Wednesday, February 20, 2013

রং ফর্সা করা নিয়ে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির প্রতারণা

সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের তরুণী, যে নিজের জীবন নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে। কিন্তু স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার ঈশ্বরপ্রদত্ত গায়ের রঙ। এ নিয়ে সে খুবই হতাশ। অবশেষে কোনো এক বান্ধবীর পরামর্শে একটি ‘জাদুকরি’ রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের খোঁজ পেলো।

সেই ক্রিম ব্যবহার করে রাতারাতি পাল্টে গেলো তরুণীর ভাগ্য। ঝটপট বড় চাকরি হয়ে গেলো, রাস্তাঘাটেও ছেলেরা অবাক হয়ে তার দিকে তাকাতে লাগলো। দিনশেষে মেয়েটি ঝকঝকে হাসি দিয়ে জানালো, এসবের পুরো কৃতিত্ব রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের।অর্থনীতি

বর্তমানে সারা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রসাধনী পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম এই ফেয়ারনেস বা রঙ ফর্সাকারী ক্রিম। আর ফেয়ারনেস ক্রিমের সঙ্গে অবধারিতভাবে যে নামটি চলে আসে, তা হচ্ছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি।

বর্তমানে রঙ ফর্সাকারী ক্রিমগুলোর সবচেয়ে বড় বাজার দখল করে আছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের পণ্য ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি। অবশ্য বাংলাদেশে এর বাজারটি মূলত নিয়ন্ত্রণ করে ইউনিলিভারের ভারত শাখা, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার লিমিটেড।

রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের বাজারের শুরুটাও হয় ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির হাত ধরেই। ১৯৭৫ সালে বাজারে আসার পরপর দ্রুত ভারতের বাজারে জনপ্রিয়তা পায় এই ক্রিম। এখনও ভারতেই এর সবচেয়ে বড় বাজার রয়েছে, এরপর রয়েছে বাংলাদেশে। বিশ্বের মোট ৪০টি দেশে রফতানি হয় ফেয়ার অ্যান্ডি লাভলি। এশিয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ল্যাটিন দেশগুলোয়ও বেশ জনপ্রিয় এটি।

সত্যিই কী রঙ ফর্সা করতে পারে বিশ্বখ্যাত ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি? যে ‘মিরাকল’-এর কথা বলা হয় ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির প্রতিটি বিজ্ঞাপনে, তা কতোটুকু সত্যি?

সেটা জানার আগে আমাদের আগে জানতে হবে রঙ ফর্সা বলতে আমরা কি বুঝি।

ত্বকে গাঢ় বা উজ্জ্বল হওয়া মূলত নির্ভর করে মেলানিন নামে একটি রঞ্জক (পিগমেন্ট) পদার্থের ওপর, যা ত্বকের উপরের স্তরের (এপিডার্মিস) ঠিক নিচে থাকে। মেলানিনের উপস্থিতি বেশি হলে ত্বক গাঢ় বা কালো হয়, কম হলে উজ্জ্বল বা ফর্সা হয়। একই সঙ্গে মেলানিনের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে- ত্বক সুরক্ষার কাজটিও এটি করে থাকে।

ত্বকে মেলানিন বেশি থাকলে ত্বক তুলনামূলক সুস্থ থাকে ও বিভিন্ন চর্মরোগের ঝুঁকি তেমন থাকে না। কিন্তু মেলানিন কম হলে ত্বক সহজেই বাইরের আবহাওয়ায় আক্রান্ত হয়, সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

এই মেলানিনকে বাদ দিয়ে কোনোভাবেই ত্বকের আসল রঙ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। শীতপ্রধান দেশে শ্বেতাঙ্গরা অতিরিক্ত ফর্সা ত্বকে ট্যান লোশন ব্যবহার করেন মেলানিনের ঘনত্ব বাড়ানোর জন্য।

তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে, মেলানিনকে প্রভাবিত করে ত্বক ফর্সা করতে পারে, এমন উপাদান নিশ্চয়ই আছে?

উত্তর হলো- হ্যাঁ, আছে। হাইড্রোকুইনোন, স্টেরয়েড, মার্কারি এমনই কিছু উপাদান। তবে তাই বলে খুশি হওয়ার কারণ নেই; আশির দশকে কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এগুলোর ব্যবহার শুরু করলেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে দ্রুত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।

এগুলোর মধ্যে হাইড্রোকুইনোনই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, যা মেলানিনের ঘনত্ব কমিয়ে ত্বককে উজ্জ্বল করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এর অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে আসতে পারে ভয়াবহত ত্বক ক্যান্সারের ঝুঁকি। হাইড্রোকুইনিন সমৃদ্ধ যে কোনো পণ্য ফ্রান্সসহ ইউরোপের অনেক দেশে নিষিদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রসাধনীতে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হাইড্রোকুইনিন ব্যবহার করা যেতে পারে।

একই রকম ঝুঁকিতে রয়েছে স্টেরয়েড। স্টেরয়েড মেলানিনকে প্রভাবিত করতে পারলেও এর দীর্ঘ ব্যবহারে ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও পাতলা হয়ে যেতে পারে, ত্বকে মেলানিনের ভারসাম্য নষ্ট করে কোনো অংশ কালচে ও কোনো অংশ সাদাটে করে দিতে পারে। জাপানে একসময় মার্কারি সমৃদ্ধ ফর্সাকারী ক্রিম চালু হলেও এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবের কারনে দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে ইউরোপ,কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রসাধনীতে দশ লাখ ভাগের এক ভাগ মার্কারি ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। এর বেশি হলেই এটি কিডনি সমস্যা, স্নায়ুতন্ত্রে সমস্যা তৈরির পাশাপাশি গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

অর্থাৎ বলা যায়, যেসব উপাদানের সরাসরি মেলানিনকে প্রভাবিত করে ত্বকের রঙ পরিবর্তন করার ক্ষমতা আছে, সেগুলো এতোই ক্ষতিকারক যে ব্যবহার করার চেয়ে ঘোর কৃষ্ণবর্ণ নিয়ে হাজারগুণ ভালো।

এবার আসা যাক আসল প্রশ্নে। উপমহাদেশে সৌন্দর্য, ফর্সা রঙের প্রতীকের পরিণত হওয়া ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ক্রিমে কী এসব মারাত্মক কোনো উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে?

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির প্রস্তুত প্রণালী বলছে,না। এমন কোনো ক্ষতিকর উপাদানের এতে নেই। তাহলে কীসের ভিত্তিতে লাখ লাখ তরুণীর রঙ ফর্সা করার দাবি করছে তারা?

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির মতে, তাদের সৌন্দর্যের ফর্মুলা ভিটামিন বি৩, যার রাসায়নিক নাম নিকোটিনামাইড বা নায়াসিনামাইড। ১৯৭৫ সালে ইউনিলিভারের নিজস্ব গবেষণাগারে তৈরি করেন তাদের গবেষকরা। বিভিন্ন সানস্ক্রিন এজেন্টের সঙ্গে বিক্রিয়া করে এটি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে সাহায্য করে।

কতোটা কার্যকর এই ভিটামিন বি৩? সত্যি কী এর মেলানিনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা আছে?

থাইল্যান্ডের ইনস্টিটিউট অব ডার্মাটোলজির পরিচালক প্রিয়া কুলাবণিজায়ার মতে, “নায়াসিনামাইড যে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়, এমন কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই।”

দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সের ডার্মাটোলজি বিভাগের প্রধান ড. আর কে পন্ডি এ ব্যাপারে বলেন, “আমি আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এমন কোনো রঙ ফর্সাকারী উপাদান দেখিনি, যা ক্ষতি না করে রঙ পরিবর্তন করে। এমনকি বাহ্যিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, এমন কোনো ক্রিমই ত্বকের আসল রঙ পরিবর্তন করতে পারে না।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ও এ ধাঁচের ক্রিমগুলো কাজ যা করে, তাৎক্ষণিক। অর্থাৎ এসব ক্রিম মুখে মাখানোর কারণে একটি সাদাটে আস্তরণ পড়ে মুখের ওপর, যাকে ফর্সা হওয়ার ‘প্রথম ধাপ’ ভেবে ভুল করেন অনেকে। ব্যবহার করতে করতে যে একসময় এটি ত্বকের দাগ, কালো স্তর দূর করে ত্বককে ফর্সা করে তুলবে, এমন ভাবাও অর্থহীন। কেননা নায়াসিনামাইডের তেমন কোনো ক্ষমতাই নেই, চামড়ার প্রথম স্তর এপিডার্মিসও ভেদ করতে পারে না। এটি নেহাৎই একটি নিরীহ উপাদান,যার একমাত্র গুণ এটি ত্বককে আপাতদৃষ্টিতে সাদাটে (কিংবা ফ্যাকাশে) করে তুলতে পারে; হাইড্রোকুইনিন, স্টেরয়েড বা মার্কারির মতো প্রত্যক্ষ কোনো ক্ষতি করা ছাড়াই। আর লোশন ধাঁচের হওয়ায় ব্যবহারের পর ত্বকে কিছুটা মসৃণ ভাব অনুভূত হয়।

তবে নায়াসিনামাইডকে একেবারে নিরীহ ভাবার কারণ নেই। দৈনিক ৩ গ্রামের বেশি ব্যবহারে নায়াসিনামাইডও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই আছেন দ্রুত ফর্সা হওয়ার আশায় দিনে দু-তিনবার করে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ব্যবহার করেন। এভাবে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে তা ত্বকের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
    
তাই সাদা চোখে দেখলে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির সবচেয়ে বড় সাফল্য, এটি আপাতদৃষ্টিতে রঙ উজ্জ্বল করার জন্য এমন একটি উপাদান ব্যবহার করে, যা ত্বকের খুব বেশি ক্ষতি করে না, চুলকানি বা দাগ তৈরি করে না, এবং মোটামুটি সব ধরনের ত্বকেই এ বৈশিষ্ট্যগুলো অক্ষুণ্ণ থাকে।

তারপরও কেন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বিশ্বব্যাপী এতো জনপ্রিয়? কেন একেই ‘সুন্দর’ হওয়ার প্রধান মাধ্যম হিসেবে ধরে নিচ্ছেন তরুণীরা?

এর কারণ খুঁজতে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির উপাদান থেকে চোখ ফেরাতে হবে তাদের অত্যন্ত শক্তিশালী খাতের দিকে—  বিজ্ঞাপন ও বিপণন। সন্দেহ নেই, এই দুইয়ের গুণেই আজ ‘নিরীহ’ একটি উপাদান নিয়ে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বিশ্বের জনপ্রিয়তম ফেয়ারনেস ক্রিম।

শুরুতেই একটি বিজ্ঞাপনের কথা আলোচনা করেছি। সেই বিজ্ঞাপনে যে ভারতীয় মডেল তরুণীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, তাকে পর্দার পেছনে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কতোদিন ধরে ব্যবহার করছেন এই ক্রিম? কেমন ফল পাচ্ছেন? মডেল ঠোঁট উলটে জবাব দিয়েছিলেন, “পাগল নাকি! এসব ছাইপাশ ব্যবহার করে স্কিন নষ্ট করবো?”

বিজ্ঞাপনের এই ধারা আজও বন্ধ হয়নি। ‘সুন্দর হও, পৃথিবী তোমার জন্য’--  প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে তরুণীদের আকৃষ্ট করার জন্য ঠিক এই মানসিক অস্ত্রটিই ব্যবহার করছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি। বলা বাহুল্য, ভারত ও বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ নারীর কাছেই সৌন্দর্যের মূল সংজ্ঞা ফর্সা ত্বক। মেলানিনের অতশত জটিল ব্যাপার তারা বোঝেন না, ত্বক সুস্থ নাকি ভঙ্গুর তাও তাদের জানার দরকার নেই। বরং  কোনোভাবে যদি গায়ের রঙ ঘষেমেজে আরেকটু উজ্জ্বল করা যায়, তাতেই তারা প্রবল সন্তুষ্ট। আর উজ্জ্বল বর্ণের প্রতি নারীদের এ আকর্ষণকে কাজে লাগিয়েই কোটি কোটি ডলারের বাজার গড়ে তুলেছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি।

উপমহাদেশীয় নারীদের সাদা বর্ণের প্রতি এমন প্রবল আকর্ষণ নতুন কিছু নয়, কিন্তু একে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে রীতিমতো বর্ণবাদের পর্যায়ে নিয়ে আসার দায় কিছুটা ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির উপরও বর্তায়।

উগ্র বর্ণবাদ ছড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির কিছু বিজ্ঞাপনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ভারতে। ২০০৩ সালে পরপর দুটি বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে বেশ প্রশ্নের সম্মুখীন হয় তারা। এমনকি মুখোমুখি হয় ভারতের মানবাধিকার সংস্থাগুলোরও। অবশ্য ইউনিলিভার বরাবরই এসব বিজ্ঞাপনকে ‘নারীর ব্যক্তিত্ব প্রকাশের মাধ্যম’ বলে পাশ কাটিয়ে যাবার চেষ্টা করেছে।

কিন্তু এসব বিজ্ঞাপনে বারবারই ‘কালো’ ও হতাশাগ্রস্ত মেয়েদের দেখানো হচ্ছে, যারা গায়ের রঙ একটু উন্নত করেই দারুণভাবে সমাজে জায়গা করে নিচ্ছেন,  পছন্দের স্বামী, পছন্দের চাকরি পাচ্ছেন। এমনকি আয়নায় নিজের গায়ের রঙের দিকে তাকিয়ে মডেলরা বলছেন, “ইস, যদি আরেকটু ফর্সা হতাম!” এসবের মধ্য দিয়ে নারীর ব্যক্তিত্ব প্রকাশ হলো ঠিক কোন জায়গায়, তার অবশ্য জবাব দিতে পারেনি ইউনিলিভার। বরং নারীকে যে নিছক নানা রঙের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সে ব্যাপারে একমত হয়েছেন অসংখ্য নারী।

এসবের মাধ্যমে দুটি ধারণা জোর করে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে নারীদের মাথায়- প্রথমত, সৌন্দর্যই নারীর মানদণ্ড, জীবনে সফলতার মাধ্যম; দ্বিতীয়ত, সৌন্দর্যের প্রথম শর্ত উজ্জ্বল বর্ণ, তুমি কালো হলে সুন্দরীদের তালিকায় তোমার স্থান নেই।

২০০৬ সালে বাংলাদেশে বিজ্ঞাপনের জন্য ৭০ লাখ ডলার বাজেট করেছিল ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি। বাজার হিসেবে ভারতের চেয়ে কোনো অংশে কম লোভনীয় নয় বাংলাদেশ, বিশেষ করে ঢাকার বাইরের বিশাল জনপদের জন্য। শুধু কালো কেন, অনেক শ্যামলা কিংবা ফর্সা মেয়েকেই নিয়মিত ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ব্যবহার করতে দেখা যায়। ত্বকের সঙ্গে মিল রেখে মাল্টি ভিটামিন, আয়ুর্বেদিক, অ্যান্টি-মার্কস ইত্যাদি মোড়কের ক্রিম ব্যবহার করেন তারা। এমনই আজকের যুগে এটি ব্যবহারে পিছিয়ে নেই ছেলেরাও। মেয়েদের সঙ্গে তাল মিলিয়েই নিয়মিত ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি ব্যবহার করছেন।

কিন্তু আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি সেই কথা, বাহ্যিকভাবে প্রয়োগ করে ত্বকে পরিবর্তন আনতে পারে, এমন কোনো উপাদান নেই। তাই যতো রকম মোড়কেই পাওয়া যাক না কেন, এদের কাজ সাময়িক ও কিছুক্ষণের জন্য আরামদায়ক। বিজ্ঞাপনের মতো ত্বকের নিচে লুকিয়ে থাকা ‘সিক্রেট’ উন্মোচন করার ক্ষমতা এদের কারও নেই, ত্বকের ‘গভীর থেকে গভীরে’ পৌঁছে কালো দাগ বা স্পট দূর করার সাধ্যও নেই।

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলত ভোক্তাদের আকৃষ্ট করার অসংখ্য উপায় ও পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে। চটকদার, নজরকাড়া ও নানা গালভরা উপাদানের নামে ভরপুর বিজ্ঞাপনে খুব সহজেই পা দেয় সাধারণ মানুষ।

একই সঙ্গে নিজেদের পণ্যের সফলতা গাণিতিক ভাবেও প্রমাণ করে দেয় প্রতিষ্ঠানগুলো (৭ দিনে কালো থেকে শ্যামলা, ১৪ দিনে শ্যামলা থেকে ফর্সা, প্রতিদিন রঙ পরিবর্তনের হার ইত্যাদি!)। আর মানুষ যাতে ব্যবহার করতে করতে হতাশ হয়ে না পড়ে, সেজন্য সঙ্গে অফার করা হয় নানা পরিপূরক, একটায় কাজ না হলে অন্য কোনো মোড়কেরটা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয় (যেমন- অ্যান্টি-মার্কসে কাজ না হলে আয়ুর্বেদিক!)।

পাঠক, মনে রাখবেন, এটি ২০১৩ সাল চলছে। হাত বাড়ালেই আপনার নাগালে আছে অবারিত তথ্যের ভাণ্ডার। নিজের কষ্টার্জিত পয়সা দিয়ে কেনা পণ্য ব্যবহারের আগে একবার দেখেই নিন না, সত্যিই কতোটা কার্যকরী এটি? কিংবা সত্যিই আপনার পক্ষে ব্যবহারের উপযুক্ত কিনা?

একটি প্রশ্ন তাহলে রয়েই যায়, সত্যিই কী ত্বকের রঙ পরিবর্তন করার জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ কোনো পদ্ধতি নেই?

হ্যাঁ, আছে। জাপান ও ইউরোপে বর্তমানে বেশ কিছু কার্যকরী ক্রিম পাওয়া যাচ্ছে, তবে এগুলোকে আসলে ক্রিম না বললে উচ্চমূল্যের ওষুধ বলাই ভালো, যা মেলানিনকে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রভাবিত করতে পারে। অবশ্য এসব ব্যবহারের আগে ডাক্তারের যথাযথ নির্দেশনা প্রয়োজন।তারপরও ফেয়ার অ্যান্ড লাভলিকে কৃতিত্ব দিলে একটা জায়গায়ই দিতে হয়। উচ্চমূল্যের ওষুধ বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাদের ত্বকের রঙ পরিবর্তনের সাধ্য নেই, তাদের জন্য সবচেয়ে শস্তায় ‘ত্বক পরিবর্তনের অনুভূতি’ দিয়ে যাচ্ছে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি। তাই সত্যিকারে রঙ পরিবর্তন না হলেও ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি মাখছি, কিছু না কিছু তো হচ্ছেই’ ভেবে মানসিক প্রশান্তিতে থাকেন ভোক্তাদের একটি বড় অংশই। তাদের জন্য বিশ্বখ্যাত এই ক্রিমটি এক ধরনের সান্তনাই বলা চলে! 
 http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=901187609225a748bb0c22a3c7c337d6&nttl=20022013175656

No comments: