Thursday, February 21, 2013

পরীক্ষামূলকভাবে শুরু গুগলের চশমা

তথ্যপ্রযুক্তি
ঢাকা: সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে গুগল গ্লাসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে গুগল। এর মাধ্যমে একটি বহু আকাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর পেয়েছে প্রযুক্তি বিশ্ব- আগামী বছরের শুরুর দিকেই বাজারে আসছে গুগল গ্লাস।

বুধবার সবার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রযুক্তি উন্মোচন করে গুগল। অবশ্য এটি হাতে পাওয়ার জন্য আগে একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে। এখান থেকে নির্বাচিত ৮ হাজার ডেভেলপার পরীক্ষামূলকভাবে গুগল গ্লাস ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুগল প্লাস ও টুইটারের মাধ্যমে এসব অ্যাপ্লিকেশন জমা দেওয়া যাবে।

একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো গুগল গ্লাসের খুঁটিনাটি জানিয়ে একটি ডেমো ভিডিও প্রকাশ করেছে গুগল। গ্লাস সম্পর্কে জানতে চালু করেছে ওয়েবসাইটও (http://www.google.com/glass)।

২০১২ সালের জুনে গুগলের একটি কনফারেন্সে এই গ্লাস চোখে হাজির হন গুগলের প্রধান নির্বাহী সার্গেই ব্রিন। সেখানেই প্রথমবারের মতো গুগল গ্লাসের আগমনের কথা জানান দেন তিনি।Google-3

চশমা আকৃতির এ গ্লাস যে কোনো বয়সের যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন। তবে চশমায় কাঁচের জায়গায় রয়েছে একটি ছোট, স্বচ্ছ ডিসপ্লে, যা অনেকটা মোবাইল ফোনের ডিসপ্লের মতো কাজ করবে। ইন্টারনেট ব্যবহার, ছবি ও ভিডিও রেকর্ডিং, ভিডিও কল, ভয়েস কল, ম্যাপ, জিপিএস, ফাইল শেয়ারিং, ওয়াইফাই, ব্লুটুথসহ আধুনিক স্মার্টফোনের অনেক ফিচারই এতে ব্যবহার করা যাবে। চালানো যাবে এর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা ছোটখাটো অ্যাপ্লিকেশনও। গুগলের মতে, এটি কোনো সহযোগী ডিভাইস নয়, বরং নিজেই স্মার্টফোনের মতো পরিপূর্ণ হিসেবে ডিভাইস হিসেবে কাজ করবে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে নয়, এর ছোট্ট ইউজার ইন্টারফেসে পূর্ণ কম্পিউটিং অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য গুগল সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে মাথা, চোখের মণি, কথা ও হাত ব্যবহার করে গ্লাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ব্যবহারকারীরা মাথা ও চোখের মণির মাধ্যমে স্ক্রল (উঠানামা করানো) করতে পারবেন, মুখে বলে কিংবা ফোনের মাধ্যমে টাইপ করতে পারবেন, হাত নাড়িয়ে ও কথার মাধ্যমে অন্যান্য নির্দেশ দিতে পারবেন। যেমন- ‘ওকে, গ্লাস’ বলার পর ইন্টারফেস চালু হবে, তখন ‘টেক পিকচার’ বললে ছবি উঠবে, কোনো স্থানের নাম বললে সেখানকার ম্যাপ ও জিপিএস দেখিয়ে দেবে, কোনো বিদেশি বর্ণের ছবি তুললে তার তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে দিতে পারবে, সর্বক্ষণিক ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক সাইটে সংযুক্ত রাখতে পারবে। এমনকি গ্লাসকে নিয়ন্ত্রণের জন্য অ্যান্ড্রয়েডের মতোই একটি ভিন্নধর্মী অপারেটিং সিস্টেম চালু করবে গুগল, এমন গুজবও শোনা যাচ্ছে।

তবে এখনও এর পরিপূর্ণ ফিচার ও ব্যবহারবিধি প্রকাশ করেনি গুগল। এর হার্ডওয়্যার সম্পর্কিত তেমন তথ্যও জানায়নি। তবে এর দাম কম না হলেও আকাশচুম্বী হবে না বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্সোনাল কম্পিউটার, মোবাইল, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের পর এটিই হতে পারে ভবিষ্যত কম্পিউটিংয়ের মূল হাতিয়ার। এর আগেও যে এমন ডিভাইস তৈরি চেষ্টা করা হয়নি তা নয়, কিন্তু গুগল গ্লাসের কাছাকাছি আসতে পারেনি কেউই। একদিকে এতে যেমন রয়েছে সর্বাধুনিক স্মার্টফোনের বিভিন্ন ফিচার, তেমনি আরেকদিকে রয়েছে আরামদায়ক, সাধারণ, হালকা ও স্টাইলিশ গড়ন, যা চোখে দিতে কোনো সমস্যাই হবে না। বিশেষ করে গুগলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তৈরি হওয়ার কারণেই এটি বিশ্ব প্রযুক্তিকে বদলে দেওয়ার মতো ডিভাইস হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন একটি সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবসাইট হিসেবে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর অত্যন্ত অল্প সময়ে ইন্টারনেট বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় প্রতিষ্ঠানটি। ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে যুগান্তকারী বিভিন্ন প্রযুক্তি আবিষ্কার করে গুগল, যার মধ্যে রয়েছে অ্যাডসেন্স, গুগল ম্যাপস, গুগল আর্থ, জিমেইল, স্ট্রিট ভিউ ইত্যাদি। পরবর্তীতে অ্যান্ড্রয়েডের মাধ্যমে স্মার্টফোনের বাজারেও শীর্ষস্থান দখল করে গুগল।

প্রজেক্ট গ্লাসকে গুগলের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার বলে অভিহিত করেছে বিভিন্ন প্রযুক্তি ম্যাগাজিন ও ওয়েবসাইট। এটি মোবাইল ফোনের চেয়েও দ্রুত দৈনন্দিন জীবনে স্থান করে নিতে পারে, এমন মন্তব্যও করেছেন অনেকে। একটি বিখ্যাত প্রযুক্তি ওয়েবসাইটের মতে, “গুগল সত্যিই গ্লাসের মাধ্যমে সফল হলে এর শেষ কোথায় দাঁড়াবে বোঝা কষ্ট। সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো গ্লাসকে কেন্দ্র করে গবেষণা শুরু করবে, যার ফলে হয়তো এটিই হবে ভবিষ্যতের মূল যোগাযোগ মাধ্যম।”

ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় অবস্থিত গুগলের গোপন গবেষণাগার গুগল এক্স ল্যাবে তৈরি হয় এই গ্লাস। এখানেই এর আগে তৈরি হয়েছিল চালকবিহীন গাড়ি প্রযুক্তি। বর্তমানে এক্স ল্যাবে স্পেস এলিভেটর, নিউরাল নেটওয়ার্ক (চিন্তার মাধ্যমে যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ) ইত্যাদি কিংবদন্তি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে গুগল।

http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=5cbd5059a38c4134923c01da372b68e2&nttl=21022013176041

Wednesday, February 20, 2013

রং ফর্সা করা নিয়ে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির প্রতারণা

সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের তরুণী, যে নিজের জীবন নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে। কিন্তু স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার ঈশ্বরপ্রদত্ত গায়ের রঙ। এ নিয়ে সে খুবই হতাশ। অবশেষে কোনো এক বান্ধবীর পরামর্শে একটি ‘জাদুকরি’ রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের খোঁজ পেলো।

সেই ক্রিম ব্যবহার করে রাতারাতি পাল্টে গেলো তরুণীর ভাগ্য। ঝটপট বড় চাকরি হয়ে গেলো, রাস্তাঘাটেও ছেলেরা অবাক হয়ে তার দিকে তাকাতে লাগলো। দিনশেষে মেয়েটি ঝকঝকে হাসি দিয়ে জানালো, এসবের পুরো কৃতিত্ব রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের।অর্থনীতি

বর্তমানে সারা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রসাধনী পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম এই ফেয়ারনেস বা রঙ ফর্সাকারী ক্রিম। আর ফেয়ারনেস ক্রিমের সঙ্গে অবধারিতভাবে যে নামটি চলে আসে, তা হচ্ছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি।

বর্তমানে রঙ ফর্সাকারী ক্রিমগুলোর সবচেয়ে বড় বাজার দখল করে আছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের পণ্য ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি। অবশ্য বাংলাদেশে এর বাজারটি মূলত নিয়ন্ত্রণ করে ইউনিলিভারের ভারত শাখা, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেড।

রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের বাজারের শুরুটাও হয় ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির হাত ধরেই। ১৯৭৫ সালে বাজারে আসার পরপর দ্রুত ভারতের বাজারে জনপ্রিয়তা পায় এই ক্রিম। এখনও ভারতেই এর সবচেয়ে বড় বাজার রয়েছে, এরপর রয়েছে বাংলাদেশে। বিশ্বের মোট ৪০টি দেশে রফতানি হয় ফেয়ার অ্যান্ডি লাভলি। এশিয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ল্যাটিন দেশগুলোয়ও বেশ জনপ্রিয় এটি।

সত্যিই কী রঙ ফর্সা করতে পারে বিশ্বখ্যাত ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি? যে ‘মিরাকল’-এর কথা বলা হয় ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির প্রতিটি বিজ্ঞাপনে, তা কতোটুকু সত্যি?

সেটা জানার আগে আমাদের আগে জানতে হবে রঙ ফর্সা বলতে আমরা কি বুঝি।

ত্বকে গাঢ় বা উজ্জ্বল হওয়া মূলত নির্ভর করে মেলানিন নামে একটি রঞ্জক (পিগমেন্ট) পদার্থের ওপর, যা ত্বকের উপরের স্তরের (এপিডার্মিস) ঠিক নিচে থাকে। মেলানিনের উপস্থিতি বেশি হলে ত্বক গাঢ় বা কালো হয়, কম হলে উজ্জ্বল বা ফর্সা হয়। একই সঙ্গে মেলানিনের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে- ত্বক সুরক্ষার কাজটিও এটি করে থাকে।

ত্বকে মেলানিন বেশি থাকলে ত্বক তুলনামূলক সুস্থ থাকে ও বিভিন্ন চর্মরোগের ঝুঁকি তেমন থাকে না। কিন্তু মেলানিন কম হলে ত্বক সহজেই বাইরের আবহাওয়ায় আক্রান্ত হয়, সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

এই মেলানিনকে বাদ দিয়ে কোনোভাবেই ত্বকের আসল রঙ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। শীতপ্রধান দেশে শ্বেতাঙ্গরা অতিরিক্ত ফর্সা ত্বকে ট্যান লোশন ব্যবহার করেন মেলানিনের ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য।

তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে, মেলানিনকে প্রভাবিত করে ত্বক ফর্সা করতে পারে, এমন উপাদান নিশ্চয়ই আছে?

উত্তর হলো- হ্যাঁ, আছে। হাইড্রোকুইনোন, স্টেরয়েড, মার্কারি এমনই কিছু উপাদান। তবে তাই বলে খুশি হওয়ার কারণ নেই; আশির দশকে কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এগুলোর ব্যবহার শুরু করলেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে দ্রুত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

এগুলোর মধ্যে হাইড্রোকুইনোনই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, যা মেলানিনের ঘনত্ব কমিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এর অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে আসতে পারে ভয়াবহত ত্বক ক্যান্সারের ঝুঁকি। হাইড্রোকুইনিন সমৃদ্ধ যে কোনো পণ্য ফ্রান্সসহ ইউরোপের অনেক দেশে নিষিদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রসাধনীতে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হাইড্রোকুইনিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

একই রকম ঝুঁকিতে রয়েছে স্টেরয়েড। স্টেরয়েড মেলানিনকে প্রভাবিত করতে পারলেও এর দীর্ঘ ব্যবহারে ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পাতলা হয়ে যেতে পারে, ত্বকে মেলানিনের ভারসাম্য নষ্ট করে কোনো অংশ কালচে ও কোনো অংশ সাদাটে করে দিতে পারে। জাপানে একসময় মার্কারি সমৃদ্ধ ফর্সাকারী ক্রিম চালু হলেও এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের কারনে দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে ইউরোপ,কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রসাধনীতে দশ লাখ ভাগের এক ভাগ মার্কারি ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। এর বেশি হলেই এটি কিডনি সমস্যা, স্নায়ুতন্ত্রে সমস্যা তৈরির পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

অর্থাৎ বলা যায়, যেসব উপাদানের সরাসরি মেলানিনকে প্রভাবিত করে ত্বকের রঙ পরিবর্তন করার ক্ষমতা আছে, সেগুলো এতোই ক্ষতিকারক যে ব্যবহার করার চেয়ে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ নিয়ে হাজারগুণ ভালো।

এবার আসা যাক আসল প্রশ্নে। উপমহাদেশে সৌন্দর্য, ফর্সা রঙের প্রতীকের পরিণত হওয়া ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ক্রিমে কী এসব মারাত্মক কোনো উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে?

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির প্রস্তুত প্রণালী বলছে,না। এমন কোনো ক্ষতিকর উপাদানের এতে নেই। তাহলে কীসের ভিত্তিতে লাখ লাখ তরুণীর রঙ ফর্সা করার দাবি করছে তারা?

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির মতে, তাদের সৌন্দর্যের ফর্মুলা ভিটামিন বি৩, যার রাসায়নিক নাম নিকোটিনামাইড বা নায়াসিনামাইড। ১৯৭৫ সালে ইউনিলিভারের নিজস্ব গবেষণাগারে তৈরি করেন তাদের গবেষকরা। বিভিন্ন সানস্ক্রিন এজেন্টের সঙ্গে বিক্রিয়া করে এটি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে সাহায্য করে।

কতোটা কার্যকর এই ভিটামিন বি৩? সত্যি কী এর মেলানিনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা আছে?

থাইল্যান্ডের ইনস্টিটিউট অব ডার্মাটোলজির পরিচালক প্রিয়া কুলাবণিজায়ার মতে, “নায়াসিনামাইড যে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়, এমন কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই।”

দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সের ডার্মাটোলজি বিভাগের প্রধান ড. আর কে পন্ডি এ ব্যাপারে বলেন, “আমি আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এমন কোনো রঙ ফর্সাকারী উপাদান দেখিনি, যা ক্ষতি না করে রঙ পরিবর্তন করে। এমনকি বাহ্যিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, এমন কোনো ক্রিমই ত্বকের আসল রঙ পরিবর্তন করতে পারে না।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ও এ ধাঁচের ক্রিমগুলো কাজ যা করে, তাৎক্ষণিক। অর্থাৎ এসব ক্রিম মুখে মাখানোর কারণে একটি সাদাটে আস্তরণ পড়ে মুখের ওপর, যাকে ফর্সা হওয়ার ‘প্রথম ধাপ’ ভেবে ভুল করেন অনেকে। ব্যবহার করতে করতে যে একসময় এটি ত্বকের দাগ, কালো স্তর দূর করে ত্বককে ফর্সা করে তুলবে, এমন ভাবাও অর্থহীন। কেননা নায়াসিনামাইডের তেমন কোনো ক্ষমতাই নেই, চামড়ার প্রথম স্তর এপিডার্মিসও ভেদ করতে পারে না। এটি নেহাৎই একটি নিরীহ উপাদান,যার একমাত্র গুণ এটি ত্বককে আপাতদৃষ্টিতে সাদাটে (কিংবা ফ্যাকাশে) করে তুলতে পারে; হাইড্রোকুইনিন, স্টেরয়েড বা মার্কারির মতো প্রত্যক্ষ কোনো ক্ষতি করা ছাড়াই। আর লোশন ধাঁচের হওয়ায় ব্যবহারের পর ত্বকে কিছুটা মসৃণ ভাব অনুভূত হয়।

তবে নায়াসিনামাইডকে একেবারে নিরীহ ভাবার কারণ নেই। দৈনিক ৩ গ্রামের বেশি ব্যবহারে নায়াসিনামাইডও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই আছেন দ্রুত ফর্সা হওয়ার আশায় দিনে দু-তিনবার করে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ব্যবহার করেন। এভাবে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে তা ত্বকের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
    
তাই সাদা চোখে দেখলে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির সবচেয়ে বড় সাফল্য, এটি আপাতদৃষ্টিতে রঙ উজ্জ্বল করার জন্য এমন একটি উপাদান ব্যবহার করে, যা ত্বকের খুব বেশি ক্ষতি করে না, চুলকানি বা দাগ তৈরি করে না, এবং মোটামুটি সব ধরনের ত্বকেই এ বৈশিষ্ট্যগুলো অক্ষুণ্ণ থাকে।

তারপরও কেন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বিশ্বব্যাপী এতো জনপ্রিয়? কেন একেই ‘সুন্দর’ হওয়ার প্রধান মাধ্যম হিসেবে ধরে নিচ্ছেন তরুণীরা?

এর কারণ খুঁজতে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির উপাদান থেকে চোখ ফেরাতে হবে তাদের অত্যন্ত শক্তিশালী খাতের দিকে—  বিজ্ঞাপন ও বিপণন। সন্দেহ নেই, এই দুইয়ের গুণেই আজ ‘নিরীহ’ একটি উপাদান নিয়ে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বিশ্বের জনপ্রিয়তম ফেয়ারনেস ক্রিম।

শুরুতেই একটি বিজ্ঞাপনের কথা আলোচনা করেছি। সেই বিজ্ঞাপনে যে ভারতীয় মডেল তরুণীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, তাকে পর্দার পেছনে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কতোদিন ধরে ব্যবহার করছেন এই ক্রিম? কেমন ফল পাচ্ছেন? মডেল ঠোঁট উলটে জবাব দিয়েছিলেন, “পাগল নাকি! এসব ছাইপাশ ব্যবহার করে স্কিন নষ্ট করবো?”

বিজ্ঞাপনের এই ধারা আজও বন্ধ হয়নি। ‘সুন্দর হও, পৃথিবী তোমার জন্য’--  প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে তরুণীদের আকৃষ্ট করার জন্য ঠিক এই মানসিক অস্ত্রটিই ব্যবহার করছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি। বলা বাহুল্য, ভারত ও বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ নারীর কাছেই সৌন্দর্যের মূল সংজ্ঞা ফর্সা ত্বক। মেলানিনের অতশত জটিল ব্যাপার তারা বোঝেন না, ত্বক সুস্থ নাকি ভঙ্গুর তাও তাদের জানার দরকার নেই। বরং  কোনোভাবে যদি গায়ের রঙ ঘষেমেজে আরেকটু উজ্জ্বল করা যায়, তাতেই তারা প্রবল সন্তুষ্ট। আর উজ্জ্বল বর্ণের প্রতি নারীদের এ আকর্ষণকে কাজে লাগিয়েই কোটি কোটি ডলারের বাজার গড়ে তুলেছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি।

উপমহাদেশীয় নারীদের সাদা বর্ণের প্রতি এমন প্রবল আকর্ষণ নতুন কিছু নয়, কিন্তু একে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে রীতিমতো বর্ণবাদের পর্যায়ে নিয়ে আসার দায় কিছুটা ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির উপরও বর্তায়।

উগ্র বর্ণবাদ ছড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির কিছু বিজ্ঞাপনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ভারতে। ২০০৩ সালে পরপর দুটি বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে বেশ প্রশ্নের সম্মুখীন হয় তারা। এমনকি মুখোমুখি হয় ভারতের মানবাধিকার সংস্থাগুলোরও। অবশ্য ইউনিলিভার বরাবরই এসব বিজ্ঞাপনকে ‘নারীর ব্যক্তিত্ব প্রকাশের মাধ্যম’ বলে পাশ কাটিয়ে যাবার চেষ্টা করেছে।

কিন্তু এসব বিজ্ঞাপনে বারবারই ‘কালো’ ও হতাশাগ্রস্ত মেয়েদের দেখানো হচ্ছে, যারা গায়ের রঙ একটু উন্নত করেই দারুণভাবে সমাজে জায়গা করে নিচ্ছেন,  পছন্দের স্বামী, পছন্দের চাকরি পাচ্ছেন। এমনকি আয়নায় নিজের গায়ের রঙের দিকে তাকিয়ে মডেলরা বলছেন, “ইস, যদি আরেকটু ফর্সা হতাম!” এসবের মধ্য দিয়ে নারীর ব্যক্তিত্ব প্রকাশ হলো ঠিক কোন জায়গায়, তার অবশ্য জবাব দিতে পারেনি ইউনিলিভার। বরং নারীকে যে নিছক নানা রঙের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সে ব্যাপারে একমত হয়েছেন অসংখ্য নারী।

এসবের মাধ্যমে দুটি ধারণা জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে নারীদের মাথায়- প্রথমত, সৌন্দর্যই নারীর মানদণ্ড, জীবনে সফলতার মাধ্যম; দ্বিতীয়ত, সৌন্দর্যের প্রথম শর্ত উজ্জ্বল বর্ণ, তুমি কালো হলে সুন্দরীদের তালিকায় তোমার স্থান নেই।

২০০৬ সালে বাংলাদেশে বিজ্ঞাপনের জন্য ৭০ লাখ ডলার বাজেট করেছিল ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি। বাজার হিসেবে ভারতের চেয়ে কোনো অংশে কম লোভনীয় নয় বাংলাদেশ, বিশেষ করে ঢাকার বাইরের বিশাল জনপদের জন্য। শুধু কালো কেন, অনেক শ্যামলা কিংবা ফর্সা মেয়েকেই নিয়মিত ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ব্যবহার করতে দেখা যায়। ত্বকের সঙ্গে মিল রেখে মাল্টি ভিটামিন, আয়ুর্বেদিক, অ্যান্টি-মার্কস ইত্যাদি মোড়কের ক্রিম ব্যবহার করেন তারা। এমনই আজকের যুগে এটি ব্যবহারে পিছিয়ে নেই ছেলেরাও। মেয়েদের সঙ্গে তাল মিলিয়েই নিয়মিত ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ব্যবহার করছেন।

কিন্তু আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি সেই কথা, বাহ্যিকভাবে প্রয়োগ করে ত্বকে পরিবর্তন আনতে পারে, এমন কোনো উপাদান নেই। তাই যতো রকম মোড়কেই পাওয়া যাক না কেন, এদের কাজ সাময়িক ও কিছুক্ষণের জন্য আরামদায়ক। বিজ্ঞাপনের মতো ত্বকের নিচে লুকিয়ে থাকা ‘সিক্রেট’ উন্মোচন করার ক্ষমতা এদের কারও নেই, ত্বকের ‘গভীর থেকে গভীরে’ পৌঁছে কালো দাগ বা স্পট দূর করার সাধ্যও নেই।

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলত ভোক্তাদের আকৃষ্ট করার অসংখ্য উপায় ও পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে। চটকদার, নজরকাড়া ও নানা গালভরা উপাদানের নামে ভরপুর বিজ্ঞাপনে খুব সহজেই পা দেয় সাধারণ মানুষ।

একই সঙ্গে নিজেদের পণ্যের সফলতা গাণিতিক ভাবেও প্রমাণ করে দেয় প্রতিষ্ঠানগুলো (৭ দিনে কালো থেকে শ্যামলা, ১৪ দিনে শ্যামলা থেকে ফর্সা, প্রতিদিন রঙ পরিবর্তনের হার ইত্যাদি!)। আর মানুষ যাতে ব্যবহার করতে করতে হতাশ হয়ে না পড়ে, সেজন্য সঙ্গে অফার করা হয় নানা পরিপূরক, একটায় কাজ না হলে অন্য কোনো মোড়কেরটা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয় (যেমন- অ্যান্টি-মার্কসে কাজ না হলে আয়ুর্বেদিক!)।

পাঠক, মনে রাখবেন, এটি ২০১৩ সাল চলছে। হাত বাড়ালেই আপনার নাগালে আছে অবারিত তথ্যের ভাণ্ডার। নিজের কষ্টার্জিত পয়সা দিয়ে কেনা পণ্য ব্যবহারের আগে একবার দেখেই নিন না, সত্যিই কতোটা কার্যকরী এটি? কিংবা সত্যিই আপনার পক্ষে ব্যবহারের উপযুক্ত কিনা?

একটি প্রশ্ন তাহলে রয়েই যায়, সত্যিই কী ত্বকের রঙ পরিবর্তন করার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ কোনো পদ্ধতি নেই?

হ্যাঁ, আছে। জাপান ও ইউরোপে বর্তমানে বেশ কিছু কার্যকরী ক্রিম পাওয়া যাচ্ছে, তবে এগুলোকে আসলে ক্রিম না বললে উচ্চমূল্যের ওষুধ বলাই ভালো, যা মেলানিনকে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রভাবিত করতে পারে। অবশ্য এসব ব্যবহারের আগে ডাক্তারের যথাযথ নির্দেশনা প্রয়োজন।তারপরও ফেয়ার অ্যান্ড লাভলিকে কৃতিত্ব দিলে একটা জায়গায়ই দিতে হয়। উচ্চমূল্যের ওষুধ বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাদের ত্বকের রঙ পরিবর্তনের সাধ্য নেই, তাদের জন্য সবচেয়ে শস্তায় ‘ত্বক পরিবর্তনের অনুভূতি’ দিয়ে যাচ্ছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি। তাই সত্যিকারে রঙ পরিবর্তন না হলেও ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি মাখছি, কিছু না কিছু তো হচ্ছেই’ ভেবে মানসিক প্রশান্তিতে থাকেন ভোক্তাদের একটি বড় অংশই। তাদের জন্য বিশ্বখ্যাত এই ক্রিমটি এক ধরনের সান্তনাই বলা চলে! 
 http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=901187609225a748bb0c22a3c7c337d6&nttl=20022013175656

Tuesday, February 19, 2013

২০ হাজার ওষুধ নজরদারির বাইরে

২৩ হাজারের বেশি ওষুধ (অ্যালোপ্যাথিক, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক) রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো হাতই নেই। তিন মাস পরপর মান পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তা না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে ওষুধ কম্পানিগুলোর ওপরই ভরসা করতে হয়। বিষয়টিকে অতি বিপজ্জনক বলে মনে করছেন চিকিৎসা ও ওষুধ বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা মাত্র হাজারখানেক মূল ওষুধের জন্য ২৩ সহস্রাধিক ব্র্যান্ড ওষুধ রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। অনুমোদিত ওষুধের বাইরেও আরো অনেক দেশি-বিদেশি ওষুধ অবৈধভাবে বাজারে রয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
সরকারের ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল কালাম আজাদ  বলেন, বাজারে ২০ হাজারের বেশি ওষুধ রয়েছে। তবে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় সরকারিভাবে মাত্র তিন-চার হাজার ওষুধের মান পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। শিগগিরই ঢাকা ও চট্টগ্রামের ল্যাবরেটরির ওষুধ পরীক্ষা করার ক্ষমতা আরো বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হচ্ছে। নতুন করে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে সমস্যা থাকবে না। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবির  বলেন, পরিস্থিতি উত্তরণে ইতিমধ্যেই মান পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন দুটি ল্যাবরেটরি স্থাপন হবে, বিদ্যমান ল্যাবরেটরিকে আরো ক্ষমতাসম্পন্ন ও কার্যকর করা হবে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ পরীক্ষার ব্যবস্থা হবে। ফলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। স্বাস্থ্যসচিব আরো বলেন, যন্ত্র ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনবল ঘাটতি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়াহয়েছে।
 ওষুধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক  বলেন, বাজারে থাকা মোট ওষুধের চার ভাগের তিন ভাগেরও বেশি ওষুধই মান পরীক্ষার আওতায় আসছে না। বিষয়টি খুবই বিপজ্জনক। অধ্যাপক ফারুক জরুরি ভিত্তিতে ওষুধের মান-গুণ পরীক্ষার ল্যাবরেটরির ক্ষমতা বৃদ্ধি, আরো আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে ল্যাবরেটরি স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে অতীতের দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিও তিনি জানান।
সরকারের ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক আরো জানান, নিয়মিত সব ওষুধ সরকারিভাবে পরীক্ষা করা না গেলেও ভালো ওষুধ কম্পানিগুলো নিজেদের স্বার্থেই নিজ পণ্যের মান নিশ্চিত করে।
এখন ৮৫টি আইটেমের ওষুধ রপ্তানি হয়। ফলে মান নিশ্চিত না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। তবে নিম্নমানের কিছু কম্পানি যে ভেজাল বা নকল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই অভিযান ও পরিদর্শন চলে। তিনি বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি অভিযানে অনেককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ‘গ্রামো’ নামের একটি কম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কিছু ভেজাল ও অবৈধ ওষুধ আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন ব্যবসায়ীকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ওষুধ বিশেষজ্ঞ বলেন, ব্যবস্থাপনাগত বা জনবল ঘাটতির অজুহাত দিয়েই সরকারের দায় এড়াতে পারে না। বরং সরকারের দায়িত্ব নিরাপদ ওষুধ, কার্যকর ওষুধ ও মানসম্মত ওষুধের তিন মানদণ্ড নিশ্চিত করা। বর্তমানে এটি তেমনভাবে করাই হচ্ছে না।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম আরো দ্রুত কার্যকর করে গড়ে তোলা উচিত। তা না হলে নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত করার প্রবণতা বাড়বে, জনস্বাস্থ্য আরো ঝুঁকির মুখে থাকবে।
ওষুধের বহর : সরকারি হিসাবে দেশে অনুমোদিত জেনেরিক ওষুধের (অ্যালোপ্যাথিক, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক) সংখ্যা এক হাজার ২০০। এর মধ্যে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারী ২৫৮টি প্রতিষ্ঠান তৈরি বা বাজারজাত করছে ২০ হাজার ৪৫৬টি ওষুধ। এ ছাড়া ২৬৮টি ইউনানি প্রতিষ্ঠানে এক হাজার ৩২০টি, ২০১টি আয়ুর্বেদিকে তিন হাজার ১২০টি ও ৭৯টি হোমিওপ্যাথিক প্রতিষ্ঠানের ৭৫০টি ব্র্যান্ড ওষুধ রয়েছে। এদিকে দেশে সরকারি দুটি পরীক্ষাগারে নিয়মিত ওষুধ পরীক্ষার ক্ষমতা রয়েছে মাত্র তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজারের। ফলে বাকি প্রায় ২০ হাজার ওষুধ নিয়মিত পরীক্ষার বাইরেই থেকে যায়। অথচ ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ বিধি অনুসারে তিন মাস অন্তর সব ওষুধের মান পরীক্ষার নির্দেশনা রয়েছে বলে জানায় ওষুধ প্রশাসন সূত্র। ওষুধ বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের মতো এত বেশি ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করার প্রবণতা বিশ্বের আর কোথাও নেই। ওষুধকে জীবন রক্ষাকারী পণ্য না ভেবে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী অন্য পণ্যের মতোই লাভজনক পণ্য হিসেবে বাণিজ্য করার লক্ষ্যে ওষুধের অনুমোদন নেয়। এ ক্ষেত্রে একই ওষুধ সব প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। চিকিৎসক নয়, প্রতিনিধি : মিটফোর্ড ওষুধ মার্কেটের একাধিক ওষুধ ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে বলেন, চিকিৎসাবিদ্যার বইয়ে ওষুধের নাম কম্পানির নাম অনুসারে উল্লেখ করা থাকে না। বইতে ওষুধের মূল নাম (জেনেরিক) উল্লেখ থাকে। কিন্তু পেশায় এসে ডাক্তাররা বইয়ে উল্লেখ থাকা মূল ওষুধের নাম উল্লেখ না করে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্ররোচনায় তাদের দেওয়া নাম ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করেন। এভাবে ডাক্তাররা ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ওষুধ কম্পানিগুলো বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে চিকিৎসকদের হাত করেন বলেও ওষুধ বিক্রেতারা জানান। এমন অবস্থার কথা স্বীকার করে বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, একসময় জেনেরিক নাম ব্যবহারের প্রচলন ছিল। তবে দিনে দিনে ওষুধ কম্পানির প্রসার বাড়ায় এখন কম্পানির দেওয়া ট্রেড নামই ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে।
প্রশাসনিক দুর্বলতা : নিয়মিত পরীক্ষা করা দূরের কথা, বাজার পরিদর্শন করার মতো জনবল নেই ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তরে। ৭৬ জন ড্রাগ সুপারের (ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক) মধ্যে আছেন চারজন। ৭২টি পদই শূন্য। ১৭টি ড্রাগ ইন্সপেক্টরের পদ থাকলেও আছেন ছয়জন। উপপরিচালকের সাতটি পদই শূন্য। শূন্য চারটি পরিচালকের পদও। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর প্রায় অর্ধেক পদই শূন্য। সর্বশেষ ২০০৫ সালের ১৮ এপ্রিল প্রণীত ওষুধনীতির আলোকেই ওষুধ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চলছে। ওই ওষুধনীতিও প্রণয়ন করা হয় ১৯৮২ সালের নীতিটি হালনাগাদ করে। একইভাবে দেশে অনুমোদিত সব ওষুধের তালিকার গেজেটও প্রকাশ করা হয় ২০০৫ সালে। এখন স্বাস্থ্যনীতির পাশাপাশি একটি ওষুধনীতি প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মাঝে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৫০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের (এসেনশিয়াল ড্রাগস) মধ্যে বাংলাদেশ ২০৯টি ওষুধকে এসেনশিয়াল ড্রাগস হিসেবে গণ্য করেছে। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২২ মে এ তালিকার একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর এখন পর্যন্ত নতুন আর কোনো গেজেট প্রকাশ করা হয়নি।
বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহম্মেদ জানান, ওষুধনীতির কাজ দ্রুত শেষ করতে পারলে মানুষ দ্রুত এর সুফল পাবে। বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সূত্র জানায়, তিন মাস পরপর জীবন রক্ষাকারী ওষুধের নতুন বের হওয়া আইটেমসহ গেজেটে মূল্য তালিকা প্রকাশিত হওয়ার বিধান হয়েছে। এটি কেউ মানে না। কম্পানিগুলো ওষুধের দাম বাড়ালেও তা ব্যবসায়ীদের জানায় না।

‘ক্যান্সার চিকিৎসায় দেশেই অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন’

ক্যান্সারের চিকিৎসায় দেশে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করে ‘অত্যন্ত জটিল’ অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (ব্যোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন) ইউনিট স্থাপিত হতে যাচ্ছে।


২০১৩ সালের জুন মাস নাগাদ এই ইউনিট কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক।

দেশে সর্বপ্রথম এ ধরনের এই কেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে স্থাপিত হবে।

বর্তমানে বিদেশে গিয়ে এই চিকিৎসা পদ্ধতির সুবিধা নিতে হচ্ছে দেশের মানুষকে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

সচিবালয়ে রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের (এমজিএইচ) মধ্যে এক সমাঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সরকার গত চার বছরে দেশের সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আসার জন্য যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছে তারই ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ।’

রুহুল হক বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য একটা যুগান্তকারী ঘটনা। আমরা জুনের আগেই এটার কাজ শুরু করতে চাই।’

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশে কতজন রোগীর ব্যোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন তার পরিস্যংখান না থাকলেও এটার প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি হবে।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিদেশি কেন্দ্রগুলোতে ব্যয়বহুল এ চিকিৎসা খুব কম মানুষই নিতে পারে। দেশে এ কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে তাদের জীবনে নতুন আশার আলো দেখা দেবে।’

ব্যোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন ইউনিট স্থাপনে যন্ত্রপাতিসহ সরঞ্জাম কিনতে ১৫ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলেও জানানো হয়।

‘সর্বোত্তম পদ্ধতিতে’ এটা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে ডা. রুহুল হক বলেন, ‘আমরা এটা সস্তায় করার চেষ্টা করছি না। আমরা চেষ্টা করছি সবচেয়ে ভালভাবে কিন্তু একটু কম খরচে।’

এমজিএইচের সাথে চুক্তি করার আগে ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের কয়েকটি ইউনিট দেখে আসার কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘তবে তারা (এমজিএইচ) যে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে তা ‘অনন্য’।

‘চুক্তির আওতায় দেশে এই কেন্দ্র স্থাপন করা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি নির্ভর এই জটিল প্রক্রিয়ার সব কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেবে এমজিএইচ।’- যোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, ‘এই কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির একটি তালিকা দিয়েছে, যার জন্য খরচ হবে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের বাইরের চেয়ে প্রতিস্থাপনের খরচ অনেক কম হবে।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) আ ফ ম সাইফুল ইসলাম ও এমজিএইচ সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথের পরিচালক ডেভিড ব্যাঙ্গসবার্গ দুপক্ষ থেকে চুক্তিতে সই করেন।

এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মুহম্মদ হুমায়ুন কবির, এমজিএইচ সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ এর ডিরেক্টর ডেভিড ব্যাঙ্গসবার্গসহ মন্ত্রণালয় এবং এমজিএইচ- এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাধারণত একজন রোগীর ক্ষেত্রে বিদেশে গিয়ে এই অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। দেশে এ প্রক্রিয়া চালু হলে অত্যন্ত কম খরচে তা করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুল পড়ছে ? একটু মেনে চলুন, সব ওকে

আদ্রিজা মম- মায়ার প্রতিদিন চুল পড়ছে । বয়স বেশি না । কিন্তু চুল পড়ে যাচ্ছে বলে ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেল সে । তার বান্ধবী রাহা । রাহার কাছে একদিন একাডেমিয়ায় গিয়ে জানতে চাইল, ‘ রাহা , চুল পড়ছে । কী করবো রে ।’ রাহা এক বিউটিশিয়ানের ঠিকানা দিয়ে বলল পরামর্শ নিতে । মায়া গেলো সেই বিউটিশিয়ানের কাছে । তিনি কিছু টিপস দিলেন এবং জানালেন কেনো চুল পড়ে ।
বিউটিশিয়ানের ভাষ্য
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমাদের শরীরে আয়রনের অভাবে চুল পড়ে। আয়রনের অভাবে আমাদের দেহে লহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা কমে যায়, যা আমাদের চুলের গোঁড়ার(হেয়ার ফলিকল) জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুব সহজেই একটি ছোট ডায়াগনস্টিক টেস্টের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত হতে পারি শরীরে লহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা কম কিনা। যদি তাই হয়, তাহলে প্রচুর পরিমাণে লাল শাক, কচুর শাক খেতে হবে। এতেও যদি লহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি না পায় তাহলে আয়রন ও ভিটামিন সির(শরীরে আয়রন গ্রহণে সহায়তা করে) সংমিশ্রণে কিছু ট্যাবলেট পাওয়া যায়, সেগুলো খেতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি ভাল কাজে দেয়।
ওমেগা- থ্রি(৩) ফ্যাটি অ্যাসিড চুল পড়া রোধে খুব কার্যকর। সাধারনত বিশেষ ধরনের মাছে এই উপাদানটি থাকে। তবে আমাদের দেশে এসব স্যামন, ম্যাকারেল মাছ পাওয়া যায় না। প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-থ্রি (৩) ফ্যাটি অ্যাসিড তিশির তেলে পাওয়া যায় আর এই তেল স্থানীয় বাজারেই পেয়ে যাবেন। মনে রাখবেন, এই তিশির তেল কিন্তু মাথায় লাগানোর জন্য নয়। অথবা রান্নায় ব্যাবহার করার জন্যও নয়। প্রতিদিন ২ চা চামচ তিশির তেল সালাদের সাথে মিশিয়ে খেতে হবে। তাহলে আপনার চুল পড়া অনেক কমে আসতে পারে।
যাদের চুল পড়ে যাচ্ছে, তারা চেষ্টা করবেন চুলে কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য কম ব্যবহার করতে। চটকদার বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হবেন না।

Sunday, February 17, 2013

মেদ কমানোর ৩০ টি পদ্ধতি

১. সপ্তাহের প্রতিদিন আধা ঘন্টা করে সাঁতার কাটা। এবং দুই মাস চালু রাখা।
২. সপ্তাহে ছয়দিনে প্রতিদিন তিরিশ মিনিট করে ক্রোলিং করা। তিন সপ্তাহ বিরতিহীন ভাবে চালু রাখা।
৩. নব্বই মিনিট ফুটবল খেললে ১৫০০ ক্যালরি শক্তি ক্ষয় হবে। এভাবে ছয় সপ্তাহ খেলা করা।
৪. স্টোমাকের উপর প্রতিদিন তিরিশ সেকেন্ড করে চেপে ধরা। এভাবে একমাস অনুশীলন করা।
৫. দিন রাতের যে কোনো একবার খাবারের পরিবর্তে ব্রেকফাস্ট করা। এবং এ পদ্ধতি দুই মাস ধরে করা।
৬. দিনে তিরিশ মিনিট করে দুই বার সহবাস করা এবং এভাবে তিন মাস চালু রাখা।
৭. বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রতিদিন ষাট সেকেন্ড করে হরমোন গ্রোথ রোধ করা। এটি একমাস চালু রাখা।


৮. প্রত্যেকদিন ৫০০ ক্যালরি করে খাবার পরিহার করা। অবশ্য শতকরা ৫০ ভাগ সফলতা দেখা যাবে।
৯. প্রতিদিন তিরিশ মিনিট করে ক্রান্সিং করা। এবং এটি মাস ব্যাপী ধরে প্রাকটিস করা।
১০. আড়াই কেজি মাসল বাড়াতে যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ হবে সেই পরিমাণ ক্যালরি খরচ করা।
১১. খাবারের পূর্বে হাফ  লিটার এইচ-২০ খাওয়া ক্যালরি কমাবে। দুই মাস ধরে এটা চালাতে হবে।
১২. ফল এবং বাদাম জাতীয় খাবার ক্যালরি কমায়। একমাস খাওয়া এক ইঞ্চি পরিমান কমাবে।
১৩. প্রত্যেকদিন চারবার হালকা অনুশীলন করা। এবং একমাস চালু রাখা।
১৪. ডিনারের পর ঘুমানো প্রতিমাসে এক কেজি স্বাস্থ্য কমায়। সুতরাং দুই মাস হালকাভাবে ঘুমানো।
১৫. কমলার জুসের চেয়ে সরাসরি কমলা খাওয়া। ছয় সপ্তাহ এভাবে চালু রাখা।
১৬. প্রত্যেক দিন তিরিশ মিনিট করে বাইসাইকেল চালালে ৩০০০ ক্যালরি ক্ষয় হয়। এভাবে পাঁচ সপ্তাহ চালানো।
১৭. উচ্চ ফ্যাট বিশিষ্ট খাবার একমাস ত্যাগ করা।
১৮. প্রতিদিন বিশ মিনিট করে হাঁটা। এবং ছয় সপ্তাহ চালু রাখা।
১৯. প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘন্টা করে ছেলেদের সাধারণ নৃত্য করা। এব তা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চালু রাখা।
২০. হাফ লিটার স্কিমড মিল্ক পান করা। ছয় সপ্তাহ ধরে গল্ফ মাঠে সুইংগিং করা। এবং ৩৫ দিন চালু রাখা।
২১. নিম্ম ফ্যাট বিশিষ্ট খাবার খাওয়া।
২২. ৪০% প্রোটিন প্যাকড ফুড খাবার খাওয়া।
২৩. তীব্র ক্ষুধার পর তিরিশ প্রয়োজনের তুলনায় ১০% কম খাওয়া। এবং নয় সপ্তাহ ছালু রাখা।
২৪. আশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া। সাড়ে তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিধিন আশযুক্ত খাবার খাওয়া।
২৫. তিন তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং-এ প্রতিদিন পাঁচ বার করে উঠা এবং নামা। তিন মাস এভাবে চালু রাখা।
২৬. সারাদিন চিনিমুক্ত গাম চিবানো। এবং একমাস ধরে চালু রাখা।
২৭. প্রতিদিন একঘন্টা করে টেনিস খেলা। এতে ৪৭০ ক্যলরি শক্তি ক্ষয় হয়।
২৮. শরীরের বিভন্ন অংশ প্রতিদিন দুই ঘন্টা করে নাড়াচাড়া করা। এতে ৭০০ ক্যালরি ক্ষয় হয়।

২৯. সাধারণ মাত্রার এক বোতল বিয়ারের অর্ধেক অংশ পান করা। এবং আড়াই মাস চালু রাখা।
৩০. প্রত্যেক দিন ট্রাউজার পরে ২০ মিনিট ধরে রোপ স্কিপিং করা। একমাস ধরে প্রতিদিন করা।

সুন্দর পেটের জন্য

সুন্দর পেটের জন্যডা. লুবনা শারমীন  : পেটের চর্বি কমানো সবচেয়ে কঠিন একটা কাজ। তবে আমরা যদি খাওয়া-দাওয়ার নিয়ম টা একটু পাল্টে নেই সাথে অনেক ব্যাস্ততার মাঝেও একটু পেটের জন্য সময় বের করে ১০-২০ মিনিট ব্যায়াম করি ধীরে ধীরে কিন্তু আমাদের পেট কমতে শুরু করবে। আজকে আপনাদের পেটের জন্য দুইটা ব্যায়াম শিখাবো যা করতে আপনাদের আলাদা করে বেশী সময় বের করা লাগবেনা।


বায়াম নাম্বার একঃ
সোজা হয়ে শুয়ে পড়বেন। হাত দুটো দুই পাশে সোজা করে রাখবেন। এর পরে দম নিতে নিতে দুই পা কোমর থেকে সোজা করে ৯০ ডিগ্রী এঙ্গেল এ উপরে উঠাবেন, দুই মিনিট পা দুটোকে সোজা করে রাখবেন ও আবার ধীরে ধীরে পা দুটো নামিয়ে নিবেন দম ছাড়তে ছাড়তে। মনে রাখবেন হাঁটু যেন ভাজ না হয়। এইভাবে প্রথম দিন পাঁচ বার করবেন, পরের দিন আট বার ও শেষে বিশ বার করে প্রতিদিন করবেন।


ব্যায়াম নাম্বার দুইঃ
সোজা হয়ে শুয়ে পড়বেন হাত দুটো আপনার মাথায় নীচে রাখবেন। মাথা হাতের উপরে ভর করে হালকা উঁচু করবেন এবং সাথে সাথে পা দুটো দিয়ে যতটা সম্ভব উপরে তুলে সাইকেল চালানোর মতো করবেন। দুই পা এর পজিশন একই হবেনা, একটা উপরে উঠালে অন্যটা নীচে, এইভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সাইকেল চালাবেন দুই পা দিয়ে পাঁচ মিনিট, আট মিনিট, দশ মিনিট ।

বায়াম কখনো ভরা পেটে করবেন না। ব্যায়াম করার উপযুক্ত সময় বিকাল বেলা। সাথে প্রচুর পানি খাবেন। শাক সবজি, মাছ, কম তেল, কম লবন, কম চর্বি (পারলে একেবারেই না) খাবেন।

গরু বা খাসীর নেহারী

  গরু বা খাসীর নেহারীকি কি লাগবে :
১। গরুর বা খাসীর পা। ২। পেয়াজ চিকন লম্বা করে করে কুচি ১ টা বড়। ৩। রশুন লম্বা চিকন করে কুচি ৫-৬ কোয়া। ৪। আদা লম্বা, চিকন করে কুচি ১ চা চামচ। ৫। এলাচি, দারুচিনি ২ টুকরা করে। ৬।তেজপাতা ১ টা। ৭। আস্ত গোল মরিচ ১ চা চামচ। ৮। লবন পরিমান মতো। ৯। ধনে পাতা বা পুদিনা পাতা, কাঁচা মরিচ কুচি।

প্রনালী :
বড় একটা কড়াই বা সসপ্যান এ বেশী করে পানি দিয়ে গরু বা খাসীর পা ধুয়ে চুলায় সিদ্ধ করুন। প্রেশার কুকারেও সিদ্ধ করতে পারেন, এতে করে সময় বেঁচে যাবে। সাথে তেজপাতা, এলাচি, দারুচিনি, গোল মরিচ, অল্প পেয়াজ কুচি, আদা পেস্ট, রশুন পেস্ট ও অল্প করে লবন দিন পানিতে। এতে কেও কেও আধা চা চামচ জিরা পেস্ট ও দিয়ে থাকেন। পা গুলি ভাল করে সিদ্ধ করুন। সিদ্ধ হয়ে গেলে ঝোল পরিমাণ মতো রেখে লবন চেখে নামিয়ে নিন। অন্য চুলায় ফ্রাইপ্যান দিয়ে এক টেবিল চামচ তেল দিন। বাকী পেয়াজ ও রশুন কুচি বেরেস্তা করে নামিয়ে নিন। পায়া বা নেহারীর উপরে ওই বেরেস্তা দিন, আদা কুচি , ধনে পাতা বা পুদিনা পাতা কুচি উপরে ছড়িয়ে দিন, কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে নামিয়ে নিন। এইবার গরম গরম পরাটার সাথে পরিবেশন করুন গরম গরম নেহারী বা পায়া।

Thursday, February 7, 2013

ডিসিসির ক্রয় বিভাগ সিন্ডিকেটের দখলে

এম এ বাবর : ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি) ক্রয়সংক্রান্ত ভাণ্ডার বিভাগ সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে। ফলে মশকনিধন প্রকল্পের ওষুধ ও যন্ত্র কেনা থেকে শুরু করে সড়ক বাতি কেনায়ও বড় ধরনের দুর্নীতি হচ্ছে। আর নামমাত্র কিছু জিনিস ক্রয় করেই লুট হয়ে যাচ্ছে বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী, সরকারদলীয় সমর্থনপুষ্ট ঠিকাদারদের নিয়ে এ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ক্রয় ও ভাণ্ডার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করছেন সরকারদলীয় একজন এমপি। 
 চলতি অর্থবছরে (২০১২-১৩) ডিএনসিসির মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম মনিটারিং ও ক্রয় খাতে সাড়ে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওই বরাদ্দ থেকে বড় ধরনের অর্থ লুটপাটের পরে এবার সড়ক বাতি কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানাটির প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী নিজেই একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘মোহাম্মদ আলীকে প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তা হিসেবে এখানে নিয়োগ পেতে কয়েক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। তিনি সরকারদলীয় একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে ম্যানেজ করে এখানে এসেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠেলে ওপরের কর্তা-ব্যক্তিরাও তা আমলে নেন না।’
ডিএনসিসিতে চলতি অর্থবছরে বৈদ্যুতিক তার, ক্যাবল, টিউব লাইট, চোক (ব্যালাস্ট) ও সোডিয়াম লাইট কেনা বাবদ বরাদ্দ রয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। কিন্তু বরাদ্দের সিংহভাগই ভাণ্ডার বিভাগের সিন্ডিকেটের পকেটে চলে গেছে। জানা গেছে, প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নামমাত্র কিছু কাজ করে টাকা তুলে নিয়েছেন। ভাঙারি দোকান থেকে অচল বৈদ্যুতিক সামগ্রী সংগ্রহ করে পরিবর্তন হিসেবে ভাণ্ডারে জমা দেখানো হয়েছে।  

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) চলতি অর্থবছরে সড়ক বাতি ক্রয় বাবদ ৪৮ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে সে কাজ হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির ক্রয় বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ভাণ্ডার বিভাগের অধিকাংশ অর্থই চলে গেছে সরকারদলীয় একজন এমপির পকেটে। ওই এমপির মনোনীত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কাজ দেয়ার পর নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের অর্থ তুলে নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএনসিসির প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তার অংশীদারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দেওয়ান ট্রেডিং ও মেসার্স চৌধুরী    
ইন্টারন্যাশনাল। এ প্রতিষ্ঠান দুটিসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার কোটেশনে অনেকগুলো কাজ হয়েছে। গত বছরের ৭ আগস্ট থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার সড়ক বাতি ক্রয় করে ডিএনসিসি। আর বিল-ভাউচারে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি থেকে দশ হাজার পিস এনার্জি বাতি ক্রয় দেখানো হয়েছে। দুই-আড়াই মাসের মধ্যেই এসব বাতি ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চলের পরিদর্শকদের নামে ইস্যু করা হয়। এর মাস দুয়েক পরেই এ্যালুমিনেট বিডি থেকে বিভিন্ন ওয়াটের হাই প্রেসার সোডিয়াম বাতি, ইগনিটর ও ব্যালাস্ট ক্রয় করা হয়। এর কিছুদিন পর প্রায় দেড় কোটি টাকার সোডিয়াাম বাতি কেনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিবর্তনের নামে সচল বাতিগুলোও অদল-বদল করা হয়েছে। আবার সচল এনার্জি বাতিগুলো সরিয়ে স্থাপন করা হয়েছে সোডিয়াম বাতি। এভাবে প্রায় এক কোটি টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে চলে গেছে।
অন্যদিকে গত বছর ৪ হাজার সোডিয়াম বাতি কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে ডিএনসিসি। ওই দরপত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কিকো লিমিটেড বাতি প্রতি ৩ হাজার ৬০৬ টাকায় কাজ পায়। আর ডিএসসিসির অনুকূলে এক কোটি ৪৪ লাখ ২৪ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়। ওই কার্যাদেশ অনুযায়ী গত ১৫ নভেম্বর কিকো লি. ডিএনসিসির ভাণ্ডার বিভাগে সোডিয়াম বাতি সরবরাহ করে।
কিন্তু সরবরাহকৃত বাতির মান ও গুণাগুণ পরীক্ষাপূর্বক বিভিন্ন জোনে সরবরাহের লক্ষ্যে এসব বাতি ডিসিসির ভাণ্ডারেই জমা রাখা হয়। আর সরবরাহকৃত বাতির মান নিয়ন্ত্রণ, গ্রহণ এবং আমদানিসংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষার জন্য একটি যাচাই কমিটিও গঠন করে। ওই কমিটিতে বাতির মান ও গুণাগুণ অধিকতর যাচাইয়ের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ হিসেবে বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের একজনকে সদস্য রাখার কথা বলা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে।
এদিকে ভাণ্ডার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিটির মাধ্যমে সরবরাহ করা বাতির গুণাগুণ ও আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি যাচাই করা হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে বাতিগুলো ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ডিএনসিসির বিভিন্ন অঞ্চলের বিতরণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ৩ হাজার বাতি একদিনের মধ্যেই পরিদর্শকদের নামে বিতরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসসিসি থেকে ধার করে আনা ৫০০ সোডিয়াম বাতিও অঞ্চল পরিদর্শকদের মধ্যে বিতরণ দেখানো হয়েছে। আর্থাৎ এক মাসে অঞ্চল পরিদর্শকদের অনুকূলে সাড়ে ৩ হাজার সোডিয়াম বাতি সরবরাহ করা হয়। যার দাম ১ কোটি ২৬ লাখ ২১ হাজার টাকা। অথচ ইতিপূর্বে সড়ক বাতি অপচয় রোধে কোনো পরিদর্শকের নামে ২০-২৫টির বেশি বাতি ইস্যু করা হয়নি।
এদিকে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সঠিক নয় উল্লেখ করে ডিএনসিসির প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, নিয়ম অনুযায়ীই সব কাজ হয়েছে। আর মান যাচাই-বাছাইয়ের কাজ বিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগের; আমার নয়। আমার কাছে যেভাবে চাহিদা এসেছে, সেভাবে বিতরণ করেছি।
http://manobkantha.com/details_news.php?id=106554&&%20page_id=%206