রাজধানীর ৮৫ শতাংশ মার্কেটে ফায়ার লাইসেন্স নেই
এম এ বাবর:
রাজধানীর বিভিন্ন ভবনে আগুন লাগার ঘটনা বেড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও অসচেতনতার কারণেই এসব অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। একই সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রশিক্ষণের অভাব ও ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় আগুনের ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
ডিসিসি ও রাজউকের হিসাব অনুযায়ী রাজধানীতে মার্কেট এবং দোকানের সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি। আর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের হিসাব অনুযায়ী এসব মার্কেট ও দোকানের বিপরীতে ফায়ার লাইসেন্স (অগ্নিনির্বাপণ সনদ) রয়েছে মাত্র ৩৪ হাজার। এর মধ্যে বেশিরভাগ লাইসেন্সই নিয়মিত নবায়ন করা হয় না। অভিযোগ রয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের উদাসীনতা ও লাইসেন্স নেয়ার জটিলতার কারণেই লাইসেন্সগ্রহীতার সংখ্যা বাড়ছে না। রাজধানীতে প্রায় সব এলাকাতেই ছোট-বড় অসংখ্য কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। দাহ্য বস্তু বেচাকেনা এবং ব্যবহার করছে এমন দোকান ও কারখানার সংখ্যাও কম নয়। এদিকে প্রায়ই আগুনের দুর্ঘটনায় বেশ কিছু লোক মারা যাওয়ার সঙ্গে শত শত কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এ দুর্ঘটনা থেকে নিস্তারের উপায়ও কেউ যেন নিতে চাচ্ছেন না। সব শেষ গত ২৪ নভেম্বর সাভারের আশুলিয়ায় তোবা গ্রুপের তাজরিন ফ্যাশনে স্মরণকালের ভায়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিস বিভাগের প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত ৩০ জুন গার্মেন্টটির অগ্নিনিরাপত্তা সনদ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ছাড়া ফায়ার সার্ভিস ফের এ সনদ দিতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছিল। অথচ মেয়াদোত্তীর্ণ এ সনদ নিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কারখানায় উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল মালিকপক্ষ। আর তাজরিনের মালিকপক্ষের অবহেলায় এ ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে।’
অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ অধ্যাদেশ ২০০৩-এর বিভিন্ন ধারায় বলা হয়েছে, সহজেই আগুন লেগে যায় এমন দোকানপাট, কলকারখানা, প্রতিষ্ঠান ও গুদামঘরের জন্য আলাদা ফায়ার লাইসেন্স গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। প্রতি বছরই লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। আর এ নিবন্ধন না নিলে ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শকরা দোকানপাট, কলকারখানা, মার্কেট, হাসপাতাল, গোডাউন সিলগালা (বন্ধ) করে দিতে পারে। এর পর মামলা করলে সংশ্লিষ্ট ধারায় বিচারকাজ সম্পন্ন হলে আসামির সর্বনিু তিন বছরের জেল হওয়ার বিধান রয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, দোকান বা মার্কেটে যে ফায়ার লাইসেন্স থাকতে হয়, তা জানেন না বেশিরভাগ লোকজন। এ লাইসেন্স করলে কী হবে, তা-ও কেউ বলতে পারেন না। অনেকে মনে করেন এ লাইসেন্স করা অনেক ব্যয়বহুল ও ঝামেলাপূর্ণ। বাড্ডার একটি হাসপাতাল ১০ বছর ধরে চলছে ফায়ার লাইসেন্স ছাড়া। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবস্থাপক ফরিদ নেওয়াজ বলেন, ‘ফায়ার লাইসেন্স যে জরুরি, আমরা জানি। তবে লাইসেন্স করতে অনেক ঝামেলা মনে করেই এতদিন এটি করা হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।’
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক জহুরুল আমিন বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপই হচ্ছে ফায়ার লাইসেন্স গ্রহণ। দাহ্য বস্তু সংরক্ষণ, বেচাকেনা, মজুদ রাখা ও উৎপাদন করতে হলে মার্কেট ও দোকান মালিকদের নিজেদের স্বার্থেই ফায়ার লাইসেন্স করা প্রয়োজন। এতে অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ, মহড়া ছাড়া অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতির বিষয়গুলোও নিশ্চিত করা হয়। ফায়ার পরিদর্শকরা লাইসেন্সধারী দোকানে বা কারখানায় গিয়ে দেখে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণের বিষয়টি নিশ্চিত আছে কি না। এছাড়া এসব বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তারো পরামর্শ দেয়া হয়। এতে আগুনে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়।’
রাজধানীর বিভিন্ন ভবনে আগুন লাগার ঘটনা বেড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও অসচেতনতার কারণেই এসব অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। একই সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রশিক্ষণের অভাব ও ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় আগুনের ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
ডিসিসি ও রাজউকের হিসাব অনুযায়ী রাজধানীতে মার্কেট এবং দোকানের সংখ্যা পাঁচ লাখেরও বেশি। আর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের হিসাব অনুযায়ী এসব মার্কেট ও দোকানের বিপরীতে ফায়ার লাইসেন্স (অগ্নিনির্বাপণ সনদ) রয়েছে মাত্র ৩৪ হাজার। এর মধ্যে বেশিরভাগ লাইসেন্সই নিয়মিত নবায়ন করা হয় না। অভিযোগ রয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের উদাসীনতা ও লাইসেন্স নেয়ার জটিলতার কারণেই লাইসেন্সগ্রহীতার সংখ্যা বাড়ছে না। রাজধানীতে প্রায় সব এলাকাতেই ছোট-বড় অসংখ্য কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। দাহ্য বস্তু বেচাকেনা এবং ব্যবহার করছে এমন দোকান ও কারখানার সংখ্যাও কম নয়। এদিকে প্রায়ই আগুনের দুর্ঘটনায় বেশ কিছু লোক মারা যাওয়ার সঙ্গে শত শত কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু এ দুর্ঘটনা থেকে নিস্তারের উপায়ও কেউ যেন নিতে চাচ্ছেন না। সব শেষ গত ২৪ নভেম্বর সাভারের আশুলিয়ায় তোবা গ্রুপের তাজরিন ফ্যাশনে স্মরণকালের ভায়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিস বিভাগের প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত ৩০ জুন গার্মেন্টটির অগ্নিনিরাপত্তা সনদ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ছাড়া ফায়ার সার্ভিস ফের এ সনদ দিতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছিল। অথচ মেয়াদোত্তীর্ণ এ সনদ নিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কারখানায় উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল মালিকপক্ষ। আর তাজরিনের মালিকপক্ষের অবহেলায় এ ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে।’
অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ অধ্যাদেশ ২০০৩-এর বিভিন্ন ধারায় বলা হয়েছে, সহজেই আগুন লেগে যায় এমন দোকানপাট, কলকারখানা, প্রতিষ্ঠান ও গুদামঘরের জন্য আলাদা ফায়ার লাইসেন্স গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। প্রতি বছরই লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। আর এ নিবন্ধন না নিলে ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শকরা দোকানপাট, কলকারখানা, মার্কেট, হাসপাতাল, গোডাউন সিলগালা (বন্ধ) করে দিতে পারে। এর পর মামলা করলে সংশ্লিষ্ট ধারায় বিচারকাজ সম্পন্ন হলে আসামির সর্বনিু তিন বছরের জেল হওয়ার বিধান রয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, দোকান বা মার্কেটে যে ফায়ার লাইসেন্স থাকতে হয়, তা জানেন না বেশিরভাগ লোকজন। এ লাইসেন্স করলে কী হবে, তা-ও কেউ বলতে পারেন না। অনেকে মনে করেন এ লাইসেন্স করা অনেক ব্যয়বহুল ও ঝামেলাপূর্ণ। বাড্ডার একটি হাসপাতাল ১০ বছর ধরে চলছে ফায়ার লাইসেন্স ছাড়া। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবস্থাপক ফরিদ নেওয়াজ বলেন, ‘ফায়ার লাইসেন্স যে জরুরি, আমরা জানি। তবে লাইসেন্স করতে অনেক ঝামেলা মনে করেই এতদিন এটি করা হয়নি। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।’
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক জহুরুল আমিন বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপই হচ্ছে ফায়ার লাইসেন্স গ্রহণ। দাহ্য বস্তু সংরক্ষণ, বেচাকেনা, মজুদ রাখা ও উৎপাদন করতে হলে মার্কেট ও দোকান মালিকদের নিজেদের স্বার্থেই ফায়ার লাইসেন্স করা প্রয়োজন। এতে অগ্নিনিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ, মহড়া ছাড়া অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতির বিষয়গুলোও নিশ্চিত করা হয়। ফায়ার পরিদর্শকরা লাইসেন্সধারী দোকানে বা কারখানায় গিয়ে দেখে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণের বিষয়টি নিশ্চিত আছে কি না। এছাড়া এসব বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তারো পরামর্শ দেয়া হয়। এতে আগুনে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়।’
http://manobkantha.com/archive_details.php?id=97505&&%20page_id=%206&issue_date=%202012-12-11
No comments:
Post a Comment