সরকারের ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাজারে ২০ হাজারের বেশি ওষুধ রয়েছে। তবে বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় সরকারিভাবে মাত্র তিন-চার হাজার ওষুধের মান পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। শিগগিরই ঢাকা ও চট্টগ্রামের ল্যাবরেটরির ওষুধ পরীক্ষা করার ক্ষমতা আরো বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হচ্ছে। নতুন করে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে সমস্যা থাকবে না। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, পরিস্থিতি উত্তরণে ইতিমধ্যেই মান পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন দুটি ল্যাবরেটরি স্থাপন হবে, বিদ্যমান ল্যাবরেটরিকে আরো ক্ষমতাসম্পন্ন ও কার্যকর করা হবে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ পরীক্ষার ব্যবস্থা হবে। ফলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। স্বাস্থ্যসচিব আরো বলেন, যন্ত্র ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনবল ঘাটতি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়াহয়েছে।
ওষুধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, বাজারে
থাকা মোট ওষুধের চার ভাগের তিন ভাগেরও বেশি ওষুধই মান পরীক্ষার আওতায় আসছে
না। বিষয়টি খুবই বিপজ্জনক। অধ্যাপক ফারুক জরুরি ভিত্তিতে ওষুধের মান-গুণ
পরীক্ষার ল্যাবরেটরির ক্ষমতা বৃদ্ধি, আরো আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, প্রতিটি
বিভাগীয় শহরে একটি করে ল্যাবরেটরি স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের
প্রতি আহ্বান জানান। পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে অতীতের দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত ও
বিচারের দাবিও তিনি জানান।
সরকারের ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক আরো জানান, নিয়মিত সব ওষুধ সরকারিভাবে পরীক্ষা করা না গেলেও ভালো ওষুধ কম্পানিগুলো নিজেদের স্বার্থেই নিজ পণ্যের মান নিশ্চিত করে। এখন ৮৫টি আইটেমের ওষুধ রপ্তানি হয়। ফলে মান নিশ্চিত না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। তবে নিম্নমানের কিছু কম্পানি যে ভেজাল বা নকল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই অভিযান ও পরিদর্শন চলে। তিনি বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি অভিযানে অনেককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ‘গ্রামো’ নামের একটি কম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কিছু ভেজাল ও অবৈধ ওষুধ আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন ব্যবসায়ীকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ওষুধ বিশেষজ্ঞ বলেন, ব্যবস্থাপনাগত বা জনবল ঘাটতির অজুহাত দিয়েই সরকারের দায় এড়াতে পারে না। বরং সরকারের দায়িত্ব নিরাপদ ওষুধ, কার্যকর ওষুধ ও মানসম্মত ওষুধের তিন মানদণ্ড নিশ্চিত করা। বর্তমানে এটি তেমনভাবে করাই হচ্ছে না। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম আরো দ্রুত কার্যকর করে গড়ে তোলা উচিত। তা না হলে নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত করার প্রবণতা বাড়বে, জনস্বাস্থ্য আরো ঝুঁকির মুখে থাকবে।
ওষুধের বহর : সরকারি হিসাবে দেশে অনুমোদিত জেনেরিক ওষুধের (অ্যালোপ্যাথিক, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক) সংখ্যা এক হাজার ২০০। এর মধ্যে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারী ২৫৮টি প্রতিষ্ঠান তৈরি বা বাজারজাত করছে ২০ হাজার ৪৫৬টি ওষুধ। এ ছাড়া ২৬৮টি ইউনানি প্রতিষ্ঠানে এক হাজার ৩২০টি, ২০১টি আয়ুর্বেদিকে তিন হাজার ১২০টি ও ৭৯টি হোমিওপ্যাথিক প্রতিষ্ঠানের ৭৫০টি ব্র্যান্ড ওষুধ রয়েছে। এদিকে দেশে সরকারি দুটি পরীক্ষাগারে নিয়মিত ওষুধ পরীক্ষার ক্ষমতা রয়েছে মাত্র তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজারের। ফলে বাকি প্রায় ২০ হাজার ওষুধ নিয়মিত পরীক্ষার বাইরেই থেকে যায়। অথচ ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ বিধি অনুসারে তিন মাস অন্তর সব ওষুধের মান পরীক্ষার নির্দেশনা রয়েছে বলে জানায় ওষুধ প্রশাসন সূত্র। ওষুধ বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের মতো এত বেশি ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করার প্রবণতা বিশ্বের আর কোথাও নেই। ওষুধকে জীবন রক্ষাকারী পণ্য না ভেবে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী অন্য পণ্যের মতোই লাভজনক পণ্য হিসেবে বাণিজ্য করার লক্ষ্যে ওষুধের অনুমোদন নেয়। এ ক্ষেত্রে একই ওষুধ সব প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। চিকিৎসক নয়, প্রতিনিধি : মিটফোর্ড ওষুধ মার্কেটের একাধিক ওষুধ ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে বলেন, চিকিৎসাবিদ্যার বইয়ে ওষুধের নাম কম্পানির নাম অনুসারে উল্লেখ করা থাকে না। বইতে ওষুধের মূল নাম (জেনেরিক) উল্লেখ থাকে। কিন্তু পেশায় এসে ডাক্তাররা বইয়ে উল্লেখ থাকা মূল ওষুধের নাম উল্লেখ না করে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্ররোচনায় তাদের দেওয়া নাম ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করেন। এভাবে ডাক্তাররা ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ওষুধ কম্পানিগুলো বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে চিকিৎসকদের হাত করেন বলেও ওষুধ বিক্রেতারা জানান। এমন অবস্থার কথা স্বীকার করে বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, একসময় জেনেরিক নাম ব্যবহারের প্রচলন ছিল। তবে দিনে দিনে ওষুধ কম্পানির প্রসার বাড়ায় এখন কম্পানির দেওয়া ট্রেড নামই ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে।
প্রশাসনিক দুর্বলতা : নিয়মিত পরীক্ষা করা দূরের কথা, বাজার পরিদর্শন করার মতো জনবল নেই ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তরে। ৭৬ জন ড্রাগ সুপারের (ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক) মধ্যে আছেন চারজন। ৭২টি পদই শূন্য। ১৭টি ড্রাগ ইন্সপেক্টরের পদ থাকলেও আছেন ছয়জন। উপপরিচালকের সাতটি পদই শূন্য। শূন্য চারটি পরিচালকের পদও। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর প্রায় অর্ধেক পদই শূন্য। সর্বশেষ ২০০৫ সালের ১৮ এপ্রিল প্রণীত ওষুধনীতির আলোকেই ওষুধ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চলছে। ওই ওষুধনীতিও প্রণয়ন করা হয় ১৯৮২ সালের নীতিটি হালনাগাদ করে। একইভাবে দেশে অনুমোদিত সব ওষুধের তালিকার গেজেটও প্রকাশ করা হয় ২০০৫ সালে। এখন স্বাস্থ্যনীতির পাশাপাশি একটি ওষুধনীতি প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মাঝে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৫০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের (এসেনশিয়াল ড্রাগস) মধ্যে বাংলাদেশ ২০৯টি ওষুধকে এসেনশিয়াল ড্রাগস হিসেবে গণ্য করেছে। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২২ মে এ তালিকার একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর এখন পর্যন্ত নতুন আর কোনো গেজেট প্রকাশ করা হয়নি।
বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহম্মেদ জানান, ওষুধনীতির কাজ দ্রুত শেষ করতে পারলে মানুষ দ্রুত এর সুফল পাবে। বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সূত্র জানায়, তিন মাস পরপর জীবন রক্ষাকারী ওষুধের নতুন বের হওয়া আইটেমসহ গেজেটে মূল্য তালিকা প্রকাশিত হওয়ার বিধান হয়েছে। এটি কেউ মানে না। কম্পানিগুলো ওষুধের দাম বাড়ালেও তা ব্যবসায়ীদের জানায় না।
সরকারের ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক আরো জানান, নিয়মিত সব ওষুধ সরকারিভাবে পরীক্ষা করা না গেলেও ভালো ওষুধ কম্পানিগুলো নিজেদের স্বার্থেই নিজ পণ্যের মান নিশ্চিত করে। এখন ৮৫টি আইটেমের ওষুধ রপ্তানি হয়। ফলে মান নিশ্চিত না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। তবে নিম্নমানের কিছু কম্পানি যে ভেজাল বা নকল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই অভিযান ও পরিদর্শন চলে। তিনি বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি অভিযানে অনেককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ‘গ্রামো’ নামের একটি কম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কিছু ভেজাল ও অবৈধ ওষুধ আটক করা হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন ব্যবসায়ীকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ওষুধ বিশেষজ্ঞ বলেন, ব্যবস্থাপনাগত বা জনবল ঘাটতির অজুহাত দিয়েই সরকারের দায় এড়াতে পারে না। বরং সরকারের দায়িত্ব নিরাপদ ওষুধ, কার্যকর ওষুধ ও মানসম্মত ওষুধের তিন মানদণ্ড নিশ্চিত করা। বর্তমানে এটি তেমনভাবে করাই হচ্ছে না। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম আরো দ্রুত কার্যকর করে গড়ে তোলা উচিত। তা না হলে নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত করার প্রবণতা বাড়বে, জনস্বাস্থ্য আরো ঝুঁকির মুখে থাকবে।
ওষুধের বহর : সরকারি হিসাবে দেশে অনুমোদিত জেনেরিক ওষুধের (অ্যালোপ্যাথিক, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক) সংখ্যা এক হাজার ২০০। এর মধ্যে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারী ২৫৮টি প্রতিষ্ঠান তৈরি বা বাজারজাত করছে ২০ হাজার ৪৫৬টি ওষুধ। এ ছাড়া ২৬৮টি ইউনানি প্রতিষ্ঠানে এক হাজার ৩২০টি, ২০১টি আয়ুর্বেদিকে তিন হাজার ১২০টি ও ৭৯টি হোমিওপ্যাথিক প্রতিষ্ঠানের ৭৫০টি ব্র্যান্ড ওষুধ রয়েছে। এদিকে দেশে সরকারি দুটি পরীক্ষাগারে নিয়মিত ওষুধ পরীক্ষার ক্ষমতা রয়েছে মাত্র তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজারের। ফলে বাকি প্রায় ২০ হাজার ওষুধ নিয়মিত পরীক্ষার বাইরেই থেকে যায়। অথচ ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ বিধি অনুসারে তিন মাস অন্তর সব ওষুধের মান পরীক্ষার নির্দেশনা রয়েছে বলে জানায় ওষুধ প্রশাসন সূত্র। ওষুধ বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের মতো এত বেশি ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করার প্রবণতা বিশ্বের আর কোথাও নেই। ওষুধকে জীবন রক্ষাকারী পণ্য না ভেবে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী অন্য পণ্যের মতোই লাভজনক পণ্য হিসেবে বাণিজ্য করার লক্ষ্যে ওষুধের অনুমোদন নেয়। এ ক্ষেত্রে একই ওষুধ সব প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদনের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। চিকিৎসক নয়, প্রতিনিধি : মিটফোর্ড ওষুধ মার্কেটের একাধিক ওষুধ ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে বলেন, চিকিৎসাবিদ্যার বইয়ে ওষুধের নাম কম্পানির নাম অনুসারে উল্লেখ করা থাকে না। বইতে ওষুধের মূল নাম (জেনেরিক) উল্লেখ থাকে। কিন্তু পেশায় এসে ডাক্তাররা বইয়ে উল্লেখ থাকা মূল ওষুধের নাম উল্লেখ না করে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্ররোচনায় তাদের দেওয়া নাম ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করেন। এভাবে ডাক্তাররা ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। ওষুধ কম্পানিগুলো বিক্রয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে চিকিৎসকদের হাত করেন বলেও ওষুধ বিক্রেতারা জানান। এমন অবস্থার কথা স্বীকার করে বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, একসময় জেনেরিক নাম ব্যবহারের প্রচলন ছিল। তবে দিনে দিনে ওষুধ কম্পানির প্রসার বাড়ায় এখন কম্পানির দেওয়া ট্রেড নামই ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে।
প্রশাসনিক দুর্বলতা : নিয়মিত পরীক্ষা করা দূরের কথা, বাজার পরিদর্শন করার মতো জনবল নেই ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তরে। ৭৬ জন ড্রাগ সুপারের (ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক) মধ্যে আছেন চারজন। ৭২টি পদই শূন্য। ১৭টি ড্রাগ ইন্সপেক্টরের পদ থাকলেও আছেন ছয়জন। উপপরিচালকের সাতটি পদই শূন্য। শূন্য চারটি পরিচালকের পদও। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর প্রায় অর্ধেক পদই শূন্য। সর্বশেষ ২০০৫ সালের ১৮ এপ্রিল প্রণীত ওষুধনীতির আলোকেই ওষুধ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চলছে। ওই ওষুধনীতিও প্রণয়ন করা হয় ১৯৮২ সালের নীতিটি হালনাগাদ করে। একইভাবে দেশে অনুমোদিত সব ওষুধের তালিকার গেজেটও প্রকাশ করা হয় ২০০৫ সালে। এখন স্বাস্থ্যনীতির পাশাপাশি একটি ওষুধনীতি প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর মাঝে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৫০টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের (এসেনশিয়াল ড্রাগস) মধ্যে বাংলাদেশ ২০৯টি ওষুধকে এসেনশিয়াল ড্রাগস হিসেবে গণ্য করেছে। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২২ মে এ তালিকার একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর এখন পর্যন্ত নতুন আর কোনো গেজেট প্রকাশ করা হয়নি।
বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহম্মেদ জানান, ওষুধনীতির কাজ দ্রুত শেষ করতে পারলে মানুষ দ্রুত এর সুফল পাবে। বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির সূত্র জানায়, তিন মাস পরপর জীবন রক্ষাকারী ওষুধের নতুন বের হওয়া আইটেমসহ গেজেটে মূল্য তালিকা প্রকাশিত হওয়ার বিধান হয়েছে। এটি কেউ মানে না। কম্পানিগুলো ওষুধের দাম বাড়ালেও তা ব্যবসায়ীদের জানায় না।
No comments:
Post a Comment