মাথার চুল পড়ার অনেক কারণ রয়েছে তার মধ্যে মানসিক চাপ ও জেনেটিক্স সমস্যা অন্যতম।
চুল পড়ার আরো একটি কারণ সেটি হল মাথায় টুপি বা হেলমেট পড়া। এতে চুলের অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে।
কিন্তু চিন্তার কোনো কারণ নেই। চুল পড়া বন্ধ করার ২০টি উপায় দেয়া আছে যা অতিরিক্ত চুল পড়ার হাত থেকে রক্ষা করবে।
১: চুল ধোয়ার জন্য হালকা শ্যাম্পুর ব্যবহারঃ
চুল
পড়ার ক্ষতি প্রতিরোধ করার জন্য প্রতিদিন চুল ধোয়া প্রয়োজন।অনেকে চুল
ধোয়ার জন্য মাথায় সাবান ব্যবহার করে থাকেন যা চুলের জন্য অনেক ভয়াবহ। আবার
অনেকে চুল ধোয়ার জন্য নাম অজানা শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকে।চুল ঠিক রাখতে
হলে এইসব কাজ করা মোটেই উচিত নয়।
সব সময় মাথার চুল ও মাথার খুলি পরিষ্কার রাখার ও নিয়মিত হালকা শ্যাম্পুর
ব্যবহার করা উচিত। এই হালকা শ্যাম্পু মাথার উপর সংক্রমণ বা খুশকির ঝুঁকি
হ্রাস করে থাকে।
২-ভিটামিন বৃদ্ধি করুনঃ
ভিটামিন শুধু শরীরের রোগ প্রতিরোধ করে না এটা চুলের উপরও ভালো প্রভাব ফেলে।
ভিটামিন-এ মাথার মধ্যে মেদ থেকে ক্ষরিত রসের উপস্থিত বাঁড়ায় যা চুলের
জন্য অত্যন্ত ভালো। অন্যদিকে বলা হয় ভিটামিন-ই মাথায় রক্ত সঞ্চালন ক্ষমতা
বাড়াতে সাহায্য করে। এতে চুলের বীজকোষ বৃদ্ধি পায়।
আর ভিটামিন-বি চুলের রং ধরে রাখতে ও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। তাই ভিটামিন বি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
৩-খাদ্যের মধ্যে প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করন:
সব সময় প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে হবে যা চুল পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
যেমনঃ মাছ, চর্বিহীন মাংস, সয়া সস সহ অনেক প্রোটিন জাতীয় খাবার। যা চুল
পড়া ও চুলে ফাটল ধরা বন্ধ করে।
৪-গন্ধসার তৈল দ্বারা চুল মালিশ:
যাদের অনেক সময় ধরে চুল পড়ে তারা মাঝে মাঝে হারবাল জাতীয় তেল দ্বারা চুল
মালিশ করতে পারেন। এতে চুল পড়া বন্ধ হয়। আর অনেক দিন ধরে চুল মালিশ করলে
এক সময় ভালো ফলাফল পাওয় যায়।
৫-ভেজা চুল আঁচড়ানো উচিত নাঃ
যাদের
চুল পড়ার পরিমাণ বেশি তাদের জন্য একটাই পরামর্শ তা হল ভেজা চুল আঁচড়াবেন
না। ভেজা অবস্থায় চুল ভীষণ দুর্বল থাকে আর অল্প একটু টান পড়লেই চুল গোঁড়া
থেকে উঠে আসে। তাই চুল আগে ভালোভাবে শুকিয়ে তারপর আঁচড়ানো উচিত। আর চেষ্টা
করুন বড় চিরুনি ব্যবহার করতে।
চুল যখন ভেজা থাকে তখন চুলে চিরুনি ব্যবহার করা উচিত না, আর যদি আঁচড়ানো প্রয়োজন হয় তাহলে হাত দিয়ে আঁচড়ানো উচিত।
৬-পেঁয়াজ, আদা বা রসুনের রস ব্যবহার:
এই রসগুলো যদি নিয়মিত কেউ রাতে মাথার লাগিয়ে সকালে ধুয়ে ফেলে আর এই ভাবে
যদি কেউ এক সপ্তাহ ব্যবহার করতে পারে তাহলে তার চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।
৭-বেশি পরিমাণে পানি পান:
প্রতিটি চুলের গোঁড়ায় এক চতুর্থাংশ পানি থাকে। তাই প্রতিদিন চার থেকে আট গ্লাস পানি পান করা উচিত।
৮-সবুজ চা পান করুনঃ
চুল পড়ার বিরুদ্ধে আপনার খুব কাজের অস্ত্র হিসেবে আপনার সাহায্য করতে
পারে গ্রিন টি। গ্রিনটির দুইটি টি-ব্যাগ এক কাপ পরিমাণ পানিতে ফুটিয়ে
ফুটন্ত পানি ঠাণ্ডা করুন। এরপর এই ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া পানিটুকু আপনার চুলের
গোড়াসহ সারা চুলে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন এবং পড়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো
ফলাফল পেতে সপ্তাহে একবার এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন।
৯-চুলের জন্য খারাপ জিনিষ সনাক্ত করুনঃ
নষ্ট চুল ফেলে দিতে হবে। সবসময় নরম ভালো গামছা দিয়ে চুল মার্জন করতে হবে, যাতে করে চুলের উপর প্রভাব না পড়ে।
১০-অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকুনঃ
অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে রক্ত দূষিত হয় ও মাথার ত্বকে সঠিক পরিমাণে রক্ত
সরবরাহ না হওয়ায় মাথার চুল পড়ে যেতে দেখা যায়। যাদের নিয়মিত চুল পড়ে তাদের
মদ পান বা যে কোনো রকম অ্যালকোহল পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ এটি
চুলের বৃদ্ধি রোধ করে।
১১-ধূমপান কে না বলুনঃ
১২-ব্যায়াম করুনঃ
প্রত্যেকদিন জরুরি ভিত্তিতে ব্যায়াম করা উচিত। এতে শরীরের রক্ত চলাচল
ভালো হয়। নতুন রক্তের কনিকা তৈরি করতে সাহায্য করে। পরামর্শ দেয়া হয় যে
নিয়মিত আধা ঘণ্টা হাঁটা বা সাঁতার কাঁটা উচিত। এটা শরীরের জন্য তো অনেক
ভালো কিন্তু চুলের জন্য বেশ ভূমিকা রাখে।
১৩-স্ট্রেস যুদ্ধঃ
চুল পড়ার আরো একটি কারণ হল মানসিক সমস্যা। যারা মানসিক সমস্যায় ভোগেন
তাদের অতিরিক্ত চুল পড়ে ও ফাটল ধরে। তাই তাদের নিয়মিত যোগব্যায়াম ও ধ্যান
করা উচিত। এতে চুল পড়া বন্ধ হয়।
১৪-হেয়ার ড্রাইয়ারকে না বলুনঃ
১৫-মাথায় ঘাম থাকা ভালো নাঃ
যাদের মাথা আগে থেকেই টাঁক তাদের মাথা সবসময় তৈলাক্ত থাকে আর এটা চুলের
জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে চুলের বৃদ্ধি নষ্ট হয়। এই জন্য মাথায় শ্যাম্পু
ব্যবহার করা উচিত।
১৬-চুল শৈলী পরিবর্তনঃ
যারা চুলের বিভিন্ন শৈলী পরিবর্তন করার জন্য নানা ধরণের ক্রিম বা জেল বা
অন্য কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করেন তাদের চুল বেশি পড়ে। তাই এইগুলো থেকে
দূরে থাকুন।
১৭-স্বাস্থ্য বজায় রাখুনঃ
সবসময় সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা উচিত কারণ যখন কোনো সংক্রমণ, জ্বর এবং
অন্যান্য কোনো রোগ হয় তখন চূলের বৃদ্ধি কমে যায় ও চুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
১৮-ওষুধের উপর লক্ষ্য রাখুন:
সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়া উচিত। কারণ অনেক সময় পার্শ্ব
প্রতিক্রিয়ার কারণে চুল পড়ে যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়া
উচিত।
১৯-কেমিক্যাল এড়িয়ে চলুনঃ
চুলে যে কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা উচিত না। যেমন চুল রং করার
পণ্য বা অন্যান্য কোনো রাসায়নিক পদার্থ চুলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
২০-নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াঃ
No comments:
Post a Comment