Friday, April 24, 2015

মেদ কমাতে ৭ খাবার

fat-reduceবহুদিন ধরে ওজন সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। ওজন কমাতে কোনো চেষ্টারই কমতি নেই বাড়তি ওজনের মানুষের। অপারেশন থেকে শুরু করে ওজন কমানোর চা, বিভিন্ন ক্ষতিকর ওষুধ সব চেষ্টার পরও ওজন কমে না তাদের। এগুলোর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যাতেও ভুগছেন কেউ কেউ। এই বিষণ্নতা একটু হলেও স্বস্তি দেবে ৭ ধরনের খাদ্য; যা মেদ কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। আসুন আমরা জেনে নিই- এ রকম ৭ ধরনের খাদ্য সম্পর্কে।

 

শর্করা বা চর্বি জাতীয় খাবার হজম করতে শরীরের শক্তি কম খরচ হয়। অপরদিকে আমিষ জাতীয় খাবার হজম করতে শরীরের শক্তি খরচ হয় বেশি। ফলে আমিষ বা প্রোটিন খেলে শরীরে জমে থাকা চর্বি কমে যায়। তাই সবুজ শাকসবজি ও আমিষ জাতীয় খাদ্য খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। এই ধরনের ফলফলাদি ও শাকসবজির মধ্যে থাকতে পারে আপেল,ক্ষুদ্র রসালো ফল হিসেবে আঙ্গুর, ব্রোকলি, মাশরুম, পেঁপে, আনারস, এবং শাক  ইত্যাদি ।

সবুজ চা

সবুজ চা ওজন কমাতে খুবই উপকারী। এর প্রতিটি দানায় রয়েছে মানুষের শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক পলিফেনল ও কোরোজেনিক এসিড। সবুজ যা মেটাবলিজম বাড়ায় যা কিনা শরীরের ওজন কমাবার প্রধান শর্ত। দৈনিক ২ থেকে ৩ কাপ সবুজ চা পান করে বছরে ১৫ পাউনড পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব।

অলিভ তেল

কিছু কিছু চর্বি আছে যা শরীরের জন্য ভালো। এ ধরনের চর্বির নাম মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট। জলপাই তেলে এমন উপকারী চর্বি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। এ ধরনের চর্বি শরীরের জন্য ক্ষতিকর চর্বি কমায় এবং হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি


স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ রান্না মাংস খেলে আমিষের ঘাটতি কেটে যায় এবং মেদও কমে, সামুদ্রিক মাছও হতে পারে আমিষের ভালো উৎস। এ ধরনের মাছে উপকারি চর্বি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। মাছ মেদ কমায়, বিষন্নতা দূর করে, হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখে।

মেদ কমাতে রসুনের জুড়ি নেই

প্রায় সব ধরনের রান্নায় অপরিহার্য রসুন। তবে শুধু স্বাদে নয়, গুণেও রসুনের জুড়ি মেলা ভার। রসুনে আছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং প্রোটিন। রসুনে কোন ফ্যাট নেই ।নিয়মিত রসুন খেলে ওজন কমে। নিয়মিত রসুন খেলে কোমরের পরিধি কমে যায়।  তাই হলুদ, দারুচিনি, আদা, এবং লঙ্কা ইত্যাদি মশলার সাথে আপনাকে রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়তে হবে।

প্রচুর পানি পান

প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। প্রচুর পানি পানে শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায় এবং শরীর সহজে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও প্রচুর পানি পান করলে শরীর থেকে দূষিত চর্বি জাতীয় পদার্থ বের হয়ে যায়। পানি পানে খাবার সহজে হজম হয়, ফলে দেহে অতিরিক্ত চর্বি জমে না সহজে। এক্ষেত্রে আপনার প্রতিদিন ৬৪ আউন্স পানি পান করা ভালো । তবে প্রতি আধাঘন্টা অন্তর ৮ আউন্স পানি পান করার অভ্যাস ভালো ।

হোল গ্রেইন

সোনালী রং এর চাল সমৃদ্ধ ভাত  ‘হোল গ্রেইন’ আপনার দেহের ইনসুলিন হরমোনকে নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে । এই ভাতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন বি  থাকে যা আপনার দেহে মেদ বাড়ানোর হরমোর হোমোসাইটিন কমাতে সহায়তা করে । এছাড়া লাল আটার রুটি ও পাউরুটি খেলে মেদ কমে।

হাত ও পায়ের জ্বালা-পোড়া উপশমের উপায়

hatরাতে ঘুমানর সময় হাত-পায়ের প্রচণ্ড জ্বলন অনুভব করে থাকেন। শুধু রাতেই না, এই জ্বলন আপনি যে কোনো সময় অনুভব করতে পারেন। এটা খুব অসস্থিকর এবং কষ্ট দায়ক। চর্মরোগবিশেষজ্ঞ বলেন, সাধারণত এটি পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্তের কারনে হয়ে থাকে। আপনি গর্ভবতী হন তাহলে এটা কোলেস্টাসিসের কারণেও হতে পারে। এর ফলে হাত পা ফেটে যেতে পারেভ ও হাত ও পায়ের তলায় ঘা সহ বিভিন্ন চর্মরোগ হতে পারে। এই জ্বলন থেকে পরিত্রাণ পেতে ঔষধ এর উপর নির্ভর না করে, আত্মনির্ভর ও সচেতন হয়ে এবং প্রাকৃতিক বিভিন্ন বস্তু ব্যাবহার করেও মুক্তি পেতে পারেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক হাত ও পায়ের জ্বালা-পোড়া থেকে মুক্তির কয়েকটি পদ্ধতি:
রাতে ঘুমানোর আগে গোসল করুণ কিন্তু গরম পানি পরিহার করুণ:
রাতে হাত-পা জ্বলা পোড়া থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে গোসল করুণ। গোসলের সময় মনে রাখবেন।
১। পানি যেনো কিছুতেই গরম না হয়। গরম পানি আপনার শরীর থেকে প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে দিতে পারে ফলে আপনার স্কিন ড্রাই হয়ে যেতে পারে।
২।দীর্ঘ সময় গোসল না করে স্বল্প সময় গোসল করেন, বেশি সময় গোসল করলেও ত্বক ড্রাই হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থকে। ফলে জ্বলন আরও বেড়ে যেতে পারে।
ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার করুণ:
জ্বলন এবং চুলকানি প্রশমিত করতে ওয়েল বেজ লোশন লাগাতে পারেন, এতে করে আপনার ত্বক সফট হবে ও এতে স্কিনের সেলস গুলোকে রক্ষা করবে। বর্তমানে ওষুধের দোকান গুলোতে এমন অনেক লোশন পাওয়া যায়। এতে করে আপনার হাত ও পায়ের তলার জ্বলন ও চুলকানি প্রশমিত হতে পারে। রাতে খুমানোর আগে ও গোসলের পর ভেজা শরীরে লোশন ব্যাবহার করুণ।
ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে রাখুন:
যারা ডায়াবেটিসের রোগী তারা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন, ডায়াবেটিসের কারনে নিউরোপ্যাথি হয়ে থাকে কারণ রক্তে সুগার লেভেল বেড়ে গেলেও হাত পাতে জ্বালা পোড়া হতে পারে। তাই হাত-পায়ের যত্ন নিতে শিখুন। বিশেষ করে পায়ের যত্ন অনেক বেশি সচেতন হন।
প্রচুর পানি পান করুণ:
শরীরে পানি শূন্যতা হতেও জ্বলন হতে পায়ে। সাধারণত যারা পানি কম পান করেন তাদের উচিত বেশি পরিমাণে পানি পান করা এবং মিনারেল জাতীয় খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া। এতে করে হাত-পা ও শরীর জ্বালা-পোড়া অনেক অংশে কমে যাবে।
টক ফল খান:
প্রতিদিন অল্প পরিমাণে হলেও যে কোনো টক ফল পানি মিশিয়ে ১ ঘণ্টা পরপর খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রথমে শরীরকে অ্যাসিডমুক্ত রাখুন। এটি খালি পেটে খাওয়ার অভ্যাস করুন। চাইলে হালকা খাবার খেতে পারেন। প্রতিদিন ৫০ গ্রাম আঙুর খেলেও জ্বালা কমকে। এছাড়া পায়ের ফাটা ভাব কমলেও হাতের কোমল ভাব বজায় থাকবে।
মেহেদি ও তেলাকুজ পাতা:
টাটকা মেহেদি পাতার রস হাত ও পায়ের তালুতে লাগালে জ্বালা-পোড়া কমে যায়। তাছাড়া তেলাকুজের পাতা পানিতে চটকে তাতে হাত পা ভিজিয়ে রাখলেও জ্বলন কমে যায়।
মানসিক চাপ কমান:
অনেক সময় মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা থেকেও হাত পায়ে জ্বালা পোড়া হতে পারে। দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমান। প্রয়োজনে চিকিৎসা নিন। নিউরোপ্যাথি আছে প্রমাণিত হলে স্নায়ুর যন্ত্রণা লাঘব করে এমন কিছু ওষুধ পাওয়া যায়, চিকিৎসকের পরামর্শে সেগুলো নিয়মিত খেতে পারেন৷ সূত্র: উইকিহাও।

পেশা হিসেবে হোমিওপ্যাথি ( Homeopathy as a profession )

প্রযুক্তির উন্মেষ ঘটিয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে বিশ্ব। তারই ধারাবাহিকতায় নব নব পেশার সম্মিলন ঘটে চলেছে আমাদের চারপাশে। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আধুনিতাকে স্বাগত জানিয়ে থাকে। ফলে আধুনিকতা সমৃদ্ধ পেশার চাহিদা সবসময়ই বৃদ্ধির পথে। 

সারাবিশ্বে আধুনিকতার উন্নয়নের সাথে সাথে এমন অনেক পেশা রয়েছে যাদের চাহিদা বিন্দুমাত্র হরাস পায়নি। হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার তার মধ্যে অন্যতম। হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা অর্জন করেই হতে হয় হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেই হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সার যথেষ্ট কদর রয়েছে। 

হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে হোমিওপ্যাথিক ঔষধে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। ফলে এ সংক্রান্ত চিকিত্সা সেবা গ্রহণ করতে আমাদের দেশে প্রচুর মানুষ রয়েছে। চিকিত্সাশাস্ত্রের অন্যতম একটি ক্ষেত্র হোমিও চিকিত্সা। এই চিকিত্সা যারা প্রদান করেন তাদেরকেই মূলত হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হিসেবে বিবেচিত করা হয়। বাংলাদেশে হোমিও চিকিত্সার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প খরচে চিকিত্সা সেবা প্রদানের কারণে এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াবিহীন চিকিত্সার কারণে বিপুল সংখ্যক মানুষ হোমিও চিকিত্সার উপর নির্ভরশীল। ফলে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলে আজীবন উপার্জন করা সম্ভব। বরং এই পেশার সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এই পেশাতে নিয়োজিত ডাক্তারদের যত অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পাবে ততই আয় বৃদ্ধি পেতে থাকে। 

এমনকি হোমিও চিকিত্সকরা আজীবন চিকিত্সা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে যেতে সক্ষম। সুবিধা : হোমিও চিকিত্সক হিসেবে ডিএইচএমএস কোর্স (ডিপ্লোমা) এবং বিএইচএমএস কোর্স (ডিগ্রি) সম্পন্নকারীরা হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হিসেবে সরকার কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে সারাদেশে হোমিও চিকিত্সা প্রদান করতে পারেন। এ ছাড়াও শিক্ষাসম্পন্নকারীরা সরকার কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগ পেতে সক্ষম। বাংলাদেশের ১৫ কোটি জনগোষ্ঠীকে অ্যালোপ্যাথিক চিকিত্সা কার্যক্রমের আওতায় আনা এখনও সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। ফলে হোমিওপ্যাথি ডাক্তারদের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে সারা দেশব্যাপী। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা সংক্রান্ত পড়ালেখা সম্পন্ন করার পর হোমিও ডাক্তার হিসেবে প্রত্যেকেই একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর অর্জন করে। 

যার ফলে সরকারি চাকরির উপর নির্ভরশীল না হয়ে বেশিরভাগই স্ব উদ্যোগে চিকিত্সা সেবায় নিয়োজিত হয়ে থাকেন। এই পেশাতে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হচ্ছে, একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে নিজ সুবিধাজনক স্থানে চিকিত্সা সেবা শুরু করতে সক্ষম। এই পেশাতে সদ্য পাশ করা একজন ডাক্তার প্রাথমিকভাবে প্রতিমাসে ৮-১৫ হাজার টাকা উপার্জন করেত সক্ষম হয়ে থাকে। তবে এই পেশাতে যোগ্যতার দাম অনেক বেশি। একজন রোগীকে ডাক্তার হিসেবে কত দ্রুত সুস্থ করতে পারেন অর্থাত্ হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় একজন চিকিত্সকের হাতের যশের উপর নির্ভর করে উপার্জনের পরিমাণ। অভিজ্ঞতার সাথে সাথে বৃদ্ধি পেতে পারে একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সকের প্রতিমাসের উপার্জনের পরিমাণও। অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণের মাধ্যমে চিকিত্সায় সফল একজন চিকিত্সকের প্রতিমাসের বেতন ১৫-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। 

ফলে ক্যারিয়ার হিসেবে যে কেউ এই পেশাকে গ্রহণ করতে পারেন। সেই সাথে দেশের চিকিত্সা সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করনের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারেন। কোর্স ও পড়ালেখা : বাংলাদেশের হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ২টি শিক্ষা কোর্স ও একটি ট্রেনিং কোর্স চালু আছে। শিক্ষা কোর্স হলো- ১. ডিপ্লোমা কোর্স ও ২. ডিগ্রি কোর্স এবং ডিএইচএমএস প্রাপ্ত উচ্চতর প্রশিক্ষণদানের জন্য আছে ১ বছর মেয়াদি পোস্ট ডিপ্লোমা ট্রেনিং ইন হোমিওপ্যাথি কোর্স। এখানে দিবা ও নৈশ বিভাগ নামে দুটি বিভাগ রয়েছে। দিবা বিভাগের অধীনে ডিপ্লোমা কোর্স (ডিএইচএমএস) ও ডিগ্রি কোর্স (বিএইএমএস) এবং ট্রেনিং কোর্স রয়েছে। আর নৈশ বিভাগে রয়েছে ডিপ্লোমা কোর্স (ডিএইচএমএস)। ডিএইচএমএস কোর্স: ডিএইচএমএস (ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) কোর্স ৪ বছর মেয়াদি এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। কোর্স শেষে ৬ মাস ইন্টার্নি করতে হয়। এই কোর্সে দিবা ও নৈশ বিভাগের যেকোনো বিভাগে ভর্তি হওয়া যায়। ভর্তির যোগ্যতাঃ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত যেকোনো শিক্ষাবোর্ড থেকে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় (যেকোনো গ্রুপে) উত্তীর্ণ হতে হবে। 

উচ্চতর ডিগ্রিপ্রাপ্তদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। বিএইচএমএস কোর্সঃ বিএইচএমএস (ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) কোর্স ৫ বছর মেয়াদি এবং ১৯৮৫-৮৬ সাল থেকে কার্যকর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএইচএমএস কোর্সের নিয়মাবলী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। কোর্স শেষে ১ বছর ইন্টার্নি করতে হয়। ভর্তির যোগ্যতাঃ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত যেকোনো শিক্ষা বোর্ড থেক এইচএসসি/সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান গ্রুপে (প্রি-মেডিকেল) চলতি বছরে উত্তীর্ণ হতে হবে। 

পোস্ট ডিপ্লোমা ট্রেনিং ইন হোমিওপ্যাথি (পিডিটি হোম): ডিএইচএমএসপ্রাপ্ত ডাক্তারদের উন্নত শিক্ষা ও ট্রেনিং দেয়ার মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিতে দক্ষ প্র্যাকটিস উত্সাহিত করা, হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা বিজ্ঞানে সকল বিষয়ে পোস্ট ডিপ্লোমা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা, হোমিও প্র্যাকটিশনারদের জন্য অব্যাহত মেডিকেল শিক্ষা এর সুযোগ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই প্রধানত পোস্ট ডিপ্লোমা ট্রেনিং ইন হোমিওপ্যাথিক কোর্স চালু করা হয়েছে। ভর্তি যোগ্যতাঃ ক. হোমিওপ্যাথিক বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে ৪ বছর অধ্যয়ন শেষে ডিএইচএমএস ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ৬ মাসের ইন্টার্নি সমাপ্ত করতে হবে। খ. ডিএইচএমএস পাস করার পর ২ বছর অতিবাহিত হতে হবে এবং হোমিওপ্যাথিক বোর্ড থেকে প্র্যাকটিশনার রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত হতে হবে। 

পল্লী এলাকায় কাজ করেছেন বা কর্মরত আছে এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়। গ. ডিএইচএমএস কোর্স অধ্যয়নকালে কোনো ব্রেক অব স্টাডি থাকা চলবে না। কোর্সের মেয়াদ মোট ১ বছর। তাই মেয়াদকে ৬ মাস করে দুটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। আমাদের দেশে চাকরির পদের তুলনায় চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা দিন দিনই বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। ফলে প্রতিবছরই ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। বাস্তবতার নিরীক্ষে বাংলাদেশে প্রয়োজন বিশেষায়িত শিক্ষার। 

যার মাধ্যমে শিক্ষা সম্পন্ন করার পরপর কেউ যেন চাকরির পিছনে না ছুটে স্বনির্ভরতার সাথে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সায় ডিপ্লোমা/ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ হোমিও চিকিত্সক রূপে ক্যারিয়ার শুরু করা সম্ভব। হোমিও চিকিত্সায় নিয়োজিত হলে এবং সফলভাবে চিকিত্সা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হলে আপনার ক্যারিয়ার আজীবন সচল থাকবে কোন বিরতি ছাড়াই। বাংলাদেশে অগনিত মানুষ রয়েছে যারা কেবলমাত্র হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা সেবা গ্রহণ করে থাকে। বিশেষ করে হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা স্বল্পমূল্যে করা সম্ভব হওয়ার কারণে এবং হোমিও ঔষধের মূল্যে অনেক কম হবার কারণে বাংলাদেশের বিশাল জনগোষ্ঠী হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সা সেবার উপর নির্ভরশীল। যার ফলশ্রুতিতে এই পেশাতে নিয়োজিত চিকিত্সকদের ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠা পেতে বেশিদিন প্রয়োজন হয় না। হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে স্বল্প ব্যায়ে এবং স্বল্পসময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সক হিসেবে চিকিত্সা প্রদান করা সম্ভব। 

সেই সাথে দেশের স্বাস্থ্যখাতে সরাসরি অবদান রাখার পাশাপাশি নিজের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আনয়ন সম্ভব। হোমিওপ্যাথিক চিকিত্সক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ক্যারিয়ারে সফল হতে আপনি যদি এই পেশাতে ভব্যিষতে কাজ করতে চান তবে অবশ্যই দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। বাংলাদেশের কোথায় কোন হোমিওপ্যাথিক কলেজ আছে ঠিকানাসহ জানতে Homeopathic Medical Colleges in Bangladesh 
ক্লিক করুন।
http://www.alphahomeocare.com/2013/11/homeopathic-medical-colleges-in.html?m=1 

Friday, April 17, 2015

কর্ণ স্যুপ


উপকরণ

– মুরগির মাংস ১/২ কাপ
– মুরগির হাড়(স্টকের জন্য)
– ডিম ফেটানো ২টা
– চিনি দেড় চা চামচ
– কর্ণফ্লাওয়ার ২টে.চা
– লবণ দেড় চা চামচ
– কাঁচামরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ
– গোলমরিচের গুঁড়ো স্বাদ মতো
– স্বাদমতো লবণ দেড় চা চামচ
– বেবি কর্ন/ভুট্টা ১/২ কাপ



প্রণালি-

-মুরগির হাড়গুলি ২ লিটার পানিতে ২ ঘন্টা সিদ্ধ করে নিন। চাইলে এতে সামান্য আদা, রসুন, গোলমরিচ যোগ করতে পারেন।
-স্টক ছেঁকে ১লিটার স্টক মেপে নিন।
-মাংসকে ছোট কুচি করে নিন।
-এবার চুলায় একটি হাড়িতে স্টক বসিয়ে দিন।
-স্টকে মাংস, লবণ, স্বাদলবণ,গোল মরিচের গুঁড়ো, কাঁচা মরিচ কুচি, চিনি এবং বেবি কর্ন/ভুট্টা একসাথে মিশিয়ে নিন।
-একটি কাপে সামান্য পানিতে কর্নফ্লাওয়ার গুলে স্টকে দিয়ে দিন।
-স্যুপ ক্রমাগত নাড়তে থাকুন।
-ফুটে উঠার ১-২ মিনিট পরে সুপ ঘন হয়ে আসলে ফেটানো ডিম ধীরে ধীরে দিয়ে হালকা নেড়ে দিন।
-চুলা থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার কর্ন স্যুপ।

মজাদার থাই স্যুপ ঘরেই তৈরী হোক

চাইনিজ খেতে রেস্টুরেন্টে গেলে প্রথমেই যেই অর্ডারটি দেয়া হয় তা হলো স্যুপ। আর এই স্যুপের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় স্যুপ হলো থাই স্যুপ। অনেকেই হয়তো জানেন না যে থাই স্যুপ বাড়িতেই তৈরি করা যায়, তাও আবার খুব সহজেই। আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক বাড়িতেই থাই স্যুপ বানানোর পুরো প্রক্রিয়াটি।

পুষ্টিগুণঃ
এক বাটি থাই স্যুপে ১৫০ ক্যালরী, ৫৯০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৩৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৫ গ্রাম প্রোটিন ও ভিটামিন সি আছে।

উপকরণঃ
চিকেন স্টক ৬ কাপ
তেল ১ টেবিল চামচ
মুরগির মাংস ১/২ কাপ
চিংড়ি মাছ ১/২ কাপ
ডিমের কুসুম ২টি
কর্নফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ
সয়াসস ১ টেবিল চামচ
চিলি সস ২ টেবিল-চামচ
টমেটো সস ২ টেবিল-চামচ
টেস্টিং সল্ট ১ চা চামচ
লেবুর রস ১ চা চামচ
থাই(লেমন() গ্রাস ৪-৫টি
কাঁচামরিচের ফালি ৪-৫টি
চিনি ১ চা চামচ
লবণ পরিমাণমতো
স্টক তৈরিঃ

একটি ছোট মুরগির হাড় নিয়ে ১২ কাপ পানিতে একটু লবণ দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে। পানি শুকিয়ে অর্ধেক হলে নামিয়ে নিতে হবে।
৬ কাপ স্টক ছেঁকে নিন।
স্যুপ তৈরীঃ

মুরগীর মাংস ছোট লম্বা করে টুকরা করে নিন।
চিংড়ি মাছ খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরা কর।
ডিমের কুসুম ভালো করে ফেটে রাখুন
মুরগীর স্টকে মাংস, চিংড়ি মাছ, থাই গ্রাস, তেল, লবণ, চিনি, টেস্টিং সল্ট, সয়াসস, চিলি সস ও টমেটো সস মিশিয়ে নিন।
স্টকে ডিম দিয়ে ভালো করে নেড়ে দিন।
মাংস ও চিংড়ি সেদ্ধ হয়ে গেলে আধা কাপ পানিতে কর্ণ ফ্লাওয়ার গুলিয়ে স্টকে দিয়ে দিন।
ঘন ঘন নাড়তে থাকুন নাহলে কর্ন ফ্লাওয়ার জমে যাবে।
৩-৪ মিনিট নাড়ার পর ঘন হয়ে আসলে লেবুর রস ও কাঁচা মরিচ দিয়ে অল্প নেড়ে নামিয়ে ফেলতে হবে।
স্যুপের বাটিতে ঢেলে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার থাই স্যুপ।

Wednesday, April 8, 2015

লবণের ভিন্ন ব্যবহার

রান্না করতে যত কিছু উপকরণ প্রয়োজন তার মধ্যে লবণ অন্যতম। কারণ অন্যান্য উপকরণ কম হলেও চলে কিন্তু লবণ ছাড়া চলবেই না। এই লবণ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও অতিরিক্ত লবণ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
salt
লবণের ব্যবহার
কিন্তু আপনি জানেন কি রান্না ছাড়াও অনেক কাজেই লবণ ব্যবহার করা যায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে ব্যথা দূর করতেও লবণ ব্যবহার করা হয়। আসুন আজ অর্থসূচক পরিবার থেকে জেনে নেই লবণের কিছু ব্যবহার ও গুণের কথা।
মাছ পরিষ্কার
মাছ পরিষ্কার করতে লবণ অত্যন্ত কার্যকরী। কিছু মাছ যেমন বোয়াল, পাঙ্গাশ, বাইম বেশ পিচ্ছিল থাকে। এ কারণে এগুলো কাটতে এবং পরিষ্কার করতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। তখন মাছে সামান্য পানি দিয়ে তাতে কিছুটা লবণ ছিটিয়ে দিন। এরপর নাড়াচাড়া করে পানিতে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন পিচ্ছিলভাব অনেকটাই কমে গেছে এবং কাটতে সুবিধা হচ্ছে।
দাঁত ঝকঝকে সাদা করতে
দাঁত একটা মানুষের সৌন্দর্য বাড়াতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যখন এতে হলদেটে দাগ পড়ে। দেখতে কেমন লাগবে ভাবুন তো। এর থেকে রক্ষা পেতে লবণ ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য লবণ ও লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে সেটা দিয়ে দাঁত মাজুন নিয়মিত। এতে হলদে ভাব দূর হয়ে যাবে এবং দাঁত হবে ঝকঝকে সাদা।
বোতল পরিষ্কার
বাড়িতে সাধারণত প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করা হয় পানি সংরক্ষণের জন্য। কিন্তু প্লাস্টিকের বোতল চাইলেই গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যায় না। তাই প্লাস্টিকের বোতল পরিষ্কার করতে চাইলে বোতলে দুই-তিন টেবিল চামচ পরিমাণ পানি নিয়ে এতে এক টেবিল চামচ লবণ দিয়ে জোরে জোরে ঝাঁকাতে থাকুন। পাঁচ-ছয় মিনিট ঝাঁকানোর পর পরিষ্কার পানি দিয়ে বোতল ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন পরিষ্কার হয়ে গেছে।
পা ব্যথায়
অতিরিক্ত হাঁটলে বা ক্লান্তির কারণে পা ব্যথা হলে বালতিতে কুসুম কুসুম গরম পানি নিন। তাতে সামান্য পরিমান লবণ মিশিয়ে পা ডুবিয়ে রাখুন দশ মিনিট। এতে ধীরে ধীরে ব্যথা কমে যাবে।
পোকামাকড়ের কামড়
বোলতা বা মৌমাছির কামড়ে আক্রান্ত হলে সে স্থানে লবণ ঘষে দিন। ব্যথা দ্রুত কমে যাবে। এছাড়া হাতে মাছের কাঁটা বিঁধলেও একই কাজ করতে পারেন।
টক কমাতে
টক ফল যেমন আম, জলপাই, করমচা, আমলকীর আচার আমরা তৈরি করে থাকি। এসব ফলের টক কমানোর জন্যও লবণ ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে সেদ্ধ করার সময় লবণ পানিতে মিশিয়ে নিলেই ফলের টক অনেক কমে যায়।
দুর্গন্ধ দূরীকরণে
মাছ বা পেঁয়াজ-রসুন কাটার পর হাতে গন্ধ হয় অনেক। এসব গন্ধ সাবান দিয়ে ধুলেও যায় না। কিন্তু এ গন্ধ দূর করতে আপনি হাতে লবণ মেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। তারপর হাত ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন গন্ধ চলে গেছে।

Monday, April 6, 2015

রাসুলুল্লাহ (সা:) এর লাশ চুরির চেষ্টার ঘটনা

হিজরী ৫৫৭ সালের একরাতের ঘটনা।

সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) তাহাজ্জুদ ও দীর্ঘ মুনাজাতের পর ঘুমিয়ে পড়েছেন। চারিদিক নিরব নিস্তব্দ। কোথাও কোন সাড়া-শব্দ নেই। এমতাবস্থায় হঠাৎ তিনি স্বপ্নে দেখলেন স্বয়ং রাসুল (স) তার কামরায় উপস্থিত। তিনি কোন ভূমিকা ছাড়াই দু’জন নীল চক্ষু বিশিষ্ট লোকের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, (নূরুদ্দীন) মাহমূদ! (এরা আমাকে বিরক্ত করছে), এ দুজন থেকে আমাকে মুক্ত কর।

এই ভয়াবহ স্বপ্ন দেখে নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গোটা কক্ষময় পায়চারি করতে লাগলেন। সাথে সাথে তার মাথায় বিভিন্ন প্রকার চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগল। হৃদয় রাজ্যে ভীড় জমাল হাজারও রকমের প্রশ্ন। তিনি ভাবলেন-

আল্লাহর রাসূল তো এখন কবরে জীবনে!

তার সাথে অভিশপ্ত ইহুদীরা এমন কী ষড়যন্ত্র করতে পারে?

কী হতে পারে তাদের চক্রান্তের স্বরুপ?

তারা কি রাসূল (স)-এর কোন ক্ষতি করতে চায়?

চায় কি পর জীবনেও তার সাথে ষড়যন্ত্র লিপ্ত হতে?

আমাকে দু’জন ইহুদীর চেহারা দেখানো হল কেন?

শয়তান তো আল্লাহর নবীর অবয়বে আসতে পারে না। তাহলে কি আমি সত্য স্বপ্ন দেখেছি?

এসব ভাবতে ভাবতে সুলতান অস্থির হয়ে পড়লেন। তিনি অজু-গোসল সেরে তাড়াতাড়ি দু’রাকাত নামায আদায় করলেন। তারপর মহান আল্লাহর দরবারে ক্রন্দনরত অবস্থায় অনেকক্ষণ মুনাজাত করলেন।

সুলতানের এমন কেউ ছিল না যার সাথে তিনি পরামর্শ করবেন। আবার এ স্বপ্নও এমন নয় যে, যার তার কাছে ব্যক্ত করবেন। অবশেষে আবারও তিনি শয়ন করলেন। দীর্ঘ সময় পর যখনই তার একটু ঘুমের ভাব এলো, সঙ্গে সঙ্গে এবারও তিনি প্রথম বারের ন্যায় নবী করীম (সা)কে স্বপ্নে দেখলেন। তিনি তাকে পূর্বের ন্যায় বলছেন,

(নূরুদ্দীন) মাহমূদ! এ দুজন থেকে আমাকে মুক্ত কর।

এবার নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) “আল্লাহ্, আল্লাহ্” বলতে বলতে বিছানা থেকে উঠে বসলেন। তারপর কোথায় যাবেন, কী করবেন কিছুই ঠিক করতে পা পেরে দ্রুত অজু-গোসল শেষ করে মুসল্লায় দাড়িয়ে অত্যধিক ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় দু’রাকাত নামায আদায় করলেন এবং দীর্ঘ সময় অশ্রু সিক্ত নয়নে দোয়া করলেন।

রাতের অনেক অংশ এখনও বাকী। সমগ্র পৃথিবী যেন কি এক বিপদের সম্মুখীন হয়ে নিঝুম হয়ে আছে। কী এক মহা বিপর্যয় যেন পৃথিবীর বুকে সংঘটিত হতে যাচ্ছে । কঠিন বিপদের ঘনঘটা যেন চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি মুখ তুলে আকাশ পানে তাকালেন। মনে হলো স্বপ্ন দেখা ঐ দু’জন লোক যেন তাকে ধরার জন্য দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছে। তিনি সেই চেহারা দুটোকে মনের মনিকোষ্ঠা থেকে সরাবার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কিছুতেই তা সম্ভব হল না। শেষ পর্যন্তু নিরুপায় হয়ে নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) চোখ বন্ধ করে আবারও তন্দ্রা-বিভোর হয়ে শুয়ে পড়লেন।

শোয়ার পর তৃতীয়বারও তিনি একই ধরনের স্বপ্ন দেখলেন।

রাসূল (সা)-এর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) ক্রন্দনরত অবস্থায় বিছানা পরিত্যাগ করলেন। এবার তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাল যে, নিশ্চয়ই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারক কোন না মহাবিপদের সম্মুখীন হয়েছে।

তিনি তড়িৎ গতিতে অজু-গোসল করে ফজরের নামায আদায় করলেন। নামায শেষে প্রধানমন্ত্রী জালালুদ্দীন মৌশুলীর নিকট গিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্বপ্নের বিবরণ শুনালেন এবং এ মুহূর্তে কী করা যায়, এ ব্যাপারে সুচিন্তিত পরামর্শ চাইলেন।

জালালুদ্দীন মৌশুলী স্বপ্নের বৃত্তান্ত অবগত হয়ে বললে, “হুজুর! আপনি এখনও বসে আছেন? নিশ্চয়ই প্রিয় নবীর রওজা মোবারক কোন কঠিন বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। তাই এ বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য বারবার তিনি আপনাকে স্মরণ করছেন। অতএব, আমার পরামর্শ হল, সময় নষ্ট না করে অতিসত্তর মদীনার পথে অগ্রসর হোন।”

নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) আর কালবিলম্ব করলেন না। তিনি ষোল হাজার দ্রুতগামী অশ্রারোহী সৈন্য এবং বিপুল ধন সম্পদ নিয়ে বাগদাদ থেকে মদিনা অভিমুখে রওয়ানা হলেন। রাত দিন সফর করে ১৭তম দিনে মদিনা শরীফে পৌঁছলেন এবং সৈন্য বাহিনীসহ গোছল ও অজু সেরে দু’ রাকাত নফল নামাজান্তে দীর্ঘ সময় ধরে মোনাজাত করলেন। তারপর সৈন্য বাহিনী দ্বারা মদিনা ঘেরাও করে ফেললেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আদেশ জারী করে দিলেন যে, বাইরের লোক মদিনায় আসতে পারবে, কিন্তু সাবধান! মদিনা থেকে কোন লোক বাইরে যেতে পারবে না।

নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) জুম্মার খোৎবা দান করলেন এবং ঘোষণা দিলেন, “আমি মদিনাবাসীকে দাওয়াত দিয়ে এক বেলা খানা খাওয়াতে চাই। আমার অভিলাষ, সকলেই যেন এই দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করে।”

সুলতান মদিনাবাসীকে আপ্যায়নের জন্য বিশাল আয়োজন করলেন এবং প্রত্যেকের নিকট অনুরোধ করলেন, মদিনার কোন লোক যেন এই দাওয়াত থেকে বঞ্চিত না হয়।

নির্ধারিত সময়ে খাওয়া-দাওয়া শুরু হল। প্রত্যেকেই তৃপ্তিসহকারে খানা খেল। যারা দুরদুরান্ত থেকে আসতে পারেনি তাদেরকেও শেষ পর্যন্ত ঘোড়া ও গাধার পিঠে চড়িয়ে আনা হল।

এভাবে প্রায় পনের দিন পর্যন্ত অগণিথ লোক শাহী দাওয়াতে শরিক হওয়ার পর সুলতান জিজ্ঞাসা করলেন আরও কেউ অবশিষ্ট আছে কি? থাকলে তাদেরকেও ডেকে আন।

এই নির্দেশের পর সুলতান বিশ্বস্ত সূত্রে অবগত হলেন যে, আর কোন লোক দাওয়াতে আসতে বাকী নেই। একথা শুনে তিনি সীমাহীন অস্থির হয়ে পড়লেন। চিন্তার অথৈই সাগরে হারিয়ে গেলেন তিনি। ভাবলেন, যদি আর কোন লোক দাওয়াতে শরীক হতে বাকী না থাকে তাহলে সেই অভিশপ্ত লোক দু’জন গেল কোথায়? আমি তো দাওয়াতে শরীক হওয়া প্রতিটি লোককেই অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। কিন্তু কারও চেহারাইতো স্বপ্নে দেখা লোক দুটোর চেহারার সাথে মিলল না, তাহলে কি আমার মিশন ব্যর্থ হবে? আমি কি ঐ কুচক্রী লোক দুটোকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দিতে সক্ষম হব না? এসব চিন্তায় বেশ কিছুক্ষণ তিনি ডুবে রইলেন। তারপর আবারও তিনি নতুন করে ঘোষণা করলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মদিনার সকল লোকদের দাওয়াত খাওয়া এখনও শেষ হয়নি। অতএব সবাইকে আবারও অনুরোধ করা যাচ্ছে, যারা এখনও আসেনি তাদেরকে যেন অনুসন্ধান করে দাওয়াতে শরীক করা হয়।

একথা শ্রবণে মদিনাবাসী সকলেই এক বাক্যে বলে উঠল, “হুজুর! মদিনার আশে পাশে এমন কোন লোক বাকী নেই, যারা আপনার দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করেনি।” তখন নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) বলিষ্ঠ কন্ঠে বললেন, “আমি যা বলেছি, ঠিকই বলেছি। আপনারা ভাল ভাবে অনুসন্ধান করুন।”

সুলতানের এই দৃঢ়তা দেখে লক্ষাধিক জনতার মধ্য থেকে এক ব্যক্তি হঠাৎ করে বলে উঠল, “হুজুর! আমার জানামতে দু’জন লোক সম্ভবত এখনও বাকী আছে। তারা আল্লাহ্‌ওয়ালা বুযুর্গ মানুষ। জীবনে কখনও কারও কাছ থেকে হাদীয়া তোহফা গ্রহণ করেন না, এমনকি কারও দাওয়াতেও শরীক হন না। তারা নিজেরাই লোকদেরকে অনেক দান-খয়রাত করে থাকেন। নীরবতাই অধিক পছন্দ করেন। লোক সমাজে উপস্থিত হওয়া মোটেও ভালবাসেন না।”

লোকটির বক্তব্য শুনে সুলতানের চেহারায় একটি বিদ্যুত চমক খেলে গেল। তিনি কাল বিলম্ব না করে কয়েকজন লোক সহকারে ঐ লোক দুটোর আবাসস্থলে উপস্থিত হলেন। তিনি দেখলেন, এতো সেই দু’জন, যাদেরকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছিল। তাদেরকে দেখে সুলতানের দু’চোখ রক্তবর্ণ ধারণ করল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “কে তোমরা? কোথা থেকে এসেছ? তোমরা সুলতানের দাওয়াতে শরীক হলে না কেন?”

লোক দুটো নিজের পরিচয় গোপন করে বলল, “আমরা মুসাফির। হজ্বের উদ্দেশ্য এসেছিলাম। হজ্ব কার্য সমাধা করে জিয়ারতের নিয়তে রওজা শরীকে এসেছি। কিন্তু প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেমে আত্মহারা হয়ে ফিরে যেতে মনে চাইল না। তাই বাকী জীবন রওজার পাশে কাটিয়ে দেওয়ার নিয়তেই এখানে রয়ে গেছি। আমরা কারও দাওয়াত গ্রহণ করি না। এক আল্লাহর উপরই আমাদের পূর্ণ আস্থা। আমরা তারই উপর নির্ভরশীল। এবাদত, রিয়াজত ও পরকালের চিন্তায় বিভোর থাকাই আমাদের কাজ। কুরআন পাক তিলাওয়াত, নফল নামায ও অজিফা পাঠেই আমাদের সময় শেষ হয়ে যায়। সুতরাং দাওয়াত খাওয়ার সময়টা কোথায়?”

উপস্থিত জনগণ তাদের পক্ষ হয়ে বলল যে, “হুজুর! এরা দীর্ঘদিন যাবত এখানে অবস্থান করছে। এদের মত ভাল লোক আর হয় না। সব সময় দরিদ্র, এতিম ও অসহায় লোকদের প্রচুর পরিমাণে সাহায্য করে। তাদের দানের উপর অত্র লোকদের প্রচুর পরিমাণে জীবিকা নির্ভর করে।”

নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) লোকদের কথা শুনে লোক দুটোর প্রতি পুনরায় গভীর দৃষ্টিতে তাকালেন। অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে তাদের পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করলেন। এতে আবারও তিনি নিশ্চিত হলেন, এরা তারাই যাদেরকে তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন।

এবার সুলতান জলদ গম্ভীর স্বরে তাদেরকে বললেন, “সত্য কথা বল। তোমরা কে? কেন, কী উদ্দেশ্যে এখানে থাকছ?”

এবারও তারা পূর্বের কথা পুনরাবৃত্তি করে বলল, “আমরা পশ্চিম দেশ থেকে পবিত্র হজ্বব্রত পালনের জন্য এখানে এসেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নৈকট্য লাভই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যেই আমরা এখানে অবস্থান করছি।”

সুলতান এবার কারও কথায় কান না দিয়ে তাদেরকে সেখানে আটক রাখার নির্দেশ দিলেন, অত:পর স্বয়ং তাদের থাকার জায়গায় গিয়ে খুব ভাল করে অনুসন্ধাণ চালালেন। সেখানে অনেক মাল সম্পদ পাওয়া গেল। পাওয়া গেল বহু দুর্লভ কিতাবপত্র। কিন্তু এমন কোন জিনিষ পাওয়া গেল না, যদ্বারা স্বপ্নের বিষয়ে কোন প্রকার সহায়তা হয়।

নূরুদ্দীন জাঙ্কি(র:) অত্যধিক পেরেশান, অস্থির। এখনও রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় তিনি সীমাহীন চিন্তিত। এদিকে মদীনায় বহু লোক তাদের জন্য সুপারিশ করছে। তারা আবারও বলছে, “হুজুর! এরা নেককার বুযুর্গ লোক। দিনভর রোজা রাখেন। রাতের অধিকাংশ সময় ইবাদত বন্দেগীতে কাটিয়ে দেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই রওজা শরীফের নিকটে এসি আদায় করেন। প্রতিদিন নিয়মিত জান্নাতুল বাকী যিয়ারত করতে যান। প্রতি শনিবার মসজিদুল কোবাতে গমন করেন। কেউ কিছু চাইলে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না।”

সুলতান তাদের অবস্থা শুনে সীমাহীন আশ্চর্যবোধ করলেন। তথাপি তিনি হাল ছাড়ছেন না।
কক্ষের অংশে অনুসন্ধানী দৃষ্টি ফিরিয়ে যাচ্ছেন। ঘরের প্রতিটি বস্তুকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কিন্তু সন্দেহ করার মত কিছুই তিনি পাচ্ছেন না।

নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) এক পর্যায়ে সঙ্গীদের বললেন- “আচ্ছা, তাদের নামাযের মুসাল্লাটা একটু উঠাও দেখি।” সঙ্গীরা নির্দেশ পালন করল। নামাযের মুসল্লাটি বিছানো ছিল একটি চাটাইয়ের উপর। সুলতান আবার নির্দেশ দিলেন, “চাটাইটিও সরিয়ে ফেল।”

চাটাই সরানোর পর দেখা গেল একখানা বিশাল পাথর। সুলতারেন নির্দেশে তাও সরানো হল। এবার পাওয়া গেল এমন একটি সুরঙ্গপথ যা বহুদূর পর্যন্ত চলে গেছে। এমনকি তা পৌছে গেছে, রওজা শরীফের অতি সন্নিকটে।

এ দৃশ্য অবলোকন করা মাত্র নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) বিজলী আহতের ন্যায় চমকে উঠলেন। অস্থিরতার কালো মেঘ ছেয়ে যায় তার সমস্ত হৃদয় আকাশে। ক্রোধে লাল হয়ে যায় গোটা মুখমন্ডল। অবশেষে লোক দুটোকে লক্ষ্য করে ক্ষিপ্ত-ক্রদ্ধ সিংহের ন্যায় গর্জন করে ঝাঁঝাঁলো কন্ঠে বললেন-

“তোমরা পরিস্কার ভাষায় সত্যি কথাটা খুলে বল, নইলে এক্ষুনি তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সম্মুক্ষিন হতে হবে। বল, তোমরা কে? তোমাদরে আসল পরিচয় কী? কারা, কী উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে?”

সুলতানের কথায় তারা ঘাবড়ে গেল। কঠিন বিপদ সামনে দেখে আসল পরিচয় প্রকাশ করে বলল,-

“আমরা ইহুদী। দীর্ঘদিন যাবত আমাদেরকে মুসল শহরের ইহুদীরা সুদক্ষ কর্মী দ্বারা প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রচুর অর্থ সহকারে এখানে পাঠিয়েছে। আমাদেরকে এজন্য পাঠানো হয়েছে যে, আমরা যেন কোন উপায়ে মুহাম্মদ (স)-এর শবদেহ বের করে ইউরোপীয় ইহুদীদের হাতে হস্তান্তর করি। এই দুরূহ কাজে সফল হলে তারা আমাদেরকে আরও ধনসম্পদ দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সুলতান বললেন, “তোমরা তোমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কী পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলে? কিভাবে তোমরা কাজ করতে?”

তারা বলল, “আমাদের নিয়মিত কাজ ছিল, রাত গভীর হলে অল্প পরিমাণ সুড়ঙ্গ খনন করা এবং সাথে ঐ মাটিগুলো চামড়ার মজকে ভর্তি করে অতি সন্তর্পণে মদীনার বাইরে নিয়ে ফেলে আসা। আজ দীর্ঘ তিন বৎসর যাবত এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজে আমরা অনবরত ব্যস্ত আছি। যে সময় আমরা রওজা মোবারকের নিকট পৌছে গেলাম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম যে, এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বনবীর লাশ বের করে নিয়ে যাব, ঠিক সে সময় ধরে আমাদের মনে হল, আকাশ যেন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। জমীন যেন প্রচন্ড ভূমিকম্পে থরথর করে কাঁপছে। যেন সমগ্র পৃথিবী জুড়ে মহাপ্রলয় সংঘটিত হচ্ছে। অবস্থা এতাটাই শোচনীয় রূপ ধারণ করল, মনে হল সুড়ঙ্গের ভিতরেই যেন আমরা সমাধিস্থ হয়ে পড়ব। এ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে আমরা কাজ বন্ধ করে রেখেছি।”

তাদের বক্তব্যে সুলতানের নিকট সব কিছুই পরিস্কার হয়ে গেল। তাই তিনি লোক দুটোকে নযীর বিহীন শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন । যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন দু:সাহস দেখাতে না পারে।

তিনি মসজিদ হতে অর্ধ মাইল দূরে একটি বিশাল ময়দানে বিশ তাহ উঁচু একটি কাঠের মঞ্চ তৈরী করলেন। সাথে সাথে সংবাদ পাঠিয়ে মদীনা ও মদীনার আশেপাশের লোকদেরকে উক্ত ময়দানে হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেন।

নির্ধারিত সময়ে লক্ষ লক্ষ লোক উক্ত মাঠে সমবেত হল। সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) অপরাধী লোক দুটোকে লৌহ শিকলে আবদ্ধ করে মঞ্চের উপর বসালেন । তারপর বিশাল জনসমুদ্রের মাঝে তাদের হীন চক্রান্ত ও ঘৃণ্য তৎপরতার কথা উল্লেখ করলেন।

সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) -এর বক্তব্য শ্রবণ করে লোকজন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। তারা এ ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করল। সুলতান বললেন- হ্যাঁ, এদের শাস্তি দৃষ্টান্তমূলকই হবে।

তিনি লোকদেরকে বিপুল পরিমাণ লাকড়ী সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন। তারপর লক্ষ জনতার সামনে সেই ইহুদী দুটোকে মঞ্চের নিম্নভাগে আগুন লাগিয়ে পুড়ে ভস্ম করে ফেলেন। কোন কোন বর্ণনায় আছে, সেই আগুন নাকি দীর্ঘ এগার দিন পর্যন্ত জ্বলছিল।

অত:পর তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এক হাজার মন সিসা গলিয়ে রওজা শরীফের চতুষ্পার্শে মজবুত প্রাচীর নির্মাণ করে দেন। যেন ভবিষ্যতে আর কেউ প্রিয় নবীজির কবর পর্যন্ত পৌছাতে সক্ষম না হয়। তারপর তিনি কায়মনোবাক্যে আল্লাহ্‌পাকের শুকরিয়া আদায় করলেন এবং তাকে যে এত বড় খেদমতের জন্য কবুল করা হল সেজন্য সপ্তাহকাল ব্যাপী আনন্দাশ্রু বিসর্জন দিলেন। ইতিহাসের পাতা থেকে অবগত হওয়া যায় যে, নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র:) ইন্তিকাল করলে অসীয়ত মোতাবেক তার লাশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারকের অতি নিকটে দাফন করা হয়।

ইসলামঃ আপনার জিজ্ঞাসার জবাব
বিশ্বনবীর লাশ চুরি ও ইহুদী চক্রান্ত” লেখক: জিল্লুর রহমান নাদভী । আল এছহাক প্রকাশনী।
এছাড়াও এই ঘটনাটা পাবেনঃ “রওজা শরীফের ইতিকথা”–মুহিউদ্দিন খান(সম্পাদক, মাসিক মদীনা),
মা’আলেমে দারুল হিজরা, পৃঃ১৪৬, জযবুল কুলুবকুলুব
http://www.inews24bd.com/blog/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B6-%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BF-%E0%A6%93-%E0%A6%87%E0%A6%B9%E0%A7%81%E0%A6%A6/


Thursday, April 2, 2015

চুল পড়া বন্ধের ২০ উপায়

মাথার চুল পড়ার অনেক কারণ রয়েছে তার মধ্যে মানসিক চাপ ও জেনেটিক্স সমস্যা অন্যতম।
চুল পড়ার আরো একটি কারণ সেটি হল মাথায় টুপি বা হেলমেট পড়া। এতে চুলের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে।
কিন্তু চিন্তার কোনো কারণ নেই। চুল পড়া বন্ধ করার ২০টি উপায় দেয়া আছে যা অতিরিক্ত চুল পড়ার হাত থেকে রক্ষা করবে।

১: চুল ধোয়ার জন্য হালকা শ্যাম্পুর ব্যবহারঃ
1-Usage-of-mild-shampoo-for-daily-hair-wash
চুল পড়ার ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্য প্রতিদিন চুল ধোয়া প্রয়োজন।অনেকে চুল ধোয়ার জন্য মাথায় সাবান ব্যবহার করে থাকেন যা চুলের জন্য অনেক ভয়াবহ। আবার অনেকে চুল ধোয়ার জন্য নাম অজানা শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকে।চুল ঠিক রাখতে হলে এইসব কাজ করা মোটেই উচিত নয়।
সব সময় মাথার চুল ও মাথার খুলি পরিষ্কার রাখার ও নিয়মিত হালকা শ্যাম্পুর ব্যবহার করা উচিত। এই হালকা শ্যাম্পু মাথার উপর সংক্রমণ বা খুশকির ঝুঁকি হ্রাস করে থাকে।

২-ভিটামিন বৃদ্ধি করুনঃ
ভিটামিন শুধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ করে না এটা চুলের উপরও ভালো প্রভাব ফেলে।
ভিটামিন-এ মাথার মধ্যে মেদ থেকে ক্ষরিত রসের উপস্থিত বাঁড়ায় যা চুলের জন্য অত্যন্ত ভালো। অন্যদিকে বলা হয় ভিটামিন-ই মাথায় রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে চুলের বীজকোষ বৃদ্ধি পায়।
আর ভিটামিন-বি চুলের রং ধরে রাখতে ও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাই ভিটামিন বি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

৩-খাদ্যের মধ্যে প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করন:
সব সময় প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে যা চুল পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে। যেমনঃ মাছ, চর্বিহীন মাংস, সয়া সস সহ অনেক প্রোটিন জাতীয় খাবার। যা চুল পড়া ও চুলে ফাটল ধরা বন্ধ করে।
৪-গন্ধসার তৈল দ্বারা চুল মালিশ:
যাদের অনেক সময় ধরে চুল পড়ে তারা মাঝে মাঝে হারবাল জাতীয় তেল দ্বারা চুল মালিশ করতে পারেন। এতে চুল পড়া বন্ধ হয়। আর অনেক দিন ধরে চুল মালিশ করলে এক সময় ভালো ফলাফল পাওয় যায়।
৫-ভেজা চুল আঁচড়ানো উচিত নাঃ
Capture5
যাদের চুল পড়ার পরিমাণ বেশি তাদের জন্য একটাই পরামর্শ তা হল ভেজা চুল আঁচড়াবেন না। ভেজা অবস্থায় চুল ভীষণ দুর্বল থাকে আর অল্প একটু টান পড়লেই চুল গোঁড়া থেকে উঠে আসে। তাই চুল আগে ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর আঁচড়ানো উচিত। আর চেষ্টা করুন বড় চিরুনি ব্যবহার করতে।
চুল যখন ভেজা থাকে তখন চুলে চিরুনি ব্যবহার করা উচিত না, আর যদি আঁচড়ানো প্রয়োজন হয় তাহলে হাত দিয়ে আঁচড়ানো উচিত।

৬-পেঁয়াজ, আদা বা রসুনের রস ব্যবহার:
এই রসগুলো যদি নিয়মিত কেউ রাতে মাথার লাগিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলে আর এই ভাবে যদি কেউ এক সপ্তাহ ব্যবহার করতে পারে তাহলে তার চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।

৭-বেশি পরিমাণে পানি পান:
প্রতিটি চুলের গোঁড়ায় এক চতুর্থাংশ পানি থাকে। তাই প্রতিদিন চার থেকে আট গ্লাস পানি পান করা উচিত।

৮-সবুজ চা পান করুনঃ
চুল পড়ার বিরুদ্ধে আপনার খুব কাজের অস্ত্র হিসেবে আপনার সাহায্য করতে পারে গ্রিন টি। গ্রিনটির দুইটি টি-ব্যাগ এক কাপ পরিমাণ পানিতে ফুটিয়ে ফুটন্ত পানি ঠাণ্ডা করুন। এরপর এই ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া পানিটুকু আপনার চুলের গোড়াসহ সারা চুলে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন এবং পড়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে একবার এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন।

৯-চুলের জন্য খারাপ জিনিষ সনাক্ত করুনঃ
নষ্ট চুল ফেলে দিতে হবে। সবসময় নরম ভালো গামছা দিয়ে চুল মার্জন করতে হবে, যাতে করে চুলের উপর প্রভাব না পড়ে।

১০-অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকুনঃ
অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে রক্ত দূষিত হয় ও মাথার ত্বকে সঠিক পরিমাণে রক্ত সরবরাহ না হওয়ায় মাথার চুল পড়ে যেতে দেখা যায়। যাদের নিয়মিত চুল পড়ে তাদের মদ পান বা যে কোনো রকম অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এটি চুলের বৃদ্ধি রোধ করে।

১১-ধূমপান কে না বলুনঃ
Capture-11ধূমপান করলে শরীরের রক্ত কমে যায় এবং যা সরাসরি মাথার চুলের উপর প্রভাব ফেলে। এছাড়াও ইহা চুল বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

১২-ব্যায়াম করুনঃ
প্রত্যেকদিন জরুরি ভিত্তিতে ব্যায়াম করা উচিত। এতে শরীরের রক্ত চলাচল ভালো হয়। নতুন রক্তের কনিকা তৈরি করতে সাহায্য করে। পরামর্শ দেয়া হয় যে নিয়মিত আধা ঘণ্টা হাঁটা বা সাঁতার কাঁটা উচিত। এটা শরীরের জন্য তো অনেক ভালো কিন্তু চুলের জন্য বেশ ভূমিকা রাখে।

১৩-স্ট্রেস যুদ্ধঃ
চুল পড়ার আরো একটি কারণ হল মানসিক সমস্যা। যারা মানসিক সমস্যায় ভোগেন তাদের অতিরিক্ত চুল পড়ে ও ফাটল ধরে। তাই তাদের নিয়মিত যোগব্যায়াম ও ধ্যান করা উচিত। এতে চুল পড়া বন্ধ হয়।

১৪-হেয়ার ড্রাইয়ারকে না বলুনঃ
Capture-14চুল শুকানোর জন্য কখনই অতিরিক্ত গরম মেশিন ব্যবহার করা উচিত না। এতে চূলের গোঁড়া নরম হয়ে যায় ও চুল পড়ে।

১৫-মাথায় ঘাম থাকা ভালো নাঃ
যাদের মাথা আগে থেকেই টাঁক তাদের মাথা সবসময় তৈলাক্ত থাকে আর এটা চুলের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে চুলের বৃদ্ধি নষ্ট হয়। এই জন্য মাথায় শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।

১৬-চুল শৈলী পরিবর্তনঃ
যারা চুলের বিভিন্ন শৈলী পরিবর্তন করার জন্য নানা ধরণের ক্রিম বা জেল বা অন্য কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করেন তাদের চুল বেশি পড়ে। তাই এইগুলো থেকে দূরে থাকুন।

১৭-স্বাস্থ্য বজায় রাখুনঃ
সবসময় সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা উচিত কারণ যখন কোনো সংক্রমণ, জ্বর এবং অন্যান্য কোনো রোগ হয় তখন চূলের বৃদ্ধি কমে যায় ও চুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

১৮-ওষুধের উপর লক্ষ্য রাখুন:
সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে চুল পড়ে যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়া উচিত।

১৯-কেমিক্যাল এড়িয়ে চলুনঃ
চুলে যে কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা উচিত না। যেমন চুল রং করার পণ্য বা অন্যান্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ চুলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

২০-নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াঃ
Capture-20যদি দেখা যায় নিয়মিত চুল পড়ছে তাহলে নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে ও চুল পড়া বন্ধ করার জন্য পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।

Wednesday, April 1, 2015

ঘরেই তৈরি কাসুন্দি

কাসুন্দি আমাদের দেশের এক লোভনীয় খাবার। এর অপর নাম কাসন। এটি তৈরি করা হয় ঝাঁজাল রাই-সরিষা ব্যবহার করে। বিভিন্ন খাবারের সাথে পাতে নিয়ে এটি খাওয়া যায়। তবে টকজাতীয় কাঁচা ফলে মাখিয়ে খেতে এর তুলনা মেলা ভার। এভাবে অনেক খাবারের স্বাদ বহু গুণে বাড়িয়ে দেয় কাসুন্দি।

 উপকরণঃ
-সরিষা দানা ২৫০ গ্রাম
-শুকনা মরিচ ১টি
-ধনে গুড়ো ১চা চামচ
-গোল মরিচ ১চা চামচ
-জিরা গুড়ো ১ চা চামচ
-হলুদ ২/৩ চা চামচ
-যোয়ান ১চা চামচ
-তেজপাতা ১ টি
-মৌরী ১ চা চামচ
-রাঁধুনি ১ চা চামচ
-লবণ ১ চা চামচ
-দারচিনি গুড়া ১/২ চা চামচ



প্রস্তুত প্রণালিঃ
-কাসুন্দি তৈরি করার জন্য সরিষা কেনার সময়ে খেয়াল করে কিনুন যেন তিতা না পড়ে। এক্ষেত্রে কয়েকটি দানা মুখে দিয়ে পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
-প্রথমে সরিষা চালনি দিয়ে চেলে পরিষ্কার করে নিন। তারপর একদিন কড়া রোদে দিয়ে ঝরঝরে করে শুকিয়ে নিন।
-এরপর সরিষা এবং অন্য সব মশলা একসঙ্গে কড়াইয়ে ভেজে নিন।
-পাটায় মিহি করে বেটে নিন অথবা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন।
-পানি মিশিয়ে ঘনত্ব কিছুটা কমিয়ে নিন। ব্যস হয়ে গেলো কাসুন্দি।
-টক ফলের সাথে পরিবেশন করুন মজাদার ঘরে তৈরি কাসুন্দি।