল কন্যা সুমাইয়া আজগার রাহা (২২) হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা রহস্য। পুলিশের সন্দেহ এটি হত্যাকাণ্ড। এ সূত্র ধরেই তারা এগুচ্ছে তদন্তে। পুলিশের ধারণা এর নেপথ্যে হাই প্রোফাইলের ক্রিমিনালরা জড়িত। রাহার সঙ্গে তাদের এমন কোন সম্পর্ক ছিল যা চাপা দিতেই উদীয়মান এ মডেল কন্যার অকাল পরিণতি ঘটেছে।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি মো. আজিজুল হক বলেন, রাহার অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে পুলিশের বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ডও হতে পারে। এ কারণে কবর থেকে রাহার লাশ উত্তোলনের পাশাপাশি নানা কৌশলে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সূত্রমতে, রাহা আর্থিক প্রলোভনে প্রলুব্ধ হয়েছিলেন। সম্পর্কের দুর্ভেদ্য  
জালে জড়িয়ে ছিলেন রাহা। বিচরণ শুরু করেছিলেন অন্ধকার জগতে। বাসায় ফিরতেন মধ্যরাতে। কিন্তু গোপন খবরটি বেশি দিন গোপন থাকেনি। ধরা পড়ে প্রেমিক সাকিবের চোখে। এরপরই দ্বন্দ্ব শুরু হয় দু’জনের। কাকে ছেড়ে কাকে রাখবেন, কিভাবে সামলাবেন। এ নিয়ে মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে থাকেন। 
দ্বন্দ্বে-মুখর এমন দোলাচলে শেষ পর্যন্ত সাকিবের দিকেই ঝুঁকে পড়েন তিনি। এতে বাধ সাদে সুযোগ-সন্ধানী ওই প্রভাবশালী গ্রুপ। একে একে রাহার কাছ থেকে তারা মুখ ফিরিয়ে নেন। বন্ধ করে দেন আর্থিক সুযোগ-সুবিধা। শুধু তাই নয়, রাহাকে দেয়া দামি গাড়ি ফিরিয়ে নেন এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। আরেক প্রভাবশালী ফেরত নেন তার জাপান গার্ডেন সিটির একটি ফ্ল্যাট।
এ নিয়ে রাহার সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব যখন চরমে তখনই রাহার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ২৩শে মার্চ সকালে মোহাম্মদপুর চানমিয়া হাউজিংয়ের ২ নম্বর সড়কের ৪১/সি নম্বর ভবনে চতুর্থ তলার বি-১০ ফ্ল্যাটে তার লাশ পাওয়া যায়। এরপরই স্থানীয় প্রভাবশালী একাধিক লোক রাহার ফ্ল্যাটে যান। রাহার অসহায় পিতা-মাতাকে গোপনে লাশ দাফনের পরামর্শ দেন। বিনিময়ে খরচাপাতি সরবরাহ করেন। তাদের প্রভাবেই রাহার পিতা-মাতা লোকচক্ষুর আড়ালে আজিমপুর কবরস্থানে পরিচয় গোপন করে লাশ দাফনের কাজ সম্পন্ন করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, শেষের দিকে রাহার চলাচল ছিল হাই প্রোফাইলের লোকজনের সঙ্গে। প্রায় প্রতি রাতেই অভিজাত এলাকার বিভিন্ন বার, রেস্টুরেন্ট ও ক্লাবে তার উপস্থিতি দেখা গেছে। বিভিন্ন মাদক দ্রব্যে আসক্ত হয়েছিলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় রাহার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক তথ্য পাওয়া গেছে। তাতে দেখা গেছে, তিনি দু-একজন ঘনিষ্ঠ লোক ছাড়া কারও ফোনে কথা বলতেন না। এমনকি মৃত্যুর আগে রাজধানীর উত্তরা ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় তার লোকেশন পাওয়া গেলেও ফোনে কথা বলেননি। যে তরুণীর ডাকে রাতে বাসার বাইরে বের হয়েছিলেন তার কলও পাওয়া যায়নি। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে- তিনি একাধিক মোবাইল ফোন সেট ব্যবহার করতেন। পৃথক শুভাকাঙক্ষীর জন্য পৃথক সেটে কথা বলতেন। লাশ উদ্ধারের আগেই ওই ফোনসেটগুলো কেউ সরিয়ে ফেলেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, রাহার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। তদন্তে হত্যাকাণ্ডের আলামতও বেরিয়ে আসতে পারে। এ কারণে পুলিশের সিআরপিসি’র ১৭৪ ধারা অনুসরণ করে মডেল কন্যার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য রাহার লাশের তিন ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল, কেমিক্যাল ও মাইক্রোবায়োলজিক্যাল। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে আসার পরই বলা যাবে রাহা আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ডের শিকার। রাহার ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক সোহেল মাহমুদ বলেন, মৃত দেহের শরীর থেকে জরায়ু, শ্বাসনালী, পাকস্থলী, হাই ভ্যাজাইনাল সফ, রক্ত, লিভার, কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই নমুনাগুলো সিআইডির পরীক্ষাগার সহ বিভিন্ন ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, মৃত্যুর আগে তিনি ধর্ষণের শিকার ও বিষাক্ত খাবার খেয়েছিলেন কিনা সবই পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে মডেল কন্যার পিতা আলী আজগার মোহাম্মদপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন। যদিও মামলা করার আগে তিনি তার কন্যার মৃত্যু নিয়ে নানা লুকোচুরির আশ্রয় নিয়েছিলেন। একেকবার একেক রকম তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। গোপনে লাশ দাফনের সময় রাহার পরিচয় পর্যন্ত আড়াল করেছিলেন। পরে কবরস্থান থেকে এ তথ্য ফাঁস হওয়ার পর তিনি বাধ্য হয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা করেন। এতে উল্লেখ করেন, কয়েকদিন ধরে তার কন্যা রাহা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন। তাকে ‘অন্যমনা’ মনে হয়েছে। পরে শনিবার সকালে রাহার বেডরুমে গিয়ে তাকে ফ্যানের সঙ্গে বাঁধা ওড়নায় ঝুলতে দেখা গেছে। তখন তড়িঘড়ি করে নামিয়ে চিকিৎসক ডেকে আনা হয়। ওই সময় চিকিৎসক তার শরীর পরীক্ষা করে জানান, কয়েক ঘণ্টা আগে মৃত্যু হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি আজিজুল হক বলেন, মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করার কারণে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। এরপরই তা তদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। এখন মৃত দেহ থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন নমুনার পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যু রহস্য উদঘাটন হবে। তিনি বলেন, হত্যার আলামত পাওয়া গেলে অপমৃত্যু হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।
http://www.mzamin.com/details.php?nid=NDg2MDU=&ty=MA==&s=Mjc=&c=MQ==

Monday, March 25, 2013

কুমড়ো বড়ির রেসিপি

আফরোজ সালমা
আমাদের অনেকেরই কুমড়ো বড়ির তরকারি খুব পছন্দের খাবার। আবার অনেকেই জানেন না মজার এই খাবারটি আসলে কীভাবে কি দিয়ে রান্না করতে হয়। আজ তাই আপনাদের জন্য আমাদের এতিহ্যবাহী কুমড়ো বড়ি রান্নার রেসিপি:
পালং সাথে কুমড়ো বড়ি
উপকরণ : পালং শাক ২৫০ গ্রাম, কুমড়ো বড়ি ১০/১২টা, পেঁয়াজ কুঁচি ১ টেবিল চামচ, রসুন কুঁচি ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ফালি ১০/১২টা, হলুদ গুঁড়া ১চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া আধা চা চামচ, পানি প্রয়োজন মতো, লবণ পরিমাণ মতো, তেল ২ টেবিল চামচ।
প্রণালী : প্রথমে ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে কুমড়ো বড়ি হালকা ভেজে তুলে রাখুন। তারপর পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি দিয়ে একটু নেড়ে গুঁড়া মশলা ও লবণ দিন। এবার শাক, কুমড়ো বড়ি আর পানি দিয়ে ঢেকে দিন। মনে রাখবেন কুমড়ো বড়িতে পানি একটু বেশি দিতে হয়। শাক সিদ্ধ হয়ে এলে কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে নামিয়ে নিন। 
বাঁধাকপিতে কুমড়ো বড়ি
উপকরণ : বাঁধাকপি এক বাটি, কুমড়ো বড়ি ৮/১০টা, পেঁয়াজ কুঁচি ১ টেবিল চামচ, রসুন কুঁচি আধা টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ফালি ৯/১০টা, হলুদ গুঁড়া ১চা চামচ, জিরা গুঁড়া আধা চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া আধা চা চামচ, পানি প্রয়োজন মতো, লবণ পরিমাণ মতো, তেল ২ টেবিল চামচ।
প্রণালী : প্রথমে ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে কুমড়ো বড়ি হালকা ভেজে বাটিতে তুলে রাখুন। তারপর পেঁয়াজ, রসুন আর কাঁচা মরিচ দিয়ে একটু নেড়ে মশলা দিন। এবার কপি, কুমড়ো বড়ি, পানি দিয়ে ঢেকে রান্না করুন।
সজনে আর কুমড়ো বড়ি
উপকরণ : সজনে ডাটা ৫/৬টা, কুমড়ো বড়ি ৭/৮টা, মিষ্টি কুমড়া ১ কাপ, পেঁয়াজ কুঁচি ১ টেবিল চামচ, রসুন কুঁচি ১ টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ফালি ৬/৭টা, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া আধা চা চামচ, পানি প্রয়োজন মতো, লবণ পরিমাণ মতো, তেল ২ টেবিল চামচ।
প্রণালী : প্রথমে ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে কুমড়ো বড়ি হালকা ভেজে তুলে রাখুন। তারপর পেঁয়াজ, রসুন দিয়ে একটু নেড়ে মশলা দিন। এবার সজনে ডাটা, কুমড়ো বড়ি, মিষ্টি কুমড়া আর পানি দিয়ে অল্প কিছুক্ষণ কষিয়ে ঢেকে রাখুন। পানি দিয়ে ঝোলঝোল করে রান্না করুন।

নেতাদের দেহ কেন সংরক্ষণ করা হয়?

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজকে মমি করে রাখা হয়েছে। মরদেহ প্রদর্শনের জন্য সামরিক জাদুঘরে স্থায়ীভাবে রাখা হবে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়? কেনই বা করা হয়?

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো জানিয়েছেন, ভিয়েতনামের নেতা হো চি মিন, রাশিয়ার লেনিন এবং চীনের মাও সে-তুংকে যেভাবে মমি করে রাখা হয়েছে, শ্যাভেজের ক্ষেত্রে সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করা হচ্ছে।

এছাড়া উত্তর কোরিয়ার সাবেক নেতা কিম জং-ইল বা ফিলিপাইনের ফার্ডিনান্ড মার্কোসের মরদেহও মমি করে রাখা হয়েছে।

শ্যাভেজের লাশও সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে কেন? মাদুরোর উত্তর, জনগণের জন্যই শ্যাভেজ। যাতে করে 'তার জনগণ সব সময় তাকে কাছে পায়' এজন্যই এই উদ্যোগ।

লন্ডন স্কুল ইকোনমিকসের অধ্যাপক ইমেরিটাস মারগোট লাইট বলছেন, 'বিপ্লবের মর্ম বজায় রাখতে' এই পদক্ষেপের 'কিছু যৌক্তিকতা রয়েছে'। তিনি বলেন, 'এটাকে যতটা কদর্য কাজ হিসেবে মনে হতে পারে, বাস্তবে ততটা নয়। দেশাত্মবোধ-সংক্রান্ত কারণ ও একটি আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রাখতে এটার ব্যবহারিক উদ্দেশ্য রয়েছে।'

রাশিয়ার রেড স্কয়ারে অবস্থিত লেনিনের সমাধিক্ষেত্র একাধিকবার পরিদর্শন করা লাইট বলেন, ১৯২৪ সালে লেনিনের মৃত্যুর পর লেনিনবাদ তত্ত্ব তৈরির জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছিল। বিপ্লব ও আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং লেনিনের আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত করার জন্যই এটা করা হয়।

ভেনেজুয়েলায় ধারণাটা হচ্ছে, শ্যাভেজকে 'অনন্তকালের জন্য' সংরক্ষণ করে রাখা হবে। এটা কি সম্ভব? যদি সম্ভব হয়, তাহলে একটা দেহকে কীভাবে তৈরি করা যায়, যাতে করে সেটা সামনের প্রজন্মগুলোতেও অবিকৃত দেখা যাবে? ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির কলেজ সেন্টার ফর অ্যানাটমির অধ্যাপক সু ব্ল্যাক বলছেন, যতক্ষণ যত্নের সঙ্গে রাখা হবে ততক্ষণ একটা দেহকে অবিকৃত রাখা সম্ভব।

ভেনেজুয়েলা হয়তো শ্যাভেজের দেহকে 'অনন্তকালের জন্য' সংরক্ষণ করে রাখতে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাবে। কারণ, তারা তাদের প্রিয় নেতাকে খুব বেশি ভালোবাসত। ভালোবাসে। ভালোবেসে যাবে। সূত্র: সিআরআই।

Thursday, March 21, 2013

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিদের কার্যকাল

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান ছিলেন দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি এবং এই পদে ষোড়শ ব্যক্তি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের পর তিনিই প্রথম রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় মারা গেলেন।
বাংলাদেশে এই পর্যন্ত যারা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ থেকে ১১ জানুয়ারি ১৯৭২।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত)- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ থেকে ৯ জানুয়ারি ১৯৭২।
আবু সাইদ চৌধুরী- ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে ২৩ ডিসেম্বর ১৯৭৩।
মোহাম্মদ উল্লাহ- ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ থেকে ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ থেকে ১৪ অগাস্ট ১৯৭৫।
খন্দকার মোশতাক আহমেদ- ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫।
এস এম সায়েম- ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ থেকে ২০ এপ্রিল ১৯৭৬।
জিয়াউর রহমান- ২১ এপ্রিল ১৯৭৬ থেকে ২৯ মে ১৯৮১।
আবদুস সাত্তার (ভারপ্রাপ্ত)- ৩০ মে ১৯৮১ থেকে ১৯ নভেম্বর ১৯৮১।
আবদুস সাত্তার- ২০ নভেম্বর ১৯৮১ থেকে ২৩ মার্চ ১৯৮২।
এ এফ এম আহসান উদ্দিন চৌধুরী- ২৭ মার্চ ১৯৮২ থেকে ১০ ডিসেম্বর ১৯৮৩।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ- ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ থেকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০।
সাহাবুদ্দিন আহাম্মদ (অস্থায়ী)- ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ থেকে ৯ অক্টোবর ১৯৯১।
আবদুর রহমান বিশ্বাস- ৯ অক্টোবর ১৯৯১ থেকে ৯ অক্টোবর ১৯৯৬।
সাহাবুদ্দিন আহাম্মদ- ৯ অক্টোবর ১৯৯৬ থেকে ১৪ নভেম্বর ২০০১।
এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী- ১৪ নভেম্বর ২০০১ থেকে ২১ জুন ২০০২।
মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন সরকার (দায়িত্বপ্রাপ্ত)- ২১ জুন ২০০২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০০২।
অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ- ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
মো. জিল্লুর রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ থেকে ২০ মার্চ ২০১৩।

Sunday, March 17, 2013

উচ্চতা-ওজনের অনুপাত

মহিলাদের উচ্চতা থেকে ওজনের অনুপাত
উচ্চতা কম (পাউণ্ড/কেজি) সঠিক (পাউণ্ড/কেজি) বেশী (পাউণ্ড/কেজি)
৪’১০” ১০০/৪৫.৫ ১১৫/৫২.২ ১৩১/৫৯.৫
৪’১১” ১০১/৪৫.৯ ১১৭/৫৩.১ ১৩৪/৬০.৯
৫’০” ১০৩/৪৬.৮ ১২০/৫৪.৫ ১৩৭/৬২.৩
৫’১” ১০৫/৪৭.৭ ১২২/৫৫.৪ ১৪০/৬৩.৬
৫’২” ১০৮/৪৯.১ ১২৫/৫৬.৮ ১৪৪/৬৫.৫
৫’৩” ১১১/৫০.৫ ১২৮/৫৮.১ ১৪৮/৬৭.৩
৫’৪” ১১৪/৫১.৮ ১৩৩/৬০.৪ ১৫২/৬৯.১
৫’৫” ১১৭/৫৩ ১৩৬/৬০.৮ ১৫৬/৭০.৯
৫’৬” ১২০/৫৪.৫ ১৪০/৬৩.৬ ১৬০/৭২.৭
৫’৭” ১২৩/৫৫.৯ ১৪৩/৬৫ ১৬৪/৭৪.৫
৫’৮” ১২৬/৫৭.২ ১৪৬/৬৬.৩ ১৬৭/৭৯.৯
৫’৯” ১২৯/৫৮.৬ ১৫০/৬৮.২ ১৭০/৭৭.৩
৫’১০” ১৩২/৬০ ১৫৩/৬৯.৫ ১৭৩/৭৮.৬
৫’১১” ১৩৫/৬১.৩ ১৫৬/৭০.৯ ১৭৬/৮০
৬’০” ১৩৮/৬২.২ ১৫৯/৭২.৩ ১৭৯/৮১.৪

পুরুষদের উচ্চতা থেকে ওজনের অনুপাত

উচ্চতা কম (পাউণ্ড/কেজি) সঠিক (পাউণ্ড/কেজি) বেশী (পাউণ্ড/কেজি)
৪’১০” ১২৩/৫৫.৯ ১৩৪/৬০.১ ১৪৫/৬৫.৯
৪’১১” ১২৫/৫৬.৮ ১৩৭/৬২.৩ ১৪৮/৬৭.৩
৫’০” ১২৭/৫৭.৭ ১৩৯/৬৩.২ ১৫১/৬৮.৬
৫’১” ১২৯/৫৮.৬ ১৪২/৬৫.৫ ১৫৫/৭০.৫
৫’২” ১৩১/৫৯.৫ ১৪৫/৬৫.৯ ১৫৯/৭২.৩
৫’৩” ১৩৩/৬০.৪ ১৪৮/৯৭.২ ১৬৩/৭৪.১
৫’৪” ১৩৫/৬১.৩ ১৫১/৬৮.৬ ১৬৭/৭৫.৯
৫’৫” ১৩৭/৬২.৩ ১৫৪/৭০ ১৭১/৭৭.৭
৫’৬” ১৩৯/৬৩.১ ১৫৭/৭১.৪ ১৭৫/৭৯.৫
৫’৭” ১৪১/৬৪.১ ১৬০/৭২.৭ ১৭৯/৮১.৩
৫’৮” ১৪৪/৬৫.৫ ১৬৪/৭৪.৫ ১৮৩/৮৩.১
৫’৯” ১৪৭/৬৬.৮ ১৬৭/৭৫.৯ ১৮৭/৮৫
৫’১০” ১৫০/৬৮.২ ১৭১/৭৭.৭ ১৯২/৮৭.৩
৫’১১” ১৫৩/৬৯.৫ ১৭৫/৭৯.৫ ১৯৭/৮৯.৫
৬’০” ১৫৭/৭১.৪ ১৭৯/৮১.৩ ২০২/৯১.৮

অতিরিক্ত ওজন থেকে মুক্তি পেতে

Photo: !!--- এবার ওজন কমবেই ---!!
================
দিন দিন ওজন বেড়েই চলেছে, অতিরিক্ত ওজন থেকে মুক্তি পেতে চাই। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার সময় কোথায়? খুব সহজ যদি কোনো পদ্ধতি পেতাম তাহলে চেষ্টা করে দেখতাম। এভাবেই নিজেই বাড়তি ওজন নিয়ে ভাবনার কথা বলছিলেন এক বন্ধু পলাশ।

জানেন কি? আমরা চাইলে দিনে ৫০০ ক্যালোরি বেশি পোড়াতে পারি। পলাশের মতো যারা খুব সহজ পদ্ধতিতে ক্যালোরি পুড়িয়ে ওজন কমাতে চান, তাদের জন্যই আমাদের আজকের টিপস:

হাটুন:
===
দিনে বেশ কয়েক বার আমরা ফোনে কথা বলি। এ সময়টা বসে না থেকে ফোনে কথা বলার সময় হাটুন।

টিভি দেখে খাবেন না:
===========
টিভি দেখার সময় খাবার খেলে আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় ২৮৮ ক্যালোরি অতিরিক্ত খাবার খাই। তাহলে ওজন কমাতে হলে টিভি দেখতে দেখতে খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

সালাদে সতর্কতা:
=========
আমরা জানি সালাদ ওজন কমাতে সাহায্য করে। সালাদ তৈরির সময় উপকরণের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন: মেয়নেজ, বাদাম আর মাংস দিয়ে সালাদ খেলে এক বাটি সালাদ থেকেই আমরা ৫০০ ক্যালোরি পেয়ে যাই।

ছোট থালায় খান:
=========
থাবার খাওয়ার জন্য ছোট থালা বেছে নিন। এতে অন্তত্ ২০% খাবার কম খাওয়া হবে।

চিপস খেলে গুনে গুনে:
===========
এটা আবার কেমন কথা, কেউ চিপস গুনে খায়? যদি ওজন কমাতে চাই তাহলে গুনেই খেতে হবে। কারন এক প্যাকেট চিপস-এ ১২০০ ওপরে ক্যালোরি থাকে। আমরা ১৫ পিস চিপস খেতে পারি। এ পরিমাণ চিপস থেলে আমরা ১৪০ ক্যালোরি গ্রহণ করি।

যখন অতিথি:
======
বাঙালি অতিথি পরায়ণ। আমরা যখন কোনো বন্ধুর বাড়িতে অতিথি হয়ে যাই সবাই অনুরোধ করে বেশি খেতে। আর এই অনুরোধ রক্ষা করতে আমরা প্রায় দ্বিগুন ক্যালোরি গ্রহণ করি। সুস্থ্ থাকতে এবং ওজন কমানোর জন্য এই অনুরোধে বেশি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। বিনয়ের সঙ্গে তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বেশি খেতে অপারগতার কথা বুঝিয়ে বলুন।

অল্প তেলে রান্না:
=========
খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধ, পোচ অথবা বেক করা খাবার রাখুন। অল্প তেলে রান্না করার অ্ভ্যাস গড়ে তুলুন। ১ চা চামচ কম তেলে রান্না করলে আমরা ১২৪ ক্যালোরি সেভ করতে পারি।

পানীয়:
====
বাইরের প্রতি বোতল কোমল পানীয় থেকে আমরা ১৮০ ক্যালোরি পাই। আর তাই ক্যালোরি বাঁচাতে তেষ্টা পেলে স্বাভাবিক পানি পান করুন।

চিনি ছাড়া:
======
আমরা চা অথবা জুস চিনি ছাড়া খেতে পারি। আর এভাবে দিনে ৪০০ ক্যালোরি সেভ করা সম্ভব।

খেয়েই ওজন কমান:
==========
না খেয়ে অসুস্থ্ না হয়ে, পর্যাপ্ত পানি, প্রচুর ফল এবং সবজি খান।

সুস্থ্ থেকে আকর্ষণীয় ফিগার কে না চাই? আজই শুরু করুন।!!--- এবার ওজন কমবেই ---!!
================
দিন দিন ওজন বেড়েই চলেছে, অতিরিক্ত ওজন থেকে মুক্তি পেতে চাই। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে গিয়ে ব্যায়াম করার সময় কোথায়? খুব সহজ যদি কোনো পদ্ধতি পেতাম তাহলে চেষ্টা করে দেখতাম। এভাবেই নিজেই বাড়তি ওজন নিয়ে ভাবনার কথা বলছিলেন এক বন্ধু পলাশ।

জানেন কি? আমরা চাইলে দিনে ৫০০ ক্যালোরি বেশি পোড়াতে পারি। পলাশের মতো যারা খুব সহজ পদ্ধতিতে ক্যালোরি পুড়িয়ে ওজন কমাতে চান, তাদের জন্যই আমাদের আজকের টিপস:

হাটুন:
===
দিনে বেশ কয়েক বার আমরা ফোনে কথা বলি। এ সময়টা বসে না থেকে ফোনে কথা বলার সময় হাটুন।

টিভি দেখে খাবেন না:
===========
টিভি দেখার সময় খাবার খেলে আমরা স্বাভাবিকের তুলনায় ২৮৮ ক্যালোরি অতিরিক্ত খাবার খাই। তাহলে ওজন কমাতে হলে টিভি দেখতে দেখতে খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

সালাদে সতর্কতা:
=========
আমরা জানি সালাদ ওজন কমাতে সাহায্য করে। সালাদ তৈরির সময় উপকরণের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন: মেয়নেজ, বাদাম আর মাংস দিয়ে সালাদ খেলে এক বাটি সালাদ থেকেই আমরা ৫০০ ক্যালোরি পেয়ে যাই।

ছোট থালায় খান:
=========
থাবার খাওয়ার জন্য ছোট থালা বেছে নিন। এতে অন্তত্ ২০% খাবার কম খাওয়া হবে।

চিপস খেলে গুনে গুনে:
===========
এটা আবার কেমন কথা, কেউ চিপস গুনে খায়? যদি ওজন কমাতে চাই তাহলে গুনেই খেতে হবে। কারন এক প্যাকেট চিপস-এ ১২০০ ওপরে ক্যালোরি থাকে। আমরা ১৫ পিস চিপস খেতে পারি। এ পরিমাণ চিপস থেলে আমরা ১৪০ ক্যালোরি গ্রহণ করি।

যখন অতিথি:
======
বাঙালি অতিথি পরায়ণ। আমরা যখন কোনো বন্ধুর বাড়িতে অতিথি হয়ে যাই সবাই অনুরোধ করে বেশি খেতে। আর এই অনুরোধ রক্ষা করতে আমরা প্রায় দ্বিগুন ক্যালোরি গ্রহণ করি। সুস্থ্ থাকতে এবং ওজন কমানোর জন্য এই অনুরোধে বেশি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। বিনয়ের সঙ্গে তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বেশি খেতে অপারগতার কথা বুঝিয়ে বলুন।

অল্প তেলে রান্না:
=========
খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সিদ্ধ, পোচ অথবা বেক করা খাবার রাখুন। অল্প তেলে রান্না করার অ্ভ্যাস গড়ে তুলুন। ১ চা চামচ কম তেলে রান্না করলে আমরা ১২৪ ক্যালোরি সেভ করতে পারি।

পানীয়:
====
বাইরের প্রতি বোতল কোমল পানীয় থেকে আমরা ১৮০ ক্যালোরি পাই। আর তাই ক্যালোরি বাঁচাতে তেষ্টা পেলে স্বাভাবিক পানি পান করুন।

চিনি ছাড়া:
======
আমরা চা অথবা জুস চিনি ছাড়া খেতে পারি। আর এভাবে দিনে ৪০০ ক্যালোরি সেভ করা সম্ভব।

খেয়েই ওজন কমান:
==========
না খেয়ে অসুস্থ্ না হয়ে, পর্যাপ্ত পানি, প্রচুর ফল এবং সবজি খান।

সুস্থ্ থেকে আকর্ষণীয় ফিগার কে না চাই? আজই শুরু করুন।

কম্পিউটারে কাজ করার পর চোখে ঝাপসা দেখা

Photo: কম্পিউটারে কাজ করার পর (কিছু ডাক্তারি পরামর্শ)
==========================
চোখে ঝাপসা দেখা
চোখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। অন্ধকারে চোখ বন্ধ করে আধঘণ্টা বসে থাকুন।

চিকিৎসা
*গোলাপজলের সঙ্গে শসা থেঁতো করে চার ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেটা ছেঁকে নিয়ে দুই ফোঁটা করে দিনে দুইবার লাগান।
*এক চিমটি কর্পূর ত্রিফলা ভেজানো পানিতে মিশিয়ে তিন ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর ছেঁকে সেই পানি দিনে দুবার করে লাগান।
*গোলাপজলের সঙ্গে এক চিমটি কর্পূর মিশিয়ে লাগালেও উপকার পাবেন।

লাল চোখ
চোখ ওঠা ছাড়া অনেক সময় চোখ লাল হয়ে যায়, যা নানা কারণেই হতে পারে। রোদচশমা ব্যবহার করুন। চোখকে বিশ্রাম দিন। কুসুম গরম পানি দিয়ে বারবার চোখ ধুয়ে ফেলুন।

চিকিৎসা
* কাঁচা হলুদের রসে গজ ভিজিয়ে তা দিয়ে বারবার চোখে সেক দিন উপকার পাবেন।
* সমুদ্রের ফেনা গোলাপজলে আধঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে তারপর দুই ফোঁটো করে চোখে দুবার করে লাগান।

চোখ দিয়ে পানি পড়া
চোখ ডলবেন না। রোদচশমা পরুন। গরম পানির সেক দিন। চোখ যদি লাল হয়ে পিঁচুটি হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আইড্রপ দিন।

চিকিৎসা
* আমলকীর রস এক ফোঁটা করে দিনে দুবার দিলে উপকার পাবেন।
*ত্রিফলা ভেজানো পানি ছেঁকে নিয়ে গোলাপজলের সঙ্গে মিশিয়ে এক ফোঁটা করে দিনে দুবার দিলেও উপকার পাবেন।কম্পিউটারে কাজ করার পর (কিছু ডাক্তারি পরামর্শ)
চোখে ঝাপসা দেখা
চোখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। অন্ধকারে চোখ বন্ধ করে আধঘণ্টা বসে থাকুন।

চিকিৎসা
*গোলাপজলের সঙ্গে শসা থেঁতো করে চার ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেটা ছেঁকে নিয়ে দুই ফোঁটা করে দিনে দুইবার লাগান।
*এক চিমটি কর্পূর ত্রিফলা ভেজানো পানিতে মিশিয়ে তিন ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর ছেঁকে সেই পানি দিনে দুবার করে লাগান।
*গোলাপজলের সঙ্গে এক চিমটি কর্পূর মিশিয়ে লাগালেও উপকার পাবেন।

লাল চোখ
চোখ ওঠা ছাড়া অনেক সময় চোখ লাল হয়ে যায়, যা নানা কারণেই হতে পারে। রোদচশমা ব্যবহার করুন। চোখকে বিশ্রাম দিন। কুসুম গরম পানি দিয়ে বারবার চোখ ধুয়ে ফেলুন।

চিকিৎসা
* কাঁচা হলুদের রসে গজ ভিজিয়ে তা দিয়ে বারবার চোখে সেক দিন উপকার পাবেন।
* সমুদ্রের ফেনা গোলাপজলে আধঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে তারপর দুই ফোঁটো করে চোখে দুবার করে লাগান।

চোখ দিয়ে পানি পড়া
চোখ ডলবেন না। রোদচশমা পরুন। গরম পানির সেক দিন। চোখ যদি লাল হয়ে পিঁচুটি হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আইড্রপ দিন।

চিকিৎসা
* আমলকীর রস এক ফোঁটা করে দিনে দুবার দিলে উপকার পাবেন।
*ত্রিফলা ভেজানো পানি ছেঁকে নিয়ে গোলাপজলের সঙ্গে মিশিয়ে এক ফোঁটা করে দিনে দুবার দিলেও উপকার পাবেন।

কাঁচা আমের আচার

Photo: আচার
===
এখন কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে। আচার তৈরি করার এটাই সময়। সময় করে কয়েক ধরনের আমের আচার করে রাখুন, সারা বছর ঘরে আম থাকবে।

আমের টক-ঝাল আচার
============
উপকরণঃ আম ২ কেজি, সিরকা ২ কাপ, সরিষার তেল ২ কাপ, সরিষা বাটা ২ টেবিল চামচ, হলুদ গুঁড়ো ২ চা চামচ, মরিচ বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, আদা কুচি ২ টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ, আস্ত পাঁচফোড়ন ২ চা চামচ, লবণ ২ টেবিল চামচ, চিনি ২ টে চামচ, রসুন কোয়া ২০ টি, কাঁচামরিচ ২০টি।

প্রণালী:
==== 
আম খোসাসহ ছোট ছোট টুকরা করে কেটে লবণ মেখে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে নিন। অল্প হলুদ, লবণ মেখে এক দিন রোদে শুকিয়ে নিন।

এবার কড়াইতে তেল গরম হলে আস্ত পাঁচফোড়ন দিন, পাঁচফোড়ন ভাজা হলে রসুন বাটা, আদা কুচি দিয়ে একটু নেড়ে মরিচ, হলুদ, লবণ ও সামান্য সিরকা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে আম দিন। আম সেদ্ধ হয়ে এলে সিরকা, চিনি, সরিষা বাটা, কাঁচা মরিচ, রসুন কোয়া দিয়ে আরও ১৫ মিনিট অল্প আঁচে নাড়তে থাকুন। পাঁচফোড়ন গুঁড়ো দিয়ে দিন। আচারের তেল ওপরে উঠে এলে নামিয়ে নিন।

আমের টক-মিষ্টি আচার
============
উপকরণ: আম -২০ টি, চিনি - ৪ কাপ, তেল -২ কাপ, মরিচ গুঁড়া- ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা-২ টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন গুঁড়া-২ টেবিল চামচ, লবণ, পরিমাণমতো, ভিনেগার আধা কাপ।

প্রণালী:
===
প্রথমে আমের খোসা ছাড়িয়ে ফালি করে কাটুন, ধুয়ে আমগুলো হালকা ভাপ দিয়ে কড়াইয়ে তেল গরম করে সব মসলা দিয়ে, কষিয়ে চিনি, আম ও পাঁচফোড়ন গুঁড়া দিয়ে দিন।কষানো হলে ভিনেগার দিন। ভালো করে কষিয়ে সিদ্ধ হয়ে তেল ওপরে উঠলে আচার নামিয়ে নিন।

ফ্রিজে বা মাঝে মাঝে রোদ দিয়ে আচার অনেক দিন সংরক্ষণ করতে পারেন।আমের টক-ঝাল আচার
===========
উপকরণঃ 
আম ২ কেজি, 
সিরকা ২ কাপ, 
সরিষার তেল ২ কাপ, 
সরিষা বাটা ২ টেবিল চামচ, 
হলুদ গুঁড়ো ২ চা চামচ, 
মরিচ বাটা ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ, আদা কুচি ২ টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন গুঁড়ো ২ টেবিল চামচ, আস্ত পাঁচফোড়ন ২ চা চামচ, লবণ ২ টেবিল চামচ, চিনি ২ টে চামচ, রসুন কোয়া ২০ টি, কাঁচামরিচ ২০টি।
প্রণালী:
====
আম খোসাসহ ছোট ছোট টুকরা করে কেটে লবণ মেখে ভালো করে ধুয়ে পানি ঝড়িয়ে নিন। অল্প হলুদ, লবণ মেখে এক দিন রোদে শুকিয়ে নিন।

এবার কড়াইতে তেল গরম হলে আস্ত পাঁচফোড়ন দিন, পাঁচফোড়ন ভাজা হলে রসুন বাটা, আদা কুচি দিয়ে একটু নেড়ে মরিচ, হলুদ, লবণ ও সামান্য সিরকা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে আম দিন। আম সেদ্ধ হয়ে এলে সিরকা, চিনি, সরিষা বাটা, কাঁচা মরিচ, রসুন কোয়া দিয়ে আরও ১৫ মিনিট অল্প আঁচে নাড়তে থাকুন। পাঁচফোড়ন গুঁড়ো দিয়ে দিন। আচারের তেল ওপরে উঠে এলে নামিয়ে নিন।

আমের টক-মিষ্টি আচার
============

উপকরণ: আম -২০ টি, চিনি - ৪ কাপ, তেল -২ কাপ, মরিচ গুঁড়া- ২ টেবিল চামচ, রসুন বাটা-২ টেবিল চামচ, পাঁচফোড়ন গুঁড়া-২ টেবিল চামচ, লবণ, পরিমাণমতো, ভিনেগার আধা কাপ।

প্রণালী:
===

প্রথমে আমের খোসা ছাড়িয়ে ফালি করে কাটুন, ধুয়ে আমগুলো হালকা ভাপ দিয়ে কড়াইয়ে তেল গরম করে সব মসলা দিয়ে, কষিয়ে চিনি, আম ও পাঁচফোড়ন গুঁড়া দিয়ে দিন।কষানো হলে ভিনেগার দিন। ভালো করে কষিয়ে সিদ্ধ হয়ে তেল ওপরে উঠলে আচার নামিয়ে নিন।

ফ্রিজে বা মাঝে মাঝে রোদ দিয়ে আচার অনেক দিন সংরক্ষণ করতে পারেন।

আপনার ত্বক কি রকমের ?

Photo: চৈত্র থেকে বৈশাখ-জৈষ্ঠ- এই পুরো সময়ের ঝাঝালো গরমে অনেক সময় মনে হয় এ-বছরটা হয়তো গ্রীষ্মের কোলেই কাটাতে হবে। আর তাই ফ্যাশন সচেতন সবারই উচিত ফ্যাশনের সব আঙ্গিকে গ্রীষ্মকালীন ফ্যাশনের ছোঁয়া রাখা।

গরমে ঝাপসা হতে না চাইলে এমন কিছু পোশাক নির্বাচন করা উচিত যা আপনার শরীরে পর্যাপ্ত বাতাস সংযোগ করবে। আর পোশাকের সঙ্গে থাকা চাই মানানসই জুতো। সামারে আপনার পায়ে থাকা চাই এক জোড়া সামার স্যান্ডেল।

ফ্যাশনে সামার স্যান্ডেলের ট্রেন্ড এদেশে বেশ কিছুদিন থেকেই। আর এই প্রভাবটা মূলত ব্যাংকক থেকে আসা। এশিয়ার এই অঞ্চলে জুতোর বাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক ব্যাংকক। আর সেখানে প্রায় সারাবছরই থাকে তাল পাকা গরম। সেখান থেকেই আমাদের দেশের সামার স্যান্ডেলের প্রভাব শুরু।

ছেলে-মেয়ে সবাই এই সামার স্যান্ডেল ফ্যাশনে অংশীদার হতে পারেন। তবে এখানে টিপসগুলো থাকছে ছেলে-মেয়ে সবার জন্যই।

* সামারে পরার জন্য স্যান্ডেল কিনুন খোলামেলা দেখে। যেন বাতাস চলাচল থাকে পর্যাপ্ত। তবে পায়ের সামনের দিকের অনেকটা অংশ যদি খোলা থাকে তাহলে ধুলায় ধুলোময় হয়ে যেতে পারে আপনার সুন্দর পা। তাই খেয়াল রাখুন স্যান্ডেলের সামনের অংশ যেন খোলা থাকে।

* মেয়েরা এ ধরনের স্যান্ডেল ব্যবহার করতে পারেন শাড়ি, সালোয়ার, স্কার্ট কিংবা প্যান্টের সাথে। মনে রাখুন সামার স্যান্ডেল সাধারণত পাতলা গড়নের হয়। তাই শাড়িতে কিঞ্চিৎ সমস্যায় পড়তে পারেন।

* ঢাকাতে ভালো সামার স্যান্ডেল কিনতে পারবেন গুলশান-১, ২ নম্বর মার্কেটে। চৌরঙ্গী, গাউসিয়া, নিউ মার্কেট এসব জায়গাতেও পাবেন প্রচুর। দামে সস্তা বলে এ ধরনের স্যান্ডেল কিনুন পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে। তবে ময়লা হয়ে যাবার ব্যাপারটাতো থাকছেই।

সামার স্যান্ডেল কিনতে গেলে একটা জিনিস খেয়াল রাখুন এ ধরনের স্যান্ডেল পাতলা হবার শুকতলাটা একটু বেশি শক্ত হয়। এতে আপনার প্রতিনিয়ত হাঁটাহাটি ব্যাহত হতে পারে। তাই চেষ্টা করুন ফ্যাশনের আগে কমফোর্টকে প্রাধান্য দিতে।রুপচর্চার প্রথম ধাপ হল ত্বকের পরিচর্যা। সুন্দর ত্বক বলতে ভুঝি পরিচ্ছন্ন, কোমল, মসৃন, সজীব ত্বক।সুন্দর ত্বক পেতে হলে নিয়মিত পরিচর্চা করা চাই। ত্বকের সৌন্দর্য একমাত্র পরিচর্চার দ্বারাই বৃদ্ধি পায়। আর সামান্যতম অবহেলা ত্বকের প্রচন্ড ক্ষতি করে। তাই ত্বকের যত্ন নেওয়ার আগে ত্বকের গঠন ও প্রকৃতি সম্বন্ধে একটু জ়েনে নিলে ভাল হয়।

ত্বক মোটামোটি ৪ প্রকারের হয়
স্বাভাবিক
তৈলাক্ত
শুস্ক
মিশ্র প্রকৃতির

কিভাবে বুঝবেন আপনার ত্বক কি রকমের ?

স্বাভাবিক ত্বক
আপনার ত্বক কি ধরনের জানার সহজ উপায় হল, সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধোবার আগে এক টুকরো টিসু পেপার নিয়ে নাকের দুপাশে, গালে, থুতনিতে এবং কপালে চেপে ধরবেন, ঘসবেন না। দেখবেন, ত্বকের ছাপ পরেছে, যদি টিসু পেপারে হালকা তৈলাক্ত ভাব থাকে তবে বুঝবেন আপনার ত্বক স্বাভাবিক।
স্বাভাবিক ত্বক আদর্শ ত্বক। ত্বক মসৃন আর সজীব থাকে বলে এই জাতীয় ত্বকে লোমকুপ দেখাই যায় না। ভিজে বা তেলতেলেও থাকে না।নাক, কপাল বেশ উজ্জল হয়।গলার কাছে বা চোখের কোলে তেলতেলে ভাব থাকে না। যৌবনপ্রাপ্ত মেয়েদের ত্বক এরকম থাকে।

তৈলাক্ত ত্বক
টিসু পেপার যদি তেলের ছাপ বেশি থাকে তাহলে বুঝবেন আপনার ত্বক তৈলাক্ত। তৈলাক্ত ত্বক সর্বদা এত তেলতেলে দেখায় যে দেখলেই বোঝা যায়। এ ধরনের ত্বকে ব্রণ, কালো দাগ বেশি হয়। এই ধরনের ত্বকের সব থেকে ভালো কথা হলো, যাদের এই ধরনের ত্বক তাদের ত্বকে বয়সের ছাপ দেরি করে পরে। মেকআপ নেবার পর
এই ধরনের ত্বক আরো তারাতারি তেলতেলে হয়ে যায়।

শুষ্ক ত্বক
টিসু পেপারে প্রায় তেলের ভাব থাকে না।শরিরে জলের ভাগ কম হলে কিংবা ঘর্মগ্রন্থি থেকে ঠিকমত তেল নিঃসৃত না হলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।শুষ্ক ত্বকে বলিরেখা পরে বয়সের ছাপ তারাতারি এসে পড়ে।এই ধরনের ত্বক পাতলা হয়। শীতকালে শুষ্ক ত্বকের বেশি যত্ন নেওয়া উচিত।

মিশ্র ত্বক
অনেক মেয়ের মিশ্র ত্বক থাকে। যেমন মুখমন্ডলে অনেকের তৈলাক্ত ভাব থাকলেও শরীরের অন্য অংশের ত্বক কিন্তু স্বাভাবিক।

নিজে জানুন আর অন্যকে জানাতে Like ও Share করুন। হয়তো আপনার কোন বন্ধু খুজে বেরাচ্ছে এই টিপগুলো।

শরীরের মেদ কমাতেও কাজ করে তেঁতুল

তেঁতুলের নাম শুনলেই জিভে জল আসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। টক তেঁতুল মুখে দিলে আমাদের যে ভিন্ন এক অনুভূতি হয় তা নিশ্চয়ই বলতে হবে না। আমাদের অনেকেরই ধারণা তেঁতুল খেলে রক্ত পানি হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তেঁতুল কোনোভাবেই আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। বরং হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে খুব উপকারী। তেঁতুল বসন্ত-কালের ফল হলেও বছরের সব সময়ই পাওয়া যায়।

 তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর ভেষজ ও পুষ্টিগুণ:

 তেঁতুল দেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী
 রক্তের কোলেস্টেরল কমায়
 শরীরের মেদ কমাতেও কাজ করে তেঁতুল
 পেটে গ্যাস, হজম সমস্যা, হাত-পা জ্বালায় তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী
 খিদে বাড়ায়
 গর্ভাবস্থায় বমি বমি বমি ভাব দূর করে
 মুখের লালা তৈরি হয়
 তেঁতুল পাতার ভেষজ চা ম্যালেরিয়া জ্বর কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়
 শিশুদের পেটের কৃমিনাশক
 তেঁতুল ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে
 পাইলস্‌ চিকিত্‌সার জন্য ব্যবহার করা হয়
 মুখে ঘাঁ ও ত্বকের প্রদাহ সারাতে সাহায্য করে
 তেঁতুল রক্ত পরিস্কার করে
 বাত বা জয়েন্টগুলোতে ব্যথা কমায়
 ভিটামিন সি-এর বড় উৎস
 পুরনো তেঁতুল খেলে কাশি সারে
 পাকা তেঁতুলে খনিজ পদার্থ অন্য যে কোনো ফলের চেয়ে অনেক বেশি
 খাদ্যশক্তিও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে
 ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ১৭ গুণ বেশি
 আর আয়রনের পরিমাণ নারকেল ছাড়া সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ২০ গুণ বেশি।
 প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তেঁতুলের পুষ্টিমান:
 ক্যালরি ২৩৯, আমিষ বা প্রোটিন ২.৮, শকর্রা ৬২.৫ গ্রাম, ফাইবার ৫.১ গ্রাম, চর্বি ০.৬ গ্রাম, ফসফরাস - ১১৩ মিলিগ্রাম, লৌহ ২.৮২ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম - ৭৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি - ২ মিলিগ্রাম, মিনারেল বা খনিজ পদার্থ ২.৯ গ্রাম, ভিটামিন বি ০.৩৪ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম - ৬২৮ মি:লি, ভিটামিন ই ০.১ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ৬০ মাইক্রোগ্রাম, সেলেনিয়ামু ১.৩ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম - ২৮ মিলিগ্রাম, দস্তা ০.১২ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম - ৯২ মিলিগ্রাম, এবং তামা ০,৮৬ মিলিগ্রাম।

গুণে ভরা আমলকী

ঢাকা : দামে তুলমানমূলক সস্তা হলেও গুণে ভরা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল আমলকী। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আমলকী গ্রহণ করলে মানবদেহের জন্য তা ভীষণ উপকারী। আমলকী চুলের টনিক হিসেবে কাজ করে এবং চুলের যত্ন নেয়ার জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। আমলকী খেলে শুধু চুলের গোড়াই শক্ত হয় না, চুল দ্রুত বড় হতেও তা সাহায্য করে। এছাড়া খুশকিমুক্ত ও কম বয়সে চুল পাকা রোধে আমলা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।আমলকীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পাইলস রোগ থেকে মুক্তি দেয়। এছাড়া অন্ত্রের রোগ নিরাময় ও ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এটি সহায়ক। খাওয়ার আগে মাখন ও মধুর সঙ্গে আমলকীর গুঁড়া মিশিয়ে খেলে ক্ষুধামন্দা দূর হয়। প্রতিদিন সকালে মধুর সঙ্গে আমলকীর রস মিশিয়ে খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় ও মুখের চামড়ায় কোনো দাগ পড়ে না।

চোখের জ্যোতি বাড়াতে আমলকী খুবই উপকারী। এছাড়া চোখ লাল হওয়া, চুলকানো ও চোখ দিয়ে পানি পড়া রোধেও আমলকী বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আমলকী হৃদপিণ্ডের পেশি শক্তিশালী করে ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এছাড়া প্রতিদিন আমলকীর রস খেলে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ রোধে তা সহায়তা করে ও দাঁতকে শক্তিশালী করে।

Saturday, March 16, 2013

অব্যবস্থাপনায় ময়না তদন্ত

লাশ কাটা হয় গরু কাটার ছোরা ও হাতুড়ি দিয়ে যুগ যুগ ধরে; ফরেনসিক চিকিত্সকরা পড়তে আসছেন না। নেই কোন সুযোগ-সুবিধা; অভিজ্ঞ চিকিত্সকের তীব্র সংকট। সারাদেশে একজন অধ্যাপক...
আবুল খায়ের
দেশে ময়না তদন্ত অর্থাত্ লাশ কাটার ব্যবস্থাপনা চরমভাবে অবহেলিত। যুগ যুগ ধরে এ অব্যবস্থাপনা চলে আসছে। মৃত্যুর পর লাশটি যত্ন করে রাখার ব্যবস্থা নেই মর্গে। অসম্মান ও অব্যবস্থাপনায় রাখা হয় লাশ। বেশিরভাগ লাশ কাটার পর জরাজীর্ণ, ময়লা-আবর্জনার সাথে একাকার হয়ে যায়। খোদ রাজধানীর সরকারি একটি মেডিক্যাল কলেজ মর্গের এ করুণ অবস্থা। সেটা হলো স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ। সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে ফরেনসিক বিভাগ থাকলেও মর্গ নেই। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের দুরবস্থায় পড়তে হয়। লাশ কাটার আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি নেই। গরুর চামড়া কাটার ভোঁতা ছোরা ও হাতুড়ি দিয়ে ডোম একপ্রকার যুদ্ধ করে লাশ কাটছেন প্রতিদিন। দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ সুবিধা বাড়ছে। বেশিরভাগ খাতে আধুনিক ব্যবস্থাপনা হয়েছে। ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। মন্ত্রী, এমপি ও সচিবরা দামি গাড়ি এবং সরকারি সুন্দর বাড়িতে বসবাস করছেন। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণে প্রতি বছর সরকারি খাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে চুনকাম মেরামতসহ বিভিন্নভাবে কোটি কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে। অথচ মর্গের কোন উন্নয়ন হচ্ছে না।

ঘটনা দুর্ঘটনা কিংবা অস্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার ভিক্ষুক থেকে নামিদামী শিল্পপতিসহ সকল শ্রেণির ব্যক্তির লাশ অব্যবস্থাপনায় জরাজীর্ণ লাশ কাটার কক্ষে নেয়া হয়। লাশের ওপর চলে ময়না তদন্তের নামে এক ধরনের নির্যাতন। মর্গে মন্ত্রী, এমপি, শীর্ষ কর্মকর্তাসহ সকল পেশার লোকজন প্রায়ই যাচ্ছেন নিহত স্বজনদের লাশ দেখতে। কিন্তু তারা একবারও ভাবেননি যে, কমপক্ষে লাশ কাটার ঘরটি যেন সুন্দর ও আধুনিক পরিবেশের হয়। এ দেশে একমাত্র ময়না তদন্ত ব্যবস্থাপনার এক চুল পরিমাণ উন্নতি হয়নি। বরং অবনতি ঘটছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন ময়না তদন্তকারী চিকিত্সকরা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে গিয়ে এই অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা যায়। তবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে লাশ কাটার ঘর কিছুটা উন্নত। সামান্য বৃষ্টি হলেই সামনে জমে হাঁটু পানি। এছাড়া দেশের সকল লাশ কাটার ঘর জরাজীর্ণ এবং গোয়ালঘরের চেয়েও খারাপ অবস্থা বলে ডোমরা জানিয়েছেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় লাশ না রাখলে গরমে লাশ গলে যায়। গলিত লাশের ময়না তদন্ত করে সঠিক মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না। শুধু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গ ব্যতীত আর কোন মর্গে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। একজন চিকিত্সক বলেছেন, যেখানে লাশ কাটার ঘর নেই, আলো নেই, বাতি নেই সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আশা করা যায় না।

ময়না তদন্তকারী ১০ জন চিকিত্সক ইত্তেফাকের এ প্রতিনিধিকে বলেন, ভিক্ষুকরাও একটা নিয়মনীতি মেনে চলে, কিন্তু ময়না তদন্ত ব্যবস্থাপনায় তাও নেই। এ পেশায় জড়িত চিকিত্সকদের মরা মানুষের ডাক্তার বলা হয়। তাদের কোন প্রাইভেট প্র্যাকটিস নেই। এসব ডাক্তারের কাছে রোগীরা যেতে চান না। সরকারি ছুটির দিনেও প্রায় দুই থেকে তিনবার মর্গে ময়না তদন্ত করতে আসতে হয়। নেই কোন যানবাহন এবং নিজের টাকা যাতায়াতে ব্যয় করতে হয়। ময়না তদন্ত আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিটি মামলায় ময়না তদন্তকারী চিকিত্সককে আদালতে হাজিরা দিতে যেতে হয়। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত আদালতে হাজিরা থাকে ঐসব চিকিত্সকের। নেই কোন আর্থিক সুবিধা এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা। আদালতে সাক্ষী দিতে গেলে কারো পক্ষে যায়, আবার কারো বিরুদ্ধে। এসব কারণে বর্তমানে ফরেনসিক বিষয়ে ডাক্তাররা পড়তে নিরুত্সাহিত হচ্ছেন।

মেডিকো লিগ্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের মহাসচিব ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগগুলোতে ৩২ জন অধ্যাপক পদে মাত্র একজন অধ্যাপক। তিনি হচ্ছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চক্রবর্তী। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ আর কোন মেডিক্যাল কলেজে অধ্যাপক নেই। সহকারী অধ্যাপকরা বিভাগীয় প্রধান কিংবা অধ্যাপকের পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এ অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে ফরেনসিক বিষয়ে ভবিষ্যতে কোন বিশেষজ্ঞ পাওয়া যাবে না। অব্যবস্থাপনার মধ্যে জটিল ময়না তদন্ত নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়। লাশ কাটার নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি। বিশ্বের যেকোন দেশে একটি লাশ ময়না তদন্ত করলে ঐ চিকিত্সকের জন্য নির্ধারিত টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া রয়েছে যানবাহন ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। মর্গগুলোতে বিলাসবহুল অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনা রয়েছে। লাশ রাখার ও আনা-নেয়ার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এ ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। মর্গে প্যাথলজি, ডিএনএ ল্যাবসহ বিভিন্ন ধরনের আধুনিক পরীক্ষার ব্যবস্থা বিদেশে রয়েছে। এদেশে লাশ কাটার টেবিল পর্যন্ত নেই বলে উক্ত চিকিত্সক জানান।

ডোমরা বলেন, তাদের কারো পাঁচ পুরুষ পর্যন্ত লাশ কেটে গেছেন। ঐ ছোরা দিয়ে লাশ কেটে আসছেন এখনও। টেবিল নেই। মেঝেতে ফেলে শক্তি প্রয়োগ করে ভোঁতা ছোরা ও হাতুড়ি দিয়ে লাশ কেটে আসছেন তারা। ঢাকার বাইরে মেডিক্যাল কলেজগুলোর মর্গের অবস্থা আরও করুণ। জেলা পর্যায়ে লাশ কাটার ঘরে অনেক জায়গা নেই। ভাঙ্গা, জরাজীর্ণ ডাস্টবিনের পাশে কোনরকমে মাটিতে রেখে লাশ কাটা হচ্ছে বছরের পর বছর। দেখার কেউ নেই। সে চিত্র ইত্তেফাকের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক ময়না তদন্তের অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে দ্রুত এর প্রতিকার চেয়েছেন। অন্যথায় ফরেনসিক বিষয়ে কোন ডাক্তার পাওয়া যাবে না বলে তিনি সতর্ক করেছেন। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইত্তেফাককে বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে দ্রুত ময়না তদন্ত ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ময়না তদন্ত রিপোর্টে দীর্ঘসূত্রতা : মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ফরেনসিক বিভাগের অধীনে একটি আধুনিক মর্গ চালু হলেও দীর্ঘ সময়েও ময়না তদন্তের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ ল্যাবরেটরী নির্মিত হয়নি। বাড়েনি পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিত্সকদের বাড়তি সুযোগ-সুবিধা। নিজস্ব ল্যাবরেটরী না থাকায় মেডিক্যাল কলেজের প্যাথলজি, রেডিওলজি বিভাগ ও পুলিশের ল্যাবে পরীক্ষা করতে হচ্ছে। এতে লাশের ময়না তদন্তের রিপোর্ট নিয়ে বিলম্ব ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফরেনসিক বিভাগ জানায়, মর্গে লাশ রাখার ৩টি ফ্রিজের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। বাকি দু'টি ফ্রিজে ২০টি লাশ রাখা যায়। মর্গের ফ্রিজে লাশ রাখতে হলে প্রতিটি লাশের জন্য দৈনিক ১ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। লাশের সুরতহাল করার জন্য একজন মাত্র লোক রয়েছে। অথচ প্রতিদিন কমপক্ষে ৫/৬টি লাশের সুরতহাল করতে হয়। যা একজন লোকের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। যন্ত্রপাতি নেই। শুধু ভবন নির্মাণ হয়েছে।

ফরেনসিক বিভাগ জানায়, জনবলের ৭টি পদের মধ্যে ৬ জন চিকিত্সক কর্মরত রয়েছেন। এসব চিকিত্সককে মেডিক্যাল কলেজে শ্রেণি কার্যক্রমের পাশাপাশি ময়না তদন্ত রিপোর্টের কাজও করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত কাজের জন্য কোন ওভারটাইম দেয়া হয় না। আবার বিভিন্ন মামলায় চিকিত্সকদের আদালতে সাক্ষী দিতে যেতে হয়। এজন্য কোন যাতায়াত ভাতা দেয়া হয় না। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ কাসেম ইত্তেফাককে বলেন, 'ফরেনসিক বিভাগে চিকিত্সকের আরো অন্তত ১০টি পদ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। চিকিত্সকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। মর্গকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে একটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরী স্থাপন অত্যন্ত জরুরি।'

বরিশালে ফরেনসিক বিভাগের ভবন এক বছর ধরে অব্যবহূত : লিটন বাশার, বরিশাল অফিস:কোন ডোম নেই শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজে। জেলার ১৩টি থানা থেকে গড়ে প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০টি লাশ আসে ময়না তদন্তের জন্য। এসব লাশের কাটা-ছেঁড়া করেন চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেয়া ৩ ঝাড়ুদার। লাশ কাটার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খরচ বহন করতে হয় লাশ নিয়ে আসা পরিবারের সদস্যদের। চিকিত্সক, সরঞ্জামাদি ও জনবল সংকটের কারণে যখন পুরনো লাশ কাটা ঘর ও ফরেকসিক বিভাগ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে তখন কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত ভবনের কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

১৯৮৪ সালে এ মেডিক্যাল কলেজে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ (মর্গ ও মৃতদেহ সংরক্ষণ কক্ষ) চালু করা হয়। শুরু থেকেই মর্গে লাশ কাটার জন্য ডোম পদটি তত্কালীন এডহক কমিটি বাতিল করে বলে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানান। বর্তমানে ঝাড়ুদার বাবুল, সিবু, বসন্ত ও বিজয় ডোম হিসেবে লাশ কাটার কাজ করছেন। ৩ জনের মধ্যে বিজয় সুইপার পদে সরকারি বেতন পান। বাকি দুজন মৃতব্যক্তির স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজ করেন। মাঝে মধ্যে বেওয়ারিশ লাশ এলে পুুলিশের পকেট থেকে সামান্য বকশিস দেয়া হয় এ দুজনকে। তা না হলে লাশ পড়ে থাকে সেই লাশকাটা ঘরের মধ্যেই। চিকিত্সক, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির অভাবে নতুন ভবন চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়। ফরেনসিক বিভাগের অধ্যাপকের পদ শূন্য। সহযোগী অধ্যাপক পদ শূন্য, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকের ৩টি করে পদের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন করে। বাকি সকল পদই শূন্য হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে।

ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র প্রায় এক বছর পূর্বে পাঠানো হলেও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ডোম সংকটের কারণেই কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের শুধু নেই আর নেই :আনিসুজ্জামান, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী অফিস:রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের (রামেক) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে শুধু নেই আর নেই। অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই। পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। চিকিত্সকদের অতিরিক্ত পারিশ্রমিক নেই। লাশ অক্ষত রাখার ডিপ ফ্রিজ নেই। এমনকি লাশকাটার ডোম পর্যন্ত নেই।

জানা গেছে, রামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ চলছে কার্যত একজন সহকারী অধ্যাপক দিয়ে। দুইজন অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. এমদাদুর রহমান ও ডা. মনসুর রহমান ২০১১ সালে অবসরে যাবার পর গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটিতে লাশের ময়না তদন্তসহ শিক্ষা ও পরীক্ষার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রামেক ফরেনসিক বিভাগে ময়না তদন্তের জন্য লাশকাটার কাজ করেন রনি ও সনি ডোম। তারা কেউই কর্তৃপক্ষের নিয়োগকৃত নয়। বলা যায়, স্বেচ্ছায় চাকরি। তাদের বাবা অবিনাশ স্বেচ্ছায় কাজ করতে করতে মারা গেছেন।

সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ মর্গের অবস্থা বেহাল :সিলেট অফিস:দীর্ঘদিন থেকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অবস্থা করুণ। গত দুবছর আগে নতুন একটি বহুতল ভবন তৈরি হলেও সেটিতে কোন কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। বর্তমানে এ বিভাগে প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাব রয়েছে। যেখানে ২ জন ডোম থাকার কথা সেখানে একজনও নেই। কাজ চলে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সাহায্যে। অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, লেকচারার সংকট লেগেই রয়েছে। নানা সমস্যা সংকট আর হতাশার মধ্য দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটি।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায় এ বিভাগের ময়না তদন্তের কক্ষটিতে ভৌতিক অবস্থা বিরাজ করছে। সেই কবে যে কংক্রিট দিয়ে একটি টেবিল তৈরি করা হয়েছিল লাশকাটার জন্য। লাশকাটার টেবিলটি এ যুগে যে কত অচল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিভাগীয় শহরে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ময়না তদন্ত কক্ষে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র নেই তা অনেকেই ভাবতে পারেন না। প্রায় সময় লাশ রাখতে হয় ওসমানী হাসপাতালে অথবা ডায়বেটিস বিভাগের মর্চুয়ারিতে।

সমস্যা জর্জরিত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগ :রংপুর থেকে ওয়াদুদ আলী:নানা সমস্যায় জর্জরিত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ফরেনসিক বিভাগ। পাশাপাশি চলছে লাশ নিয়ে বাণিজ্য। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষের পদে থাকায় তিনি প্রায় সময় ঢাকায় অবস্থান করেন। সপ্তাহে একদিন তিনি রংপুরে এসে দায়িত্ব পালন করেন। ফরেনসিক বিভাগে ১ জন সহকারী অধ্যাপক ও ১ জন প্রভাষকের পদ শূন্য রয়েছে।

এদিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ৪র্থ শ্রেণির এক নেতার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের এমএলএসএস কর্মচারীর সিন্ডিকেট চিকিত্সকদের সহযোগিতায় ফরেনসিক বিভাগের অধীন লাশকাটা ঘরে দীর্ঘদিন ধরে লাশ নিয়ে বাণিজ্য করে আসছে। লাশকাটার জন্য সেখানে নেই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি। পর্যাপ্ত আলো ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্যের অভাব রয়েছে। নেই মৃতদেহ কাটার জন্য কোন ব্লেড। চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্রও নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সেখানকার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। লাশের ময়না তদন্ত করার জন্য ডোমের প্রয়োজন থাকলেও কোন ডোম নেই।

এ ব্যাপারে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোস্তাক রহিম স্বপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঢাকায় থাকলেও রংপুরের দায়িত্ব পালনে তার কোন অসুবিধা হচ্ছে না। সপ্তাহে তিনি ১ দিন রংপুরে আসেন বলে জানান।
http://ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDNfMTZfMTNfMV8xXzFfMjY1NDI=

Tuesday, March 12, 2013

সেবা খাতের পাঁচ সংস্থাকে জমি বুঝিয়ে দিচ্ছে রাজউক

এম এ বাবর:
তিন দফা সময় বাড়িয়ে অবশেষে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামো উন্নয়নে পাঁচটি সেবা সংস্থাকে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দিচ্ছে
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সবকিছু ঠিক থাকলে ২৬ মার্চের মধ্যে সেবা সংস্থা ডেসকো, ওয়াসা, পিজিসিবি, তিতাস ও টেলিফোন বোর্ডকে প্রায় ৬৫ বিঘা জমি বরাদ্দ দেয়া হবে।
রাজউক ১৯৯৫ সালের জুন থেকে ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানা ও গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানা এলাকায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কাজ শুরু করে। প্রকল্পে ১৫ হাজার প্লট তৈরির টার্গেট নিয়ে ওই এলাকায় ছয় হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে রাজউক। এদিকে ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নানা জটিলতা অতিক্রম করে ২০০২ সালের শেষের দিকে প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন শুরু হয়।

অন্যদিকে প্লট তৈরি না করেই নকশা অনুযায়ী ২০০৪, ২০০৬ ও ২০১০ সালে লটারির মাধ্যমে তিন দফায় প্রায় ১৩ হাজার প্লট বরাদ্দ দেয় রাজউক। প্লট তৈরি করে ২০১১ সালে চারটি সেক্টরে ছয় হাজার প্লট গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করে রাজউক। কিন্তু রাস্তা, সেতু, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও স্যুয়ারেজ লাইনসহ অনেক অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোর কাজ এখনো শুরু হয়নি। ফলে অনেকে প্লটের দখল পেলেও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে আবাসিক স্থাপনা তৈরি করতে পারছেন না। প্লট মালিকরা বিষয়টি রাজউক কর্তৃপক্ষকে পূর্বে বেশ কয়েকবার অবহিত করলেও কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি মাসে সেবা সংস্থাকে দ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজউক। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী উন্নয়নকাজ এগুচ্ছে উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যথাসাধ্য চেষ্টা চলছে। এজন্য সেবা সংস্থাগুলো সর্বমোট ৯০ বিঘা জমি বরাদ্দ চেয়ে রাজউকের কাছে আবেদন করে। তবে ওই পরিমাণ জমি তাদের দেয়া সম্ভব না হলেও ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জমি তাদের দেয়া হচ্ছে। সে মোতাবেক চলতি মাসেই পাঁচটি সেবা সংস্থাকে জমি বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসাকে সাড়ে ৭ বিঘা, ডেসকো ১৬ বিঘা ৭ কাঠা, তিতাস গ্যাসকে সাড়ে ৮ বিঘা, পিজিসিবি ২০ বিঘা ১৫ কাঠা ও টেলিফোন বোর্ডকে সাড়ে ৬ বিঘা জমি বরাদ্দ দেয়া হবে। আর উল্লিখিত পরিমাণ জমির বিপরীতে সেবা সংস্থাগুলো নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করবে।’
উল্লেখ্য, পূর্বাচল উপশহর মোট ৩০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রূপগঞ্জে ২৩টি ও কালীগঞ্জে ৭টি সেক্টর রয়েছে। প্রথমে মূল প্রকল্পের সমাপ্তিকাল নির্ধারণ করা হয় ২০১০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সমাপ্তিকাল সংশোধন করে ২০১১ সালের জুন মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। একই কারণে সময় বর্ধিত করা হয় ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত। গত বছর আবারো সমাপ্তিকাল বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত।

অন্যদিকে বারবার প্রকল্পের সময় বাড়ানোয় ব্যয় বেড়েছে চার হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মূল প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ হাজার ৩১১ কোটি টাকা থেকে সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৭৮২ কোটি টাকায়। আর প্রকল্পের অবস্থান ঢাকা থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় পৃথক পৃথকভাবে সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকল্প এলাকার মধ্যে উপকেন্দ্র তৈরি করবে। এ কারণেই সেবা সংস্থাকে জমি বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।
http://manobkantha.com/2013/03/12/111574.html