বিশেষ প্রতিবেদন

নগরীতে স্বাধীনতার শিল্পকলা

দীপংকর গৌতম
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও শিল্পকলা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধকেও ত্বরান্বিত করেছে আমাদের সাংস্কৃতিক সংগ্রাম। স্বাধিকারের চেতনা থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত ধাপে ধাপে সংগ্রামে বাংলার শিল্পী সমাজের তুলি-ব্রাশ অস্ত্রের মতোই শক্তিশালী প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে বাঙালির মননে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাংলার চারুশিল্পীরা শুধু হাতিয়ার নিয়েই যুদ্ধ করেননি, সাংস্কৃতিকভাবেও উদ্বুদ্ধ করেছেন। কামরুল হাসানের আঁকা ইয়াহিয়ার রক্তাক্ত মুখ কী ঘৃণাই না ছড়িয়েছে জনমনে। সৃষ্টি করেছে বিশ্ব জনমতও। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শিল্পকলার ভূমিকাও অপরিসীম। আমাদের শিল্পকলায় প্রাচীনতম নিদর্শন মাত্র হাজার দেড়েক বছরের পুরনো। মূলত তাও প্রতিবাদী শিল্পকলাই। সুতরাং এর সংগ্রামী ভূমিকা সূচনাতেই। মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বা মুক্তি আন্দোলনভিত্তিক শিল্পকর্মের ?অসংখ্য নজির রয়েছে। স্বাধীনতার পর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হন আমাদের শিল্পীরা।
কোনো জাতির গৌরবগাথা ধরে রাখে তার শিল্প, সাহিত্য, ইতিহাস। শিল্পীর আবেগ মূর্ত হয়ে ওঠে রঙ-রেখায়, পাথর খোদাইয়ে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শিল্পকর্মও গৌরবোজ্জ্বল মুক্তি সংগ্রামের কথা বলে। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিভিন্ন আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুশিল্পীরা রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান।
গৌরবময় এ ঐতিহ্যের দিকে একটু ফিরে তাকানো যাক। বাংলাদেশে কোনো আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভাস্কর্য নির্মাণ সম্ভবত প্রথম ঘটে ১৯৪৫ সালে। নেত্রকোনায় কমিউনিস্ট পার্টি আয়োজিত সারা ভারতের কৃষক সম্মেলনে কৃষ্ণনগরের কারিগর লক্ষ্মীপাল হাজং কমরেড হৃদয়কে মডেল করে ৮ ফুট উঁচু একখণ্ড মাটির ভাস্কর্য নির্মাণ করেন, যা এক যুবার প্রতিকৃতি, মুক্তিপ্রয়াসী, হাতের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলেছে, পায়ের শৃঙ্খল ভাঙতে উদ্যত সে। এখানে বিদ্রোহের ভাষা প্রকাশ পায়। মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রথম ভাস্কর্য 'জাগ্রত চৌরঙ্গী'। শিল্পী আবদুর রাজ্জাক ১৯৭২ সালে এটি নির্মাণ করেন এবং জয়দেবপুর চৌরাস্তায় স্থাপন করা হয় । এরপরই উল্লেখ করতে হয় ঢাবির কলা ভবনের সামনে স্থাপিত আবদুল্লাহ খালেদের 'অপরাজেয় বাংলা' ভাস্কর্যের কথা।
জাতীয় জীবনে নান্দনিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করে কিছু ম্যুরাল, ভাস্কর্য ও চিত্রকলা। বিভিন্ন দিবস এলে এগুলোর পরিচর্যা করা হলেও সারা বছর থাকে অবহেলায় জীর্ণ-মলিন। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিদ্রোহের হাতিয়ার হিসেবে বড় সহায়ক ভূমিকা পালন করে সঙ্গীত আর শিল্পকলা। আমাদের তরুণ প্রজন্মও যে কোনো সংগ্রামে বিদ্রোহের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে শিল্পকলাকে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতার সপক্ষে উজ্জীবিত হয়ে গড়ে তোলা হয় বেশকিছু ভাস্কর্য। এসবের সংখ্যা ঢাকায় সবচেয়ে বেশি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এ ব্যাপারে বলেন, আমরা আমাদের ক্যাম্পাসের ভাস্কর্য ও ম্যুরালের ব্যাপারে আরও যত্নবান হব। কেননা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে শিল্পকলার অবদান অসামান্য ।
স্বাধীনতার সংগ্রাম : উদয়ন স্কুল ও সলিমুল্লাহ হলের মাঝখানে অবস্থিত এই বিশাল ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন শামীম সিকদার। বাংলার কৃতী সন্তানদের প্রতিকৃতির সমন্বয়ে এ ভাস্কর্যগুচ্ছ। সবচেয়ে বড় প্রতিকৃতিটি জাতির জনক বঙ্গবল্পুব্দ শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের আদলে করা হয়েছে। এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, মাইকেল, গান্ধীসহ বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পাশাপাশি গ্রামবাংলার নানা পেশার মানুষের প্রতিকৃতি রয়েছে এখানে।
অপরাজেয় বাংলা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে ত্রিকোণ বেদির ওপর স্থাপিত আবদুল্লাহ খালেদের সৃষ্ট তিন মুক্তিযোদ্ধার ভাস্কর্য অপরাজেয় বাংলার বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তাক্ত গৌরবময় ঐতিহ্যের বাণী বহন করে। সে বাণী যেন '৭১-এর সীমা ছাড়িয়ে সব আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে বিস্তৃত হয়েছে। অপরাজেয় বাংলা যেন সব শোষণের বিরুদ্ধে শানিত সাহস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এ ভাস্কর্য স্মরণ করিয়ে দেয় প্রতিবাদী অমিততেজ যোদ্ধাদের কথা।
স্বোপার্জিত স্বাধীনতা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে টিএসসির সামনে স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যটির অবস্থান। শামীম সিকদারের এ ভাস্কর্যে লেখা রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বাণী। যেমন_ 'নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই'।
মুক্তি চাই, স্বাধীনতা চাই : ঢাকার বিজয় সরণিতে মোজাইকের তৈরি ম্যুরাল 'মুক্তি চাই স্বাধীনতা চাই' ভাস্কর্যটির অবস্থান।
জয়বাংলা, জয় তারুণ্য : টিএসসি ও শামসুন নাহার হলের মাঝামাঝিতে জয়বাংলা, জয় তারুণ্য ভাস্কর্যটির অবস্থান। স্বাধীনতা-উত্তর শহীদদের স্মৃতির প্রতি এ ভাস্কর্যটি উৎসর্গ করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত এ ভাস্কর্যটিতে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি তুলে ধরা হয়েছে । এর ভাস্কর রাসা।
একাত্তরের গণহত্যা : মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যাকে ভাস্কর্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন ভাস্কর রাশা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের এই বিশাল স্মারক ভাস্কর্যের অবস্থান।
ভাস্কর্য : ঊনসত্তরের স্বাধিকার আন্দোলনের বীর সৈনিক শহীদ আসাদের শার্ট নিয়ে নির্মিত ভাস্কর্য নামের শিল্পকর্মটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে অবস্থিত। এর ভাস্কর প্রদ্যুত।
শিখা চিরন্তন : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। একই জায়গায় '৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করে। এ স্থানটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিখা চিরন্তন স্থাপন করা হয়। কিন্তু এর নির্মাণ কাজ আজও শেষ হয়নি।
বিজয় : রামপুরায় অবস্থিত বাংলাদেশ টেলিভিশনের সামনে বিজয় ভাস্কর্যটি। বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা যেটি কাঠখোদাই করে তৈরি। এটি তৈরি করেছেন ৪ জন দেশবরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী, সৈয়দ লুৎফুল হক, রেজাউন নবী ও আবদুস সাত্তার।
লড়াই লড়াই লড়াই চাই : ধাতবের তৈরি ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন শিল্পী হামিদুজ্জামান খান। শাহবাগের বাংলা একাডেমী চত্বরে এটির অবস্থান। লুঙ্গি পরা একজন মুক্তিযোদ্ধার হাতে একটি রাইফেল বীরত্বপূর্ণ ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে এতে।
মৌচাক সড়কদ্বীপের স্মৃতিসৌধ : ঢাকার রামপুরা মৌচাক সড়কদ্বীপে মুক্তিযুদ্ধে নিহত দু'জন শহীদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধটি নির্মাণ করেছে ঢাকা সিটি করপোরেশন ।
স্মারক ভাস্কর্য : কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সামনে চমৎকার দৃষ্টিনন্দন একটি স্মারক ভাস্কর্য রয়েছে। এতে বিভিন্ন বিষয় প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু স্কয়ার ফোয়ারা : ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাত বীরশ্রেষ্ঠ স্মরণে নির্মিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার ফোয়ারা।
শিখা অনির্বাণ : ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অবস্থিত শিখা অনির্বাণ। এখানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মরণে নির্মিত এই ভাস্কর্যটিতে সারাক্ষণই আগুনের শিখা প্রজ্বলিত হয়। চিরদিন এ শিখা জ্বলবে_ এ উদ্দেশ্যে নির্মিত শিখা অনির্বাণ বাঙালিদের একটি গৌরবের বিজয় স্তম্ভও বটে।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ যারা : ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনের মধ্যে অবস্থিত স্মৃতিফলকটির নিচের দিকে শ্বেতপাথরের ফলকে শহীদদের দীর্ঘ নামের তালিকা রয়েছে। এতে ২৫ মার্চের ভয়াল রাতে নিহত পুলিশ সদস্যদের বীরত্বগাথা ফুটে উঠেছে।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ : ঢাকা থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাভারের নবীনগরে স্বাধীনতা যুদ্ধের লাখো শহীদের ত্যাগ ও সাহসিকতার বিজয়ের প্রতীক সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ : ২৫ মার্চের পর থেকে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নিহত বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে মিরপুর-১ নম্বর মাজার রোডে নির্মাণ করা হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ।
রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ : দেশকে মেধাশূন্য করে এসব শ্রেষ্ঠ সন্তানদের লাশ ফেলে রাখে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। তাদের স্মৃতিবিজড়িত এ স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ। অসংখ্য লাল ইটের সমন্বয়ে তৈরি এই সৌধ আমাদের বেদনার্ত স্মৃতিজাগানিয়া স্মৃতিফলক। সৌধের মাঝে আয়তাকার জানালার মতো একটি অংশ রয়েছে। সামনে থেকে দেখলে লাল ইটের মাঝে চোখে পড়বে এক টুকরো আকাশ। সৌধের সামনে কৃত্রিম লেক। ওপারে কালো পাথরের তৈরি একটি স্তম্ভ।
টেরাকাটার স্মৃতিফলক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ইনডিপেন্ডেন্টস স্কয়ারে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামফলকসহ নির্মিত স্মৃতিসৌধ একাত্তরের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এখানে পোড়া মাটির ফলকে চোখ বাঁধা, হাত-মুখ বাঁধা ও যুদ্ধরত বীর বাঙালির যুদ্ধের পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে।

যত্রতত্র মোবাইল টাওয়ার, বিকিরন ঝুকিতে কয়েক কোটি মানুষ, পশুপাখি!!

৩১ শে অক্টোবর, ২০১২ দুপুর ২:৫৩

শেয়ারঃ
8 0

মাইক্রোওয়েভ ওভেন সম্পর্কে আমাদের সবারই কমবেশী ধারনা আছে। ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন কোন বস্তুর(খাবার) ভিতর দিয়ে প্রবেশ করিয়ে বস্তুকে উত্তপ্ত করার কাজ করা হয় এই মাইক্রোওয়েভ ওভেনে।

ধরে নিন আপনি নিজে একটা পানিভর্তি গ্লাস এবং একটা চালু মাইক্রোওয়েভ ওভেনে এই গ্লাসটিকে(আপনাকে) ১ মিনিট রেখে দিলে ফলাফল কি হবে? আমাকে বলে দিতে হবে না।

আপনি সুন্দরবনের গহীনে গেলে মোবাইল ফোনে যেই সীম লাগান না কেন, আপনি কোন সিগন্যাল পাবেন না। আপনার একাউন্টে কোটি টাকা থাকলেও মোবাইলে নেটওয়ার্ক না থাকলে আপনি কথা বলতে পারবেন না। মোবাইলে পর্যাপ্ত সিগন্যাল পৌছানোর জন্য মোবাইল কোম্পানী কিছুদূর অন্তর অন্তর একটু উচু টাওয়ার বসায় যাতে চারপাশে একটা বড়সড় এলাকা মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসে। এই মোবাইল টাওয়ারে বিভিন্ন তরন্গের দুই ধরনের রেডিও এন্টেনা লাগানো থাকে। এক ধরনের হলো মোবাইলের রিসিভিং লো ফ্রিকোয়েন্সী এন্টেনা (৭৯০-২১৮০ মেগাহার্জ) আরেকটা হলো ব্যাকবোন পয়েন্ট টু পয়েন্ট যা সাধারনত হাই ফ্রিকোয়েন্সী এন্টেনা (৮-৮০ গিগাহার্জ)। একটা মোবাইল টাওয়ারে লো ফ্রিকোয়েন্সীর কম(৪-৬-৮) টা এন্টেনা থাকলেও অনেক টাওয়ারে ব্যাকবোন পয়েন্ট টু পয়েন্ট ২০-২৫ টি এন্টেনা থাকে । এই প্রতিটা এন্টেনা আলাদা আলাদা তরন্গ ব্যাবহার করে থকে।

রেডিয়েশন কি? এবং মোবাইল টাওয়ার থেকে কিভাবে রেডিয়েশন উৎপন্ন হয়।
তরন্গ চলাচল করার সময় তার আশে পাশে ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করে যা থেকে ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন উৎপন্ন হয়। তরন্গ ব্যাবহৃত হয়, এমন সব(মোবাইল, ব্লুটুথ, ওয়াইফাই, জিপিএস, ল্যাপটপ, রেডিও টিভি) যন্ত্রেই ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ড এবং ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন উৎপন্ন হয়। মোবাইল টাওয়ারে যেহেতু তরন্গ ব্যাবহৃত হয়, তাই মোবাইল টাওয়ারের আশেপাশে শক্তিশালী রেডিয়েশন উৎপন্ন হয়। এই রেডিয়েশন এন্টেনার যত কাছে থাকে তত শক্তিশালী, এবং দূরত্বে দূর্বল হয়ে পড়ে।

মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনে কি কি স্বাস্হ্যগত সমস্যা হয়?

সবচেয়ে বেশী যে কথাটি উচ্চারিত হয়, তা হলো ক্যান্সার হয়। বিগত বছরগুলোতে অনেক অনেক গবেষনা করা হয়েছে যাতে বলা হয়েছে যাতে মোবাইল রেডিয়েশনের সাথে ক্যান্সারের সরাসরি যোগাযোগ আছে।

নেট থেকে পাওয়া আরো কিছু স্ক্রীনশট।



দিল্লিতে এক লোক দাবী করেছেন তার সন্তান যেই ক্যান্সারে মারা গেছেন এর কারন তাদের বাসার ছাদের মোবাইল টাওয়ার এবং ঐ লোক আদালাতের কাছে ক্ষতিপূরন দাবী করেছেন এবং হাইকোর্টে মামলা করেছেন যাতে আবাসিক ভবন, হাসপাতাল ও স্কুলের ৫০ মিটার এর ভিতর সব মোবাইল টাওয়ার সরিয়ে নিতে ব্যাবস্হা নেওয়া হয়।

রেডিয়েশনের কারনে দ্রত কমে যাচ্ছে পশুপাখি। গবেষনা রিপোর্ট দেখুন।

মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনের উপর বিষদ গবেষনার ফলাফল দেখতে পারেন এখানে।

মোবাইল টাওয়ারে এন্টেনা মাটি থেকে কত দূরে স্হাপন করতে হয় আর ঐ এন্টেনা থেকে সর্বনিম্ন কতটুকু দূরে থাকাটা নিরাপদ?

নেট ঘাটাঘাটি করে ৩ টা স্ক্রীনশট তুলে দিলাম।




এবার নীচের ছবি গুলো দেখুন।

১> ক্ষিলক্ষেত পল্লী বিদ্যুতায়ন অফিসের পূর্ব পাশে।


২> স্টাফ রোড, ক্যান্টনমেন্ট রেলক্রসিং এ স্বর্নলতা ভবনের পশ্চিম পাশে।


৩> স্টাফ রোড, ক্যান্টনমেন্ট রেলক্রসিং এ স্বর্নলতা ভবনের উত্তর পাশে।


৪> বনানী কবরস্হানের পাশে গল্ফ হাইট ভবনের পশ্চিম পাশের বারান্দা।


৫> বনানি বাজারের পাশে আউয়াল সেন্টারের উত্তর পাশে।


৬> কাকলি ওভারব্রীজের পশ্চিম পাশের ভবনের পূর্বপাশ।


৭> মহাখালী সেতু ভবনের পূর্বপাশের একটা হোটেলের দুইতালা বারান্দা


ঢাকা শহরের আরো অনেক যায়গায় যেমন, ফার্মগেট, শাহবাগ, গুলশান, মালিবাগ, শান্তিনগর। গুলিস্হান, মতিঝিল, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, আসাদগেটে এরকম মানুষের মাথার কাছে হাই পাওয়ার এন্টেনা লাগানো আছে। আমি শুধু আমার চলতি পথের ছবিই দিলাম।

এখন আপনারা সবাই বলুন এইসব ছবির ক্ষেত্রে একজন মানুষ মোবাইল এন্টেনা থেকে সর্বনিম্ন দূরত্ব কতটুকু????

উত্তর : ০০০০০০০০০০০.১ ন্যানোমিটার। কারন ৪ নাম্বার ছবিতে বারান্দায় দাড়ালে এই বিশাল আকারের এন্টেনা আপনার গায়ে লেগে থাকবে আর ৭ নাম্বার ছবিতে বারান্দায় দাড়ালে এন্টেনা আপনার মাথায় লেগে থাকবে। যেখানে বলা আছে ৪০০ মিটার দূরত্বে এন্টেনা নিরাপদ, সেখানে একটা এন্টেনা মাথায় লেগে থাকলে মাথাটা কতটুকু নিরাপদ? উত্তর আমি দিতে পারছি না, আপনারাই ভেবে নিন।

খুব কাছাকাছি দূরত্বে একটা মোবাইল এন্টেনা কতটুকু ইলেক্ট্রোমেগনেটিক পাওয়ার উৎপন্ন করতে পারে।
একটা পিকো সাইজের এন্টেনা গেইন ২-৫ dbi ছোট সাইজের এন্টেনা গেইন ৫-১০ dbi মাঝারি সাইজের ১০-১৮ dbi, এবং বড় সাইজের এন্টেনা ১৯-৪০ dbi হতে পারে।
একটা বেজ এন্টেনা যদি ২৫ ওয়াট পাওয়ার ট্রান্সমিট করে আর এন্টেনা গেইন যদি মাঝারি সাইজের(১৭ dbi) হয় তাহলে ১ মিটার দূরত্বে ৭৬ ওয়াট রেডিয়েশন উৎপন্ন করতে পারে

তাহলে ১,২,৩,৪,৫ নং ছবিতে দেখানো এন্টেনার কতটুকু রেডিয়েশন উৎপন্ন করে?
এই
এন্টেনাটির মডেল হলো Kathrein 742 266V02 । যার সাইজ হলো। এবং এর গেইন হলো ৩০, যা প্রায় ১০০ ওয়াট রেডিয়েশন উৎপন্ন করে। যেখানে ১০-১২ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে একটা মোবাইল টাওয়ার থাকে, সেখানেও এই একই এন্টেনা ইউজ হয়ে থাকে। এবং এই এন্টেনাটি সংশ্লিষ্ট মোবাইল কোম্পানীর ব্যাবহৃত সবচেয়ে বড় এন্টেনা। আপনি ৩ নং ছবির বারান্দায় বসে চা(৩ মিটার এর মধ্যে) খেলে আপনি ভয়াবহ রেডিয়েশনের কবলে আছেন।

বারান্দায়, বেডরুমের দেয়ালের পাশে, অফিসের দেয়ালের পাশে এই মোবাইল এন্টেনা কোন কোম্পানী বসায় এবং কেন বসায়?

উত্তর: গ্রামীনফোন এবং গ্রামীনফোনের ট্রান্সমিশনের লোকজন মনে করে এন্টেনা মানুষের মাথার যত কাছাকাছি থাকবে, লোকজন ততই ক্লিয়ারকাট কথা বলতে পারবে। ১-৭ প্রতিটা ছবি গ্রামীনফোনের সাইটের। ১-৭ প্রতিটি ছবিতে চেষ্টা করা হয়েছে যতটুকু সম্ভব মাটির কাছাকাছি এন্টেনা লাগানো যায়। রাস্তার লাখো লোককে ক্লিয়ার কথা বলার সুযোগ দিতে গিয়ে আশেপাশের কয়েক হাজার মানুষের কয়েকশ রোগ বাধিয়ে ফেললে কার কি !!!

বেজ স্টেশনের আউটপুট পাওয়ার কমানো যায়, তার মানে কি ছবিতে দেখানো এন্টেনাগুলোতে আসলে কম পাওয়ার ইউজ করে হয়েছে।

মোটেও না। যদি কম পাওয়ার ট্রান্সমিট করার ইচ্ছা থাকতো তাহলে ৩০ dbi গেইনের এণ্টেনা না লাগিয়ে ৫-১০-১৫ dbi ক্ষমতার এণ্টেনা লাগাতে পারত। ছোটবড় সব সাইজের এন্টেনাই মোবাইল কোম্পানী ইউজ করে এবং বড় এণ্টেনা লাগানো একমাত্র উদ্দেশ্য বেশী পাওয়ার ট্রান্সমিট করা এবং যথাসম্বব বেশী কাভারেজ পাওয়া।

এইসব ক্রাইম দেখার কি কেউ নেই?

আছে, এবং তারা এটাকে ক্রাইম মনে করে না, অথবা মনে করার দরকার মনে করে না, অথবা তারা রিমোট ম্যানেজম্যান্টে চলে। মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার থেকে নিঃসৃত রেডিয়েশনের মাত্রা এবং এর স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখার একটা রিট হয়েছে গতকাল, এর ফলাফল নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে রাজি না। তবে আশাবাদীদের দলে আমি না।

এই রেডিয়েশন কমাতে পাশের দেশ কি করছে? আমরা নিজেরা কি করতে পারি,

সারা ভারতে স্কুলের ছাদ থেকে মোবাইল টাওয়ার সরিয়ে নেওয়ার জন্য আদালত আদেশ দিয়েছে। বনানী বিদ্যানিকেতনের অবস্হা দেখুন।
হাইকোর্টের আদেশে রাজষ্হানে ১৯৯ টা মোবাইল টাওয়ার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এক বছরের মধ্যে টাওয়ার ঘনত্ব ৯০ ভাগ কমিয়ে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও এর কারনে মোবাইল ব্যাবসা ৯০ ভাগ কমে যাক, কোন ছাড় নাই।
বৃহত্তর নদীয়ার স্কুল কলেজ, হাসপাতালের ছাদ থেকে মোবাইল টাওয়ার নামিয়ে ফেলা হয়েছে। ব্যাতিক্রম, আমাদের শাহীন কলেজের ১০০ মিটারের মধ্যে ১ টা ছাদে ৫ টা মোবাইল টাওয়ার আছে, আর বারডেম হাসপাতালের দেয়ালে বিশাল বিশাল এন্টেনা, আর ছাদে আছে ২০ টা ব্যাকবোন লিংক।
জয়পুরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ২০০ মোবাইল টাওয়ার।

আর কি কি জিনিষ থেকে আপনি এই এর শিকার হতে পারেন?
মোবাইল নিজেই, ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই রাউটার, জিএসএম মডেম, জিপিএস এনাবল মোবাইল ল্যাপটপ, ডেক্সটপ, রেডিও টিভি, ত্রুটিপূর্ন মোটর, ফ্যান, হাই ভোল্টেজ লাইভ লাইন। এইসব থেকে যথাসম্বভ দূরে থাকুন, মোবাইলে কথা বলার সময় হেডফোন, স্পীকার ফোন ইউজ করতে পারেন, দরকার না থাকলে ব্লুটুথ ও ওয়াইফাই, জিপিএস বন্ধ করে রাখুন। ল্যান কানেকশন থাকলে ওয়াইফাই বন্ধ রাখুন।

পোষ্ট লিখতে গিয়ে হাপিয়ে গেছি, ভুল ভ্রান্তি হতে পারে, এডিট করে ঠিক করে দেওয়া হবে। এমনিতেই গিগা পোষ্ট হয়ে গেছে তাই পোষ্ট সংক্রান্ত সবকিছু মন্তব্যে বিস্তারিত আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এই পোষ্টে ব্যাবহৃত সব ছবি আমার নিজ হাতে তোলা।
এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি শততম পোষ্টের মাইলফলক পার করলাম।

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মোবাইল রেডিয়েশন এর ক্ষতি। ;
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৩:৩৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...



বিনা বিচারে দিল্লির কারাগারে আট বছর 
নিঃস্ব ভাস্কর রশীদ, কার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবেন?
কমল জোহা খান | তারিখ: ২৬-১০-২০১২
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসায় ভাস্কর রশীদ আহমেদ ও তাঁর পুত্রবধূ নূরুন নাহার
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসায় ভাস্কর রশীদ আহমেদ ও তাঁর পুত্রবধূ নূরুন নাহার
‘এই ক্ষতিপূরণ আমি কার কাছে চাইব? যা হওয়ার, তা তো হয়েই গেছে। তবে এখন আমার দাবি, বাংলাদেশ সরকার যেন ভারত সরকারের কাছে আমার জীবন থেকে মুছে যাওয়া এই আটটি বছরের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায় করে।’ এ কথাগুলো বলেন ৭৮ বছর বয়সী ভাস্কর রশীদ আহমেদ। তিনি পুত্রবধূ নূরুন নাহারের সঙ্গে ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ভারতের দিল্লির কুখ্যাত তিহার কারাগারে আটক ছিলেন। গত শুক্রবার তাঁরা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
রশীদ আহমেদ মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই গতকাল শনিবার চলে এসেছেন মাতৃভূমি বাংলাদেশে। তবে হারানোর বেদনা অনেক বেশি রশীদ আহমেদের পুত্রবধূ নূরুন নাহারের। তাঁর বন্দিজীবনের পরের বছর ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট একমাত্র মেয়ে ১৩ বছরের চাঁদনী মারা যায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আজ (রোববার) প্রথম আলো ডটকমকে নূরুন নাহার বলেন, ‘এর বিচার কে করবে। চাঁদনীর মৃত্যুর পর আমি শোক প্রকাশও করতে পরিনি। অথচ আমরা ছিলাম সম্পূর্ণ নির্দোষ। বৃদ্ধ শ্বশুরকে নিয়ে আমার পক্ষে কি সম্ভব ছিল বিদেশে গিয়ে জাল টাকা পাচার করা। অর্থ দিয়ে এই ক্ষতি পূরণ করা যায় না। যাঁরা সন্তান হারিয়েছেন, কেবল তাঁরাই এই ক্ষতি উপলব্ধি করতে পারবেন।’
আটক, বিচার ও কারাবাসের আট বছরের দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছ থেকে তেমন কোনো সাহায্যই পাননি বলে দাবি করেন রশীদ আহমেদ ও তাঁর পুত্রবধূ। রশীদ আহমেদ বলেন, ‘২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আমাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর তিন মাস পর বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা, সম্ভবত কনস্যুলার পদমর্যাদার হবেন, তিনি কারাগারের আমাদের সঙ্গে দেখা করেন। নাম সম্ভবত আসাফুদ্দৌলা। তিনি আমাকে চিনতে পেরেছেন বলে জানান এবং মুক্তির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু এরপর তাঁকে ও বাংলাদেশ দূতাবাসকে চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু কিছুই হয়নি।’ লুকিয়ে কারাগার থেকে বাংলাদেশে চিঠি পাঠানোরও ব্যবস্থা করেছিলেন রশীদ আহমেদ। কিন্তু সেগুলোর বেশির ভাগই দেশে স্বজনদের কাছে পৌঁছাত না বলে জানান তিনি। তবে দীর্ঘ দিন পর এ বছর আগস্ট মাসে বাংলাদেশ দূতাবাস তাঁদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করে।
তিহার কারাগারের দিনগুলোর কথা জিজ্ঞেস করতেই কণ্ঠ কেঁপে ওঠে রশীদ আহমেদের। তিনি বলেন, ‘বয়সে বুড়ো হলেও আমাদের প্রতি কোনো সদয় ভাব দেখাত না ওখানকার কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারের একাকী জীবনে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগ বাসা বাঁধে আমার শরীরে। প্রয়োজনীয় চিকিত্সা কিংবা ওষুধও পাইনি ওদের কাছ থেকে।’
নিজের আর্থিক দুরবস্থার কথা জানিয়ে রশীদ আহমেদ বলেন, ‘আট বছরের কারাজীবনের পর আজ আমি একবারেই নিঃস্ব। ঢাকার মাতুয়াইলে আমার বাড়িটিও বিক্রি করতে হয়েছে। দেনার বোঝা এখন আমার মাথার ওপর। জীবনসায়াহ্নে এই দেনা আমি কীভাবে মেটাব।’

ভারতের বিচারব্যবস্থার সমালোচনা করে রশীদ আহমেদ বলেন, ‘বিনা বিচারে আট বছর জেল খাটলাম। অথচ মুক্তির কিছুদিন আগে আমাদের ওপর জাল টাকা বহনের অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়। আমাদের সঙ্গে আটক করা হয় আরও দুজনকে। দুই বছরের ভেতর তারা জামিন নিয়ে বেরিয়ে যায়। অথচ আমাদের জেল খাটতে হলো।’

উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র সেতুর কাছের ভাস্কর্যসহ মুক্তিযুদ্ধের ওপর বেশ কিছু ভাস্কর্যের নকশা তৈরি ও নির্মাণ করেছিলেন রশীদ আহমেদ। আজমির শরিফে যাওয়ার জন্য ২০০৪ সালের ডিসেম্বর মাসে পুত্রবধূ নূরুন নাহারকে নিয়ে ভারতে যান। তখন তাঁর বয়স ৭০ বছর। দিল্লির পাহাড়গঞ্জের একটি হোটেলে ওঠেন তাঁরা।

হোটেল থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে রশীদ আহমেদ বলেন, ‘রাত হয়ে যাওয়ায় প্রথম দিন ভালো রুম পাইনি। পরদিন হোটেলের লবিতে বসে থাকা কয়েকজন লোক আমার কাছে জানতে চান, আমরা কোথা থেকে এসেছি। মুসলিম কি না ইত্যাদি। কয়েক মিনিট পরই সাদা পোশাকের লোকজন এসে আমাদের সঙ্গে বসা লোকগুলোকে আটক করে।’

এরপর রশীদ আহমেদ হোটেলের ম্যানেজারকে পাসপোর্টের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, সেগুলো ফটোকপি করতে পাঠানো হয়েছে এবং মিনিট দশেকের মধ্যে ফিরে আসবে। এরপর রশীদ আহমেদ ও তাঁর পুত্রবধূকে নিয়ে যান রাজস্ব গোয়েন্দা দপ্তরের এজেন্টরা। পরদিন আদালতে তোলা হয়। রশীদ আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগ আনা হয় যে আমরা বাংলাদেশ থেকে জাল টাকা বহন করে ওসব লোককে সরবরাহ করি। আমরা বলেছি, আমরা নিরপরাধ। কিন্তু তাঁরা আমাদের কথায় কান দেননি।’
অভিযোগপত্র পেশ করতে রাজস্ব গোয়েন্দা দপ্তর তিন মাস সময় পায়। আর বাংলাদেশি দুজনকে পাঠানো হয় কারাগারে। এরপর আদালতে মামলা ওঠে।

রশীদ আহমেদ বলেন, ‘প্রথম শুনানির দিনেই বিচারক অভিযোগপত্র ছুড়ে ফেলে আবার নতুন করে দিতে বলেন। এর মধ্যে আরেক দল কর্মকর্তা এসে কিছু কাগজে সই করতে বলেন। না হলে আমাদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হবে। সই না করলে তাঁরা ভয়ভীতি এবং পেটানোর কথা বলেন।’
এরপর দুটি মামলা হয়। এ ছাড়া বারবার আদালত পরিবর্তনে মামলায় দীর্ঘসূত্রতা বাড়ে। এমনকি হাইকোর্ট দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলেও তা ঝুলে থাকে।
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-10-26/news/301156 

---------------------------------------------------------------------------------------------
ঠেলার নাম বাবাজি
                                   সব টাকাই ফেরত দেবেন তানভীর!
হকিকত জাহান হকি:
সোনালী ব্যাংক থেকে লোপাট করা সব টাকা ফেরত দেবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদ। অর্থ আত্মসাৎ মামলায় গ্রেফতারের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রিমান্ডে সব টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ যেন ঠেলার নাম বাবাজি। তানভীর প্রথমে লোপাট করা টাকার জামানত নিশ্চিত করার কাজ শুরু করেছেন। এ ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংককে ঝুঁকিমুক্ত করার পর সব টাকা ফেরত দেওয়ার কাজ শুরু করবেন। গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তানভীর সাংবাদিকদের
বলেছিলেন, 'সরকারের টাকা আমি পাই টু পাই ফেরত দিব।' এবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রিমান্ডে এসে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্যে আত্মসাৎ করা ২,৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার বিপরীতে জমিসহ অন্যান্য সম্পদের দলিল বন্ধক রাখতে শুরু করেছেন তানভীর মাহমুদ। ইতিমধ্যে বন্ধক হিসেবে ৭০ একর জমির দলিল হস্তান্তর করা হয়েছে। বন্ধক হিসেবে গ্রহণের জন্য আরও ১৬-১৭ একর জমির দলিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন সোনালী ব্যাংকের আইনজীবীরা। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে সমুদয় টাকার বিপরীতে সোনালী ব্যাংকে জামানত নিশ্চিত করবেন তিনি।
সূত্র জানায়, দুদকের রিমান্ডে তানভীর আত্মসাৎকৃত টাকার জামানত হিসেবে জমি, শিল্প-কারখানা, বাড়ি, গাড়ি, মেশিনারিজসহ প্রয়োজনে ৫ হাজার গরু বন্ধক রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জামানত নিশ্চিত করতে তানভীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দুদক সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করছে সোনালী ব্যাংককে। জামানত দেওয়ার জন্য তানভীর দুদককে বলে দিচ্ছেন, তার কোন জমির দলিল কোথায় কার কাছে রেখেছেন। দুদককে দেওয়া এসব তথ্য অনুযায়ী জামানত গ্রহণ করতে শুরু করেছে সোনালী ব্যাংক।
সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আত্মসাৎ করা টাকার বিপরীতে প্রথমে ৬০ একর জমির দলিল জামানত হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর জামানত হিসেবে গ্রহণ করা হয় সাড়ে ১০ একর জমির দলিল। আরও ১৬-১৭ একর জমির দলিল জামানতের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া হলমার্ক কর্তৃক পোশাক রফতানির বিপরীতে বিদেশ থেকে আসা ৪৭ কোটি টাকা গ্রহণ করেছে সোনালী ব্যাংক। রফতানির বিপরীতে শিগগির আরও ৭-৮ কোটি পাওয়া যাবে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও প্রদীপ কুমার দত্ত সমকালকে বলেছেন, ওই টাকা আদায়ের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এর আগে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ২০ বছর সময় চেয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন তানভীর মাহমুদ।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পুরো টাকার জামানত নিশ্চিত করার পর হলমার্ক সম্পর্কিত সব লেনদেন, হিসাব-নিকাশ, দাবি-দাওয়া ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পেশ করা হবে। পরিচালনা পর্ষদ থেকে বিষয়টি জানানো হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হলমার্কের ফাইলটি পাঠানো হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে।
সূত্র জানায়, দুদক তানভীরের দখলে ৬-৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদের হিসাব পেয়েছে। এর মধ্যে ২,৬৫০ কোটি টাকার জমি আছে তার নামে। ঢাকার মিরপুর এলাকায় রয়েছে ৫-৬টি বাড়ি, চালু ও নির্মাণাধীন ৭০টি গার্মেন্ট, ৮৬টি দামি গাড়ি, ৫ হাজার গরুসহ বিভিন্ন ধরনের সম্পদ রয়েছে তার নামে।
ব্যাংকিং খাতের সর্ববৃহৎ জালিয়াতির ঘটনায় হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবির ও সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখার ডিজিএম একেএম আজিজুর রহমানসহ ২৭ জনকে আসামি করে গত ৪ অক্টোবর ১১টি মামলা করেছে দুদক। হলমার্ক কর্তৃক আত্মসাৎকৃত মোট ২,৬৮৬ কোটি ১৪ লাখ টাকার মধ্যে প্রথমে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি (ফান্ডেড) টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওইসব মামলা করা হয়। এ মামলায় হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদ, চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামসহ ৪ আসামির রিমান্ড চলছে। এরপর নন ফান্ডেড ১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধান করে হলমার্কের বিরুদ্ধে আরও মামলা করা হবে। 
http://www.samakal.com.bd/details.php?news=13&action=main&option=single&news_id=301748&pub_no=1207 
----------------------------------------------------------------  
বিদেশ ঘোরেন দীপু মনি
রাহীদ এজাজ: সমুদ্রসীমার সালিসি মামলা নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফুজিয়ানে যান চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ নিতে। এরপর কাজাখস্তানে এশিয়ার দেশগুলোর আন্তসম্পর্ক সম্প্রসারণ (সিকা) বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে। এটা শেষ করে জেনেভায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার আয়োজনে সংলাপে অংশ নেন তিনি। এই সংলাপ শেষে জাতিসংঘের ৬৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাত্রা।

এটা গত মাসের, অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের হিসাব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের ১৯ দিন দেশের বাইরে কাটিয়েছেন। নিয়মিত বিরতিতে তাঁর এভাবে বিদেশে যাওয়াটা নতুন নয়। ২০০৯ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বছরে তিনি বিদেশ সফর করেন ৩৪ বার। পরের দুই বছর সে সংখ্যা যথাক্রমে ৩৭ ও ৪৪-এ গিয়ে দাঁড়ায়। আর চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে তিনি বিদেশে গেছেন ৩৪ বার। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৪৬ মাসে দীপু মনি ১৪৯ বার বিদেশে গেছেন। দেশের বাইরে থেকেছেন ৪৫২ দিন। সফরসূচি থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

দীপু মনির খসড়া সফরসূচি অনুযায়ী, নভেম্বরে চারটি সফরে দুই সপ্তাহ বিদেশে থাকার কথা রয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন মন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় নির্দিষ্ট হারে হাতখরচ, দৈনিক ভাতা, ট্রানজিট ভাতা, টার্মিনাল ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, প্রতিনিধিদলের দলনেতা হিসেবে আনুষঙ্গিক ভাতা, বিমানবন্দর কর ও বিমানভাড়া বরাদ্দ দেওয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ২০০৯ সালের বিদেশ সফরের খরচ-সংক্রান্ত কিছু কাগজ ঘেঁটে দেখা যায়, ১৩টি সফরের ১০টি পৃথক বরাদ্দপত্রে দীপু মনির জন্য মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৬ লাখ ৭৮ হাজার ৮৫ টাকা। এর মধ্যে বিমানভাড়া বাবদ দেওয়া হয়েছে ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯০ টাকা।

দেশ-বিদেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করে, দীপু মনির সফরগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হচ্ছে সেমিনার কিংবা আলোচনা অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা, দেশের স্বার্থ সুরক্ষা কিংবা কূটনৈতিক দর-কষাকষিতে এসব সফর ভূমিকা রেখেছে, এমনটা বলার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘন ঘন বিদেশ সফরের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা মনে করেন না। গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁর দপ্তরে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমি যে সফরগুলোতে গিয়েছি, তা দেশের প্রয়োজনেই। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে সাফল্য, তা আমার সফরের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এ সফরগুলোর মধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়েছেন ৩৯ বার। দ্বিপক্ষীয় সফরে গেছেন ১৫ বার। অবশিষ্ট ৯৫টি সফর হচ্ছে বহুপক্ষীয়, অর্থাৎ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামের বৈঠকের আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ১৪৯ বারের বিদেশ সফরে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ওশেনিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশের ৬৩টি দেশে গেছেন। এর মধ্যে ১০ বার, অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি সফর করেছেন যুক্তরাজ্য।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান দীপু মনির তুলনায় বেশ কমই বিদেশে গেছেন। পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিদেশে গেছেন ৬০ বারের মতো। অবশ্য তখন এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন রিয়াজ রহমান। ফলে কিছু সম্মেলন ও সভায় প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাপরিচালক, রাষ্ট্রদূত এবং হাইকমিশনাররা প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

না গেলেই নয়! পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ১৪৯ বার বিদেশ সফরের মধ্যে ৯৫টি সফরে গেছেন বহুপক্ষীয়, অর্থাৎ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামের বৈঠকে অংশ নিতে। সার্ক, জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন ও কমনওয়েলথের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এর বাইরে নিয়মিতভাবে অন্য বৈঠকে যোগদান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিগত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করেছেন, এমন দুজন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, গত আড়াই বছরে এসব বৈঠকে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ কী অর্জন করেছে, সেটি এক বিরাট প্রশ্ন। বিশেষ করে নিরস্ত্রীকরণ, সভ্যতার ক্রমবিবর্তন, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ইত্যাদি নানা বিষয়ে আয়োজিত অনেক আলোচনায় যোগ দিতে তিনি বেশ কিছু সফরে গেছেন। অথচ এসব সফরে রাষ্ট্রদূত কিংবা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাঠালেই চলত।
ঢাকায় কর্মরত কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, গত বছরের নভেম্বরে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনকে নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠানের মাঝপথে তাঁর ভারতযাত্রার বিষয়টি অনেকেরই নজর এড়ায়নি। সামুদ্রিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে যোগ দিতে তিনি গত বছরের ১৪ নভেম্বর রাতে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। অথচ ওই সভায় স্বাগতিক ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ভারতেরই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

প্রশ্নবিদ্ধ অর্জন! সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিকদের মতে, নিয়মিত বিরতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফর চোখে লাগছে। কারণ, এ সফরগুলোর বেশির ভাগই বিষয়ভিত্তিক সভা কিংবা বহুপক্ষীয় সভা। এসব অনেক ফোরামের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে। আবার অনেক ফোরাম ততটা তাৎপর্যপূর্ণ নয় বাংলাদেশের জন্য। কাজেই এসব সফরে গিয়ে তিনি যেসব আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, তাতে দেশের ভূমিকা কিংবা গুরুত্ব কতটা বেড়েছে, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। তা ছাড়া তিনি যেসব সফরে গেছেন, সেগুলোতে সব সময় মন্ত্রীকে যেতেই হবে, এমনটা নয়। মন্ত্রীর পরিবর্তে সহজেই এতে ওই দেশে কর্মরত রাষ্ট্রদূত কিংবা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো যেত।

নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম বছরে বিভিন্ন ফোরামে নিয়মিত অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে পরিচিত করা এবং অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা, এটাই মুখ্য উদ্দেশ্য। প্রথম বছরে ৩৪ বার বিদেশ সফরের এমন একটি ব্যাখ্যা দীপু মনি দিতে পারেন বলে কূটনীতিকেরা মনে করেন। কিন্তু এরপর ঘন ঘন বিদেশ যাওয়ার সংস্কৃতিকে নিয়মিত করে ফেলার যুক্তিটা কী! কারণ, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার, বিশেষ করে পশ্চিমাদের দূরত্ব হয়েছে। আর এ মতপার্থক্য দূর করতে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দীন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেন, পৃথিবীর কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী এত ঘন ঘন বিদেশ সফর করেছেন বলে তো শুনিনি! আমাদের দেশে এমন কী সমস্যা তৈরি হলো কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রভাব সৃষ্টির এমন কোনো ক্ষমতা কি আমরা অর্জন করেছি, যে জন্য তাঁকে বারবার বিদেশে যেতে হবে। তা ছাড়া বিদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো বিনিয়োগও তো আসেনি।

ভারত ও পাকিস্তানের কূটনীতিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশে কোনো বৈঠকে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিজ দেশের স্বার্থ ও প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় থাকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের। আর প্রতিমন্ত্রী থাকায় ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিদেশ সফরে সমন্বয় থাকে। এ ছাড়া মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্ব বিবেচনা করে কখনো কখনো জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠায় ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------
মামা-মামির নির্যাতনে প্রাণ গেল কিশোর কালামের 
এমদাদুল হক খান:
পৃথিবীর আলো যখন দেখল তখনই হারায় মা সাজেদা বেগমকে। বাবা তাকে ফেলে যায় খালা রোকেয়া বেগমের কাছে। ৫ বছর বয়সে খবর পায়, তার বাবাও মারা গেছে। পরে খালা রোকেয়া ও খালু দুলাল মিয়া তাকে পিতৃ-মাতৃস্নেহে লালন-পালন করছিলেন। এভাবেই কেটে যায় ১৬টি বছর। কয়েক মাস আগে মামা মনির হোসেন তাকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যান সাভারে। সেখানে তাকে গৃহকর্মীর কাজ দেওয়া হয়।  কাজ পছন্দ না হওয়ায় আবার চলে যায় খালা-খালুর কাছে। কিন্তু মামা মনির তাকে আবার বুঝিয়ে নিয়ে যান। এবার চলে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে মামা-মামির হাতেই প্রাণ দিল হতভাগা কিশোর কালাম (১৬)।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে কালামকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন মামা মনির হোসেন। এ সময় তিনি হাসপাতাল পুলিশ ও চিকিত্সকদের জানান, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বরিশালগামী একটি লঞ্চে উঠতে গিয়ে দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে কালাম আহত হয়েছে। তিনি স্ত্রী সাজিদা বেগমকে লঞ্চে উঠিয়ে দিতে গিয়ে দেখেন আহত অবস্থায় সে পড়ে আছে। আশপাশের লোকজন কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে না আসায় তিনি নিজেই তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। মনির নিজেকে আবুল হোসেন বলে পরিচয় দেন। তার কথায় সন্দেহ হয় হাসপাতালে দায়িত্বরত ক্যাম্প পুলিশের। এক পর্যায়ে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মনির পুলিশকে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন। পরে তাকে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু জাফর জানান, আটকের পর মনির পুলিশকে জানান, ‘কথা না শোনায় ও কাজ না করায় বৃহস্পতিবার তিনি নিজে, তার স্ত্রী শিউলি বেগম, ছোট ভাই মান্নান ও শ্যালক স্বপন তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। পরে কালামকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণার পর তিনি নাম-পরিচয় গোপন করে পালানোর চিন্তা করেছিলেন। এসআই জাফর আরও জানান, বিষয়টি সাভার থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কালামের খালাত ভাই লিটন হোসেন জানান, কালামের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মুলাদিতে। ছোটবেলায় মা-বাবা মারা যাওয়ায় তার বাবা-মায়ের কাছেই মানুষ হয়েছে কালাম। খালাত ভাই হলেও লিটনের সব ভাই-বোন কালামকে আপন ভাইয়ের মতোই দেখতেন। কিন্তু মামা মনির হোসেন কালামের ভবিষ্যত্ গড়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে নিয়ে এভাবে হত্যা করবেন তা ভাবতে পারেননি। তিনি জানান, ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় কালামের লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সাভার থানার ডিউটি অফিসার জানান, এ ঘটনায় থানায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। তবে শাহবাগ থানায় আটক মনির হোসেনকে নিতে সাভার থানার একটি টিম ঢাকায় এসেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যরা পালিয়ে গেছে। মামলা হলেই তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হবে।


---------------------------------------------
পথে পথে চাঁদাবাজি
নুরুজ্জামান লাবু ও এমদাদুল হক খান: রাজধানীতে আজ বসছে কোরবানির পশুর হাট। এসব হাট ঈদুল আজহার দিন পর্যন্ত চলবে। গাবতলীর স্থায়ী হাট ছাড়া এবার ১৯টি পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এসব হাটে পশু নিতে পথে পথে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। পশুর হাটকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টি ও সন্ত্রাসীরাও। চলছে হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ এবং ট্রাফিক সার্জেন্টদের ঈদ বকশিশ বাণিজ্য। একদিকে পথে পথে যেমন চাঁদাবাজির যন্ত্রণা, অন্যদিকে পশু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে পশু বিক্রির টাকা। পশু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এবার হাট বসার আগেই যেভাবে সন্ত্রাসী তত্পরতা শুরু হয়েছে তাতে হাট শুরু হলে তা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। অপরদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাট শুরুর আগেই পশু ব্যবসায়ীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও পথে পথে চাঁদাবাজির বিষয়টি এবার কঠোরভাবে দমন করা হবে। এমনকি কোরবানির পশু বহনে চাঁদাবাজি ঠেকাতে চার মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগও আছে। গতকাল সরকারের চার মন্ত্রী গাবতলীর পশুর হাটও পরিদর্শন করেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, গরুর হাটে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি ঠেকাতে পুলিশ আগের চেয়ে আরও বেশি তত্পর থাকবে। একই সঙ্গে জাল টাকা ঠেকাতেও পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। তিনি বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও হাট শুরুর আগেই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তত্পরতা ঠেকাতে ব্যবসায়ীদের নিয়ে যৌথ বৈঠক করা হয়েছে। এতসব আয়োজনের মধ্যে এবার পশুর হাট শুরু হওয়ার আগেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টি ও সন্ত্রাসী চক্র। পথে চাঁদার টাকা গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। আরিফুল ইসলাম নামের এক গরু ব্যবসায়ী জানান, সাতক্ষীরা থেকে গাবতলীর পশুর হাটে এক ট্রাক গরু নিয়ে আসতে অন্তত ৮ থেকে ১০ জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। গরু ট্রাকে লোড করার সময় স্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়ন ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়। এরপর শুরু হয় ঘাটে ঘাটে পুলিশের চাঁদাবাজি। হাইওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশ মিলে ট্রাক থামিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। তা না হলে ভারতীয় চোরাই গরু বলে ট্রাকসহ মালামাল জব্দ করার হুমকি দেয়। আরিচা ঘাটে ফেরিতে ট্রাক তুলতে দিতে হয় আরেক দফা চাঁদা। তা না হলে ঘাটে ফেরির সিরিয়ালই পাওয়া যায় না। আরিচা থেকে গাবতলী পর্যন্ত পুলিশ সার্জেন্ট আর টহল পুলিশকে খুশি করতে না পারলে ট্রাক আটকে রাখে।
সূত্র জানায়, রাজধানীর পশুর হাটে মূলত চাঁদাবাজ, অজ্ঞান পার্টি ও জাল টাকার ব্যবসায়ীরা সক্রিয় থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকে। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাকে টার্গেট করে। ব্যবসায়ীদের অনুসরণ করে ও পশু কেনার আগে দালাল সেজে ক্রেতার সঙ্গে খাতির করার চেষ্টা করে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। পরে সুযোগ বুঝে অচেতন করে সর্বস্ব লুটে নেয়। আর জাল টাকার কারবারিরা ক্রেতা ও বিক্রেতা সেজে পশুর হাটে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, অজ্ঞান পার্টির চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে জাল টাকার কারবারিদের বড় একটি চক্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা জাল টাকা রাজধানীর পশুর হাটে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে ধামরাইয়ের বাথুলি এলাকায় জিলা ও নিলু নামের দুই গরু ব্যবসায়ীকে হাত-পা-চোখ বেঁধে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা লুটে নেয় একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র। এরপর তাদের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গোলড়া এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকেই গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গরু ব্যবসায়ী নিলু জানান, গত মঙ্গলবার তারা ধামরাই থানার বাথুলি হাটে গরু বিক্রি করে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে একটি বাসে ওঠেন। বাসটি কিছুদূর যাওয়ার পর ১০ থেকে ১২ জনের যাত্রীবেশী ছিনতাইকারী চক্র অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে। পরে তাদের দুজনের হাত-পা, মুখ-চোখ বেঁধে সঙ্গে থাকা টাকা কেড়ে নেয়। এরপর তাদের মারধর করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গোলড়া এলাকায় ফেলে যায়। সারা রাত তারা সড়কের পাশে পড়ে থাকেন।
মানিকগঞ্জ গরু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতাব আলী জানান, কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হওয়ার আগেই তাদের দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দুর্বৃত্তরা দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এছাড়া রাস্তাঘাটে পুলিশ ও মাস্তানদের চাঁদা দিচ্ছে হচ্ছে। এতে করে তারা চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গরু নিয়ে দূরের কোনো হাটে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার আহ্বান জানান।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, একদিকে রাজধানীর পশুর হাটে ছিনতাইকারী-অজ্ঞান পার্টি চক্র সক্রিয় থাকে, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু পরিবহন করতে গিয়ে ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়। এরই মধ্যে কোরবানির হাটে পশু বহন করতে গিয়ে একাধিক ব্যবসায়ী চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। একদিকে যেমন সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের খপ্পরে পড়তে হয়, অন্যদিকে পথে পথে উত্পাত করে হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ এবং ট্রাফিক সার্জেন্ট। মোটা অঙ্কের ঈদ বকশিশের বিনিময়ে এদের হাত থেকে রেহাই পেতে হয়। তা না হলে তারা ভারতীয় পশু কিংবা যানবাহনের কাগজপত্র দেখার নামে আটকিয়ে রাখে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখার বদলে ব্যবসায়ীরা উেকাচ দিতে বাধ্য হন।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, মূলত ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে গরু কেনাবেচার নিরাপত্তায় কাজ করবে পুলিশ। কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তা নিয়ে ইতোমধ্যে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

http://www.somewhereinblog.net/blog/mahamanob/29703059

No comments: