এম এ বাবর
রাজধানীতে নকশা-বহির্ভূত
ভবনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ায় উদ্বিগ্ন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। তাই রাজউক থেকে শুধু নকশা ও পরিকল্পনা অনুমোদন নিয়েই
নিজস্ব রাজমিস্ত্রি দিয়ে ভবন নির্মাণ করা যাবে না। এবার রাজধানীতে ভবন নির্মাণে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে
রাজধানী রাজউক থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
জানা গেছে, রাজউকের
একাধিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, রাজউক থেকে নিয়ম অনুযায়ী ভবনের
নকশা অনুমোদন নেয়া হয়। কিন্তু
ভবন নির্মাতা নিজস্ব রাজমিস্ত্রি বা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান দিয়ে অনুমোদিত নকশায়
ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ করেন।
ফলে ওইসব ভবনে যথাযথ কার পার্কিং, জেনারেটর এবং ভবনের চারদিকে
পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয় না।
এমনকি ওপরের দিকের তালাও বৃদ্ধি করা হয়।
এভাবে নকশা বহির্ভূত ভবনের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ার কারণে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায়ও
হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
তাই বিষয়টি নিয়মের মধ্যে আনতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ফি ও কাগজপত্র জমা
দিয়ে রাজউক থেকে অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এতে রাজউকের অননুমোদিত কোনো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রাজধানীতে
ভবন নির্মাণ কাজ করলে, ভবন মালিক ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে
আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার কথা ভাবছে রাজউক।
রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন
নিয়ন্ত্রণ) গোলাম মোস্তফা বলেন, রাজউকের
আওতাধীন এলাকায় ইমারত নির্মাণকারী কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি
কারবার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, রিয়েল
এস্টেট ডেভেলপার, সমিতি বা সংগঠনসমূহকে ‘রিয়েল
এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও
ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১১’
অনুযায়ী নিবন্ধিত হতে হবে।
এজন্য গণমাধ্যমে কয়েকবার বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে। আর রাজউকের নিবন্ধিত নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই শুধু
অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করবেন।
নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ করা হলে ওই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল
করা হবে। এছাড়া ওই
ভবনের মালিককেও আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, প্রাথমিক
পর্যায়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়াকরণ ফি ২ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নিবন্ধন সনদ ফি ৫০ হাজার টাকা, নিবন্ধন
সনদ নবায়ন প্রক্রিয়াকরণ ফি ২ হাজার টাকা ও নিবন্ধন সনদ নবায়নের ফি ২৫ হাজার টাকা
রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর
অন্তর আবার নিবন্ধন করতে হবে।
নিবন্ধনে উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর
আবেদন করতে হবে।
আগ্রহীদের শর্ত মোতাবেক দুই হাজার টাকা (অফেরতযোগ্য) মূল্য
পরিশোধ করে অগ্রণী ব্যাংক, রাজউক শাখা হতে আবেদন ফরম সংগ্রহ
করা যাবে। এ বিষয়ে
প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্যের জন্য রাজউকের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে সহযোগিতা
দেয়া হবে বলে তিনি জানান।
No comments:
Post a Comment