Monday, August 6, 2012

সিংগাইরে পাটের বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা ১১ হাজার কৃষকের




মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সানাইল এলাকায় পাট কাটতে ব্যাস্ত  কৃষক।


রতন বালো, সিংগাইর( মানিকগঞ্জ) ঘুরে:


সিংগাইরে পাট আবাদে ঝুঁকে পড়েছে ১১ হাজার কৃষক। বিনামূল্যে কৃষক প্রতি ৩ প্যাকেট বীজ, ১৫ কেজি ইউরিয়া, ৫কেজি এমওপি ও  ৫ কেজি পটাশ সার বিতরণ করায় কৃষকদের মধ্যে এ আগ্রহ।  বাম্পার ফলনেরও প্রত্যাশা করছে কৃষক।

ধান চাষে উর্বরতা হারানো জমিতে আবার সবুজ পাট গাছে ভরে উঠেছে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার মাঠগুলো। মাঠের পর মাঠ, যতদূর দৃষ্টি যায় ততোদূর সবুজ পাটের খেত। কোথায় কোথাও উচ্চ পাট খেত জাকদেবার জন্য পাট কাটতে ব্যস্ত কৃষক। মাঠেই গাদা করে রাখা হচ্ছে সেগুলো। সিংগাইর, জামালপুর, সানাইল, নয়াবাড়ি, বায়রা, চর জামালপুর, জয়মন্টপসহ একাধিক গ্রামে ঘুরে এ দৃশ্যই গত বুধবার চেখে পড়ে। পাট চাষিরা জানান, ধানের খরচ বেড়ে গেছে। লাভও কম হয়। এক মৌসুম জমিতে পাট চাষ করলে জমি উর্বর থাকে। পাটের উৎপাদন ভালো হলে লাভও বেশি। 

পাট কেটে নেওয়া মাঠে জমে থাকা পাটের পাতা দেখিয়ে সিংগাইর উপজেলার সানাইল গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, ধান চাষ করতে করতে জমি ক্লান্ত হয়ে গেছে। উর্বরতাও চলে গিয়েছিল। জমিতে পাটের পাতা পড়ে জৈব সার হচ্ছে। পাট গাছ মাটির উপাদান ঘাটতি দূর করছে। একই গ্রামের কৃষক বদর উদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে এক বিঘা ( ৩৯ শতাংশে) জমিতে পাট করেছেন। পাট ভালো হয়েছে । আশা করছি ১১ মণ পাট হবে। প্রতিমণ পাট উৎপাদন করতে খরচ পড়বে ৮০০ টাকা বেশি। বিক্রি হবে ১৫ শ’ থেকে ১৬শ’টাকা মন দরে। এছাড়া পাটের খড়িও বিক্রি হবে উচ্চ মূল্যে।  খরচ বাদে মন প্রতি লাভ হবে ১ থেকে ১২ টাকা।

একাধিক কৃষক জানান, সিংগাইর উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল (উফশী) পাট ও পাট বীজ উৎপাদন এবং উন্নত পাট পচন শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ১ হাজার কৃষক প্রথমে পাট চাষ করে লাভবান হন তা দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হয়ে এ বছর পাট চাষ শুর“ করেছে। প্রকল্পটির মানিকগঞ্জ সদর ও সিংগাইর উপজেলা পাট কর্মকর্তা মো জহুর“ল ইসলাম জানান, সিংগাইর উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে এ বছর পাটের আবাদ হয়েছে। গত বছর পাট চাষের পরিমাণ কম ছিল।

প্রকল্পটির পরিচালক ড. মঙ্গল চন্দ্র চন্দ বলেন, চলতি বছর পাট চাষের শুর“তে উপজেলার ১ হাজার পাট উৎপাদনকারীকে আদর্শ কৃষক হিসেবে নির্বাচন করা হয়। কৃষকদের মধ্যে উফশী পাট বীজের পাশাপাশি, রাসায়নিক সার, কীটনাশক, কৃষি উপকরনাদিসহ উন্নত পাট ও পাট বীজ উৎপাদনের আবশ্যকীয় সরঞ্জামাদি বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। পাট চাষিরা কিছুটা সহায়তা পেয়ে নতুন উদ্যমে পাট চাষ শুর“ করেছে। উপজেলা জুড়ে এ বছর পাট ভালো হয়েছে। আশা করছি উৎপাদন ভালো হবে।

আমদানি নির্ভর বীজের পরিবর্তে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চ ফলনশীল(উফশী) পাট ও পাট বীজ উৎপাদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক ভীতকে  শক্তিশালী করা এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করাই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বর্তমান সরকার পাটের অতীত ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার লক্ষে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বিনামূল্যে উন্নত জাতের বীজ, সার, কীটনাশক, রিবোনার, জুট সিট সহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণাদি পাট চাষিদের  মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর ফলে সারাদেশের পাট চাষিদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা আশা করি এ ধরনের  বহুমুখী কার্যক্রমের  মাধ্যমে পাট চাষিগণ মানসম্মত তোষা জাতের পাট উৎপাদন করে একদিকে যেমন লাভবান হবেন অপরদিকে পরিবেশ বান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

পাট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাড়া দেশে  গড়ে প্রায় ১৩ লাখ একর জমিতে পাট চাষ করা হয়। বছরে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মে. টন পাট বীজের প্রয়োজন হয়। বিএডিসি প্রতি বছর ৯শ’ থেকে ১ হাজার মে. টন পাট বীজ উৎপাদন করে। পাট অধিদš—র ৪ থেকে সাড়ে ৪শ’মে. টন পাট বীজ উৎপাদন করে। গড়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫শ’ মে. টন পাট বীজ আমদানি করা হয়। কৃষক পর্যায়েও সামান্য পরিমাণ পাট বীজ উৎপাদন করে থাকেন। চাহিদার অবশিষ্ট পাট বীজ পার্শ্ববর্তী দেশের নিæমানের বীজ দ্বারা পূরণ হয়।

এ সমস্যা উত্তরণের ল¶্যে কৃষক পর্যায়ে পাট বীজের মান উন্নয়নের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ১ হাজার ৫শ’ থেকে ২ হাজার মে. টন পাট বীজ উৎপাদনের জন্য ১৬ হাজার ৯০৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে গত বছর ১৩ সেপ্টেম্বর এ প্রকল্পটি একক অনুমোদিত হয়। আগামী ২০১৬ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ হবে।



প্রকল্পটি বা¯—বায়িত হলে দেশে উফশী পাট বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে পাট বীজের ঘাটটি পূরণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা সরকারের ঘোষিত ভীষণ-২০২১ এর ল¶্য ও উদ্দেশ্য পূরণ করবে। এবং দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম ঃ মাঠ পর্যায়ে পাট উৎপাদনে উপযোগী ৪৪টি জেলার মোট ২০০ উপজেলা এ প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রত্যেক উপজেলায় সনাতন পাট বীজ ব্যবহার করেন এমন ২৫০ জন পাট বীজ ও ১ হাজার পাট উৎপাদনকারীকে আদর্শ কৃষক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। উন্নত পদ্ধতিতে পাট পচনে চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণের জন্য প্রত্যেক উপজেলায় নির্বাচিত ১০ জন চাষিকে সহায়তা প্রদান করা হবে। এ ল¶্যে স্থানীয় পতিনিধি ও সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুকুর, ডোবা ও পতিত জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে পাট চাষিদের সহায়তা করা হবে।
####

No comments: