তিন দফা সময় বাড়িয়ে অবশেষে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামো উন্নয়নে পাঁচটি সেবা সংস্থাকে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দিচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সবকিছু ঠিক থাকলে ২৬ মার্চের মধ্যে সেবা সংস্থা ডেসকো, ওয়াসা, পিজিসিবি, তিতাস ও টেলিফোন বোর্ডকে প্রায় ৬৫ বিঘা জমি বরাদ্দ দেয়া হবে।
রাজউক ১৯৯৫ সালের জুন থেকে ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানা ও গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানা এলাকায় পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কাজ শুরু করে। প্রকল্পে ১৫ হাজার প্লট তৈরির টার্গেট নিয়ে ওই এলাকায় ছয় হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে রাজউক। এদিকে ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নানা জটিলতা অতিক্রম করে ২০০২ সালের শেষের দিকে প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন শুরু হয়।
অন্যদিকে প্লট তৈরি না করেই নকশা অনুযায়ী ২০০৪, ২০০৬ ও ২০১০ সালে লটারির মাধ্যমে তিন দফায় প্রায় ১৩ হাজার প্লট বরাদ্দ দেয় রাজউক। প্লট তৈরি করে ২০১১ সালে চারটি সেক্টরে ছয় হাজার প্লট গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করে রাজউক। কিন্তু রাস্তা, সেতু, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও স্যুয়ারেজ লাইনসহ অনেক অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোর কাজ এখনো শুরু হয়নি। ফলে অনেকে প্লটের দখল পেলেও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে আবাসিক স্থাপনা তৈরি করতে পারছেন না। প্লট মালিকরা বিষয়টি রাজউক কর্তৃপক্ষকে পূর্বে বেশ কয়েকবার অবহিত করলেও কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে চলতি বছরের ফেব্র“য়ারি মাসে সেবা সংস্থাকে দ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজউক। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী উন্নয়নকাজ এগুচ্ছে উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যথাসাধ্য চেষ্টা চলছে। এজন্য সেবা সংস্থাগুলো সর্বমোট ৯০ বিঘা জমি বরাদ্দ চেয়ে রাজউকের কাছে আবেদন করে। তবে ওই পরিমাণ জমি তাদের দেয়া সম্ভব না হলেও ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জমি তাদের দেয়া হচ্ছে। সে মোতাবেক চলতি মাসেই পাঁচটি সেবা সংস্থাকে জমি বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসাকে সাড়ে ৭ বিঘা, ডেসকো ১৬ বিঘা ৭ কাঠা, তিতাস গ্যাসকে সাড়ে ৮ বিঘা, পিজিসিবি ২০ বিঘা ১৫ কাঠা ও টেলিফোন বোর্ডকে সাড়ে ৬ বিঘা জমি বরাদ্দ দেয়া হবে। আর উল্লিখিত পরিমাণ জমির বিপরীতে সেবা সংস্থাগুলো নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করবে।’
উল্লেখ্য, পূর্বাচল উপশহর মোট ৩০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রূপগঞ্জে ২৩টি ও কালীগঞ্জে ৭টি সেক্টর রয়েছে। প্রথমে মূল প্রকল্পের সমাপ্তিকাল নির্ধারণ করা হয় ২০১০ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সমাপ্তিকাল সংশোধন করে ২০১১ সালের জুন মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। একই কারণে সময় বর্ধিত করা হয় ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত। গত বছর আবারো সমাপ্তিকাল বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত।
http://manobkantha.com/2013/03/12/111574.html
No comments:
Post a Comment