Wednesday, June 26, 2013

সেনাসদস্যদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন কি আশিয়ান গ্রুপের অপরাধ?

এমএ বাবর:
আশিয়ান গ্রুপের তত্ত্বাবধানে
জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল চক্রান্তে লিপ্ত। মহলটি নানাভাবে অপ-প্রচারসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে অন্তরায় সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে।
এতদসত্ত্বেও আশিয়ান সিটি ৫ বছরের চুক্তির মাত্র দেড় বছরের মধ্যে প্রকল্পের ৭৫ ভাগ কাজ সমাপ্ত করে ফেলেছে। আর এতে স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র বেড়ে চলেছে। কেননা, এ প্রকল্পটির কাজে বাধা সৃষ্টি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলই তাদের লক্ষ্য। কিন্তু আশিয়ান গ্রুপ কর্তৃপক্ষের দৃঢ়তা ও কঠোর অবস্থানের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। উল্লেখ্য, সেনা আবাসন প্রকল্পের (আর্মি হাউজিং স্কিম) জমি কেনাকে কেন্দ্র করে ২০১০ সালের ২৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়ায় গ্রামবাসীর সঙ্গে র‌্যাব-পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছিল।

এ সময় সেনাসদস্য, পুলিশসহ অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন। গ্রামবাসীর মধ্যে আহত একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন মারা যান। এ ঘটনার পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিরোধে না জড়িয়ে সেখানে আর্মি হাউজিং স্কিম না করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে জমি কিনে সেনাসদস্যদের জন্য ইছাপুরায় একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে দেয়ার চুক্তি হয় আশিয়ান গ্রুপের সঙ্গে। সে মোতাবেক ২০১১ সালের শেষদিকে ‘জলসিঁড়ি’ আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় আশিয়ান গ্রুপের সঙ্গে। অন্যদিকে ‘জলসিঁড়ি’ আবাসন প্রকল্প শুরুর সঙ্গে সঙ্গে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আশিয়ান গ্রুপের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে। অভিযোগ রয়েছে ওই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর উসকানিতে আর্মি হাউজিং স্কিম বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। আর তাদের উসকানিতেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ওই জমি নিজেদের দখলে আনা। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রথম থেকেই জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় গোষ্ঠীটি। প্রতিপক্ষ একটি আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন না করতে পেরে আশিয়ান গ্রুপের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে। আশিয়ান যাতে সেনা সদস্যদের জন্য ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন না করতে পারে সে জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। নানাভাবে হয়রানি শুরু করে।
সেনাসদস্যদের প্রকল্প গড়ে দিতে গিয়ে আশিয়ান গ্রুপের সব ব্যবসার ওপরে নেমে আসে বিভিন্ন ধরনের চাপ। প্রতিপক্ষ মহল ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন কায়দা কৌশলে আশিয়ান গ্রুপকে নানা ধরনের মামলায় জড়িয়ে দেয়। আর তাদের মালিকানাধীন গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু কোনো বাধাই দমিয়ে রাখতে পারেনি আশিয়ান গ্রুপের পথচলা। দ্রুতগতিতে উন্নয়ন কাজ চলছে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের। দ্রুত কাজ শেষ করে সেনাসদস্যদের প্লট বুঝিয়ে দেয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে।
গুলশান-২ থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে পূর্বাচলে বালুনদীর পারে গড়ে উঠছে আবাসন প্রকল্প জলসিঁড়ি। পূর্বে শীতলক্ষ্যা, পশ্চিমে বালুনদী, উত্তরে রাজউক পূর্বাচল ও দক্ষিণে ১২০ ফুট চওড়া মাদানী এভিনিউজুড়ে গড়ে উঠেছে এই দেশের সবচেয়ে আধুনিক জলসিঁড়ি প্রকল্প। প্রকল্পে থাকছে প্রতিটি ৫ কাঠার প্রায় ৪ হাজার প্লট। ৪০ থেকে ১০০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা, মসজিদ, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক-বীমাসহ প্রয়োজনীয় সবই পাবেন হাতের নাগালে। ২০১১ সালের শেষদিকে আশিয়ান গ্রুপ হাতে নেয় প্রকল্পটি।
গত দেড় বছরে মাটি ভরাট, লেভেলিংসহ বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষ। ড্রেজার দিয়ে মাটিখনন করে তৈরি করা হচ্ছে ১৫০ ফুট প্রশস্ত কৃত্রিম লেক। এখানকার বাসিন্দারা পাবেন স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, শপিংমলসহ আধুনিক স্যাটেলাইট শহরের সব সুযোগ-সুবিধা।
http://manobkantha.com/2013/06/26/127257.html
http://www.emanobkantha.com/2013/06/26/

Monday, June 24, 2013

আশিয়ানের সুনাম ক্ষুণ্নে প্রতিপক্ষ মহল মরিয়া

এম এ বাবর:
রাজধানী ঢাকায় জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসন চাহিদাও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। আর মানুষের এ চাহিদাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় আবাসন ব্যবসা। প্রথম থেকেই একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কোটারি করে রাখে এ ব্যবসা। আর এ সুযোগে গোষ্ঠীটি প্রতারণার এক নতুন দিগন্ত উম্মোচন করে। অসংখ্য মানুষ এ গোষ্ঠীর আবাসন প্রকল্পে টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়ে দিগি¦দিক ঘুরতে থাকে। ঠিক সে সময় আশিয়ান গ্রুপ নিরীহ ও সাধারণ নাগরিকের কথা চিন্তা করে আবাসন ব্যবসায় এগিয়ে আসে। পরিচ্ছন্ন ও নির্ভেজাল আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করে মাত্র ৭ বছরেই বিপুলসংখ্যক ক্রেতার আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়। এদিকে আশিয়ানের ব্যাপক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে প্রতারণার মাধ্যমে সুবিধাভোগী স্বার্থান্বেষী মহল। কেননা, তাদের একক আধিপত্যের জাল ভেঙে যায় এবং প্রতারণা ধরা পড়তে থাকে। অপরদিকে আশিয়ানের সুনাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ অবস্থায় তারা আশিয়ান গ্রুপের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নানা ধরনের অপপ্রচার ও চক্রান্তে লিপ্ত।

আশিয়ান সিটি রাজধানীর ভেতরে এক নতুন নগরীর সৃষ্টি করেছে। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ এলাকায় গড়ে উঠেছে আশিয়ান শীতলছায়া ও জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প। আশিয়ান গ্রুপ সাধারণ মানুষের অনুন্নত ও পরিত্যক্ত জমি ন্যায্যমূল্যে ক্রয় করে এসব আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। রাজধানী ও আশপাশের এত বিশাল প্রকল্পে আশিয়ান গ্রুপের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা অভিযোগ আনেননি।
আশিয়ান গ্রুপের কাছে জমি বিক্রি করে প্রতারিত হয়েছেন এমন কোনো অভিযোগও নেই। অথচ প্রতিপক্ষ একটি স্বার্থান্বেষী মহল হাউজিং ব্যবসার নামে তাদের নানা অনিয়ম ও অপকর্ম মানুষের দৃষ্টির আড়াল করতে আশিয়ান গ্রুপের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের নিজেদের মালিকানাধীন সংবাদপত্র ও একটি অনলাইন পত্রিকায় অসত্য সংবাদ প্রকাশ করে প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলকে বিভ্রান্ত করছে। আশিয়ান গ্রুপের তত্ত্বাবধানে সেনাসদস্যদের আবাসনের জন্য জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত বাড়তে থাকে। উদ্দেশ্য জলসিঁড়ি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি।
প্রতিপক্ষ মহলটির মালিকানাধীন প্রকল্পের মধ্যে একটি প্রকল্পের আংশিক অনুমোদন রয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি রাজউকের ওই আংশিক অনুমোদনকে পুঁজি করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৮টি প্রকল্পের প্লট বিক্রি করছে। আর ক্রেতাদের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন লোভনীয় জায়গায় ঝামেলামুক্ত জমির মালিক হওয়ার প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার-হাজার কোটি টাকা। রাজধানীর অভিজাত এলাকার সন্নিকটে তাদের মালিকানাধীন একটি আবাসিক প্রকল্পের অনুমোদিত অংশের কয়েকগুণ জমি বিক্রির নামে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। ওই প্রকল্পের ৬টি ব্লকের অনুমোদন নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ১৫টি ব্লকের প্লট। এর মধ্যে নকশা অনুযায়ী বেশিরভাগ ব্লকের জমির মালিকানা এখনো তাদের হয়নি।
এছাড়া রাজধানীর পাশ দিয়ে বহমান একটি নদী ভরাট করে নিজেদের প্রকল্পের আওতায় নিয়ে নিচ্ছে। নকশায় ওই নদীর এপার-ওপারের জমি দেখিয়ে আর একটি ব্লক করা হয়েছে। শুধু নদী নয়, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সম্পত্তি দখলসহ রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ, খিলক্ষেতের বরুয়া, ডুমনি, কাঁঠালদিয়া, পাতিরা ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় সাধারণ মানুষের শত শত একর জমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে তাদের আবাসিক প্রকল্প। তাদের দখল-ভরাট আগ্রাসনের শিকার এসব এলাকার সাধারণ মানুষ জমি ফিরে পেতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আর জমি দখল ও নিবন্ধন করে দেয়ার জন্য চাপ এবং জীবননাশের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে তাদের গ্রুপের প্রধানের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় সম্প্রতি আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করে। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে গেলে আদালত তা খারিজ করে দেয়। এতে মামলাটি নিু আদালতে চলবে এবং আত্মসমর্পণ করে জামিন না নেয়া পর্যন্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রইল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নাকের ডগার সামনে এভাবে নদী, খাল, বিল, খাসজমি, জলাধার ভরাট ও আবাসন প্রকল্প তৈরি করে সেসব প্লট বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
 http://manobkantha.com/2013/06/24/127103.html
http://www.emanobkantha.com/2013/06/24/