Monday, June 24, 2013

আশিয়ানের সুনাম ক্ষুণ্নে প্রতিপক্ষ মহল মরিয়া

এম এ বাবর:
রাজধানী ঢাকায় জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসন চাহিদাও ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। আর মানুষের এ চাহিদাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় আবাসন ব্যবসা। প্রথম থেকেই একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কোটারি করে রাখে এ ব্যবসা। আর এ সুযোগে গোষ্ঠীটি প্রতারণার এক নতুন দিগন্ত উম্মোচন করে। অসংখ্য মানুষ এ গোষ্ঠীর আবাসন প্রকল্পে টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারিত হয়ে দিগি¦দিক ঘুরতে থাকে। ঠিক সে সময় আশিয়ান গ্রুপ নিরীহ ও সাধারণ নাগরিকের কথা চিন্তা করে আবাসন ব্যবসায় এগিয়ে আসে। পরিচ্ছন্ন ও নির্ভেজাল আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করে মাত্র ৭ বছরেই বিপুলসংখ্যক ক্রেতার আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়। এদিকে আশিয়ানের ব্যাপক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে প্রতারণার মাধ্যমে সুবিধাভোগী স্বার্থান্বেষী মহল। কেননা, তাদের একক আধিপত্যের জাল ভেঙে যায় এবং প্রতারণা ধরা পড়তে থাকে। অপরদিকে আশিয়ানের সুনাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ অবস্থায় তারা আশিয়ান গ্রুপের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নানা ধরনের অপপ্রচার ও চক্রান্তে লিপ্ত।

আশিয়ান সিটি রাজধানীর ভেতরে এক নতুন নগরীর সৃষ্টি করেছে। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ এলাকায় গড়ে উঠেছে আশিয়ান শীতলছায়া ও জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প। আশিয়ান গ্রুপ সাধারণ মানুষের অনুন্নত ও পরিত্যক্ত জমি ন্যায্যমূল্যে ক্রয় করে এসব আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। রাজধানী ও আশপাশের এত বিশাল প্রকল্পে আশিয়ান গ্রুপের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা অভিযোগ আনেননি।
আশিয়ান গ্রুপের কাছে জমি বিক্রি করে প্রতারিত হয়েছেন এমন কোনো অভিযোগও নেই। অথচ প্রতিপক্ষ একটি স্বার্থান্বেষী মহল হাউজিং ব্যবসার নামে তাদের নানা অনিয়ম ও অপকর্ম মানুষের দৃষ্টির আড়াল করতে আশিয়ান গ্রুপের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের নিজেদের মালিকানাধীন সংবাদপত্র ও একটি অনলাইন পত্রিকায় অসত্য সংবাদ প্রকাশ করে প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলকে বিভ্রান্ত করছে। আশিয়ান গ্রুপের তত্ত্বাবধানে সেনাসদস্যদের আবাসনের জন্য জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত বাড়তে থাকে। উদ্দেশ্য জলসিঁড়ি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি।
প্রতিপক্ষ মহলটির মালিকানাধীন প্রকল্পের মধ্যে একটি প্রকল্পের আংশিক অনুমোদন রয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি রাজউকের ওই আংশিক অনুমোদনকে পুঁজি করে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৮টি প্রকল্পের প্লট বিক্রি করছে। আর ক্রেতাদের সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন লোভনীয় জায়গায় ঝামেলামুক্ত জমির মালিক হওয়ার প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার-হাজার কোটি টাকা। রাজধানীর অভিজাত এলাকার সন্নিকটে তাদের মালিকানাধীন একটি আবাসিক প্রকল্পের অনুমোদিত অংশের কয়েকগুণ জমি বিক্রির নামে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। ওই প্রকল্পের ৬টি ব্লকের অনুমোদন নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ১৫টি ব্লকের প্লট। এর মধ্যে নকশা অনুযায়ী বেশিরভাগ ব্লকের জমির মালিকানা এখনো তাদের হয়নি।
এছাড়া রাজধানীর পাশ দিয়ে বহমান একটি নদী ভরাট করে নিজেদের প্রকল্পের আওতায় নিয়ে নিচ্ছে। নকশায় ওই নদীর এপার-ওপারের জমি দেখিয়ে আর একটি ব্লক করা হয়েছে। শুধু নদী নয়, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি সম্পত্তি দখলসহ রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদ, খিলক্ষেতের বরুয়া, ডুমনি, কাঁঠালদিয়া, পাতিরা ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় সাধারণ মানুষের শত শত একর জমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে তাদের আবাসিক প্রকল্প। তাদের দখল-ভরাট আগ্রাসনের শিকার এসব এলাকার সাধারণ মানুষ জমি ফিরে পেতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধানসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আর জমি দখল ও নিবন্ধন করে দেয়ার জন্য চাপ এবং জীবননাশের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে তাদের গ্রুপের প্রধানের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় সম্প্রতি আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করে। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে গেলে আদালত তা খারিজ করে দেয়। এতে মামলাটি নিু আদালতে চলবে এবং আত্মসমর্পণ করে জামিন না নেয়া পর্যন্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রইল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নাকের ডগার সামনে এভাবে নদী, খাল, বিল, খাসজমি, জলাধার ভরাট ও আবাসন প্রকল্প তৈরি করে সেসব প্লট বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
 http://manobkantha.com/2013/06/24/127103.html
http://www.emanobkantha.com/2013/06/24/

No comments: