Tuesday, February 19, 2013

‘ক্যান্সার চিকিৎসায় দেশেই অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন’

ক্যান্সারের চিকিৎসায় দেশে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করে ‘অত্যন্ত জটিল’ অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন (ব্যোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন) ইউনিট স্থাপিত হতে যাচ্ছে।


২০১৩ সালের জুন মাস নাগাদ এই ইউনিট কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক।

দেশে সর্বপ্রথম এ ধরনের এই কেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে স্থাপিত হবে।

বর্তমানে বিদেশে গিয়ে এই চিকিৎসা পদ্ধতির সুবিধা নিতে হচ্ছে দেশের মানুষকে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

সচিবালয়ে রোববার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের (এমজিএইচ) মধ্যে এক সমাঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সরকার গত চার বছরে দেশের সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে আসার জন্য যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছে তারই ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ।’

রুহুল হক বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য একটা যুগান্তকারী ঘটনা। আমরা জুনের আগেই এটার কাজ শুরু করতে চাই।’

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশে কতজন রোগীর ব্যোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন তার পরিস্যংখান না থাকলেও এটার প্রয়োজনীয়তা খুব বেশি হবে।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিদেশি কেন্দ্রগুলোতে ব্যয়বহুল এ চিকিৎসা খুব কম মানুষই নিতে পারে। দেশে এ কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে তাদের জীবনে নতুন আশার আলো দেখা দেবে।’

ব্যোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন ইউনিট স্থাপনে যন্ত্রপাতিসহ সরঞ্জাম কিনতে ১৫ কোটি থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলেও জানানো হয়।

‘সর্বোত্তম পদ্ধতিতে’ এটা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে ডা. রুহুল হক বলেন, ‘আমরা এটা সস্তায় করার চেষ্টা করছি না। আমরা চেষ্টা করছি সবচেয়ে ভালভাবে কিন্তু একটু কম খরচে।’

এমজিএইচের সাথে চুক্তি করার আগে ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের কয়েকটি ইউনিট দেখে আসার কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘তবে তারা (এমজিএইচ) যে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে তা ‘অনন্য’।

‘চুক্তির আওতায় দেশে এই কেন্দ্র স্থাপন করা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি নির্ভর এই জটিল প্রক্রিয়ার সব কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেবে এমজিএইচ।’- যোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি জানান, ‘এই কেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির একটি তালিকা দিয়েছে, যার জন্য খরচ হবে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের বাইরের চেয়ে প্রতিস্থাপনের খরচ অনেক কম হবে।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) আ ফ ম সাইফুল ইসলাম ও এমজিএইচ সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথের পরিচালক ডেভিড ব্যাঙ্গসবার্গ দুপক্ষ থেকে চুক্তিতে সই করেন।

এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মুহম্মদ হুমায়ুন কবির, এমজিএইচ সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ এর ডিরেক্টর ডেভিড ব্যাঙ্গসবার্গসহ মন্ত্রণালয় এবং এমজিএইচ- এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাধারণত একজন রোগীর ক্ষেত্রে বিদেশে গিয়ে এই অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। দেশে এ প্রক্রিয়া চালু হলে অত্যন্ত কম খরচে তা করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

No comments: