অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তাসহ বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী, সরকারদলীয় সমর্থনপুষ্ট ঠিকাদারদের নিয়ে এ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ক্রয় ও ভাণ্ডার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করছেন সরকারদলীয় একজন এমপি।
চলতি অর্থবছরে (২০১২-১৩)
ডিএনসিসির মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম মনিটারিং ও ক্রয় খাতে সাড়ে ৮ কোটি টাকা
বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওই বরাদ্দ থেকে বড় ধরনের অর্থ লুটপাটের পরে এবার
সড়ক বাতি কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানাটির প্রধান
ভাণ্ডার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী নিজেই একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার
হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
‘মোহাম্মদ আলীকে প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তা হিসেবে এখানে নিয়োগ পেতে কয়েক
লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। তিনি সরকারদলীয় একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে
ম্যানেজ করে এখানে এসেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠেলে ওপরের
কর্তা-ব্যক্তিরাও তা আমলে নেন না।’
ডিএনসিসিতে চলতি অর্থবছরে বৈদ্যুতিক
তার, ক্যাবল, টিউব লাইট, চোক (ব্যালাস্ট) ও সোডিয়াম লাইট কেনা বাবদ বরাদ্দ
রয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। কিন্তু বরাদ্দের সিংহভাগই ভাণ্ডার বিভাগের
সিন্ডিকেটের পকেটে চলে গেছে। জানা গেছে, প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তার
সম্পৃক্ততা থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নামমাত্র কিছু কাজ করে টাকা তুলে
নিয়েছেন। ভাঙারি দোকান থেকে অচল বৈদ্যুতিক সামগ্রী সংগ্রহ করে পরিবর্তন
হিসেবে ভাণ্ডারে জমা দেখানো হয়েছে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) চলতি অর্থবছরে সড়ক বাতি ক্রয় বাবদ ৪৮ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে সে কাজ হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির ক্রয় বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ভাণ্ডার বিভাগের অধিকাংশ অর্থই চলে গেছে সরকারদলীয় একজন এমপির পকেটে। ওই এমপির মনোনীত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কাজ দেয়ার পর নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের অর্থ তুলে নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএনসিসির প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তার অংশীদারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দেওয়ান ট্রেডিং ও মেসার্স চৌধুরী
ইন্টারন্যাশনাল। এ প্রতিষ্ঠান দুটিসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার কোটেশনে অনেকগুলো কাজ হয়েছে। গত বছরের ৭ আগস্ট থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার সড়ক বাতি ক্রয় করে ডিএনসিসি। আর বিল-ভাউচারে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি থেকে দশ হাজার পিস এনার্জি বাতি ক্রয় দেখানো হয়েছে। দুই-আড়াই মাসের মধ্যেই এসব বাতি ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চলের পরিদর্শকদের নামে ইস্যু করা হয়। এর মাস দুয়েক পরেই এ্যালুমিনেট বিডি থেকে বিভিন্ন ওয়াটের হাই প্রেসার সোডিয়াম বাতি, ইগনিটর ও ব্যালাস্ট ক্রয় করা হয়। এর কিছুদিন পর প্রায় দেড় কোটি টাকার সোডিয়াাম বাতি কেনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিবর্তনের নামে সচল বাতিগুলোও অদল-বদল করা হয়েছে। আবার সচল এনার্জি বাতিগুলো সরিয়ে স্থাপন করা হয়েছে সোডিয়াম বাতি। এভাবে প্রায় এক কোটি টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে চলে গেছে।
অন্যদিকে গত বছর ৪ হাজার সোডিয়াম বাতি কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে ডিএনসিসি। ওই দরপত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কিকো লিমিটেড বাতি প্রতি ৩ হাজার ৬০৬ টাকায় কাজ পায়। আর ডিএসসিসির অনুকূলে এক কোটি ৪৪ লাখ ২৪ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়। ওই কার্যাদেশ অনুযায়ী গত ১৫ নভেম্বর কিকো লি. ডিএনসিসির ভাণ্ডার বিভাগে সোডিয়াম বাতি সরবরাহ করে।
কিন্তু সরবরাহকৃত বাতির মান ও গুণাগুণ পরীক্ষাপূর্বক বিভিন্ন জোনে সরবরাহের লক্ষ্যে এসব বাতি ডিসিসির ভাণ্ডারেই জমা রাখা হয়। আর সরবরাহকৃত বাতির মান নিয়ন্ত্রণ, গ্রহণ এবং আমদানিসংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষার জন্য একটি যাচাই কমিটিও গঠন করে। ওই কমিটিতে বাতির মান ও গুণাগুণ অধিকতর যাচাইয়ের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ হিসেবে বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের একজনকে সদস্য রাখার কথা বলা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে।
এদিকে ভাণ্ডার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিটির মাধ্যমে সরবরাহ করা বাতির গুণাগুণ ও আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি যাচাই করা হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে বাতিগুলো ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ডিএনসিসির বিভিন্ন অঞ্চলের বিতরণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ৩ হাজার বাতি একদিনের মধ্যেই পরিদর্শকদের নামে বিতরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসসিসি থেকে ধার করে আনা ৫০০ সোডিয়াম বাতিও অঞ্চল পরিদর্শকদের মধ্যে বিতরণ দেখানো হয়েছে। আর্থাৎ এক মাসে অঞ্চল পরিদর্শকদের অনুকূলে সাড়ে ৩ হাজার সোডিয়াম বাতি সরবরাহ করা হয়। যার দাম ১ কোটি ২৬ লাখ ২১ হাজার টাকা। অথচ ইতিপূর্বে সড়ক বাতি অপচয় রোধে কোনো পরিদর্শকের নামে ২০-২৫টির বেশি বাতি ইস্যু করা হয়নি।
এদিকে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সঠিক নয় উল্লেখ করে ডিএনসিসির প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, নিয়ম অনুযায়ীই সব কাজ হয়েছে। আর মান যাচাই-বাছাইয়ের কাজ বিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগের; আমার নয়। আমার কাছে যেভাবে চাহিদা এসেছে, সেভাবে বিতরণ করেছি।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) চলতি অর্থবছরে সড়ক বাতি ক্রয় বাবদ ৪৮ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে সে কাজ হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির ক্রয় বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ভাণ্ডার বিভাগের অধিকাংশ অর্থই চলে গেছে সরকারদলীয় একজন এমপির পকেটে। ওই এমপির মনোনীত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কাজ দেয়ার পর নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দের অর্থ তুলে নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএনসিসির প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তার অংশীদারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স দেওয়ান ট্রেডিং ও মেসার্স চৌধুরী
ইন্টারন্যাশনাল। এ প্রতিষ্ঠান দুটিসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকার কোটেশনে অনেকগুলো কাজ হয়েছে। গত বছরের ৭ আগস্ট থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার সড়ক বাতি ক্রয় করে ডিএনসিসি। আর বিল-ভাউচারে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি থেকে দশ হাজার পিস এনার্জি বাতি ক্রয় দেখানো হয়েছে। দুই-আড়াই মাসের মধ্যেই এসব বাতি ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চলের পরিদর্শকদের নামে ইস্যু করা হয়। এর মাস দুয়েক পরেই এ্যালুমিনেট বিডি থেকে বিভিন্ন ওয়াটের হাই প্রেসার সোডিয়াম বাতি, ইগনিটর ও ব্যালাস্ট ক্রয় করা হয়। এর কিছুদিন পর প্রায় দেড় কোটি টাকার সোডিয়াাম বাতি কেনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরিবর্তনের নামে সচল বাতিগুলোও অদল-বদল করা হয়েছে। আবার সচল এনার্জি বাতিগুলো সরিয়ে স্থাপন করা হয়েছে সোডিয়াম বাতি। এভাবে প্রায় এক কোটি টাকা সিন্ডিকেটের পকেটে চলে গেছে।
অন্যদিকে গত বছর ৪ হাজার সোডিয়াম বাতি কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করে ডিএনসিসি। ওই দরপত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কিকো লিমিটেড বাতি প্রতি ৩ হাজার ৬০৬ টাকায় কাজ পায়। আর ডিএসসিসির অনুকূলে এক কোটি ৪৪ লাখ ২৪ হাজার টাকার কার্যাদেশ দেয়া হয়। ওই কার্যাদেশ অনুযায়ী গত ১৫ নভেম্বর কিকো লি. ডিএনসিসির ভাণ্ডার বিভাগে সোডিয়াম বাতি সরবরাহ করে।
কিন্তু সরবরাহকৃত বাতির মান ও গুণাগুণ পরীক্ষাপূর্বক বিভিন্ন জোনে সরবরাহের লক্ষ্যে এসব বাতি ডিসিসির ভাণ্ডারেই জমা রাখা হয়। আর সরবরাহকৃত বাতির মান নিয়ন্ত্রণ, গ্রহণ এবং আমদানিসংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষার জন্য একটি যাচাই কমিটিও গঠন করে। ওই কমিটিতে বাতির মান ও গুণাগুণ অধিকতর যাচাইয়ের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ হিসেবে বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের একজনকে সদস্য রাখার কথা বলা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে।
এদিকে ভাণ্ডার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিটির মাধ্যমে সরবরাহ করা বাতির গুণাগুণ ও আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি যাচাই করা হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলী প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে বাতিগুলো ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ডিএনসিসির বিভিন্ন অঞ্চলের বিতরণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে ৩ হাজার বাতি একদিনের মধ্যেই পরিদর্শকদের নামে বিতরণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসসিসি থেকে ধার করে আনা ৫০০ সোডিয়াম বাতিও অঞ্চল পরিদর্শকদের মধ্যে বিতরণ দেখানো হয়েছে। আর্থাৎ এক মাসে অঞ্চল পরিদর্শকদের অনুকূলে সাড়ে ৩ হাজার সোডিয়াম বাতি সরবরাহ করা হয়। যার দাম ১ কোটি ২৬ লাখ ২১ হাজার টাকা। অথচ ইতিপূর্বে সড়ক বাতি অপচয় রোধে কোনো পরিদর্শকের নামে ২০-২৫টির বেশি বাতি ইস্যু করা হয়নি।
এদিকে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সঠিক নয় উল্লেখ করে ডিএনসিসির প্রধান ভাণ্ডার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, নিয়ম অনুযায়ীই সব কাজ হয়েছে। আর মান যাচাই-বাছাইয়ের কাজ বিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগের; আমার নয়। আমার কাছে যেভাবে চাহিদা এসেছে, সেভাবে বিতরণ করেছি।
http://manobkantha.com/details_news.php?id=106554&&%20page_id=%206
No comments:
Post a Comment